সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা, আনন্দ মিছিলগণপিটুনিতে মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনসাতক্ষীরা জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা: সভাপতি মুকুল, সম্পাদক বাবুবিজনেস অ্যান্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাতক্ষীরার সুদীপ্তকেঁড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. আনিছুর রহমানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজআশাশুনিতে ওসি জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৬দেবহাটায় সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার৫ হাজার টাকা সম্মানিসহ ৭ দফা দাবিতে সাতক্ষীরায় দলিল লেখক সমিতির সমাবেশসাতক্ষীরায় নতুন আঙ্গিকে চালু হলো ‘মাল্টি কম্পিউটার ল্যান্ড ও ডিজিটাল রেকর্ডিং স্টুডিও’সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নাশকতার চেষ্টা, মামলা ও গ্রেপ্তার ৫

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় নিজের খোয়াভাঙ্গা মেশিনগাড়ীর চাপায় সাবুর আলী নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কলারোয়া উপজেলার খাদ্যগুদামের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাবুর আলী যশোর জেলার শার্শা উপজেলার দাউদখালী গ্রামের মৃত. নূর মোহাম্মাদের পুত্র।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাবুর আলী(৩৫) খোয়া ভাঙ্গার জন্য নিজের মেশিনগাড়ীটি চালিয়ে কলারোয়ার উপজেলার দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে খাদ্যগুদাম এলাকায় পৌছালে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গাড়িটি উল্টে যায়। এতে সাবুর আলী গাড়ীটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান দুর্ঘটনায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের লক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের বারবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম। রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের খুলনা বিভাগীয় বুথ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন এসময় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অংগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য: নজরুল ইসলাম ২০০৪ সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করেন।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত বিরোধী মুভমেন্টে তার ভূমিকা দলকে করেছে সুসংগঠিত। ১৯৯৫ সালে ফিংড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সততার প্রতিক হিসেবে শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের হাত থেকে গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি পদক। এছাড়া তিনি কাজী নজরুল স্বর্ণ পদক’ কবি জসিম উদ্দীন পদক’ মাদার তেরেসা পদকসহ অসংখ্য পদক ও পুরস্কার পেয়েছেন।প্রথম জীবনে শিক্ষকতা করতেন, পরে ব্যবসা।

১৯৭০ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের কমনরুম সম্পাদক ছিলেন। বাবার হাত ধরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হাতে খড়ি। ১৯৮৪ সালে ছিলেন আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের ট্রেজারার। ১৯৯৫ সালে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পান। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সাতক্ষীরা সদর আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। ১৯৯৭ সালে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে নির্বাচিত হন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৫ সালেও পুনরায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন। সর্বশেষ ২০২২ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে নৌকার মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা বাবলুর রহমান। রোববার তিনি মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন।

বাবলুর রহমান ২০০২ সালে শ্যামনগর মহসীন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে। পরে বিরোধী দল ও ১/১১ তে নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সে সময় ঢাকা কলেজে প্রথম তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ১২-১৫ জনের একটি ঝটিকা মিছিলেও তার অংশগ্রহণ ছিলো। ছগির আহমেদ ও আরিফুজ্জামান মিয়া টুটুল কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন।

১৩ জুলাই ২০১১ সালে বদিউজ্জামান সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলম ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সংসদের উপ-কৃষি শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন, ২০১৫ সালে ওমর ফারুক চৌধুরী ও হারুনুর রশিদ নেতৃত্বাধীন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বর্তমানে শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হাসান খান নিখিল ঘোষিত যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ইতোমধ্যে বাবলুর রহমান তরুণ সমাজের একমাত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় পরিচিতি অর্জন করেছের। তিনি মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচিত হলে নির্র্বাচনী এলাকার প্রত্যান্ত অঞ্চলের প্রান্তিক অসহায় মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ, উপকূলীয় এলাকার মানুষের পানির অভাব মুক্ত করা এবং স্মার্ট বাংলাদেশ এর সকল সেবা একেবারে সকল মানুষের দৌড় গোড়ায় পৌছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কে এম রেজাউল করিম দেবহাটা :

সাতক্ষীরার দেবহাটায় শিক্ষিত ৬ যুবকের প্রচেষ্ঠায় মৎস্য ঘেরের ভেড়িতে ফসলের বিপ্লব ঘটেছে। মাত্র ৪ মাসের ব্যবধানে ব্যাপক সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছে তারা। তাদের পরিশ্রমে এলাকাবাসীদের তাগ লাগিয়ে দেওয়ার মত ঘটনা ঘটেছে। চাকুরির পেছনে না ঘুরে স্ব উদ্যোগে কর্মসংস্থান তৈরি করায় প্রশংসায় ভাসছে ওই ৬ যুবক।

অবাক করার মত এ ঘটনাটি দেবহাটা উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী ভাতশালা গ্রামের। এ কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন মেডিকেল শিক্ষার্থী সুজন হোসেন নামের এক যুবক। সুজনের সাথে আরো যোগ হয়েছে অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র আসলাম পারভেজ, ২য় বর্ষের ছাত্র আসিফ হোসেন, উচ্চ মাধ্যমিক পড়–য়া ইমন হোসেন, শাওন হোসেন এবং শিক্ষিক বেকার যুবক মহিদুল ইসলাম। শিক্ষিত এই যুবকদের ছিল না জমি, ছিল না মূলধন। অন্যদিকে ভাতশালার স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল জলিলের দেড় শত বিঘা জমির মৎস্যঘের রয়েছে। উক্ত ঘেরের প্রায় ৫০ বিঘা ভেঁড়িবাধ দিনের পর দিন ফেলে রাখা ছিল।

তাই তাদের সাথে কথা বলে ওই ঘেরের ভেঁড়িতে সফল ফলনোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই মোতাবেক ফসল চাষ করে এখন তারা সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছে। এর পেছনে সার্বিক সহযোগীতা দিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। প্রয়োজনীয় বীজ ও সার সরবাহ করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদের মাঠ পর্যায়ের পরামর্শে যুবকদের প্রচেষ্টায় বর্তমানে সেখানে ৭শতার্ধীক টমেটো, শিম, লাউ, কুমড়া, নতুন ফল স্কশ সহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে মৎস্যঘেরে ভেড়িতে। ফেলানো প্রায় ৬ বিঘা মাছের ঘেরের ভেড়িতে প্রায় ৪/৫ লাখ টাকার সবজী উৎপাদন হবে। যা থেকে মোটা টাকা লাভের আশা দেখছেন ওই ৬ যুবক। আর তাই তাদের এই সফলতায় সম্মিলিত এই উদ্যোগের নামে দেওয়া হয়েছে “ ভাতশালা নবীন কৃষি সমবায়।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
সাতক্ষীরায় বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ উদযাপন করা হয়েছে। “সকলে মিলে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ করি” স্লোগানের মধ্য দিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সাতক্ষীরা আয়োজনে বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি সাতক্ষীরার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রবিবার দুপুরে বিসিডিএস ভবনের হলরুমে অনুষ্ঠিত সভার সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব রেজাউল করিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা ঔষধ পরিদর্শক সুশীল কুমার ঢালি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সদস্য কাজী আক্তার হোসেন।

অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শাখার সদস্য আলমগীর হোসেন, মাহবুবুর রহমান, বিএম হাফিজুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন সহ সাতক্ষীরা পৌরসভার বিভিন্ন স্থানের ঔষধ ব্যবসায়ীবৃন্দ। ১৮ থেকে ২৪ নভেম্বর বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে সাতক্ষীরার বিভিন্ন পর্যায়ে ঔষধ ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে ঔষধ বিক্রয় করে এন্টিবায়োটিক এর অপব্যবহার রোধ করা এবং জনসাধারণকে নিয়ম মেনে এন্টিবায়োটিক সেবন করার জন্য আহ্বান করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি : কখনও শিক্ষক, কখনও কৃষক, কখনও জেলে, কখনও সংঙ্গীত শিল্পী আবার কখনও যোগ্য অভিভাবকের ভূমিকায় নিজেকে শানিত করে চলেছেন (বি.সি.এস প্রশাসন) ক্যাডার একজন কর্মকর্তা। নানা গুনের অধিকারী একজন সরকারি কর্মকর্তা নিজেকে তুলে ধরছেন উপজেলার সর্বস্থরের মানুষের মাঝে নিজের কর্ম দক্ষতা দিয়ে। ইতি মধ্যে তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশংসিত হয়েছেন। এতোক্ষণ বলছিলাম কালিগঞ্জ উপজেলার চৌকোস সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) মোঃ আজাহার আলীর কথা। (১৯ নভেম্বর) রোববার বেলা ১১টায় দিকে হঠাৎ তিনি উপস্তিত হন উপজেলার কাটুনিয়া রাজবাড়ি ডিগ্রী কলেজে।

এসময় তিনি ক্লাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠদান শুরু করেন। এক পর্যায়ে ভূমি কি? ভূমি জরিপ, দলিল, রেকর্ডসহ জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ের উপর ক্লাস নেওয়ার পর বাল্য বিয়ের কুফল, মাদক ও আদর্শ নাগরিক হিসাবে গড়ে উঠার সার্বিক বিষয়ে ক্লাস নেন। এছাড়াও অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, নামজারি করার পদ্ধতি, খতিয়ান/পর্চা সংগ্রহ ইত্যাদি বিষয়ে হাতে কলমে শিখিয়ে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা ২০ মিনিটের এই সেশনে কলেজের ১ম ও ২য় বর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থী ছাড়াও কলের অধ্যক্ষ, অন্যান্য শিক্ষকম-লী উপস্থিত ছিলেন। সহকারী কমিশিনার (ভূমি) অংংরংঃধহঃ ঈড়সসরংংরড়হবৎ (খধহফ)। তিনি কালেক্টর বা ডিসি এর প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন আইনের অধীনে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের কাজ করে থাকেন। ভূমি সংক্রান্ত অধিকাংশ সমস্যা সমাধানের এখতিয়ার বা এসি (ল্যান্ড) এর রয়েছে। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এডিসি (রেভিন্যু) এবং সর্বোপরি ডিসি বা জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে অতি সুচারুভাবে কাজ করে থাকেন। এই উপলোয় যোগদানের পর থেকে ভুমি অফিসসহ বিভিন্ন সেক্টরে বিশেষ অবদান রেখে প্রসংশিত হয়েছেন। সম্প্রতি ভুমি সেবায় তিনি জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (ভূমি) হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আহম্মাদ উল্যাহ বাচ্ছু॥
২০ নভেম্বর ঐতিহাসিক কালিগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের সম্মুখ যুদ্ধে কালিগঞ্জ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়। আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য সাহস ও মনোবলের কারণে পাকিস্তানী সেনারা পরাজয় স্বীকার করে কালিগঞ্জ ছেড়ে চলে যায়। দীর্ঘ আট মাস যুদ্ধ শেষে অবরুদ্ধ কালিগঞ্জ বাসি এই দিন মুক্তির আনন্দে মেতে উঠে। কালিগঞ্জ অঞ্চলের যুদ্ধে মুক্তি সেনারা যত না হতাহত না হয়, হানাদার বাহিনীর সৈনিকেরা তার চেয়ে অনেক বেশী হতাহত হয়। এটাই কালিগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের গৌরব। মুলত স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়েছিল বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পরপরই। কালিগঞ্জ ছিল বরাবরই একটা শান্ত জনপদ। এখানকার মানুষও ছিল শান্তি প্রিয়। কিন্ত সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের জয় এবং বঙ্গবন্ধুকে সরকার গঠনের সুযোগ না দেওয়ায় কালিগঞ্জবাসি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তারা পাকিস্তানীদের এই অন্যায়ের প্রতিবাদে প্রতিদিন মিটিং মিছিল করতে থাকে। ৭ মার্চ থেকে সেই প্রতিবাদ আরো জোরালো ও জঙ্গী রুপ ধারণ করে। সারা কালিগঞ্জ মিছিলে মিছিলে, শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। বিশেষত ছাত্র-শিক্ষক ও তরুণেরা আওয়ামীলীগ ও সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের প্রেরণার উৎস হিসোবে শক্তি যোগাতে থাকে। ক্রমে সাধারণ মানুষও এই আনন্দোলনে যোগ দেয়। চলে লাঠি মিছিল, মশাল মিছিল, পতাকা মিছিল। দেখতে দেখতে কালিগঞ্জ যুদ্ধের উম্মাদনায় অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এ সময় বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে প্রতিটি থানায় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সংগ্রাম পরিষদের সদস্যদের দিন রাত শ্লোগনে, বক্তিৃতায় কালিগঞ্জকে যুদ্ধংদেহী করে তোলে। ৮ মার্চ কালিগঞ্জের ডাকবাংলা চত্বরে শত শত মানুষ সমবেত হয়ে সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে উন্মত্ত আক্রোশে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে ফেলে। এরপর শুরু হয় জঙ্গী মিছিল। এসময় হাজার হাজার মানুষের পদভারে কালিগঞ্জের মাটিতে শুরু হয় ভূমিকম্প। ঐদিন নেতারা সিদ্ধান্ত নেয় পাক আর্মিরা কোন ভাবে যেন সাতক্ষীরা পার হয়ে কালিগঞ্জে ঢুকতে না পারে। ১০ ও ১১ এপ্রিলের দিকে রটে যায় পাকিস্তানী আর্মি কালিগঞ্জের দিকে আসছে। এখবর শুনে ক্রোধে ও উত্তেজনায় কাঁপতে থাকে সংগ্রাম পরিষদের সদস্যরা। দ্রুত এলাকার সমস্ত বন্দুকধারীদের সংঘবন্ধ করে কালিগঞ্জ বাজার থেকে থানা পর্যন্ত নদীর তীরে গেওয়া বাগানের ঝোঁপের মধ্যে পজিসন নেয় বন্দুকধারীরা। হঠাৎ রটে গেল সংগ্রাম পরিষদের একটা নামের লিস্ট আর্মিদের কাছে পৌছে গেছে। সেই মোতাবেক জন্মভূমি ত্যাগ করে ১৪ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে সংগ্রাম পরিষদের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের জন্য সীমান্তের ইছামতি ও কালিন্দী নদী পার হয়ে ভারতের হিঙ্গলগঞ্জ চলে যায়। এদিকে সকল বাধা বিপত্তি ও মায়া-মমতা কাটিয়ে মে মাসের মধ্যে শত শত দামাল ছেলেরা দেশমুক্তির শপথ নিয়ে মুক্তিযদ্ধে যোগ দেয়। অপর দিকে পাকিস্তানী আমির্রা ঘাঁটি গাড়ে কালিগঞ্জের ওয়াপদা ডাক-বাংলা ভবন, বসন্তপুর চন্দ্রদের পরিত্যাক্ত বাড়ি, হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, দমদম ফেরি ঘাটের বরফকল এবং খানজিয়া ই.পি.আর ক্যাম্পে। পাক বাহিনী দ্রুত তাদের পরিধি আরো সম্প্রসারিত করে সাদপুর ব্রীজ, ভাড়াশিমলার কাশেম আলীর বাড়ি, গফ্ফার চেয়ারম্যানের বাড়ি, নাজিমগঞ্জ করিম গাইনের বাড়ি, শুইলপুর আক্কাজ গাজীর বাড়ি, খানজিয়া, বসন্তপুর, উকসা ও পিরোজপুরসহ গোটা সীমান্ত এলাকা ঘিরে ফেলে। এবং নিরিহ নিরস্ত্র গ্রামবাসীদের উপর নানা রকমের অত্যাচার শুরু করে।
এসময় তারা সারা দেশের ন্যায় কালিগঞ্জেও গঠণ করে পিস কমিটি ও রাজাকার বাহিনী। এদিকে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিশোধ স্পৃহায় দ্রুত আর্মস ট্রেনিং নেওয়ার জন্য ভারতের হিঙ্গলগঞ্জসহ বিভিন্ন ট্রেনিং ক্যাম্পে চলে যায়। মে মাসের মধ্যে ট্রেনিং শেষে সীমান্ত পেরিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ৯নং সেক্টরের অধিনায়ক মেজর জলিল ও তার সহযোগী ক্যাপ্টেন নূরুল হুদা, লে. মাহফুজ আনাম বেগ, লে. আরেফিন, লে. শচীন কর্মকার ও মেজর লিয়াকতের নেতৃত্বে জুন থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন সময় নিজ মাতৃভূমির উপর কৌশলে হায়না বাহিনীর সদস্যদের উপর একাধিক বার চোরা গুপ্তা আক্রমণ চালায়। এসময় পাকিস্তানী সেনারা কালিগঞ্জ দখলে রাখতে বিভিন্ন ক্যাম্পে ভারী অস্ত্রশস্ত্র মেশিনগ্যান, কামান, মর্টার ইত্যাদি মজুদ করতে থাকে। এবং মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ খবর পেতে তারা গোয়েন্দাও নিয়োগ করে। তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্র-শস্ত্রের বিরুদ্ধে অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধারা সাধারণ মানের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মনের সাহস নিয়ে অসম যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধরা প্রথমে বসন্তপুর বিওপি, খানজিয়া ক্যাম্প ও থানা সদরের বিওপি ক্যাম্পের উপর আক্রমণ শুর করে। পরে বাগবাটি, পিরোজপুর, ভাড়াশিমলা, রতনপুর, নজিমগঞ্জ, উকসা দুদলীসহ বিভিন্ন পাক সৈন্যদের ঘাঁটিতে বারবার সশস্ত্র আক্রমণ করে পাক বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে ফেলে। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে অক্টোবর ও নভেম্বরে গোটা কালিগঞ্জ একটা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ আর রাইফেল, মেশিনগান, গ্রেনেড, রকেট লাঞ্চারের শব্দে ও আগুনে কালিগঞ্জের আকাশ, বাতাস, মাটি, প্রকম্পিত হতে থাকে। উকসা, পিরোজপুর, খানজিয়া ও বসন্তপুর পাকিস্তানী ক্যাম্পে মুক্তিযুদ্ধোদের সাথে অন্যতম সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে কালিগঞ্জের আপামর সাধারণ মানুষ পাকিস্তানী নরপশুদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। সে সময় সকল স্তরের জনতা সাহায্যের হাত বাড়ালে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধটা আরো সহজ হয়ে যায়। ১৯ নভেম্বর মাহফুজ আলম লে. বেগ এর নেতৃত্বে শ্যামনগর শত্রুমুক্ত হওয়ার পরপরই তারা কালিগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধদের সাথে মিলিত হয়ে ২০ নভেম্বর কালিগঞ্জ পাক সেনাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। এই যুদ্ধে পাক সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের মোকাবেলা করতে না পেরে ঐদিন ভোরে কালিগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে দেবহাটা অভিমুখে চলে যায়। এ খবরে উল্লোসিত হয়ে ডাকবাংলা চত্বরে মুক্তিযোদ্ধারা সমবেত হয়। ফুটতে থাকে শত শত গুলি। জয় বাংলার শ্লোগানে কম্পিত হয় কালিগঞ্জ। ৯ নং সেক্টরের সাব-সেক্টর কামন্ডার ক্যাপ্টেন নূরুল হুদা মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার সমন্বয়ে দুপুরে প্রথমে ওয়াপদার ডাকবাংলো এবং পরে অনুষ্ঠানিক ভাবে ডাকবাংলা চত্ত্বরে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে কালিগঞ্জে স্বাধীনতার শুভ সুচনা হয়। ২০ নভেম্বর ছিল ঈদুল ফিতরের দিন। স্বাধীনতার আনন্দ ঈদের আনন্দে পরিনত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: পলাশপোল সমাজ উন্নয়ন সংস্থার কমিটি গঠন উলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় পলাশপোল সমাজ উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়৷

সভায় সংস্থার সভাপতি আজহারুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক মেহেদী আলী সুজয়ের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন হাসানুজ্জামান হাসান,

শফিকুল ইসলাম ময়না, জু্ম্মান আলী সরদার, আলতাফ হোসেন, ফারুকুজ্জামান, মাসুদ আলী, জাহিদুল ইসলাম, চঞ্চল, নাইম খান চৌধুরী, কুরবান আলী সরদার, শুকুর আলী, আমজাদ হোসেন প্রমুখ৷ সভায় আগের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়৷ সকল সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে কমিটিতে হাসানুজ্জামান হাসান কে সভাপতি ও সাংবাদিক মেহেদী আলী সুজয় কে সাধারন সম্পাদক করে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট নবগঠিত কমিটি ঘোষণা করা হয়৷

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest