দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর আত্মহত্যা!

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা : দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক রোগী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে হাসপাতালের জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় গেঞ্জি পেচিয়ে মোহাম্মদ আলী(৭১), পিতা: মৃত ইসমাইল গাজী, গ্রাম: টাউন শ্রীপুর দেবহাটা আত্মহত্যা করেন বলে জানান ডঃ আব্দুল লতিফ।

রোগীর স্বজনরা জানান, গত তিনদিন আগে প্রস্রাবের ইনফেকশনের কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।

বিস্তারিত আসছে,,,,,,,,

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় মানবপাচার প্রতিরোধে কর্মশালা

তালা প্রতিনিধি : মানবপাচার মানবতার বিরুদ্ধে একটি জঘন্য অপরাধ,আসুন সকলে মিলে পাচার প্রতিরোধ করি-নির্দেশনাকে সামনে রেখে তালায় মানবপাচার প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইন্টারঅ্যাক্ট- সুইডেন’র অর্থায়নে এবং ওয়ার্ল্ড কনসার্ন বাংলাদেশ’র আয়োজনে সংস্থার সিটিএসপিই প্রকল্পের আওতায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে তালার গোনালী এফসিসিবি চার্চে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন, প্রজেক্ট ম্যানেজার নীল আর্মষ্ট্রং গোমেজ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান রাজু, ইউপি সদস্য মোকাম আলী, পালক রঘুনাথ সরকার।

প্রকল্পের কর্মসূচী উপস্থাপন করেন, সিটিএসপিই প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. হাফিজুর রহমান। প্রজেক্ট অফিসার রনজিৎ দাশ’র সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে প্রশিক্ষক সমুয়েল সরকার শান্ত, প্রোগ্রাম অফিসার বিউটি বিশ্বাস,নারী নেত্রী সোমা সরকার, মিলন দাশ ও সেকেন্দার আলী প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

সভায়, মানবপাচার প্রতিরোধ, পাচারের ধরন, ক্ষতিকর প্রভাব ও পাচার রোধে আইনের দিকগুলো আলোচনা করা হয়। এছাড়া ১ বছর ব্যপী খলিলনগর ইউনিয়নের দুটি এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে বলে জানানো হয়।
এসময়, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় পরিত্যাক্ত ৩২মণ হিমসাগর আম নিলামে

কলারোয়া প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পরিত্যাক্ত ৩২মণ অপরিপক্ক হিমসাগর আম ধরে নিলাম দিলেন উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ওই আমের নিলাম দেয়া হয়। সর্বচ্চ দরদাতা হিসাবে ৬২ ক্যারেট আম ৪৪
হাজার ৪শ ৫০ টাকা নিলাম দেয়া হয়। উপজেলার গোয়ালচাতর গ্রামের আম ব্যবসায়ী ফকির আহম্মেদের ছেলে মশিউর রহমান সর্বচ্চ দরদাতা হিসাবে ওই আম উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে গ্রহন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন
চৌধুরী এই আমের নিলাম দেন। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন-উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যে কর্মকর্তাবৃন্দ। উল্লেখ্য-বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে কে বা কাহারা উপজেলার যুগিবাড়ী এলাকায় ৬২ ক্যারেট হিম সাগর
আম ফেলে পালিয়ে যায়। যা আগামী ২১মে ওই হিমসাগর আম ভাঙার কথা, কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা সরকারী আদেশ অমান্য করে আম ভেঙ্গে বাজারে বিক্রয় করে দিচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় হাইব্রীড জাতের মুখিকচুর বাম্পার ফলন

তালা প্রতিনিধি : শ্রম ও উৎপাদন খরচ যেখানে স্বল্প,সেখানে ফলন বেশি হওয়ায় কৃষি ও খাদ্য উদ্বৃত্ত অঞ্চল তালা উপজেলায় এবার মুখিকচু নামে ‘সাদা সোনা’র আবাদ কৃষকের ভাগ্য বদলে দিচ্ছে। উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে বেলে বা বেলে-দোআঁশ মাটিতে ওই সাদা সোনা বা মুখিকচু চাষ করে তালা উপজেলার কৃষকরা এখন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।গত বছর তালা উপজেলায় ১০০ হেক্টরের কিছু বেশি জমিতে মুখিকচুর আবাদ হয়।এ বছর আবাদের পরিমাণ ১৮০ হেক্টর ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা কৃষি অধিদপ্তর।
তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,উপজেলার সদর,খলিলনগর,জালালপুর ও ইসলামকাটী চাষীরা এবার মুখিকচু চাষ করেছেন।এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে তালা সদর ও খলিলনগর ইউনিয়েনে। এ উপজেলায় ১৮০ হেক্টর জমিতে লাভজনক ফসল হিসেবে মুখিকচুর চাষ হয়েছে। এখন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জুড়ে মুখিকচু চাষীরা জমিতে পরিচর্যা করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে ওইসব এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুখি কচু চাষ খুবই লাভজনক। সাধারণত চৈত্র ও বৈশাখ মাসে মুখির বীজ লাগাতে হয়। প্রতি বিঘাতে ৮০ থেকে ১শ’ কেজি বীজ লাগে। বপনের মাত্র ৩ মাসের মধ্যেই কচুর ফলন ঘরে তোলা যায়। কাঠা প্রতি (৫ শতাংশ) কচুর ফলন হয় ১২-১৩ মণ। এক কাঠা জমিতে কচু আবাদ করতে খরচ হয় মাত্র এক/ দেড় হাজার টাকা। আর প্রতিমণ কচু বিক্রি হয় ৭-৮শ’ টাকা। কচু চাষে কেবল লাভ আর লাভ। কৃষকরা বলেন,কচু বিক্রি করতেও তেমন কষ্ট হয় না।
বাজারে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাইকাররা কচু কিনে।এ কচু চাষ করায় চরের জমিতেও এখন তারা ৩ টি ফসলের আবাদ করতে পারছেন।
খলিলনগর ইউনিয়নের গোনালী নলতা গ্রামের কৃষক জানান, প্রতি বিঘাতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ করে ৫৫ থেকে ৬৫ মণ মুখি পাওয়া যায়, যার বাজার মূল্য ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। এতে বিঘাপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা লাভ থাকে। তার মতে, দুই-তিন বিঘা জমিতে মুখি কচু চাষ করে ৪ মাসেই লাখপতি হওয়া সম্ভব।
অন্যদিকে সদরের ইউনিয়ে বারুইহাটি,আগোলঝাড়া,ভায়ড়া,জাতপুর,ডাংগানলতা,আটারোই,এবং খলিলনগর ইউনিয়নে দক্ষিণনলতা,গংগারামপুর,হরিচন্দরকাটি,মহান্দী,তেতুলিয়া ইউনিয়নে তেতুলিয়া ও শুকদেবপুর গ্রামে প্রচুর পরিমাণে মুখিকচুর চাষ হয়েছে।
খলিলনগর ইউনিয়নের দক্ষিণনলতা গ্রামের কৃষক মোমিন গাজী জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে এবার মুখিকচুর চাষ করেছে এই পর্যন্ত ৬০হাজার টাকা খরচ হয়েছে, বাজার দর স্বাভাবিক থাকলে তিনলক্ষাধিক টাকা মতো বিক্রি হবে।
তালা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বিশ্বাস জানান, তালা উপজেলায় গত বছর ১০০ হেক্টরের কিছু বেশি পরিমাণ জমিতে মুখিকচু চাষ হয়েছিল। এ বছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮০ হেক্টর জমিতে। আশা করা হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এলাকায় মুখিকচুর চাহিদা রয়েছে। ঈদের পর চাষীরা মুখিকচু বাজারে তুলতে শুরু করবেন।তালা উপজেলায় কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে,আমরা সর্বসময় কৃষকদের সেবা দিয়ে যাবো।
তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা বেগম জানান, কৃষকরা মুখিকচু রোপণ করার পাঁচ-ছয় মাস পর বিক্রি করতে পারেন, এই ফসলের উৎপাদন খরচ খুব কম,পাশাপাশি রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় খুব কম,গত বছরের তুলনায় এবার মুখিকচুর আবাদ বেড়েছে। এমনকি লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে এবার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে যুবলীগের ইফতার বিতরণ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে মাসব্যাপি অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ত্রাণ ও ইফতার বিতরণের অংশ হিসেবে সাতক্ষীরায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে এ ইফতার বিতরণ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের আয়োজনে ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর হুসাইন সুজনের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বিকালে সাতক্ষীরা শহরের খুলনা রোড মোড়ে প্রায় দেড়শতাধিক ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে ইফতার সামগ্রি করা হয়।
এসময় শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের পৌর শাখার সভাপতি শেখ নূরুল হক, যুবলীগ নেতা শাহিনুর রহমান শাহীনসহ যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

৬.০৫.২০২১

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থ্যতা কামনায় সাতক্ষীরায় যুবদলের দোয়া

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দোয়া ও কোরআন খতম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাদ যোহর সাতক্ষীরা জেলা,সদর,ও পৌর যুবদলের যৌথ উদ্যোগে কোরআন খতম ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুবদলের সভাপতি আবু জাহিদ ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক এইচ আর মুকুল, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদ রানা সবুজ, সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সুমন রহমান, জেলা যুবদলের যুগ্ন-সম্পাদক দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিউদ্দূজামান মহিদ, ইসমাইল বাবু, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক খোরশেদ আলম, জিয়াউর রহমান জিয়া, রোমেল সহ জেলা, উপজেলা ও পৌর কমিটির নেতৃবৃন্দ দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারত থেকে ফেরা ১৪০ পাসপোর্ট যাত্রী সাতক্ষীরায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে

আসাদুজ্জামান : যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরা ১৪০ জন পাসপোর্ট যাত্রীকে সাতক্ষীরা শহরের চারটি আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় দেশে আসা এসব যাত্রীদের মধ্যে ৫০ জনের একটি দলকে আবাসিক হোটেল উত্তরা ও বাকীদের টাইগার প্লাস এবং হোটেল আল কাশেম এ রাখা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকেরই পাসপোর্ট সদর থানায় জমা রাখা হয়েছে। তাদের সবারই বাড়ি সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন স্থানে। তবে, অর্থের অভাবে না খেয়ে অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানিয়েছেন ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া এসব পাসপোর্ট যাত্রীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার একজন জনপ্রতিনিধি জানান, ভারতে মহামারি করোনার ভেরিয়েন্ট সংক্রমনে প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই ভারত থেকে আসা এসব পাসপোর্ট যাত্রীদের হোটেলগুলোতে আবাসনের ব্যবস্থা না করে তাদের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৫ম তলা ভবনে রাখা যেতো।
ভারত থেকে আসা এসব বাংলাদেশী নাগরিকদের অভিযোগ, আবাসিক হোটেলে আনার পর তাদের হোটেল ভাড়া ও খাওয়া খরচ তাদের নিজেদের বহন করতে হচ্ছে। এরফলে অনেকেই না খেয়ে দিন পার করছেন। তবে, তাদের অধিকাংশ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভারতে গিয়েছিলেন ডাক্তার দেখাতে। সেদেশে ডাক্তার দেখানোর পর তাদের কাছে আর কোন টাকা নেই। এখন তারা না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের এখন কিছু হলে তাদের দায় ভার কে নেবে এ প্রশ্ন তাদের ? তাদের দাবী তাদেরকে স্ব স্ব জেলায় পাঠিয়ে সেখানে তাদের কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করাসহ তাদের স্বজনদের কাছে খবর দেয়া হোক।
এদিকে, ভারতে মহামারি করোনার ভেরিয়েন্ট সংক্রমন বৃদ্ধি পাওয়ার সে দেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা পাসপোর্ট যাত্রীদের সাতক্ষীরার শহরের বিভিন্ন হোটেলে রাখার খবরে আতংকিত হয়ে পড়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ। করোনায় ভারতে যে হারে মানুষ মারা যাচ্ছে এতে বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশিষ্ট্য জনরা। যদিও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের কোয়ারেন্টাইন রাখা হয়েছে বলে দাবী করছেন।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, ভারত থেকে বেনাপোল কাস্টমস অফিস দিয়ে দেশে ফেরা ১৪০ জন বাংলাদেশীকে সাতক্ষীরায় অবস্থান করছেন। শহরের তিনটি আবাসিক হোটেলে তারা রয়েছে। তারা সরকারের কাছ থেকে বিশেষ পাশ নিয়ে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশী হাইকমিশনে তারা বন্ড দিয়ে এসেছে তারা এখানে কিভাবে থাকবেন। প্রশাসন যেখানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করবেন সেখাইে তাদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে এবং তারা নিজ খরচে থাকবেন। তারা সেভাবেই সেখান থেকে বন্ড দিয়ে এসেছেন। তিনি আরো জানান, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করে তাদেরকে বেনাপোল থেকে সাতক্ষীরায় আনা হয়েছে। বেনাপোল ও যশোরে প্রায় এক হাজারের মত ভারত ফেরত বাংলাদেশীরা কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। বাকীদের সাতক্ষীরাসহ আশেপাশের জেলায় পাঠানো হচ্ছে। তবে, এখানে যারা রয়েছেনে তাদের সুব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছেন। এছাড়া অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও সেখানে নিয়োগ করা হয়েছে। তারা যাতে বাইরে না আসতে পারে সেটি আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তারা ভিতরে থাকলে তাদের যে খাদ্য খরচটা সেটাও তাদের নিজ খরচে বহন করতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অনুমতি মিললে আজই বিদেশ নেওয়া হতে পারে খালেদা জিয়াকে

রাজনীতির খবর : অনুমতি মিললে খালেদা জিয়াকে আজই বিদেশ নেওয়া হতে পারে

করোনা আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আবেদন করেছেন তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার। আবেদনপত্রটি পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুমতি মিললে আজকের মধ্যেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশ নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশে লন্ডন রওনা করবেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৃহস্পতিবার যেকোনো সময় তাকে চার্টার্ড বিমানে করে সিঙ্গাপুর হয়ে লন্ডন নেওয়া হবে। সঙ্গে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদল এবং পরিবারের সদস্যরাও থাকবেন।

তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ বিষয়ে নিশ্চিত করে এখনও কিছু জানাতে পারেননি।

এর আগে বুধবার রাতে খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিয়ে যেতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার।

রাত সাড়ে ৮টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমণ্ডির বাসায় আবেদনটি নিয়ে যান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, রাত সাড়ে ৮টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ভাই একটি আবেদন দিয়েছেন। সেটা আমি গ্রহণ করেছি। আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। তারা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমাদের যে নির্দেশনা দেবে সে অনুযায়ী আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

তিনি আরও বলেন, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার প্রয়োজন হলে বিষয়টি আমরা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখব। এদিকে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, লিখিত আবেদনটি পাওয়ার পরপরই মতামতের জন্য রাতেই তা আইন সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয়। করোনা আক্রান্তের ১৪ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট করা হলে ফলাফল আবারও পজিটিভ আসে। এরপর কিছু পরীক্ষার জন্য তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথম দফায় পরীক্ষা করে বাসায় ফেরার পর দ্বিতীয় দফায় ২৭ এপ্রিল তাকে ফের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সোমবার ভোরের দিকে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের করোনার কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার ফুসফুস থেকে তরল জাতীয় পদার্থ (ফ্লুইড) অপসারণ করা হয়েছে। তার ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। এর মাত্রা ওঠানামা করছে। এছাড়া অক্সিজেনের মাত্রাও কিছুটা কমেছে।

এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার জোর আলোচনা শুরু হয়। খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে টেলিফোনে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার বিষয়ে আলাপ করেন।

এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড সর্বশেষ বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় অবস্থা পর্যালোচনা করে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সুপারিশ করেন। সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে দলের চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন।

একটি সূত্র জানায়, বিদেশ নেওয়ার অনুমতি পেতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করেন খালেদা জিয়ার পরিবার। সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জমা দেন।

সরকারের নির্বাহী আদেশে গত বছর ২৫ মার্চ মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এরপর তার মুক্তির মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হয়েছে। যে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছিল সরকার তাতে শর্ত ছিল তিনি বিদেশে যেতে বা বিদেশে চিকিৎসা নিতে পারবেন না। এখন তাকে বিদেশ যেতে হলে সরকারের নির্বাহী আদেশের শর্ত শিথিল করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সরকার সেই শর্তটি শিথিল করলে খালেদা জিয়ার বিদেশে যেতে আইনগত কোনো বাধা থাকে না। এটা নির্ভর করছে একেবারেই সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

এর আগে গত বছর মার্চে বিদেশে চিকিৎসার জন্য মুক্তি চেয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছিল খালেদা জিয়ার পরিবার।

এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সবশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তার এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠা কম বয়সিদের ক্ষেত্রে এই জটিলতাগুলো তেমন কিছু নয়। যেহেতু খালেদা জিয়ার বয়স ৭৬, তাই জটিলতাগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছেন তারা। কিছু নতুন ওষুধও দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরিবার ও দলকে জানানো হয়েছে। আপাতত হাসপাতালে রেখেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হবে। খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য তাকে এনজিওপ্লাস্টি করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ওই চিকিৎসক আরও বলেন, এখন পর্যন্ত শারীরিক যে অবস্থা, তাতে আমরা আশা করছি, তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সেরে ওঠার পর এ ধরনের কিছু জটিলতায় ভোগেন। তবে খালেদা জিয়ার বয়স হয়েছে। এ কারণে চিকিৎসকেরা বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ফুসফুস থেকে যে তিন ব্যাগ ফ্লুইড বের করা হয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে অন্য কোনো রোগের জীবাণু পাওয়া যায়নি।

বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের এক নেতা জানান, অক্সিজেন দেওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারছেন খালেদা জিয়া। তবে সে ক্ষেত্রে অক্সিজেনের মাত্রা কখনো ৯০ বা তার নিচে নেমে যায়। অক্সিজেন দিলে এর মাত্রা ৯৯ পর্যন্ত থাকে। দিনে তাকে দুই থেকে চার লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। কয়েক দিন যদি এটি অব্যাহত থাকে, সে ক্ষেত্রে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট থাকবে না বলেই তারা আশা করছেন। এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বুধবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। তার আশু রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest