অসুস্থ রিকশাচালককে নিয়ে হাসপাতালে ছুটল শিক্ষার্থীরা

ভিন্ন স্বাদের সংবাদ: রাজধানীর ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থীরা সমবেত আন্দোলন করছিল। এসময় এক রিকশাচালক অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীরা রিকশাচালককে তার রিকশায় উঠিয়ে নেয় দুই ছাত্র। এরপর আরেক ছাত্র রিকশা চালাতে শুরু করে। আরও দুইজন ছাত্র রিকশাকে সাইড দেওয়ার জন্য চিল্লাতে থাকে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এমনই একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আহত রিকশাচালকের নাম জানা যায়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার মিরপুর রোডে অবস্থিত ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কাছে। তবে কীভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে রিকশাচালক তা জানা যায়নি। কিশোর শিক্ষার্থীদের অসুস্থ রিকশাচালককে হাসপাতালের নেওয়ার তৎপরতা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা পাচ্ছে।

বুধবারও শিক্ষার্থীদের এমন কর্ম তৎপরতা চোখে পড়ে। রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও ধানমন্ডি এক নম্বর রোডে রিকশাকে সারবদ্ধ চলাচল করতে বাধ্য করে। পরে দেখা যায় শৃঙ্খল হয়ে রিকশা চলাচল করছে। ঢাকার বুকে এমন দৃশ্য বিরল। কোথাও কোথাও উল্টোপথের গাড়িকে আটকে দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। সোজা ও সঠিক পথে চলতে বাধ্য করা হয়। লাইসেন্স বিহীন গাড়ি চলতে বাধা দেওয়া হয়। এমন নানা ঘটনা চোখে পড়ে বুধবার।

এর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা চোখে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। যখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একের পর এক গাড়ি আটকে দিচ্ছিল, অবরোধ করছিল- তখন একদল শিক্ষার্থী দায়িত্ব নিয়ে অসুস্থ ও বয়স্ক নারী পুরুষের রিকশা এসকর্ট করে পার করে দিচ্ছিল। এমন বোধ কিংবা মানবিকতা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

অসুস্থ রিক্সাওয়ালা মামাকে ছাত্ররা হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।আর কি দেখাবি তোরা ভাই? তোরাই এদেশের সম্পদ

Posted by Maruf Hossain on Thursday, 2 August 2018

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১৬ লাখ অবৈধ চালক রাস্তায় : পুলিশ ব্যর্থ, ধরছে শিক্ষার্থীরা

দেশের খবর: মোটরযান অধাদেশ অনুসারে গাড়ি চালাতে গেলে লাইসেন্স থাকতেই হবে, চালক সে যেই হোন না কেন। ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত তদারকি চালিয়ে নিশ্চিত করবে, লাইসেন্সহীন কোনো চালক গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে নেই। কিন্তু রাজধানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন ও ঢাকা মহানগর পুলিশের লাইসেন্স ধরার অভিযান নেতিয়ে পড়েছে। অবস্থা এমন—যে পুলিশ লাইসেন্স ধরবে, সেই পুলিশের গাড়িরও লাইসেন্স থাকে না। শৃঙ্খলাহীনতার এই চিত্রটি বুধবার কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামা শিক্ষার্থীরা মানুষের প্রাণ বাঁচাতে গতকাল লাইসেন্সহীন চালকদের গাড়ি আটকে দেয়। তারা যেন নেমেছে পুলিশের ভূমিকায়। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ধানমণ্ডিতে হারুন আই হাসপাতালের সামনে পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের একটি পিকআপ চালকের কাছে শিক্ষার্থীরা ‘লাইসেন্স’ পায়নি। গাড়িচালক পুলিশ কনস্টেবল অরবিন্দ সমাদ্দার অবশ্য জবাব দেন—‘কাজের সময় আমরা লাইসেন্স নিয়ে বের হই না। কাগজ অফিসে থাকে।’ অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পিকআপটি ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

গতকাল ধানমণ্ডি, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, ফার্মগেট, বিমানবন্দর সড়কের খিলক্ষেত, মিরপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা অভিযান চালায়। মিরপুর-২ নম্বর থেকে সকাল ১১টায় মোটরসাইকেলে রওনা দিয়ে বিকেল ৪টায় কুড়িল পর্যন্ত আসতে পারেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, পথে কমপক্ষে ২০টি স্থানে শিক্ষার্থীরা তাঁর লাইসেন্স চায়।

বিআরটিএর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশে ১৬ লাখ ৩৬ হাজার যানবাহন চালানো হচ্ছে বৈধ চালক ছাড়া। একটি গাড়িতে একজন চালক থাকবে—এ হিসাব করে এ তথ্যটি বের করা হয়েছে।

বিআরটিএ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত জুন পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত গাড়ি দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭০টি। অথচ বিআরটিএ থেকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৯ লাখ। সে হিসাবে সাড়ে ১৬ লাখের কাছাকাছি গাড়ি চলছে বৈধ চালক ছাড়া। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চালকের সহকারী গাড়ি চালায়।

এ ছাড়া রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী, মিরপুর-১০, ফার্মগেট, জিগাতলাসহ বিভিন্ন স্থানে কিশোর চালকরা লেগুনা চালায়। আইন অনুসারে ১৮ বছর না হলে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায় না। অথচ ১৮ বছরের নিচের শিশু-কিশোররা যাত্রী পরিবহন করছে। তাদের একজন জসিম উদ্দিন গতকাল মহাখালী মোড়ে আলাপকালে বলে, লাইসেন্স লাগে না, পুলিশ ধরলে ৩০০ টাকা দিলেই হয়।

২০০৯ সালে প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯৭ শতাংশ চালক ওস্তাদের সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করে গাড়ি চালানো শিখেছে। তাদের ১৩ শতাংশ নিরক্ষর, ৪৭ শতাংশের প্রাথমিক শিক্ষা ও ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে। পরীক্ষা না দিয়েই ৬১ শতাংশ চালক লাইসেন্স নেয়। ওই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রেজাউল হক। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক আমাদের বহুদিনের দাবি। এবার সাধারন শিক্ষার্থীরা জেগেছে।’

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য দিলেই তা লুকিয়ে রাখতে চায় সরকার। আসলে লুকিয়ে রেখে লাভ হয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এরই মধ্যে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।’

বিআরটিএর সচিব শওকত আলী বুধবার দুপুরে জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ১৯ লাখ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে নিবন্ধিত প্রায় ৩৫ লাখ গাড়ির বিপরীতে। অনেক লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। নবায়ন করা হলে চালক বৈধ হবে।

রাজধানীতে প্রায় আট হাজার বাস চলাচল করে। এসব গাড়ির চালকের বৈধ লাইসেন্স নেই প্রায় ৪০ শতাংশের। এসব বাসের ৮৮ শতাংশেরই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বহু বছর আগে। এসব বাসের বেশির ভাগ চালাচ্ছে ভুয়া চালকরা, কখনোবা অল্পবয়সী কিশোর। বাসগুলোর অর্ধেকের নেই উপযুক্ততার সনদ—কোনোটির সামনের আয়না নেই, ব্রেক নেই, ইঞ্জিন চলতে চলতে বন্ধ হয়ে যায়। এসব বাসের চালকদের প্রশিক্ষণও নেই। মালিকের সঙ্গে দৈনিক চুক্তিতে বেশির ভাগ বাস চালানোয় মুনাফার জন্য যাত্রীর দিকেই চোখ থাকে চালকদের।

র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার শিক্ষার্থী হত্যায় জড়িত জাবালে নূর পরিবহনের তিন বাসচালক মাসুম বিল্লাহ, জুবায়ের ও সোহাগের লাইসেন্স যথাযথ ছিল না। দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ক্ষেত্র তৈরি করে এ তিন চালক। মিরপুর ও বরগুনা জেলায় অভিযান চালিয়ে জাবালে নূরের তিনটি বাসের তিন চালক এবং তাদের দুই সহযোগী এনায়েত ও রিপনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

জাবালে নূরের তিন বাসের রেষারেষিতে গত রবিবার দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটে। তিন চালক মাসুম বিল্লাহ, জুবায়ের ও সোহাগকে বিআরটিএ অপেশাদার চালকের লাইসেন্স দিয়েছিল। কিন্তু তারা পেশাদার চালক হিসেবে ভারী যান চালিয়ে আসছিল। তাদের লাইসেন্সগুলো যাচাই করতে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বাস তিনটি হলো—ঢাকা মেট্রো ব-১১-৯২৯৭, ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৬৫৭ ও ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৫৮০।

বাসচালকদের রেষারেষিতে চলতি বছর যেন হত্যার মৌসুম শুরু হয় রাজধানীতে। গত এপ্রিলে প্রতিযোগিতা করে চলা দুই বাসের চাপায় হাত হারান সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেন, পরে তাঁর প্রাণটিও যায়। বাসচাপায় মেরুদণ্ড ভেঙে চিরতরে পঙ্গু হন গৃহিণী আয়েশা খাতুন। ফার্মগেটে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা রুনি আক্তারের ওপরও বাস তুলে দেওয়া হয়েছিল। গত রবিবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা দেশের সব মানুষকে নাড়া দিয়েছে। সেই থেকে রাজধানী অচল হয়ে আছে শিক্ষার্থীদের অবরোধে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত হবে বলে আশা করছি। সন্তানরা যেন রাজপথে না নামে সেজন্য অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। নিরাপত্তা বাহিনী ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। অন্তর্ঘাতমূলক কোনো ঘটনা ঘটলে তার দায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিতে পারবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন কোন গাড়ি রাস্তায় নামবে না, শিক্ষার্থীদের সব যৌক্তিক দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে গেলে তাদের টিসি দেয়া হবে বলে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা ঠিক নয়। শিক্ষার্থীদের কোনো ভয় নেই, তাদের কোনো দুর্ভোগে পড়তে হবে না। ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে অনেকে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধন দেখা যাচ্ছে। আমরা দেখেছি, এই আন্দোলনের মধ্যে শিবির ও ছাত্রদল সম্পৃক্ত হয়েছে। আমাদের কাছে ছাত্রদল ও শিবিরের কথোপকথনের অডিও রয়েছে। সেখানে ছাত্রদলকে স্কুল ও কলেজের ড্রেস পরে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার নির্দেশ দিতে শোনা গেছে।

শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, এই আন্দোলন সহিংসতার দিকে টার্ন করতে পারে। কারণ, আমরা দেখিছি কাফরুল থানায় আক্রমণ করা হয়েছে। রাজারবাগ ও মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজম্যান্ট-এ ঢিল ছোড়া হয়েছে।

গত পাঁচ দিনের আন্দোলনে যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এই কয়দিনে ৩১৭টা গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আটটি গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। তাই আমরা এই আন্দোলন কনটিনিউ না করার আহ্বান জানাচ্ছি।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের সহায়তা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি, তারা যে সাহসিকতা দেখিয়েছে, তা দেশবাসী জেনে গেছে। সুতরাং এই ধরনের পরিস্থিতিতে একটা সাবোটাজ ঘটতে পারে। তাই অভিভাবক, শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্য ও প্রতিবেশীকে অনুরোধ করব, এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতে মাঠে না নামে, তাদের বোঝাতে।

যেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন, সেখানে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে নতুন আইন শিগগিরই সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সরকারি গাড়ি চালকদের মূল কাগজ সঙ্গে রাখার নির্দেশ

দেশের খবর: সরকারি গাড়ি চালকদের যাবতীয় মূল কাগজপত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের কাজ নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার পর এই নির্দেশ দেওয়া হলো।

সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চালকদের লিখিত ও মৌখিকভাবে বলে দেওয়া হয়েছে গাড়ির মূল কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে।’

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর গত ২৯ জুলাই থেকে রাজধানীতে বিক্ষোভ চালিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা গত দুদিন ধরে রাস্তায় রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে চালক ও যানবাহনের লাইসেন্স দেখতে চাইছে। কাগজ দেখাতে না পারলে আটকে দেওয়া হচ্ছে গাড়ি।

পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বেশ কয়েকটি গাড়ির চালক বৃহস্পতিবার লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি গাড়ি এবং একজন বিচারপতির গাড়িও ওই পরীক্ষায় উৎপাতে পারেনি।

শিক্ষার্থীরা এসব চালককে পুলিশে সোপর্দ করার পর লাইসেন্স না থাকার মামলা দেওয়া হয় তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি এক পুলিশকে আরেক পুলিশের মাধ্যমে মামলা দেওয়ার ঘটনাও রাজধানীতে ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি গাড়ির চালকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বলেছেন, তাদের লাইসেন্স থাকলেও সরকারি গাড়ি চালান বলে তা সঙ্গে নিয়ে বের হন না। গাড়ির কাগজপত্র অফিসেই থাকে।

মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন তো পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। ওদেরকে (গাড়ি চালকদের) বলে দিয়েছি এখন থেকে মূল কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে, মূল কাগজই তারা সঙ্গে রাখবে।’

গাড়ি চালানোর সময় লাইসেন্স সঙ্গে রাখার নিয়ম লাইসেন্সের পেছনেই স্পষ্ট করে লেখা থাকে। পাশাপাশি বীমার কাগজ ও ব্লুবুকও সঙ্গে রাখার কথা চালকদের। ট্রাফিক সার্জেন্ট চাইলে তা দেখাতে হবে।

তাহলে সরকারি লোক কেন নিয়ম মানে না- এই প্রশ্নের ব্যাখ্যায় পরিবহন কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন,‘মূল কাগজ কেউ সঙ্গে না রাখলে তা পরিবহন পুল ভবনে রাখা হয়। ওইসব কাগজের ফটোকপি সঙ্গে রাখার একটা রেওয়াজ হয়ে গিয়েছে। তবে কখনো কখনো কেউ মূল কাগজও সঙ্গে রাখেন।’

সরকারি ড্রাইভারদের গাড়ির মূল কাগজের বদলে ফটোকপি দেওয়া হলেও তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স অবশ্যই সঙ্গে রাখার নির্দেশনা দেওয়া আছে বলে দাবি করেন পরিবহন কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘মূল কাগজপত্র একটু সেনসেটিভ হওয়ায় তা অনেক সময় অফিসে সংরক্ষণ করা হয়। তবে ওইসব কাগজের ফটোকপি তারা সঙ্গে রাখে।’

সরকারি চাকরিতে গাড়ি চালকদের পরিচয়পত্রের বাইরে পরিবহন পুলের গাড়ি চালক হিসেবে আরেকটি পরিচয়পত্র দেওয়া হয় বলে জানান শাহাবুদ্দিন।

‘যাতে বোঝা যায় তারা সরকারি ড্রাইভার। তাদের নির্দিষ্ট পোশাকও আছে, তবে সবাই হয়ত সব সময় সেই ড্রেস পড়েন না।’

সব সরকারি গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ আছে দাবি করে পরিবহন কমিশনার বলেন, ‘আমাদের তো আর্থিক সমস্যা নেই, এই খাতে নিয়মিত বরাদ্দও থাকে।’

তিনি বলেন, সরকারি পরিবহন পুলের গাড়ি যারা চালান, তাদের সবারই ভারী গাড়ি চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকে। এই লাইসেন্স পেতে হলে অভিজ্ঞতাও বেশি লাগে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপসচিব থেকে শুরু করে জ্যেষ্ঠ সচিব এবং মন্ত্রীদের গাড়ি পরিবহন পুল থেকে সরবরাহ করা হয়।

শাহাবুদ্দিন জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যবহৃত সরকারি গাড়ির কাগজপত্র জেলা-উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে ঢাকায় যেসব গাড়ি চলে রাতে সেগুলো পরিবহন পুলে রাখা হয়। পরিবহন পুলের অধীনে ঢাকায় তিন শতাধিক গাড়ি প্রতিদিন ব্যবহার করা হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের (ড্রাইভার) সব সময়ই বলি- তোমরা হবে মডেল, তোমরা সিট বেল্ট ব্যবহার করবে, আইন ভঙ্গ করবে না।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকায় মতবিনিময়

দেবহাটা প্রতিনিধি ॥ দেবহাটায় পুষ্টিকর খাবার গ্রহনের গুরুত্ব ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা বৃহষ্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় নাংলা ফাতেমা রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভা কক্ষে অনুুষ্ঠিত হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মনি, শিক্ষকদের মধ্যে আব্দুল আজিজ, আব্দুস সবুর, সিরাজুল ইসলাম, এসিভিআই ভোকা/ফুড দ্যা ইমপ্রুভড নিউট্রিশন প্রজেক্টের ইউএসএআইভি এলপিআইএল এর ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর উজ্জ্বল রায়, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর তরিৎ রায়, সিএ/এলএসপি মমতাজ পারভিন, সাংবাদিক আকতার হোসেন ডাবলু, স্বেচ্ছাসেবক মামুন হোসেন প্রমুখ। এসময় মসজিদের ইমাম ও কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় পুষ্টিকর খাবার গ্রহনের গুরুত্ব ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা বিষয়ে সবাই একমত পোষন করেন। উল্লেখ্য, এসিভিআই ভোকা দেবহাটা উপজেরার ৫টি ইউনিয়নের গ্রাম পর্যায়ে লাইভস্টক প্রোডাবশন ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন বিষয়ে সেবা প্রদান করে আসছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় স্কুলের ভ্যানে বেধে শিশুদের অনিরাপদ চলাচল, ইউএনওর ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস

কে.এম রেজাউল করিম, দেবহাটা ব্যুরো ॥ দেবহাটায় প্রিক্যাডেট স্কুলের ভ্যানে কোমলমতি শিশুদের ভ্যানের সামনে বেধে অনিরাপদভাবে যাওয়া আসা করার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বিষয়ে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়েছেন। এমনভাবে কোমলমতি শিশুদের স্কুলের ভ্যানে করে দীর্ঘদিন অনিরাপদজনক যাওয়া আসা করানো হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ বা শিশুদের অভিভাবকদের নেই কোন মাথাব্যথা। বুধবার দুপুর ১ টার দিকে দেখা যায়, দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া গরুরহাট এলাকায় দেখা যায় মডার্ন প্রিক্যাডেট স্কুল ভ্যানে করে একসাথে অনেকগুলো শিশুদেরকে ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভ্যানের মধ্যে তিল পরিমানের কোন জায়গা ফাকা ছিলনা, এমনকি ইঞ্জিনভ্যানের সামনে চালকের দুই পাশে ডানপাশে ২ জন শিশু ও বাম পাশে ২ জন শিশুকে বেধে বাড়ি পৌছানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে চালকের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, অভিভাবকরা স্কুলে রেখে এসেছে তা কি করবো। তাদেরকেতো বাড়ি পৌছানো লাগবে। তবে এ ব্যাপারে মডার্ন প্রিক্যাডেট স্কুলের পরিচালক অধ্যক্ষ জামশেদ আলম জানিয়েছিলেন তিনি শিশুদের এভাবে নিয়ে যাওয়া হয় এ বিষয়ে কিছু জানেননা। তবে এ ব্যাপারে তিনি আগামী শনিবারের মধ্যে ব্যবস্থা নেবেন বলে সাংবাদিকদেরকে জানান। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ও সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রনব কুমার মল্লিক জানান, তিনি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। তিনি এ বিষয়ে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে সূত্র মতে জানা গেছে, উক্ত স্কুলটি প্রায় ১০/১২ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্টাকালে স্কুলটির নাম ছিল ক্যাপ্টেন শাহজাহান প্রিক্যাডেট স্কুল। সম্প্রতি স্কুলটির নাম পরিবর্তন করে মডার্ন প্রিক্যাডেট স্কুল রাখা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কবিতা পরিষদ সাতক্ষীরার কার্যনির্বাহী কমিটির সভা

২ আগস্ট বিকেল ৫টায় সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে কবিতা পরিষদ,সাতক্ষীরা-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদের সভাপতি মন্ময় মনিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জলের সঞ্চালনায় পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলোচনা করেন পরিষদের উপদেষ্টা তৃপ্তিমোহন মল্লিক, আমিনুর রশিদ, সভাপতি মন্ডলীর সদস্য দিলীপ কুমার দিব্যানন্দ, সরদার গিয়াসউদ্দিন আহম্মেদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বিশ্বরূপ চন্দ্র ঘোষ, কার্যনির্বাহী সদস্য রঘুজিৎ কুমার গুহ, আশাশুনি কবিতা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সরদার মোহাম্মদ নাজিমউদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ, কবিতা পরিষদের সদস্য প্রাণকৃষ্ণ সরকার, গুলশান আরা, নব কুমার ঢালী, শেখ আবু সালেক, রিয়াজুল ইসলাম রানা প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী মার্জান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী ঝর্নার মাগফিরাত কামনায় দোয়া

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সহ-সভানেত্রী মমতাজুন নাহার ঝর্নার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় সাতক্ষীরা শিশু পরিবার মিলনায়তনে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে এ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও সংরক্ষিত আসনের সাংসদ মিসেস রিফাত আমিনের সভাপতিত্বে ও জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জ্যোৎ¯œা আরার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সহ-সভানেত্রী এড. ফরিদা আক্তার বানু, কোহিনুর ইসলাম, সহ-সভাপতি ইসমত আরা, যুগ্ম সম্পাদক রুমা রানী, সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আরা রুবি, প্রচার সম্পাদক সালেহা, জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ, প্রবেশন অফিসার মিজানুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন মরহুমার কন্যা শিমুন ও মিথুন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন  জেলা শ্রমিকলীগ নেতা বিকাশ দাশ, মহিলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদিকা সুলেখা দাশ আঙ্গুরা, মহুয়া, রিক্তা, মুন্নি, আয়েশা, মমতাজ, ময়না, শিলা, রোকেয়া, সাকিরা সহ বিভিন্ন নেতাকর্মী বৃন্দ। এসময় বক্তারা বলেন, মমতাজুন নাহার বিভিন্ন গুনাগুন ছিল তার মধ্যে অন্যতম হলো তিনি সব সময় মানুষকে ভালবাসতেন। এছাড়াও দলীয় সকল কর্মকান্ডে দিক নির্দেশনা দিতেন। তার মৃত্যুতে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের অপুরনীয় যে ক্ষতি হয়েছে তার পুরন হওয়ার নয়। তার বিদেহী মাগফিরাত কামনা করি তিনি যেন বেহেস্তবাসী হন। অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন মনোয়ারা খাতুন। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শহর সমাজ সেবা অফিসার শেখ সাহিদুর রহমান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest