সর্বশেষ সংবাদ-
ঈদ উল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় রোড শোসাতক্ষীরায় চার দিন ধরে নিখোঁজ কলেজ ছাত্রীর মেলেনি সন্ধান : দিশেহারা পরিবারসাতক্ষীরায় ছাত্রদল নেতার উদ্যোগে ইফতারি বিতরণসাতক্ষীরা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদের ইফতারদেবহাটার দর্জিরা আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেনবেতনা ও মরিচ্চাপ নদী রক্ষায় টিআরএম বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনসাতক্ষীরায় সচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনদেশব্যাপি সংখ্যালঘুদের উপর হামলা- নির্যাতনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনসাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগের ২৫ টি সিট হাইজ্যাক করা হয়েছে– সাবেক এমপি হাবিবসাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের সম্মানে ছাত্রশিবিরের ইফতার

কার্ল মার্কস ও মার্কসবাদের প্রাসঙ্গিকতা

‘‘১৪ই মার্চ বেলা পৌনে তিনটায় পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ চিন্তানায়ক চিন্তা থেকে বিরত হয়েছেন। মাত্র মিনিট দুয়েকের জন্য তাঁকে একা রেখে যাওয়া হয়েছিল। আমরা ফিরে এসে দেখলাম যে তিনি তাঁর আরাম কেদারায় শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছেন কিন্তু ঘুমিয়েছেন চিরকালের জন্য।’’

এই মানুষটির মৃত্যু ইতিহাস বিজ্ঞানের অপূরণীয় ক্ষতি বলে এঙ্গেলস বর্ণনা করেছিলেন। কেন? তার উত্তরে এঙ্গেলস উক্ত বক্তৃতায় বলেছিলেন-‘‘ডারউইন যেমন জৈব প্রকৃতির বিকাশের নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন তেমনি মার্কস আবিষ্কার করেছেন মানুষের ইতিহাসের বিকাশের নিয়ম, মতাদর্শের অতি নিচে এতদিন লুকিয়ে রাখা এই সহজ সত্য যে, রাজনীতি, বিজ্ঞান, কলা, ধর্ম ইত্যাদি চর্চা করতে পারার আগে মানুষের প্রথমে চাই খাদ্য, পানীয়, আশ্রয়, পরিচ্ছদ। সুতরাং প্রাণধারণের আশু বাস্তব উপকরণের উৎপাদন এবং সেইহেতু কোনো নির্দিষ্ট জাতির বা নির্দিষ্ট যুগের অর্থনৈতিক বিকাশের মাত্রাই হলো সেই ভিত্তি যার ওপর গড়ে ওঠে সংশ্লিষ্ট জাতির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইনের ধ্যানধারণা, শিল্পকলা, এমনকি তাদের ধর্মীয় ভাবধারা পর্যন্ত এবং সেই দিক থেকেই এগুলির ব্যাখ্যা করতে হবে, এতদিন যা করা হয়েছে সেভাবে উলটো দিক থেকে নয়।’’

১৮৮৩ সালের ১৭ই মার্চ কার্ল মার্কেসর মৃত্যুর ৩দিন পর লন্ডনের হাইগেট সমাধিক্ষেত্রে তাঁর সমগ্র জীবনের বন্ধু ও সহযোদ্ধা ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস বক্তৃতায় উপরোক্ত কথাগুলি বলেছিলেন।

বিগত প্রায় ১৬৯ বছর ধরে সমগ্র পৃথিবীতে মানব চিন্তন প্রক্রিয়াকে সর্বাধিক প্রভাবিত করেছেন যিনি তিনি হলেন কার্ল মার্কস। ১৮১৮ সালের ৫ মে অধুনা জার্মানিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এই বছর সমগ্র দুনিয়ার শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রামরত সমস্ত মানুষ কার্ল মার্কসের দ্বিশততম জন্মদিবস পালন করছেন।

মার্কসের জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

১৮১৮ সালের ৫ই মে প্রুশিয়ার ট্রিয়ের শহরে কার্ল মার্কস জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন ইহুদি। তিনি ছিলেন আইনজীবী।

ট্রিয়ের শহরে শিক্ষালাভের পর মার্কস প্রথমে ‘বন’ পরে ‘বার্লিন’ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন, ইতিহাস ও দর্শন — পড়াশোনা করেন। ১৮৪১ সালে মার্কসের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ হলে ‘এপিকিউরাসের’ দর্শন সম্বন্ধে তিনি একটি ‘থিসিস’ রচনা করেন। এই সময়ে মার্কস হেগেলের মতবাদের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন এবং ‘বামপন্থী হেগেলীয়’ চক্রের সদস্য ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষে মার্কস ‘বন’-এ এলেন অধ্যাপক হওয়ার আশায়। কিন্তু সরকার যেমন আগে ফয়েরবাখ ও ব্রুনোকে অধ্যাপনার অনুমতি দেয়নি, তেমন মার্কসকেও দিলো না। বস্তুবাদের প্রবক্তা ফয়েরবাখের “Principles of Philosophy of the Future” প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কসসহ ‘বামপন্থী হেগেলীয়রা’ ফয়েরবাখের মতবাদের সমর্থক হন। সেই সময় কোলনে যে পত্রিকাটি (Rheinische Zeitung) প্রকাশিত হতো, মার্কস তাতে লিখতে লাগলেন। ১৮৪২-এ মার্কস সে পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হলেন। মার্কসের সম্পাদনায় এই পত্রিকার বিপ্লবী গণতান্ত্রিক ঝোঁক ক্রমশ পরিস্ফুট হতে থাকলে, সরকার এই পত্রিকাটির প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। তখন মার্কস সম্পাদকের দায়িত্ব ত্যাগ করেন।

১৮৪৩ সালে মার্কস জেনিকে বিবাহ করেন। ১৮৪৩ সালের শরৎকালে তিনি প্যারিসে যান একটি পত্রিকা প্রকাশের জন্য। একজন ‘‘বামপন্থী হেগেলীয়’’ আর্নল্ড রির্ডজের সাহায্যে এখান থেকে মার্কস যে পত্রিকাটি প্রকাশ করেন, তার মাত্র একটি সংখ্যাই বেরোয়। কারণ সেগুলি জার্মানিতে গোপনে প্রচার করা অসম্ভব হয়ে ওঠে এবং রির্ডজের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য দেখা দেয়।

১৮৪৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস প্যারিসে আসেন এবং তখন থেকেই মার্কসের সঙ্গে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাঁরা দুজনে প্যারিসে তদানীন্তন বিপ্লবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সমাজতন্ত্রবাদের নামে যে সব ভুয়ো মতবাদ তখন প্রচলিত ছিল, তার বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত হন। তাঁরা দুজনে তখনই সর্বহারার বিপ্লবী সমাজতন্ত্রবাদের তত্ত্ব ও কৌশল রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।

প্রুশিয়ার সরকারের চাপে ১৮৪৫ সালে মার্কসকে বিপজ্জনক বিপ্লবী এই অজুহাতে প্যারিস থেকে নির্বাসিত করা হয়। তিনি ব্রাসেলসে যান। ১৮৪৭ সালে মার্কস ও এঙ্গেলস ‘কমিউনিস্ট লিগ’ নামে একটি গোপন দলে যোগদান করেন। ১৮৪৭ সালেই ঐ সংগঠনের দ্বিতীয় কংগ্রেস হয় লন্ডনে। সেই কংগ্রেসে মার্কস ও এঙ্গেলসের বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল। এই কংগ্রেসের অনুরোধে তাঁরা ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ রচনা করেন, যা ১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। তাঁদের এই সৃষ্টি এক নতুন চিন্তা, এক নতুন পথের নিশানা সকলের সামনে তুলে ধরে। অসীম প্রতিভাবান এই দুই পুরুষের কাছ থেকে মানুষ পেল : জগত সম্পর্কে এক নতুন ধারণা, বস্তুবাদ সম্পর্কে সঠিক ব্যাখ্যা, সমাজজীবনে বস্তুবাদের প্রয়োগ তত্ত্ব, বিকাশের বৈজ্ঞানিক দ্বন্দ্ব তত্ত্ব, শ্রেণী সংগ্রামের তত্ত্ব এবং সর্বহারার সাম্যবাদী সমাজের গ্রষ্টারূপে ঐতিহাসিক বৈপ্লবিক ভূমিকা।

১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিপ্লবের সূচনাতেই মার্কসকে বেলজিয়াম থেকে নির্বাসিত করা হলো। তিনি প্যারিসে এলেন, তারপর জার্মানির কোলনে গেলেন। সেখানে ‘নিউ জাইটুং’ পত্রিকা তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হলো। মার্কসের নতুন তত্ত্বের সত্যতা নির্ধারিত হলো – ১৮৪৮-৪৯ সালে ইউরোপের বৈপ্লবিক ঘটনাবলীর দ্বারা। প্রতিবিপ্লবীরা শঙ্কিত হলো। তারা প্রথমে মার্কসকে আদালতে হাজির করালো। কিন্তু আদালত মুক্তি দিলে, ১৮৪৯-এর ১৬ই মে জার্মানি থেকে তাঁকে নির্বাসন দেওয়া হলো। প্রথমে মার্কস প্যারিসে গেলেন, সেখানে থেকেও নির্বাসিত হলেন। তারপর গেলেন লন্ডনে। তখন থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত লন্ডনেই তিনি ছিলেন।

মার্কসের রাজনৈতিক নির্বাসিত জীবন খুবই কষ্টকর ছিল। মার্কস এবং তাঁর পরিবারবর্গকে নিদারুণ দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাতে হতো। এঙ্গেলস যদি এই সময়ে মার্কসকে নিয়মিত নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য না করতেন, তাহলে মার্কস শুধু ‘ক্যাপিটাল’ রচনা শেষ করতে পারতেন না, তাই নয়, তাঁকে অভাব-অনটনের মধ্যে ভেঙে পড়তে হতো। মার্কস এই সময়ে তাঁর বস্তুবাদী তত্ত্বের আরও বিকাশ সাধন করেন এবং অনেকগুলি অমূল্য রচনায় ও অর্থনীতি বিষয়ে গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। যার ফলে তৈরি হয় : A Contribution to the Critique of Political Economy (১৮৫৯) এবং ক্যাপিটাল, ১ম খন্ড (১৮৬৭)।

পঞ্চম ও ষষ্ঠ দশকে ইউরোপে গণতান্ত্রিক আন্দোলন মাথা তোলে। মার্কস আন্দোলনের কাজে নিজেকে নিয়োগ করেন। ১৮৬৪ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর লন্ডনে International Working men’s Association গঠিত হয়। এটিই হলো প্রথম আন্তর্জাতিক। মার্কসই ছিলেন এই সংগঠনের প্রাণপুরুষ। এই আন্তর্জাতিক সংগঠনের বহু ঘোষণা, প্রস্তাব, ম্যানিফেস্টো প্রভৃতি মার্কসেরই রচনা। এই সময়ে মার্কস যেমন বিভিন্ন দেশের শ্রমিকশ্রেণীর সংগ্রামগুলিকে একই ধরনের কৌশলের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করার প্রাণপণ চেষ্টা করেন, তেমনই ভুল, অবৈজ্ঞানিক মতবাদগুলির বিরুদ্ধেও নিরবচ্ছিন্ন লড়াই চালান। ‘প্যারি কমিউনে’র পতনের পর (১৮৭১) মার্কস তাঁর বিখ্যাত রচনা The Civil War in France প্রকাশ করেন। ১৮৭২ সালে হেগ কংগ্রেসের পর প্রথম আন্তর্জাতিক ‘জেনারেল কাউন্সিল’ নিউইয়র্কে স্থানান্তরিত হয়। মার্কসের নেতৃত্বে এই প্রথম আন্তর্জাতিক এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। এই আন্তর্জাতিক পৃথিবীর সকল দেশের শ্রমিক আন্দোলনে আরও অগ্রগতির পথ রচনা করে। এই আন্তর্জাতিক এমন একটি যুগের সূচনা করে, যে যুগে গণ-সমাজতন্ত্রবাদী দল প্রতিষ্ঠার পথে বিভিন্ন দেশের শ্রমিকশ্রেণী অনেকদূর এগিয়ে যায়। প্রথম আন্তর্জাতিকের এই অবদান অবিস্মরণীয়।

‘আন্তর্জাতিক’-এর জন্য কঠোর পরিশ্রম এবং তত্ত্বগত গবেষণার কাজে অধিকতর কঠোর পরিশ্রমের ফলে মার্কসের স্বাস্থ্য এই সময়ে ভেঙে পড়ে। ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়েও ক্যাপিটালের পরবর্তী খন্ডগুলি সমাপ্ত করার জন্য তিনি এই সময় বিভিন্ন দেশের প্রভূত তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সেগুলি পড়বার জন্য অনেকগুলি ভাষা শিক্ষা করেন। কিন্তু তাঁর জীর্ণ স্বাস্থ্য শেষ পর্যন্ত তাঁকে ক্যাপিটাল সমাপ্ত করতে দেয় না।

১৮৮১ সালের ২রা ডিসেম্বর তাঁর স্ত্রী মারা যান। আর ১৮৮৩ সালের ১৪ই মার্চ তাঁকে তাঁর প্রিয় আরাম-কেদারায় চিরনিদ্রায় শায়িত দেখা যায়।

প্রকৃত সমাজবিজ্ঞানী

মানব সমাজের বিকাশধারাকে বিজ্ঞানের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করার কাজ প্রথম করলেন কার্ল মার্কস। ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের সঙ্গে একযোগে তিনি সমাজের বিকাশধারার চর্চাকে বিজ্ঞানে রূপান্তরিত করলেন। সমাজ সম্পর্কিত রূঢ় নির্মম সত্যগুলিকে আড়াল থেকে প্রকাশ্যে আনলেন কার্ল মার্কস, সেইদিক দিয়ে তিনি ছিলেন প্রথম প্রকৃত অর্থে সমাজবিজ্ঞানী। কমরেড লেনিনের কথায়, ‘‘মানব সমাজের অগ্রণী ভাবনায় যেসব জিজ্ঞাসা আগেই দেখা দিয়েছিল মার্কস তারই জবাব দিয়েছেন।’’

তিনটি উৎসকে ভিত্তি করে মতবাদ প্রতিষ্ঠা করলেন

অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীতে দর্শনের ক্ষেত্রে যে বিপুল অগ্রগতি ঘটেছিল মার্কস ও এঙ্গেলস তাকে আত্মস্থ করেছিলেন। জার্মান চিরায়ত দর্শন বিশেষ করে হেগেলীয় তত্ত্ব ও ফয়েরবাখের বস্তুবাদ মতবাদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উৎসের ভূমিকা পালন করেছে। জার্মান দর্শন প্রধানত হেগেলের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত দ্বান্দ্বিক তত্ত্বের কথা এক্ষেত্রে বিশেষ করে উল্লেখ করা প্রয়োজন। দ্বান্দ্বিক তত্ত্ব হলো বিকাশের গভীরতম, পূর্ণতম, একদেশদর্শিতা বর্জিত তত্ত্ব। তবে জার্মান দর্শনে এই দ্বান্দ্বিক তত্ত্ব মাথা নিচে বা পা ওপরে করে দাঁড়িয়েছিল। দ্বান্দ্বিক তত্ত্বকে সঠিক অবস্থানে নিয়ে আসার ঐতিহাসিক ভূমিকা মার্কসই পালন করেছিলেন।

মার্কসের পূর্বে অর্থশাস্ত্রের বিকাশ ঘটেছিল তৎকালীন সর্বাধিক অগ্রসর পুঁজিবাদী দেশ ইংল্যান্ডে। অ্যাডাম স্মিথ ও ডেভিড রিকাডো মূল্যের শ্রম তত্ত্ব প্রকাশ করেন। বুর্জোয়া অর্থনীতিবিদদের সব থেকে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল এই যে তারা পণ্যের সাথে পণ্যের বিনিময়ের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন। মানুষের মধ্যেকার সম্পর্কের বিষয়টি তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছিল।

সামন্ততন্ত্রের পতনের পর মুক্ত দুনিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মেহনতী মানুষের ওপর পীড়ন ও শোষণের নতুন ব্যবস্থাই হলো পুঁজিবাদ। সমাজতান্ত্রিক মতবাদ নানাভাবে উপস্থিত হতে শুরু করে। শোষণহীন ও মুক্ত সমাজই হলো সমাজতন্ত্র। কিন্তু এই সমস্তই ছিল ইউটোপীয় সমাজবাদ। পুঁজিবাদী সমাজের সমালোচনা করেছে তার অবসান ঘটিয়ে এক উন্নততর সমাজ ব্যবস্থার কল্পনা করলেও কি উপায়ে তা প্রতিষ্ঠিত হবে সেই পথ দেখাতে পারেনি এই ইউটোপীয় সমাজতন্ত্রের তত্ত্ব।

মার্কসীয় মতবাদের তিনটি অঙ্গ

দর্শন, অর্থনীতি ও শ্রেণীসংগ্রামের তত্ত্ব- এই তিনটি অঙ্গ নিয়ে মার্কসবাদ

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিক থেকে বস্তুবাদই একমাত্র সঙ্গতিপরায়ণ দর্শন হিসাবে দেখা দিয়েছে। বস্তুবাদ প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সমস্ত সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ বিশ্বস্ত এবং কুসংস্কার, ভন্ডামির তা চরম শত্রু। মার্কসীয় দর্শন শুধুমাত্র বস্তুবাদই নয়, দ্বান্দ্বিক তত্ত্বের সাথে তাকে যুক্ত করেছেন। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ হলো মার্কসীয় দর্শন। আধুনিক বিজ্ঞানের সমস্ত আবিষ্কারের দ্বারা দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ সমর্থিত হয়েছে।

মার্কসীয় অর্থনীতির মধ্য দিয়ে কি করে পুঁজিবাদী উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টি হচ্ছে তা ব্যাখ্যা করে দেখানো হলো। পুঁজির কাছে শ্রমিকদের পরাধীনতা বাড়িয়ে তোলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। তার ফলেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় সম্মিলিত শ্রমের শক্তি গড়ে ওঠে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় উৎপাদনের নৈরাজ্য, সঙ্কট, বাজারের জন্য প্রতিযোগিতা এবং জনসাধারণের ব্যাপক অংশের মধ্যে জীবনধারণের অনিশ্চয়তা অবশ্যম্ভাবী। সামাজিক উৎপাদন ও ব্যক্তিগত পুঁজিবাদী মালিকানা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মৌলিক দ্বন্দ্ব।

মার্কসীয় মতবাদকে শ্রেণীসংগ্রামের তত্ত্ব বলেও অনেক সময়ে অভিহিত করা হয়। সমস্ত নৈতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বচন ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতির পেছনে কোন না কোন শ্রেণীর স্বার্থ রয়েছে। শোষকশ্রেণীর স্বার্থ এবং শোষিতশ্রেণীর স্বার্থ। শোষিতশ্রেণীর সংগ্রামই একমাত্র শোষকশ্রেণীর প্রতিরোধকে চূর্ণ করতে পারে। পুরাতনের উচ্ছেদ ও নতুনের সৃষ্টি শ্রেণীসংগ্রামের মধ্য দিয়েই সম্ভব। প্রলেতারিয়েতের জয়লাভ ঘটাবে শ্রেণীসংগ্রাম।

একজন দক্ষ ও বিপ্লবী নেতা

দুনিয়াটাকে পরিবর্তিত করার লক্ষ্য নিয়ে মার্কস তার মতবাদ প্রতিষ্ঠায় অগ্রসর হয়েছিলেন। তাই বিপ্লবী তত্ত্বের সাথে সাথে বিপ্লবী সংগ্রাম সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। কমিউনিস্ট লিগ, আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন এই সমস্ত সংগঠন গড়ে তোলা ও তা পরিচালনায় তিনি ছিলেন কর্ণধার। শ্রমিকশ্রেণীকে সংগঠিত করা ছিল তাঁর সমগ্র জীবনের লক্ষ্য।

বর্তমান সময়ে মার্কসবাদের প্রাসঙ্গিকতা

আমরা এই সময়ে কার্ল মার্কসের জন্মের দ্বিশতবর্ষ, ক্যাপিটাল প্রথম খন্ডের ১৫০বছর এবং নভেম্বর বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন করছি। এগুলির ঐতিহাসিক প্রভাব ও প্রাসঙ্গিকতা বোঝার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মাথায় রাখতে হবে সেই সময়ের সঙ্গে বর্তমান সময়ের পরিবর্তন ঘটে গেছে। কার্ল মার্কসের সময়কালে অর্থাৎ ঊনবিংশ শতাব্দীতে পুঁজিবাদ ছিল শিল্পপুঁজি নির্ভর। ফরাসি বিপ্লবে সামন্ততন্ত্রকে উচ্ছেদ করে পুঁজিবাদ যখন ক্ষমতায় আসে তখন শিল্পপুঁজি ছিল প্রতিযোগিতামূলক। কিন্তু বিংশ শতাব্দীতে প্রবেশ করে লগ্নিপুঁজির একচেটিয়া যুগ প্রতিষ্ঠা পায়। পুঁজিবাদের সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রের মৌলিক ৫টি বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা করেছিলেন লেনিন। তিনি দেখিয়েছিলেন, সাম্রাজ্যবাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জন্য কেন যুদ্ধ অনিবার্য। তিনি এটাও দেখিয়েছিলেন যে, সাম্রাজ্যবাদী শৃঙ্খলের দুর্বলতম অংশে আঘাত করে অপেক্ষাকৃত পশ্চাৎপদ রাশিয়ায় সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে গৃহযুদ্ধে পরিণত করে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব করা সম্ভব। আর একবিংশ শতাব্দীতে এখন আমরা যে পুঁজিবাদকে দেখতে পাচ্ছি তাকে উগ্র উদারবাদী অর্থনীতি বলতে পারি যেখানে পুঁজি শুধু উদ্বৃত্ত মূল্য আত্মসাৎ করে নয়, সরাসরি লুটের মাধ্যমে মুনাফা করছে। পুঁজিপতি, শাসকদল ও রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে আঁতাত গড়ে এই লুটপাট চলছে যাকে আমরা ক্রোনি ক্যাপিটালিজম বা সোজা কথায় ধান্দার পুঁজিবাদ বলছি। এটাই বিশ্বজুড়ে বেড়ে চলা প্রবণতা।

আমরা যারা মার্কসবাদী তারা জানি অর্থনীতিই সমাজের মূল কাঠামো তৈরি করে এবং সেই কাঠামোর ওপরে নির্ভর করেই সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি নানা উপরিকাঠামো গড়ে ওঠে। যদিও উপরিকাঠামোও কাঠামোর ওপরে প্রভাব ফেলে। একথা স্পষ্ট করে বলা যায় যে, দুনিয়াজোড়া এই লুটের অর্থনীতির কাঠামোর ওপরেই উপরিকাঠামোয় রাজনীতিতে একটি নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দেশে দেশে চরম দক্ষিণপন্থা ও স্বৈরতন্ত্রের উত্থান দেখা যাচ্ছে। এদের উত্থানকে অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এই চরম দক্ষিণপন্থীরা মানুষের সমর্থন পেতে জনমোহিনী স্লোগান                                                                   ব্যবহার করছে। পোস্ট ট্রুথ যুগে অসত্যের নির্মাণ করা হচ্ছে এই লক্ষ্যে। অসত্য নির্মাণ এমনভাবে করা হচ্ছে যাতে বহু মানুষ কিছু পাওয়ার আশা করছেন, আবার স্বৈরতন্ত্রের বিরোধিতা করলে সেই সুযোগ হারানোরও ভয় করছেন। বিশ্বজুড়ে এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজন ধনকুবের কেন মানুষের সমর্থন পেলেন? ব্রিটেনের মানুষ কেন ব্রেক্সিটের পদক্ষেপকে সমর্থন করলেন? এর উত্তর রয়েছে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে। প্রায় এক দশক আগে শুরু হওয়া বিশ্ব আর্থিক সংকট এখনও বহাল রয়েছে। উন্নত পুঁজিবাদীদেশগুলির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার এখনও সংকটের পূর্বের স্তরে পৌঁছাতে সমর্থ হয়নি। আন্তর্জাতিক লগ্নিপুঁজির নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়ন তাই পুঁজিবাদী সঞ্চয়ের বর্বর পদ্ধতিকে তীব্রতর করেছে। একে নয়া উদারবাদের সংকট বলা যেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট সমগ্র বিশ্বে এবং দেশে দেশে অর্থনৈতিক অসাম্যকে বৃদ্ধি করেছে। ১৯৮০ সালের তুলনায় বিশ্বের ওপরের ১ শতাংশের আয় দ্বিগুণ হয়েছে। অক্সফামের রিপোর্টে এখন তা ৮২শতাংশ। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হারও নিম্নমুখী। এসবের ফলে ক্রমাগত গণঅসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গণঅসন্তোষ বৃদ্ধি পেলেও শক্তিশালী বাম শক্তির অনুপস্থিতির কারণে দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলিই তাকে কাজে লাগাচ্ছে। মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়, ইউরোপের দেশগুলিতে অতি দক্ষিণপন্থী ও নয়া-ফ্যাসিবাদী শক্তির বৃদ্ধি এই প্রবণতাকে চিহ্নিত করছে। ইউরোপের দেশগুলির পার্লামেন্টের সদস্যদের এক-তৃতীয়াংশ এখন নয়া ফ্যাসিবাদের প্রতিনিধি। অন্যদিকে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব যা স্তিমিত ছিল তাও নতুন করে মাথা চাড়া দিচ্ছে। ফ্রাঙ্কো জার্মান পুঁজির সঙ্গে ব্রিটিশ পুঁজির বিরোধ দেখা দিচ্ছে। ব্রিটেনের ব্রেক্সিটের ঘটনা এই দ্বন্দ্বকে সামনে এনেছে। ট্রাম্পের নীতির সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য পুঁজিবাদী কেন্দ্রগুলির সংঘাতও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে যেখানে বামপন্থীরা সংগ্রামের সামনের সারিতে সেখানে দক্ষিণপন্থী ও নয়া-ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধও দেখা যাচ্ছে।

বামপন্থীদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্রিটিশ সংসদীয় নির্বাচনে জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে লেবার পার্টি বাম মঞ্চ গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বার্নি স্যান্ডার্সের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাইপ্রাসে বামপন্থীদের শক্তি বৃদ্ধি ঘটেছে। ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাম মোর্চার প্রার্থীর সমর্থনের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রিসে সাইরিজা, স্পেনে পোডেমসের মতো শক্তিগুলির সমর্থন বৃদ্ধি বামপন্থার প্রতি সমর্থন বৃদ্ধিকেই ইঙ্গিত করছে। লাতিন আমেরিকার নিকারাগুয়া থেকে ভেনেজুয়েলা সহ অন্যকিছু দেশে বামপন্থীরা জয়ী হয়েছেন। যদিও সেখানে বামপন্থীরা আগের মতো শক্তিশালী অবস্থানে নেই।

তারপরও মার্কসীয় মতাদর্শের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। কেননা বিপ্লব জরুরি এবং সেটা হতে হবে মার্কসীয়-লেনিনীয় মৌলিকতার উপর ভিত্তি করে আর দেশীয় ইতিহাস, সমাজ এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সমন্বয় করে। পৃথিবীতে আজ সবগুলো সমাজ বিপ্লবের ক্ষেত্রে এই সূত্রায়ন প্রযোজ্য। মার্কসের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকীতে সেই কাজটিকেই এগিয়ে নেওয়া হবেই প্রত্যেক মার্কসবাদী-লেনিনবাদীর কর্তব্য।

-অনিন্দ্য আরিফ

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বেনাপোলে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য

মোঃ রাসেল ইসলাম, বেনাপোল প্রতিনিধি: কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নিয়ে কম কথা হয়নি। কিন্তু কে শোনে কার কথা। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বেনাপোলে প্রতিটি স্কুল ও কিন্ডার গার্টেন স্কুলে চলছে কোচিং বানিজ্য। সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসে আর সন্ধ্যায় বাড়ি গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। খেলা ধুলা থেকে ও হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিভবক বলেন,শিক্ষার উন্নতির জন্য পুরো বিষয়টি সামগ্রিকভাবে বিবেচনা ও বিশ্লেষণ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈষম্য এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে কোচিং ব্যবসা এবং শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করতেই হবে। ভর্তি পরীক্ষার জন্যও চালু রয়েছে কোচিং ব্যবস্থা। পাস করার আগেই পরীক্ষার্থীরা লাইন দিচ্ছে সেসব কোচিং সেন্টারে ।
দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে সরকারের নিকট দাবি জানানো হচ্ছিলো। কিন্তু কাজ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে স্কুলের শিক্ষকরা স্কুলের বাইরে কোচিংয়ে ক্লাস করিয়ে বাড়তি টাকা পান বলে স্কুলগুলোতে ঠিকমতো ক্লাস নেন না। তাই শিক্ষকদের কোচিংয়ে ক্লাস নেওয়া বন্ধ করা জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা অত্যাবশ্যক।

সত্যি বলতে কি শিক্ষাঙ্গনে কোচিং ব্যবস্থা এক মারাত্মক ব্যাধির রূপ নিয়েছে। তার বিস্তার ঘটেছে বিপুলভাবে। অধিক উপার্জনের জন্য একশ্রেণির শিক্ষক কোচিংয়ে তার শক্তি ও সময় ব্যয় করছেন। ফলে উপেক্ষিত হচ্ছে শ্রেনীকক্ষের শিক্ষাদান। আবার এর অন্য একটি অনৈতিক দিকও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকারও একধরনের চাপ অনুভব করেন শ্রেনীকক্ষের শিক্ষকের কাছে কোচিং পড়াতে। পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে এটা অনৈতিক কৌশল হিসেবেই বিবেচিত হয়ে থাকে। প্রতিযোগিতামূলক সমাজে সাধারণভাবে পরীক্ষায় ভালো ফল লাভের আশায় শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ছে। শ্রেনীকক্ষে যথাযথভাবে পাঠদান করা গেলে, মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে একজন শিক্ষার্থীর কোচিংয়ে পড়ার দরকার হতো না। শিক্ষক এবং ছাত্রের একটি বাস্তবসম্মত অনুপাত রক্ষা করাও জরুরি।

সুতরাং শিক্ষার উন্নতির জন্য পুরো বিষয়টি সামগ্রিকভাবে বিবেচনা ও বিশ্লেষণ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈষম্য এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে কোচিং ব্যবসা এবং শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করতেই হবে। ভর্তি পরীক্ষার জন্যও চালু রয়েছে কোচিং ব্যবস্থা। পাস করার আগেই পরীক্ষার্থীরা লাইন দিচ্ছে সেসব কোচিং সেন্টারে।

শিক্ষাকে কিছুসংখ্যক লোকের অনৈতিক বাণিজ্যের ধারা থেকে বের করে আনতে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে শিক্ষকদের পূর্ণ প্রস্তুতি ও মনোযোগ দিতে। বিশ্বের কোথাও মূলধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এ ধরনের কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনির রমরমা ব্যবসা নেই। বর্তমান বাস্তবতায় কোচিং ব্যবসা বন্ধের পাশাপাশি শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দানের পাশাপাশি দক্ষ, মেধাবী ও সঠিক যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের শিক্ষকতার পেশায় আকৃষ্ট করতে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ও সুযোগসুবিধা বুৃদ্ধির বিষয়ে বাস্তববসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সরোজমিনে বেনাপোল সানরাইজ পাবলিক স্কুল, নবদিগন্ত কিন্ডারগর্টেন, বন্দর স্কুল, আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন, বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মডার্ন পাবলিক স্কুল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের ছুটির পর ১ ঘন্টা তাদের টিফিন দিয়ে শিক্ষকরা আলাদা কোচিং করছে। যাদের বাড়ি দুরে তাদের বাড়ি থেকে অভিভাবকরা খাবার নিয়ে আসছে। আর যাদের বাড়ি নিকটে তারা গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে আসছে।

সানরাইজ পাবলিক স্কুলের অভিভাবক জি এম আশরাফ বলেন, শিক্ষার্থীদের এক ঘেয়েমি লেখা পড়ায় স্কুলে দিন কেটে যাচ্ছে। খেলা ধুলার কোন পরিবেশ পাচ্ছে না। সন্ধ্যার সময় বাড়ি যেয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু উপায় নাই সব ছেলে মেয়েরা কোচিং করে । বাধ্য হয়ে মেয়েকে কোচিং করাতে হচ্ছে। আর এর জন্য শিক্ষকরা বাড়তি টাকা নিচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঐক্য-অনৈক্যে নির্ভর করছে দুই সিটি নির্বাচনে আ.লীগের জয়-পরাজয়

অনলাইন ডেস্ক: গাজীপুর ও খুলনা— এই দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সম্ভাব্য জয় ও পরাজয় দুটোই নির্ভর করছে স্থানীয় ঐক্য-অনৈক্যের ওপর। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, বিরোধ-বিভেদ ভুলে স্থানীয় নেতারা এক হলে যেমন জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব, আবার বিরোধ-বিভেদ জিইয়ে থাকলে পরাজয়েরও সম্ভাবনা রয়েছে। তারা বলছেন, দুই সিটিতেই জয় যেমন নির্ভর করছে ঐক্যের ওপর, তেমনি পরাজয়ও নির্ভর করছে অনৈক্যের ওপর।

জানা গেছে, আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিতব্য এই দুই সিটির নির্বাচনের প্রচারণায় কেন্দ্রীয় নেতারা শামিল হওয়ার চেয়ে স্থানীয় নেতাদের ঐক্য নিশ্চিত করতে এবং অনৈক্য দূর করতে কাজ করে যাচ্ছেন। এমনিতেই জাতীয় নির্বাচনের বছরে দুই সিটির নির্বাচন ভীষণ দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলকে। এর ওপর স্থানীয় ঐক্য-অনৈক্যের হিসাব-নিকাশ সেই দুশ্চিন্তা দ্বিগুণ করেছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড.আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘স্থানীয় ছোটখাটো কিছু সমস্যা নির্বাচন এলে সামনে চলে আসে, আওয়ামী লীগ এগুলো মীমাংসা করে চলেছে।’ তিনি বলেন, ‘জয়ের ব্যাপারে অন্তরায়গুলো কী আছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে, আবার সমাধানও করা হচ্ছে।’
প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়া কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ঐক্যের বিষয়টি এখনও মীমাংসা হয়নি। বাইরে ঐক্যের আওয়াজ থাকলেও ভেতরে অনৈক্য রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই অনৈক্য ভরাডুবির অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে।
দুই সিটি নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর দুই নেতা দাবী করেন, তারা নির্বাচনি প্রচারণার চেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় অনৈক্যগুলো দূর করে নেতাদের একসঙ্গে প্রচরণায় নামাতে। কিন্তু এখনও পুরোপুরি সফল হয়েছেন তারা, তা বলা যাবে না। তবে স্থানীয় নেতাদের যাকে যেভাবে আয়ত্তে আনা যায় সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। সে ক্ষেত্রে সফল হলে নির্বাচনে বিজয়ও নিশ্চিত হবে।
জিতলে নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা হবে, হারলে নেতাকর্মীদের মনোবলে বড় ধরনের চিড় ধরবে। আবার যেনতেনভাবে জিতে আসলে সরকারের সমালোচনায় মেতে উঠবে বিভিন্ন মহল। এসব বিষয় দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে আওয়ামী লীগে।
জানা গেছে, দলের একটি মহল যেনতেনভাবে জিতে আসার পক্ষে অবস্থান নিলেও শীর্ষ পর্যায়সহ বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নেতা এর বিপক্ষে। তাতে করে সরকারের কাঁধে দোষ পড়বে। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও দোষ সরকারের কাঁধে নেওয়া ঠিক হবে না বলে মনে করছেন প্রভাবশালী নেতারা। জাতীয় নির্বাচন সামনে, ফলে এই দোষ হীতে বিপরীত হয়ে দেখা দেবে। অপর পক্ষও আগামী নির্বাচনকে উপলক্ষ টেনে দাবি করছে, দুই সিটিতে হেরে গেলে নেতাকর্মীদের মনোবলে চিড় ধরবে, তারা ঘরে ঢুকে যাবে, ঘর থেকে তাদের বের করা কষ্টকর হয়ে পড়বে। ফলে নির্বাচনে জেতা জরুরি।
নীতি-নির্ধারকেরা বলছেন, সম্ভাব্য জয়-পরাজয় নিয়ে দলের মধ্যে দুই ধরনের আলোচনা চললেও দুই সিটি নিয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অবস্থান হলো হেরে গিয়ে জেতা যাবে না। আবার জিতেও কোনোভাবেই হেরে যাওয়া যাবে না। অর্থাৎ সরকারের কাঁধে দোষ চাপিয়ে এমন কোনও বিজয় ঘরে নিয়ে আসতে চায় না আওয়ামী লীগ। সমালোচনামুক্ত বিজয়ই হলো দলের একমাত্র কৌশল।
কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন, দুই সিটিতে দলের ঐক্যই জয়ের অন্যতম নিয়ামক। ফলে ঐক্য অটুট রাখা গেলে, দ্বিধা-বিভক্তি দূর করা সম্ভব হলে বিজয় দুঃসাধ্য ব্যাপার নয়। আর অনৈক্য থাকলে পরাজয়ের সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যাবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামাতে কেন্দ্রীয় নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘দুই সিটিতেই আমরা জয়লাভ করবো।’ তিনি বলেন, ‘তবে স্থানীয় নির্বাচনে জয়-পরাজয় জাতীয় নির্বাচনে কোনও প্রভাব ফেলবে না। দুই সিটিতেই এখন আর কোনও বিরোধ-বিভেদ নেই। ফলে জেতার ব্যাপারটি অনেকখানি নিশ্চিত।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শুরু হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্মেলন

মুসলিম বিশ্বের সাড়ে পাঁচ শতাধিক ভিআইপি অতিথিকে নিয়ে ঢাকায় শুরু হল অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) এর ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে শনিবার সকাল ১০ টায় সম্মেলন শুরু হয়।

সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে এটাই সবচেয়ে বড় মাপের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্মেলন। ওআইসি’র এ সম্মেলন চলবে দুই দিন। গত বছর আইপিও সম্মেলন আয়োজন হলেও এবারের অতিথি ও বিষয়বস্তু দু’টোই আগের চেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চীনেও ‘বাহুবলী’ একদিনেই ভেঙে ফেলল সমস্ত রেকর্ড!

দক্ষিণী সিনেমা বাহুবলী-২ এর কথা নিশ্চয় মনে আছে সবার। প্রভাস-আনুশকা অভিনীত বাহুবলী-২ সিনেমাটি মুক্তির পর জনপ্রিয়তার একেবারে শিখর পর্যন্ত ছুঁয়েছিল। ছবিটি শুধু ভারতেই নয় বিদেশেও রাজামৌলির ‘বাহুবলী-২: দ্য কনক্লুশন’ বক্স অফিসে কী হারে ব্যবসা করেছিল সে কথা তো প্রায় সকলেরই জানা।

এবার চীনেও মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। শুক্রবার (৪ মে) ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’ মুক্তি পেয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম এদেশটিতে। আর চীনে মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত রেকর্ড ভাঙতে শুরু করেছে প্রভাস-আনুশকার ‘বাহুবলী-২: দ্য কনক্লুশন’।

বাহুবলী-২ চীনে মুক্তির প্রথম দিনেই কত টাকা ব্যবসা করেছে জানেন?

সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রথম দিনেই ১.১৮ মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করেছে ব্যবসা করেছে। যা কিনা লাইফটাইম রেকর্ড বলে জানাচ্ছেন ফিল্ম সমালোচকরা। আর মাত্র সকাল ও দুপুরের শো-গুলোর মধ্যেই বাহুবলী-২ এই ব্যবসা করে ফেলেছে বলে জানা গেছে। বিকেলের শোগুলোতে যে বাহুবলীর বক্স অফিস কালেকশন আরো বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। বাহুবলীর এই সাফল্যের কথা টুইট করে জানান, ফিল্ম সমালোচক রমেশ বালা।

উল্লেখ্য, চীনের সর্বমোট ৭ হাজার প্রেক্ষাগৃহে বাহুবলী-২ মুক্তি পেয়েছে। একইভাবে আমির খানের ‘দঙ্গল’ সিনেমাটিও চীনের ৭ হাজার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল। চীনে ‘দঙ্গল’ সিনেমার বক্স অফিস কালেকশন ছিল প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা। রাজামৌলি বাহুবলী-২ সেই রেকর্ডকেও ভেঙে ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। চীনে আমির খানের ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ অবশ্য ৬ হাজার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রবিবার এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ

২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হচ্ছে রবিবার (৬ মে)। প্রতিবছর দুপুর ২টায় ওয়েবসাইট, মোবাইলফোন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফলাফল পাওয়া গেলেও এবার তা এক ঘণ্টা আগে পাওয়া যাবে। অর্থাৎ এবার দুপুর ১টায় শিক্ষার্থীরা ফলাফল হাতে পাবে।

এর আগে সকাল ১০টায় শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফল হস্তান্তর করবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আর প্রধানমন্ত্রীর হাতে হস্তান্তরের পর শিক্ষামন্ত্রী সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করবেন দুপুর ১২ টায়। এরপর দুপুর ১টা থেকে ওয়েবসাইট, মোবাইলফোন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ফল পাওয়া যাবে।

এদিকে, এবারের ফলাফলেও লেটার গ্রেডের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক নম্বরও জানতে পারবে শিক্ষার্থীরা। তবে তা শুধু শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে। অবশ্য, শারীরিক শিক্ষা ও ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের নম্বর ওয়েবসাইটে যুক্ত থাকলেও এই দুই বিষয়ের নম্বর জিপিএ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে না বলে জানিয়েছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।

অন্যদিকে, এবারও ফলাফলে থাকছে না সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (সেরা–২০ ও সেরা–১০) তালিকা। ফলাফলের দিক দিয়ে শীর্ষ তালিকায় ঠাঁই পেতে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করছে, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তুলে দেয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। যা ২০১৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল থেকে কার্যকর করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সাল থেকে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে (জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি) বোর্ডভিত্তিক সেরা ২০ ও জেলাভিত্তিক সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে আসছিল শিক্ষা বোর্ড। নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর শতকরা হার, শতকরা পাসের হার, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ–৫ প্রাপ্তির হার, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও প্রতিষ্ঠানের গড় জিপিএ মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ তালিকা করা হতো। এর আগে শতভাগ পাস এবং সর্বাধিক জিপিএ’র ভিত্তিতে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হতো। যা গতবার (২০১৫ সাল) থেকে তুলে দেয়া হয়।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। লিখিত সৃজনশীল অংশের পরীক্ষা চলে ২৪ তারিখ পর্যন্ত। পরীক্ষায় সারা দেশের ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৯ জন অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ১০ লাখ ২৩ হাজার ২১২ এবং ছাত্রী ছিল ১০ লাখ আট হাজার ৬৮৭ জন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে আওয়ামীলীগের আনন্দ শোভাযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে “গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ এ্যাওয়ার্ড” প্রদান করায় শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনন্দ শোভা-যাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। র‍্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার বলেন, “আমি এমপি হতে চাইনা” জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বারবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।
র‍্যালি ও আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শ্যামনগর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম আতাউল হক দোলনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পিপি ইউপি চেয়ারম্যান এস এম জহুরুল হায়দার (বাবু), উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন সভাপতি জি এম আকবর কবীর, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাবু দেবী রঞ্জন মন্ডল, শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগের শ্যামনগর উপজেলার নেত্রীবৃন্দ, ১২ টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেত্রীবৃন্দ, শ্রমিকলীগের সভাপতি কামরুল হায়দার নান্টু, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি একরামুল কবীর লায়েস, সম্পাদক আব্দুল হাকীম সবুজ, আওয়ামী লীগ শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনতা। সমস্ত আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন স ম আব্দুস সাত্তার। আনন্দ শোভা-যাত্রাটি শ্যামনগরে সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরিশেষে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে এসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সংসদ সদস্য সকলের উদ্দেশ্যে বলেন- ‍”উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আবারো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে মাননীয় প্রধামন্ত্রী জননেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ছেঁড়া জামায় প্রিয়াঙ্কা, সমালোচনার ঝড়

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্রের একজন অভিনেত্রী এবং কণ্ঠশিল্পী। ২০০০ সালে তিনি মিস ওয়ার্ল্ড উপাধি লাভ করেন। ২০০২ সালে তামিল ঠামিজান চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার অভিষেক হয়। হিন্দি চলচ্চিত্রে তিনি সানি দেওলের বিপরীতে দ্য হিরো ছবির মাধ্যমে প্রবেশ করেন। ২০০৪ সালে আন্দাজ ছবির জন্য তিনি সেরা নবাগতা অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৮ সালে তিনি ফ্যাশন ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৬ সালে তিনি ভারত সরকার প্রদত্ত চতুর্থ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রী অর্জন করেন এবং টাইম ম্যাগাজিন প্রকাশিত তালিকায় শীর্ষ ১০০ প্রভাবশালী নারী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

চমকপ্রদ অভিনয় থেকে শুরু করে ব্যক্তিজীবনের বহু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দিয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন এই তারকা। তাই এবারো হয়নি তার ব্যতিক্রম।

এবার পোশাক নিয়ে ফের অনলাইনে সমালোচনার মুখে পড়লেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। আলোচনার বিষয় তার ‘ছেঁড়া জামা’। প্রিয়াঙ্কার ছেঁড়া জামা নিয়ে চলছে নিন্দুকদের করা সমালোচনা। ওই ছবি যখন নায়িকার সোশ্যাল মিডিয়ায় আসে, তখন একের পর এক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে।

নীল রঙের যে পোশাক প্রিয়াঙ্কা পরেছ্নে, তাকে কেউ ‘ব্যাটম্যান আই’ আবার কেউ ‘সেলাই করতে পাঠানো হোক’, আবার কেউ ‘প্রিয়াঙ্কার পকেট কেউ কেটে নিয়েছে’ বলে মন্তব্য শুরু করেন।

জি নিউজ জানায়, নিউইয়র্কের ডিজাইনার ডিওন লিসের নকশা করা পোশাক পরে যখন ক্যামেরার সামনে এলেন প্রিয়াঙ্কা, তখন পাপারাৎজি তাকে ঘিরে ধরে।

তবে একের পর এক সমালোচনার মুখে পড়েও এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করেননি প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্লিন সফরের সময় তার সঙ্গে দেখা করে সমালোচনার মুখে পড়েন প্রিয়াঙ্কা। প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রিয়াঙ্কা কেন হাঁটুর উপরে থাকা পোশাক পরে হাজির হন, তা নিয়ে শুরু হয় জোর সমালোচনা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest