সর্বশেষ সংবাদ-
৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়াসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভাতালা থেকে কপোতাক্ষ নদে পড়ে যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ পাইকগাছায় উদ্ধারসাতক্ষীরা জেলা এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর এসোসিয়েশনের সভাসাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইড কার্যক্রম বিষয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময়৯০ দশক ছাত্রদল প্লাটফর্ম এর সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠনসাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান চেয়ারম্যান আলিমেরএসএসসি ২০০০ সালের ব্যাচের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাতক্ষীরায় সিলভার জুবিলি “মেঘা মিটআপ-২০২৫” অনুষ্ঠিততালার সুভাষিনী গ্রামে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ চুরি : নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটসাতক্ষীরা জেলা আইনজীবি সমিতির ১১ সদস্য বিশিষ্ট্য আহবায়ক কমিটি গঠন

আশ্রমে কিশোরী ধর্ষণ; ভারতীয় ভণ্ড ধর্মগুরুর যাবজ্জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অবশেষে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন স্বঘোষিত ভারতীয় ‘ধর্মগুরু’ আসারাম বাপু। ২০১৩ সালে যখন পুরো ভারতবাসী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছিল তখন আসারাম তার আখড়ায় নাবালিকা মেয়ে ধর্ষণে লিপ্ত ছিল।
৭৭ বছর বয়সী এই ‘গুরু’র বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৩ সালে উত্তরপ্রদেশের শাহাজাহানপুরের নিজ আশ্রমে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেন তিনি। বুধবার আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তবে তার সাজার মেয়াদ এখনো নির্দিষ্ট হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ডাদশে হতে পারে তার। সাজার ক্ষেত্রে বয়সের বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পক্ষের আইনজীবীরা এই বিষয়টি আদালতের নজরে এনেছিল।
নারী ভক্তদের আসারাম বলতেন- আমি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মানব রূপ আর তোমরা সবাই মেয়েরা হলে আমার গোপীনি। ভক্তদের ভোগের সামগ্রী বা গোপীনি মনে করা এই ‘কলির কৃষ্ণ’ শুধু শাজাহানপুরের ওই কিশোরী নয়, আরও বেশ কয়েকজন ভক্তেরই সম্ভ্রমহানি করেছেন। একই অভিযোগে অভিযুক্ত তার গুণধর পুত্রও।
ধর্ষণপীড়িত কিশোরী গুরুকুলের ছাত্রী ছিল। সে মিডিয়াকে জানায়, যখন সে আশ্রমে প্রবেশ করে তখন তাকে প্রসাদের সঙ্গে এমন কিছু খাইয়ে দেওয়া হয় যে সে সম্মোহিত হয়ে পড়ে। এরপর সে আশ্রমে থাকার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সে আরও জানায়, আসারাম ও তা ছেলে দুজনই নিজেকে ভগবান দাবি করতো।
সে আরো জানায়, রাতের বেলা আসারাম টর্চ হাতে আশ্রমে ঘুরতো। যেসব মেয়েকে তার পছন্দ হতো তাদের ওপর টর্চের আলো ফেলতো। এরপর তার অনুসারীরা ওই মেয়েদের ডেকে আসারামের কাছে সমর্পন করা হতো।
আসারাম নারী নিগ্রহ আর শ্লীলতাহানির অপকর্ম অনেক করেছে। তবে ধরা খেয়ে যায় ওই কিশোরীর ক্ষেত্রে এসে। এই ঘটনার শুরু ২০১৩ সালের ৭ আগস্ট। মধ্যপ্রদেশের ছিন্দবারা এলাকায় আসারামের অধীন গুরুকুল থেকে সেদিন একটি কল আসে ওই কিশোরীর বাবার সেলফোনে। বলা হয়, গুরুকুলের ছাত্রী তাদের কন্যা অসুস্থ। তার ওপর ভূত-প্রেত আসর করেছে। তবে তার চিকিৎসা গুরু আসারাম করতে পারবেন।
এমন খবরে বা-মা হন্তদন্ত হয়ে ছিন্দবারায় হাজির হন গুরুকুলে। সেখাকার তত্ত্বাবধায়করা তাদেরকে পরামর্শ দেয় কন্যাকে নিয়ে আসারামের দরবারে যেতে। তখন যোধপুরে অবস্থান করছিল আসারাম। ১৪ আগস্ট কন্যাকে নিয়ে তারা যোধপুরের মানাই আশ্রমে হাজির হন। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন আসারাম যে অনুষ্ঠান করেন তাতে বেশকিছু মেয়েকে নিয়ে আসা হয়।
এফআইআর এবং চার্জশিট মোতাবেক, মেয়েদের নিয়ে আসারামের খাস কামরা প্রবেশ করানো হয় আর তাদের অভিবাকদের বলা হয় বাইরে ধ্যানে বসে যেতে। এরপর নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে মেয়েদের ওপর হামলে পড়তো সে। এসময় তাদের নানান ভয়ভীতিও দেখানো হতো।
ঘটনার শিকার মেয়েকে নিয়ে ‘গুরু’র দরবার থেকে ১৬ আগস্ট শাহজাহানপুরের বাড়িতে রওনা হয় বাবা-মা। বাড়ি এসে মেয়েটি তাদেরকে জানায় আগেরদিন তার ওপর কী জঘন্য ঘিনঘিনে ঘটনা ঘটে গেছে। ঘটনা শুনে তাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। যাকে নিজেদের সবকিছু মনে করতেন- সেই লোকই তাদের নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে এমন জঘন্য কাজ করেছে!
তারা আসারামের কাছে ঘটনা জানার জন্য ছুট লাগায়। কিন্তু ধর্ষক-গুরু তখন দিল্লির আশ্রমে। তারা দিল্লিতেই হাজির হন ১৯ আগস্ট। সেখানে আসারামের চেলারা তাদের বাধা দেয়ে। খবর পেয়ে আসারাম আত্মগোপনে যায়। পরদিন, ২০ আগস্ট তারা আসারামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আসারামকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত, তবে ভক্তরা তার মুক্তির আশায় প্রাথনায় রত ছিল -ফাইল ফটো
দিল্লির কমলা মার্কেট থানায় দায়ের করা নাবালিকা ধর্ষণ মামলায় তার সঙ্গে আরো তিন সহযোগীও দোষী সাব্যস্ত হয়েছে আর খালাস পেয়েছে দুই জন। মামলাটি পরে যোধপুরে স্থানান্তর করা হয়। ২০১৩ সারের ৩১ আগস্ট আসারামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং তারপর থেকে সে যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি ছিল।
আসারামের বিরুদ্ধে মামলাটি খুবই স্পর্শকাতর আর গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। দেশজুড়ে তার ভক্ত অনুসারীরা ‘গুরু’র বিচারের বিরেুদ্ধে ব্যাপক বিরোধীতায় অবতীর্ণ হয়। একইসঙ্গে চলে তার মুক্তির জন্য দলে দলে প্রার্থনা। প্রসঙ্গত, গুজরাতের সুরাতেও আসারাম এবং তার ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন দুই বোন। বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে গত চার বছরে এই দুই মামলার ৯ জন সাক্ষীর ওপর হামলা হয়েছে। মারা গেছেন ৩ জন।
রায় ঘোষণার পর ধর্ষণপীড়িত মেয়ের বাবা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই বলে যে শেষতক আসারাম দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, বিচার পেয়ে গেছি। একই সঙ্গে এই লড়াইয়ে যারা তার সঙ্গ দিয়েছেন তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
আলোচিত এই মামলার রায়ের দিন আদালত বসে জেলে। জোধপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের ভিতরেই আসারামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় রায় দেয় বিশেষ তফসিলি আদালত। এ বাবদে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয় জেলকে ঘিরে। বিচারক মধুসূদন শর্মাকেও বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
অপরদিকে, রায়কে ঘিরে আসারামের সমর্থকরা যাতে গোলযোগ সৃষ্টি করতে না পারে সে দিকে কড়া নজর রাখছে পুলিশ। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জোধপুর জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। শহরে সব বাস টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হোটেল ও ধর্মশালায় কারা আসা-যাওয়া করছেন, নজর রাখা হচ্ছে সে দিকেও। শহরের বাইরে পল রোডে আসারামের আশ্রম। দাঙ্গার আশঙ্কায় সেটিও ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে।
দাঙ্গার আশঙ্কায় উত্তরপ্রদেশে ওই নিগৃহীতার বাড়ির বাইরেও মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ।
২০১৩ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ১২ বার জামিনের আবেদন করেছেন আসারাম। তবে এই ধর্ষক-গুরুর আবেদন খারিজ হয়েছে প্রতিবারই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সেই ডিআইজি মিজানকে এবার দুদকে তলব

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে আগামী ৩ মে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে তলব করা হয়েছে।

বুধবার দুদক থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে মিজানুর রহমানকে আগামী ৩ মে সকাল সাড়ে ৯টায় দুদকের সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

মিজানুরকে যথাসময়ে দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য আইজিপি বরাবর অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।

জানা গেছে, নামেবেনামে ডিআইজি মিজানের শতকোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ আছে দুদকের কাছে। সেই অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে ১০ ফেব্রুয়ারি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীর স্বাক্ষরে বিভিন্ন সংস্থায় আয়ের বিষয়ে জানতে তথ্য এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা ও বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার, বিআরটিএ, রাজউক, রিহ্যাবসহ সংশ্লিষ্ট অফিসে চিঠি দেয়া হয়েছিল।

এসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য হাতে আসায় ডিইজি মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে তলব করা হয়েছে।

এর আগেও ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করেছিল দুদক। কিন্তু তখন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তবে এবার নতুন করে অনুসন্ধানে তার চাকরি জীবনে যাবতীয় আয়-ব্যয়, এনবিআরে দেয়া সম্পদের তথ্য, নারীঘটিত বিষয়ে অর্থ খরচের পেছনে টাকার উৎস, বিদেশে পরিবার-পরিজনের জন্য পাঠানো অর্থসহ পুরো বিষয়টি অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে।

ডিআইজি মিজান ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত জানুয়ারির শুরুর দিকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

দ্বিতীয় বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ ওঠে ডিআইজি মিজানুরের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনেরও অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রমাণ পায় পুলিশের তদন্ত কমিটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

সর্বশেষ ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে এক সংবাদ পাঠিকা প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ তুলেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ঢাবি ছাত্রীকে হত্যার দায়ে ঢাবি ছাত্র স্বামীর যাবজ্জীবন

আসাদুজ্জামান: স্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী মাশহুদা সুলতানাকে হত্যার দায়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র স্বামী আবদুল কুদ্দুসকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. আশরাফুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। আসামি আব্দুল কুদ্দুস এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন সাজা প্রাপ্ত আসামি আব্দুল কুদ্দুস (২৫) খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার শ্রকিন্ঠপুর গ্রামের মৃত মহিউদ্দীন সরদারের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খানপুর গ্রামের মৃত শাহসূফী আহম্মদ মাও. মোঃ এলাহি বক্সের মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্রী মাসহুদা সুলতানা ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র আব্দুল কুদ্দুস ২০১২ সালের প্রথম দিকে দুইজন দুজনকে ভালাবেসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামী আব্দুল কুদ্দুস অন্য আর একটি মেয়ের সাথে প্রেম ঘটিত ব্যাপারে জড়িয়ে পড়েন। স্বামীর এই অনৈতিক কর্মকান্ডে তার স্ত্রী প্রায়ই বাধা দিতেন। এক পর্যায়ে ২০১২ সালেরর ২২ জুন রাতে আব্দুল কুদ্দুস তার শ্বশুর বাড়ি সদর উপজেলার খানপুর গ্রামের পীর বাড়িতে বেড়াতে এসে স্ত্রী মাসহুদার সাথে এই বিষয়টি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আব্দুল কুদ্দসের শ্বাশুড়ি তার মেয়েকে নিয়ে আলাদা রুমে ঘুমাতে যান। গভীর রাতে আব্দুল কুদ্দুস তার স্ত্রীকে মোবাইলে তার রুমে ডেকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন অবস্থায় ওড়না ও গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ভোরে তিনি ফজরের নামাজ আদায়ের কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর সকালে ঘাতক কুদ্দুস সাতক্ষীরা সদর থানায় আত্মসমর্পণ করে পুলিশকে জানান তিনি তার স্ত্রী মাশহুদাকে হত্যা করেছেন। কুদ্দুস পরে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দেন।
নিহত মাসহুদার চাচা আব্দুল্লাহিল গালিব বাদী হয়ে আসামী আব্দুল কুদ্দুসের নামে সদর থানায় ওই দিনই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুল হাসান ওই বছরের ১৫ আগষ্ট দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামীর নামে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
মামলার নথি ও ১২ জন স্বাক্ষীর জবানবন্দি দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে বিচারক আজ বুধবার দুপুরে এ মামলার আসামী আব্দুল কুদ্দুসকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস কারাদ্বন্ড প্রদান করেন।
এ মামলায় আসামীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. আবু বক্কর ছিদ্দিক। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সাবেক পিপি এড. এসএম হায়দার আলী ও এপিপি এড. দাশ কার্ত্তিক চন্দ্র।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জামিন পেলেন সাতক্ষীরা যুবলীগের আহবায়ক মান্নান

জামিন পেয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতে মান্নানের জামিন আবেদন করলে জেলা ও দায়রা জজ সাদিকুল ইসলাম তালুকদার তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ পৌর আওয়ামীলীগের সভায় জেলা যুবলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায়্এক পক্ষের দায়েরকৃত মামলায় মান্নান কে আটক করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি জেল হাজতে ছিলেন।
—বিস্তারিত আসছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভিটামিন ডি-এর উপকারিতা
আমাদের শরীরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদানের মধ্যে একটি হলো ভিটামিন ডি। ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস (হাড় বাঁকা), অস্টিও মেলাশিয়া, বয়স্কদের হাড় ক্ষয় ইত্যাদি হয়ে থাকে। ভিটামিন ডি সূর্যের আলোক রশ্মির উপস্থিতিতে মানবদেহের চর্মে উৎপন্ন হয়। এছাড়া ভোজ্য তেল, দুগ্ধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য, বিভিন্ন মাছের তেল, ডিমের কুসুম, মাখন, ঘি, চর্বি ও মাংসে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। ভিটামিন ডি অস্থি ও দাঁতের কাঠামো গঠন করে।
অন্ত্রে ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়ায়, রক্ত প্রবাহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ভিটামিন ডি আগামী প্রজন্মের (শিশুদের) ভ্রূণ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর অভাবে শিশুদের হাড় নরম হয়ে যায় ও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
পায়ের হাড় ধনুকের মত বেঁকে যায়, হাত ও পায়ে অস্থিসন্ধি বা গিট ফুলে যায়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে অন্ত্রে ক্যালসিয়াম শোষণ বিঘ্ন ঘটে, থাইরয়েড গ্রন্থির কাজের পরিবর্তন ঘটে, অস্থি দুর্বল ও কাঠিন্য কমে যায়। ফলে হালকা আঘাতে অস্থি ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ভিটামিন ডি-এর অভাব প্রতিরোধ করতে শিশুকে প্রতিদিন ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। পাশাপাশি শিশুকে কিছুক্ষণের জন্য সূর্যের নরম আলোয় বিশেষ করে সকাল ও বিকাল বেলা খেলাধুলা করতে দিতে হবে। এছাড়া শিশুদের পাশাপাশি বড়দের সূর্যের আলোয় প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫-২০ মিনিট থাকতে হবে ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। উপরোক্ত কোন লক্ষণ দেখা গেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারতে পুলিশের অভিযানে ৩৭ মাওবাদী নিহত
ভারতে পুলিশের অভিযানে অন্তত ৩৭ মাওবাদী নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আরো কিছু মৃতদেহ উদ্ধার করায় মৃতের সংখ্যা বাড়ে। গত রবিবার এবং সোমবার মহারাষ্ট্রে দুই দিন ধরে মাওবাদীবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ। খবর রয়টার্স ও এনডিটিভি’র
মাওবাদী দমনের লক্ষ্যে গড়চিরোলি পুলিশ মহারাষ্ট্রের তারগাঁও গ্রামে অভিযান শুরু করে। পুলিশের কাছে খবর ছিল, তারগাঁও এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছে বেশ কিছু মাওবাদী। খবর পেয়েই অভিযানে নামে সি-৬০ নামের একটি বিশেষ দল। সি-৬০ মূলত মাওবাদী দমন অভিযানে প্রশিক্ষিত বাহিনী।
রবিবারের অভিযানে চার ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও মাওবাদীদের মধ্যে গুলির লড়াই চলে। এতে নারীসহ ১৬ মাওবাদী নিহত হয়। ওই অভিযান সফল হওয়ার পর সোমবার গভীর রাতে ফের অভিযান শুরু হয়। কর্নসুর জঙ্গলে প্রায় ৯০ মিনিট পুলিশের সঙ্গে মাওবাদীদের গুলির লড়াই চলতে থাকে। ইন্দ্রাবতী নদী দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে পুলিশ গুলি চালালে অনেক মাওবাদীর মৃতদেহ নদীতে পড়ে যায়। সোমবার এবং গতকালও মৃতদেহ পানিতে ভেসে ওঠে।
গড়চিরোলির পুলিশ কর্মকর্তা প্রশান্ত দিবাতি বলেছেন, সোমবার এবং মঙ্গলবার আমরা ১৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। সোমবার রাতে পুলিশের গুলিতে আরো ৬ জন নিহত হয়।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অবশেষে কালিগঞ্জ থানার বিতর্কিত ওসি সুবীর দত্ত স্টান্ড রিলিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার বিতর্কিত ওসি সুবীর দত্তকে স্টান্ড রিলিজ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই কালিগঞ্জ থানার পরিদর্শক(তদন্ত) রাজীব হোসেনের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন সুবীর দত্ত।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানা এলাকায় বি এন পি কিংবা জামাত শিবির নয়, পুলিশ আতংকে বাড়ি ছাড়া হয়েছেন একালাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে দিন মুজুরও। চাহিদা মত চাঁদার টাকা না দিতে পেরে দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া রয়েছের অনেকে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতিসহ একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ- অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা আর চাঁদাবাজ অফিসার ইনচার্জ সুবীর দত্ত। যার কারণে উপজেলা এলাকায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্দ ছিলেন।
কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ. লীগের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের স্বাক্ষরিত স্বরাস্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি ও ডিআইজি বরাবর দায়ের করা অভিযোগে জানা গেছে, থানা অফিসার ইনচার্জ কালিগঞ্জ থানায় (১১/১১/২০১৭) যোগদানের পর থেকে এলাকার নিরীহ মানুষদের তুলে নিয়ে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া, মাদক ব্যবসায়ীর প্রাধান্য দেওয়া, সন্ত্রাসীদের পরিবর্তে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের ধরে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো ও জনগণের প্রয়োজনে কাজে না আসাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেন।
অভিযোগ আছে, ওসি সুবীর অবৈধ ও অনৈতিকভাবে থানা এলাকার প্রায় তিন শতাধিক ধনি ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ওসির বাসায় রেখে চাপ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে। অভিযোগের সাথে ভুক্তভোগীদের নামের তালিকাও গণমাধ্যমের কাছে এসেছে।
এমনিভাবে কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস.এম নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ ইউপি সদস্য ডালিম স্বরাস্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি ও ডি আই জিসহ বিভিন্ন দপ্তরে সুবীর দত্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। যার প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে একাধিক তদন্ত সম্পন্ন হয়। একপর্যায়ে থানার উপ-পরিদর্শক প্রকাশ ও ইস্রাফিলকে ক্লোজড করা হয়ে। কিন্তু বিতর্কিত ওসি সুবীর দত্তসহ জড়িতদের অপসারণে দাবি অব্যাহত থাকায় মঙ্গলবার তাকে স্টান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ডিআইজি মিজানের হুমকিতে ৪ মাস গৃহবন্দী এক সংবাদ পাঠিকার পরিবার

অনলাইন ডেস্ক: পুলিশের উপমহাপরিদর্শক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ে লুকাতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নারী নির্যাতনের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছিল পুলিশের তদন্ত কমিটি। তাঁকে ঢাকা মহানগর পুলিশ থেকে প্রত্যাহারও করা হয়েছিল। কিন্তু থামানো যায়নি। এবার তাঁর বিরুদ্ধে এক সংবাদ পাঠিকা প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ তুলেছেন।
ওই সংবাদ পাঠিকা প্রথমে ঢাকার বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রত্যাহার হওয়া অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান মুঠেফোনে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বাড়ির বাইরে বের হলে তাঁকে হেনস্থা করবেন ও অশ্লীল ছবি তৈরি করে প্রচার করবেন। ১০ এপ্রিল তিনি তাঁর নামে খোলা একটি ফেসবুক পেজের কথা জানতে পারেন। তিনি দেখতে পান, ওই পেজটি তাঁর নামে খোলা এবং সেখানে তাঁর ছবির সঙ্গে অশ্লীল ছবি জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগে সংবাদ পাঠিকা অভিযোগ জানিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।
জানতে চাইলে, বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মঙ্গলবার বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তাঁরা খতিয়ে দেখছেন। সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগও তদন্তে যুক্ত হয়েছে। তাঁরা মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন কি না, জানতে চাইলে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখছে।
ঘটনার শিকার ওই গণমাধ্যমকর্মী বলেন, এর আগেও প্রত্যাহার হওয়া অতিরিক্ত কমিশনার তাঁকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, মিজানুর রহমান প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ও তাঁর স্বামীর মুঠোফোন নম্বর অনুসরণ করেন। তাঁর স্বামীও এর আগে সাভার থানায় জিডি করেছেন। কথা বলার সময় ওই গণমাধ্যমকর্মী অনবরত কাঁদছিলেন। তিনি বলছিলেন, মিজানুর রহমানের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের ওঠা-বসা রয়েছে। এর আগে টিভি চ্যানেলের গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার সময় হাতিরঝিলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। মিজানুর রহমান তাঁকে ফোন করে ৬৪ টুকরো করে ফেলার হুমকি দিয়েছেন, বলেছেন তাঁর মাথা জিরো পয়েন্টে ঝুলিয়ে রাখবেন। প্রাণভয়ে তিনি ও তাঁর স্বামী গত চার মাস ঘরবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। একমাত্র সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে পারছেন না।
মিজানুর রহমান ওই সংবাদ পাঠিকার কাছ থেকে কী চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিজানুর একজন বিকৃত রুচির মানুষ। তিনি নানা ছলছুতোয় নারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়েন ও তাঁর ইচ্ছামতো চলতে বাধ্য করেন। মিজানুর তাঁকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন ওই নারী।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এর আগে মরিয়ম আক্তার ইকো নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে বিয়ের অভিযোগ করেন। গত ৮ জানুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তর মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পুলিশ সদর দপ্তর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মইনুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার শাহাবুদ্দীন কোরেশী ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মিয়া মাসুদ হোসেন। কমিটি মিজানুরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ পায় বলে জানা গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest