সর্বশেষ সংবাদ-
খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক ওয়ার্কশপে অংশ নিলেন ৫ স্কাউটারজ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় গণমিছিলসাতক্ষীরায় প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই দিন ব্যাপি আর্ন্তজাতিক দাবা প্রতিযোগিতামে দিবস উপলক্ষে সদর উপজেলা ইমারত নির্মাণ টাইলস ও মোজাইক শ্রমিক ইউনিয়নের র‌্যালিশ্যামনগরে কালবৈশাখীর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে গাজী শাহ আলমসাতক্ষীরায় মে দিবসে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বর্ণাঢ্য র‌্যালি  অধিকার বঞ্চিত বাংলাদেশের চা শ্রমিকরাসাতক্ষীরার উপকূলে এখনো বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিকরাBonus offline nei giochi mobile: guida etica e tecnica per giocare senza reteVerde Casino App Verde Casino: Perché Sceglierla per il Gioco Mobile

খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক ওয়ার্কশপে অংশ নিলেন ৫ স্কাউটার

বাংলাদেশ স্কাউটস, রোভার অঞ্চলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক ওয়ার্কশপে সাতক্ষীরা জেলা রোভারের ৫ স্কাউটার অংশ নিয়েছেন।

শনিবার সকালে ঝিনাইদহ সরকারি কে সি কলেজে ওয়ার্কশপের উদ্বোধন করা হয়। ওয়ার্কশপে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার অন্তত ৬০ জন স্কাউটার অংশ গ্রহণ করেন।

ওয়ার্কশপে সাতক্ষীরা জেলা রোভার স্কাউট থেকে কমিশনার রেজাউল করিম, সম্পাদক আবু তালেব, কোষাধ্যক্ষ কাজী আব্দুস সবুর, ডিআরএসএল পবিত্র কুমার দাশ, সহকারী কমিশনার (সংগঠন ও বিধি) নাজমুল হক অংশ গ্রহণ করেন। ওয়ার্কশপে বিভিন্ন সুপারিশমালা পেশ করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় গণমিছিল

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে সাতক্ষীরাতে ১১ দলের গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক প্রাঙ্গনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে গণ মিছিলটি শুরু হয়।

গণ মিছিলটি পাকাপুলের মোড়, নিউমার্কেট মোড় হয়ে তুফান মোড় হয়ে বড়বাজার হয়ে থানা মসজিদ হয়ে পূনরায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক প্রাঙ্গনে যেয়ে শেষ হয়। সমাবেশ ও গণ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা ১১ দলের আহবায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল।

জেলা সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রজমানের সঞ্চালনায় গণমিছিল পূর্বসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শেখ নূরুল হুদা, সহকারী সেক্রেটারী মো: ওমর ফারুক, মাওলানা ওসমান গণি, শহর শিবির সভাপতি মেহেদি হোসেন, কর্মপরিষদ সদস্য এড আজিজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী , অফিস সেক্রেটারী রুহুল আমিন, শহর আমীর জাহিদুল ইসলাম, সদর আমীর মাওলানা মোশারফ হোসেন, শহর সেক্রেটারী খোরশেদ আলম, সদর সেক্রেটারী মাওলানা হাবিবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন অবিলম্বের, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকরি পদক্ষে নিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই দিন ব্যাপি আর্ন্তজাতিক দাবা প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই দিন ব্যাপি আর্ন্তজাতিক দাবা প্রতিযোগিতা। শুক্রবার বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতি ভবনে এ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জালালাবাদ মেটাল লিমিটেড এর চেয়ারম্যান এম.ডি দেলোয়ার হোসেন, এসিপিবি সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি অ্যাড. শহীদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ মাহমুদ পেলে।

সাতক্ষীরা চেসক্লাবের উদ্যোগে চেম্বার অব কমার্স ও জালালবাদ মেটাল এর সহায়তায় অনুষ্ঠিত খেলায় অংশ নিতে ভারত ও নেপাল থেকে আর্ন্তজাতিক খেলোয়াড়রা এসেছেন। খেলায় দেশ বিদেশ থেকে আসা মোট ৬০ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মে দিবস উপলক্ষে সদর উপজেলা ইমারত নির্মাণ টাইলস ও মোজাইক শ্রমিক ইউনিয়নের র‌্যালি

নিজস্ব প্রতিনিধি : মহান মে দিবস উপলক্ষে সদর উপজেলা ইমারত নির্মাণ টাইলস ও মোজাইক শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজনে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১ মে শুক্রবার সকাল ৮টায় সাতক্ষীরা নিউ মার্কেট চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।

র‌্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন, সদর উপজেলা ইমারত নির্মাণ টাইলস ও মোজাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম।

প্রধান অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু।
উপজেলা ইমারত নির্মাণ টাইলস ও মোজাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন বাবুর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবুল হাসান হাদী, জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল আলম বাবু, পৌর যুবদলের আহবায়ক আলী শাহীন, সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক নজরুল ইসলাম, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মাসুম রানা সবুজ, জেলা টাইলস দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন তপু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শরিফুল আলম, রফিকুল ইসলাম মন্টু,ফিংড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোহর আলীসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, এতদিনের শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের মজুরি নিয়ে তালবাহানা করা হয়। তবে বর্তমান সরকার শ্রমিকের মজুরি নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার শ্রমিকের অধিকার ফিরিয়ে দিতে বদ্ধ পরিকর।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে কালবৈশাখীর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে গাজী শাহ আলম

শ্যামনগর প্রতিনিধি: কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিএনপি নেতা গাজী শাহ আলম।

শুক্রবার (১ মে ২০২৬) সকালে তিনি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরানপুর ও মেন্দীনগর গ্রাম পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে কৈখালী ইউনিয়নের ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে অন্তত ১৫টি পরিবারের বসতঘর, রান্নাঘর ও মাটির দেয়াল ভেঙে পড়ে। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক ঘরের টিন ও অ্যাসবেস্টস উড়ে যায়, গাছপালা উপড়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র পরিবারগুলো, যাদের অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে গাজী শাহ আলম তাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন এবং তাৎক্ষণিক সহায়তার হাত বাড়ান। তিনি বলেন,মানুষগুলো খুবই কষ্টে আছে। অনেকের মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁইটুকুও নেই। এই মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের এমন কঠিন সময়ে গাজী শাহ আলমের উপস্থিতি ও সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে টেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকারি সহায়তাই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় মে দিবসে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বর্ণাঢ্য র‌্যালি  

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে ১মে সকালে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও বিশাল শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

‘শ্রমিকরা আল্লাহর বন্ধু ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কয়েক হাজার শ্রমজীবী মানুষ অংশ নেন। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টায় শহরের তুফান কোম্পানির মোড় থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে এক বিশাল সমাবেশে মিলিত হয়। জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারী মো. আব্দুল গফফারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক সুজায়েত আলী বলেন, “পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিকের ঘাম ঝরলেও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয় না। শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, কোনো শ্রমিক যেন কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। রাস্তায় ইজিবাইক ও ভ্যানচালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের ওপর সব ধরনের চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা সুন্দরবন টেস্টাইল মিল পুনরায় চালুর মাধ্যমে সাতক্ষীরার মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির দাবি জানান তিনি। শ্রমিকরা সমাজের চালিকাশক্তি। তাদের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। — অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী । সমাবেশে সংগঠনের নির্বাহী সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্য মাওলানা রবিউল ইসলাম, পৌর শাখার সভাপতি মেহবুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম হাফিজ এবং শ্রমিক নেতা ব্যাংকার ফিরোজ আউয়ালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গঠন এবং শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নে সম্মিলিত প্রতিরোধের ডাক দেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অধিকার বঞ্চিত বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা

অনলাইন ডেস্ক : শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের একটি চা বাগান সমৃদ্ধ অঞ্চল, যা ঢাকা থেকে ১৮৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। এটি তার অন্তহীন সৌন্দর্য এবং সবুজের জন্য পরিচিত।

সেই সবুজের মাঝে গত কয়েক বছর ধরে ‘মিনি হাজরা’ নামে এক নারী চা বাগানে পাতা তোলার কাজ করছেন। রোদ, বৃষ্টি আর ঝড় উপেক্ষা করে তারা এই বাগানে কাজ করেন এই আশায় যে—একদিন তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

মিনি হাজরা তার কর্মস্থলে দাঁড়িয়ে বলেন, “শ্রীমঙ্গলের একটি চা বাগানে কোম্পানির জন্য পাতা তুলে আমি সপ্তাহে মাত্র ‘১৩৩০ টাকা’ পাই। এই টাকা দিয়ে আমি আমার মৌলিক চাহিদাগুলোও পূরণ করতে পারি না; আমার পরিবারকে প্রতিদিন অনেক সংগ্রাম করতে হয়। তবে কোম্পানি আমাদের একটি ঘর দিয়েছে, যেখানে আমি আমার ছেলে, পুত্রবধূ এবং মেয়েদের নিয়ে থাকি।”

মিনি হাজরার মতো বাংলাদেশের চা বাগানগুলোর অনেক শ্রমিকই এখনও তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। দেশের চা বাগানগুলোতে প্রায় ১,১৭,০০০ শ্রমিক কাজ করছেন। এছাড়াও আরও ৫৬,০০০ শ্রমিক রয়েছেন যারা অস্থায়ী হিসেবে কাজ করেন, যাদের কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি নেই। যারা চা পাতা সংগ্রহ করেন, তাদের প্রায় সবাই নারী। এই শ্রমিকদের প্রায় ‘৯৫ শতাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী’ এবং তারা বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও উৎসব পালন করেন।

গত বছর বাংলাদেশের চা বাগানগুলোতে প্রায় ৯ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। দেশে বার্ষিক চায়ের চাহিদা ১০ কোটি কেজি, যা উৎপাদনের চেয়ে বেশি। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ প্রতি বছর ১০ লাখ কেজি চা রপ্তানি করে। তবে চা শিল্প এখন কিছুটা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; অনেক শ্রমিক কাজ পাচ্ছেন না এবং অনেক জায়গায় চা উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

চা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রধান কারণ হলো চা উৎপাদনের খরচ অনেক বেশি, কিন্তু বিক্রয় মূল্য অনেক কম, যা এই শিল্পকে অলাভজনক করে তুলেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে শ্রীমঙ্গলের চা শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষে মে দিবস পালন করছেন।

মিনি হাজরা আরও যোগ করেন, “আমার দুই মেয়ে এবং এক ছেলে। কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী, একটি পরিবার থেকে মাত্র একজন চা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে পারেন। যদি সেই ব্যক্তি মারা যান বা অবসরে যান, তবেই আমার ছেলে বা পুত্রবধূ সেই কাজ পেতে পারেন। তাই মাত্র একজনের আয়ে আমাকে পুরো পরিবার চালাতে হয়, যা অত্যন্ত কঠিন।”

শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষার জন্য কোম্পানির প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে, কিন্তু আমার বাচ্চারা সেখানে বেশিদিন পড়াশোনা করতে পারে না; তারা সাধারণত ঝরে পড়ে। চিকিৎসার জন্য কোম্পানি একটি ছোট ক্লিনিক করেছে, কিন্তু সেখান থেকে শুধু প্যারাসিটামলের মতো সাধারণ ওষুধ দেওয়া হয়। তাই আমাদের ভাগ্যের আসলে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।”

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ১৮৫৪ সালে বাংলাদেশের এই পূর্বাঞ্চলে (যা তখন অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল) প্রথম চা চাষ শুরু হয়। অনেক শ্রমিক এখানে কাজ করতে আসেন এবং তাদের মধ্যে অনেকেই ঘন জঙ্গলে কাজ করার সময় বাঘ, চিতাবাঘ এবং অন্যান্য বন্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পঙ্কজ অ্যালয়সিয়াস কন্দ বলেন, “চা শ্রমিকরা ভালো অবস্থায় নেই। তারা মৌলিক অধিকার এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। যার প্রধান কারণ তাদের মজুরি অত্যন্ত কম। আয়ের পরিমাণ কম হওয়ায় তারা তাদের পরিবারের খরচ চালাতে পারেন না এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করতে পারেন না।”

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা পরেশ কালেন্দি বলেন, “চা শ্রমিকদের সংকট অন্য শ্রমিকদের থেকে ভিন্ন। অন্য শিল্পে শ্রমিকরা বিল্ডিংয়ের নিচে কাজ করেন। চা শ্রমিকরা কাজ করেন খোলা আকাশের নিচে। চা শ্রমিকদের কোনও ভূমি নেই। তারা কোম্পানির ডরমেটরিতে গাদাগাদি করে থাকেন। তাদের কোনও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় চাকুরির আবেদন করতে পারেন না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চা শ্রমিকরা বঞ্চিত।”

চা শ্রমিক নেতা বিজয় হাজরা বলেন, “চা শ্রমিকরা তাদের জীবনযাত্রায় বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং চা শিল্প একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের কারণ বুঝতে এবং শ্রমিকরা কেন তাদের অধিকার পাচ্ছে না তা জানতে সরকারের উচিত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা। যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া, কারণ চা শিল্প আমাদের দেশের একটি মূল্যবান খাত।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার উপকূলে এখনো বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি : ২০০৬ সালে দেশে সমান মজুরি আইন পাস হলেও দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরেও সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে তার বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায়নি। একই সময় ও সমপরিমাণ কাজ করেও পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় কম মজুরি পাচ্ছেন নারী শ্রমিকরা। ফলে ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হয়ে জীবিকা নির্বাহে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের।

সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় পুরুষের পাশাপাশি নারীরা কাঁকড়ার খামার, মাছের ঘের, নদীতে রেণু আহরণ, সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা, রাজমিস্ত্রির সহকারী, মাটিকাটা, গ্রামীণ রাস্তানির্মাণ ও সংস্কার, কৃষিকাজ করেন। তবে এসব নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে সফটশেল কাঁকড়া চাষ। এই খাতকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান, যেখানে শ্রমিকদের একটি বড় অংশই নারী।
কাঁকড়া খামারে খাবার প্রদান, কাটিং, শেল সংগ্রহ, বাছাই ও পরিষ্কারসহ নানা কাজে পুরুষদের পাশাপাশি সমানতালে কাজ করছেন নারীরা। প্রতিদিন নির্ধারিত সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করলেও মজুরির ক্ষেত্রে রয়ে গেছে স্পষ্ট বৈষম্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই কাজের জন্য পুরুষ শ্রমিক যেখানে ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পান, সেখানে নারী শ্রমিকদের দেওয়া হয় প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।
শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকার নারী শ্রমিক সালমা খাতুন বলেন,আমি একটি কাঁকড়ার খামারে কাজ করি। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। মাসিক বেতন সাড়ে ৭ হাজার টাকা। আমার সঙ্গে একই কাজ করে একজন পুরুষ সহকর্মী বেতন পান ৯ হাজার টাকা। খামারের অনেক কঠিন কাজ আমি করি। বাকিরা আমার চেয়ে সহজ কাজ করে কিন্তু পুরুষ হওয়ায় তাদের বেতন বেশি। বার বার বেতন বাড়াতে বললেও কাজ হয় না।

শ্রমিক সুফিয়া বেগম জানান,আমি ধান কাটার কাজ করি। কাজে কোনো কমতি রাখি না, তারপরও আমাদের মূল্যায়ন কম। সমান মজুরি পেলে জীবনটা একটু স্বস্তির হতো। এক বেলা কাজ করলে ৫০০ টাকা সেখানে পুরুষ পায় ৮০০ টাকা। তাদের থেকে আমরা কাজ কোনো তো কম নেই পুরুষ ও যে কাজ করে আমরা ও সেই একই কাজ করি।

স্বামী-স্ত্রী একসাথে কাজ করা শ্রমিক কামরুল মল্লিক বলেন, আমি আর আমার স্ত্রী প্রতিদিন একসাথে রাস্তার ইটের কাজ করি । সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত একই কাজ করি, পরিশ্রমও সমান। কিন্তু মজুরির সময় দেখি আমার স্ত্রী আমার চেয়ে কম টাকা পায়। এটা একেবারেই অন্যায়। আমরা চাই, নারী-পুরুষ ভেদাভেদ না করে সমান কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করা হোক।

শুধু কাঁকড়া শিল্পেই নয়, মাটি কাটা, কৃষিকাজ ও ইটের ভাটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নারীরা সমান কাজ করেও কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলার সিসিডিবি’র উপজেলা কো-অর্ডিনেটর স্টিভ রায় রুপন বলেন,
নারীরা শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বৈষম্য দূর করতে হলে শুধু সচেতনতা নয়, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।সমান কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করা একটি মৌলিক অধিকার। স্থানীয় প্রশাসন, মালিকপক্ষ ও সচেতন মহলের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আক্তার বলেন,শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক সনদ অনুযায়ী নারী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নারীদের সাথে বৈষম্য করছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে কাঁকড়া শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলেও নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বৈষম্য দ্রুত দূর করা না গেলে সম্ভাবনাময় এই খাত তার পূর্ণতা পাবে না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest