সাতক্ষীরা পশ্চিম সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকা থেকে ৩ জেলে আটক

শ্যামনগর প্রতিনিধি : সুন্দরবনের বান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্য এলাকার হেতাল খাল থেকে ৩ জেলেকে আটক আটক করেছে স্মার্ট পেট্রোল টিমের সদস্যরা।

বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান,১২ মার্চ সকাল ১১ টার সময় স্মার্ট পেট্রোল টিমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা শিবের মজুমদার এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মান্দার বাড়িয়ার অভয়ারণ্য এলাকার হেতাল খাল থেকে ৩জন জেলে সহ ১টি ডিঙ্গি নৌকা ও অন্যান্য সামগ্রী সহ আটক করে।

আটককৃতদের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন আনে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আইনের প্রক্রিয়া চলছিল বলেও তিনি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জ উপজেলার নলতায় এক কিশোরকে জবাই করে হত্যার চেষ্টা

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের নলতার ইন্দ্রনগর গ্রামের আব্দুল মালেকের পুত্র সাইফুল ইসলামকে (১৭) জবাই করে হত্যা করা চেষ্টা করেছে একই গ্রামের রেজাউল পাড়ের পুত্র মাদকাসক্ত অমিত পাড় (১৯) ঘটনাটি মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নলতার ইন্দ্রনগর হুসাইনাবাদ জামে মসজিদের পাশে ঘটে। আহত সাইফুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়,সন্ধ্যায় ইন্দ্রনগর হুসাইনিয়া জামে মসজিদ থেকে ইফতার করে নামায শেষে সাইফুল বাড়ি ফেরার পথে মাদকাসক্ত অমিত রাস্তায় তাকে একা পেয়ে পিছনদিক থেকে জাপটে ধরে মাটিতে ফেলে ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করার চেষ্টা করে। এসময় সাইফুলের চিৎকারে স্থানীয়রা এলে অমিত পালিয়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী কালিগঞ্জ থানায় খবর দিলে থানা পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসী জানায়,রেজাউল পাড়ের পুত্র অমিত পাড় একজন মাদকাসক্ত। এলাকায় তার বিভিন্ন উশৃংখলায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তাকে ধরে আইনের আওতায় না নিলে তার উশৃংখলার পরিমান আরো বেড়ে যাবে।
নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান জানান, ইন্দ্রনগর গ্রামের মার্ডারসহ একাধীক মামলার আসামী রেজাউল ইসলাম পাড়ের ছেলে অমিত পাড় মাদকাসক্ত হয়ে সাইফুল ইসলাম নামের একজন কিশোরকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার চেষ্টা করে। সাইফুলের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলে অমিত পালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন,আওয়ামীলীগ শাসনামলে রেজাউল পাড়, তার বড় পুত্র জনি পাড় ও ছোট পুত্র অমিত পাড় এলাকায় চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এলাকাবাসীদের অতিষ্ঠ করে তোলে। আওয়ামী লীগের সাথে আতাত থাকায় এলাকার লোকজন তাদের কিছু বলতে সাহস পেতোন। বর্তমানের তারা সেই অভ্যাস চালু রেখেছে। এখনই তাদের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা না নিলে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মো. হাফিজুর রহমান জানান, ইফতারের পর নলতার ইন্দ্রনগর গ্রামে এক কিশোরকে জবাই করে হত্যা চেষ্টার বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা কমিটির সভা

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের
মানবাধিকার সুরক্ষা ও সামাজিক অংশগ্রহন বৃদ্ধির লক্ষ্যে
গঠিত সাতক্ষীরা জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা কমিটির সভা
অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রিসার্চ ইনেশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব) এর হোপ প্রকল্পের
সহযোগীতায় মঙ্গলবার দুপুরে পলাশপোলস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে
অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা সিএসও’র সভাপতি এড. আল মাহমুদ পলাশের সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন, রিইব’র হোপ প্রকল্পের জেলা এরিয়া
কো-অডিনেটর রেহেনা পারভীন ।
সভায় স¤প্রতি শিশু আছিয়ার ধর্ষকের ফাঁসি নিশ্চিত করা
সারা দেশে ধর্ষন ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার হওয়ার
জন্য সকলকে আহŸান জানানো হয়। এছাড়া জেলা সিএসও’র
সভাপতি ঢাকায় সাতক্ষীরার উপস্থিত হয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন ও পাশ
করা নিয়ে আলোচনা হয়।
এরপর ধারাবাহিক ভাবে আলোচ্যসূচী অনুযায়ী আলোচনা সভা
পরিচালিত হয় আলোচনা এক পর্যায়ে সদস্যরা তাদের গৃহীত
পদক্ষেপ গুলো আলোচনা করেন একটি বাল্য বিবাহ বন্ধ করা সম্ভব
হয়েছে এবং একটা পারিবারিক মামলা রিফারেল এর মাধ্যমে
চলমান রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানান সদস্যরা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সুন্দরবন টেক্সটাইলস মিলস হাইস্কুলের
প্রধান শিক্ষক শাহাজান সিরাজ, দলিত পরিষদ জেলার সভাপতি
গৌর পদ দাশ, জেলা সিএসও’র সদস্য এম. বেলাল হোসাইন,
হোসনেয়ারা, আকবর আলীসহ অন্যরা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা জেলা ভুমিহীন সমিতির আয়োজনে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা ভুমিহীন সমিতির আয়োজনে ও খুলনা বয়রার শিরোমনি বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১১ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর ক্লাবে ভুমিহীন পরিবার ও অসহায় গরীব মানুষের মাঝে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

উক্ত চক্ষু ক্যাম্পে জেলা ভুমিহীন সমিতির সভাপতি কওছার আলীর সভাপতিত্বে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন এবং সার্বিক সহযোগিতা করেন, আইনী সহায়তা কেন্দ্র আসক ফাউন্ডেশন সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সভাপতি গোলাম রসুল রাসেল, সাতক্ষীরা জেলা নদী বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সভাপতি আদিত্য মল্লিক, জেলা ভুমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা জেলা নদী বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সহ সভাপতি সেলিম হোসেন, স্বপন পান্ডে, কুমারেশ মন্ডলসহ আরো অনেকে প্রমূখ।

উক্ত চক্ষু ক্যাম্পে রোগী দেখেন খুলনা বয়রার শিরোমনি বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডাঃ খান নাহিদ মুরাদ। চক্ষু ক্যাম্প তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব ছিলেন চক্ষু ক্যাম্প এরিয়া ম্যানেজার মোঃ রেজা। উক্ত চক্ষু ক্যাম্পে বিনামূল্যে দেড়শতাধিক চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার আ’লীগ নেতা শাকিলকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয়ায় বিচারকের অপসারন দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি : সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশাশুনি থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আব্দুল ওয়াদুদ আসামীর বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রিমান্ড আবেদর শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মাসুমা আক্তার রিমান্ড শুনানি শেষে তাকে প্রয়োজনে একদিনের জন্য জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। এ আদেশের পর পরই সাতক্ষীরা আদালতের পিপি এড. আব্দুস সাত্তারসহ বিএনপি পন্থী প্রায় অর্ধশতাধিক আইনজীবী এর প্রতিবাদ জানান এবং তারা বিচারকের অপসারনের দাবী জানান। এক পর্যায়ে আদালতের বিচারক এজলাস ছেড়ে চলে যান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শৈখ হাসিনা সরকার পতনের পর সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল উদযাপিত হয়। এই ধারাবাহিকতায় আশাশুনির প্রতাপনগরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আনন্দ মিছিল চলাকালে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন তার বাড়ির ছাদের উপর থেকে আনন্দ মিছিলকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলি ছোড়ে। এতে ছাত্র নেতা হাফেজ আনাস বিল্লাহ, আবুল বাশার আদম ও আলম সরদার ঘটনস্থালেই মারা যায়। এসময় আহত হয় আরো ৮/৯ জন। এঘটনায় নিহত আলম সরদারের বাবা রহিম আলী সরদার ওই বছরের ১৫ আগস্ট বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং জি.আর-১৭৪/২৪। এছাড়া বাদী হেলালুজ্জামান বাদী হয়ে আরো একটি মামলা করেন। যার নং সি.আর ৪৩৩/২৪। এ হত্যা মামলায় পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয় আশাশুনি উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা শাকিলকে। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশাশুনি থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আব্দুল ওয়াদুদ আসামীর বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে আজ রিমান্ড আবেদর শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মাসুমা আক্তার রিমান্ড মঞ্জুর না করে তাকে প্রয়োজনে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। এতে সাতক্ষীরা আদালতের পিপি এড. আব্দুস সাত্তারসহ বিএনপি পন্থী প্রায় অর্ধশতাধিক আইনজীবী এর প্রতিবাদ জানান এবং তারা বিচারকের অপসারনের দাবী জানান।

জেলা আইনজীবি সমিতির যুগ্নসাধারন সম্পাদক এড নুরুল আমিন জানান, আসামী শাকিলের বিরুদ্ধে এই হত্যামামলাসহ ইতিপূর্বে স্বৈরশাসকের আমলে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, বিএনপি কর্মী ডাবলুসহ একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। তার অস্ত্রের ঝনঝনানিতে আশাশুনিতে চাঁদাবাজি, রাহাজানিসহ এমন কোন কাজ নেই যা তার দ্বারা হয়নি। আজকে নিলর্জভাবে এই ম্যাজিস্ট্রেট বারের সভাপতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আসামীকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন। তিনি এসময় বিচারককে ঘুষখোর ও দূর্নীতিবাজ বলে আখ্যায়িত করে তার চাকরী থেকে অপসারনের দাবী জানান। বিচারককে তিনি এসময় ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর বলে তাকে দরকার নাই বলে জানান। বিচারক কোর্টে অরাজকতা সৃষ্টি করছেও বলে তিনি দাবী করেন। এই একই ঘটনায় দায়ের করা সিআর ৪৩৩/২৪ মামলায় ৫ নং এজাহার ভুক্ত আসামী। যার বাদী হেলালুজ্জামান। একই ঘটনায় দুটি মামলা।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি এড. আব্দুস সাত্তার জানান, শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দেশ থেকে পালানোর পর ছাত্র-জনতার আনন্দ মিছিলে তারা আমাদের ছয় ছয়টি মানুষকে গুলি করে হত্যা হরেছে। এই মামলার রিমান্ড শুনানির জন্য আমি পিপি হিসেবে এখানে দায়ীত্ব পালনকালে মাসুমা ম্যাজিস্ট্রেট একদিনের জন্য তাকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঞ্জুর করলেন। এসব আওয়ামীলীগের দোসর এই দোসরদের পদত্যাগ চাই।
এ ব্যাপারে জানার জন্য বিচারক মাসুমা আক্তার তার নাজির এবং ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি হটাৎ অসুস্থ্য হয়ে যাওয়ায় আদালত ছেড়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতার ধর্ষণ বিরোধী বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি: নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে সাতক্ষীরায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতার আয়োজনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১মার্চ) বিকাল সাড়ে ৩টায় শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়।

শুরুতে মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়, এরপর একে একে বক্তারা নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবি তোলেন এবং এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পরে বিক্ষোভ মিছিলটি পার্ক থেকে শুরু হয়ে থানা মোড় হয়ে শহরের পাওয়ার হাউজের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা নানা প্রতিবাদী স্লোগান দেন—”আমার বোনের কান্না, আর না আর না” “তুমি কে আমি কে, আছিয়া আছিয়া” “আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকের ঠাঁই নাই” “আমার মা-বোন আতঙ্কে, ধর্ষক কেন বাহিরে” “ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই”।

বিক্ষোভ ও মানববন্ধনটি দৈনিক মানবজমিন-এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এস. এম. বিপ্লব হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে মো. রাহাতুল ইসলাম বাপ্পা’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মো. আতিকুজ্জামান সাহেদ, গাজী আসাদ, মো. তরিকুল ইসলাম অন্তর, গোলাম হোসেন রিফাত, জাহিদুর রহমান বাঁধন, রঞ্জিতা সরকার পূজা, শাখাওয়াত হোসেন বাঁধন, আদিব আদনান, মাহবুবুর রহমান তূর্য, সাকিব প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন সমাজের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ। ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়। তারা আরও বলেন, যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে জনগণই এর উপযুক্ত বিচার করবে।

বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেয় বিভিন্ন বয়সের মানুষ। তবে সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্য ছিল সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট ছোট কন্যাশিশুরা, যাদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড— “আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে?” এই বার্তা আন্দোলনকারীদের আরও দৃঢ় করে তোলে এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা এই প্রতিবাদ সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা ধর্ষণবিরোধী কঠোর আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করার দাবি জানান এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য প্রশাসনসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সদরের শিবপুরে গাছকাটাকে কেন্দ্র করে হামলায় বৃদ্ধ-শিশুসহ আহত-৪

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুরে নিজেদের লাগানো গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী হামলায় নারী শিশুসহ চারজন আহত হয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার (১০ মার্চ) সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম (৩১)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোঃ ইয়াকুব্বার আলীর জমির ম্যাপ পরিবর্তন হওয়ায় মাপজরিপ করে তার জমির ভেতরে নারায়ন মন্ডলের জমি ক্রেতা মো. ফজলুর ১.৩৫ শতক জমি ঢুকে যায়। এতে করে ইয়াকুব্বার আলী ওই জমি ছেড়ে দেয়। কিন্তু ওই জমিতে তার লাগানো ২টা আমগাছ ও একটি মেহগনি গাছ সোমবার সকালে কেটে নিতে যায়। গাছ কাটা হওয়ার শেষ মুহুর্তে সকাল সাড়ে আটটার দিকে শিবপুর ইউনিয়নের গদাঘাটা গ্রামের ফজলু গাজী, পুনি গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ, মোঃ ওয়াজেদ আলীর ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪২), মোঃ ফজলুর ছেলে মোঃ সাজ্জাত (২৩) হাতে লোহার রড, বাঁশের লাঠি, দা ইত্যাদি নিয়ে দলবদ্ধভাবে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। উক্ত গালি- গালাজের প্রতিবাদ করায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে মোঃ ইয়াকুব্বার আলী, তার ছেলে রবিউল ইসলাম (৩১), স্ত্রী রহিমা খাতুন (৫০), রবিউলের স্ত্রী শামীমা নাসরিন (৩০), মেয়ে রেশমা খাতুন (২৩) ও রবিউলের শিশু কন্যা সাদিয়া আফরিন (৫) কে বেধড়ক মারপিট করে মারাত্মক আহত করে। তারা বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ বিষয়ে ইয়াকুব্বার আলি বলেন, আমি তাদের জমি বুঝিয়ে দিয়েছি। কিন্তু জমিতে থাকা তিনটি গাছ কেটে নেওয়ার সময় আমাদের উপরে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

ইয়াকুব্বার আলির ছেলে রবিউল ইসলাম বলেন, তারা আমার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা চেষ্টা করে। আমার স্ত্রী ও বোন ঠেকাইতে আসলে এলোপাতাড়ী ভাবে মারপিট শুরু করে। ফজলুর হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে আমার পিতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করিয়া গুরুতর জখম করে। আমার বোনের পরনের কাপড় চোপড় টানা হেচড়া করিয়া শ্লীলতাহানী ঘটায় এবং বোনের গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের সোনার চেইন টান মেরে নিয়ে নেয়। বোনের ডান পায়ের উরুতে বাড়ি মেরে হাড়ভাঙ্গা জখম করে। এ সময় আমাদের ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে আমাদের খুন জখম করার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।

এ বিষয়ে জানার জন্য ফজলু গাজীর মোবাইল নাম্বারে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি ঘটনা শুনে তৎক্ষণাৎ গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে দেই। অবস্থা বেগতিক হওয়ায় তাদের চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

সাতক্ষীরা সদরার এসআই মেহেদী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

তালা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার তালায় সাধারণ ছাত্রজনতার আয়োজনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সকাল ১১ টায় তালা পুরাতোন বিদে হাইস্কুল মাঠ থেকে শুরু হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল তালা উপ-শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় মিছিলে তুমি “কে আমি কে আছিয়া আছিয়া”, “আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাই নাই”, “দড়ি লাগলে দড়ি নে, ধর্ষকদের ফাঁসি দে”, সারা বাংলায় খবর দে, ধর্ষকদের কবর দে” শ্লোগানে মুখরিত করে তোলে।

শেষে ডাক বাংলোর সামনে মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মোঃ আনোয়ার হোসেন, আল-জাবানুল বান্না ইসলাম, মোঃ রিপন ইসলাম, মোঃ সোহাগ হোসেন, রবিউল ইসলাম, মোঃ সাকিব মির্জা ও ফাইমা হোসেন ফুল প্রমুখ।

এসময় বক্তরা বলেন, ধর্ষণের বিচার কার্য বিলম্বিত হওয়ার কারণে ধর্ষণের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত ধর্ষকদের আটক রাখা ও ৯০ দিনের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্নের জন্য আইন তৈরীর দাবি জানান তারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest