সর্বশেষ সংবাদ-

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনিতে বৃক্ষরোপন আন্দোলন ও ফলজ বৃক্ষমেলা-১৭ এর উদ্বোধন ঘোষনা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ১ম তলায় কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মেলা বাস্তবায়ন কমিটি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আশাশুনির আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে র‌্যালী বের হয়ে র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ বি এম মোস্তাকিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আখতারুজ্জামান, জাতীয় মৎস্যজীবি সমিতি জেলা সভাপতি রফিকুল ইসলাম মোল্যা, উপজেলা কৃষকলীগ আহবায়ক স ম সেলিম রেজা সেলিম ও প্রেসক্লাব সভাপতি জি এম মুজিবুর রহমান। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিপক কুমার মল্লিকের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সিনিঃ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান, পিআইও সেলিম খান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম আজিজুল হক, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা, প্রেসক্লাব সেক্রেটারী জি এম আল-ফারুক, যুগ্ম সম্পাদক প্রভাষক মাসুদুর রহমান, এস এম আহসান হাবিব, এম এম সাহেব আলি, আকাশ হোসেন, তোতা, ফাইম-নাইম নার্সারী তত্ত্বাবধায়ক অহেদুর রহমান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ লাল কুন্ডু প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে সদর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে লাল ফিতা কেটে ৩ দিনের বৃক্ষ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় সোহাগ টেলিকমের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে শহরের সংগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের সামনে প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে সোহাগ টেলিকমের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন পলাশপোল আহলে হাদিস মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হালিম কাফি। এসময় উপস্থিত ছিলেন আলহাজ¦ আব্দুল মাজেদ সরদার, ওয়াজেদ সরদার, শেখ হাবিবুর রহমান, পৌর শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সোহাগ টেলিকমের প্রোপাইটার আসাদুর জমান সোহাগসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘আনন্দলোকে মঙ্গল আলোকে বিরাজ সত্য সুন্দর’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় ১০দিন ব্যাপি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বর্ণমালা একাডেমির আয়োজনে সভাপতি শামীমা পারভীন রত্মার সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুনাক সভানেত্রী মেহের নিগার আক্তার, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ, অধীতি ও বাংলাদেশ নৃত্য শিল্পী সংস্থার সভাপতি নাসরীন খান লিপি, লিনেট ফাইন আর্টস সাতক্ষীরার সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবু, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য সচিব মুশফিকুর রহমান মিল্টন, প্রধান প্রশিক্ষক জয়দ্বীপ চক্রবর্তী, সহযোগি শিক্ষক সৌমিত হালদার, অ¤্রন্দে হালদার প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মারুফ আহমেদ, কন্ঠ শিল্পী মনজুরুল হক, তৃপ্তি মোহন মল্লিক, পিএন বিয়াম ল্যাব. স্কুলের উপাধ্যক্ষ ইমদাদুল হক ও চিত্র শিল্পী এম.এ জলির প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নাহিদা পারভীন পান্না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

খন্দকার আনিসুর রহমান : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মীনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৭তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে শহর স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর কবিরের সভাপতিত্বে গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক এড. ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ মারুফ হাসান মিঠু। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর মোস্তাক আলী। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী আক্তার হোসেন, এড.সাইদুজ্জামান জিকো, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক খন্দকার আনিসুর রহমান তাজু, নাছির রহমাতুল্লাহ শাহাজাদা, মোঃ সাহেব আলী, বিকাশ কুমার সরকার, শেখ ইসতিয়াক আহম্মেদ, রুবিনা জামান শাওলী,মোঃ শাহাদাত হোসেন, মাজহারুল জীবন, সালসান, রফিকুল, এস এম জিন্নাহ, শোভন, মতিউর, নিপ্পন, প্রাপ্ত,আক্তারুল,বাবুগাজী,আব্দুল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা সদরের বিভিন্ন নি¤œাঞ্চল ও সড়কের বেহাল দশা সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। তিনি মঙ্গলবার বিকালে মাধবকাটি বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি বলেন, জেলার সকল সড়কের বেহালদশা আমাকে খুবই কষ্ট দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নকে ম্লান করে দিচ্ছে এই যোগাযোগ ব্যাবস্থা। জেলার প্রধান প্রধান সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। চলতি বর্ষা মৌসুম শেষ হলে সকল সড়কের কাজ শুরু হবে। জেলার অনেক নিম্মাঞ্চল অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের ও অপরিকল্পিত বসত বাড়ি নির্মাণের কারণে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই সকলকে সজাগ থাকতে হবে এবং জনগণের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এসময় তিনি রামেরডাঙ্গা বাজারসহ কয়েকটি এলাকার রাস্তা-ঘাট ও স্কুল-কলেজ পরিদর্শন করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটার নওয়াপাড়া ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শাহাদত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে শোক র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় নওয়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আয়োজনে গাজীরহাট বাজারে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নওয়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেনের সঞ্চলনায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান। নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহমুদুল হক লাভলু, সাধারণ সম্পাদক আলগীর হোসেন সাহেব আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান সবুজ, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম হাফিজসহ সকল ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। এ সময় ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শাহাদত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দারুচিনি শুধু রান্নার স্বাদ আর গন্ধ বাড়াতেই সাহায্যই করে না, এর রয়েছে অনেক গুণও। আপনার অসুখ সারাতেও এটি সমান কার্যকর। জ্বর, পেটব্যথা বা এজাতীয় সমস্যা সারাতে দারুচিনি খেতে পারেন। দারুচিনিতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফাইবার, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ এবং কয়েক ধরনের এসেনশিয়াল অয়েল। এমনি এমনি বা রান্নার মসলা হিসেবে তো দারুচিনি খাওয়া যায়ই, পাশাপাশি খেতে পারেন চায়ের সঙ্গে। দারুচিনিতে প্রচুর মিনারেল ও ভিটামিন রয়েছে। এতে সামান্য প্রোটিনও আছে।

টাইপ-টু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য দারুচিনি খুব উপকারি। কারণ, এটি রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

দারুচিনিতে রয়েছে প্রচুর ম্যাঙ্গানিজ। মজবুত হাড়, রক্ত ও দেহের অন্যান্য টিস্যু গঠনে সাহায্য করে। বাতের ব্যথায় দারুচিনির তেল বা চা উপকারি। ব্যথা কমাতে দারুচিনি ও মধু দারুণ কাজ করে। হাড়ের জোড়ায় ব্যথা হলে হালকা গরম পানিতে এক চামচ মধু ও দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে ব্যথার জায়গায় আস্তে আস্তে মালিশ করলে ব্যথা কমবে।

দেহের রক্ত তরল থাকতে সাহায্য করে দারুচিনি। রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে দারুচিনি। দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

পৃথিবীর সেরা সাত অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবারের তালিকায় রয়েছে দারুচিনি। শরীরের বিভিন্ন অংশের ক্ষত সারিয়ে তুলতে এই মশলা কার্যকর।

খাদ্যে বিষক্রিয়া হলে দারুচিনি খেলে উপকার পাওয়া যায়। পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস দমন করে। অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল হিসাবে কাজ করে। দারুচিনি ও মধু পেটে ব্যথা কমায়। অ্যাসিডিটি দূর করে।

গ্যাস্ট্রিক আলসার, মেলানোমা বা ত্বকের মেলানিন কোষ মিলে যে টিউমার হয়, তার সম্ভাবনা কমায় দারুচিনি। লিউকোমিয়া ও লিমফোমা ক্যান্সারের কোষগুলোর প্রভাব কমায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভারতের বিখ্যাত ‘মুঘলসরাই’ রেল স্টেশনের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পর এবার মহারাষ্ট্রে স্কুলের পাঠ্যবই থেকেও মুঘল আমলের ইতিহাস অনেকটাই মুছে দেওয়া হয়েছে।

বিজেপি-শাসিত ওই রাজ্যে সপ্তম ও নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা এখন থেকে মুঘল ইতিহাসের বদলে মারাঠা বীর শিবাজী মহারাজের কাহিনীই বেশি করে পড়বে।

বিরোধী দলগুলো বলছে, এটা ভারতের ইতিহাস থেকে মুঘল শাসনের পর্বটাই মুছে দেওয়ার চেষ্টা – যদিও বিজেপি এর মধ্যে অন্যায় কিছু দেখছে না। বরং মুঘল শাসনেররও আগে ভারতের যে ‘গৌরবের ইতিহাস’ আছে, পাঠ্যবইতে সেটার ওপরই জোর দেওয়ার কথা বলছে তারা।

ভারতীয় রেলের প্রায় জন্মলগ্ন থেকে মুঘলসরাই একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন – এশিয়ার সবচেয়ে বড় রেল ইয়ার্ডও আছে এখানেই।

দিল্লি-কলকাতা রুটের মাঝপথে এই স্টেশনটির নাম বদলে বিজেপির তাত্ত্বিক গুরু দীনদয়াল উপাধ্যায়ের নামে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে – গত সপ্তাহে সে কথা জানাজানি হওয়ার পরই পার্লামেন্টে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন বিরোধী সদস্যরা।

সেই বিতর্ক না-থিতোতেই এখন জানা যাচ্ছে, মহারাষ্ট্রের স্কুল শিক্ষা পর্ষদ তাদের ইতিহাসের পাঠ্যবই থেকে মুঘল জমানার অধ্যায় প্রায় পুরোটাই ছেঁটে ফেলেছে – তার জায়গায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কংগ্রেস জমানার বফর্স কেলেঙ্কারি, ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা এবং আরও বেশি করে শিবাজী মহারাজের বীরগাথা।

কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আইয়ারের মতে, এগুলো ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের কোণঠাসা করার ন্যারেটিভেরই অংশ।

তিনি বলছেন, “আফশোস এখানেই – মুঘলসরাই স্টেশন ভারতের ইতিহাসের একটা অংশ – কিন্তু এখন এরা বলার চেষ্টা করছেন মুসলিমরা আসলে ভারতীয়ই ছিলেন না। সেই আমলে আমরা ছিলাম গোলাম, আর সেই ইতিহাসই এরা পাল্টাতে চান। ভারতীয় মুসলিমদের বিজাতীয় প্রমাণ করার যে যুদ্ধে তারা নেমেছেন, এগুলো তারই হাতিয়ার।”

বিজেপির জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহার অবশ্য বলতে দ্বিধা নেই, মুঘল জমানার ইতিহাস ভারতের আসল ইতিহাসই নয়।

তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, “বাবর-আকবর-হুমায়ুন দেশ নয়। তারা আক্রমণকারী, বাইরে থেকে এসে এ দেশ শাসন করেছে। তো সেই মুঘল ইতিহাস বা ব্রিটিশ শাসনের পরাধীনতার ইতিহাস যদি পড়ানো হবে, মুঘলদের আগের ইতিহাস কেন পড়ানো হবে না? কেন শুধু আমরা গত সাতশো বছরেই আটকে থাকব?”

“আমার প্রশ্ন হল, ভারত তো শুধু সাতশো বছরের দেশ নয় – অনেক প্রাচীন দেশ। আজকের বহু সভ্য দেশ যখন অসভ্য ছিল, তখন থেকেই এখানে জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা চলছে। সুতরাং আমরা মনে করি ভারতবাসী যদি পূর্বপুরুষদের সেই গৌরবের ইতিহাস জানতে পারে, দেশকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।”

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুঘল যুগের ইতিহাস পড়ান অধ্যাপক শিরিন মাসুদ – তিনি কিন্তু সতর্ক করে দিচ্ছেন নতুনভাবে এই ইতিহাস লেখার চেষ্টা আর রাস্তা-স্টেশনের নামবদলের বিপদ সম্পর্কে।

তার কথায়, “মহারাষ্ট্রে পাঠ্যপুস্তকে বদল নিয়ে বলা হচ্ছে, স্থানীয় ইতিহাসও স্কুল পর্যায়ে ছাত্রদের জানা দরকার। বেশ মানলাম, কারণ সর্বভারতীয় স্তরে স্থানীয় ইতিহাস তেমন জানার সুযোগ নেই। কিন্তু এভাবে দেশের প্রতিটা অঞ্চল যদি তাদের স্থানীয় দৃষ্টিভঙ্গী থেকে ইতিহাসকে দেখতে শুরু করে সেটা কিন্তু আখেরে মোটেই ভাল হবে না।”

“আর এই যে নাম বদলের প্রবণতা – যেভাবে আগে আওরঙ্গজেব রোডের নামও বদলানো হয়েছে – এই ছোট ছোট ঘটনাগুলো জুড়েই কিন্তু বড় আকার নেয়। একটা স্তরে আপনি বলতে পারেন এর মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছি, কিংবা বলতে পারেন পুরনো অন্যায়ের প্রতিকার করছি – কিন্তু কীভাবে আপনি ঐতিহাসিক তথ্য বা বাস্তবতাকে অস্বীকার করবেন?”, বলছিলেন ড: মাসুদ।

কংগ্রেস আমলেও দিল্লির বিখ্যাত কনট প্লেসের নাম বদলে রাখা হয়েছিল রাজীব চক। সেই দৃষ্টান্ত দিয়ে বিজেপি আবার প্রশ্ন তুলছে, কেন বিরোধীদের আপত্তি শুধু মুঘলদের স্মৃতিজড়িত নাম বদলানোতেই?

রাহুল সিনহার কথায়, “ব্রিটিশ আমলের নাম বদলে ভারতীয় লোকের নামে রাখলে যদি অসুবিধা না-থাকে, তাহলে মুঘল আমলের নাম বদলালে অসুবিধা কোথায়? অসুবিধা এখানেই যে ওতে ভোটের সুড়সুড়ি আছে।”

“ব্রিটিশদের নাম ফেলে দিতে কোনও অসুবিধা নেই, কারণ ইংরেজের নামে এ দেশে কোনও ভোট নেই। কিন্তু মুঘলদের নাম ফেলতে গেলেই ত্রাহি-ত্রাহি রব উঠবে, কারণ তখন ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে একটা সম্প্রদায়ের ভোট আদায় করা যাবে না”, বলছেন মি সিনহা।

ইতিহাস বলে, ভারত প্রায় ৭৬৬ বছর মুসলিম শাসনের অধীনে ছিল। একুশ শতকের ভারতে এখন সেই পর্বটাকেই ম্লান করে দেওয়ার সচেতন চেষ্টা চলছে – আর স্পষ্টতই তার পেছনে আছে ধর্মীয় রাজনীতির অঙ্ক।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest