সর্বশেষ সংবাদ-
সাংবাদিক মারুফকে প্রাণনাশের হুমকি : থানায় অভিযোগসাতক্ষীরার শিকারি ব্র্যান্ড বিডির ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনদেবহাটা সরকারি বি বি এম পি ইনস্টিটিউশনে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী পালিতসাতক্ষীরায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রাজ্যেশ্বর দাশ গ্রেপ্তারভিডিএফের সাতক্ষীরা জেলা কমিটি নির্বাচন: সভাপতি হোসেন-সম্পাদক ইব্রাহিমকারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নিয়োগ ও এমপিও নিয়ে অভিযোগ : তদন্তে শিক্ষা কর্মকর্তাবুশরা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে ডিসির কাছে আমানতকারীদের আবেদনমির্জা ফখরুল ও রিজভীকে অভিনন্দন জানিয়ে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের আনন্দ মিছিলদেবহাটায় স্থানীয় পর্যায়ে যুব ও শিশু ফোরামের বার্ষিক সমাবেশ  সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত পরিবারের মাঝে কোটি টাকার চেক বিতরণ 

সাতক্ষীরায় মৎস্যঘের থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার: পরিবারের দাবি হত্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় মৎস্যঘের থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে সদরের লাবসা ইউনিয়নের কৈখালী এলাকার কেসমতের মৎস্য ঘের থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত সুমন হোসেন (২৮) কৈখালী গ্রামের আব্দুল হামিদের পুত্র। তিনি সাতক্ষীরার ইসলামী বক্তা ও জামায়াত ইসলামী মনোনীত লাবসা ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাও: মনোয়ার হোসেন মোমিনের গাড়ী চালক ছিলেন।

নিহতের পিতা জানান, গতকাল রাতে খেলা দেখার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সুমন। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। সকালে স্থানীয়রা জানান সুমনের মরদেহ ‍উলঙ্গ অবস্থায় ঘেরের মধ্যে পড়ে আছে।

মাও: মনোয়ার হোসেন মোমিন এটিকে হত্যাকান্ড দাবি করে বলেন, তার মরদেহটি উলঙ্গ অবস্থায় ছিলো। এছাড়া তাকে টেনে নেওয়া হয়েছে এমন চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই হত্যাকান্ডের তদন্তপূর্বক আসামীদের শাস্তির দাবি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ফাইনাল খেলা দেখে ফেরার পর আর্জেন্টিনা সমর্থকের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:  সোমবার (২০ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রসুলপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। স্থানীয়রা জানান, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

নিহত লাল্টু হোসেন ওই এলাকার মোটরসাইকেল মেকানিক ফজলু হোসেনের ছেলে। তিনি দুই ছেলে সন্তানের জনক ছিলেন। দুই ভাইবোনের মধ্যে লাল্টুই ছিলেন বড়। তার একমাত্র বোনের বিয়ে হয়েছে।

স্থানীয়রা আরো জানান, লাল্টু হোসেন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। ফাইনাল ম্যাচে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর তিনি বড় পর্দায় খেলা দেখে নীরবে বাড়ি ফিরে যান। রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পর তার পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরে তিনি দুইবার শৌচাগারে যান। এ সময় তার স্ত্রী শৌচাগারে কাপড় পরিষ্কার করে ফিরে এসে দেখেন, লাল্টু অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। এসময় সদস্যরা থাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত ডাক্তার লালটুকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

সোমবার জোহরের নামাজের পর রসুলপুর পশ্চিমপাড়া আহলে হাদিস সাবেরী জামে মসজিদ মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান: তিন প্রতিষ্ঠানে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি : স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিতকরণ এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আইনানুগ কার্যক্রম তদারকির লক্ষ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খুলনা রোড মোড় এলাকায় সমন্বিত টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার বিকালে (১৯ জুলাই) জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ব্যাটালিয়ন আনসার, পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং সিভিল সার্জনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিবন্ধন, ড্রাগ লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (ক্লিনিক্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট) প্ল্যান্টসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়।

এ সময় প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, ড্রাগ লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র এবং ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্ল্যান্ট না থাকায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫ হাজার টাকা, স্বপ্ন ক্লিনিককে ৩০ হাজার টাকা এবং পাইনিওয়ার ক্লিনিকে ১০ হাজার জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া আরও কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ এবং নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে এ ধরনের তদারকি ও আইন প্রয়োগমূলক অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শহীদ জায়েদার ২৮ তম সাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ভূমিহীন সমিতির প্রস্তুতি সভা

শহীদ জায়েদার ২৮ তম সাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ভূমিহীন সমিতির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় শহরের বাজার কোলকাতা হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ভূমিহীন সমিতির সভাপতি মো: কওছার আলী।
সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, নদী বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, জেলা ভূমিহীন সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম রেজাউল করিম রেজা, ভূমিহীন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন,সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, সবুর গাজী, শহিদুল গাজী, আজগর মোড়ল, মিজানুর সরদার, রফিকুল পাড়, বাবর আলী গাজী,সারাকাত হোসেনসহ অন্যরা।

বক্তারা ভূমিহীনদের দাবি আদায় এবং অনিয়ম দুর্নীতি প্রতিরোধে শহীদ জায়েদার মত রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

এছাড়া প্রস্তুতি সভায় আগামী ২৭ জুলাই শহীদ জায়েদার সাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল, আলোচনাসভা এবং খাদ্য বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে মিথ্যা ধর্ষণের মামলার অভিযোগ জেল হাজতে দুই যুবক

শ্যামনগর প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মোছাঃ নাসিমা পারভীন নামে এক নারী তার স্বামীর চার নিকটাত্বীয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছে।

শনিবার (১৮জুলাই) সকাল সাড়ে আটার দিকে শ্যামনগর থানায় হাজির হয়ে তিনি উক্ত মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন তার স্বামী আফসার আলীর নিকটাত্বীয় আবু বক্কার, আব্দুল কাদের, মঞ্জুরুল ইসলাম ও রবিউল ফকির

মামলা সুত্রে জানা যায় ঐ নারী দাবি করেন স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্যামনগর সদরের চন্ডিপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি স্বামীর কাশিমাড়ী গ্রামের বাড়িতে যেয়ে ঘর তালাবদ্ধ দেখতে পায়। এসময় কল দিয়ে স্বামীর মোবাইল বন্ধ পেয়ে সাতক্ষীরায় অবস্থানরত ভাশুর আব্দুর রাজ্জাকের পরামর্শে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে রাত ১২টার দিকে বারান্দায় পায়চারী করার সময় অভিযুক্তরা মুখে গামছা বেঁধে ঘর থেকে তুলে নিয়ে পাশের খড়ের ঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষন করে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে বনিবনা না হওয়ায় অভিযোগকারী নারী দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর নিকট থেকে তালাক দাবি করে আসছিলেন। বিনিময়ে নাসিমা পারভীন স্বামী থেকে দুই শতক জমি বা পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। তবে স্বামী আফছার আলীর এসব নিকটাত্বীয়রা নাসিমা পারভীনকে জমি বা টাকা দেয়ার ক্ষেত্রে বাঁধা সৃষ্টি করায় নাসিমা তাদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে মিথ্যা ও হয়রানীমুলক এ মামলা করেছেন।

আসামি দের পরিবারের পক্ষ থেকে যোর দাবি তুলেছেন ধর্ষণের ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মিথ্যা আমাদের হয়রানি করার জন্য এই মিথ্যা বানোয়াটা মামলা সাজিয়েছে।

অপরদিকে অভিযোগকারী নারীর স্বামী আফছার আলীর ভাষ্য তাদের স্বামী-স্ত্রী’র এটা দ্বিতীয় বিয়ে। নিজের নামে মাত্র দুই শতক জমি তার অবশিষ্ট রয়েছে। তাই তিনি কোন জমি দিতে সম্মত না হওয়ায় হয়ারনী করতে তার স্বজনদের নামে মামলা দিয়েছে তার স্ত্রী। তিনি বার বার বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলেও দাবি করেন।

মামলার এক নাম্বার স্বাক্ষী মো: মিঠু বলেন, আমি ইজিবাইক চালক তাকে বিভিন্ন সময় আনানেওয়া করি, ঘটনার দিন রাত ১১ টার দিকে শ্যামনগর থেকে নিয়ে আশি আবার আদাঘন্টা পর জয়নগর আমাদানি সামনে বোনের বাসায় দিয়ে আশি, আবার ১২ টা সাড়ে বারোটার পর আবার আমাকে ফোন দেয়, এস কাউকে দেখিনি হালকা করে হাত বাধা কিন্তু কাউকে দেখিনি।

এবিষয়ে জানতে নাসিমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার সাথে যা হয়েছে তা নিয়ে কথা বলবো না। তবে আমার বসবাসের জন্য দুই শতক জমি দিলে আমি মামলা করতাম না। আগের রাত পর্যন্ত বার বার বলা সত্ত্বেও জমি দিতে সম্মত না হওয়ায় তিনি মামলা করেছেন বলেও নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানান উক্ত নারীর পরীক্ষা করে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তিন/চার দিন পুর্বেও একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে শাররীক পরীক্ষা করাতে অস্বীকার করেছিলেন।

এবিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার সাফিউল ইসলাম জানান, নাসিমা পারভীনের এজাহার মামলা হিসেবে রেকর্ডের পর একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় সড়কের জমি দখল করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি : আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই সাতক্ষীরায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি দখল করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত পক্ষ জমিটি নিজেদের দাবি করলেও সড়ক বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে—জমিটি মহাসড়কের। সরকারি খাস খতিয়ানের এই জমি কীভাবে ব্যক্তিনামে রেকর্ড ও মিউটেশন হলো, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

১৮ জুলাই (শনিবার) সকালে মাগুরাগোপিনাথপুর মৌজায় বিজিবি ক্যাম্পের সামনের ওই জমিতে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয় পক্ষকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত মোসফেকউস সালেহীন ও তাঁর লোকজন পুনরায় পুরো জমিটি ঘিরে ফেলেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাগুরাগোপিনাথপুর মৌজায় বিজিবি ক্যাম্পের সামনে ১ নং খাস খতিয়ানের বিএস ১৪১০ দাগে ৭ শতকসহ মোট ৬৩ শতক সম্পত্তি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাভুক্ত। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কলেজ রোড এলাকার মৃত সুলতানুল ইসলামের পুত্র মোসফেকউস সালেহীন গং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সরকারি এই সম্পত্তি নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে নেন। পরবর্তীতে ওই বিতর্কিত রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান কোনো প্রকার সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই নামজারি (মিউটেশন) মঞ্জুর করেন। বেআইনিভাবে এই সম্পত্তি ব্যক্তিনামে রেকর্ড ও মিউটেশন হওয়ায় একদিকে যেমন সরকারের বিপুল টাকার সম্পত্তি হাতছাড়া হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, তাঁরা ১৩৩৪ নম্বর দলিলের বুনিয়াদে জমিটির মিউটেশন সম্পন্ন করেছেন। তবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তদের দাবিকৃত ১৩৩৪ নম্বর দলিলটি ২০২৩ সালে সম্পাদিত হয়, যার গ্রহীতা লাবসা ইউনিয়নের কামরুন নাহার এবং দাতা আখড়াখোলার তবিবুর রহমান। ওই দলিলের মূল দাগ ও খতিয়ান নম্বরের সাথে অভিযুক্তদের দাবিকৃত জমির দাগ-খতিয়ানের কোনো মিল বা দূরতম সম্পর্ক নেই।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ জানান, বিতর্কিত এই জমিটি মূলত খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের অংশ। জমিটি সড়ক বিভাগের মালিকানাধীন নিশ্চিত করে তিনি বলেন, “এল এ ৫৪/৫৫ নম্বর কেস মূলে অধিগ্রহণ সূত্রে এবং সড়ক ও জনপদের নকশা অনুযায়ী হাল জরিপে ১৪১০ দাগটি খাস ভুক্ত। ফলে মোসফেকউস সালেহীন গং-এর পক্ষে হওয়া নামজারি খতিয়ানটি (নম্বর: ২০২৬-১-০০০-৩৩) বাতিল করে জেলা প্রশাসকের ১নং খাস খতিয়ান হতে সড়ক ও জনপদের পক্ষে রেকর্ড সংশোধন করার জন্য ইতোমধ্যে লিখিতভাবে আদেশ ও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আদালতের বিচারাধীন বিষয় এবং সড়ক বিভাগের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এই প্রকাশ্য জমি দখলের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে পারে না: তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব— এমপি রবিউল বাশার
দেবহাটা প্রতিনিধি :
গভীর শ্রদ্ধা, দোয়া ও স্মরণে দেবহাটায় পালিত হয়েছে জুলাই যোদ্ধা শহীদ আসিফ হাসানের ২য় শাহাদাত বার্ষিকী। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও কবর জিয়ারতের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শহীদ আসিফ হাসানসহ দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের জন্য আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে অতিথিবৃন্দ শহীদ আসিফ হাসানের কবর জিয়ারত করে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর আত্মত্যাগের প্রতি গভীর সম্মান জানান।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন, “শহীদ আসিফ হাসানের আত্মত্যাগ জাতির জন্য চিরন্তন প্রেরণার উৎস। তাঁর আদর্শ, সাহসিকতা ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধের পথে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করবে। শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে পারে না; তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই জাতি প্রকৃত অর্থে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই আমাদের সবার দায়িত্ব।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন, কর্মপরিষদ সদস্য মোস্তফা আসাদুজ্জামান মুকুল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান, সেক্রেটারি নুর নবী, সাতক্ষীরা জেলা শাখার সেক্রেটারি নাজমুল হুসাইন, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, সেক্রেটারি এইচ. এম. ইমদাদুল হক, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ বাশার, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক তরফদারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ, শহীদ পরিবারের সদস্য, সুধীজন ও বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শহীদ আসিফ হাসানসহ দেশের সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সরকারি দপ্তরে ছাত্রদল নেতার হুমকি : ইউএনওর ভিডিও বার্তা

অনলাইন ডেস্ক :  ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে (পিআইও) ঢুকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সতর্কতামূলক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা।

গত বৃহস্পতিবার দেওয়া ওই ভিডিও বার্তায় তিনি সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তবে ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার দাবিতে পরদিন পিআইও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গৌরীপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রিশাদের নেতৃত্বে কয়েকজন অনুসারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে যান। এ সময় দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত তথ্য চাইলে অফিস সহকারীর সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা অফিস সহকারীকে গালাগাল করে এবং ক্ষুব্ধ হয়ে চলে যান।

অফিস সহকারীর অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দাপ্তরিক তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় জানালে রাইসুল ইসলাম রিশাদ ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরে বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যান।

এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা তার কার্যালয়ে বসে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর কাছে একটি ভিডিও বার্তা দেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া কিংবা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৮৭ ও ১৮৮ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পৌর ছাত্রদল নেতা রাইসুল ইসলাম রিশাদ বলেন, এলাকার একটি সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম এবং সরকারি সেলাই মেশিন বিতরণে অভিযোগের বিষয়ে জানতে তিনি পিআইও কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, “ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কেউ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা সরকারি কাজে বাধা দিলে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে ঘটনার পরও কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি না হওয়ায় প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest