সর্বশেষ সংবাদ-
আশাশুনিতে ওসি জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৬দেবহাটায় সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার৫ হাজার টাকা সম্মানিসহ ৭ দফা দাবিতে সাতক্ষীরায় দলিল লেখক সমিতির সমাবেশসাতক্ষীরায় নতুন আঙ্গিকে চালু হলো ‘মাল্টি কম্পিউটার ল্যান্ড ও ডিজিটাল রেকর্ডিং স্টুডিও’সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নাশকতার চেষ্টা, মামলা ও গ্রেপ্তার ৫কালিগঞ্জে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুআশাশুনিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৪সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে মিয়াওয়াকি বনায়নের উদ্বোধনদেবহাটায় চোর সন্দেহে ধাওয়া : মালামাল ফেলে পালালেন কয়েকজনকালিগঞ্জের মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির হেমায়েত স্থায়ী বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ডভ্যান ট্যাংকলরী ( দাহ্য পদার্থ বহনকারী ব্যাতীত) শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং – খুলনা ১২৭৫/৯৮) এর সাধারণ সভা – ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ শে জানুয়ারী) শ্রমিক ভবন ভিআইপি ট্রাক টার্মিনাল ইউনিয়ন ( আলিপুর) চত্বরে সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি মো. আজিজুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর ২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফুজ্জামান আশু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান বাবু, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আজহার হোসেন, ৭ নং আলীপুর ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আব্দুর রউফ ।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিকলীগ সাতক্ষীরা সভাপতি ও উক্ত ইউনিয়নের প্রধান উপদেষ্টা শেখ সাইফুল করিম সাবু। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন অর রশিদ,জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ডভ্যান ট্যাংকলরী ( দাহ্য পদার্থ বহনকারী ব্যাতীত) শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ। এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব আলম, শ্রম কর্মকর্তা গণেশ চন্দ্র বসু, পৌর কাউন্সিলর শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিকবৃন্দ। এসময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, শ্রমিক সংগঠনে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। কোন পক্ষপাতিত্বমূলক কমিটি হবে না। তিনি আরো বলেন, ভোমরা আধুনিক ছিলো সেখানে ব্যবসার উন্নতি হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ডভ্যান ট্যাংকলরী ( দাহ্য পদার্থ বহনকারী ব্যাতীত) শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহাঙ্গীর হোসেন (শাহীন)।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি : বাহারি পিঠার স্বাদ-গন্ধ নিয়ে সাতক্ষীরায় পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে ব্লিস ইন্টারন্যাশনাল একাডেমির আয়োজনে শহরের বাইপাসে ব্লিস ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি সাতক্ষীরা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠি পিঠা উৎসবের উদ্বোধন সদর -২ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফুজামান আশু।

একাডেমির প্রিন্সিপাল মোঃ নুর আলম শিপনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ সরোয়ার হোসেন, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এস কে আজহার হোসেন, জেলা আওয়ামী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুল বাবু, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুর রহমান বাবু,ব্লিস ইন্টারন্যাসনাল একাডেমির চেয়ারম্যান মোঃ আবু হাসান সহ আরো অনেকে। ১২টি স্টল দিয়ে সাজানো হয়েছে এ উৎসব।

স্টলে স্টলে পিঠার পসরা সাজিয়ে চলছে বিকিকিনি। বাহারি রঙের সঙ্গে বৈচিত্রময় ডিজাইন ও নকশায় অনন্য হয়ে উঠেছে। আর সেসব স্টল পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২০০ রকমের পিঠা। এসব পিঠার মধ্যে মালাই পিঠা, মুঠি পিঠা, আন্দশা, কুলশি, কাটা পিঠা, কলা পিঠা, খেজুর পিঠা, ক্ষীর কুলি, গোকুল পিঠা, গোলাপ ফুল পিঠা, সর ভাজা, পুলি পিঠা, পাতা পিঠা, পাটিসাপটা, পাকান পিঠা, নারকেলের সেদ্ধ পুলি, নারকেল জিলাপি, তেলের পিঠা, তেলপোয়া পিঠা, চাঁদ পাকান পিঠা, ঝুরি পিঠা, ছাঁচ পিঠা, দুধ চিতই, বিবিখানা, ভাঁপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠা, মালপোয়া, নকশি পিঠা উল্লেখযোগ্য। ##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি :
মর্নিং সান প্রি ক্যাডেট স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আমানুল্লাহ আল হাদী।

মর্নিং সান প্রি ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক শেখ আমিনুর রহমান কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ কামরুল হাসান ও মোঃ মইনুল হোসেন ।

মোট ৮ টি গ্রুপে ২৪ টি খেলায় ১৪৫ জন ছাত্র ছাত্রী অংশ নেয়। এ সময় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি : বৃহস্পতিবার রাত ৮টা। সাতক্ষীরা শহরের সংগীতা মোড় প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে অবস্থিত ছোট একটি চায়ের দোকানে কয়েক জনের জটলা। কেউ দিনমজুর, কেউ শ্রমিক আবার কেউ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দে। সারা দিনের কাজের শেষে একটু প্রশান্তি আর আনন্দের জন্য আড্ডায় জড়ো হয়েছেন এই মানুষজন। হটাৎ চা চক্রে হাজির হন সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আশরাফুজ্জামান আশু।

এসময় চা চক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নেন এমপি আশরাফুজ্জামান আশু। ক্ষণিকের চায়ের আড্ডায় যেন নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তারা। সাধারণ বেশে একজন এমপিকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ।

সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান বিপুল জানান, এমপি আশরাফুজ্জামান আশু সাহেবকে চায়ের দোকানে সাধারণ বেশে বসে চা খেতে দেখে উৎসুক মানুষজন ভিড় জমাতে থাকেন। কর্মী-সমর্থকরাও খবর পেয়ে ছুটে আসেন এবং তাকে কাছে পেয়ে একসঙ্গে বসে চায়ের আড্ডায় মিলিত হন। গল্প আড্ডার মধ্য দিয়ে সবার খোঁজ খবর নেন এমপি আশু। একই সঙ্গে সাতক্ষীরার উন্নয়নে সকলের সার্বিক সহযোগীতা চান তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আশাশুনি ব‍্যুরো: আশাশুনিতে কথিত সীমানা পিলারসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার ভোর রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের মৃত আফছার সানার ছেলে মোঃ জিয়ারুল ইসলাম (৪৫) ও একই উপজেলার কচুয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মোঃ শাহজামান সানা (৪০)কে কথিত সীমানা পিলারসহ আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আশাশুনি থানার গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের জিয়ারুল ইসলামের বাড়িতে সীমানা পিলার কেনা বেচা করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ তারেক ফয়সাল ইবনে আজিজ এর নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল সেখানে অভিযান চালায়। এসময় সেখান থেকে কথিত সীমানা পিলারসহ হাতে নাতে আটক করা হয় জিয়ারুল ইসলাম ও শাহজামান সানাকে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ তারেক ফয়সাল ইবনে আজিজ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আশাশুনি থানায় একটি ১৫(০১)২৪ নং মামলা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান : দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্দ্ধগতি, বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি, সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অবৈধ সংসদ বাতিলসহ এক দফা দাবীতে কালো পতাকা মিছিল করেছে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি। শুক্রবার বিকাল ৪টায় শহরের ইটাগাছা ভিসা অফিসের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহরের বাঙালের মোড়ে এসে শেষ হয়।

এসময় মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম, জেলা বিএনপির সহ-সমন্বয়ক ও যুগ্ম আহবায়ক শেখ তারিকুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব তাজকিন আহমেদ চিশতি, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবু জাহিদ ডাবলু, সাবেক সাধারন সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুকুল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর আইনুল ইসলাম নান্টা, জেলা কৃষকদলের সাবেক আহ্বায়ক আহসানুল কাদির স্বপনসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্দ্ধগতিতে বর্তমানে সাধারন মানুষের নাভিশ^াস উঠে যাচ্ছে। অথচ এতে কোন মাথা ব্যাথা নেই এই অবৈধ সরকারের। তারা আরো বলেন, ভোটার বিহীন এই সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি, সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অবৈধ সংসদ বাতিল করে অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জোর দাবী জানান।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক এমপি এড.এ এফ এম এন্তাজ আলীর ২৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপি কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো শুক্রবার সকালে দেবহাটার উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের হিরারচক গ্রামে মরহুমের মাজারে, ফাতেহা পাঠ, মাজার জিয়ারত ও পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগ, জেলা সৈনিকলীগ ও পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের মাজারে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ, আইন সম্পাদক এড. ওসমান গনি, জেলা সৈনিকলীগের সভাপতি মাহমুদ আলী সুমন, সাধারণ সম্পাদক এড. তহিদুর রহমান শাইন, পৌর আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মাদ আলী সুজন, মাহফুজ আলী সুজল, ডা: রমজান আলী, আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষক নূরুজ্জামান, আব্দুস সাত্তার, জাকির হোসেন, পৌর ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা মিঠু, খোকনসহ গ্রামবাসী। মাজার জিয়ারত ও দোয়া পরিচালনা করেন হিরার চক জামে মসজিদের ইমাম মাও: আপ্তাব।

পরে বাদ জুম্মা সাতক্ষীরা পলাশপোল জামে মসজিদে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে মরহুমের আতœীয় স্বজন মুসুল্লীবৃন্দ ও শুভাকাঙ্খিরা উপস্থিত ছিলেন। মিলাদ মাহফিল পরিচালনা করেন, পলাশপোল জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাও: শহীদুল ইসলাম। ##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নীরবে-নিভৃতে চলে গেলেন বিশ্বনাথ বোস, আমাদের বিশু বাবু। ২৫ জানুয়ারির জোছনালোকিত শীত-রাতে পশ্চিমবাংলার হাবড়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বিশ্বনাথ বোসের রাজনীতির ফুল ফুটেছিল সাতক্ষীরা জেলার তালা থানায়, কিন্তু তার ঘ্রাণটি ছিল বিশ্বনেতাদের মতো দূর-প্রসারী। মাগুরা ইউনিয়নের চারবারের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এই যে “দূর-প্রসারী” বললাম এই কারণে যে, স্থানীয় নেতা হয়েও তাঁর বুদ্ধি, মেধা, ব্যক্তিত্ব ও কর্মতৎপরতা একজন জাতীয় নেতার মর্মশক্তির সমান্তরাল। বিশু বাবুর জীবনী অনুধাবন করলে তা স্পষ্ট হবে।

পঁচাত্তর থেকে সাতাত্তোর, বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির ঘটনাপ্রবাহ অনেকটা অন্ধকারে ছিল। সেই অনিশ্চয়তার দিন এবং চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের রেশ―দুই কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো তালাবাসীর জীবনেও কর্মহীনতা ও খাদ্যঘাটতির বিপদ নেমে আসে; অন্যদিকে চীন ও মস্কোপন্থীদের ক্ষীণ হয়ে আসা স্রোতটির অধিকার-অভিমানী উচ্শৃঙ্খলতা, সবমিলে― সমাজে তৈরি করতে থাকে সর্বহারাসহ নানান বিরক্তিকর সংগঠন। বিশ্বনাথ বোস তখন বেলেদহ স্কুলের তরুণ শিক্ষক। শিক্ষকের আদর্শ-পরিচয় এবং স্বর-শক্তি দিয়ে তিনি কর্মসৃজনের আহবান নিয়ে তরুণদের সংগঠিত করলেন। এ কাজ হয়েছে আপন মহিমায়, তাঁর ব্যক্তি গুণে। ঠিক এই সময়ে মেজর জিয়াউর রহমান তাঁর ক্ষমতাকে রাজনীতিসিদ্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠলেন। বিশ্বনাথ বাবুর মতো নেতা তাঁর দরকার। তাই শত আহবান এল জিয়াউর রহমানের তরফ থেকে। এখানে একটা কথা বলা দরকার, পরিবর্তনবাদী বামদের মতো তিনিও আদর্শকে থলের ভেতরে রাখতে চাননি, চেয়েছেন সমন্বয় ঘটাতে। এই সমন্বয় জনমানুষের জন্য। নিরুদ্দেশ রাজনীতির আবহে দুর্বল মানুষগুলোর অধিকার ছিনিয়ে আনা বড় দরকার। তাই সাড়া দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমানের ডাকে। সে যদি ভুল হয়, তবে তা-ই ফুল হয়ে ফুটেছিল কপোতাক্ষ পাড়ের ওই জনপদে। খালকাটা কর্মসূচি থেকে স্বনির্ভর আন্দোলন―সবখানে তিনি দৃষ্টান্ত কাড়লেন। মাগুরা হয়ে উঠল ফুলে-ফলে সমৃদ্ধ এক জনপদ, সেখানে বিদ্যুৎ এল, রাস্তা-ঘাট, বাজার হল। এ সবের মূল ছিল কৃষিতে কর্ম-সৃজন। বিশু বাবু হয়ে উঠলেন জনদরদী নেতা, সারাদেশে নাম ছড়ালেন। পুরস্কার স্বরূপ জিয়াউর রহমান নিয়ে গেলেন চীন দেশে। ফিরে এসে হয়ে উঠলেন সাতক্ষীরার রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট আব্দুস সাত্তারেরও নজরে ছিলেন তিনি। দেশ গড়ায় অনন্য অবদানের জন্য প্রেসিডেন্ট সাত্তার তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যানের খেতাব। সেই ছবি দীর্ঘদিন পর্যন্ত ছিল আমাদের বাড়িতে।

আদর্শের মূল থেকে তিনি বিচ্যুত হননি। এক সেনাশাসকের হাত থেকে আরেক সেনাশাসকের হাতে যখন দেশ, তখন তাঁর দিকেও হাত বাড়ানো হয়েছিল। তিনি ধরা দেন নাই। কারণ, জন-আকাঙ্খাকে তিনি উপেক্ষা করেন নাই। এর ভোগান্তিও কম ছিল না। সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। এর মধ্যে আলতাফ বাহিনীর হাতে নির্যাতন উল্লেখযোগ্য।

… ১৯৮৮ সাল। প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় জনসভা করলেন। এরশাদের হেলিকপ্টার যখন সাতক্ষীরার আকাশ থেকে অন্তর্হিত হল, ঠিক তখনই বঙ্গভূমি আন্দোলনের অপবাদে বিশ্বনাথ বোসকে জেলে নেওয়া হল। কিন্তু এলাকার জনমানুষকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর সহধর্মিনী স্বপ্না বোসের প্রতিবাদের মুখে অল্প কিছুদিনের মধ্যে তিনি কারা মুক্ত হন। এরশাদের পতন ও বাংলাদেশের রাজনীতির বাঁক-বদল―এই সময়ে নিজেকে রাজনীতির বাইরে রেখে নিয়োজিত থাকলেন জনসেবায়। বহুমানুষের কর্ম সংস্থানে তাঁর ভূমিকা উল্লেখ করবার মতো।

বিশ্বনাথ বোসের ব্যক্তিজীবন ও একটি স্মৃতি :

ব্যক্তিজীবনে তিনি চার সন্তানের জনক। তীব্র স্নেহবৎসল ছিলেন তিনি। করণীয় সম্পর্কে তিনি ছিলেন দারুণ প্রজ্ঞাসম্পন্ন একজন ব্যক্তি। এ প্রসঙ্গে একটা ঘটনা বলতেই হবে।…আমার তখন সাত বছর বয়েস। গাঁ-গ্রামে আমাদের বাড়ি। আমার কী যে একটা রোগ হল, গ্রামের ডাক্তাররা কিছুতেই কিছু করতে পারছে না। একদিন গলা বন্ধ হয়ে আসতে লাগল, দম আটকে এল। বিশ্বনাথ বোস তখন আমাদের বাড়িতে। ডাক্তার বুঝতে পারল না, কিন্তু তিনি ঠিকই বুঝলেন। কাল বিলম্ব না করে তাঁর ইয়ামাহা ব্রান্ডের মোটরসাইকেলে চেপে পয়ত্রিশ মিনিটে ৪২ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে সাতক্ষীরায় আনলেন। তখন রাস্তাঘাট খুবই খারাপ ছিল। ডাক্তার ছিদ্দিক সাহেব দেখে বললেন―ডিপথেরিয়া, আর দশ মিনিট দেরি হলে বাঁচানো যেত না।

আজ মনে পড়ে সেদিন তিনি আমাদের বাড়িতে ঈশ্বরের দূত হিসেবে ছিলেন। সেই দুতিয়ালি আজ তিনি কার কাছে দিয়ে গেলেন জানিনা, তবে তাঁর অন্তর্ধানে নিজেকে বড় নিঃস্ব লাগছে।

লেখক: বাবলু ভঞ্জ চৌধুরী, কথা সাহিত্যিক

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest