কলারোয়া ডেস্ক : ‘শুরু না হতেই শেষ’ হলো কলারোয়ায় যুব দিবসের র্যালি। ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে ওই ঘটনায়।
র্যালিতে বেশিসংখ্যক লোক না যাওয়ায় ক্ষোভে বহিঃপ্রকাশ ঘটে র্যালি বানচাল হলো পথিমধ্যেই। কলারোয়ায় জাতীয় যুব দিবসের র্যালিতে এমনই ঘটনা পরিলক্ষিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষ্যে বুধবার আলোচনা অনুষ্ঠানের পূর্বে র্যালি বের হয় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে। প্রায় ১’শ গজ অদূরে শহিদ মিনার মোড় আসতে না আসতেই র্যালির সম্মুখভাগে কিছু সংখ্যক নেতৃবৃন্দ ছাড়া পিছনে ফাঁকা হয়ে যায়। এসময় র্যালি দাড়িয়ে যায়। সামনে থেকে উচ্চস্বরে যুব উন্নয়ন অফিসারকে বলা হয় যে, মাইকে বলতে লোক আসার জন্য। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় সেখানেই র্যালি শেষ করে ফিরে যায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে -এমনই চিত্র ফুটে ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। আলোচনা সভায় কয়েক জনের বক্তব্যেও এমন ক্ষোভ ও তিরষ্কারের সুর চলে আসে।
যুব দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত কয়েকজন এমনই চিত্র তুলে ধরেন সংবাদ মাধ্যমের কাছে। ছবি, ভিডিও ফুটেজ ও ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষণ করে ক্ষোভের চিত্র ও র্যালি ‘শুরু না হতেই শেষ’ করার প্রামাণ্যচিত্র তুলে ধরেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
তারা জানান- জাতীয় যুব দিবস ২০১৭ দেশব্যাপী পালিত হলো ০১ নভেম্বর। কিন্তু কলারোয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস হলো লজ্জাষ্করভাবে। ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় আবেদন করা কলারোয়া উপজেলার ২২০০ যুবক-যুবতী যথারীতি উপজেলা অডিটোরিয়ামের সামনে উপস্থিত ছিল। মাইকিং করা হচ্ছে বারংবার র্যালিতে অংশগ্রহণ করার জন্য। কিন্তু সাড়া না পেয়ে ৩০/৪০ জনকে সাথে নিয়ে শুরু হলো র্যালি। প্রায় ১০০ গজ যেতে না যেতেই দেখা গেল র্যালিটির সামনের কিছু সংখ্যক ব্যাতীত পিছনে জনশুন্য হয়ে গেছে। রাগে এবং ক্ষোভে শহিদ মিনার সংলগ্ন রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে যায় কর্মকর্তারা। আবারও মাইকে আহবান করা হচ্ছে র্যালিতে যোগদান করার জন্য। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বারংবার ডাকা সত্বেও কেউ সাড়া না দেয়ায় র্যালি অসমাপ্ত রেখে সেখান থেকেই ঘুরে উপজেলা চত্বরে ফিরে আসে।
এ ঘটনার পরে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভার একপর্যায়ে কয়েকজন বক্তাও উপস্থিত যুবক-যুবতীদের প্রতি ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন র্যালিতে অংশগ্রহণ না করার জন্য।
এদিকে, কলারোয়ায় জাতীয় যুব দিবস ২০১৭ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে যুব ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য এড.মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।
উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন।
‘যুবদের জাগরণ, বাংলাদেশের উন্নয়ন’ -স্লোগানে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আরাফাত হোসেন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা আনোয়ার ময়না।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের অফিসার, ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ, কলারোয়া প্রেসক্লাবের একাংশের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক এমএ কালাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি সহকারী অধ্যাপক কেএম আনিছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শেখ মোসলেম আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আরিফ মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ মাসুদ রানা, নির্বাহী সদস্য আব্দুর রহমান, সাংবাদিক রুহুল আমীন, শরিফুল ইসলাম, রাজিবুল ইসলামসহ ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আবেদনে উত্তীর্ণরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুব উন্নয়ন অফিসার সঞ্জিব কুমার।

জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আনন্দ মিছিলে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আ ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ, শেখ সাহিদ উদ্দীন, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. ওসমান গনি পিপি, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম শওকত হোসেন, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন। সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ময়নুল ইসলামের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন পৌর যুবলীগের আহবায়ক মনোয়ার হোসেন অনু, যুগ্ম আহবায়ক তুহিনুর রহমান তুহিন, যুবলীগ নেতা শেখ সাগরসহ জেলা, সদর, পৌর ও ওয়ার্ড যুবলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় বক্তারা বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ভাষণ। এই ভাষণের মাধ্যমে সমগ্র বাঙালি জাতি অনুপ্রাণিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বতঃফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। ৩০ লক্ষ বাঙালি ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বাধীনতা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাঙালি জাতির নেতা ছিলেন না। তিনি ৭মার্চের এই ভাষণের মাধ্যমে সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দুইদিনের রাজশাহী সফরের দ্বিতীয় দিনের সকালটা ছিল এমনই। বুধবার সকালে সেতুমন্ত্রী রাজশাহী সার্কিট হাউস থেকে হাঁটতে বের হন। আর হাঁটতে হাঁটতে তার চিরচেনা স্বভাবে ফিরে আসেন। মিশে যান সাধারণ মানুষের সঙ্গে। কথা বলেন সমসাময়িক রাজনীতি, অর্থনীতিসহ নানান বিষয় নিয়ে। সকাল বেলায় তাকে কাছে পেয়ে তরুণরা মোবাইল ফোনে সেলফিও তোলেন মন্ত্রীর সঙ্গে।
