সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় দুর্গাপূজার নবমীতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমআশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতিউপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ: চারা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকারপ্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শ্যামনগরের বিএনপি নেতা আদম আলীএখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরের

সকালে মধু খেলে ওজন কমে!

অনলাইন ডেস্ক: প্রাচীনকাল থেকেই ঔষধ হিসেবে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতিদিন সকালে মধু খেলে ওজন কমে। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানির সাথে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে কিছুদিনের মধ্যেই। এছাড়াও এতে লিভার পরিস্কার থাকে।

শরীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে মধু। কারণ মধুতে আছে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল, ভিটামিন ও এনজাইম যা শরীরকে বিভিন্ন অসুখ বিসুখ থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু খেলে ঠাণ্ডা, কফ, কাশি ইত্যাদি সমস্যা কমে যায়।

মধুর সঙ্গে দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে তা রক্তনালীর সমস্যা দূর করে এবং রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১০ ভাগ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। মধু ও দারচিনির এই মিশ্রণ নিয়মিত খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।

হজমের সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন সকালে মধু খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। মধু পেটের অম্লভাব কমিয়ে হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। হজমের সমস্যা দূর করার জন্য মধু খেতে চাইলে প্রতিবার ভারি খাবার খাওয়ার আগে এক চামচ মধু খেয়ে নিন। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে এক চামচ মধু কিন্তু খুবই উপকারী।

মধুতে আছে প্রাকৃতিক চিনি যা শরীরে শক্তি যোগায় এবং শরীরকে কর্মক্ষম রাখে। বিশেষ করে যারা মিষ্টি জাতীয় কিছু খেতে পছন্দ করেন, তারা অন্য মিষ্টি খাবারের বদলে মধু খেতে পারেন। শরীরের দুর্বলতা ও চা-কফির নেশা কমায় মধু।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হলেন নাঈমা খান

অনলাইন ডেস্ক: মানসম্মত শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নের পথ বেয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য’ তথা এসডিজি অর্জনের পথ সুগম করার অভিপ্রায়ে নিউইয়র্কের খান’স টিউটোরিয়ালের চেয়ারপার্সন নাঈমা খানকে ‘জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অব মিডিয়ার নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদের কো-চেয়ার ড. আমিন ক্রুজ গত ১৫ অক্টোবর এ নিয়োগের আদেশ প্রদান করেন। আর এ নিযুক্তির সনদপত্র হস্তান্তর করা হয় ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউএস সিনেটর বব বেমেন্ডেজ (নিউজার্সি), কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এসপাইলেট, নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোর্টের জজ কারমেন ভেরাজকুয়েজ।

‘শুভেচ্ছা দূত’ হিসেবে নাঈমা খান আগামী ৩ বছর মর্যাদাসম্পন্ন শিক্ষা প্রসারের নানা কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন দেশে সভা-সিম্পোজিয়াম করবেন। এসডিজি অর্জনের ১৭টি বিষয়ের মধ্যে চতুর্থতম হচ্ছে শিক্ষা।
প্রসঙ্গত, নিউইয়র্কে স্বল্প আয়ের বাংলাদেশিসহ অভিবাসী সমাজের সন্তানদের সেরা হাই স্কুল ও খ্যাতনামা ভার্সিটিতে ভর্তির উপযোগী কোর্স প্রদানের মধ্য দিয়ে গত দুই দশকে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে ‘খান’স টিউটোরিয়াল’। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ড. মনসুর খান-যাকে একুশে পদক (শিক্ষা) দেয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির ১১টি শাখা চালু রয়েছে নিউইয়র্কে সিটিতে।
নাঈমা খান তার এ বিশেষ সম্মানের জন্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। স্কুলগামী সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় নিষ্ঠার সাথে দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্যে সকল অভিভাবকের আস্থা তৈরি হবার পরিপ্রেক্ষিতে এমন একটি বিরল দায়িত্ব পেয়েছেন বলে মনে করেন নাঈমা খান। এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে বাংলাদেশের মুখই উজ্জ্বল হবে বলে মনে করেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৩ সপ্তাহ মাঠের বাইরে মেসি, খেলা হচ্ছে না এলক্লাসিকো

অনলাইন ডেস্ক: সেভিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে লা লিগা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে বার্সেলোনা। গোল পেয়েছেন মেসি, কুটিনহো, সুয়ারেজ ও রাকিটিচ। তারপরও মন ভালো নেই গুরু ভালভার্দের। কারণ প্রিয় শিষ্যকে তিন সপ্তাহে মাঠে পাবেন না তিনি। অথচ এই সময়ের মধ্যে লড়তে হবে মর্যাদাপূর্ণ এলক্লাসিকো ও চ্যাম্পিয়নস লিগের শক্ত প্রতিপক্ষ ইন্টার মিলানের বিপক্ষে।
গতরাতে সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে গুরুতর চোট পান লিওনেল মেসি। তখনই আশঙ্কা ছিলো মেসিকে হারানোর। পরে বার্সেলোনার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, ডাক্তারি পরীক্ষার পরে জানা গেছে মেসির ডান হাতের কবজির ওপরের হাড়ে চির ধরেছে। তাঁকে অন্তত তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
২৫ অক্টোবর ও ৭ নভেম্বর ইন্টার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। মাঝে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এলক্লাসিকো। এসব দুঃশ্চিন্তা মাথায় রেখে অন্য শিষ্যদের সাহস যোগাচ্ছেন ভালভারদে। এই খবর পাওয়ার পর বলেছেন, এটা ঠিক যে মেসির অভাববোধ করব আমরা। কিন্তু এটা পুষিয়ে নেওয়ার মতো খেলোয়াড় আছে আমাদের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মেসির চোট সত্ত্বেও বার্সেলোনার জয়

খেলার খবর: লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। বার্সেলোনার পক্ষে একটি করে গোল করেন মেসি, কুতিনহো, সুয়ারেজ ও ইভান রাকিটিচ। সেভিয়ার হয়ে একটি করে গোল করেন সারাবিয়া ও মুরিয়েল।
শেষদিকে টের স্টেগান বার কয়েক বার্সেলোনাকে না বাঁচালে ফলাফল হতে পারত অন্য কিছু। সুয়ারেজ সহজ সুযোগ হাতছাড়া না করলে বার্সেলোনাও পেত আরও গোল। যদিও সেভিয়ার বিপক্ষে শেষতক ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বার্সেলোনা। এমন দিনে বার্সার একমাত্র খারাপ খবরটি তাদের সেরা খেলোয়াড়টির চোট। ম্যাচের ১৪ মিনিটে পড়ে গিয়ে চোট পান মেসি। এরপর হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মেসিকে। সামনেই চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলা। রয়েছে এল ক্লাসিকোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও। বার্সা সমর্থকদের মনে একটাই প্রশ্ন—মেসিকে ঠিকঠাক পাওয়া যাবে তো?
শুরু থেকেই সেভিয়াকে চাপে রাখে বার্সেলোনা। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই মেসির পাস থেকে গোল করেন কুতিনহো। পাল্টা আক্রমণে সমতায় ফিরতে পারত সেভিয়া। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে এরেনার শট গোলপোস্টে না লাগলে নিশ্চিত সমতায় ফিরত অতিথিরা। এরপর দুই দলই একে অন্যের রক্ষণে ভয় ধরিয়ে দেয়। তবে খেলায় এগিয়ে যায় বার্সেলোনাই। ম্যাচের ১২তম মিনিটে সুয়ারেজের দুর্দান্ত পাস থেকে বল পায় মেসি। তাঁকে আর ঠেকায় কে! সেভিয়ার রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন এই গোলমেশিন। এরপরই ভাজকেজের সঙ্গে বল দখল করতে গিয়ে পড়ে গিয়ে চোট পান মেসি। মেসির বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ডেম্বেলে। নিজেদের সেরা খেলোয়াড়কে হারিয়ে বার্সেলোনার খেলার গতি খানিকটা কমে আসে। ৩৬ মিনিটে সুয়ারেজের শট বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে রক্ষা পায় সেভিয়া। ৪১ মিনিটে ডেম্বেলের শটটিও চলে যায় গোলপোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে। এরপর সুযোগ হাতছাড়া করেন রাকিটিচও। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ২-০ স্কোরলাইনে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬১ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ পায় সেভিয়া। তবে টের স্টেগান দুইবার বার্সেলোনাকে রক্ষা করেন। মেসি নেই। গোলের দায়িত্ব নেন সুয়ারেজ। বেশ কটি সুযোগ হাতছাড়া করলেও ৬২ মিনিটে পেনাল্টি আদায় করেন সুয়ারেজ। পেনাল্টি শটে বার্সেলোনাকে ৩-০ গোলে এগিয়ে নেন সুয়ারেজ। ৭৯ মিনিটে সারাবিয়ার দুর্দান্ত শটে গোল পায় সেভিয়া। খেলায় ফেরার আশাও তখন খানিকটা জেগে ওঠে। চাপে পড়ে যায় বার্সেলোনা। টের স্টেগান আবারও দুই দফা রক্ষা করেন বার্সেলোনাকে। তবে সেভিয়ার খেলায় ফেরা আর হয়ে ওঠেনি। ৮৮ মিনিটে উল্টো গোল হজম করে বসে দলটি। রাকিটিচের দুর্দান্ত ভলিতে ৪-১ গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। যোগ হওয়া সময়ে মুরিয়েলের গোলে ব্যবধান কমলেও ১৮ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে এখন কাতালানরাই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা ও খুলনার উপকূলে নিরাপদ পানির জন্য হাহাকার

অনলাইন ডেস্ক: খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালি ইউনিয়নের বগা গ্রামের গৃহবধূ রোমেছা বেগম। পরিবারের পানযোগ্য পানির চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন খুব সকালে তাকে বাড়ি থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছতে হয় ইসলামপুর গ্রামের সরকারি পুকুরে।
পৌঁছতে দেরি হলে আর পরিচ্ছন্ন পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুকুরের চারপাশে বাড়ে পানিপ্রত্যাশী মানুষ। সেই সঙ্গে বাড়ে পরিষ্কার পানি পাওয়ার অপেক্ষা।
কোনো কোনো দিন পানি নিয়ে বাড়ি ফিরতে বিকাল গড়িয়ে যায়। বিশুদ্ধ নয়, শুধু খাবার উপযোগী একটু পানির জন্য এভাবেই প্রতিদিন রোমেছার মতো হাজারও গৃহবধূকে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়।

পাইকগাছা উপজেলার ২নং কপিলমুনি ইউনিয়নের নাসির জানান, তাদের ইউনিয়নে কোনো পুকুরেই পানযোগ্য পানি পাওয়া যায় না। এমনকি মাত্রাতিরিক্ত খনিজ উপাদান থাকায় বেশিরভাগ চাপকলের পানিও পানযোগ্যতা হারিয়েছে।

এই এলাকার মানুষের পানির প্রধান উৎস কপিলমুনি বাজারে বেসরকারি উদ্যোগে বসানো গভীর নলকূপের পানি। প্রতি লিটার ৫০ পয়সার বিনিময়ে পানি কিনতে হয় তাদের।
পানির সংকট এতটাই গভীর যে, চাহিদার কারণে এলাকায় গড়ে উঠেছে পানির জমজমাট ব্যবসা। এমনকি খুলনা থেকেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জার ভর্তি পানি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে সরবরাহ করছে এখানে। তবে যাদের আর্থিক সঙ্গতি নেই এসব ব্যবস্থার কোনোটিই তাদের কাজে আসে না।

জানা গেছে, খুলনার উপকূলীয় উপজেলা দাকোপ, কয়রা, বাগেরহাটের মোংলা, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি এলাকায় পানযোগ্য পানি দুষ্পাপ্য।
এসব উপজেলার বেশিরভাগ ইউনিয়নেই গভীর নলকূপ কার্যকর নয়। এখানে বসবাসরত মানুষ বর্ষা মৌসুমে মূলত বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে বছরের ২-৩ মাস পান করে।
শুষ্ক মৌসুমে সীমিতসংখ্যক পুকুরই তখন হয়ে ওঠে সুপেয় পানির প্রধান উৎস। এসব সংরক্ষিত পুকুরের সংখ্যা এতই সীমিত যে, গ্রামবাসী ৪-৫ ঘণ্টা ব্যয় করে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়।
একপর্যায়ে পুকুরের পানিও শুকিয়ে যায়। অবস্থাপন্নরা তখন উচ্চমূল্যে পানি সংগ্রহ করতে পারলেও দরিদ্রদের মধ্যে পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানছে। ফলে লবণাক্ততা বেড়ে নষ্ট হচ্ছে মিষ্টি পানির আধার। যে কারণে উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। আর ভূগর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত উত্তোলনে এ সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে বিশ্বে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পানির চাহিদা। উন্নত জীবনযাপনের প্রয়োজনেও মানুষের দৈনিক মাথাপিছু পানির চাহিদা বেড়ে চলেছে।

কিন্তু নানামুখী অপচয়ের কারণে অনেক স্থানে সুপেয় পানির উৎস সংকুচিত, দূষিত ও ধ্বংস হচ্ছে। এসব কারণে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এ সংকট সর্বাধিক।
ওই এলাকায় গড় হিসাবে ২৫২ জনের জন্য একটি নলকূপ থাকলেও অনেক উপজেলায় নলকূপের অস্তিত্ব নেই। সেখানে পানির জন্য পুকুর বা অন্য জলাশয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়।

ওই সব এলাকায় সিডর-আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক জলাশয় নষ্ট হয়েছে। ফলে সুপেয় পানির সংকটও বেড়েছে।

ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী, নিরাপদ উৎস থেকে পানি সংগ্রহের সুযোগ নেই এমন ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দেশে বর্তমানে প্রায় তিন কোটি মানুষ নিরাপদ পানি সুবিধার বাইরে। যার বেশির ভাগই বাস করে উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলে। বিভিন্ন সংস্থার একাধিক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আইলাদুর্গত এলাকার ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ বর্তমানে পানযোগ্য পানিবঞ্চিত। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর ও আশাশুনি এবং খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার ১৯ ইউনিয়নে বিশুদ্ধ পানির সংকট প্রকট। মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ মানুষ নলকূপের মাধ্যমে পানি পাচ্ছে। অন্যদের পানি সংগ্রহের জন্য গড়ে দুই থেকে ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত পাড়ি দিতে হচ্ছে। এখনও ৭৮ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে না। আর মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ পুকুর লোনাপানি মুক্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সংকটের অন্যতম সুপেয় পানি। উপকূলীয় এলাকায় এ সংকট সর্বাধিক। সেখানে সুপেয় পানির আধার কম। তার ওপর প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই আধারগুলো নষ্ট হচ্ছে। ফলে সংকট প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলে সিডর, আইলা, নার্গিস, বিজলীসহ পাঁচটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। এতে মিষ্টি পানির আধার নষ্ট হয়ে নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। ফলে উপকূলের মানুষকে খাবার পানির জন্য যুদ্ধ করতে হচ্ছে। সংকট মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বায়ো সেন্ড ফিল্টার, পিএসএফ (পুকুরপাড়ে বালির ফিল্টার) ও রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং প্লান্ট এবং জলাধার সংস্কার প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও সেটি যথেষ্ট নয়।

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির কারণে উপকূলীয় ও হাওর এলাকায় টেকসই ওয়াশ কার্যক্রম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষত উপকূলীয় এলাকায় পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা, আর্সেনিকের উপস্থিতি, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় পানির তীব্র সংকট এবং ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তির উপকরণের অভাবে ওয়াশ কার্যক্রম বাস্তবায়ন দুরূহ ব্যাপার। তাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৬) অর্জনে নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) নিশ্চিত করতে জনসচেতনতার পাশাপাশি সমন্বিত পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞগণের।

বুধবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘টেকসই ওয়াশ কার্যক্রম: তৃণমূলের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ দিক-নির্দেশনা’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। এতে প্যানেল আলোচক ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি পিটার ডি ভ্রিস, ওয়াটার এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. খায়রুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম মুকতাদির, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথের নির্বাহী পরিচালক এসএমএ রশীদ, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ওয়াশ স্পেশালিস্ট মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং ব্র্যাকের কমিউনিকেবল ডিজিজ ও ওয়াশ কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলাম।

কর্মশালায় তারা যেসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনে টেকসই ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় পানির অভাব দূরীকরণে বিশেষ ব্যবস্থা, প্রত্যন্ত এলাকায় উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া। এসডিজি-৬ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের অংশীদারিত্ব ও সমন্বয় বাড়ানো, সরকারের কর্মসূচির সঙ্গে স্থানীয় সুধীজনকে অন্তর্ভুক্ত করে জনসচেতনতা তৈরি, স্যানিটেশন সুবিধা বাড়াতে বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, স্বাস্থ্যবিধি ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের আরও অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি, দেশের বিভিন্ন স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ওয়াশ কর্মসূচি জোরদার করা ইত্যাদি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মহৌষধী গাছ

অনলাইন ডেস্ক: ডায়াবেটিস (বহুমূত্র রোগ) একটি হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। রক্তে চিনি বা শকর্রার উপস্থিতিজনিত অসামঞ্জস্য দেখা দিলে অর্থাৎ শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতিই হল এ রোগের মূল কথা। তবে ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিরাময় অযোগ্য হলেও একে নিয়ন্ত্রণে রাখার নানা উপায় বাতলে দেন চিকিৎসকরা।
ডায়াবেটিস রোগে ভেষজ কেমন উপকারী তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। প্রাচীনকাল থেকেই নানা জটিল অসুখে আয়ুর্বেদিক ভেষজ চিকিৎসা চমৎকার ফলাফল দিচ্ছে।
আয়ুর্বেদিকদের মতে, ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে আয়ুর্বেদের বেশ কয়েকটি ওষুধ রয়েছে যা রক্তের চিনির মাত্রা পরিচালনা করতে সহায়তা করে। আর রক্তের চিনির নিয়ন্ত্রণের জন্য আয়ুর্বেদ যে গাছটি ব্যবহার করে তার নাম – সদাবাহার।
এ ঔষধি গাছটির আদিভূমি আফ্রিকার মাদাগাস্কার হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে এটি ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত।
এই গাছের ফুল এবং এর মসৃণ, চকচকে এবং গাঢ় সবুজ রঙের পাতাগুলো টাইপ -২ ডায়াবেটিসের জন্য প্রাকৃতিক ঔষধ হিসাবে কাজ করে বলে দাবি আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞদের।
ভারতীয় আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞ ডাঃ আশুতোষ গৌতম জানান, সদাবাহার ফুল এবং পাতাগুলি রক্তের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। সকালে ফুল ও পাতা থেকে ভেষজ চা তৈরি করা যায় অথবা আপনি কার্যকর ফলাফল পেতে দিনে তিন থেকে চারটি পাতা চিবোতেও পারেন।
দীর্ঘদিন ধরে আয়ুর্বেদিক ও চীনা ওষুধে সদাবাহার ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সদাবাহার উদ্ভিটটি ডায়াবেটিস ছাড়াও ম্যালেরিয়া, গলার ঘা এবং লিউকেমিয়ার মতো রোগের হার্বাল চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত করা হয়।
তারা বিশ্বাস করেন, এই উদ্ভিদে ১০০ টিরও বেশি অ্যালকালয়েড রয়েছে, যার মধ্যে ভিনক্রিস্টাইন এবং ভিনব্লাস্টাইন তাদের ঔষধি গুণের জন্য সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।

জেনে নিই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সদাবাহারের ব্যবহার:
প্রথমে সদাবাহারের তাজা পাতাগুলো শুকিয়ে নিয়ে গুঁড়ো করতে হবে। এসব গুঁড়ো পাত্রে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে পাউডারগুলো যেন বাতাসের সংস্পর্ষে বেশি না থাকে।
এক চামচ শুকনো পাতার গুঁড়ো প্রতিদিন পানিতে বা ফলের রসে মিশিয়ে খেতে হবে।
এছাড়াও ডায়াবেটিস রোগীদের সদাবাহার গাছ হতে তিন-চারটি পাতা ছিড়ে নিয়ে ধুয়ে চিবিয়ে রস খেলে মিলবে দারুন উপকার।
এটি সারাদিন রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
সদাবাহার গাছের গোলাপী রঙের ফুলের কার্যকারিতাও অনেক। এক কাপ ফুটন্ত পানিতে এ ফুল ভিজিয়ে খালি পেটে প্রতিদিন সকালে পান করলে মিলবে উপকার।
তবে এ নিয়ে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন আর্য়ুবেদিক চিকিৎসকগণ। সবকিছুর আগে যে কোনো ডায়াবেটোলজিস্ট এর পরামর্শ নিতে বলছেন তারা।
কেননা রোগী যদি ডায়াবেটিসের জন্য কোনো ওষুধ খান এবং আবার এই ঔষধি গাছটিও খান তাহলে রাতারাতি রক্তশর্করার মাত্রা কমে গিয়ে বিপদ হতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের অপকারিতা

স্বাস্থ্য কণিকা: খাবারে স্বাদ আনতে লবণের বিকল্প নেই। পরিমিত পরিমাণ লবণ গ্রহণে খাবারের স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং শরীরের কোনো ক্ষতি হওয়ার সুযোগ থাকে না। মাত্রারিক্ত লবণের উপস্থিতি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কারণ আমাদের শরীরে সোডিয়াম ক্লোরাইড খুব কম পরিমাণে দরকার। তাই পুষ্টিবিদগণ মনে করেন যতো কম পরিমাণে লবণ গ্রহণ করা যায় ততই শরীরের জন্য ভালো।
আমাদের দেশে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের কাঁচা লবণ কম খেতে উপদেশ দেয়া হয়। কিন্তু অনেকেই ভুল ভেবে রান্নায় লবণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন কিংবা লবণ ভেজে তারপর খান। কিন্তু লবণ ভাজলে পানি শুকিয়ে গেলেও এর সোডিয়াম ক্লোরাইডের পরিমাণ ঠিকই থাকে। তাই যতটা সম্ভব রান্নায় কম লবণ ব্যবহার করাই অধিকতর উত্তম।

অতিরিক্ত লবণ খাওয়া শরীরের স্বল্প মেয়াদী এবং দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব ফেলে। যেমন-
১. উচ্চ রক্তচাপ: লবণের অতিরিক্ত সোডিয়াম ক্লোরাইড শরীরের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। এই উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্ট ফেইলিউর, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি ফেইলিউরের মতো সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীকে অতিরিক্ত লবণ খেতে নিষেধ করা হয়।

২. পিপাসা বেড়ে যাওয়া: বেশি লবণ খেলে পিপাসা বেড়ে যায়। কারণ এটি দেহের কোষে পানির ভারসাম্য রক্ষায় অসুবিধা হয়। শরীরে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখে যা কিডনির উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

৩. পা ফোলাভাব: চিকিত্সকদের মতে, অতিরিক্ত লবণ খাওয়ায় কখনো কখনো হাত ও পায়ে পানি জমে। এতে হাত ও পা ফোলা ফোলা ভাব হয়। এটি কিডনি রোগী এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য খুব ঝুঁকির কারণ।

৪. অস্টিওপোরোসিস: অতিরিক্ত লবণ গ্রহণে শরীরের পানির পিপাসা তৈরি হয়। এতে করে অতিরিক্ত পানি গ্রহণ করতে হয় এবং প্রসবের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম শরীর থেকে প্রসবের মাধ্যমে বেড়িয়ে যায়। এতে হাড় দুর্বল এবং ভঙ্গুর হয়।

৫. কিডনিতে পাথর হওয়া: অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কিডনিতে পাথরের সৃষ্টি করে। তাই পরিমিত পরিমাণ লবণ গ্রহণ সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest