হরিজন ঐক্য পরিষদের বাদল আর নেই

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরার বিশিষ্ট তবলা বাদক, ‘লিনেট ফাইন আর্টস একাডেমি, সাতক্ষীরা’র তালযন্ত্র প্রশিক্ষক ও সহযোগী, সাতক্ষীরার এ প্রজন্মের প্রতিভাবান তবলা বাদক ও ইলেক্ট্রিক অক্টোপ্যাডিস্ট নয়ন কুমারের বাবা, বিশিষ্ট তবলা বাদক রাজু কুমার কালু’র খালাতো ভাই, সাতক্ষীরা জেলা হরিজন ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি ‘বাদল কুমার’ আর নেই। তিনি সকাল ১০টায় তাঁর নিজস্ব বাসভবনে পরলোক গমন করেন। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে সাতক্ষীরা জেলার সর্বস্তরের সাংস্কৃতিক কর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন- সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সাতক্ষীরা, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাব, জেলা সাংস্কৃতিক পরিষদ, জেলা শিশু একাডেমি, লিনেট ফাইন আর্টস একাডেমি, বর্ণমালা একাডেমি, ঈক্ষণ সাংস্কৃতিক সংসদ, সব্যসাচী আবৃত্তি সংসদ, সাত সুরে আমরা, অধিতি আবৃত্তি সংসদ, আজমল স্মৃতি সংসদ, নজরুল একাডেমি, দিপালোক একাডেমি, নবধারা একাডেমি, শিল্পায়ন সংগীত একাডেমি, স্বরলিপি সংগীত একাডেমি, আরাধনা সংগীত একাডেমিসহ জেলার সকল সাংস্কৃতিক সংগঠন, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি, তৃপ্তিমোহন মল্লিক, মনজুরুল হক, আবু আফ্ফান রোজবাবু, নাসরীন খান লিপি, দিলরুবা রোজ, শামীমা পারভীন রতœা, চৈতালী মুখার্জী, হেনরী সরদার, মোশফিকুর রহমান মিল্টন, আব্দুল জলিল, আব্দুল ওয়াহেদ, একতেদার আলী, মনিরুজ্জামান ছট্টু, আকতারুজ্জামান কাজল, কামরুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, কবির উদ্দীন, সিদ্দিকুর রহমান, পল্টু বাসার, আলমগীর হোসেন, কাজী মাসুদুল হক, বরুন ব্যানার্জী, শলিফুল্লাহ কায়সার সুমন, শামীম পারভেজ, আমিনুর রহমান কাজল, শহীদুর রহমান, হাফিজুর রহমান, প্রশান্ত দত্ত নিতাই, জামি, নয়ন কুমার, সজল, অমিত, প্রশান্ত, শ্যামল সরকার, বিশ্বজিৎ সাহা, নাহিদা পারভীন পান্না, শবনম রোজ পিয়া, আইরিন পারভীন অন্না, প্রিয়াঙ্কা পিংকি, জাকির হোসেন, ঝরা, প্রেমা, সৃষ্টি, সুস্মিতা, ঝিলিক, শ্রেয়সী পুজা, মনিরুল ইসলাম, আবু জায়েদ, কেয়া ঢালী, ফারহা দিবা খান সাথী, নাসিমা, আঞ্জু, গৌরী, ধ্রুব, হৃদয় প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শহরে চাঁদার দাবিতে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা, মারপিট ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদার দাবিতে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা, মারপিট ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যায় শহরের মুন্সিপাড়ায় বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব জি এম আব্দুল গফুর এর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি এজহার দায়ের করা হয়েছে।
সুত্র জানায়, সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়ায় বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব জি এম আব্দুল গফুর নির্মাণাধীন দোতলা বাড়ি করার জন্য স্থানীয় মেঘনা সাইকেল এর স্বত্বাধীকারি গোলাম বারী সরদারের পুত্র আবু সাঈদ সন্ধ্যা ৬ টায় কর্তব্যরত স্যানিটেশন মিস্ত্রির কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করলে তিনি বাড়ির মালিকের কাছে টাকা চাইতে বলে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইতিপূর্বে বাড়ির মালিকের স্ত্রী কর্তৃক মালামাল ক্রয়ের জন্য মিস্ত্রির কাছে থাকা ২০ হাজার টাকা কেড়ে নিতে উদ্যত হলে ওই শ্রমিক প্রাণ ভয়ে বাড়ির ভিতরে দৌড় দিয়ে আত্মরক্ষার্থে নির্মানাধীন ভবনের দোতলায় উঠে গেলে ছিনতাইকারি সাঈদও তার পিছু পিছু দোতলায় উঠে কাঠের চৌকাঠ দিয়ে হাতে বাড়ি মেরে নির্মান শ্রমিকের হাত ভেঙে দিয়ে তার কাছে থাকা ২০ হাজার টাকা লুটে নিয়ে যায়। এসময় মালিকের স্ত্রী বাধা দিলে তাকে ধাক্কা মেরে সন্ত্রাসী সাঈদ পালিয়ে যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়া হোমিওপ্যাথিক কলেজে ফুল বাগান উদ্বোধন

কলারোয়া ডেস্ক : কলারোয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে ফুল বাগানে ফুলের চারা রোপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা পারভীন।
মঙ্গলবার সকালে দুই শতাধিক চারা রোপন করে ফুলের শোভায় বিমোহিত করে তোলার প্রয়াস করা হয়ে কলেজ চত্বরের ফুল বাগানকে। এর আগে কলারোয়ার ইউএনও ও হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনিরা পারভীন কলেজ চত্বরে পৌছুলে তাকে স্বাগত জানান শিক্ষক-কর্মচারীরা। তিনি সেখানে নিজ হাতে কয়েকটি ফুলের চারা রোপণ করেন। পরে কলেজের লাইব্রেরিতে বই প্রদান করেন তিনি।
এসময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এমএ ফারুক, প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ডা.এমএ বারিক, প্রভাষক ডা. হাবিবুর রহমান, ডা.ফাতেমা খাতুন, ডা. আফিফা খাতুন, ডা.আ.ফারুক, ডা.মাহবুবুর রহমান, ডা.আবু জাফর সাদিক, ডা.শরিফুল ইসলাম, ডা.রাজিয়া সুলতানা, ডা.অমিত কুমার পাল, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারুক হোসেন, প্রধান সহকারী তৌহিদুর রহমান প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় পৃথক অভিযানে ৩ ব্যক্তি আটক, ফেনসিডিল উদ্ধার

কলারোয়া ডেস্ক : কলারোয়ায় পৃথক অভিযানে ৩ ব্যক্তিকে পুলিশ ও বিজিবি আটক করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৪৮ বোতল ফেনসিডিল।
সাতক্ষীরা সদরের বিশেষ ফাঁড়ির বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার কামাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকালে ঝাউডাঙ্গা বাজারের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনের রাস্তা থেকে একটি ব্যাটারী চালিত ভ্যানে তল্লাসী চালিয়ে ৪৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এসময় ওই ফেনসিডিল বহনের অভিযোগে কলারোয়া উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত ফটিক গাজীর ছেলে আলিমুদ্দিন (২৬)কে আটক করা হয়। আটক আলিমুদ্দিনের বরাত দিয়ে বিজিবি জানায়- আলিমুদ্দিন ওই ফেনসিডিল ঢাকার উত্তরায় নিয়ে যাচ্ছিল।
এ ঘটনায় কলারোয়া থানায় মামলা হয়েছে। অপরদিকে ওয়ারেন্টভূক্ত দুই আসামিকে আটক করেছে কলারোয়া থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে থানা সূত্র জানায়, উপজেলার মাদরা গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে শাহিন ও পৌর সদরের তুলসীডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমানকে আটক করে পুলিশ। তাদের নামে আদালতের ওয়ারেন্ট রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় নবাগত ইউএনও’র বিভিন্ন প্রিতিষ্ঠান পরিদর্শন

কলারোয়া ডেস্ক : কলারোয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিস পরিদর্শন করেছেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা পারভীন।
উপস্থিত ছিলেন মসজিদ ভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের মাসিক সভাতেও। মঙ্গলবার দিনভর তিনি এ সকল দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত থেকে ব্যস্ত সময় পার করেন। ইউএনও মনিরা পারভীন উপজেলার ২নং জালালাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন করেন কলারোয়া জি.কে.এম.কে পাইলট হাইস্কুলে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব। সেসময় তিনি স্কুলটির বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখেন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন।
সকালে কলারোয়ায় হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে ফুলের চারা রোপন করে ফুলের বাগান উদ্বোধন করেন ও অধ্যক্ষের নিকট লাইব্রেরী বই হস্থান্তর করা হয়।
উপজেলার ৫নং কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের ‘মমতাজ আহম্মেদ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ও শিশু পার্ক’ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি এডিপির বরাদ্দকৃত ও প্রদানকৃত মেরিগোরাউন্ড ও প্যাডেল চালিত বোর্ড ঘুরে দেখেন। সেখানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এমএ ফারুক, ডা.এমএ বারিকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও মনিরা পারভীনের সভাপতিত্বে তাঁর অফিসে মসজিদ ভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলা ও ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বরাদ্দকৃত ৩০ বান ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণ এর লক্ষ্যে প্রকৃত দুঃস্থ ব্যক্তিদের তালিকা সরেজমিনে যাচাই করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন। সেসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) সুলতানা জাহানসহ অন্যরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভোমরায় নেতাকর্মীদের জীবননাশের হুমকির প্রতিবাদে সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগের সভা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীদের জীবন নাশের হুমকি প্রদানের প্রতিবাদে এক প্রতিবাদসভা সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগ ভোমরাস্থল বন্দর শাখার নিজস্ব কার্যালয়ের সম্মুখে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভা পরিচালনা করেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ গাজী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ বলেন, গত কয়েকদিন যাবত ভোমরা বন্দরের শামিম হোসেন, লহ্মীদাড়ী গ্রামের মনিরুল, আবুল কালাম ও আলীপুর গ্রামের হাবিবুল্লাহ জননেত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সম্পর্কে কুটুক্তি করিলে শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ করে। উল্টো ওই ৪জন শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীদের জীবন নাশের হুমকি দেয়। তিনি ওই সমস্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মোকাবেলা করার আহ্বান জানান। প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা জুলমত আলী গাজী, আমির হামজা, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোঃ আমানুল্লাহ প্রমুখ। প্রতিবাদ সভা শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনিতে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনিতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর ইনটেগ্রেটেড হেলথ এন্ড লাইভলীহুড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ফর পোভার্টি রিডাকশন (ইনহেল্ডার) প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় আশাশুনি এতিম ছেলেমেয়েদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আশাশুনি এডিপির আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম। আশাশুনি এডিপি ম্যানেজার প্রকাশ চাম্বুগং এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আঃ হান্নান, ওয়ার্ল্ড ভিশন সাউদার্ন বাংলাদেশ রিজিওন এর রিজিওনাল ফিল্ড ডাইরেক্টর বুলি হাগিদক। লাভলী লাকী বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন প্রজেক্টের প্রোগ্রাম অফিসার রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মোস্তাফিজুর রহমান, গীতা পাঠ করেন বৃষ্টি সরকার ও বাইবেল পাঠ করেন সুবাস মন্ডল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মগের মুল্লুক সাতক্ষীরা! কলারোয়া চন্দনপুরে গরিবের রক্তচোষা অবৈধ লটারি চলছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা এখন মগের মুল্লুক! এখানে যখন তখন মেলার নামে যেখানে সেখানে চলে অবৈধ র‌্যাফেল ড্র ও লটারি! কেউ দেখেও দেখে না! সবাই বোবা-কালা-অন্ধ হয়ে থাকে! আর দরিদ্র মানুষের যেখানে চালের উচ্চমূল্যে নাভিঃশ্বাস উঠছে, তখন তাদের বড় একটি অংশ লটারির টিকেট কেটে দ্রুত বড়লোক হওয়ার নেশায় সর্বস্ব খুইয়ে সংসারের অশান্তি বাড়াচ্ছে। যেসমস্ত এলাকায় এসব লটারি চলে সেখানে দ্রুত চুরি, ছিনতাই বাড়তে থাকে। কিন্তু কেউই নেই এর লাগাম টেনে ধরার। জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় সারাবছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব লটারি ও জুয়ার আসর চলছেই। বর্তমানে কলারোয়ার চন্দনপুরের প্রত্যন্ত এলাকায় চলছে মানুষকে নিঃশ্ব করে পথে বসানোর জুয়া। দীর্ঘদিন ধরে নিরবে চালিয়ে যাচ্ছে “স্বপ্নের ঠিকানা” লাটারি নামক এই জুয়া। ওই লাটারির টিকিট কিনে ইতোমধ্যে নিঃশ্ব হয়েছেন অনেকে। কিন্তু কারো যেন নজর নেই এদিকে। যথারীতি আনন্দ মেলার ছদ্মাবরণে এসব চলছেই।
সম্প্রতি দেশের উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বন্যায় কবলিত হাজার হাজার মানুষ বিষন্নতায় দিন কাটাচ্ছেন, অন্যদিকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা জীবনের ভয়ে পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। এ দুটো নিয়ে সারা দেশের মানুষ চরম উৎকণ্ঠর মধ্যে দিনে কাটাচ্ছে। অথচ কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের পকেট ভরার জন্য এ অবৈধ ব্যবসার ফাঁদ পেতে নিঃশ্ব করছে হাজারো মানুষকে।
মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ আনন্দ মেলা নামে চন্দনপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে একটি মেলার আয়োজন করেন কলারোয়া পৌর আ’লীগের সভাপতি আলিমুলসহ কয়েকজন ব্যক্তি। কিন্তু যে উদ্দেশ্যের কথা বলে মেলা বসানো হয়েছিল সে ধরনের কোন কার্যক্রম নেই এখানে। রয়েছে শুধুমাত্র লাটারি।
নড়াইলের কালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মানিক শিকদারসহ ৩ জনের যৌথ পরিচালনায় সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় এ লটারি নামক জুয়া অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ইজিবাইক কলারোয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নসহ যশোরের শার্শা ও সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা, বাঁশদহা, আগরদাড়ী, কুশখালী, লাবসা ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্রয়কর্মীরা ভাগ্যের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন সুমধুর সুরে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে টিকিট বিক্রয় করে। গ্রাম্য এলাকার সহজ, সরল মানুষগুলো সহজেই তাদের ফাদে পড়ে ভাগ্যে যাচাই নামক জুয়ার (লটারি) এর টিকিট ক্রয় করছেন। অনেকেই সারাদিন ভ্যান চালিয়ে, দিনমজুরি ও শ্রমিকের কাজ করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে সারাদিনের রোজগারের টাকা দিয়ে বাজার না করে পুরুষ্কারের আশায় সব টাকা দিয়ে লটারির টিকিট ক্রয় করছেন। কিন্তু পরে দেখা গেছে একটি পুরস্কারও তাদের ভাগ্যে জোটেনি।
চন্দনপুর এলাকার কামরুল ইসলাম জানান, তিনি সম্প্রতি একটি সমিতি থেকে ১২ হাজার টাকা লোন(ঋণ) নিয়েছেন। বড় পুরুস্কার পাওয়ার আশায় তিনি সব টাকা দিয়ে লটারির টিকিট ক্রয় করেছেন। কিন্তু একটি শান্তনা পুরস্কারও তার ভাগ্যে জোটেনি। শুধু কামরুল একা নই অত্র এলাকার শফিকুল, রাকিব, গফফার, সামছুর, ফজরসহ অনেকেই একই কথা বললেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ জুন’১৭ তারিখে চন্দনপুর বহুমুখী বিদ্যালয়ের মাঠটি ১লক্ষ টাকা দেওয়ার চুক্তিতে ২৬ জুলাই’১৭ তারিখ ১মাসের জন্য ভাড়া দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সে মেয়াদ অতিবাহিত হলেও মাঠটি না ছেড়ে চালানো হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী লটারী নামক জুয়া। তবে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও ঈদের পরের দিন থেকে এ মেলা আবারো শুরু হয়। তবে উক্ত বিদ্যালয়ের মানেজিং কমিটি সভাপতিসহ অন্যা সদস্যরাই নাকি এ মেলার আয়োজক। যে কারণে কাউকে কোন কৈফিয়ত দিচ্ছেন না তারা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, স্বপ্নের ঠিকানা নামক লটারি বিক্রির জন্য প্রতিদিন ১০০ ইজিবাইক, ২টি মিনি পিকআপ রয়েছে। তারা প্রতিদিন কলারোয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নসহ যশোরের শার্শা ও সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা, বাঁশদহা, আগরদাড়ী, কুশখালী, লাবসা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় টিকিট বিক্রয় করছেন। ওই টিকিটের মূল্য ২০টাকা। প্রতিদিন তারা প্রায় ১ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা ২০ টিকিট বিক্রয় করে। এতে প্রায় প্রতিদিন ২০ লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রয় করে। কিন্তু পুরস্কার দেওয়া হয় ৫/৭ লক্ষ টাকার। প্রায় ২ মাস ধরে এভাবে অত্র এলাকায় চলছে গরিব কে নিঃশ্ব করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তিদের পকেট ভরা।
এবিষয়ে লটারির পরিচালক রবিউল ইসলাম রবি’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা মাত্র ১৭দিন লটারি চালাচ্ছি। প্রতিদিন ১০০ ইজিবাইক বিক্রয়ের জন্য বের হয় এবং প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টিকিট বিক্রয় হয়। এখানে কতদিনের অনুমতি পেয়েছেন মর্মে তিনি বলেন ১০ দিনের। কিন্তু ১০দিন ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে। আরো ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে। তাছাড়া ডিসি সাহেবের মৌখিক অনুমতি রয়েছে। গ্রামের একেবারে শেষ পর্যায়ে হওয়ায় ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ভাই আপনাদের তো এতদূর আসার দরকার ছিলো না। সাংবাদিকদের সাথে তো কথা বলবেন মানিক চাচা। এছাড়া তিনি এবিষয়ে রিপোর্ট না করার জন্য অনুরোধ করেন।
এবিষয়ে মানিক শিকদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমাদের ২৫ তারিখ অনুমতি আছে মৌখিকভাবে। আরো বাড়ানো হতে পারে। আর আপনি আমার সাথে দেখা করেন। আপনার সালামির কোন অসুবিধা হবে না। আমি পার্কে আছি। যদি আপনি বলেন আমিও আসতে পারি আপনার কাছে।
এঘটনায় চন্দনপুর বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনছার আলী বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে একটি ডিজিটাল ফটোকপি মেশিনের প্রয়োজন। সে কারণে আমরা স্কুলের মাঠ টি তাদের ১ মাসের জন্য রেজুলেশনের মাধ্যমে ভাড়া দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা মাঠটি এখনো পর্যন্ত ছাড়েনি। তবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর এবিষয়ে একটি সভা আহ্বান করা হয়েছে। স্কুলের মাঠে এধরনের লটারি নামক জুয়ায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই ক্ষতি হচ্ছে। সামনে তাদের পরীক্ষা। কিন্তু কি করবো বলেন আমারও হাত পা তো বাধা।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও মেলার আয়োজক আলিমুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি রিসিভ না করা তা সম্ভব হয়নি।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আপনার কোন সমস্যা থাকলে ডিসি স্যারকে বলেন। মেলা, র‌্যাফেল ড্র এগুলোর অনুমতি তিনি দিয়ে থাকেন আমার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা।
অন্যদিকে লটারির ঘটনায় জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দীন বলেন, “আমরা মাঝে তো বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আবারো শুরু হয়েছে। আর জায়গাটাও এমন দুর্গম। যা হোক আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সেখানে লটারির কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest