সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরা কম্পিউটার সমিতির নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর ও সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কালিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্যদেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিনসাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালাআশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসিদেবহাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিমের মৃত্যুরেকর্ডীয় সম্পত্তিতে জোর পূর্বক ঢালাই রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধেতালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনআশাশুনিতে অবঃ শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম গঠন

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের ‘নালিশ’ গ্রহণ করেছেন প্রধান বিচারপতি

দেশের খবর: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি করতে কারাগারের ভেতরে স্থাপিত বিশেষায়িত আদালতের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের কাছে নালিশ করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তিনি নালিশ গ্রহণ করে বিষয়টি দেখবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেছেন। রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন। এর আগে কারাগারের ভেতরে বিশেষ আদালত স্থাপনের বিষয়ে নিজেদের আপত্তির কথা প্রধান বিচারপতিকে জানান এ আইনজীবীরা।
জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা মনে করেছি দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও সংবিধানের অভিভাবক সুপ্রিম কোর্ট। আর সুপ্রিম কোর্টের অভিভাবক হলেন প্রধান বিচারপতি। তাই কারাগারের ভেতরে আদালত স্থাপনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা না করে এ ধরনের কোনও প্রজ্ঞাপন সরকার জারি করতে পারে না। তাই এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাত করে আমরা বলেছি, ‘প্রধান বিচারপতি আপনি বিচার বিভাগের অভিভাবক। আমরা মনে করি, মাসদার হোসেন মামলার মধ্য দিয়ে আপনার সুপ্রিমেসি ও সুপ্রিম কোর্টের সুপ্রিমেসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আপনার সঙ্গে আলোচনা ছাড়া রাতের অন্ধকারে গেজেট করে এ ধরনের আদালত স্থাপন হতে পারে না।’
তিনি জানান, প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা প্রধান বিচারপতি ধৈর্য সহকারে আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। তিনি (প্রধান বিচারপতি) তার ক্ষমতাবলে এ বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘হঠাৎ করে রাতের বেলা আইন বহির্ভূতভাবে জেলখানার একটি কক্ষকে কারাগার হিসেবে পরিগণিত করে একটি অস্থায়ী আদালত স্থাপন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের বিধান থাকলেও সেটি করা হয়নি। বিষয়টি আমরা প্রধান বিচারপতিকে জানিয়েছি।’
জয়নুল আবেদীন অভিযোগ করে বলেন, ‘গত তারিখে (জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানিতে) অসুস্থ অবস্থায় জোর করে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। বলতে গেলে খালেদা জিয়া বসতে পারেন না, দাঁড়াতে পারেন না, হাঁটতে পারেন না। এ অবস্থায় তাকে হাজির করা হয়েছে। আইনজীবীদের কোনও জুডিশিয়াল নোটিশ পর্যন্ত করা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে একটি জুডিশিয়াল আদেশ দিয়ে আইনজীবীদের একটি নোটিশ করতে হয়, সেই নোটিশ পর্যন্ত করা হয়নি। যেহেতু এটি ওপেন ট্রায়ালও না, সেই কারণে আমরা সেখানে উপস্থিত হতে পারিনি। একই কারণে এই আদালত আবার ১২ সেপ্টেম্বর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।’
বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমরা মনে করেছি সংবিধানের অভিভাবক হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। আর সুপ্রিম কোর্টের অভিভাবক হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি। সুতরাং এই ধরনের গেজেট নোটিফিকেশন ১৯ (বি) চ্যাপ্টার ১ সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ হাইকোর্ট রুলস ১৯৭৩ অনুসারে এটি সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা না করে এই ধরনের কোর্ট স্থাপনের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে না। এই কথাগুলো আমরা (প্রধান বিচারপতিকে) বলেছি।’
তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতিকে আমরা বলেছি, আপনার সঙ্গে আলোচনা না করে রাতের অন্ধকারে এই ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি বিচার বিভাগের জন্য খুবই দুঃখজনক। কোনও বিচারালয় এইভাবে স্থানান্তর করা যায় না। প্রধান বিচারপতি আমাদের কথা শুনেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধান বিচারপতি আমাদের আবেদন গ্রহণ করেছেন। আমরা আশাবাদী। তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন।’
লিখিত আবেদনে প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা আপনার কাছে অনুরোধ করছি, যারা বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং যে বিচারিক কর্মকর্তা তার বিচারিক সীমা লঙ্ঘন করেছেন- তাদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) ১৯৭৩ বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
এর আগে, রবিবার দুপুরে (৯ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মীর নাছির, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদলসহ বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। এ সময় তারা লিখিতভাবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ভালো না উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বরাবর আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি হাঁটতে পারেন না, যা সরকারও স্বীকার করেছে। তবুও সরকার তার যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কেউ হঠাৎ অজ্ঞান হলে যা করণীয়

অনলাইন ডেস্ক: বাড়িতে বা অফিসে হঠাৎ কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়লে রীতিমতো হুলুস্থুল শুরু হয়ে যায়। কেউ মাথায় পানি ঢালতে থাকে, কেউ পায়ের তালুতে তেল ঘষে, কেউ মুখের ভেতর কিছু দিয়ে মুখ খোলার চেষ্টা করে। আসলে জানা উচিত, এই মুহূর্তে কীভাবে আশপাশের লোকজন দায়িত্বশীল আচরণ করবেন।

এক. প্রথম কাজ হবে জরুরি সেবাদানকারীকে ফোন করা। এখন বাংলাদেশেও ৯৯৯ নম্বরে কল করে জরুরি সেবাদানকারীদের ডাকার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এ ছাড়া অনেক অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস আছে যাদের ফোন করলে দ্রুত বাড়ি পৌঁছে যায়। প্রথমেই এই কাজ করে ফেললে সেবাদানকারী এসে পৌঁছানো পর্যন্ত বাকি কাজগুলো করার সময় পাওয়া যাবে।

দুই. অজ্ঞান ব্যক্তিকে ভালোভাবে শুইয়ে দিন। ধারালো বস্তু, রান্নাঘর, আগুনের উৎস ইত্যাদি বিপজ্জনক জিনিস থেকে দূরে সরিয়ে আনুন। সম্ভব হলে এক দিকে কাত করে দিন, যাতে মুখে, গলায় যে লালা বা নিঃসরণ আছে, তা বেরিয়ে আসতে পারে।

তিন. বুকের ওঠানামা থেকে লক্ষ করুন রোগী শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছে কি না। যদি বাড়িতে বা আশপাশে কারও জানা থাকে কীভাবে মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস চালু করতে হয়, তবে তাঁকে ডাকুন।

চার. আজকাল প্রায় সব বাড়িতেই রক্তচাপ মাপার যন্ত্র থাকে। রক্তচাপ খুব কম হলে বা পাওয়া না গেলেও পায়ের দিকটা একটু উঁচু করে দিন বা পায়ের নিচে বালিশ দিন।

পাঁচ. ডায়াবেটিসের রোগী হলে গ্লুকোমিটার দিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন রক্তে শর্করা কমে গেছে কি না। যদি যন্ত্র না-ও থাকে, তবু মুখের ভেতর একটু চিনি দিয়ে দেওয়া ভালো। কিন্তু অজ্ঞান রোগীকে কোনো শরবত বা খাবার গেলানোর চেষ্টা করবেন না, এতে সেই খাবার পানি ফুসফুসে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ছয়. রোগীর খিঁচুনি শুরু হলে আতঙ্কিত না হয়ে খিঁচুনি থামতে দিন, তারপর এক পাশে কাত করে দিন। মুখে কোনো চামচ বা এ জাতীয় জিনিস ঢোকানোর চেষ্টা করবেন না। জোর করে ধরে খিঁচুনি থামানো বা নাকের কাছে বিভিন্ন জিনিস শোঁকানোর চেষ্টা করে লাভ নেই।

সাত. অযথা ভিড় বাড়িয়ে ও চেঁচামেচি করে লাভ নেই। বরং এটি অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের কারণে হয়ে থাকলে রোগীর সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

সবশেষ কথা, নানা কারণেই একজন সুস্থ-সবল মানুষ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন। যে কারণেই হোক, জ্ঞান ফিরে আসুক আর না আসুক তাকে প্রাথমিক পরিচর্যার পর যেকোনো হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চেয়ারম্যান মোশারফের মৃত্যুতে শোক ॥ খুনীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি

 

সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক সাংগঠনিক, কালিগঞ্জ উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেন কে গত ৮ সেপ্টেম্বর’১৮ তারিখ রাতে দুবর্ৃৃত্তের গুলিতে নিহত হন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আজহার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশু, সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান টুকু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালিদুর রহমান, লালু, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আনোয়ার জাহিদ তপন, পৌর জাপার সভাপতি সৈয়দ মাহমুদ পাপা, জেলা জাপার সদস্য কানাই লাল সাহা, দপ্তর সম্পাদক কাজী তাহের, জেলা নেতা একরামুল মোসলেমিন দাদু, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহবায়ক আনোয়ার হোসেন আনু, জেলা যুব সংহতির সভাপতি শাখওয়াতুল করিম পিটুল, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, সহ-সভাপতি আশিকুজ্জামান বাপ্পি, সাইফুল ইসলাম, জাহিদুর রহমান, জেলা ছাত্রসমাজের সভাপতি কাইছারুজ্জামান হিমেল, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলম আল রাজি রাজ, দপ্তর সম্পাদক আশিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি নাহিদুর রহমান রিমন, ইকবাল হোসেন রনি, উপজেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি আশরাফুজ্জামান রকি, সাধারণ সম্পাদক কায়মুজ্জামান পাভেল, পৌর ছাত্র সমাজের আহবায়ক মাসুদ রানা মনা, সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন রুমি। এসময় নেতৃবৃন্দ এই নৃশংস হত্যার তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা এবং অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সদর উপজেলা জাতীয় পার্টি
জেলা জাতীয় পার্টির সংগঠনিক সম্পাদক ও কালিগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান এ.কে.এম মোশারফ হোসেন শনিবার রাতে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা বাজারে দুর্বৃত্তের হাতে নিহত হন। তিনি নিহত হওয়ায় সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় পার্টি একজন সুদক্ষ সংগঠককে হারানোর পাশাপাশি কৃষ্ণনগর ইউনিয়নবাসী তাদের দরদি নেতাকে হারালো। কে.এম. মোশারফের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি শোক জ্ঞাপন ও তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন, জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি সালাম সরদার, সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক সরদার মজিদ, জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মঈনুর রশিদ, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর জাতীয় পার্টির সদস্যসচিব শেখ আব্দুস ছাদেক, জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব শেখ শরিফুজ্জামান বিপুলসহ সদর উপজেলা জাতীয় পার্টি ও জেলা জাতীয় পার্টির সকল নেতৃবৃন্দ। সাথে সাথে ওই খুনিদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতার এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আইডিবিকে পাশে থাকার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের খবর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিপীড়িত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যখন জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি, তখন আইডিবি চুপ থাকতে পারে না। কাজেই জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে স্বদেশে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করার জন্য আইডিবিকে আমি দৃঢ়ভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।
ঢাকায় আইডিবির ‘রিজিওনাল হাব’ উদ্বোধন উপলক্ষে আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেল আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে একটি মানবিক সংকট মোকাবিলা করছে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত উম্মুক্ত করে দিয়ে তাদের প্রবেশ করতে দিয়েছে। নিজস্ব সম্পদ, বাস্তুসংস্থান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে জানা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করতে দিয়েছে।
মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, এখন আমরা তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠাতে চাই।
দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সাফল্য ও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত যে কোনো ইস্যুতে বাংলাদেশ অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ড. বন্দর এম. এইচ. হাজ্জার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়া ইউ এন ও মনিরা পারভীনের বিদায়ী সংবর্ধনা

 

মেহেদী সোহাগ :

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা পারভীনকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা পরিষদ। রবিবার ১২টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদায়ী অতিথি সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীনকে  ক্রেস্ট ও বিশেষ উপহার সামগ্রি দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আরাফাত হোসেন ও সেলিনা আনোয়ার ময়না, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল এবং পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম ।এসময় জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন আল মাসুদ বাবু, জালালাবাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, কয়লা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ইমরান হোসেন, লাঙ্গলঝাড়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসালাম, কেঁড়াগাছি ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল, সোনাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মনিরুল ইসলাম মনি, চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি, কেরালকাতা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ সরদার, কুশোডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আসলামুল আলম আসলাম, দেয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মফে, যুগিখালী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হাসানসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, মনিরা পারভীন চুয়াডাঙ্গায় এডিসি পদে বদলি হয়েছেন বলে জানাযায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ার কেঁড়াগাছিতে ১০টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ
মেহেদী সোহাগ :
ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কলারোয়ার কেঁড়াগাছি ইউনিয়নে ১০টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার  সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় দমদম বাজারের ডিলার পয়েন্টে দরিদ্রদের মাঝে এ চাল বিতরণের উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন। এ ইউনিয়নের ১হাজার ১’শ ১৮টি কার্ডধারীদের মাঝে মাথাপিছু ৩০কেজি করে পর্যায়ক্রমে সপ্তাহে ৩দিন ১০টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করা হবে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন- ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে ১০ টাকা দরে দারিদ্র পরিবারকে চাল পৌঁছে দিতে এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশে কেউ আর দু:স্থ থাকবে না। আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য, নিজেদের জন্য নয়।’ উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট চান তিনি। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- কেঁড়াগাছি ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল, ইউপি সদস্য রন্জীলা কুদ্দুস, আ.লীগ নেতা জিয়ারুল ইসলাম, রুহুল কুদ্দুস, রজব আলী সরদার, সারোয়ার হোসেন, ডিলার ওমর আলী, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম লিটন, ফারুক হোসেন রাজ প্রমুখ।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মেরিল স্ট্রিপ পুরস্কার ঐশ্বরিয়ার

বিনোদনের খবর: ‘মেরিল স্ট্রিপ পুরস্কার’ পাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। ‘উইমেন ইন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্ডিয়া’ প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার ঘোষণা করে। হলিউড ও বলিউডের সেরা নারী ব্যক্তিত্বকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
‘উইমেন ইন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন’ (ডব্লিউআইএফটি) বিশ্বব্যাপী একটি সংগঠন। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে নারীদের সহযোগিতা ও তাঁদের কাজ প্রচার করে থাকে। সংগঠনটিতে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে ভারত। এবার তারা আয়োজন করে পুরস্কার দিচ্ছে। সেখানেই ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন পাচ্ছেন ‘মেরিল স্ট্রিপ এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড’। পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে ওয়াশিংটন ডিসির হায়েট রিজেন্সিতে। মেরিল স্ট্রিপ নিজেও ১৯৯৮ সালে এই সংগঠন থেকে ক্রিস্টাল অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার পান। ডব্লিউআইএফটি ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে হলিউড রিপোর্টার বলছে, বিনোদনশিল্পে নারীর ভূমিকাকে প্রসারিত করার সম্মানস্বরূপ এই পুরস্কার ঐশ্বরিয়াকে দেওয়া হবে।

শ্বরিয়া ছাড়াও এই আসরে সম্মানিত হচ্ছেন পরিচালক জোয়া আখতার, অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর ও প্রযোজক ক্যাথরিন হ্যান্ড। জোয়া আখতার ভূষিত হচ্ছেন ওয়াইলার অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স পুরস্কারে। পুরস্কারটি দেওয়া হচ্ছে অস্কারজয়ী পরিচালক উইলিয়াম ওয়াইলারের নামে, যিনি রোমান হলিডে ও বেন-হুর সিনেমার পরিচালক। জাহ্নবী কাপুর ভূষিত হচ্ছেন এমরালড অ্যাওয়ার্ডে। অভিষেক ছবিতে ভালো পারফরমেন্সের জন্য দেওয়া হচ্ছে এই পুরস্কার। এ ছাড়া ক্যাথরিন হ্যান্ডকে দেওয়া হচ্ছে প্রোডিউসার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড। আ রিংকল ইন টাইম চলচ্চিত্রের জন্য তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

‘উইমেন ইন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন’ নামে ডব্লিউআইএফটি ১৯৭৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি বিশ্বব্যাপী গণযোগাযোগের ক্ষেত্রে নারীর অনন্য দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে এবং এর প্রচার করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ম‌নোনয়ন পা‌চ্ছেন না আ. লী‌গের অ‌নেক মন্ত্রী-এম‌পিরা

দেশের খবর: টানা দুই মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এই সময়ে দলটির সাংসদদের কেউ কেউ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। কারও বয়স হয়েছে। কেউ কেউ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে আছে দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। এ কারণে বিএনপি নির্বাচনে না আসায় গতবার ভোটে জেতা আওয়ামী লীগের জন্য যতটা সহজ ছিল, এবার জয়লাভ করা ঠিক ততটাই কঠিন হবে। এসব কারণে বর্তমান সংসদের সরকারদলীয় অনেক সাংসদের মনোনয়নই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তবে দলের দায়িত্বশীল নেতারা এও বলছেন, স্থানীয় বা জাতীয়ভাবে সুখ্যাতি না থাকলেও দলের প্রয়োজনে বেশ কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন-দৌড়ে টিকে যেতে পারেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য বলেছেন, তৃণমূল থেকে আসা নামের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে দলীয় প্রধান বিভিন্ন উৎস থেকে একটা ধারণা নিয়ে রেখেছেন। সেখানে সংসদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদ, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী স্থানীয়ভাবে দলে ও সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন বলে ধারণা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, এ কারণে প্রধানমন্ত্রী সাংসদদের স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তা প্রমাণের জন্য মৌখিকভাবে বলে দিয়েছেন। নয়তো এঁরা মনোনয়ন পাবেন না।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য বলেন, তাঁদের দল ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। স্বাভাবিকভাবেই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নিয়েই বেশি সমালোচনা হবে। এ কারণে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব চাইছে প্রার্থী বাছাইয়ে অন্য দলগুলোর চেয়ে নিজেদের এগিয়ে রেখে ভোটের শুরুতেই মানুষকে চমক দেওয়া। সাধারণ মানুষকে এই বার্তা দেওয়া যে আওয়ামী লীগের যাঁরা জনবিচ্ছিন্ন, যাঁদের সম্পর্কে জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে নেতিবাচক ধারণা আছে, আওয়ামী লীগ তাঁদের পছন্দ করছে না। ওই নেতা বলেন, এবার মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান মাপকাঠি ধরা হয়েছে স্থানীয়ভাবে প্রার্থীর ‘জনপ্রিয়তা’কে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় কিছু পেশাজীবীকে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। আর বিএনপি ভোটে এলে জোটের শরিকদের জন্য বেশ কিছু আসন ছাড়তে হবে। এ কারণে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ভোট করে জিতে আসা প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ৮০ জন আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না। বাদ পড়ার তালিকায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীও থাকবেন বেশ কয়েকজন।

বর্তমান সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংসদ ২৩৩ জন। অন্যরা জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, তরিকত ফেডারেশন, বিএনএফ ও স্বতন্ত্র সাংসদ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ের সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী নির্বাচনে শরিকদের জন্য ৭০টির মতো আসনে ছাড় দেওয়া হবে। আর মনোনয়ন দেওয়ার মাপকাঠি হবে প্রার্থীরা জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু বা তাঁর জনপ্রিয়তা কেমন তার ওপর। গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে আসা প্রার্থীদের অনেকেই থাকবেন বেশি ঝুঁকিতে। অর্থাৎ মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় এঁদের সংখ্যাই বেশি হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সাংসদ হয়েছেন—এমন ৮০ থেকে ১০০ জন নেতা একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাবেন না। এই তালিকায় বর্তমানে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার অনেকে আছেন। তাঁদের বাদ পড়ার মূল কারণ হতে পারে তাঁরা এলাকা এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। এলাকার জনগণের মধ্যে তাঁদের বিষয়ে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। এই নেতারা দলীয় এবং সরকারি কাজের চেয়ে ‘নিজেদের দিকে’ নজর দিয়েছেন বেশি, যার কারণে তাঁরা এবার মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন। এ ছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সাংসদদের নিজেদের সক্ষমতার পরীক্ষা দিতে হবে বলেও তাঁরা জানান। এক প্রশ্নের জবাবে সভাপতিমণ্ডলীর ওই সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিটি নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের মানদণ্ড থাকে। যে প্রার্থী নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে পারেননি, তাঁদের বদলে নতুন প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও সে রকম হতে পারে। তিনি বলেন, এবার নির্বাচনে বেশ কিছু তরুণকে প্রার্থী করা হবে। যাঁরা এবারই প্রথম ভোট করবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার জনপ্রিয় ব্যক্তিদের আনা হবে। তা ছাড়া বিএনপি ভোটে এলে জোটের আকার বাড়িয়ে শরিকদের জন্য কিছুটা ছাড় দিতে হতে পারে।
সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য বলছেন, ‘যাঁদের পজিশন খারাপ হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এটিই মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ তিনি বলেন, এলাকায় যাঁদের দুর্নাম আছে, জনগণের সমর্থন নেই, তাঁরা মনোনয়ন পাবেন না। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলেও তিনি মনে করেন। সে ক্ষেত্রে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারেও অনেক বেশি হিসাব-নিকাশ হবে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে আছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না, সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট করেনি দলটি। এ ছাড়া দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সাজাপ্রাপ্ত। তিনি বর্তমানে লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে বসবাস করছেন। বিএনপির দুটি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতা দলে না থাকলেও বিএনপির নেতারা নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক। এর আগে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে এসেছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারের কাজ অনেক আগেই শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বিভাগীয় ও জেলা শহর সফর করেছেন। এসব সফরে তিনি দলের হয়ে জনগণের কাছে ভোট চেয়েছেন এবং আওয়ামী লীগকে আরেকবার ক্ষমতায় আনার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার আওয়ামী লীগে উত্তরাঞ্চল সফরকে ‘নির্বাচনী যাত্রা’ বলেই উল্লেখ করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার কারণে বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ভেতরের বিভেদ অনেকটা প্রকাশ্য। কোনো কোনো জেলায় বিভেদ এত বেশি যে, সেসব জেলায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এড়িয়ে সাংগঠনিক কাজ করা, দলের সিদ্ধান্ত না মেনে দলের বিপক্ষে কাজ করা, দলের চাওয়া অনুযায়ী কাজ না করে নিষ্ক্রিয় থাকা—এসব বিষয় সামনে রেখে আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, এবার নির্বাচনে তিনি কাউকে পার করিয়ে আনতে পারবেন না। এ ছাড়া অনেক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও আছে। দুর্নীতির বিষয়ে আওয়ামী লীগ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কারণে এবার যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাঁরাও আর মনোনয়ন পাবেন না।

২০১৭ সালে ৭ মে সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির ভোটের দায়দায়িত্ব তিনি নিয়েছিলেন। কিন্তু এবার নেবেন না। যারা আবার নির্বাচিত হতে চান তাদের নিজেদের যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest