কা‌লিগ‌ঞ্জে ৯ম শ্রে‌ণির ছাত্রী‌ বি‌য়ে ক‌রে তালাক দি‌লেন ৩ সন্তা‌নের জনক শিক্ষক

মোঃ আরাফাত আলীঃ কা‌লিগঞ্জ উপ‌জেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়‌নের মোহম্মদ নগর দা‌খিল মাদ্রাসার নবম শ্রে‌ণির ছাত্রী‌কে বি‌য়ে ক‌রে তালাক দি‌লেন ৩ সন্তা‌নের জনক ওই মাদ্রাসার লম্পট সহকা‌রি শিক্ষক ইব্রা‌হিম গাজী (৩৮)। সে উপ‌জেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়‌নের রঘুনাথপুর গ্রা‌মের মৃত হারান গাজীর ছে‌লে। ঘটনা‌টি ঘ‌টে‌ছে গত রোববার বিকাল ৪ টার দি‌কে। স্থানীয় অ‌হেদুজ্জামান, আনিছুর ও সা‌হেব আলী গাজী জানান রঘুনাথপুর গ্রা‌মের আব্দুল্লাহ সরদা‌রের মে‌য়ে ও দা‌খিল মাদ্রাসার নবম শ্রে‌ণির ছাত্রী মাছুরা‌কে বি‌ভিন্ন ভা‌বে ফুস‌লি‌য়ে প্রে‌মের সম্পর্ক গ‌ড়ে তো‌লে ওই শিক্ষক। এরই জের ধ‌রে গত ৩ মাস আগে লম্পট শিক্ষক ওই ছাত্রী‌কে নি‌য়ে সাতক্ষীরা ক‌ো‌র্টে নিয়‌ে বি‌য়ে ক‌রে ‌বিষয়‌টি গোপন রে‌খে তা‌কে বা‌ড়ি‌তে পা‌ঠি‌য়ে দেয়। পরবর্তী‌তে গত ৪ দিন আগে বিষয়‌টি প্রকাশ পে‌লে স্থা‌নিয়রা গত র‌বিবার ৫০ হাজার টাকা মে‌য়ের প‌রিবারকে দি‌য়ে দফারফা ক‌রেন ব‌লে জানা যায়। বিষয়‌টি সম্প‌র্কে জান‌তে স‌রেজ‌মিনে সহকা‌রি শিক্ষক ইব্রা‌হি‌মের বা‌ড়ি‌তে গে‌লে দেখা পাওয়া যায়‌নি মোবাইল ফো‌নে তার সা‌থে যোগ‌া‌যোগ করা হ‌লে বি‌য়ের বিষ‌য়ে অস্বীকার ক‌রে তি‌নি ব‌লেন দুই দি‌নের জন্য ছু‌টি নি‌য়ে বাই‌রে র‌য়ে‌ছেন এবং প্র‌তি‌বেদনটি না করার জন্য তি‌নি অনু‌রোধ জানান। বিষয়‌টি নি‌শ্চিত হ‌তে ওই ছাত্রীর বাড়ী‌তে গে‌লে জান‌া যায় তার প‌রিবার ৫০ হাজার টাকা নি‌য়ে রফাদফা করার প‌রে তা‌কে খুলনাতে পা‌ঠি‌য়ে দেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

এসময় মে‌য়ের পিতা আব্দুল জ‌লিল গাজী ও ত‌ার চাচাত ভাই ইব্রা‌হিম হো‌সেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার ক‌রে ব‌লেন তা‌দের বি‌য়ে হ‌য়ে ছিল ত‌বে স্থা‌নীয় গণ্যমান্য ব্যা‌ক্তি বর্গ‌রা ৫০ হাজার টাকার মাধ্য‌মে মিমাংসা ক‌রে কা‌বিন নামা ছি‌ড়ে ফে‌লে‌ছে এবং মে‌য়ে‌র নিকট থে‌কে তালাক নামায় ‌ স্বাক্ষর নিয়েছে ব‌লে তারা জানান।

এ বিষ‌য়ে জান‌তে চাই‌লে কা‌লিগঞ্জ থানার প‌রিদর্শক (তদন্ত) রাজীব হো‌সেন ব‌লেন এবিষ‌য়ে তি‌নি অবগত নন, ত‌বে বিষয়‌টি তদন্ত ক‌রে ক‌রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হ‌বে ব‌লে তি‌নি জানান। এমন নেক্কার জনক ঘটনার নায়ক ওই শিক্ষকের বিরু‌দ্ধে জোর শা‌স্তির দাবী জা‌নি‌য়ে‌ছে এলাকার স‌চেতন মহল

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঢাকা মেডিকেলে মৃত ঘোষিত নবজাতক দাফনের সময় জেগে উঠল!

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একের পর এক ঘটছে অলৌকিক সব ঘটনা। ঢামেকে এক নবজাতককে মৃত ঘোষণার পর তাকে দাফন করতে আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানে নিয়ে যান শরিফুল নামে এক ব্যক্তি।
সোমবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে কবরস্থানের মোহরার হাফিজুল ইসলাম নবজাতককে গোসল করাতে গোসলখানায় পাঠান। এসময় তিনি শরিফুলের কাছ থেকে নবজাতকটির অভিভাবকের নাম ঠিকানা লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
গোসলখানায় জেসমিন আক্তার ঝর্ণা নামে এক নারী নবজাতকের গায়ে পানি ঢালতেই নবজাতকটি মৃদু নড়েচড়ে ওঠে। চোখে ভুল দেখছেন ভেবে আবার পানি ঢালতেই দেখেন শ্বাস-প্রশ্বাস ওঠানামা করছে। এবার তিনি অফিসে গিয়ে খবর দিলে সেখানে উপস্থিত সবাই ছুটে যান। বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেন শিশুটি শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে।
এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে মোহরার হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘ঢামেক থেকে সকাল ১০টায় মৃত ঘোষিত নবজাতককে দাফনের জন্য আনা হয়। গোসল করানোর সময় নবজাতকটি নড়ে ওঠে। সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
তিনি বলেন, ‘হায়াত থাকলে নবজাতকটি হয়তো বেঁচে যাবে।’
তিনি আরও জানান, ঢামেক হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেটে নবজাতক মৃত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে নবজাতকের পিতার নাম- মিনহাজ। ঠিকানা- ধামরাই, ঢাকা লেখা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল থেকে মৃত ঘোষণা করার পর কবরস্থানে জেগে ওঠা নবজাতকটিকে আজিমপুর মাতৃসদন কেন্দ্র থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
উ. কোরিয়ায় বাস দুর্ঘটনা, ৩০ চীনা পর্যটকের মৃত্যুর আশঙ্কা

উত্তর কোরিয়ায় চীনা পর্যটকবাহী একটি বাস সেতু থেকে পড়ে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় রবিবার রাতে দেশটির হোয়ংহায়ে প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে চায়না গ্লোবাল টিভি নেটওয়ার্ক-সিজিটিএন এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে গেছেন উত্তর কোরিয়ায় নিযুক্ত চীনের কূটনীতিকরা।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সোমবার সকালে চীনা পর্যটকবাহী বাসটির দুর্ঘটনার কথা জানালেও এ ব্যাপারে খুব একটা বিস্তারিত তথ্য জানায়নি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এএফপি আরও জানিয়েছে, সিজিটিএন শুরুতে এক টুইটবার্তায় নিহতের সংখ্যা ৩০ জনেরও বেশি বলে উল্লেখ করেছিল। পরে ওই টুইটটি মুছে ফেলা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভয়ঙ্কর জঙ্গিদের ‘শিকার’ করেন যে নারী!

উত্তর নাইজেরিয়ার বোকো হারামের জঙ্গিরা এক নারীর ভয়ে থরথর করে কাঁপে৷ কারণ, এই নারী বেছে বেছে জঙ্গিদের শিকার করেন৷ সুঠাম চেহারার আয়েশার বন্দুকের নলে অনেক জঙ্গির ভবলীলা সাঙ্গ হয়েছে৷ সংবাদ সংস্থা আল জাজিরার বিশেষ অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে জঙ্গি শিকারি আয়েশার জীবন৷

নাইজেরিয়ার সামবাইসা অরণ্য৷ এই এলাকা হাতের তালুর মতোই চেনেন আয়েশা বাকারি গোম্বি৷ সশস্ত্র এই নারী তার বাকি সঙ্গিদের নিয়ে জঙ্গলে-জঙ্গলে, দুর্গম এলাকায় জঙ্গি শিকারে মেতে আছেন৷ তার ভয়ে ভীত বোকো হারাম৷ যাদের হামলায় বারে বারে রক্তাক্ত হচ্ছে নাইজেরিয়া দেশটি৷

বোকো হারাম জঙ্গি সংগঠনটি ২০০২ সাল থেকে তাণ্ডব শুরু করেছে৷ সামবাইসা অরণ্যেই তাদের প্রধান ঘাঁটি৷ সেখান থেকেই লাগাতার উত্তর নাইজেরিয়ার একাধিক স্থানে হামলা চালায় জঙ্গিরা৷ আর সেই হামলার জবাব দিতে জঙ্গলে ঢুকে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে আয়েশা ও তার দলের সদস্যরা৷ জঙ্গি হামলায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ওই এলাকায়৷

আয়েশা এক বিশেষ অভিযানের সদস্যা৷ তার দলটি বোকো হারামের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে৷ বিশেষ করে জঙ্গিদের হাতে অপহৃত শিশু কন্যাদের রক্ষায়৷ পাশাপাশি যেকোন রকম নাশকতার বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘর্ষে নেমে পড়েছেন আয়েশা৷ উত্তর নাইজেরিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামে সংসার আয়েশার৷ স্বামী আছেন৷ তিনিও জঙ্গি বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত৷ আয়েশার জীবন আর পাঁচজন নাইজেরীয় নারীর মতোই৷ গ্রামে ও পরিবারে তিনি বেশ শান্ত স্বভাবের একজন গৃহবধূ৷ আয়েশার লড়াইয়ের খবর প্রকাশ হতেই চমকে গিয়েছে ব্শ্বি৷ তার জীবনযাত্রায় উদ্বুদ্ধ হয়েছেন অনেকে৷ যেভাবে বোকো হারামের মতো জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে বন্দুক হাতে লড়াই করছেন এই নারী, তাকে সালাম করছে বিশ্ব৷

সামবাইসা অরণ্যের গভীর থেকে গভীরে ছুটে যায় জঙ্গি শিকারী আয়েশার বাইক৷ তবে তিনি সবসময় বাইক চালান না৷ পিছনে বসে থাকেন৷ আর তার বন্দুক থাকে শিকারের লক্ষ্যে৷ গরম, ঠাণ্ডা, প্রবল বৃষ্টি কোন সময়েই দায়িত্ব থেকে সরে আসেন না আয়েশা ও তার সঙ্গীরা৷ এই সংগঠনের কথা ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত৷ প্রবল শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক অস্ত্রে বলীয়ান বোকো হারাম জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নাইজেরিয়া ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো একযোগে সেনা অভিযান চালাচ্ছে৷ তারই মাঝে নিজের চেষ্টায় আয়েশা লড়াই করছেন৷ জঙ্গি হত্যা অভিযানে তার ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ৷ আয়েশা চান জঙ্গি মুক্ত হোক পৃথিবী৷

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে তারেক রহমানের লিগ্যাল নোটিশ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন’— পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে তাকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সরকারি ডাকযোগে নোটিশটি পাঠান তারেক রহমানের আইনজীবী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করায় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম ও কালের কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

পরে কায়সার কামাল বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন’ মর্মে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং সেই বক্তব্য যে দুটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। তারেক রহমানের নির্দেশে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে একটি নোটিশে পাঠানো হয়েছে।’ আগামী ১০ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে, প্রতিমন্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে আলাদা আলাদাভাবে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন কায়সার কামাল।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খানও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমরা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি। নোটিশে বলা হয়েছে যে, তিনি যে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন, এই বিষয়ে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এটা মিথ্যে, বানোয়াট ও মোটিভেটেড।’

কায়সার কামাল আরও বলেন, ‘পাশাপাশি লিগ্যাল নোটিশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ১০ দিন সময় দিয়েছেন। এর মধ্যে শাহরিয়ার আলমকে প্রমাণ দেখাতে হবে যে, তারেক রহমান নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। অন্যথায়, ১০ দিনের মধ্যে পাবলিকলি অ্যাপোলজি জানাতে হবে। না হলে তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সবুজ পাসপোর্ট জমা দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন তারেক রহমান।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সেই তারেক রহমান কীভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ৩৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক ছয় ব্যক্তি আটক হয়েছে।
আটক কৃতরা হল- কলারোয়া থানার গদোখালী এলাকার মৃত রফিকুল মোড়লের ছেলে মোঃ কাবিরুল ইসলাম কালু, (২৮) কুমারনাল এলাকার মৃত নুরল ইসলাম মোল্লার ছেলে আরিফুল ইসলাম মোল্লা, (২১) কুরনাল এলাকার মোঃ ইসহাক বিশ্বাসাসের ছেলে আরিফুল বিশ্বাস (২৭) সদর থানার পাথরঘাটা এলাকার মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে মোঃ মাহামুদুল হক বাবু, (৩৫) একই এলাকার মৃত আব্দুল খালেক দ্লালের ছেলে মোঃ মশিউর রহমান মনি, মৃঙ্গীডাঙ্গা এলাকার রয়িচ উদ্দিনের ছেলে আনারুল ইসলাম সরদার (৪৭)।
ডিবি পুলিশের ২নং টিমের ইনেসপেক্টার জুলফিকার জানান, রবিবার সন্ধায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা কলারোয়ার কুমারনাল এলাকা থেকে ৩৫০ পিচ এয়াবা শহ ছয় জনকে আটক করে। এসময় অভিযান পরিচালনা করেন ডিবি পুলিশের ২নং টিমের ইন্সপেক্টর জুলফিকারের নেতৃত্বে এসআই রবিন, এ এসআই শরিয়তউল্লাহ শহ সঙ্গীয় ফোর্স। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদক আইনের প্রচলিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান গণি সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেবহাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গণি সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন। গত ১৯ এপ্রিল স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ৪৬.০৪৬.০২৭০০.০০.১৬৯.২০১৪-৬০৩ নং স্মারকে উপ-সচিব ড. জুলিয়া মঈন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন পত্রে জানানো হয়েছে, দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গণির বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় গত ২০১৭ সালের ২১ জুন তারিখের অভিযোগপত্র নং-৯৩, ধারা: ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯-ক/২১ এবং অভিযোগপত্র নং- ৯৩ক, ধারা: দন্ডবিধি ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৫০৬/১১৪ বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক যথাক্রমে গত ১৯-২-২০১৮ তারিখে গৃহিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় তার দ্বারা ক্ষমতা প্রয়োগ জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে সরকার মনে করেন। তাই উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ [উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১১ দ্বারা সংশোধিত]- এর ধারা ১৩(খ)(১) অনুসারে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গণিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শুকুর আলীর ৬২ বছরে ভাগ্য ফিরলো কয়লার ইস্ত্রিতে

মোঃ রাসেল ইসলাম, বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর এক নম্বর কলোনি এলাকার বাসিন্দা তিনি। গ্রামে বিদ্যুতের প্রশ্নই ওঠে না। ছোট ভাই সে সময়ে ১২শ’ টাকা দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে একটি কয়লার ইস্ত্রি এনে দেন। নির্দিষ্ট করে সালটা মনে নেই। দেশ স্বাধীনের ৯-১০ বছর পরের কথা। এরপর তিনি সেই ইস্ত্রি দিয়ে লন্ড্রির কাজ শুরু করেন। এখনো করে চলেছেন একই কাজ।

শুকুর আলীর বাবা আব্দুর রহিম মিজি ও মা নূরজাহান বেগম কেউই বেঁচে নেই। গ্রামের বাজারের মধ্যে ছোট একটি দোকান। তার মধ্যে দুটো টেবিল আর দেওয়াল ঘেঁষে জমিয়ে রাখা হয়েছে কয়লা। এই কয়লার আগুন ইস্ত্রির ভেতর ঢুকিয়ে কাপড় ইস্ত্রি করেন শুকুর আলী। ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এ কাজ করে চলেছেন। এ আয় দিয়েই কিনেছেন দুই বিঘা ধানিজমি। ছোট ছেলে জামির হোসেনকে পড়াচ্ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।

শুকুর আলী (৬২) জানান, দেশ স্বাধীনের ৯-১০ বছর পর ছোট ভাই মনসুর আলী চট্টগ্রাম থেকে পিতলের তৈরি কয়লার ইস্ত্রি নিয়ে আসে। ১২শ’ টাকা দাম। সেই থেকে বসতপুর বাজারে কাপড় ইস্ত্রির কাজ শুরু, এখনো চলছে। বছর দুই আগে বসতপুর বাজারে ছোট একটি দোকান ভাড়া নেন তিনি। মাসে ৫০০ টাকা ঘর ভাড়া আর পাশের দোকান থেকে লাইন টেনে একটি বাল্ব জ্বালান। দোকানিকে মোটে ৩০ টাকা দেন। এর আগে তিনি বাজারের বিভিন্ন দোকানের সামনে লোকজনকে বলে একটু জায়গা নিয়ে এ কাজ করতেন।

তিনি জানান, ইস্ত্রির কাজ শুরুর বছর খানেক পর বেনাপোল পোর্ট থানার ঘিবা গ্রামের জবেদা বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সংসার জীবনে তার দুই মেয়ে এবং দুই ছেলে। দু’টো মেয়ে ও বড় ছেলের বিয়ে হয়েছে। ছোট ছেলে জামির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিবিএ অনার্স পাস করেন) পড়াশোনা করেন। এ মাসে তিনি মাস্টার্স পরীক্ষা দেবেন।

তিনি আরও জানান, প্রথম দিকে কাপড় প্রতি আটআনা পরে একটাকা করে নিতেন। এখন পাঁচ টাকা। আর শাড়ি প্রতি দশ টাকা। তখন প্রতিদিন ২০-৫০ টাকা আয় হতো। সংসার চলে যেতো। বিয়ের পর বাড়িতে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালতেন স্ত্রী। সংসারের খরচ থেকে টুকটাক জমিয়ে প্রথমে কেনেন পাঁচ কাঠা জমি। এরপর আবার কিছু সঞ্চয়, তারপর আস্তে আস্তে এখন দুই বিঘা ধানিজমির মালিক তিনি। সেই জমিতে নিজেরাই উৎপাদন করেন ধান। এতে তাদের বছরের খোরাকিটা হয়ে যায়।

সবসময় প্রাণোচ্ছল মানুষটির জীবনে একটিই চাওয়া ছিল, অন্তত একটা ছেলেকে তিনি লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করবেন। তার সেই আশা এখন পূরণের দিকে। ছোট ছেলে জামির লেখাপড়ায় বেশ ভালো। এরইমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিসিএস পরীক্ষার। তিনি চান- একটি ভালো চাকরি জুটিয়ে পরিবারের হাল ধরতে। তার মতে, বাবা হচ্ছেন সহজ-সরল মানুষ। খুবই সৎ আর কর্মঠ। কখনো তিনি কোনো বিষয়কে জটিল করে দেখতে চান না।

জানা যায়, এলাকায় কোনো বাড়িতে বিয়ে বা অন্য কোনো অনুষ্ঠান হলে তিনি সেখান থেকে বস্তায় ভরে কয়লা সংগ্রহ করেন। সংকট দেখা দিলে মাঝেমধ্যে বস্তা প্রতি ১৬০ টাকা দরে কেনেন। ইস্ত্রি কেনার পর একবার হাত থেকে পড়ে কাঠের হাতলটি ভেঙে যায়। ওই একবারই সেটি মেরামত করতে হয়েছে। এছাড়া আর কোনো সমস্যা হয়নি।

প্রতিবেশী কলেজ শিক্ষক আবু আব্দুল্লাহ বলেন, ‘মানুষটা খুব নিরীহ। কারো সঙ্গে কোনোদিন উচ্চস্বরে কথা বলেননি। সবাই তাকে শ্রদ্ধা করে বিশেষ করে তার সততার জন্য। এই বাজারে একমাত্র তারই ইস্ত্রির দোকান রয়েছে। বসতপুর ছাড়াও আশপাশের গ্রামের লোকজন তার কাছে কাপড় ইস্ত্রি করাতে আসেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest