সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গ নিয়ে নারীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি : করোনার উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলশনে কোহিনুর বেগম নামে এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার রাত ৮টায় তিনি মারা যান। তিনি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার খাঞ্জিয়া ন’পাড়া গ্রামের গ্রামের ইয়াছিন আলীর স্ত্রী।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ ভবতোষ কুমার মণ্ডল জানান, জ¦র ও শ^াসকষ্ট নিয়ে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার খাঞ্জিয়া ন’পাড়া গ্রামের কোহিনুর বেগমকে (৫০) শনিবার দুপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন। এরপর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান ওই চিকিৎসক। স্বাস্থ্য বিধি মেনে তার লাশ দাফনের কথা বলা হয়েছে। তার বাড়ি লক ডাউন করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শারীরিক প্রতিবন্ধী সাজিয়ায় লেখাপড়ার দায়িত্ব গ্রহন করলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা প্রকৌ: মফিজুর

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: অভাব ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সাজিয়া সুলতানার (১৭) সাফল্যকে আটকে রাখতে পারেনি। সাতক্ষীরা সদরের আলীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়ে সকলকে অবাক করে দিয়েছে সাজিয়া। ছোটবেলা থেকে অসম্ভব মেধাবী তিন ফুট উচ্চতার সাজিয়া ভবিষ্যতে ডাক্তর হতে চায়। সে মোট ১১শ’ নম্বরের মধ্যে ১০৩৪ নম্বর পেয়েছে। সাজিয়া পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি এবং জেএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছিল। তবে অভাবের কারণে যদি ডাক্তারী পড়তে না পারে তবে সে বিসিএস দিয়ে প্রশাসনিক ক্যাডারে যোগদিতে চায়।
সাজিয়ার মা শরীফা খাতুন জানান অদম্য প্রতিভার অধিকারী সাজিয়া জন্মগত ভাবে শারীরীক প্রতিবন্ধী হলেও জীবন যুদ্ধে সে অপ্রতিরোধ্য। সাজিয়া যখন খুব ছোট তার বাবা তার মা’ শরীফা খাতুনকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায়। এরপর থেকে তার মা’ই তার সব। তার নানা ও মামার আশ্রয়ে ও সহযোগিতায় তার মা তাকে নিয়ে থাকেন। মা সাজিয়াকে কোলে করে তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয় আসা করেন। নানা প্রতিকুলতার মাঝে কোনরকম অভাব অনটনে দিন চলে তাদের। পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পাওয়ার পর শত অভাব অনটনের মধ্যেও বাড়ি থেকে প্রায় আড়াই কিলোমাটার দূরে আলীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তাকে ভর্তি করেন। এতদূর মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া আসার জন্য মা শরীফা খাতুন সাইকেল চালানো শেখেন। তিনি প্রতিদিন মেয়েকে সাইকেলে করে স্কুলে নিয়ে যাওয়া আসা করতেন।এসএসসি পরীক্ষায় মেয়ে সাফল্যের মা আন্দন ভুলে যায়।তিনি চিন্তা করেন কিভাবে মেয়েকে কলেজে ক ভর্তি করবেন বা তাদের দিন কিভাবে চলবে সেই চেন্তায়।কিভাবে মেয়ে স্বপ্ন পূর্ণ হবে সেই কথা ভেবে। তবে সাজিয়া সুলতানার অসুহায়ত্বে সংবাদ প্রকাশের পরে তার লেখা পড়াসহ সকল দায়িত্ব গ্রহনের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর ঢালিপাড়া গ্রামের মৃত্যু ছলেমান ঢালীর ছোট পুত্র বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সহ সভাপতি, আলিপুর বুড়িপুকুর কান্দা সেন্ট্রাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ও আছিয়া বেগম স্মৃতি পাঠাগারের উপদেষ্টা প্রকৌঃ মোঃ মফিজুর রহমান ঢালী। ইতি মধ্যে তিনি সীমান্ত আদর্শ কলেজে সাজিয়ার ভর্তির বিষয়ে আলাপ করেছেন। মফিজুর রহমন ঢালী এভাবে এতিমধ্যে সমাজের অনেক ব্যক্তির চিকিৎসা ও লেখাপড়ায় দায়িত্ব গ্রহন করে আসচ্ছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ২০ কেজি ভারতীয় রূপার গহনা আটক করেছে বিজিবি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরায় ২০ কেজি ভারতীয় রূপার গহনা আটক করেছে ৩৩ বিজিবির সদস্যরা। ৪ জুলাই কাকডাংগা সীমান্ত এলাকা থেকে এ রূপার গহনা আটক করে বিজিবি।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি’র মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দিন খন্দকার, পিবিজিএম, পিএসসি, জি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, ০৪ জুলাই সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ কাকডাংগা বিওপির টহল কমান্ডার হাবিলদার মোঃ ইসাহাক মোল্লা এর নেতৃত্বে¡¡ একটি টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত মনিরার ঘাট নামক স্থানে ফাঁদ পেতে অবস্থান করে। সে সেসময় অজ্ঞাত ১ জন ব্যক্তি ভারত হতে বাংলাদেশের দিকে আগমনের প্রাক্কালে ফাঁদ পেতে থাকা টহল দলের মাঝামাঝি আসলে টহল দল কর্তৃক উক্ত ব্যক্তিকে ধাওয়া করলে সে ব্যাগ ফেলে সোনাই নদীতে লাফ দিয়ে ভারতের দিকে চলে যায়। পরবর্তীতে টহল দল উক্ত ব্যক্তির ব্যাগ তল্লাশি করে বার লক্ষ আশি হাজার টাকা মূল্যের ২০ কেজি ওজনের ভারতীয় রুপার গহনা আটক করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষনের অভিযোগে থানায় মামলা

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষনের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন যশোর জেলার মনিরামপুর থানার কামালপুর গ্রামের কানিজ ফাতেমা লাবন্য (২৪)। মামলার আসামীরা হলেন, উপজেলার দেবহাটা গ্রামের হামিদ সরদারের ছেলে কামরুল ইসলাম (২৬) ও উপজেলার চালতেতলা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে আলতাফ হোসেন (৪২)। মামলার এজাহার মতে জানা গেছে, কামরুল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাদীনীর সাথে তার ফুফার বাড়িতে আসা যাওয়ার সুবাদে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বাদীনীকে বিয়ের আশ^াস দিয়ে তার আগের স্বামীকে তালাক দেওয়ায়। এছাড়া কামরুল তাকে দেবহাটার বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে যায়। সর্বশেষ ১২/০৬-২০২০ ইং তারিখে বাদীনীর ফুফা মোক্তার হোসেন চান্দু স্বপরিবারে সুশীলগাতী গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে কামরুল বাদীনীর সাথে দৈহিক মেলামেশা করে এবং খুব তাড়াতাড়ি তাকে বিয়ে করার আশ^াস দেয়। পরে কিছুদিন পরে মোবাইল ফোনে কামরুল বাদীনীকে তাদের বাড়িতে বিয়ে করার জন্য আসতে বললে বাদীনী গত ২৬-০৬-২০২০ ইং তারিখে কামরুলের বাড়িতে গেলে ২নং বিবাদী আলতাফ বাদীনীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে বের করে দেয়। এ ঘটনা উল্লেখ করে ০৩ জুলাই ২০২০ ইং তারিখে ৯(১)৩০, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩ ধারায় দেবহাটা থানায় দায়েরকৃত মামলা নং ০১। দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভিকটিমকে মেডিকেলের জন্য সাতক্ষীরা প্রেরণ করা হয়েছে এবং আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনিতে প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে শম্ভুজিত মন্ডলের মতবিনিময়

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক এমপি প্রতিনিধি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শম্ভুজিত মন্ডল। শনিবার দুপুরে উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বদরতলা বাজারের উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এ জরুরি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় দীর্ঘ লকডাউনে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় মনোনিবেশের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার দাস তার বক্তব্যে বলেন, ইতিমধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদেরকে দিনে কমপক্ষে একবার ফোনে কথা বলে তাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ের উপর দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। সবশেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে এলাকা ভিত্তিক সরাসরি শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়াসহ যতদুর সম্ভব তাদের পাশে থাকার আহ্বান জানান। মতবিনিময়কালে বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার দাস, আগরদাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম আলাউদ্দিন, শীতলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম, উত্তর দাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম, কাদাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম, পূর্ব কাদাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্লব কুমার রায়, মাদার বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত হোসেন, নাটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর মল্লিক, বালিয়াঘাটা বাইনবশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান, মহিষাডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মিলন কান্তি বিশ্বাস। মতবিনিময়ের এক পর্যায়ে উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ঢালী মোঃ

সামছুল আলম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এস এম সাহেব আলী, এছাড়াও শোভনালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নুরুল আমিন (রিপন) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যুক্তরাজ্যের বিলবোর্ডে বাংলাদেশি চিকিৎসক ফারজানা

বিদেশের খবর : বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারজানা হোসেইন ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের অন্যতম বর্ষসেরা চিকিৎসক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার সেখানকার স্বাস্থ্য বিভাগের (ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এনএইচএস) উদ্যোগে টানানো এক বিলবোর্ডে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। এনএইচএস-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাজ্যের সাটারস্টক.কম প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায় দেশটির রাজধানী লন্ডনের বিখ্যাত পিকাডেলি সার্কাসের সামনে তাকে নিয়ে টানানো এক বিলবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ডা. ফারজানা হোসেইন।

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ১৮ বছর ধরে পূর্ব লন্ডনে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত আছেন ডা. ফারজানা হোসেইন। তার বাবা ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) থেকে সেখানে পাড়ি জমান। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামনের কাতারে থেকে কাজ করেছেন তিনি। গত কয়েকমাস ধরে অনলাইনে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি টিকা দেওয়ার ক্লিনিকগুলোতে ঘুরে ঘুরে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন।

রবিবার এনএইসএস-এর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। একে সামনে রেখেই নিজেদের ১২ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে নিয়ে বিলবোর্ড বানিয়েছে ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যবিভাগ। কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ সেখানে অন্যদের সঙ্গে স্থান করে নিয়েছেন ফারজানা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভুতুড়ে বিল : বিদ্যুতের ৪ প্রকৌশলী বরখাস্ত, ৩৬ জনকে শোকজ

দেশের খবর : ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল করার অভিযোগে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ৪ প্রকৌশলীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া আরও ৩৬ প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদেরকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

শনিবার ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

করোনার মহামারীতে বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে গত দুই মাস ধরে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ আসছিল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত ২৫ জুন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। কমিটিগুলোকে ৭ দিনের মধ‌্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়। বিদ‌্যুৎ বিভাগের এই সময় শেষ হয় গত ২ জুলাই। এরই মধ্যে ডিপিডিসির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ তদন্তে কোম্পানির নির্বাহী পরিচালককে (আইসিটি) প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে ডিপিডিসি। শুক্রবার রাতে কমিটির রিপোর্ট পেয়ে ওই প্রকৌশলীদের বরখাস্ত ও শোকজ করে ডিপিডিসি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
করোনাভাইরাস থাকছে, মানিয়ে নিতে হবে মানুষকেই : ইকোনমিস্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে একদিনে ২ হাজার ১১৫ জন করোনা রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ওই দিনই প্রথমবারের মতো দ্য ইকোনমিস্টের প্রথম পাতায় জায়গা করে নিয়েছিল করোনাভাইরাসের খবর। গত ২৮ জুন একদিনে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজারের বেশি। অর্থাৎ ওইদিন প্রতি ৯০ মিনিটে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ ফেব্রুয়ারি সারাদিন শনাক্তের সমান।

বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ এখনও শুরু হয়নি, কারণ প্রথম ধাক্কাই এখনও কাটেনি! এ পর্যন্ত এক কোটির বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, ভাইরাসটি ছড়িয়েছে প্রায় বিশ্বের সবখানেই। চীন, তাইওয়ান, ভিয়েতনামের মতো কিছু দেশ মহামারি নিয়ন্ত্রণে এনেছে; লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়ায় এখনও ভাইরাসের তাণ্ডব চলছে; যুক্তরাষ্ট্রের মতো আরও কিছু দেশ নিয়ন্ত্রণ হারানোর পথে রয়েছে; আফ্রিকার দেশগুলো রয়েছে মহামারির প্রাথমিক পর্যায়ে; ইউরোপ আছে এগুলোর মাঝামাঝি কোনও অবস্থানে।

আরও ভয়াবহ দিন সামনে। ৮৪টি দেশের ওপর গবেষণা চালিয়ে সম্প্রতি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি জানিয়েছে, প্রতিটি নতুন রোগী শনাক্তের বিপরীতে আক্রান্ত ১২ জন অশনাক্তই থেকে যাচ্ছে, করোনায় প্রতি দুই মৃত্যুর বিপরীতে তৃতীয়টিকে অন্য রোগের ফলাফল বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি না আসলে ২০২১ সালের মাঝামাঝি করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২০-৬০ কোটিতে। এসময়ের মধ্যে মারা যেতে পারে ১৪-৩৭ লাখ মানুষ। ওই সময়ও বিশ্বের ৯০ শতাংশ মানুষ প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

করোনাভাইরাস কতটা ছড়াবে তা নির্ভর করে মূলত সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ওপর। ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা যায় তিনটি ধাপে- টেস্টিং, ট্রেসিং (শনাক্ত) ও আইসোলেশন। এগুলো যদি ব্যর্থ হয় তবে লকডাউন। এছাড়া জনস্বাস্থ্য সেবার খরচও থাকতে হবে সীমার মধ্যে।

ব্যাপক হারে করোনা ভ্যাকসিন ব্যবহার এখনও অনেক দূরে, তবে ইতোমধ্যে প্রাথমিক থেরাপিগুলো পাওয়া যাচ্ছে। সুচিকিৎসার কারণেই ব্রিটেনে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি রোগীর সংখ্যা মার্চের ১২ শতাংশ থেকে নেমে মে মাসে ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

মহামারি পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে অর্থনীতিও। যদিও এখনও বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা বেশ নাজুক। জে পি মর্গান ব্যাংকের মতে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৩৯টি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১০ শতাংশ হ্রাস পাবে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বেশকিছু প্রতিষ্ঠান বিকল্প উপায়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নিয়েছে। চীনে স্টারবাকস ‘সংস্পর্শহীন’ বিক্রয় পদ্ধতি চালু করেছে, ফলে কফিশপে ভোক্তাদের অবস্থানের সময় অনেকটাই কমে গেছে। বিভিন্ন কলকারখানা কর্মীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে এবং কর্মঘণ্টা পুনর্বণ্টন করে পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশব্যাপী লকডাউন এখন আর নেই বললেই চলে। বিভিন্ন দেশ বাইরে বড়ধরনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করে স্কুল-কলেজ ও দোকানপাট চালুর অনুমতি দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্য কড়াকড়ি একটু দ্রুত তুলে নেয়ায় সংক্রমণ ফের বেড়েছে। ফলে আবারও বিধিনিষেধ ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে তারা। মার্কিন রাজ্যগুলোর এই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারে বাকি বিশ্ব।

মূল সমস্যাটা হচ্ছে, উপযুক্ত ওষুধ বা প্রতিষেধক ছাড়া ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে মানুষের সামাজিক আচরণের ওপর। মাস্ক সংক্রমণ রোধে সাহায্য করলেও ইউরোপ-আমেরিকার অনেকেই সেটি পরতে রাজি নয়। হাতধোয়া ভাইরাস নিধন করে, কিন্তু অনেকেই পুরোনো অভ্যাস ছাড়তে পারছে না। মহামারির মধ্যে পার্টি করা বিপজ্জনক, কিন্তু তরুণদের তাতে থোড়াই কেয়ার। তার ওপর, সময় যত যাচ্ছে মানুষের অর্থের সংকটও তত বাড়ছে। ফলে কাজের প্রয়োজনেই বাইরে বের হচ্ছেন অনেকে।

সামাজিক রীতিনীতি বদলে দেয়া সহজ নয়। এজন্য দরকার জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং বিশ্বাস স্থাপন। যদিও অনেকেই নিজ দেশের নেতাদের বিশ্বাস করেন না। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রাজিল, ইরানের মতো দেশগুলোর প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীরা করোনাভাইরাসের ঝুঁকিকে হেলাফেলা করেছেন, ভুলভাল পরামর্শ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন তারা। অনেকের কাছেই দেশের চেয়ে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষাই বড় বলে মনে হয়েছে।

সব কথার শেষ কথা, করোনাভাইরাস এত শিগগিরই যাচ্ছে না। আরও বহু মানুষ এতে আক্রান্ত হবেন, মারাও যাবেন অনেকে। মনে রাখতে হবে, আপনার হয়তো করোনাভাইরাস মহামারির ওপর আগ্রহ কমে গেছে, কিন্তু আপনার ওপর করোনার আগ্রহ মোটেও কমেনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest