সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালাআশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসিদেবহাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিমের মৃত্যুরেকর্ডীয় সম্পত্তিতে জোর পূর্বক ঢালাই রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধেতালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনআশাশুনিতে অবঃ শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম গঠনআশাশুনিতে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে অব্যাহতিসাতক্ষীরা জেলা হিউম্যান রাইটস জার্নালিষ্ট নেটওয়ার্কের কমিটি গঠনসাতক্ষীরায় ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিদর্শনব্রহ্মরাজপুরে ভেজাল দুধ তৈরির দায়ে জরিমানা – ৬ মাসের কারাদণ্ড

বিশাল জয়ে বিশ্বকাপের পথে স্পেন

অন্য ম্যাচে লাৎসিওর ফরোয়ার্ড চিরো ইম্মোবিলের একমাত্র গোলে ইসরায়েলকে হারানো ইতালি ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে।

গোল পার্থক্যে অনেক এগিয়ে থাকায় শেষ দুই রাউন্ডের একটিতে জিতলেই গ্রুপের শীর্ষে থেকে রাশিয়া বিশ্বকাপে উঠে যাবে স্পেন।

গ্রুপের আরেক ম্যাচে মেসিডোনিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা আলবেনিয়ার বিশ্বকাপের খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে, ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে তারা।

ইউরোপের নয় গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন সরাসরি এবং সেরা আট গ্রুপ রানার্সআপের মধ্যে প্লে-অফের মাধ্যমে চারটি দল রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকেট পাবে।

রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সার্বিয়া। আট ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৮।

মলডোভাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ওয়েলস। ১ পয়েন্ট কম নিয়ে তৃতীয় স্থানে আইরিশরা। আর জর্জিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা অস্ট্রিয়া ৯ পয়েন্ট নিয়ে আছে চতুর্থ স্থানে।

‘আই’ গ্রুপের লড়াইটা বেশ জমে উঠেছে। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা ক্রোয়েশিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে তুরস্ক। এই জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে তুর্কিরা।

অন্য ম্যাচে ইউক্রেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে পয়েন্টের হিসেবে ক্রোয়েশিয়াকে ধরে ফেলেছে আইসল্যান্ড। তবে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে গত ইউরোয় চমক দেখানো দেশটি।

তুরস্কের সমান ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লড়াইয়ে ভালোমতোই আছে ইউক্রেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারতে হিন্দুত্ববাদবিরোধী সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

ভারতের সিনিয়র সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ব্যাঙ্গালোরে নিজ বাড়ির সামনেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন গৌরী লঙ্কেশ। নিজের সম্পাদিত পত্রিকার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষের সংগঠনকে প্রণোদনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে নিরন্তর সমালোচনা জারি রেখেছিল তার পত্রিকা। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো এখনও হত্যাকাণ্ডের কারণ জানাতে সমর্থ হয়নি।

প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং লঙ্কেশ পত্রিকা্র সম্পাদক গৌরী লঙ্কেশ। তার হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আনন্দবাজআর পত্রিকায় পুলিশ সূত্রকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর বেঙ্গালুরুর রাজরাজেশ্বরীনগরে গৌরী লঙ্কেশের বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে। আনন্দবাজার একে আবারও  ‘বিদ্বজ্জনের উপর হামলা’ হিসেবে হাজির করেছে। তারা লিখেছে, কন্নড় শিক্ষাবিদ তথা সাহিত্যিক এম এম কালবুর্গিকে যে ভাবে খুন করা হয়েছিল, ঠিক সেই ধাঁচেই আজ খুন করা হল গৌরী লঙ্কেশকে।

ব্যাঙ্গালোরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার বিবিসিকে জানিয়েছেন, “মঙ্গলবার রাতে যখন তিনি বাড়ি ফিরছিলেন, তখন বাড়ির ঠিক সামনেই গুলি চালানো হয়। ঠিক কী কারণে এই হামলা হয়েছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ আধিকারিককে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানিয়েছে, “গৌরী যখন বাড়ির দরজা খুলছিলেন, ঠিক সেই সময়েই বুকে সরাসরি দুটো আর মাথায় একটা গুলি করা হয়।” সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, গৌরিকে অন্তত ৭ বার গুলি করা হয়েছে।
এদিকে ওয়ান ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেঙ্গালুরুর রাজারাজেশ্বরী নগরের বাড়ির সামনে হাঁটছিলেন গৌরী লঙ্কেশ। বাড়ির সদর খুলে ভিতরে ঢুকেও পড়ছিলেন। এমন সময় গৌরীকে খুব কাছ থেকে পরপর গুলি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি গুলি গৌরীর কপালকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়েছিল। তড়িঘড়ি গৌরীকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কোনও লাভ হয়নি। কারণ, ঘটনাস্থলে মারা গিয়েছিলেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে ঘটনাস্থল থেকে চারটি কার্তুজের খোল মিলেছে।

চল্লিশ বছর আগে বাবার শুরু করা ‘লঙ্কেশ পত্রিকা’র দায়িত্ব নিয়েছিলেন গৌরী। ছিলেন পত্রিকাটির সম্পাদক। ওই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী এক সংগঠন  ‘কমিউনাল হারমনি ফোরাম’ কে সামনে আনার চেষ্টা করেছেন, দিয়েছেন নানা উৎসাহ। তার পত্রিকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সপক্ষে এবং দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদের বিপক্ষে মতামত প্রকাশ করা হয়।

পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছ, বাড়ির ভিতরে ঢুকে খুব কাছ থেকে পর পর তিন বার গুলি করা হয়েছে গৌরী লঙ্কেশকে। তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং অল্পক্ষণের মধ্যেই জীবনের ওপারে চলে যান। গৌরী লঙ্কেশ কর্নাটকের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লিখতেন। বরাবরই তিনি কট্টরবাদের তীব্র সমালোচক ছিলেন। তাই কালবুর্গির মতো লঙ্কেশও কট্টরবাদীদের হাতেই খুন হলেন বলে অনেকে মনে করছেন। তবে কারা তাকে খুন করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে দাবি পুলিশের।

২০১৫ সালে ঠিক এভাবেই নিজের বাড়ির সামনে খুন হয়েছিলেন বুদ্ধিজীবী তথা মুক্তমনা বলে খ্যাতি পাওয়া এমএম কালবর্গী। ৭৭ বছর বয়সী ওই চিন্তাবিদকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। গৌরী মৃত্যুকালে রেখে গেছেন মা, বোন এবং ভাইকে। ইন্দ্রজিথ নামে এই ভাই সিনেমা পরিচালনার পাশাপাশি গৌরীর সঙ্গে ‘লঙ্কেশ পত্রিকে’ দেখভালও করতেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছে মুসলিম বিশ্ব

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর জাতিগত নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ এবং বাস্তুচ্যুত করার বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠনের পাশাপাশি মানবিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছে মুসলিম বিশ্ব। সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি আপাত মানবিক সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে চায় তারা।

এরই মধ্যে তার দেশের রাষ্ট্রপতির দূত হিসেবে বাংলাদেশ সফর করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরপরই তার দেশের প্রেসিডেন্টের দূত হিসেবে বুধবার ঢাকা সফরে আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান এরইমধ্যে একদফা রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকের পর মঙ্গলবার রাতে সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশের প্রেসিডেন্ট জোকো বিদোদো তাকে তিনটি বার্তাসহ বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন।

ওই বার্তাগুলো হচ্ছে: ১. শরণার্থী সমস্যার কারণে বাংলাদেশের উপর যে বোঝা চেপেছে তার জন্য ইন্দোনেশিয়ার পক্ষে সহমর্মীতা জানানো, ২. বাংলাদেশের উপর চাপ কমানোর জন্য সহায়তা করতে ইন্দোনেশিয়া যে তৈরি আছে সেটা জানানো, এবং ৩. বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করা।

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সহায়তা নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীতিগতভবে সম্মত হয়েছেন। রেতনো মারসুদি জানান, ইন্দোনেশিয় কীভাবে সহায়তা করতে পারে সে বিষয়ে আমরা আলোচনা অব্যাহত রাখবো ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, সন্ধ্যায় ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদির সঙ্গে বৈঠকে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সহযোগিতা করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মিয়ানমারের সংকট মোকাবেলায় সবরকম সহযোগিতা করবো, কিন্তু তাদের উচিত সহিংসতা বন্ধ করা।

সমাধান প্রসঙ্গে দেশটির উদ্দেশে তিনি বলেন, এটা সামরিকভাবে সমাধান করা যাবে না। রাজনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে হবে। ‘বর্ডার গার্ড-বিজিবি এবং নাসাকার (মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী) মধ্যে সহযোগিতা বাড়ুক, এটাই আমরা চাই।

তিনি জোর গলায় বলেন, প্রতিবেশী কোন দেশে অস্থিতিশীলতা বা বিদ্রোহের জন্য বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করতে দেবো না। বিদ্রোহ দমনে আমাদের বিজিবিও সহযোগিতা করতে পারে।

মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হিসেবে থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সমস্যাগুলো তাদের বুঝতে হবে। এতো মানুষ আসা আমাদের জন্য বড় বোঝা।

ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি তুরস্ককেও একইরকম অবস্থানের কথা জানাবে বাংলদেশ। চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শন এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রসঙ্গে বাংলাদেশের সাথে আলোচনা করতে বুধবার বাংলাদেশে আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু। সফরে মেভলুত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে দেখা করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে একটি সমঝোতা সইয়ের বিষয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা যায়, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যক্তিগত জেটে বাংলাদেশে আসছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর কক্সবাজারে যাওয়ার কথা রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গত শুক্রবার বিবৃতি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি একে গণহত্যা বলে উল্লেখ করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে ফোন করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহায়তার অঙ্গীকার করেন।

তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিরাজমান পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো নিপীড়ন ও অভিযানের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংকট সমাধানে ২০ জন বিশ্ব নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তার বিষয়ে মুসলিম দেশগুলোর পাশাপাশি কথা বলছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

মঙ্গলবার সংস্থার এক বিবৃতিতে মিয়ানমারে অব্যাহত সহিংসতা এবং এর ফলে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

ইউএনএইচসিআরের সদর দপ্তর জেনেভা থেকে সংস্থার মুখপাত্র দুনিয়া আসলাম খান বিবৃতিতে বলেন, গত মাসে মিয়ানমারে উত্তরের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আনুমানিক ১ লাখ ২৩ হাজার শরণার্থী প্রবেশ করেছে। মিয়ানমারে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।

‘নতুন সৃষ্টি হওয়া এ সংঘাতের মূল কারণ খুঁজে বের করা জরুরি, যাতে করে মানুষ আর পালিয়ে আসতে বাধ্য না হয়। সেই সঙ্গে এই ব্যবস্থাও করা উচিত যাতে তারা নিরাপদে এবং সম্মানের সঙ্গে তাদের বাসস্থানে ফিরতে পারে,’ উল্লেখ করে ইউএনএইচসিআরের বিবৃতিতে বলা হয়: যেসব মানুষ বাংলাদেশে এসেছে তাদের অবস্থা করুণ। অনেকেই তাদের গ্রামের বাড়ি থেকে জঙ্গল, পাহাড়, নদী অতিক্রম করে এসেছে। তারা ক্ষুধার্ত, দুর্বল ও অসুস্থ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘মা হওয়ার পরও প্রেমের প্রস্তাব পাই’

ঢাকাই ছবির গত এক দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। নজরকাড়া লুক আর দক্ষ অভিনয়ের সুবাদে অগণিত ভক্তের মন জয় করে নিয়েছেন এই নায়িকা। বলা হয়ে থাকে, এই সময়ে তিনিই একমাত্র অভিনেত্রী, যিনি শালীনতা বজায় রেখেই জনপ্রিয়তার আকাশ ছুঁয়েছেন।

জনপ্রিয় এই নায়িকার প্রতি ভক্তদের ভালোবাসা নতুন কিছু নয়। অসংখ্য প্রেমের প্রস্তাব আসে তার কাছে। এমনকি কেউ কেউ তো বিয়ে করে সংসার পাততেও চান অপুর সঙ্গে। তবে অপু এখন শাকিব খানের স্ত্রী এবং এক সন্তানের মা। তার সন্তানের বয়সও এক বছর হতে চললো। এই সময়ে এসেও নাকি তিনি প্রেমের প্রস্তাব পান!

ঈদ উপলক্ষে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এসে অপু বিশ্বাস নিজেই এই কথা স্বীকার করেছেন। জীবনে কতবার প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছেন? উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে অপু বলেন, কতবার পেয়েছি মানে, এখনো পাই। অর্থাৎ মা হওয়ার পরেও রীতিমত প্রস্তাব পাই।

ঈদ প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস আরো জানান, ঈদের দিন সবার আগে স্বামী শাকিব খানকেই সালাম করেছিলেন। তবে সালামি হিসেবে কি পেয়েছেন, সেটা অবশ্য বলেননি। এছাড়া প্রিয় সহকর্মী হিসেবেও শাকিব খানের নামটাই বলেন অপু বিশ্বাস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাহুবলীর প্রভাষের সাথে শ্রদ্ধার সন্ধি

নিজেদের মধ্যে সন্ধি করে ফেললেন বাহুবলী ছবির তারকা প্রভাষ এবং বলিউডের শ্রদ্ধা কাপুর ‘সাহো’ ছবির জন্য। নিজেদের প্রয়োজনেই নাকি তারা এমন সন্ধি করলেন। ‘সাহো’ ছবির হিন্দি ভার্সনের জন্য প্রভাষ হিন্দি শিখবেন শ্রদ্ধার কাছে। অন্যদিকে তেলেগু ভার্সনে শ্রদ্ধাকে তেলেগু শিখতে সাহায্য করবেন প্রভাষ।

যদিও ছবির সেটে তাদেরকে ভাষা শেখানোর জন্য টিউটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তবু এর বাইরে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কাজটাকে আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য সন্ধি করেছেন তারা।

‘সাহো’ ছবিটি হবে হিন্দি এবং তেলেগু দুই ভাষাতে। তাই উভয় ভাষায় সমান পারদর্শী হতে হবে এই জুটিকে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সুজিত রেড্ডি এবং প্রযোজিত হবে ইউভি ক্রিয়েশনস এর ব্যানারে। আগামী বছর ছবিটি মুক্তি দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছেন। ডেকান ক্রনিকল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চির নিন্দায় সরব বিশ্ব

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নতুন করে দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরুর পর ইতিমধ্যে মৃত্যুভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ৯০ হাজার রোহিঙ্গা। উদ্ভূত প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের ‘গণতন্ত্রকামী নেত্রী ও মানবাধিকারের চ্যাম্পিয়ন’ বলে পরিচিত অং সান সু চির সমালোচনায় সরব হয়েছে বিশ্ব। দেশে দেশে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ থেকে শান্তিতে এই নোবেলজয়ীর পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট ২০টি তল্লাশিচৌকিতে হামলার ঘটনায় আবার শুরু হয় সহিংসতা। দুটি হামলার জন্যই উগ্রপন্থী রোহিঙ্গাদের দায়ী করা হয়।

এদিকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ওপর সম্প্রতি শুরু হওয়া নির্যাতনের বিষয়ে মুখ খোলেননি। প্রসঙ্গত, পশ্চিমা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে সু চি ছিলেন একবিংশ শতাব্দীর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। তাঁকে এমন একটি স্থানে অধিষ্ঠিত করা হয়, যেখানে খুব কম মানুষই ঠাঁই পান।

মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংঘি এ সপ্তাহের শুরুর দিকে বলেন, হাজারো রোহিঙ্গা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছেন। গত সোমবার ভারতের গণমাধ্যমে ইয়াংঘিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি ‘সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ’।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে এক মুখপাত্র তা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চলা নির্যাতন-নিপীড়নকে ‘গণহত্যা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেন, চলতি মাসের শেষে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এই ইস্যুটি তিনি তুলবেন।

সোমবার মালদ্বীপ মিয়ানমারের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নৃশংসতার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এক টুইট বার্তায় বলেন, মিয়ানমারের জাতিগত নির্মূল অভিযান বন্ধ করতে চাইলে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এর আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে সোমবার রাশিয়ার চেচনিয়াতেও হয় একটি বিক্ষোভ সমাবেশ।

সূত্র: প্রথম আলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ছে

আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ইতিমধ্যে কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষ করেছে। পাইকারিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৬ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।
এই প্রস্তাবের ওপর ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে গণশুনানি শুরু হবে। বিইআরসি আইন, ২০০৩ অনুযায়ী গণশুনানির পর ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিইআরসি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। ২০১০ সালের ১ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় বছরে পাইকারি পর্যায়ে পাঁচবার এবং খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে সাতবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।
এবার দাম বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, দাম বাড়ানোর বর্তমান প্রক্রিয়া অযৌক্তিক। কারণ, বিইআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ অনুসরণ করছে না, বরং বেশি দামের তেলভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ফার্নেস তেলের দাম বাজারদর অনুযায়ী করে দিলেও উৎপাদন ব্যয় অনেকখানি কমত। তা–ও করা হচ্ছে না। পদ্ধতিগত লোকসান (সিস্টেম লস) কমিয়ে মুনাফা বাড়ানোর কার্যক্রমও যথেষ্ট সফল নয়। এগুলো করা হলে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না, বরং কমানো সম্ভব হবে।
বিইআরসির সূত্র জানায়, এবার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে পাইকারি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭২ পয়সা (প্রায় ১৫ শতাংশ) বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আর বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি গ্রাহক পর্যায়ে ৬ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাবি, প্রতিবারই পাইকারির তুলনায় খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয়েছে কম। ফলে তাদের পক্ষে কোম্পানি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে বিইআরসিতে উপস্থাপন করা বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বর্তমানে দেশের ছয়টি বিতরণ কোম্পানির মধ্যে একমাত্র পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) লোকসান দিচ্ছে। অন্য চারটি কোম্পানি লাভজনক। এই কোম্পানিগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিতরণ অঞ্চল, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডেসকো) এবং পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো)।
এ ছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (নওজোপাডিকো) নতুন গঠিত হয়েছে। পিডিবির রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সম্পদ ও দায়দেনা নিয়ে গত বছরের অক্টোবরে কাজ শুরু করা এ কোম্পানি এবারই প্রথম বিইআরসির কাছে আসছে।
পাইকারি দাম বাড়ানোর জন্য পিডিবির দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে সরবরাহ করতে গড়ে ব্যয় হয় ৫ টাকা ৫৯ পয়সা। কিন্তু বর্তমানে প্রতি ইউনিটের দাম নির্ধারিত আছে ৪ টাকা ৮৭ পয়সা। এখন দাম বাড়িয়ে এই ৭২ পয়সার ব্যবধান ঘোচানো দরকার। না হলে পিডিবির পক্ষে এই অর্থের সংস্থান সম্ভব নয়।
গ্রাহক পর্যায়ে ডিপিডিসি ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ, ডেসকো ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ, ওজোপাডিকো ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ, আরইবি ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং পিডিবি ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এ ছাড়া দু-একটি বিতরণ কোম্পানি গ্রাহক পর্যায়ে ডিমান্ড চার্জ ও সার্ভিস চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বলে বিইআরসির সূত্র জানায়। বর্তমানে কোম্পানিভেদে প্রতিটি মিটারে প্রতি মাসে ৩০ টাকা পর্যন্ত ডিমান্ড চার্জ ও ২০ টাকা পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ ধার্য আছে বলে জানা গেছে।
লাভজনক বিতরণ কোম্পানিগুলোও যে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে, তার যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিইআরসির সদস্য (বিদ্যুৎ) মো. মিজানুর রহমান বলেন, কোম্পানিগুলোর লাভ-লোকসানের সব তথ্যই গণশুনানিতে প্রকাশিত হবে। তার ভিত্তিতেই বিইআরসি সিদ্ধান্ত নেবে। প্রস্তাব করলেই যে দাম বাড়ানো হবে, বিষয়টি এমন নয়।
তবে পিডিবির সূত্র বলেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে তেলও (ফার্নেস অয়েল) কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি পড়ছে। তাই দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই।
ক্যাব এবং বেসরকারি বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম বাড়ানোর কার্যকর বিকল্প আছে, তা হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের (ফার্নেস) দাম বাজারমূল্যে সরবরাহ করা। বর্তমান বাজারদরে ফার্নেস তেল থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়ছে ছয় টাকার মতো। যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে সরকার ফার্নেস তেল আমদানি করার লাইসেন্স দিয়েছে, তারা বর্তমানে এই দামে সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে।
অন্যদিকে যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামে ফার্নেস তেল নিচ্ছে, তাদের উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়ছে ১২ টাকার বেশি। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী বর্তমানে প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের দাম ২২ থেকে ২৪ টাকা, আর বিপিসি বিক্রি করে ৪২ টাকা।

সূত্র: প্রথম আলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাখাইন সমস্যা নিরসনে জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলেন ড. ইউনূস

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মানবিক সমস্যা নিরসনে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এখানে সে চিঠি দেওয়া হলো:

নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ,
আপনারা অবগত আছেন যে, মিয়ানমারের রাখাইন এলাকায় মানবীয় ট্র্যাজেডি ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ একটি ভয়ংকর রূপ নিয়েছে, যে বিষয়ে অবিলম্বে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর আক্রমণে শত শত রোহিঙ্গা জনগণ নিহত হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। বহু গ্রাম সম্পূর্ণ জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে, বেসামরিক মানুষকে নির্বিচারে আটক করা হচ্ছে এবং শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। আতঙ্কের বিষয়, মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে এই এলাকায় প্রায় একবারেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, যার ফলে দারিদ্র্যপীড়িত এই এলাকায় মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। স্থানীয় সরকারি সূত্রগুলোর হিসাবে, গত ১২ দিনে এক লক্ষ কুড়ি হাজারেরও বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। মৃত্যুর মুখে নারী, পুরুষ ও শিশুদের এই ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও অভিবাসন থেকে সৃষ্ট পরিস্থিতি প্রতিদিন আরও খারাপ হচ্ছে।
গত বছরের শেষে পরিস্থিতির বেশ অবনতি ঘটলে বেশ কয়েকজন নোবেল লরিয়েট ও বিশ্বের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দসহ আমি এ বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আপনাদের নিকট যৌথভাবে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। আপনাদের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এবার পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে নিরীহ নাগরিকদের ওপর অত্যাচার বন্ধ এবং রাখাইন এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমি আপনাদের নিকট আবারও অনুরোধ জানাচ্ছি।
আমি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে সম্ভাব্য সকল উপায়ে জরুরিভাবে হস্তক্ষেপের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আমি আপনাদের কাছে জরুরি পদক্ষেপের অনুরোধ জানাচ্ছি যাতে নিরীহ বেসামরিক মানুষদের ওপর নির্বিচার সামরিক আক্রমণ বন্ধ হয়, যার কারণে এই অসহায় মানুষগুলোকে নিজ দেশ ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গিয়ে রাষ্ট্রহীন মানুষে পরিণত হতে না হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে মিয়ানমার সরকার ২০১৬ সালে যে ‘রাখাইন অ্যাডভাইজরি কমিশন’ গঠন করেছিল, তার সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারকে উদ্বুদ্ধ করতে আপনারা যেন জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, সে জন্য আমি বিশেষভাবে আপনাদের অনুরোধ জানাচ্ছি। কফি আনানের সভাপতিত্বে গঠিত এই কমিশন যার অধিকাংশ সদস্যই ছিলেন মিয়ানমারের নাগরিক—রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান, অবাধ চলাচলের সুযোগ, আইনের চোখে সমান অধিকার, রোহিঙ্গাদের স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, যার অভাবে স্থানীয় মুসলিমরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল এবং নিজ ভূমিতে ফিরে আসা মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের সহায়তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছিল।
দশকের পর দশক ধরে চলা নির্যাতন র‍্যাডিকালাইজেশনের জন্ম দিচ্ছে, যা ‘রাখাইন অ্যাডভাইজরি কমিশন’ যথাযথই উপলব্ধি করেছে। এই ভীতি থেকে র‍্যাডিকেলদের দ্বারা মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণ একটি বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ফলে এই এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠনশীল উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকবে, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এই ক্রমাগত সহিংসতা বন্ধ করতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কর্মপন্থায় সাহসী পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। মিয়ানমার সরকারকে জানিয়ে দেওয়া দরকার যে, সে দেশের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও অর্থায়ন রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমার সরকারের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। মিয়ানমার সরকারকে জানিয়ে দেওয়া দরকার যে, অপপ্রচার, ঘৃণা ও সহিংসতার উসকানি বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে, নিবর্তনমূলক বিভিন্ন নীতি ও আইন বাতিল করতে হবে এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এই এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবীয় সমস্যা সমাধানে তার ভূমিকা পালন করেছে, এটা দেখার জন্য বিশ্ববাসী অপেক্ষা করছে।

আপনাদের বিশ্বস্ত,
মুহাম্মদ ইউনূস

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest