সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযানসাতক্ষীরায় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতে মতবিনিময় সভাসাতক্ষীরা জেলা বিএনপিতে টুটুলকে ঘিরে তৃণমূলে তৎপরতাসাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক দুই দিনের সাংবাদিক প্রশিক্ষণের সমাপনীসাতক্ষীরায় টেপা মাছ খেয়ে একই পরিবারের ৫ জন অসুস্থ : ব্যবসায়ীর মৃত্যুডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিসাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক দুই দিনের সাংবাদিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনসাতক্ষীরায় পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যুমানবকণ্ঠের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধির নিয়োগ পেলেন মুজাহিদুলদেবহাটায় প্রতিবন্ধী নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ: সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

আফগানিস্তানে দেহরক্ষীর গুলিতে শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত

বিদেশের খবর: আফগানিস্তানের কান্দাহারে গভর্নরের কম্পাউন্ডে এক দেহরক্ষীর গুলিতে দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেনারেল আবদুল রাজিক নিহত হয়েছেন। শনিবারের পার্লামেন্টের নির্বাচন সামনে রেখে আফগান সরকারের জন্য এটাকে সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গভর্নরের কম্পাউন্ডে একটি বৈঠকের পর এ ঘটনা ঘটে। ওই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার জেনারেল স্কট মিলার। তবে তিনি হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান। গুলিতে আবদুল রাজিকসহ নিহত হন গোয়েন্দা সংস্থা এনডিএর একজন স্থানীয় কমান্ডারও। গুরুতর আহত হন প্রাদেশিক গভর্নর জালমে ওয়েসা।
হামলার দায় স্বীকার করেছে তালেবান। মার্কিন কমান্ডার স্কট মিলার ও রাজিকই হামলার লক্ষ্য ছিল বলে জানিয়েছেন তারা। জঙ্গিদের ঘোরবিরোধী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন রাজিক।
শনিবারই আফগানিস্তানে পার্লামেন্ট নির্বাচন। তার আগে প্রভাবশালী পুলিশপ্রধান জেনারেল রাজিকের মৃত্যু সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তালেবান জঙ্গিরা এরই মধ্যে নির্বাচন বানচালের হুমকি দিয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ শহীদ মিনারে

বিনোদনের খবর: বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়েছে। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।

শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়।
সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুর ১টার দিকে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নিয়েও যাওয়া হবে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠে। সেখানে বাদ জুমা তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
পরে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে মগবাজারে তার নিজের স্টুডিও এবি কিচেনে। আইয়ুব বাচ্চুর দ্বিতীয় জানাজা হবে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। দ্বিতীয় জানাজা শেষে শিল্পীর মরদেহ হিমঘরে রাখা হবে।
অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আইয়ুব বাচ্চুর মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব ও ছেলে আহনাফ তাজোয়ার আইয়ুব দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তারা এলে চট্টগ্রামে শনিবার মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আইয়ুব বাচ্চু।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু এসব তথ্য জানান।

বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) মাত্র ৫৬ বছর বয়সে আইয়ুব বাচ্চু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জনপ্রিয় এই শিল্পীর মৃত্যুতে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক।
আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের এনায়েতবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ ইসহাক ও মা নূরজাহান বেগম। ১৯৭৮ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে বাচ্চুর পথচলা শুরু। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ছিলেন সোলস ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট।
আইয়ুব বাচ্চুর অ্যালবাম এলআরবি বাজারে আসে ১৯৯২ সালে। এলআরবিই দেশের প্রথম ডাবল ও আনপ্লাগড অ্যালবাম প্রকাশ করে। সুখ, তবুও, ঘুমন্ত শহরে, ফেরারি মন, আমাদের বিস্ময়, মন চাইলে মন পাবে, অচেনা জীবন, মনে আছে নাকি নাই, স্পর্শ, যুদ্ধ এলআরবির জনপ্রিয় অ্যালবাম।
একক অ্যালবামেও ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছেন ক্ষণজন্মা এই শিল্পী। তার একক অ্যালবামের মধ্যে কষ্ট, সময়, একা, প্রেম তুমি কি, দুটি মন, কাফেলা, জীবনের গল্প উল্লেখযোগ্য। কিছু চলচ্চিত্রেও প্লেব্যাক করেছেন আইয়ুব বাচ্চু।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
স্বল্প সময়ের ব্যায়ামে পোক্ত শরীর

স্বাস্থ্য কণিকা: অনেকে আছেন শরীর ঠিক রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করেন। আবার অনেকে ব্যায়ামে অনিয়মিত। আবার যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, অনেক সময় তাঁরা নিয়মিত অনুশীলন করতে পারেন না। বিশেষ করে বিভিন্ন পারিবারিক ঝামেলায় অনুশীলনে বিরতি আসাটা স্বাভাবিক। এমন অবস্থায় অনুশীলন ছেড়ে দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। বরং অনুশীলনের সময় কমিয়ে এনে শরীর ঠিক রাখতে করা যেতে পারে বিভিন্ন ব্যায়াম। সপ্তাহে তিন দিন করে করা যেতে পারে শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম। দুই দিন ১০ মিনিটের জন্য কোর স্ট্যাবিলিটির ব্যায়াম। এরপর ১০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার বিরতিমূলক কার্ডিও। এরপর ১০ মিনিটের স্ট্রেস কমানোর স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ। বাকি একটি দিন কয়েকটি স্ট্রেচিং। এক দিন পুরোপুরি বিশ্রাম। জেনে নিই ২ টি ব্যায়াম

বল নিয়ে হাঁটু ভাঁজ করে ৪৫ ডিগ্রি উইন্ডশিল্ড
শুরুতে মাটিতে শুয়ে পড়তে হবে। একটি হালকা বল দুই হাঁটুর মাঝে চেপে ধরতে হবে, তবে হাঁটু ভাঁজ করা যাবে না। এবার গাড়ির ওয়াইপার যেমন করে কাচ পরিষ্কার করে, সেভাবে কোমর দুই পাশে ঘোরাতে হবে। ৪৫ ডিগ্রি মানে হলো মাটি স্পর্শ করবেন না। অর্ধেক গিয়ে কোমর অন্যদিকে ঘোরাতে হবে। এতে অবলিক পেশি শক্তিশালী হবে। এভাবে ১০ বার করে অনুশীলন করতে হবে।

জাম্পিং অ্যান্ড স্টিক ট্রান্সফার
এক জায়গায় দাঁড়িয়ে হালকা চালে জাম্পিং জ্যাক করুন। স্বাদবদলের জন্য হাতে হালকা একটি লাঠি নিন। একবার লাফাবেন আর লাঠিটা অন্য হাতে নেবেন। লাফানোর সঙ্গে সঙ্গে হাতবদলের একটি কো-অর্ডিনেশন তৈরি হবে।
৩০-৪৫ সেকেন্ড করুন। এক-দুই মিনিট বিশ্রাম নিয়ে চারবার রিপিট করুন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রিয়াংকার হবু বরকে বিপদে ফেলতে যাচ্ছেন পরিণীতি!

বিনোদনের খবর: প্রিয়াংকা চোপড়ার হবু বর মার্কিন পপ তারকা নিক জোনাসকে বিপদে ফেলতে যাচ্ছেন খোদ বলিউড অভিনেত্রীর বোন পরিণীতি চোপড়া! আর এ কথা নিজ মুখে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন স্বয়ং পরিণীতি চোপড়া। অনেকের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে তাহলে প্রিয়াংকার বোন কি এই বিয়ে মেনে নিতে পারছেন না। বিষয়টা অবশ্য তেমন নয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর, প্রিয়াংকা ও নিক আগামী ২ ডিসেম্বর ভারতের যোধপুরের উমেদ ভবনে তাদের বিয়ের কাজটা সেরে ফেলতে পারেন। এবং রাজকীয় এই প্রাসাদে ২০০ জনের মতো অতিথিদের আপ্যায়ন করা হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে পরিণীতি চোপড়াকে প্রশ্ন করা হলে নায়িকা বললেন, ‘‘আমি এক্সাইটেড ওদের বিয়ের শয্যা তোলা নিয়ে। আমি নিকের জুতা লুকিয়ে ৫ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ৪৩ কোটি টাকা) দাবি করব।’’
নিকের সঙ্গে তাঁর শালিকার সম্পর্ক দারুণ। নিজেদের প্রেমের কথা প্রিয়াংকা প্রথম বলেছিলেন পরিণীতিকেই। তাহলে কি দাবি পূরণ হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে একগাল হেসে পরিণীতির জবাব, ‘‘জুতা জোড়ার জন্য এর দ্বিগুণ টাকা দিতেও রাজি দুলাভাই।’’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৪ বছর ধরে ২ ভাইয়ের গণধর্ষণের শিকার নাবালিকা বোন

অনলাইন ডেস্ক: নিজের নাবালিকা বোনকে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে৷ শিউরে ওঠার মতো ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মেরঠে৷ পুলিশ সেই দুই অভিযুক্ত ভাইকে গ্রেফতার করেছে৷ তাদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণসহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ৷
পুলিশ জানিয়েছে, ১৫ বছরের সেই কিশোরী নিজে থানায় এসে অভিযোগ জানায়৷ সিভিল লাইন পুলিশ স্টেশনের বাসিন্দা সেই কিশোরী জানায়, গত চার বছরের বেশি সময় ধরে দুই ভাইয়ের হাতে গণধর্ষণের শিকার সে৷ বাধা দিতে গেলে মারধর করা হতো তাকে৷ তার মা প্রতিবাদ জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো।
চার বছর ধরে অত্যাচার সহ্য করতে করতে অবশেষে মুখ খোলে সেই নাবালকা৷ পুলিশের কাছে দায়ের করে এফআইআর৷ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দুই ভাইকে গ্রেফতার করে মেরঠ থানার পুলিশ৷ মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষাও হয়৷ তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ জেরার মুখে দু’জনেই ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে৷

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি বদলে যাচ্ছে পদ্মা সেতু ঘিরে

অনলাইন ডেস্ক: পদ্মা সেতু আর পায়রা সমুদ্রবন্দর ঘিরে দক্ষিণাঞ্চল হবে ‘সিঙ্গাপুর’। অর্থাৎ সিঙ্গাপুরের মতো সক্ষম হবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি। কয়েক বছর আগে বরিশালে একটি অনুষ্ঠানে আশাজাগানিয়া এই উক্তিটি সর্বপ্রথম করেছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। ৮ অক্টোবর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দক্ষিণাঞ্চল এখন আর অবহেলিত নেই।’ সরকারপ্রধানসহ একাধিক মন্ত্রী, এমপি, নেতাসহ সরকারের অনেক কর্মকর্তার মুখে ঘুরেফিরেই উচ্চারিত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের ‘সিঙ্গাপুর’ বনে যাওয়ার গল্প। সঙ্গে রয়েছে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার বিরল সুযোগের পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। রেললাইন আসছে কুয়াকাটা-পায়রা পর্যন্ত। ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প ১১ অক্টোবর একনেকের সভায় অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আরও রয়েছে বিস্তৃত নৌপথ। এমন সম্ভাবনার দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক হারে গড়ে উঠবে দেশি-বিদেশি শিল্প-কলকারখানা। পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হবে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, হবে ব্যবসায়িক জোন। এমন ভাবনায় আগে থেকেই দক্ষিণাঞ্চলমুখী হয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। নতুন করে অনেকে আসছেন স্বপ্নের ‘সিঙ্গাপুরের’ উদ্যোক্তা হতে। কেউ পছন্দের জমি পাচ্ছেন, কেউ এখনো খুঁজছেন। তবে আশা ছাড়ছেন না। কীভাবে গড়ে উঠবে স্বপ্নের ‘সিঙ্গাপুর’, কবে হবে দৃশ্যমান, এর ভিতরের রহস্যটাই কী—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. তারিকুল হক বলেন, সিঙ্গাপুর এক দিনে এমন হয়নি। একসময় মালয়েশিয়া তাদের বের করে দিয়েছে। তাদের নেতা লি কুয়ানের অদম্য প্রচেষ্টায় সিঙ্গাপুর আজ এ অবস্থায়। মাত্র ৭৩০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের সিঙ্গাপুর এখন সারা বিশ্বে উজ্জ্বল। তিনি বলেন, পায়রা বন্দর, পদ্মা সেতু হচ্ছে, লেবুখালীতে হচ্ছে সেতু এবং সেনানিবাস, কলাপাড়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা-পায়রা ফোর লেন ও রেললাইন প্রক্রিয়াধীন। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পায়রা বন্দর হবে অন্যতম। এখানে জমির মূল্য কম। রয়েছে সস্তা শ্রম। ২০২১ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর কানেকশন হয়ে গেলে এর পরই শুরু হবে ইন্ডাস্ট্রি। সময়ের প্রয়োজনে দ্রুত চোখে পড়বে আমূল পরিবর্তন। সব দিকের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে গ্রেটার বরিশাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্যুরিস্ট হাব, কমার্শিয়াল হাব এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাবে পরিণত হবে বলে মনে করেন জাইকার একটি প্রকল্পের পরামর্শক প্রকৌশলী তারিকুল হক। প্রকৌশলী তারিকুল হক আরও বলেন, মিল-ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠতে প্রথমেই ট্রান্সপোর্টেশন (পরিবহন) প্রয়োজন। সবচেয়ে সহজ এবং সাশ্রয়ী হচ্ছে নৌ, রেল ও সড়কপথ। আকাশপথ এক্সপেনসিভ হলেও বরিশালে সব ধরনের যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকায় ঢাকা থেকে বরিশাল এবং পায়রা বন্দর পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে কোনো আনসোল্ড জমি নেই। তার মতে, গুরুত্ব বুঝে উদ্যোক্তারা দক্ষিণাঞ্চলে জমি কেনায় ইতিমধ্যে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন। এখন অপেক্ষা অবকাঠামোর। সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, এখনো দক্ষিণের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কৃষি-অর্থনীতির উন্নয়নে কৃষির বৈচিত্র্যকরণ, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির প্রয়োগ, নদীভাঙন রোধ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, লবণপানির প্রভাব মোকাবিলা, স্বল্প সুদে কৃষিঋণ এবং বাজারজাতকরণের জন্য প্রচুর অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। কৃষি ছাড়াও দক্ষিণে এখন শিল্পায়নের বিশাল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ আক্তারুজ্জামান। তার মতে, পূর্বে ভোলার গ্যাস, পশ্চিমে মোংলা বন্দর, উত্তরে পদ্মা সেতু আর দক্ষিণে পায়রা বন্দর-কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত—এই পাঁচের সম্মিলনে মাত্র কয়েক বছরেই জেগে উঠছে ‘দক্ষিণাঞ্চল’। দক্ষিণে সস্তা শ্রম, অবরিত জমি, কম খরচে নৌপরিবহনসহ সড়কপথেও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ব্যাপক শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। অপসোনিনসহ অনেকেই ইতিমধ্যে শিল্প সম্প্রসারণ করেছে। উদ্যোগী হয়েছেন অনেকে। শিল্প করার জন্য সম্প্রতি পায়রা সমুদ্রবন্দরের কাছাকাছি জমি দেখতে গিয়েছিলেন বিএনপির সিনিয়র এক নেতা। বরিশালের সন্তান ওই নেতাসহ তার এক বন্ধুর একসঙ্গে শিল্প করার পরিকল্পনা রয়েছে সেখানে। বিরোধিতার স্বার্থে কার্পণ্য না করে ওই নেতা বলেন, পায়রা সমুদ্রবন্দর হবে ‘ভায়াব্ল’। এখান দিয়ে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট দ্রুত হবে। ঢাকার সঙ্গে সহজ হবে নৌ, সড়ক, রেল ও আকাশপথের যোগাযোগ। তাই বন্দরের কাছাকাছি শিল্পের জন্য জমি চাই তাদের। যারা সারাক্ষণ সরকারের সমালোচনায় ব্যস্ত, তারাও এক বাক্যে স্বীকার করছেন বরিশালের বদলে যাওয়ার গল্প।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. সাইদুর রহমান রিন্টুর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সিঙ্গাপুর বনে যাওয়া সম্পর্কে। তিনি বলেন, পায়রা বন্দরের কাজ চলছে। পদ্মা সেতুর চলমান। ফোর লেন অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পায়রা-কুয়াকাটা পর্যন্ত সব সেতু হয়ে গেছে (লেবুখালীর কাজ চলমান)। নৌ যোগাযোগের উত্তম ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ভোলার গ্যাস আসছে। কলাপাড়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে। লেবুখালীতে হচ্ছে সেনানিবাস। পদ্মার এপার হচ্ছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বরিশালের চরমেঘায় হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র। কুয়াকাটা ও বরিশালে সরকারি উদ্যোগে হচ্ছে দুটি ফাইভস্টার হোটেল। চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বরিশালে ব্যাপক হারে গড়ে উঠবে শিল্প-কলকারখানা। কর্মসংস্থান হবে লাখ লাখ মানুষের। সবকিছু মিলিয়ে শিল্প, ব্যবসা আর পর্যটনের ওপর ভিত্তি করে ‘সিঙ্গাপুরে’ পরিণত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চল—এমনটাই মনে করছেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা, শিল্পোদ্যোক্তা ও জনপ্রতিনিধি রিন্টু।

শুধু শিল্প আর ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, পায়রার অদূরেই রয়েছে ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। সেখানে দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যায় সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়। রয়েছে দেশের বৃহত্তম প্রাচীন বৌদ্ধমন্দির, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব শরীফ বলেন, একই জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় উপভোগ করা যায় পৃথিবীর মাত্র দুটি স্থানে। এর একটি হলো কুয়াকাটা আর অন্যটি জাপান। কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত সাইট ট্যুরও এখন সময়ের ব্যাপার। কুয়াকাটা মাস্টারপ্ল্যানে রয়েছে জাতীয় ক্রিকেট ভেন্যু, দুটি স্টল এয়ারপোর্ট, মেরিন ড্রাইভসহ অনেক কিছু। এত সম্ভাবনার কুয়াকাটায় হচ্ছে ট্যুরিস্ট হাব। তবে ভাঙন থেকে কুয়াকাটা রক্ষায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধ ও মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

দক্ষিণের বদলে যাওয়ার রহস্য জানতে চাইলে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। খুলনা আর চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুটি বন্দরে শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে। অর্থনীতিতে ওই দুই অঞ্চল অনেক সমৃদ্ধ। এই দুই বিভাগের মাঝে বরিশালের (ছয় জেলা) সঙ্গে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, বাগেরহাট এত দিন ছিল পিছিয়ে। এ অঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু, পায়রা বন্দর, ফোর লেন, রেললাইন, লেবুখালীতে সেতু ও সেনানিবাস, কলাপাড়ায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, হিজলায় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পদ্মার এপারে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করছেন। পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের উন্নয়নে এতগুলো মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তার দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। এটাই বদলে যাওয়ার ভিতরের ‘রহস্য’ বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট দুলাল। আগামী কয়েক বছরে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছলে দক্ষিণাঞ্চলে ‘সিঙ্গাপুরের’ চেহারাই ফুটে উঠবে এমন স্বপ্ন দেখেন তিনি।

এক অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১০ সালে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ছিল ৩১.৫ শতাংশ। অথচ ওই বছর বরিশাল বিভাগে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩৯.৪ শতাংশ। ২০১৬ সালে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪.৪ ভাগ এবং বরিশালের দারিদ্র্যের হার ছিল ২৬.৫ ভাগ। অর্থাৎ পিছিয়ে থাকলেও বরিশালে দ্রুত কমছে দারিদ্র্যের হার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বরিশালে অর্থনৈতিক ক্ষেত্র বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত কমছে দারিদ্র্যের হার। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে ১০ বছরের মধ্যে বরিশাল বিভাগের দারিদ্র্যের হার ১৫-১৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে ধারণা।

অর্থনীতির শিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামানের মতে, ‘সিঙ্গাপুর হচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আমতলী উপজেলার চেয়েও আয়তনে ছোট। এত ছোট একটা দেশ সমুদ্রবন্দর, পর্যটন আর মেডিকেল সার্ভিসের ওপর ভর করে ধনী রাষ্ট্র হতে পারলে আমরা (দক্ষিণাঞ্চল) কেন পারব না?’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাবাকে নিয়ে স্বপ্নটা পূরণ হলো না বাচ্চুর

বিনোদনের খবর: ৩৪৪ জুবিলী রোড, নুরুজ্জামান সওদাগরের বাড়ি। চট্টগ্রাম নগরের এনায়েত বাজার এলাকার তিনতলার ভবনটির গায়ে শেওলা জমেছে। বিভিন্ন জায়গায় জন্মেছে পরগাছা। দীর্ঘদিন রং না করায় এখন বিবর্ণ। হঠাৎ করে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ভবনটিতে দর্শনার্থীর আনাগোনা বেড়ে যায়। একের পর এক আসতে থাকে সাংবাদিকের গাড়ি।
এই বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ফিরিঙ্গিবাজারের হাজী নুরুজ্জামান আবাসিক এলাকার ‘হাজী বিল্ডিং’ ও ‘সখিনা ম্যানশন’। সেখানেও একই চিত্র। চট্টগ্রাম নগরের তিন ভবনে এখন শোকের ছায়া। কারণ এই ভবনগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর বেড়ে ওঠার স্মৃতি। এসব ভবনের বাসিন্দারা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁদের প্রিয় ‘বাচ্চু’ আর নেই।

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে শুধু গানের জগতে কিংবা গায়কের শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি। গিটারিস্টদের জগতে বিশাল একটি শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ছিলেন এই উপমহাদেশের অন্যতম সেরা গিটারিস্টদের একজন। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথম আলোকে এ কথা বলেন দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড সোলসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ নেওয়াজ। তাঁর হাত ধরেই সোলসে এসেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। সময় তখন ১৯৮২ সাল। সেদিনের কথা স্মৃতিচারণা করে আহমেদ নেওয়াজ বলেন, ১৯৭৩-৭৪ সালে সোলসের যাত্রা শুরু হয়। শুরুর দিকে ভালোই চলছিল। কিন্তু ১৯৮২ সালের দিকে সংকটে পড়ে সোলস। এই সংকট ছিল গিটারিস্টের। ওই সময়ে শুনতে পান আইয়ুব বাচ্চুর কথা। নগরের দেওয়ানহাট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কথা হলে তাঁকে সোলসে যোগ দিতে বলা হয়। এরপর গিটারিস্ট হিসেবে সোলসে যোগ দেন তিনি। বাচ্চু যোগ দেওয়ার পর সোলসের গানের ধরন পাল্টে যায় বলে মন্তব্য করেন আহমেদ নেওয়াজ। তিনি বলেন, ‘আমরা বিকেলে সবাই দুই-তিন ঘণ্টা প্র্যাকটিস (অনুশীলন) করতাম। কিন্তু বাচ্চু রাত দুই-তিনটা পর্যন্ত প্র্যাকটিস করতেন।’
সংগীতের প্রতি আইয়ুব বাচ্চুর সাধনা অন্য রকম ছিল মন্তব্য করেন ছোটবেলার বন্ধু চিটাগং মিউজিক্যাল ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী। বাচ্চু এশিয়া উপমহাদেশের সেরা ১০ গিটারিস্টের একজন উল্লেখ করে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ফুটবল-ক্রিকেট খেলতাম না। আমাদের খেলা ছিল সংগীত নিয়ে। স্কুলের সময় ছাড়া রাত-দিন গান নিয়ে পড়ে থাকতাম। বাচ্চু তখন থেকেই দারুণ গিটার বাজাতেন। স্কুলে থাকার সময় বাচ্চু বিশ্বের বড় বড় শিল্পীদের ক্যাসেট জোগাড় করতেন, তা রপ্ত করতেন। পরে গিটারে তুলতেন।’

১৯৮২ সালে সোলসে যোগ দেওয়ার আগে লালখান বাজার এলাকায় জ্যাকব ডায়েসের প্রতিষ্ঠিত স্পাইডার ব্যান্ডে গিটারিস্ট হিসেবে ছিলেন বলে জানান সোলসের তৎকালীন ড্রামার সুব্রত বড়ুয়া রনি। তিনি প্রথম আলোক বলেন, বাচ্চু সেরা গিটারিস্ট ছিল। সে শুধু গিটারই বাজাত না। গানও লিখত। নিজেই সুর দিত। বাচ্চু আসার পর সোলসের গানের স্টাইলই চেঞ্জ হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছে বাচ্চু।

ব্যান্ড জগতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর সান্নিধ্য পেয়েছিলেন এই সময়ের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল তিরন্দাজের ভোকাল শান শাহেদ। হঠাৎ মৃত্যু এখনো মেনে নিতে পারছেন না এই তরুণ শিল্পী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাচ্চু ভাই আমাদের বলতেন, তোমাদের নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন আছে। সংগীত নিয়ে তোমরা যাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারো, সে জন্য কাজ করছি। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক, পরিবারের সদস্য। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ হওয়া কঠিন।’
এক মাস আগে ঢাকায় আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে সরাসরি দেখা হয় ছোট বোন আফরিন মুন্নীর স্বামী ওমর উদ্দিন আনসারির। সপ্তাহখানেক আগে মুঠোফোনে শরীরের খোঁজখবর নেন তিনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে মুঠোফোনে যে খবরটি শোনেন, তার জন্য একদম প্রস্তুত ছিলেন না ওমর উদ্দিন। ‘বাচ্চু ভাই আর নেই’ শোনার সঙ্গে সঙ্গে ফিরিঙ্গিবাজারের সখিনা ম্যানশনে কান্নার রোল ওঠে। বোন মুন্নীর আহাজারিতে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না শোকাহত অন্য সদস্যরা।

বাসায় থাকলেও বড় ছেলের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়নি বাবা মোহাম্মদ ইছহাককে। বিকেলে ওমর উদ্দিন আনসারি বলেন, ‘সকালে সবাই মিলে নাশতা করতে বসছিলাম। ঠিক ওই সময় খবরটি পাই। এ ধরনের খবর আসবে তা কল্পনা করিনি। এটি আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য সংবাদ।’ তিনি জানান, চৈতন্যগলির কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে বাচ্চুকে কবর দেওয়া হবে।

আইয়ুব বাচ্চুর জীবনের একটি অংশ কেটেছিল নুরুজ্জামান আবাসিক এলাকার হাজী বিল্ডিংয়ের তিনতলায়। সেখানে ভাইবোনদের নিয়ে বসবাস করতেন বাবা। এখন সেখানে ভাড়াটে থাকেন। এই ভবনের নিচতলায় থাকেন ফুফাতো ভাই হাসান রিয়াদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৩ অক্টোবর চট্টগ্রামের জিইসি কনভেনশনে প্রোগ্রাম ছিল ভাইয়ার (আইয়ুব বাচ্চুর)। অনুষ্ঠান শেষ করেই ফোন দেন। অ্যাভিনিউ হোটেলে খেতে আসতে বলেন। ব্যস্ততার জন্য যেতে পারিনি। এখন মনে হচ্ছে কেন সেদিন গেলাম না। গেলে অন্তত ভাইয়ার সঙ্গে শেষ দেখা হতো। নিজের ওপর এখন রাগ হচ্ছে।’

এনায়েত বাজারের বাড়িটিতেই জন্মেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। এখন আর পরিবারের কেউ থাকেন না এই ভবনে। বিভিন্ন কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। মেসও আছে সেখানে। আছে গুদামঘর ও দোকান। এই ভবনের একটি কক্ষে ১৩ বছর ধরে ভাড়া থাকেন রাজা মিয়া। গিটারিস্ট বাচ্চুর চেয়ে গায়ক বাচ্চু তাঁর কাছে অধিক প্রিয়। তিনি বলেন, ‘একসময় যখনই আইয়ুব বাচ্চুর ক্যাসেট বের হতো, তা সংগ্রহ করতাম, আর শুনতাম। তাঁকে আমরা বাড়ির মালিকের চেয়ে গায়ক হিসেবে বেশি চিনি। একসময় বছরে অন্তত একবার হলেও আসতেন। তবে ২০১২ সালের পর থেকে সেভাবে আসতেন না।’

প্রায় দুই মাস আগে এক দুপুরে চট্টগ্রাম এসে দেখা করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে। পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে চলে বিভিন্ন খুনসুটি। আলাপের একপর্যায়ে মেয়রকে জানান, চট্টগ্রাম নগরের পছন্দনীয় এলাকায় মনের মতো বাড়ি করার স্বপ্ন রয়েছে। বাবাকে এনে রাখবেন সে বাড়িতে। আর ঢাকা থেকে আসা-যাওয়া করবেন। সংগীতজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর একেবারেই চট্টগ্রামে চলে আসবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। সে দিনের স্মৃতিচারণায় আক্ষেপ করে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘স্বপ্নটা পূরণ হওয়ার আগেই হুট করে চলে গেল বাচ্চু। এটি ভেবে খারাপ লাগছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নির্বাচনের আগে সাত হাজার বন্দীর মুক্তি

অনলাইন ডেস্ক: লঘু অপরাধে কারাগারে আটক বন্দীদের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি বন্দী থাকায় চাপ কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বয়স্ক, অসুস্থ ও সাজার মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে আসা বন্দীরাও মুক্তি পাবেন। সব মিলিয়ে ৭ হাজার ৪০১ জন বন্দীকে মুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
এমনকি মাদক মামলায় কারাগারে আটক ২৭ হাজার ৪১৫ জন বন্দীর (সাজা হয়নি এখনো) বড় একটি অংশকেই মুক্তি দিতে চায় সরকার। যদিও দেশজুড়ে এখন মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই বন্দীদের বেশির ভাগ মাদকের বাহক হিসেবে ধরা পড়েছিলেন। তাঁরা বড় অপরাধী নন। তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষীও পাওয়া যাচ্ছে না।

এভাবে বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার সরকারি প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাঁরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে কারাগার খালি করে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ঢোকাতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, কোনো নীতিমালা বা প্রজ্ঞাপন জারি না করে নির্বাচনের আগে এভাবে বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক। সরকারের এই উদ্যোগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনের আগে বিরোধী মতের রাজনৈতিক কর্মীদের কারাগারে যাতে রাখা যায়, সে ব্যবস্থাই সরকার করতে যাচ্ছে—এমন সন্দেহ মানুষের মনে জাগবে।

কারা কর্মকর্তারা বলছেন, চুরি, ছিনতাই, মাদক বহনের ঘটনায় আটক বন্দীদের অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সাক্ষীর অভাবে বিচার শেষ হচ্ছে না। আবার শাস্তির মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন কিন্তু বিচার শেষ হয়নি—এমন বন্দীরা জেল সুপারের কাছে অন্যায় স্বীকার করে আবেদন করেছেন। এসব আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁদের মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।

কেন এ উদ্যোগ নেওয়া হলো—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে কারাগারে বন্দীর চাপ কমানো। কারাগারে ৩৬ হাজার ৬১৪ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু আসামির সংখ্যা প্রায় ৯২ হাজার। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই লঘু অপরাধে আটক আছেন। সাক্ষীর অভাবে বিচার হচ্ছে না। বিচারাধীন মামলার এসব আসামির মুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করছে। দেশের সব কারাগারে এমনভাবে যাঁরা বিনা বিচারে তিন বছর পর্যন্ত আটক আছেন, তাঁদের এই প্রক্রিয়ায় মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কারাগারে বন্দীর সংখ্যা কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত মাসে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১৪২ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ৩৬ জন মামলা থেকে অব্যাহতি ও ১০৬ জন বিভিন্ন মেয়াদে জামিনে মুক্তি পান।

সাধারণত প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং দুই ঈদের আগে কিছু বন্দীকে (লঘু অপরাধ এবং কারাগারে শৃঙ্খলা মেনে চলা) মুক্তি দিতে বিভিন্ন কারাগার থেকে একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় সেই তালিকা সুপারিশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠায়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ওই বন্দীরা ক্ষমা পান। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি যেকোনো আদালতের দেওয়া দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা কমাতে পারেন।

আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, সরকারের এ ধরনের উদ্যোগের ফলে জনমনে যেন বিচারব্যবস্থা নিয়ে আস্থাহীনতার পরিবেশ তৈরি না হয়, তা খেয়াল রাখতে হবে। আসামির নাম, অভিযোগের ধারা ও কারাবাসের সময় প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট আসামিকে মুক্তি দিতে হবে, না হয় জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হবে। জনগণ ভাববে সরকার রাজনৈতিক বা অন্যায় উদ্দেশ্যে এসব করছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest