সর্বশেষ সংবাদ-
সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মৌয়াল আহততালায় খালে মাছ ধরতে এসে বৃদ্ধের মৃত্যুদেবহাটার সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যুসাতক্ষীরা কম্পিউটার সমিতির নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর ও সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কালিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্যদেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিনসাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালাআশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসিদেবহাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিমের মৃত্যু

ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়ন; বিপুল মূলধন ঘাটতির শঙ্কায় সোনালী ব্যাংক

দেশের খবর: ২০২০ সালের জানুয়ারির মধ্যে ব্যাসেল-৩ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। তখন ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে সাড়ে ১২ শতাংশ। এ পরিমাণ মূলধন সংরক্ষণ করতে হলে বিপুল পরিমাণ মূলধন ঘাটতির সম্মুখীন হবে সোনালী ব্যাংক। তাই মূলধন ঘাটতি এড়াতে সরকারের কাছে ৬ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি চায় রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকটি। একইসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রদত্ত সেবাসহ সরকারের অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে যৌক্তিক হারে সেবার মাশুল (ফি) নির্ধারণ করতে চায় ব্যাংকটি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে একটি চিঠিতে ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি জানিয়ে ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়নে মূলধন ঘাতটি পুরনে ব্যাংক গ্যারান্টিসহ বেশ কিছু পলিসিগত সুবিধা চেয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং এ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিবিড় তদারকিসহ যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সোনালী ব্যাংক ২০১৭ সালে সত্যিকার অর্থেই ঘুড়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালে এ ব্যাংক দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ২য় সর্বোচ্চ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পরিচালন মুনাফা (১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা) এবং সর্বোচ্চ নিট মুনাফা তথা ৭০৯ কোটি টাকা অর্জন করেছে। গত ২০০৭ সালে সোনালী ব্যাংক করপোরেটাইজকালীন একুমুলেটেড লস ৬ হাজার ৫৭৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা ইনটেনজিবল অ্যাসেট (গুডউইল) এ স্থানান্তর করে ১০ বছরের মুনাফার বিপরীতে সমন্বয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বছর এ ব্যাংক এক দশমাংশ অর্থাৎ ৬৫৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা করে বিগত ১০ বছরে গুডউইল বাবদ ৬ হাজার ৫৭৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা সম্পূর্ণ সমন্বয় করা হয়েছে। তাছাড়া ২০১৫ সাল থেকে বাস্তবায়নাধীন ব্যাসেল-৩ এর কঠোর নিয়ামানুবর্তিতার কারণে ব্যাংক ক্রমাগত মূলধন ঘাটতির সম্মখীন হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিবিড় তদারকি এবং শাখা পর্যায়ে গৃহীত কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে ব্যাংকটি ২০১৮ সালের জুলাইয়ে পরিচালনা মুনাফার পরিমাণ (সাময়িক) ৯১২ কোটি টাকা অর্জন করে। যেখানে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে এ পরিমাণ ছিল মাত্র ৩১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ মুনাফা বৃদ্ধির হার ১৮৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। আশা করা যাচ্ছে, আগামীতেও মুনাফা বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে ব্যাসেল-৩ নীতিমালার কারণে নিট মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নেয়া হলে ২০১৯ সালে ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ হিসাবে এ ব্যাংক বিপুল পরিমাণ মূলধন ঘাটতির সম্মুখীন হবে।

সোনালী ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়, এ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকার যদি নগদ অর্থের পরিবর্তে ৬ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দেয় তাহলে কোনো নগদ লেনদেন ছাড়াই শুধু ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যুর মাধ্যমে এ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ সম্ভব হবে। তাই সোনালী ব্যাংকের বিরাজমান মূলধন ঘাটতি পূরণে ৬ হাজার কোটি টাকার সরকারি গ্যারান্টি ইস্যুর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করা হলো।

চিঠিতে বলা হয়, সোনালী ব্যাংককে নিজস্ব মুনাফার কথা বিবেচনার বাইরে রেখে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সবসময় কাজ করতে হয়। যা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গিপূর্ণ নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে পরিমিত (স্ট্যান্ডার্ড) কমিশন হচ্ছে দশমিক ৪০ শতাংশ। সে হিসাবে সোনালী ব্যাংক সরকারের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে ৯৪ হাজার ২৪৬ কোটি টাকার ঋণপত্রের ক্ষেত্রে মেয়াদকালীন প্রাপ্য কমিশনের পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। অথচ সরকার এ ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংককে থোক বরাদ্দ হিসেবে দুই দফায় ২০ কোটি দেয়ার প্রস্তাব করেছে।

ফলে ব্যাংক স্টান্ডার্ড রেট বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার কমিশন থেকে বঞ্চিত হয়েছে সোনালী ব্যাংক। পরবর্তীতে সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড হারে কমিশন প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়।

সোনালী ব্যাংক সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ের সুবিধাভোগীকে বিনামূল্যে ৩৭টি সেবা এবং নামমাত্র মূল্যে সরকারি কর্মচারীদের ১৪টি সেবা দিয়ে থাকে। এসব সেবার ক্ষেত্রে ব্যাংককে বিপুল পরিমাণ ব্যয়ভার বহন করতে হয়। সরকারের পক্ষে আর্মি পেনশন, সিভিল পেনশন, সঞ্চয়পত্র ও ওয়েজ আর্নার্স বন্ডসমূহ সোনালী ব্যাংক তার নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করে সেবা দিয়ে থাকে। সেবামূল পরিশোধের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পুনঃভরণ দাবির নিরীক্ষাসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে পুনঃভরণ পেতে উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হয়। ফলে এ সব খাতে ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অনুপার্জিত অবস্থায় বিনিয়োজিত থাকে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রীয় স্বার্থে এবং সরকারি সিদ্বান্তে অনেক অলাভজনক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। এ ক্ষেত্রে বিপিসি, বিজেএমসি, বিএডিসি ইত্যাদির সংস্থার সঙ্কটে ১৪ শতাংশ হার সুদে ঋণ দেয়া হলেও পরে সরকারি সিদ্ধান্তে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে ২০ থেকে ৩০ বছর মেয়াদে বন্ড নেয়ার মাধ্যমে ঋণ সমন্বয় করা হয়। ফলে এ সব ক্ষেত্রে ব্যাংকের বছরে এক হাজার ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়

তাই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রদত্ত সেবাসহ সরকারের অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে যৌক্তিক হারে সেবার মাশুল (ফি) নির্ধারণ করার আবেদন জানান ব্যাংকটির সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ওবায়েদ উল্লঅহ আল মাসুদ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। নিয়ম অনুযায়ী খেলাপির বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে গিয়ে মূলধন ঘাটতি বাড়ছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর এ হার বেশি।

তিনি বলেন, প্রতিবছরই বাজেট থেকে এ মূলধন যোগান দেয়। অর্থাৎ অনিয়ম-দুর্নীতি ফলে ঘাটতি হওয়া এ মূলধন পূরণে হচ্ছে জনগণের করের টাকায়। মূলধন সরবরাহের সরকারি উদ্যোগের কোনো যুক্তিযুক্ত নেই। এ উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার সামিল।

ব্যাংক গ্যারান্টির বিষয়ে সাবেক এ গভর্নর বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারকে নগদ টাকা দিতে না হলেও পুরো টাকার দায়ভার কিন্তু সরকারকেই নেতে হবে। তাই বিষয়টি ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। তবে সরকারি কাজে ফি নির্ধারণে বিষয়ে সরকার ভেবে দেখতে পারেন বলেও মত দেন তিনি।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে বলেন, সোনালী ব্যাংকের চিঠিতি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন কিনে নিয়েছে সরকার

দেশের খবর: ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিয়ে ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন কিনে নিয়েছে সরকার। গতকাল রবিবার গণভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সম্পত্তির বর্তমান মালিক ও তার সন্তানদের কাছ থেকে এই সম্পত্তি কেনার রেজিস্ট্রিকৃত দলিল গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগে গত ৮ আগস্ট রোজ গার্ডেন ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এরপরে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বর্তমান মালিকের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রোজ গার্ডেনের মূল্য ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোজ গার্ডেনের দলিল গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করতে এক হাজার এক টাকা টোকেন মূল্যে সম্পত্তিটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বাড়িটির দলিল গ্রহণ করেন।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে রোজ গার্ডেন স্থাপনাটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এটিকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পুরান ঢাকার ইতিহাস তুলে ধরতে ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনকে জাদুঘরে পরিণত করা হবে। রোজ গার্ডেনের একটি ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। কেননা, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন এখান থেকেই যাত্রা শুরু করে। এমন স্থাপনা নষ্ট হতে দেওয়া যায় না।’
তিনি আরো বলেন, সরকার এর আগে নগর ভবনে একটি জাদুঘর স্থাপন করেছে। তবে এখন সেই জাদুঘরটি রোজ গার্ডেনে স্থানান্তর করা হবে। ভবনটির মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে এটি সংস্কার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ১৯৩১ সালে ২২ একর জমির ওপর রোজ গার্ডেন স্থাপনাটি নির্মাণ করেছিলেন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস। এটি পুরান ঢাকার টিকাটুলির কে এম দাস লেনে অবস্থিত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কনসার্টে মদপানে অসুস্থ শতাধিক, নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক: অতিরিক্ত মদপান করায় অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি কনসার্টে শতাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে দুজনের।
পুলিশ জানায়, ডেফকন ওয়ান নামে ওই কনসার্টে নিহত দুজনের বয়স ২১ ও ২৩। শতাধিক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জনের অবস্থা গুরুতর। আর জরুরি সহায়তা চেয়েছেন ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ।
নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী গ্লাডিস বেরেজিকলিন বলেন, ‘অনেক পরিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটি ট্রাজেডির মুখোমুখি হবে। এটা সহ্য করার মতো নয়। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি আতঙ্কিত।’
পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ২ টিনএজারসহ ১০ জনকে চিহ্নিত করেছে। ওই দুই টিনএজার মাদক নিয়ে এসে অন্যদেরকে সরবরাহ করেছেন বলে জানা গেছে।
২০০৯ সাল থেকে সিডনিতে কনসার্টটি হয়ে আসছে। এর আগে ২০১৩ ও ২০১৫ সালেও এখানে অতিরিক্ত মাদক গ্রহণ করে ২ জন মারা যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ্বের সেরা ৫ ব্যাটসম্যান

খেলার খবর: ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের টেস্ট সিরিজে বর্তমান ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রতিভাবান দু’জন ব্যাটসম্যান খেলেছেন। সিরিজে ৫৯৩ রান করেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। টেস্ট সিরিজে কিছুটা ম্লান থাকলেও ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে পরপর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রাখেন ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট।
রান বা ব্যাটিং গড়ের হিসেবে বিবেচনা করলে ‘বর্তমান ক্রিকেটে সেরা ব্যাটসম্যান আসলে কারা’ সহজেই এই তর্কের সমাধানে আসা যায়।
কিন্তু বর্তমানে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফরম্যাট জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর সব ফরম্যাটে ব্যাটসম্যানের সার্বিক প্রভাব আর পারফরমেন্সের হিসেব করাটাই বেশি যুক্তিসঙ্গত।

৫. রোহিত শর্মা (ভারত)
বয়স: ৩১; টেস্ট: ২৫; রান: ১৪৭৯; গড়:৩৯.৯৭
এই তালিকায় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত নামটি হয়তো ভারতের এই ওপেনিং ব্যাটসম্যানেরই। ভারতের টেস্ট দলে নিয়মিত সুযোগই পান না রোহিত শর্মা। কিন্তু সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তার মত ধারাবাহিকভাবে একের পর এক ম্যাচ জেতানো ইনিংস সাম্প্রতিক সময়ে খেলতে পারেননি কোনো ব্যাটসম্যানই। ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৮টি সেঞ্চুরি থাকলেও টেস্টে রোহিত শর্মার নামের পাশে শতকের সংখ্যা মাত্র ৩টি। টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম দুই ইনিংসেই দু’টি সেঞ্চুরি হাঁকান রোহিত। আর পরের ৪১ ইনিংস খেলে আসে তৃতীয় সেঞ্চুরিটি। ওয়ানডেতে রোহিত শর্মার ডাবল সেঞ্চুরি আছে তিনটি; আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই অর্জন আর কোনো ক্রিকেটারের নেই।

রোহিত শর্মা ভারতে যতটা স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে রান করেন, ভারতের বাইরে ঠিক ততটাও করতে পারেন না। ভারতের ভেতরে রোহিত শর্মার টেস্ট গড় ৮৫। আর ভারতের বাইরে ২৫। ক্রিজে সেট হয়ে যাওয়ার পর অলস শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দেয়া আসার প্রবণতা রয়েছে তার।

৪. কেইন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড)
বয়স:২৮; টেস্ট:৬৫; রান:৫৩৩৮; গড়:৫০.৩৫
বর্তমান যুগের চার ব্যাটিং ‘গ্যালাক্টিকো’র মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত বলা যায় তাকে।ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে রীতিমত বৈজ্ঞানিক ধারা মেনে চলেন উইলিয়ামসন। তিনি রক্ষণে যেমন মনোযোগী, আক্রমণেও তেমনই সুশৃঙ্খল। সাধারণত ব্যাটিংয়ের সনাতন রীতি মেনে চলেন তিনি। উইলিয়ামসন ফিল্ডারদের গ্যাপে শট খেলতে পছন্দ করেন। স্ট্রোক নেয়ার ক্ষেত্রে তাকে খুব একটা আগ্রাসী ভূমিকায় কখনোই দেখা যায় না।

তার ব্যাটকে বিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবে নয়, সূক্ষ্ম কাজ সম্পাদন করতে পারা যন্ত্র হিসেবে দেখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। তবে প্রয়োজনের সময় ঠিকই বিধ্বংসী হয় ওঠার ক্ষমতা রাখেন উইলিয়ামসন। বিশেষ করে শর্ট বলকে দারুণ ধারাবাহিকতার সাথে মিড উইকেটে পুল করার সক্ষমতা রয়েছে তার। নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তী মার্টিন ক্রো’র ১৭ টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড এবছর ছাড়িয়ে গিয়েছেন উইলিয়ামসন। টেস্টের পাশাপাশি ওয়ানডে ক্রিকেটেও দারুণ কার্যকর উইলিয়ামসন। ওয়ানডেতে ৫ হাজারের বেশী রান তিনি করেছেন প্রায় ৪৭ গড়ে।

৩. জো রুট (ইংল্যান্ড)
বয়স:২৭; টেস্ট:৭৪; রান:৬২৭৯; গড়:৫১.০৪
মসৃণ ভঙ্গিমা, চমৎকার ব্যাকফুট গেম এবং ধারাবাহিকতা জো রুটের ব্যাটিংয়ের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রথম বল থেকেই ঝুঁকিহীনভাবে রান করা শুরু করেন তিনি। ব্যাটিংয়ের সময় শরীরের ভারসাম্য দারুণভাবে ধরে রাখা রুট ব্যাকফুটের পাশাপাশি ফ্রন্টফুটেও নান্দনিক ব্যাটিং করেন। রুটের ব্যাটিংয়ের মূল অনুষঙ্গ টাইমিং। অফ স্ট্যাম্পের ওপর খেলেন বলে অনেক সময়ই লেগ বিফোর উইকেট হয় আউট হন রুট। তবে রুটের প্রধান সমস্যা চমৎকার ভাবে শুরু করেও শেষপর্যন্ত বড় ইনিংসে খেলতে না পারা।

ওভালে ভারতের সাথে তার সেঞ্চুরিটি ১৩ মাসের মধ্যে তাঁর একমাত্র টেস্ট সেঞ্চুরি। এর মধ্যে খেলা টেস্টে ৯টি অর্ধশতক রয়েছে তার।
ইনিংসকে অর্ধশতক থেকে শতকে রূপান্তরের হার খুব একটা ভাল নয় রুটের – ২৫%। ৪১টি ফিফটি ও ১৪টি সেঞ্চুরি করা রুটের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা মনে করা হয় তার ফিটনেস। তার শারীরিক শক্তি বা স্ট্যামিনা কোহলি বা স্টিভ স্মিথের মত নয়, যে কারণে ঐ দু’জনের চেয়ে তিনি পিছিয়ে আছেন বলে মনে করা হয়।

২. স্টিভ স্মিথ (অস্ট্রেলিয়া)
বয়স:২৯; টেস্ট:৬৪; রান:৬১৯৯; গড়:৬১.৩৭
স্মিথের প্রচলিত ধারার বিপরীতমুখী শাফলিং ব্যাটিং টেকনিক নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু তার পদ্ধতি যে যথেষ্ট কার্যকর তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ২০১৭-১৮ সালের অ্যাশেজ সিরিজের সময় তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ৬৩.৭৫ , টেস্ট ইতিহাসে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের পর যা সবচেয়ে বেশি (অন্তত ২০বার বা তার চেয়ে বেশি ইনিংস ব্যাট করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে)। অফ স্টাম্পে গার্ড নেয়া ব্যাটসম্যানদের পথিকৃতদের মধ্যে একজন স্মিথ (সাধারণত ব্যাটসম্যানরা লেগ বা মিডল স্ট্যাম্পে গার্ড নেয়)। এর ফলে ফ্রন্টফুটে খেলে পিচ থেকে বের হয়ে এসে এলবিডব্লিউ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে আনেন তিনি।
মনে হতে পারে এভাবে ব্যাট করার কারণে তার উইকেট অনেকটাই অরক্ষিত হয়ে যায়; তবে এই পদ্ধতি তার পছন্দের লেগ সাইডে রান করার জন্য তাকে সবসময় সুযোগ করে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শেষ চার বছরে তাঁর গড় ৯৬, অস্ট্রেলিয়ার বাইরে যা ৫৭।
মাঝেমধ্যে ‘গালি’ পজিশনে বল স্লাইস করে আউট হওয়ার প্রবণতা বাদে স্মিথের ব্যাটিংয়ে বড় কোনো খুঁত নেই; তবে বাঁহাতি স্পিনারদের বলে বেশিবার আউট হতে দেখা গেছে তাকে। কোহলির পর অর্ধশতককে শতকে পরিণত করার হার সবচেয়ে বেশি স্মিথের; ৪৯%।
এপিল মাসে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার পর ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে পুরো ফর্মে ফিরে আসাই স্মিথের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

১. বিরাট কোহলি (ভারত)
বয়স:২৯; টেস্ট:৭১; রান:৬১৪৭; গড়:৫৩.৯২
দেশের মাটিতে খেলা হলে কোহলি নিশ্চিতভাবে রান করবেন। তার ব্যাটিংয়ে দৃঢ়প্রত্যয় আর আত্মবিশ্বাসের ছাপটা অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর আরো বেশি নজর কেড়েছে। মাঠে তার আচরণে তাকে কলহপ্রিয় – এমনকি কখনো উস্কানিমূলকও – বলে মনে করা স্বাভাবিক। অদম্য স্পৃহা ও সর্বোচ্চ ফিটনেস লেভেলের একজন খেলোয়াড় তিনি। ওয়ানডেতে তার ব্যাটিং গড় ৫৮’র বেশি; আর টি টোয়েন্টিতে তা প্রায় ৪৯। তার প্রজন্মের সবচেয়ে কার্যকর অল-রাউন্ড ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন কোহলি। তার বিরুদ্ধে বল করা যেকোনো বোলারের জন্যই ভীতিকর একটি বিষয়। অসাধারণ ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে নিজেকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া কোহলি এখনো তার পারফরমেন্সের সর্বোচ্চ শিখর স্পর্শ করেননি বলে মনে করেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। সূত্র: বিবিসি বাংলা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মাংখুটের তাণ্ডব চীনেও, ফিলিপাইনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯

বিদেশের খবর: প্রলয়ঙ্কারী টাইফুন মাংখুটের কবলে ফিলিপাইনে অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পর এবার সেটি চীনে আঘাত হেনেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এর আঘাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দু’জন নিহত হয়েছে। এদিকে মাংখুটের আঘাতে ফিলিপাইনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ হয়েছে।
টাইফুন মাংখুট গত কয়েক দশকের মধ্যে এই অঞ্চলে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গুয়ানদংয়ে মাংখুটের আঘাতে দু’জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া এর কবল থেকে বাঁচাতে গুয়াংদন এবং হাইনান দ্বীপ থেকে ২৫ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার বিকেল নাগাদ এটি চীনের উপকূলে আঘাত হানে।
এ ছাড়া সুপার টাইফুন মাংখুটের কবলে পড়ে হংকংয়ের অনেক ভবন ধসে পড়েছে এবং শহরটি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। প্রধান প্রধান সড়ক বন্ধ, ট্রেন চলাচল স্থগিত এবং ফ্লাইট বাতিলের মধ্যে দিয়ে শহরটির যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার ফিলিপাইনে আঘাত হানে মাংখুট। শেষ খবর পাওয়া ফিলিপাইনে ৫৯ জন নিহত হয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যৌতুকের মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে পাঁচ বছরের জেল

অনলাইন ডেস্ক: যৌতুক দেওয়া-নেওয়া এবং যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলার ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে সংসদে ‘যৌতুক নিরোধ বিল-২০১৮’ পাস হয়েছে। রবিবার মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
কারও ক্ষতি করার জন্য যৌতুকের মামলা বা অভিযোগ করলে পাঁচ বছরের জেল অথবা ৫০ হাজার টাকা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে পাস হওয়া বিলে। আগের আইনে যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলার জন্য কোনও দণ্ডের বিধান ছিল না।
বিলে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনও এক পক্ষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য পক্ষের কাছে যৌতুক দাবি করে তবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কিন্তু সর্বনিম্ন এক বছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকার জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যৌতুক গ্রহণ বা প্রদান করলেও একই ধরনের সাজা হবে।’
এতে বলা হয়েছে, ‘এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য হবে। তবে আপসযোগ্য হবে।’
এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি হয়। গত ২৫ জুন বিলটি সংসদে তোলার পর তা পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
১৯৮০ সালের এ সংক্রান্ত আইন বাতিল করে নতুন করে আইন করতে বিলটি তোলা হয়েছে সংসদে। ১৯৮০ সালের ওই আইন ১৯৮২, ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধন করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জের জলিল ডাকাতের লাশ দাফনে বাধা, নেয়নি পরিবারও

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি গণপিটুনিতে নিহত আবদুল জলিল গাইনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রোববার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কৃষ্ণনগর ইউপি সদস্য জলিলের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

এদিকে ময়নাতদন্ত হওয়ার পর জলিলের মরদেহ নিতে রাজি হয়নি তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য। অপরদিকে গ্রামবাসী তাঁর লাশ গ্রামে ঢুকতেও দেয়নি। তারা জলিলকে গ্রামে দাফন করতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত রাত ৮টার দিকে জলিলের লাশ নেওয়া হয় কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি কবরস্থানে। সেখানে তাঁর দাফনের কাজ শুরু হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার রাতে গণপিটুনিতে নিহত জলিল গাইনের লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে রোববার। দিনভর পরিবারের কেউ তাঁর লাশ গ্রহণ করতে আসেনি। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁর লাশ পুলিশ পাহারায় গ্রামের বাড়ি কৃষ্ণনগরের শংকরপুরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গ্রামবাসী তাতে বাধা দেয়। জলিলকে গ্রামে দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে তারা জানিয়ে দেয়। এমনকি তাঁর জানাজাও করতে দেয়নি। এ অবস্থায় জলিলকে কালীগঞ্জ উপজেলা সদরে সরকারি কবরস্থানে দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জলিলকে নিয়ে কৃষ্ণনগরে অস্ত্র উদ্ধারে গেলে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ লোক তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। স্থানীয়ভাবে তাঁর নাম ছিল ডাকাত জলিল ওরফে খুনি জলিল।

ওসি হাসান হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও তিনবারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবদুল জলিল গাইনকে গতকাল শুক্রবার রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে সাতক্ষীরায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জলিলকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য কৃষ্ণনগরে যাওয়া মাত্র হাজার হাজার লোক এসে জোর করে তাঁকে ছিনিয়ে নেয়। ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকটি ফাঁকা গুলি করে।

ওসি জানান, চেয়ারম্যান মোশাররফকে যেখানে হত্যা করা হয়েছিল সেখানেই তাঁর হত্যা মামলার প্রধান আসামি জলিলকে পিটুনি দিয়ে হত্যা করে লোকজন। গণপিটুনি থেকে রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

জলিলের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলাসহ ডাকাতি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য বহন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ঘের দখল এবং ধর্ষণের অভিযোগে ১২টি মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি হাফিজুর।

গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে কৃষ্ণনগর বাজারে যুবলীগ কার্যালয়ে বসে থাকাকালে চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেনকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় একই ইউপির সদস্য আবদুল জলিল গাইন ওরফে ডাকাত জলিল ওরফে খুনে জলিলকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন নিহতের মেয়ে সাথিয়া পারভিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গোপন প্রতিবেদনে ১৩ মন্ত্রী সরকারে প্রশংসিত

দেশের খবর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। দেশকে এ অবস্থায় উন্নীত করতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার কোন সদস্য দায়িত্ব পালনে কতটা দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন, সেই আমলনামা এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে। বিভিন্নভাবেই তিনি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সাফল্য মূল্যায়ন করেছেন। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই গঠিত হতে পারে নির্বাচনকালীন সরকার। এমনকি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করলে তৃতীয় মেয়াদের সরকারে কারা থাকবেন তাও হতে পারে এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বর্তমান মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজনের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তাঁরা কেন সফল তা উল্লেখ করা হয়েছে ওই সব গোপন প্রতিবেদনে।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় ৩৩ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুজন উপমন্ত্রী আছেন। এ ছাড়া মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মন্ত্রীর মর্যাদায় উপদেষ্টা আছেন আরো পাঁচজন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত: অর্থমন্ত্রী হিসেবে সফলতার সঙ্গে টানা ১০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। পর পর দুই মেয়াদে টানা ১০ বার জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করে রেকর্ড গড়েন তিনি। প্রতিবারই বাজেটের আকার বেড়েছে। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট দেন মুহিত। এটি তাঁর ১২তম বাজেট। কারণ শেখ হাসিনার সরকারের দুই মেয়াদের আগেও এরশাদ আমলে অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১৯৮২-৮৩ এবং ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে দুই দফা বাজেট পেশ করেছিলেন তিনি।

২০০৯ থেকে শুরু করে ১০ বছরে দেশের অগ্রযাত্রা কেবল শক্তিশালী নয়, জনকল্যাণকরও বটে। এই ১০ বছরে উন্নয়নশীল অর্থনীতির গড় প্রবৃদ্ধির হার যেখানে ৫.১ শতাংশ, তখন বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার হচ্ছে ৬.৬ শতাংশ। সরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে ৪.৩ শতাংশ থেকে ৮.২ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ৭৫৯ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৫২ ডলারে। মূল্যস্ফীতি ১২.৩ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৫.৮ শতাংশ। রাজস্ব জিডিপির অনুপাত বেড়েছে ৯.২ শতাংশ থেকে ১০.৩ শতাংশে।
স্পষ্টবাদী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী মুহিত পরিবেশ সচেতনও।

আমির হোসেন আমু: পরিবেশ অধিদপ্তরের কালো তালিকায় থাকা হাজারীবাগের সব ট্যানারি সাভারে স্থানান্তর করতে আদালতের নির্দেশ থাকলেও এক যুগের বেশি সময় ধরে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছিল না। আমির হোসেন আমু শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তাঁর কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে হাজারীবাগ থেকে সব ট্যানারি সাভার চামড়া শিল্পনগরে স্থানান্তর সম্ভব হয়। চামড়া খাতের বিকাশে দেশে আরো দুটি চামড়া শিল্পনগরী গড়ারও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

এ সময়ে দেশে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। কোথাও সারের ঘাটতি হয়নি। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার সব সার কারখানা সচল রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুরো শিল্প খাতে গতিশীলতা আনতে যথাসময়ে শিল্পনীতি চূড়ান্ত করা হয়। প্রায় ১৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সহায়ক মোটরসাইকেল নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাহাজ নির্মাণশিল্প নীতিমালা এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী। এ নীতিমালা চূড়ান্ত হলে নতুন কর্মসংস্থান হবে। আমির হোসেন আমু শিল্পমন্ত্রী হওয়ার পর ইলিশ মাছের স্বত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আরো ২১টি পণ্যের স্বত্ব অর্জন চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।

তোফায়েল আহমেদ: দেশে বেসরকারি খাতের সার্বিক উন্নয়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব ‘লিয়াজোঁ মিনিস্ট্রি’ হিসেবে খ্যাত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে এ মন্ত্রণালয় রয়েছে মুখ্য ভূমিকায়। ফলে এই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করাটাও এক রকম চ্যালেঞ্জেরই। নানা সীমাবদ্ধতা নিয়েও এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গত পাঁচ বছরে দেশে ব্যবসা উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে দারুণভাবে সফল হয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়ীদের পুঞ্জীভূত বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধানে বেশি নজর দেন। এতে বেসরকারি খাতের দ্রুত উন্নতি ঘটেছে। বেড়েছে পণ্য উৎপাদন ও শ্রমিকের দক্ষতা। পণ্যের জোগান বাড়ায় দ্রব্যমূল্যও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে।

রপ্তানিপণ্যে প্রণোদনা অব্যাহত রাখায় চার বছরের ব্যবধানে রপ্তানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রায় চার হাজার ১০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও পণ্যের গুণগত মানোন্নয়নে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর নগদ সহায়তা ২৭ খাত থেকে বাড়িয়ে ৩৬টি করা হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির কার্যক্রম সচল আছে। সাস্টেইনেবল কমপ্যাক্ট ও কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পাওয়া জিএসপি হাত ছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাণিজ্যমন্ত্রীর কৌশলী অবস্থান, গ্রহণযোগ্যতা ও দৃঢ়তার কারণে তা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রাথমিক স্বীকৃতি লাভের পর বাংলাদেশ এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছে।

মতিয়া চৌধুরী: নতুন আবাসন গড়া, শিল্প-কারখানা স্থাপনসহ নানা কারণে প্রতিবছর কৃষি জমি কমে যাচ্ছে ১ শতাংশ হারে। এ অবস্থায় ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। গত ১০ বছরে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে। এ সময়ে মতিয়া চৌধুরীর একক নেতৃত্বে কৃষি খাত একটি স্থিতিশীল অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। এই স্থিতিশীলতা শুধু কৃষিপণ্য উৎপাদনে নয়, এসেছে পণ্যের পুষ্টিতেও। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এই খাতকে স্থিতিশীলতা দেওয়ার জন্য কৃষিমন্ত্রী সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন। জোট সরকারের আমলের সার ব্যবস্থাপনা নীতি পাল্টে তিনি সমন্বিত নীতিমালা করেছেন। আগে ইউনিয়ন পর্যায়ে সারের ডিলার ছিল। নতুন নীতিমালায় ওয়ার্ড পর্যায়ে ডিলারদের ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নীতিমালার পরই দেশ থেকে সার সংকট দূর হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রীর উদ্যোগে কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো হয়েছে। সার ছাড়া ভর্তুকি চালু করা হয়েছে রবিশস্য চাষে উৎসাহিত করার জন্য। কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানি করতে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, পাওয়ার থ্রেসারের মতো যন্ত্রপাতি ২৫ শতাংশ কম দামে কৃষকদের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। কৃষি যন্ত্রপাতির প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সেচ, গবেষণাসহ বিভিন্ন সেক্টরে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য দেশের বৃহত্তম বীজবর্ধন খামার স্থাপন করা হয়েছে মন্ত্রীর উদ্যোগে। তাঁর সময়ে উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনসহ নানামুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে পাটের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ছত্রাক ও পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনে সহায়তা দিয়ে তিনি যুগান্তকারী সাফল্য পেয়েছেন।

মতিয়া চৌধুরীর উদ্যোগে মাত্র ১০ টাকা জমা করে কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গত ১০ বছরে মতিয়া চৌধুরী কৃষি খাতকে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত করেছেন। মতিয়া চৌধুরীর এ সাফল্য কৃষিবান্ধব সরকারের একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

ওবায়দুল কাদের: ২০১২ সালে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের (নতুন নাম সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম আড়াই বছরেই দেশের ৬৪ জেলার ২০৪ উপজেলায় ৩৮১ দিন সড়ক-মহাসড়ক পরিদর্শন করেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি শুধু ঢাকার বিভিন্ন সড়কই পরিদর্শন করেছেন ৩৯ দিন। মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে বসে না থেকে তিনি ছুটে যান মাঠে। সড়কের কাজ পরিদর্শন করে নজির সৃষ্টি করেন তিনি। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে শেষ হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ। সড়কে শৃঙ্খলা আনতে যাত্রীবেশে নিজেই গাড়িতে চড়েছেন, লাইসেন্স পরীক্ষা করেছেন। হঠাৎ হানা দিয়েছেন বিআরটিসি কিংবা বিআরটিএ কার্যালয়ে।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন বাস্তবতা। এই প্রকল্পের কাজ ৫৭ শতাংশ এগিয়েছে। ঢাকার যানজট নিরসনে নেওয়া মেট্রো রেল প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে আগামী বছরের ডিসেম্বর থেকেই। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে বিমানবন্দর সড়ক থেকে বনানী পর্যন্ত। সেটি যাবে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত। দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ের (ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা) কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেলের কাজ এগোচ্ছে। ৮০ শতাংশ মহাসড়কই চলাচলের উপযোগী। প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন সংসদে উঠেছে।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু: পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কে বলা হয়, বাজেটে এই মন্ত্রণালয়ের জন্য যে টাকা দেওয়া হয়, সে টাকা পানিতেই চলে যায়। গত জানুয়ারিতে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মানুষের দীর্ঘদিনের এমন নেতিবাচক ধারণা বদলাতে কাজ করছেন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। প্রতিবছর সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য বাড়তি টাকা চাওয়ার রেওয়াজ ভেঙে এবারই প্রথম মন্ত্রণালয়ের জন্য বাড়তি টাকা চাননি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তাঁর মতে, এডিপিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে যে টাকা দেওয়া হয়েছে, সেটিই যথেষ্ট। গত ১০ মাসে বেড়িবাঁধ নির্মাণ আর ফোল্ডার ছাড়া নতুন কোনো প্রকল্পে হাত দেয়নি মন্ত্রণালয়। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতে, সরকারের শেষ সময়ে নতুন কোনো প্রকল্প নেওয়া ঠিক নয়। বরং পুরনো প্রকল্প যেগুলো ধীরগতিতে চলছে, সেগুলোতে গতি আনাই মুখ্য। সে অনুযায়ী কাজ করছেন তিনি। ‘সীমান্ত নদী সংরক্ষণ’ নামের একটি প্রকল্প দুই বছর ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি আগামী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উঠানোর প্রক্রিয়া করে দিয়েছেন মঞ্জু। অপচয়ের বদনাম ঘুচিয়ে মন্ত্রণালয়কে নিয়ম-কানুন ও কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসছেন তিনি।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এর আগে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন চার বছর। তখন সেখানে কর্মকর্তাদের ‘গাছ চোর’ হিসেবে যে বদনাম ছিল, তা ঘুচিয়েছেন তিনি।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন: পেশায় প্রকৌশলী ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বাংলাদেশের সীমানার বাইরেও চাকরি করেছেন জাতিসংঘের অধীনে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন অবকাঠামো উন্নয়ন বিশেজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। এখন তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। এ মন্ত্রণালয়ের অধীন সবচেয়ে বড় সংস্থা এলজিইডির প্রতিষ্ঠাতা তিনি। চাকরিজীবনের মতো তিনি সফল মন্ত্রী হিসেবেও।

তিন বছর আগে খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর বাজেট ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকায়। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতার কারণেই বাজেট বেড়েছে। তাঁর সময়ে ১০ হাজার কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকা হয়েছে। বর্তমানে ২৮৫টি পৌরসভায় মাস্টার প্ল্যানের আওতায় উন্নয়নকাজ চলছে।

খন্দকার মোশাররফ মন্ত্রী হিসেবে যোগদানের পর এলজিইডি ফ্লাইওভার নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন করেছে। রাজধানীর মগবাজার ফ্লাইওভার এলজিইডির অর্থ ও তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে।

ঢাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া ঠেকাতে খন্দকার মোশাররফ হোসেন পদ্মা নদীর যশোলদিয়া, মেঘনার গন্ধব পয়েন্ট ও সায়েদাবাদ ফেজ-৩ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকায় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেন। ঢাকার খাল উদ্ধারে পৌনে দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া এখন সারা দেশে জমি আছে, ঘর নেই এমন লোকদের গৃহনির্মাণ করে দিচ্ছে এ মন্ত্রণালয়।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন: গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মন্ত্রী হওয়ার পর। দপ্তর, অধিদপ্তরগুলোর কাজে গতি এসেছে। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সুসম্পর্ক বেড়েছে। মন্ত্রণালয়ের সাফল্য দৃশ্যমান হওয়ায় সরকারের সর্বত্র এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রশংসা আছে।

এ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে ২৬টি প্রকল্পের আওতায় ৩০ হাজার ২২০টি প্লট উন্নয়ন করে বরাদ্দ দিয়েছে। ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগরীতে ১৩টি অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্পের আওতায় পাঁচ হাজার ৭৭৫টি অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দিয়েছে। চলমান ২৯টি প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার ৮৫৫টি প্লট তৈরি করা হবে। এ ছাড়া ২১টি প্রকল্পের আওতায় ৩৩ হাজার ১৯১টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে চারটি প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৫১২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯টি প্রকল্পের আওতায় আট হাজার ১৯০টি ফ্ল্যাট নির্মাণকাজ চলছে। ঢাকায় বস্তিবাসীদের জন্য ১১ হাজার ৮৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। মাসিক ভাড়ায় বস্তিবাসীদের এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ দায়িত্ব নেওয়ার পর বেগুনবাড়ীখালসহ হাতিরঝিল এলাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে গতি পায়। গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক বাঁচাতে বিশেষ উদ্যোগ নেন তিনি।

নুরুল ইসলাম নাহিদ: গত ১০ বছরে শিক্ষা খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। বছরের প্রথম দিন বিনা মূল্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন বই। ১০ বছরে একবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতিবছর দেওয়া বইয়ের সংখ্যা ৩৫ কোটিরও বেশি। সারা বিশ্বের চোখেই এটা বিস্ময়। প্রতিবছর দুই কোটি ৬৭ লাখ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ের বৃত্তি, যা অনেক দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। অনেক দেশকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশে এরই মধ্যে শিক্ষায় অর্জিত হয়েছে জেন্ডার সমতা। বিনা মূল্যের বই, উপবৃত্তিসহ সরকারের নানা পদক্ষেপের সুফল মিলছে এখন। সব শিশু স্কুলে যাচ্ছে। শিক্ষায় মেয়েদের আগ্রহ বেড়েছে। এ কারণে কমেছে ঝরে পড়া এবং বাল্যবিয়ে। শিক্ষা খাতে এই বিপ্লবের পেছনে ১০ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

২০০৯ সালে দেশে কারিগরিতে শিক্ষিতের হার ছিল ১ শতাংশেরও কম। বর্তমানে এই হার ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। গত ১০ বছরে ২৪ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মিত হয়েছে। প্রণীত হয়েছে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০। পাবলিক পরীক্ষায় ফিরেছে শৃঙ্খলা। নির্দিষ্ট তারিখেই অনুষ্ঠিত হয় পরীক্ষা, প্রকাশিত হয় ফল। স্কুলে স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এখন স্বপ্ন নয়। মাদরাসা শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। একের পর এক সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে উচ্চশিক্ষায় দেখা দিয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। গবেষণায়ও এসেছে যুগান্তকারী সাফল্য।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দক্ষ ও সফল নেতৃত্বে ১০ বছর ধরে দেশ পরিচালনা করছেন। আমি তাঁর একজন একনিষ্ঠ কর্মী মাত্র। তাই শিক্ষা খাতে যা সাফল্য এর অবদান একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের জনগণও এই সাফল্যের ভাগীদার।’

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি এর মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তখন মন্ত্রণালয়ের নাম ছিল ‘পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়’। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক কাজ এ মন্ত্রণালয়কে করতে হয় বলে মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পর আনিসুল ইসলাম অনুধাবন করেন যে মন্ত্রণালয়ের নামের সঙ্গে ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ বিষয়টি সংযোজন করা হলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। তাঁর হস্তক্ষেপে মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করার প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন হয়। তাঁর ত্বরিত সিদ্ধান্তের কারণে মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে গতিশীলতাও অনেক বেড়েছে। বন বিভাগের নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের দীর্ঘ ও জটিল পদোন্নতি প্রক্রিয়া তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে শেষ করে এনেছেন।

আসাদুজ্জামান খান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সফলতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন আসাদুজ্জামান খান। প্রথমে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তখন মন্ত্রণালয়ে কেউ পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দক্ষ পরিচালনার পুরস্কার হিসেবে ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই আসাদুজ্জামান খানকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সময়ে কাজের সুবিধার জন্য স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ে জননিরাপত্তা এবং সুরক্ষা-সেবা বিভাগ গঠন করা হয়।

এ সময় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) এলআইসি শাখা গঠন করা হয়। বিশেষ অপরাধ তদন্তের জন্য গঠন করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পুলিশের পদমর্যাদা বাড়ানোসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের অভিযানে আসে একের পর এক সাফল্য। নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার কিংবা নিহত হয়। আলোচিত মামলাগুলোর তদন্তও সফলভাবে শেষ করছে পুলিশ। এতে কমেছে জঙ্গি তৎপরতা। সংঘবদ্ধ অপরাধ, হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই ও দস্যুতার হারও কমেছে অনেকখানি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে বন ও জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

আনিসুল হক: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আনিসুল হক। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অপসারণ বিষয়ে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ১৯৭২ সালের আদি সংবিধানে ফিরে যেতে ২০১৪ সালে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করা হয়েছে।

১৭৯৯ থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রণীত সব আইন হালনাগাদ করে কালানুক্রমিক সূচিপত্রসহ ৪২ খণ্ডে বাংলাদেশ কোড প্রকাশ করা হয়েছে ২০১৭ সালে। লজ অব বাংলাদেশ নামে একটি ওয়েবসাইট বানানো হয়েছে, যাতে দেশের প্রচলিত আইনগুলো নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।

সন্ত্রাসবিরোধী মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে। আরো ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করে সেগুলোতে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় একটি সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে।

দরিদ্র-অসহায় মানুষকে সরকারিভাবে আইনি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে টোল ফ্রি জাতীয় হেল্প লাইন ১৬৪৩০ চালু হয়েছে। নিবন্ধন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী নিবন্ধন পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত করা হয়েছে।

নসরুল হামিদ বিপু: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে গত পাঁচ বছরে। আর বিদ্যুতের এই অগ্রগতির পেছনের কারিগর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি হচ্ছে তাঁর হাত ধরেই। ভারত থেকে এক হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হয়েছে নসরুল হামিদের আমলে। এলপিজির দাম সহজলভ্য করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন বিপু। দেশের ৯২ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে গত পাঁচ বছরে। চলতি বছরের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে। মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পটুয়াখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজে গতি আনতে কাজ করেছেন বিপু। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশ ঘটেছে তাঁর সময়ে।

বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সারা দেশে বিদ্যুতের শতাধিক প্রকল্প চলমান। মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু নসরুল হামিদের হাত ধরেই। বিদ্যুৎ বিভাগ ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এ ছাড়া দেশে ২০৩০ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাজ করছেন নসরুল হামিদ।

দশ বছর আগে দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক ছিল এক কোটি আট লাখ, উৎপাদনক্ষমতা ছিল চার হাজার ৯৩২ মেগাওয়াট। এখন গ্রাহক তিন কোটিতে উন্নীত হয়েছে। উৎপাদনক্ষমতা বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার ৯০২ মেগাওয়াট অর্থাৎ চার গুণ। বিদ্যুতের প্রকৃত উৎপাদন দশ বছর আগে ছিল তিন হাজার মেগাওয়াট, সেটি এখন ১১ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest