সর্বশেষ সংবাদ-
এবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডসাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবিসাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভাস্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধনপ্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক রহমাতুল্লাহর মৃত্যুসাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা: সভাপতি মুনির- সম্পাদক সামাদ

অনলাইন ডেস্ক : স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর সমালোচনা হয়েছে সংসদে। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম, অক্সিজেন সংকট, কোভিড চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা ও সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জের ধরে নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে তুলোধুনো করেছেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সদস্যরা। একজন সংসদ সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে লজ্জাহীন উল্লেখ করে তার পদত্যাগও দাবি করেন।

শনিবার (৩ জুলাই) স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ সমালোচনা করেন তারা। এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে ছিলেন। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অধিবেশনকক্ষে দেখা যায়নি।

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রথমে বিএনপির সংসদ সদস্য জি এম সিরাজ বলেন, বগুড়ায় অক্সিজেনের অভাবে ২ দিনে ২৪ জন মারা গেছেন। কোভিডের জন্য নির্ধারিত ২৫০ বেডের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আইসিইউ বেড আছে আটটি। কিন্তু হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা আছে মাত্র দুটি। যে কারণে বাকি আইসিইউ বেড কোনো কাজেই লাগছে না। বগুড়ায় ৪৫০টি বেডের ৩টি হাসপাতাল রোগীতে ঠাসা। নতুন রোগী ভর্তি হতে পারছেন না। প্রতিটি হাসপাতালে ২০টি হাই ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহের দাবি জানান তিনি।

বিরোধী দলের উপনেতা জি এম কাদের দাঁড়িয়ে শুরুতেই বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বছর আগে যে অবস্থায় ছিল, এখনো সেখানেই আছে। কোনো উন্নতি হয়নি। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ছয়-সাতবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। মন্ত্রীর সহকারীদের ফোন করার পর মন্ত্রীকে জানানোর কথা বলি। কিন্তু মন্ত্রী ফোন করেন না। ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আমাদের চেয়ে ভালো। এরপরও তারা নাজেহাল হয়েছে। আমাদের দেশে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট সেভাবে ছড়িয়ে পড়লে আশঙ্কা করার অনেক কারণ আছে।

গত ৩০ জুন সংসদে বাজেট পাসের সময় বিরোধী সংষদ সদস্যদের সমালোচনার মুখে স্বাস্থ্য খাতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জেলা হাসপাতালের সভাপতি সংসদ সদস্যরা উল্লেখ করে ওই দিন আইনপ্রণেতাদের ওপর দায় চাপান মন্ত্রী।

জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সেদিন সংসদে আমি সার্জিক্যাল মাস্ক কেনা নিয়ে কথা বলেছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেটা তদন্ত করবেন। বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বললেন, ‘এটি সত্য নয়’। এজন্য আজকে আমি তথ্য-প্রমাণ নিয়ে এসেছি। সংসদীয় কমিটি বিষয়টি আলোচনা করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। সত্য বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে উনার তদন্ত করা উচিৎ ছিল। তাই আমার দাবি এ বিষয়ে তদন্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, করোনা অত্যন্ত মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সব জায়গায় সেনাবাহিনী নামিয়ে এটা প্রতিরোধ করতে হবে। পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, জিজ্ঞেস করলেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন সব দিচ্ছি। কিন্তু কোথাও কিছু নেই। এভাবে আমরা একটা বছর সময় নষ্ট করেছি। আমাদের সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দিলে অর্থ দিলে আমরা সব কিছু ঠিক করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমাদের ওপর দায়িত্ব নয়। দায়িত্ব আমাদের ওপরে। তারা তো দুদিন পরে চলে যায়। জবাবদিহিতা তো তাদের নেই।

তিনি বলেন, আইসিইউ বেড আছে। কিন্তু প্রশিক্ষিত ডাক্তার নার্স নেই। অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ রোগী অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছেন। বিভিন্ন ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয় কিন্তু কোনও তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আজ পর্যন্ত আমাদের সামনে আসেনি। মানুষের জীবনের কি কোন দাম নেই? করোনাতো এখন সারা বিশ্বেই রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসায় কি ধরনের অনিয়ম মানা যায়?

এসময় তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় অক্সিজেনের অভাবে ৭ জন কোভিড রোগী এক ঘণ্টার মধ্যে ছটফট করতে করতে মারা গেছেন।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বললেন এক বছরে নাকি অনেক কাজ করেছেন। আজকের খবর আসছে বাংলাদেশের ৩৭টি জেলায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালে ৫ জন রোগী অক্সিজেন পায় তো ২০ জন লাইনে থাকে। কেবলমাত্র অক্সিজেনের কারণে যারা ছটফট করে মারা যাচ্ছেন। পত্রিকায় এত লেখালেখি হচ্ছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি একটি হাসপাতালে গিয়ে এগুলো দেখেছেন। তিনি কী করেন? তিনি জুম মিটিং করেন।

কোভিড চিকিৎসার সময় নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনন্দে আত্মহারা হয়ে একটি কিস (চুমু) করার কারণে তাকে রিজাইন দিতে হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি মানুষ! বুঝলাম না। উনার লজ্জা শরম কিছু নেই। উনার রিজাইন দেওয়া উচিত।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, ‘‘উনি বলেছেন ‘হাসপাতালের চেয়ার, মেশিন চলে না, লোক লাগবে এগুলো তো আপনাদেরকে দেখতে হবে। কিন্তু আপনারা তো দেখেন না। নার্স, ডাক্তার যন্ত্রপাতি লাগলে আপনাদেরকে বলতে হবে। অভিযোগ দিলে তো হবে না। এগুলোর ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু আপনাদের বলতে হবে। চেয়ারম্যান হিসেবে এগুলো দেখার দায়িত্ব আপনাদের ওপর বর্তায়।’ ওনার বক্তব্যে মনে হচ্ছে কোনও এমপিই দায়িত্ব পালন করেন না। অথচ আমি হাসপাতালের চিকিৎসকসহ লোকবল নিয়োগের জন্য উনার দফতরে গিয়েছি। এই বক্তব্য আপত্তিজনক। স্বাস্থ্যমন্ত্রী গোটা হাউসকে অপমান করেছেন। তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হওয়া দরকার।’’

করোনা পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেকোনও মূল্যে করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যেভাবে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে এটা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষুধা দারিদ্রের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে। সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। সামনে ঈদুল আজহা। এজন্য গরীব মানুষের জন্য দ্রুত খাদ্য দেওয়ার দাবি করছি। কুরবানির পশু পরিবহন ও কেনাবেচায় শিগগিরই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করতে হবে। না হলে এটা নিয়েও সংকট তৈরি হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা- ড. তৈয়েবুর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুরভিত এক ভালোবাসার নাম। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তিতে আমি গর্বিত অংশীদার- প্রথমত: শিক্ষার্থী হিসেবে এবং পরবর্তীতে শিক্ষক হিসেবে। কি সৌভাগ্য আমার, এক জীবনের অনেক বড়ো প্রাপ্তি। অসাধারণ শিক্ষকরা আমাদের পড়িয়েছেন। তাঁদের দিকনির্দেশনা, সাহচর্য ও ভালোবাসা পেয়েছি। সহপাঠী ও বন্ধুদের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় জীবন ধন্য হয়েছে। আমাদের সহপাঠীদের ব্যাকগ্ৰাউন্ড ছিল বৈচিত্র্যময়। ধনী-দরিদ্র, উঁচু নিচু ভেদাভেদ ছিলো না। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রয়াসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমতার চারণভূমি ( Dhaka University is a equaliser) হয়ে উঠেছিল। আজকের আমার যত অর্জন তার পিছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অশেষ অবদান রয়েছে। আমি কৃতজ্ঞতার অপরিশোধ্য ঋণে আবদ্ধ এই প্রতিষ্ঠানের কাছে। এক টাকা ও বেতন দিতে হয়নি। প্রথম বর্ষে ১২০ টাকা বেতন দিয়েছিলাম। মেধাবৃত্তি পাওয়ায় সেই টাকা ও ফেরত পেয়েছিলাম বছর শেষে। এই দেশের জনগণের করের টাকায় সারাজীবন এক টাকা বেতন না দিয়ে লেখাপড়া করেছি। এ রকম একটি দেশ কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে। এদেশের মানুষের কাছে এ ঋণ কোনদিন শোধ করতে পারবো না। সে কারণে বারবার বিদেশে থাকার , শিক্ষকতার সুযোগ পেয়ে ও বারবার বাংলাদেশে ফিরে এসেছি এ দেশের শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য। বারবার বিদেশীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। ক্যানো বাংলাদেশে ফেরত যাবে? কি আছে ওখানে? আমি উত্তর দিয়েছি – ওটা আমার দেশ, আমার জন্মভূমি, আমার বাবা-মায়ের দেশ, এক অদ্বিতীয় দেশ, যে দেশ আমাকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দিয়েছে। ও দেশের কাছে আমার অনেক ঋণ, এখন আমার ফেরত দেবার সময়।

শিক্ষক হিসেবে আমার প্রাপ্তি ও অনেক। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কিম্যাপ (KIMEP) বিশ্ববিদ্যালয় ( কাজাখস্থান) ও খন্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে বাংলাদেশের সব কয়টি নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীকে পড়িয়েছি। আমার ছাত্রজীবনের সব অপ্রাপ্তি ও কষ্ট আমি আমার ছাত্র-ছাত্রীকে পাঠদান ও ভালোবাসার মাধ্যমে দূর করেছি। আমি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের ভীষণ ভালোবাসি। শিক্ষকতা আমাকে সবকিছু দিয়েছে।এক একজন শিক্ষার্থী এক অনন্য জগত, সম্ভবনাময় একটা নক্ষত্র। শিক্ষকের কাজ ওদেরকে বিকশিত হতে দেয়া। ওদের জন্য দোয়া ও শুভকামনা। শিক্ষকতার আরেক প্রাপ্তি হলো আমার সহকর্মী অধ্যাপকবৃন্দ। অসম্ভব মেধাবী ও জ্ঞানীগুণী মানুষ সাথে ওঠাবসার সুযোগ পেয়েছি। ওনাদেরকে আমি শ্রদ্ধা করি ও ভালোবাসি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ নামক একটা স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে। সেই অর্থে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা। এটা একটা সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে বেশি। শুধু ব়্যাঙ্কিং/সংখ্যা দিয়ে তাকে মাপা যায় না।

একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছড়িয়ে আছে সব জায়গায় দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে, সব পেশায়। দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও উন্নয়নের অন্যান্য ক্ষেত্রে তার অবদান অবিস্মরণীয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এ দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। দেশের অধিকাংশ সরকারি, বেসরকারি, এনজিও ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের আসনে (ছিলেন) আছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরা। বিদেশে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সম্মানজনক অবস্থানে আছেন। এদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত এ্যালুমিনি। অধ্যাপক সত্যেন বোস, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন, অধ্যাপক আর. সি. মজুমদার, অধ্যাপক জি. সি দেব, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ অনেকে অধ্যাপনা করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ দেশের জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এই রকম একটা প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র পশ্চিমের জনকল্যাণমূলক উন্নত রাষ্ট্রে দেখা যায়। এটা সবার জন্য উন্মুক্ত, মেধাবীদের জন্য এক অনন্য প্রতিষ্ঠান। সেই অর্থে এক অসাধারণ জনবিশ্ববিদ্যালয়। ভর্তি পরীক্ষা এখনো নির্ভরযোগ্য। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মানে এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অতুলনীয়। উল্লেখ্য, এদেশের সবগুলো প্রধান প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদানে সমৃদ্ধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি তার সেরা শিক্ষার্থী ও অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক।

এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কতকিছু আছে। গাছ-গাছালি, ফুলে-ফলে শোভিত এক অপরূপ ক্যাম্পাস। প্রায় দুই হাজার শিক্ষক ও সাইত্রিশ হাজার শিক্ষার্থী, চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। এক একটা হল এবং এক একটা ভবন অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে বড়ো। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে আছে অপরাজেয় বাংলাসহ অসাধারণ সব ভাষ্কর্য, আছে চারুকলা ইনস্টিটিউট। আছে সব ধর্মের উপসানালয়। আছে শহীদ মিনার ও বাংলা একাডেমি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবার জন্য উন্মুক্ত। সবার ভালো লাগার জায়গা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সীমাবদ্ধতা ও দূর্বলতা সত্ত্বেও তার বর্তমান অবদানকে যেভাবে খাটো করা হয় বিষয়টি তেমন নয়। অনেকে যুক্তি দেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু ভালো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, সুতরাং তারা ভালো গ্ৰাজুয়েট হয়ে বের হবে সেটাই স্বাভাবিক।বিষয়টি অতোটা সহজ নয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার মান নেমে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মানকে ও ক্ষতিগ্ৰস্ত করেছে। শিক্ষকদের অনেক সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও তাদের অবদানকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দিনশেষে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটা ঘূর্ণায়মান রূপান্তর প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করায় যা তাদেরকে শেখায় কিভাবে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে হয় এবং জয়ী হতে হয়।

কালের পরিক্রমায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একশত বছর পার করেছে। টুপিখোলা অভিনন্দন। অনেক প্রাপ্তির সাথে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত শতবয়সী এই বিশ্ববিদ্যালয়, আছে অনেক চ্যালেন্জ। বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় কিউএসএস/ টাইম হায়ার এডুকেশন ব়্যাঙ্কিং এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০০-১০০০ এর মধ্যে, যা আমাদের জন্য বেদনাদায়ক। ব়্যাঙ্কিং একটা টেকনিক্যাল বিষয়, ব়্যাঙ্কিং এ উপরের দিকে জায়গা পেতে দীর্ঘ প্রস্তুতি দরকার, দরকার সময়, শ্রম ও টাকার, দরকার ব়্যাঙ্কিং এর জন্য নিবেদিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সহযোগিতায় আইকিউএসি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু চৌকস নেতৃত্ব, দক্ষ জনবল, অর্থের অভাব ও শিক্ষার গুণগত মানের ও অ্যাক্রিডেশটেনের গুরুত্ব বোঝার অক্ষমতা আইকিউএসিকে প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে দেয় নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও অনেক ইতিবাচক বিষয় আছে যা ব়্যাঙ্কিং এর উপরের ধাপে জায়গা পাওয়ার জন্য সহায়ক। শুধু মাত্র একটা উন্নতমানের ওয়েবসাইটের অভাবে, এই বিশ্ববিদ্যালয় তার অর্জন বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পারেনি। শতবর্ষী একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ভালো ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে না- এটা অবিশ্বাস্য। ইচ্ছার ও উদ্যোগের অভাবটাই প্রধান বাঁধা। ওয়েবসাইট হালনাগাদ নয়।সেখান শিক্ষকদের সিভি, পূর্নাঙ্গ গবেষণার তালিকা নেই। ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনায় দায়িত্ব একটা বেসরকারি সংস্থাকে দেয়া হোক। একটা চৌকচ ওয়েবসাইট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যা আছে তা প্রতিফলন করবে। এই একটি কাজ ঠিক মতো করতে পারলে ব়্যাঙ্কিং এ উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

গবেষণা ও আন্তর্জাতিকিকরণ সূচকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে আছে। মোট বাজেটের মাত্র ২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে গবেষণার জন্য। এটা দিয়ে কি গবেষণা হবে? যে সব শিক্ষক আন্তর্জাতিক জার্নালে তাদের গবেষণাপত্র প্রকাশ করবে তাদেরকে পদোন্নতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে হবে। তরুণ শিক্ষকদের পিএইচডির জন্য বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। নগন্য বাজেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চালানো যায় না। তার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত নিয়ম মেনে সব ধরণের নিয়োগ দিতে হবে। নীতিমালা বারবার ভেঙে নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। একশত পার করেও এখনো একটা পূর্নাঙ্গ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অফিস করতে পারে নি। এই অফিস বিদেশী শিক্ষার্থীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবে, ভিসা প্রক্রিয়া সহজের জন্য সরকারের সাথে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের একটা বড় অংশে শিক্ষার্থীরা বাস করেন না, বাস করেন শিক্ষকরা। এসব অসামঞ্জস্য দূর করতে হবে। বিদেশী অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত করতে হবে।

সীমাহীন রাজনীতিকরণ ও স্বায়ত্তশাসনের অপব্যবহার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে। নব্বইয়ের গণআন্দোলনের ফলে জাতীয় পর্যায়ে ভোটের গণতন্ত্র ফিরলে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণতন্ত্র নির্বাসিত হলো উনত্রিশ বছর যাবত ডাকসুর ভোট অনুষ্ঠিত না হওয়ায়। এই সুযোগে ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্বৈরাচার হয়ে উঠল, হল দখল করল, ভিন্নমতের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মুখ বন্ধ করা হলো। হলগুলো আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকলো না। হলগুলোতে প্রতিষ্ঠিত হলো সরকার ( সব সরকার) দলীয় ছাত্র সংগঠনের দখলদারিত্ব। গণরুম ও গেষ্টরুম সংস্কৃতি চেনা বিশ্ববিদ্যালয়কে অচেনা করে দিলো।

শিক্ষকদের দায় ও কম নয়। শিক্ষক সমিতি শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কম মনোযোগ দিয়েছে। সেমিস্টার পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষকদের মূল্যায়ন একটা অপরিহার্য অংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই মূল্যায়ণ পদ্ধতি এখনো সঠিকভাবে চালু করতে পারে নি। শিক্ষকদের জবাবদিহিতা ও জরুরী। অনিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা ভালো নয়। শিক্ষকদের আলাদা বেতন স্কেলের কথা শোনা গেলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ওটা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকদের এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি বন্ধ হত।

সঠিক নেতৃত্ব, পর্যাপ্ত বাজেট ও নিয়ন্ত্রণমূলক রাজনীতিমুক্ত করতে পারলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈশ্বিক ব়্যাঙ্কিং এ উন্নতি সময়ের ব্যাপার মাত্র। রাজনীতিবিদদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের ক্ষমতায় থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন না। লেজুড়বৃত্তির ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে তার মতো চলতে দিতে হবে।

শতবর্ষ পূর্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিনন্দন। শুভেচ্ছা। তার হারানো গৌরব আবার ফিরে আসুক- এই কামনা।

লেখক : অধ্যাপক ও সাবেক সভাপতি, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সুন্দরবনে ২০ কেজি হরিণের মাংসসহ শিকারী আটক

অনলাইন ডেস্ক :   পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতায় কৈখালী বনস্টেশন অফিসের সদস্যরা গহীন সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে হরিণের মাংসসহ এক শিকারীকে হাতে নাতে আটক করেছেন।

শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কৈখালী বনস্টেশন অফিসার (এসও) মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে সুন্দরবনে ধলের খালের মুখ হতে ওই শিকারীকে আটক করে। এসময় ২০ কেজি হরিণের মাংস সহ দা ও টর্চ লাইট উদ্ধার করে বন অফিসের সদস্যরা।
আটক শিকারী হলো- শ্যামনগর উপজেলার মরাগাং গ্রামের সুজাউদ্দীন গাজীর ছেলে জব্বার গাজী।

সাতক্ষীরা সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এম,এ হাসান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সুন্দরবনে হরিণ শিকারের খবর গোপনে নিশ্চিত হয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে হরিণের মাংস সহ ওই শিকারীকে হাতে নাতে আটক করা হয়। বন আইনে হরিণের মাংস সহ শিকারীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা জেলা জাপার সভাপতি আজহার হোসেনের বড় ভাইয়ের মৃত্যু

সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও টাউন স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব শেখ আজহার হোসেনের বড় ভাই আফসার হোসেন আর নেই। তিনি শনিবার আনুমানিক রাত ২ টায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন(ইন্না লিল্লাহি ———- রাজিউন)।

তার মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করে ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ দিদার বখ্ত, সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় পার্টির,সহ সভাপতি নূরুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম,এস এম আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশু,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাঈনুর রশীদ,

সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ তপন, সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান বিপুল, সাতক্ষীরা পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি কাউন্সিলর আলহাজ্ব সৈয়দ মাহমুদ পাপা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক, জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি আশিকুর রহমান বাপ্পী, সাধারন সম্পাদক আবু তাহের, সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম রাজিবুল্লাহ রাজু, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কাজী আমিনুল ইসলাম ফিরোজ, সদস্য সচিব কমল বিশ্বাস, জাতীয় ছাত্রসমাজ এর সভাপতি কাউন্সিলর মোঃ কায়ছারুজ্জামান হিমেল , সাধারণ সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান সুমন, ওলামা পার্টির আহ্বায়ক আলহাজ্ব ইব্রাহিম হোসেন, কৃষক পার্টির আহ্বায়ক মফিজুল ইসলাম (মেম্বার) সহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কাশিমাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলায় জখম ৫: কয়েক লক্ষাধিক টাকা লুটপাট
শ্যামনগর প্রতিনিধি:  আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগনেতা ও তার পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষের অস্ত্রধারী ক্যাডাররা। ঘটনাটি শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী পল্লীর পূর্ব গোবিন্দপুর গ্রামে গত বৃহস্পতিবার ঘটেছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং ০২।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, একই গ্রামের আবুল কাসেম গাজীর ছেলে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা ভুক্তোভোগী আবু সাঈদ গাজী ঘটনার দিন দুপুরে তার বসত বাড়ীর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছিল।
এমতাবস্থায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক একই গ্রামের জিয়াদ আলী গাজীর ছেলে নুরুল হক বাচ্চু, মৃত শামসুর গাজীর ছেলে সাইফুল ইসলাম, মৃত আরশাদ মোড়লের ছেলে রেজাউল মোড়ল, রেজাউল মোড়লের ছেলে জাহিদ মোড়ল, আব্দুল খালেক গাজীর ছেলে আরাফাত, কাশিমাড়ী গ্রামের নুর মোহাম্মদ সরদারের ছেলে মোজাফফর সরদার ও রফিকুল সরদার, পূর্ব গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার গাজীর ছেলে আব্দুল করিম, মৃত বেলায়েত মোল্যার ছেলে মিন্টু মোল্যা, মৃত আব্দুল মাজিদ গাজীর ছেলে আল আমিন, জিয়াদ আলী গাজীর ছেলে আবু সাঈদ, তছির গাজী ছেলে নজরুল ইসলাম ও লুৎফর রহমান, মৃত এফাজ তরফদারের ছেলে আছেরউদ্দীন তরফদার ও মৃত বেলায়েত মোল্যার ছেলে মজিবার মোল্যা সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ক্যাডারেরা যোগসাজশে  ভুক্তোভোগী আবু সাঈদ গাজীর বসত বাড়ীতে অনধিকারভাবে প্রবেশ করে প্রাচীর নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করে। এমতাবস্থায় ভুক্তোভোগী আবু সাঈদ গাজী তাদের বাধা না মানলে ১ নং আসামীর নির্দেশে অপরাপর সন্ত্রাসীরা তাদের হাতে থাকা ধারাল দা, লোহার রড, জিআই পাইপ সহ অন্যান্য অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভুক্তোভোগী সহ তার পরিবারের সদস্যদের উপর পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।
এতে আসামীদের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে ভুক্তোভোগী আবু সাঈদ গাজী, তার স্ত্রী আছিয়া খাতুন, বড় ছেলে সোহাগ হোসেন, মেজ ছেলে সবুজ হোসেন সহ ৫ জন রক্তাক্ত জখম হয়ে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এসময় আসামীরা ভুক্তোভোগীর বসতবাড়ীতে লুটপাট চালিয়ে নগদ ৫লক্ষ টাকা সহ প্রায় সাত লক্ষাধিক টাকার জিনিস পত্র লুটকরে নিয়ে যায়। এবিষয়ে আবু সাঈদ গাজী বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় ২জুলাই ০২ নং মামলা করেছে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
একদিনে বাংলাদেশে এলো ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

দেশের খবর : করোনার টিকা নিয়ে নানা সংকট দূর করে মোট ৪৫ লাখ ডোজ টিকা পেল বাংলাদেশ। এর মধ্যে শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মডার্নার ১৩ লাখ এবং চীন থেকে কেনা ২০ লাখ ডোজ। শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে আসে মডার্নার আরো ১২ লাখ ডোজ টিকা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, টিকা আর কোন চিন্তা নেই, ডিসেম্বরের মধ্যেই আসবে ১০ কোটি টিকা। পরে আরো সাত কোটি।

শুক্রবার রাতে সোয়া ১১টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মডার্নার ১৩ লাখ ডোজ টিকা নিয়ে অবতরণ করে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের মাধ্যমে এই টিকা পেল বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন ও বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দরে টিকার চালান গ্রহণ করার পর সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক জানান, দেশে আর কোনো টিকার সংকট হবে না। আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই বিভিন্ন ধাপে টিকা পাওয়া যাবে মোট ১৭ কোটি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে মডার্নার ১৩ লাখ টিকা আসার ঘণ্টাখানেক পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চীন থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে এসে পৌঁছায় সিনোফার্মের ১০ লাখ ডোজ টিকা। পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আসে আরো ১০ লাখ টিকা। চীন থেকে কেনা দেড় কোটি ডোজ টিকার প্রথম চালান এটি। এরপর সকাল সাড়ে আটটার দিকে আসে মডার্নার আরো ১২ লাখ ডোজ টিকা। এ সময়, সবাইকে টিকার আওতায় আনতে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে কোনো সমস্যা হবেনা বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, টিকার সঙ্কটে দেশে গণ টিকাদান কর্মসূচিতে ছন্দপতন হয়েছিল। এসব টিকা আসায় গণটিকাদান কর্মসূচি আবারো গতি পাবে। টিকাদান কার্যক্রম আমরা জোরেশোরেই শুরু করেছিলাম। টিকা না পাওয়ায় মাঝখানে কিছুদিনের জন্য টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এখন আমরা আনন্দের সাথে বলতে পারি, আগামীতে টিকার আর কোনো অভাব হবে না।

ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশ বিভিন্ন উৎস থেকে ১০ কোটি ডোজ টিকা পাবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছরের প্রথম তিন মাসের মধ্যে বা তার পরে জনজন অ্যান্ড জনসন থেকে আরও সাত কোটি ডোজ টিকা পাওয়া যাবে।

টিকা আসার সাথে সাথে বিমানবন্দর থেকে ফ্রিজার ভ্যানে করে সরাসরি মহাখালীর ইপিআই স্টোরে নেয়া হয়। সেখানে মাইনাস ২০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হবে মডার্নার টিকা এবং তিন থেকে আট ড্রিগ্রি তাপমাত্রায় রাখা হবে সিনোফার্মের টিকা।

দুই মাসের বেশি সময় পর বৃহস্পতিবার চীনা কোম্পানি সিনোফার্ম ও যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজারের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে সারা দেশে এরইমধ্যে নতুন করে গণ টিকাদান শুরু হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস বা গ্যাভি এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের গড়া প্ল্যাটফর্ম হলো কোভ্যাক্স, যা বিশ্বের সব মানুষের সংক্রামক রোগের প্রতিষেধক পাওয়া নিশ্চিত করতে গড়ে তোলা হয়েছে।

গত ২২ জুন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশের পাশাপাশি এশিয়ার ১৮টি দেশকে টিকার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ১ কোটি ৬০ লাখ টিকা দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস। কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বরাদ্দ হওয়া টিকা থেকে বাংলাদেশের জন্য মডার্নার তৈরি ২৫ লাখ টিকা পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়ে দেশে গণটিকাদান শুরু হয়। কিন্তু টিকা সঙ্কট দেখা দিলে গত ২৫ এপ্রিল সে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। সেসময় টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হচ্ছিল।

সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে এ পর্যন্ত ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। যারা প্রথম ডোজ পেয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার মতো টিকা না থাকায় অন্য উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় সরকার।

৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল দেশে গণটিকা দান কর্মসূচি। কিন্তু টিকা সংকটে মাঝ পথে তা থমকে যায়। ২১ জুন থেকে আবা্রও শুরু হয়েছে গণটিকাদান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ, মমতাকে বিজেপির বার্তা

বিদেশের খবর : ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই পদ থেকে সরে গেলেন তীরথ সিং রাওয়াত। শুক্রবার (২ জুলাই) রাতে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। তার পদত্যাগের কারণে অনেকটাই অস্বস্তিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর। কেননা, মনে করা হচ্ছে মমতাকে নৈতিকতার প্রশ্নে অস্বস্তিতে ফেলার জন্যই তীরথকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।

এখন প্রশ্ন উঠেছে তীরথ সিং রাওয়াতের সঙ্গে মমতার যোগসূত্র কোথায়? তারা দুজন উত্তরাখণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হলেও কেউই বিধানসভা ভোটে জয় লাভ করে আসেননি। তীরথ চলতি বছরের মার্চে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে ছিলেন লোকসভার সাংসদ। এদিকে মমতা রাজ্যে দলকে জয়ী করতে পারলেও নিজ নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন।

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, বিধানসভায় জিতে না এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলে তাকে ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের জন্য দেশটি বর্তমানে কোনো নির্বাচন বা উপনির্বাচনের আয়োজনে দ্বিধাদ্বন্দ্বে নির্বাচন কমিশন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে মনে করছেন, এ সুযোগে তীরথকে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে মমতাকে লক্ষ্য করে বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি।

এদিকে তীরথ সিং পদত্যাগের পর বলেছেন, করোনার প্রভাবে এখন উপনির্বাচন সম্ভব নয়। সাংবিধানিক সংকট হওয়ার সম্ভাবনায় চিন্তাভাবনা করে নৈতিক কারণে পদত্যাগ করেছি। সূত্র : আনন্দবাজার

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সেরা বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিতে ইতালি

খেলার খবর : দুইদিন বিরতির পর আবার মাঠে গড়িয়েছে ইউরো কাপ। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচে টাইব্রেকারে ৩-১ ব্যবধানে হেরে গেছে সুইজারল্যান্ড। সেমির টিকিট নিশ্চিত করেছে স্পেন।

পরের ম্যাচে বেলজিয়ামকে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে মাঠে সেমির টিকিট কাটল ইতালি।

শুক্রবার রাতে জার্মানির মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় রাত ১ টায় শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় ইতালি ও বেলজিয়াম।

যে ম্যাচে ২-১ গোলে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বর দলকে হারিয়েছে ইতালি।

ম্যাচের শুরুর ৪ মিনিটের মাথায় অফসাইডের বাঁশির কারণ হয়ে দাঁড়ান বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু। বোঝাই যাচ্ছে গোল পেতে কতটুকু মরিয়া তিনি।

১৩ মিনিটের মাথায় ইতালির হয়ে ১০০তম ম্যাচ খেলা বোনুচ্চি বেলজিয়ামের জালে বল জড়িয় দেন।উল্লাসে ফেঁটে পড়ে গ্যালারি। তবে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায়। কারণ ভিএআরের সাহায্য নিয়ে গোল বাতিল করেন রেফারি। এবার অফসাইডে চিয়েল্লিনি।

২০ মিনিটের মাথায় টিয়েলম্যানসকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ইতালির ভেরাত্তি। বাঁচেননি টিয়েলম্যানসও। তাকেও হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেন রেফারি।

এর দুই মিনিট পর ডি’ব্রুইনের দুর্দান্ত এক শট প্রতিহত করেন ইতালির গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুমা। ২৬ মিনিটের মাথায় লুকাকুর চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেন দোন্নারুমা। এক মিনিট পরও গোলপোস্ট বরাবর শট নেন ইনসিনিয়ে, তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

দুর্দান্ত সব আক্রমণের পর ৩১ মিনিটে গিয়ে সফলতা মিলে ইতালির। ভেরাত্তির পাস থেকে গোল করে ইতালিকে লিড এনে দেন বারেল্লা। ডি-বক্সে বল পেয়ে দুই জনের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে জোরালো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে গোলটি করেন ইন্টার মিলান মিডফিল্ডার। গোল শোধ করবে কি উল্টো প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার মিনিটখানেক আগে আরো একটি গোল হজম করে বেলজিয়াম।

এবার ইনসিনিয়ের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। মাঝমাঠ থেকে বাঁ দিক দিয়ে উঠে একজনকে কাটিয়ে সামনে এগিয়ে প্রায় ২২ গজ দূর থেকে অসাধারণ এক শটে বল জালে পাঠান ইনসিনিয়ে। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি থিবো কোর্তোয়া। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় মানচিনির দল।

তবে গোলোৎসবের রেশ কাটতে না কাটলে ইতালির রক্ষণের বিপজ্জনক জায়গায় বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বেলজিয়ামের ডোকুকে। গোল বাঁচাতে তাকে ফাউল করেন লরেঞ্জো। ভিএআরের সাহায্য নিয়ে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

প্রথমার্ধে সংযোজিত সময়ে তথা ৪৭তম মিনিটে সফল স্পট কিকে ব্যবধান কমান লুকাকু।

২-১ স্কোরলাইনে বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধে নেমে দারুণ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে ইতালি। ৫২ মিনিটে ইমমোবিলের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৬৬ মিনিটে স্পিনাজ্জোলার শট মাঠের বাইরে চলে যায়। ৬৯ মিনিটে ইনসিনিয়ের শট প্রতিহত করেন বেলজিয়াম গোলরক্ষক।

সমতায় ফিরতে ৬৯ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনেন বেলজিয়ামের কোচ।

টিয়েলম্যানস ও থমাসকে তুলে নিয়ে মার্টেন্স ও নাসেরকে মাঠে নামানো হয়। ৭৪ মিনিটে আবারও পরিবর্তন বেলজিয়াম দলে। এবার নাসেরকে তুলে নিয়ে ডেনিসকে মাঠে নামায় বেলজিয়াম।

পরিবর্তন আনে ইতালিও। ৭৪ মিনিটে ভেরাত্তি ও ইমমোবিলকে তুলে নিয়ে ব্রিয়ান ও বেলোত্তিকে মাঠে নামায় ইতালি।

৭৯ মিনিটে ক্লান্ত ইনসিনিয়েকে তুলে নিয়ে বেরার্দিকে মাঠে নামায় ইতালি। স্পিনাজ্জোলার পরিবর্তে মাঠে নামেন এমার্সন।

এই পরিবর্তনের খেলায় গোলের দেখা মিলছিল না। ৮৪ মিনিটে ইতালির পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন ডোকু। তাতে কাজ হয়নি। পোস্টের বাইরে দিয়ে বল চলে যায়।

৯০ মিনিটের মাথায় ডি’ব্রুইনকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন বেরার্দি। এসব ফাউলের জেরে দ্বিতীয়ার্ধে ৫ মিনিট সময় সংযোজন করেন রেফারি।

৯১তম মিনিটেমিডফিল্ডার সিয়েসাকে সরিয়ে ডিফেন্ডার রাফায়েলকে নামিয়ে রক্ষণ জমাট করে ইতালি। ৯৭ মিনিটে ভার্মায়লেনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

শেষমেষ সমতায় না ফিরতে পারায় রেফারির শেষ বাঁশি উল্লাসে মাতে ইতালি। ২-১ গোলের ব্যবধানে জিতে সেমির টিকিট নিশ্চিত করে মানচিনির শিষ্যরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest