সর্বশেষ সংবাদ-
তালায় খালে মাছ ধরতে এসে বৃদ্ধের মৃত্যুদেবহাটার সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যুসাতক্ষীরা কম্পিউটার সমিতির নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর ও সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কালিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্যদেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিনসাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালাআশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসিদেবহাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিমের মৃত্যুরেকর্ডীয় সম্পত্তিতে জোর পূর্বক ঢালাই রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে

তালায় খালে মাছ ধরতে এসে বৃদ্ধের মৃত্যু

‌তালা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার তালায় খালে মাছ ধরতে এসে শওকাত সরদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (১০ মে) বিকাল ৩টার দিকে গোপালপুর সুইস গেট সংলগ্ন খালপাড়ে তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে।

মৃত শওকাত সরদার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের ঘোনা গ্রামের ঝনু সরদারের ছেলে।

স্থানীয় বিল্লাল হোসেন জানান, সকালে বাড়ি থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে খালে আসেন শওকাত সরদার। বিকাল ৩টার দিকে তাকে খালপাড়ে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

স্থানীয় সুমন রায় গণেশ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির পাশ থেকে মাছ ধরার জাল ও মাছ রাখার ব্যাগ পাওয়া গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটার সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যু

দেবহাটা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদ্য সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য নজরুল ইসলাম আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রবিবার ভোররাতে ঢাকা হাইকোর্টে যাওয়ার পথে স্ট্রোকজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক মামলার জটিলতায় তিনি কিছুদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। গত ৪ মে তাঁর মায়ের মৃত্যু হলে তিনি বাড়িতে আসেন। পরে শনিবার (৯ মে) জামিনের উদ্দেশ্যে পুনরায় ঢাকায় যান। রবিবার ভোরে শ্যামলী থেকে হাইকোর্টের পথে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ছেলে আবুল হাসান জানান, কোরবানির ঈদের আগেই বাড়ি ফেরার ব্যাপারে তাঁর পিতা খুবই আগ্রহী ছিলেন। দ্রুত জামিন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতেই তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আর ফেরা হলো না তাঁর।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মায়ের মৃত্যু তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। স্বজনদের ধারণা, সেই গভীর শোকই তাঁর মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন দেবহাটা উপজেলার জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং মানবিক আচরণের জন্য তিনি এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেবহাটাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, ঢাকা থেকে মরদেহ দেবহাটায় পৌঁছানোর পর বিকেলে জানাজার নামাজ শেষে কুলিয়া ইউনিয়নের গোবরাখালী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মায়ের কবরের পাশেই দাফন সম্পন্ন করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা কম্পিউটার সমিতির নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর ও সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা কম্পিউটার সমিতির নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) দুপুরে শহরের আল বারাকা কমিউনিটি সেন্টারে সাতক্ষীরা জেলা কম্পিউটার সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান জেলার কম্পিউটার ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক খুরশিদ মাসুম ও সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান মুন্না নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। পরে নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন হাফিজ আল আসাদ সান্নু। এছাড়া সহ-সভাপতি আফিউল রহমান পাওয়ার ও
খুরশীদ মাসুম, সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রাজু ও তারিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ মুন্না, অর্থ সম্পাদক মোঃ আল-ইমরান হোসেন সুমন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমজাদ হোসেন সাদ্দাম, আইটি সম্পাদক নাসির আল মামুন সোহাগ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সুকদেব কুমার বিশ্বাস এবং কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আব্দুস সাত্তার, মোঃ হাফিজুর রহমান খোকন, ইন্দ্রজিৎ ও মীর শাহরিয়ার তপু দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এসময় স্মার্ট টেকনোলজি, গ্লোবাল ব্র্যান্ড, এক্সেল, ইজবিজ ব্র্যান্ড, সাউথ বাংলা লিমিটেড, ইস্টার্ন আইটি, ডিস্ট্রিবিউশন হাব, কম্পিউটার সিটি, শামস গ্রুপসহ দেশের স্বনামধন্য কম্পিউটার এক্সেসরিজ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নবগঠিত কমিটিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সফলতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর বর্তমান সময়ে কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ব্যবসার মানোন্নয়ন, গ্রাহকসেবা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিখাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সমিতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তারা জেলার কম্পিউটার ব্যবসাকে আরও আধুনিক ও সংগঠিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
নবগঠিত কমিটির সদস্যরা তাদের বক্তব্যে বলেন, “সাতক্ষীরা জেলার সকল কম্পিউটার ব্যবসায়ীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি শক্তিশালী ও আধুনিক ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করবো। ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, বাজার সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল সেবার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তারা আরও বলেন, সমিতির সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে জেলার প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার 
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার একটি মৎস্য ঘের থেকে জিন্নাত আলী (৪২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ফিঙ্গি ইউনিয়নের সর্বকাশেমপুর আবাসন প্রকল্পের উত্তর-পশ্চিম পাশে দাউদ মাস্টারের মাছের ঘের থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এসময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। মৃত জিন্নাত আলী একই গ্রামের মোঃ মোহর আলী সরদারের ছেলে।

সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সুশান্ত ঘোষ জানান, স্থানীয় লোকজন ভোরে মৎস ঘেরের পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে সকাল ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, মরদেহের ডান চোখের ওপর কপালে, ডান কানের পেছনে এবং মাথার পেছনের ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে মরদেহ ঘেরের পানিতে ফেলে রেখে গেছে।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্য

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের চন্ডীতলা গ্রামে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিহত গৃহবধূ সাজিদা খাতুন (৩৫) চন্ডীতলা গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। শুক্রবার (৮ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, স্বামী মনিরুল ইসলাম, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাসুরসহ পরিবারের সদস্যরা মিলে সাজিদা খাতুনকে মারধর করেন। পরে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাজিদা খাতুনের পিতার বাড়ি কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামে। তিনি কেরামত মোল্লা ওরফে কেনার মেয়ে।

প্রায় ১০ বছর আগে শরিয়ত মোতাবেক তার বিয়ে হয় চন্ডীতলা গ্রামের গফুর গাজীর ছেলে মনিরুল ইসলামের সঙ্গে। তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।

এ ঘটনায় মনিরুল ইসলাম, তার ভাই আবু সাঈদ গাজী ও সহোদর নুরুজ্জামান গাজীর নাম উল্লেখ করে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে নিহতের লাশ কালীগঞ্জ থানায় রয়েছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি তদন্ত করছে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিন
দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটা উপজেলায় দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সংবাদপত্র বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন আলাউদ্দিন নামের এক পত্রিকা বিক্রেতা।
জীবনের নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেই চলছে তার সংসার। সামান্য আয়ে ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী ও নাতিসহ পুরো পরিবারকে নিয়ে খালের উপর নির্মিত ছোট্ট একটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস করছেন তিনি। কষ্ট, অভাব আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও থেমে নেই তার সংগ্রাম। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় প্রতিদিন ভোরে বেরিয়ে পড়েন পত্রিকা বিক্রির কাজে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবহাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে প্রতিদিন সংবাদপত্র বিক্রি করেন আলাউদ্দিন। একসময় পত্রিকার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও প্রযুক্তির এই যুগে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে কাগজের পত্রিকার বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে। ফলে আগের তুলনায় আয়ও কমে এসেছে। তারপরও দীর্ঘদিনের এই পেশা ছাড়েননি তিনি।
খালের উপর ছোট্ট টিনশেড ঘরটিই এখন তার পরিবারের একমাত্র আশ্রয়স্থল। বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বেড়ে গেলে চরম আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারটিকে। ঝড়-বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। অনেক সময় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় তাদের। তবুও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অন্য কোথাও থাকার সুযোগ হয়নি আলাউদ্দিনের।
আলাউদ্দিন বলেন, “পত্রিকা বিক্রি করেই সংসার চালাই। এখন আগের মতো আয় হয় না। তারপরও পরিবারকে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছি। ছেলে-মেয়ে ও নাতিদের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আলাউদ্দিন একজন সৎ, পরিশ্রমী ও নিরহংকার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেবহাটা উপজেলায় সংবাদপত্র বিক্রি করে আসছেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে পরিবারটি একটু স্বস্তির জীবন পেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
জীবনের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই করা এই মানুষটির গল্প যেন সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। শত অভাব-অনটনের মাঝেও হার না মেনে পরিবারের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আলাউদ্দিন। মানবিক সহায়তা ও সমাজের সহযোগিতা পেলে হয়তো একদিন তার পরিবারেও স্বস্তি ও হাসির আলো
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালা

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলেজ চলাকালিন সময়ে কোচিং চালানোর প্রতিবাদ করা নিয়ে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় কোচিং এর পরিচালকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার এবং কোচিং বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কলেজের সামনে বিক্ষোভ শিক্ষার্থীরা। এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারটি ঘেরাও করে রাখে এবং ওই কোচিং সেন্টারের পরিচালক ডা: সজিবকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করে। সে সময় বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারটি ভাংচুরের চেষ্টা করে এবং সড়ক অবরোধ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে প্রায় একঘন্টা যাবত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পুলিশ কোচিং সেন্টারের পরিচালক ডা: সজিবের কার্যালয় থেকে একটি হার্ড ডিস্ক ও কম্পিটউটার জব্দ করে। এছাড়া কোচিং সেন্টারটি সিলগালা করে দেয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সামনে ডা: সজিব বায়োলজি নামের কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন ডা: সজিব। তিনি কলেজ চলাকালিন সময়ে কোচিং সেন্টারটি পরিচালনা করায় সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদের বিষয়টি অবগত হয়ে ডা: সজিব মোবাইল ফোনে শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সাথে অশালীন আচরণ করেন। ওই কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার ওই ডা: সজিবের গ্রেফতার এবং কোচিং বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন, ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল আলম বলেন, এক শিক্ষকের সাথে এধরনের আচারণ কোন ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

এঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক অপারেশন সুশান্ত ঘোষ জানান, শিক্ষকদের সাথে এমন আচারণ কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। যে কারনে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে কোচিং সেন্টারটি সীলগালা করা হয়েছে এবং একটি হার্ড ডিস্ক এবং একটি কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসি

আশাশুনি প্রতিনিধি:
ভৌগোলিক কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল আশাশুনি (প্রতাপনগর) জলবায়ু পরিবর্তনের এক চরম শিখরে পৌঁছেছে । নদীভাঙন আর লবণাক্ততার গ্রাসে প্রতিবছর ভিটেমাটি হারিয়ে অগণিত মানুষ পরিণত হচ্ছে ‘জলবায়ু উদ্বাস্তুতে’। বাস্তুচ্যুত এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত ও অধিকার আদায়ে আশাশুনি উপজেলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ‘অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টায় কারিতাস বাংলাদেশ (খুলনা অঞ্চল)-এর ডিআরআর ও সিসিএ প্রকল্পের উদ্যোগে এবং জার্মানি ও বিএমজেড-এর আর্থিক সহযোগিতায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। ক্যাম্পেইনে বক্তারা উপকূলীয় জীবনের রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাস আশাশুনির মানুষের ললাটে স্থায়ী অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লবণাক্ততার কারণে কৃষি ধ্বংস হওয়ায় এবং ভিটেমাটি হারিয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে যাযাবর জীবন বেছে নিচ্ছে।
উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে ক্যাম্পেইন পূর্ববর্তি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম, প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু দাউদ ঢালী, প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সোহরাব হোসেন, ইউপি সদস্য রায়হানুজ্জামান, অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর কাকলি হালদার, শেখ কামাল হোসেন (এফও), মিহির সরকার (এমও), প্রজেক্ট স্টাফ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত হওয়া বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কারিতাস ডিআরআর প্রকল্পের এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলোঃ নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার মানুষগুলো কেবল ত্রাণ নয় বরং তাদের ন্যায্য অধিকার ও দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা পায়। এ প্রেক্ষিতে জলবায়ু-অভিবাসিত পরিবারগুলোর তালিকা প্রনয়ন করে সরকারী সহায়তার আওতায় আনা, তাদের জন্য নিরাপদ আবাসন, কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী গ্রহণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচী (ভিজিডি, ভিজিএফ, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামীপরিত্যাক্ত ভাতা, বয়স্কভাতা ইত্যাদি) প্রদানে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা, অভ্যন্তরীন অভিবাসিদের পুনর্বাসনের জন্য টেকসই পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন,
নদীভাঙ্গন রোধে টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানি প্রাপ্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনমূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিষয়গুলি বিবেচনায় নিতে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত হওয়া বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। তাদের চোখে-মুখে ছিল হারানো ঘরবাড়ি ফিরে পাওয়ার আকুতি আর আগামীর অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির প্রত্যাশা। অনেক স্বপ্ন নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন এলাকাবাসী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest