প্রতিদিন রসুন খান আর রোগ তাড়ান

রসুনের জুরি মেলা ভার। এর অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল গুণের জন্য রসুন সর্দি-কাশি সারাতে উপযোগী।
অন্যান্য বহু শারীরিক সমস্যারও সমাধান হয় রসুনের সাহায্যে। রসুনের বেশকিছু সাধারণ গুণাগুণ তুলে ধরা হলো-

ভেষজ গুণ
ভেষজ গুণ কৃমিনাশক, শ্বাসকষ্ট কমায়, হজমে সহায়তা করে, প্রস্রাবের বেগ বাড়ায়, শ্বাসনালীর মিউকাস বের করে দেয়, অ্যাজমা রোগীর উপশম দেয়, চুল পাকনো কমায়, হাড়ের বিভিন্ন রোগ সারায়।

শারীরিক সৌন্দর্যে রসুন
মুখে কালো ছোপ থাকলে, রসুনের রস গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত মাখলে ফল পাওয়া যাবে। ব্রণে রসুনের রস তুলোয় করে রাতে ঘুমনোর সময় লাগিয়ে পরে ধুয়ে ফেললে উপকার পাওয়া যাবে। অবাঞ্ছিত আঁচিলে রসুনের রস সপ্তাহ খানেক লাগালে তা খসে পড়ে। পায়ে কড়া পড়লে রাতে রসুনবাটা লাগিয়ে নিউকোপ্লাস্ট জাতীয় কিছু দিয়ে মুখে রাখতে হবে। এভাবে দিন কয়েক রাখলে তা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

সংক্রামক রোগ নিরাময়
সংক্রামক রোগ নিরাময়ে রসুনের বিশেষ ভূমিকা আছে। আগেকার দিনে টিবির রোগীকে রসুন খেতে বলা হত।
রসুন অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল গুণ যুক্ত ওযুধ।

মশা-মাছি তাড়াতে
কর্পুরের সঙ্গে পোড়া রসুন মেশানে মশা, মাছি, পোকামাকড়ের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। রসুন পিষে জলের সঙ্গে মিশিয়ে ঘর মুছলেও, পোকা মাকড়ের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

নানা কাজে রসুন
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জখন সেনাদের গ্যাংগ্রিনের চিকিৎসায় সালফারের অভাব পড়লে রসুন ব্যবহার করা হত। হাত থেকে রসুনের গন্ধ দূর করতে, ঠাণ্ডা জলের মধ্যে স্টিলের বাসনে হাত ঘষলে গন্ধ দূর হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কবে বিদায় নিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি?

এক মাসের ছুটি নিয়ে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) দেশে ফিরবেন কি? যদি ফিরেন, তবে কবে ফিরবেন—এই প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে ঘুরে ফিরে উপস্থাপিত হচ্ছে। সর্বশেষ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রধান বিচারপতির ছুটি শেষে দায়িত্ব গ্রহণকে ‘সুদূরপরাহত’ বলে আবারও মন্তব্য করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছুটি শেষে দায়িত্বে ফিরছেন না এস কে সিনহা। তিনি নতুন করে ছুটির আবেদন পাঠাতে পারেন। অথবা পদত্যাগপত্রও পাঠিয়ে দিতে পারেন। তার পারিবারিক সূত্রও এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সরকারের সঙ্গে টানাপড়েনের মধ্যে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এক মাসের ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত তার ছুটি আছে। ছুটি শেষে তার দায়িত্ব পালন করা না করা নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল আছে। কানাডাভিত্তিক একটি বাংলা অনলাইনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারপতি সিনহা সরকারকে পদত্যাগ পত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন। ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার পদত্যাগ কার্যকর করার অনুরোধ জানাবেন তিনি। এদিকে রবিবার সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ সাক্ষাৎ করেন। তারা বেলা সোয়া ৩টায় বঙ্গভবনে যান এবং বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি আগামী ২ ডিসেম্বর জুডিশিয়াল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান। তিনি আগামী ২ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট দিবসের অনুষ্ঠানেও রাষ্ট্রপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, বিচার বিভাগ জনগণের বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টসহ বিচার বিভাগের সব কর্মকর্তা ন্যায়নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে রবিবার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, দেশে ফিরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দায়িত্ব গ্রহণ সুদূরপরাহত। অন্য বিচারপতিরা যদি উনার (এস কে সিনহা) সঙ্গে না বসতে চান, তাহলে তিনি কীভাবে বিচার করবেন? তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউর সঙ্গে প্রধান বিচারপতির আসা না আসার কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগে গত ১৪ অক্টোবরও এক ব্রিফিংয়ে মাহবুবে আলম প্রধান বিচারপতির পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছিলেন।

গত ২ অক্টোবর এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছিলেন প্রধান বিচারপতি। পরে ১৩ অক্টোবর বা তার কাছাকাছি সময়ে তার বিদেশ যাওয়া এবং ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে অবস্থান করার ইচ্ছা পোষণের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় ১২ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করে। সে হিসেবে আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ছুটি আছে।

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের ওপর অর্পণ করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেয় হাই কোর্ট। আপিল বিভাগ হাই কোর্টের সে রায় বহাল রাখেন। গত ১ আগস্ট আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার লেখা রায়ে গণতন্ত্র, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, সুশাসন, দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দেন। এ পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন সরকারের মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের নেতা ও সরকারপন্থি আইনজীবীরা। কেউ কেউ প্রধান বিচারপতির পদত্যাগও দাবি করেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব পাস হয়।

আপিল বিভাগের এ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ। এরইমধ্যে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি মাসেই রিভিউ আবেদন করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তার চাকরির মেয়াদ আছে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। তিনি গত ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্যারাডাইস কেলেঙ্কারিতে কাঁপছে বিশ্ব

বিশ্বের ২৫ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক লেনদেন ও মালিকানা সংক্রান্ত গোপন তথ্যভাণ্ডার ফাঁস হয়ে গেছে। ১৮০টি দেশের ধনী, সুপরিচিত ও প্রভাবশালীদের এই তথ্যভাণ্ডার তাদের গোপন বিনিয়োগ, অর্থ পাচারসহ কর ফাঁকির বিষয় প্রমাণ করে।
বেশির ভাগ তথ্যই বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদদের, যারা কর থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন ট্যাক্স হ্যাভেনে (কর দিতে হয় না কিংবা খুবই নিম্ন হারে কর দেওয়া যায় এমন দেশ) বিনিয়োগ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তাই এই কেলেঙ্কারির নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্যারাডাইস পেপারস’। স্থানীয় সময় রবিবার এই পেপারস সবার সামনে ফাঁস হওয়ার পর সারা বিশ্বেই হৈচৈ পড়ে গেছে। ফাঁস হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর অনেক ব্যক্তির গোপন তথ্য। গোপন নথিতে উঠে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর মতো হাইপ্রোফাইল মানুষের গোপন তথ্য। প্যারাডাইস পেপারসে ১৪ জন বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিশ্বের কমপক্ষে ৪৭টি দেশের ১২৭ জন রাজনীতিক এবং সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দলিল রয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার প্রকাশিত ওই নথিতে আরও উঠে এসেছে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মরিসিও ম্যাকরি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও আবুধাবির আমির খলিফা জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো প্রসেনকো, কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পল মার্টিন, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস, লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সারলেফ, জর্দানের রানী নুর আল হুসেইন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ বিন আবদুল আজিজসহ শতাধিক ব্যক্তির নাম। শুধু তাই নয়, ভারতেরও সাত শতাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে এ তালিকায়। প্যারাডাইস পেপারসে বলা হয়েছে, করের হাত থেকে বাঁচতে দেশের বাইরের বিভিন্ন স্থানে অর্থ খাটিয়েছেন এই আলোচিত বিত্তশালীরা। কর দিতে হয় না বা নামমাত্র কর দিয়ে বিনিয়োগ করা যায় এমন স্থানগুলোই বেছে নিয়েছেন তারা। অনেকেই এসব লেনদেন করেছেন সবার চোখের আড়ালে। অর্থ আয়ের জন্য এমন গোপন বিনিয়োগের সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম এরই মধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। সামনে আরও নাম প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। গত বছর ফাঁস হওয়া পানামা পেপারসের মতো এবারও এসব নথি প্রথমে আসে জার্মান দৈনিক সুইডয়চে সাইটংয়ের হাতে। পরে সেসব নথি ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসের (আইসিআইজে) হাতে তুলে দেয় তারা। ১ কোটি ৩৪ লাখ গোপন নথির এই ডাটাবেজে রয়েছে ১ হাজার ৪০০ গিগাবাইটেরও বেশি ডাটা। নথিগুলোর প্রায় ৬৮ লাখ এসেছে অফশোর আইনি সেবা সংস্থা অ্যাপলবাই এবং করপোরেট সেবা সংস্থা এস্টেরা থেকে। ২০১৬ সালে এস্টেরা আলাদা হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটি একসঙ্গে অ্যাপলবাই নামে কর্মকাণ্ড চালাত। আরও ৬০ লাখ নথি ১৯টি আদালতের করপোরেট রেজিস্ট্রি থেকে বের করা হয়েছে। আদালতগুলোর বেশির ভাগই ক্যারিবীয় অঞ্চলের। বাকি অল্প কিছু নথি পাওয়া গেছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাস্ট এবং করপোরেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান এশিয়া সিটি ট্রাস্ট থেকে। প্যারাডাইস পেপারসে ফাঁস করা নথিতে রয়েছে ১৯৫০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭০ বছরের তথ্য। এসব নথি পেয়েছে বিবিসি, গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের ১০০টি সংবাদমাধ্যম। ৫ নভেম্বর আইসিআইজে তাদের ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিলুপ্তির পথে দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেঁজুর গাছ!

তরিকুল ইসলাম লাভলু: ষড়ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। বছরের একেক সময় একেক ঋতুর রূপ ধারণ করে এই সোনার বাংলাদেশ। তেমনই একটি মিষ্টি ঋতুর নাম শীত কাল। এক সময় শীতের মৌসুমে গাছিরা খেঁজুর গাছ থেকে রস বের করার একটি মনমুগ্ধ সুন্দর দৃশ্য আমাদের নজর কেড়ে নিত। পল্লীগায়ের এমন মন জুড়ানো দৃশ্য এখন আর আগের মত চোঁখে পড়ে না।
সুষ্ঠ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ও উপর্যুপরী কর্তনের ফলে দিনে দিনে বিলুপ্ত হতে চলেছে দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেঁজুরের গাছ। খেঁজুরের গাছ মূলত এ দেশের একটি মূল্যবান বৃক্ষসম্পদ হিসেবে বিবেচিত। আমাদের রসনা তৃপ্তিতে খেঁজুর গাছ থেকে আমরা প্রতি শীত মৌসুমে পেয়ে থাকি সুস্বাদু গুড় আর পাটালীসহ স্বাদে ভরা অনেক রকম খাদ্য। যার ভিতরে অন্যাতম খেঁজুরের রসের সুস্বাদু পায়েস আর রসে ভিজানো শীতের পিঠা। নবান্ন উৎসবে আকর্ষণীয় খাবার প্রস্তুতের অতি প্রয়োজনীয় উপাদান সর বা গুড়ে আমরা পেয়ে থাকি এই খেঁজুর গাছ থেকে। পিঠা-পুলি-পায়েস রাঁধতে খেঁজরের রস বা গুড়ের কোন জুড়ি নেই। খেঁজুরের রস বা গুড় বেশ অর্থকরী ফসল হিসেবেও বিবেচিত। বিশেষ করে খেঁজুরের রস দিয়ে তৈরি সুস্বাদু গুড়, পাটালী দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়ে থাকে। এছাড়া ফল হিসেবে খেঁজুরও বেশ মজাদার ও সুস্বাদু খাদ্য। সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলে শীত মৌসুমে অনেক পরিবার অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান হয় এই খেঁজুর গাছ থেকে। কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামের রহমত উল্যাহ নামের এক খেঁজুরগাছী এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি প্রতি মৌসুমে খেজুরের রস এবং গুড় বিক্রি করে আর্থিকভাবে অনেক লাভবান হই এবং এখান থেকে আমার পরিবারের অনেক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আসে। অন্যর গাছ বর্গা নিয়ে তা থেকে উপার্জিত গুড় বা রস বাজরে বিক্রি করে বেশ স্বচ্ছন্দে সংসার চলে আমার। তবে গত কয়েক বছরে ইট ভাটা মালিকেরা খেঁজুর গাছ কেটে তাদের ভাটার জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করার কারণে এখন আর খেঁজুর গাছের তেমন দেখা একটা মেলে না।
অতি প্রয়োজনীয় খেঁজুর গাছের রস ও গুড় দিয়ে এত সুস্বাদু খাবার তৈরি হলেও বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী খেঁজুর গাছ। নানা প্রয়োজনে উপর্যূপরী কর্তন করা হচ্ছে খেঁজুর গাছ। ইটের ভাটার জ্বালানি হিসেবে খেঁজুর গাছ কেটে উজাড় করে দেওয়া হচ্ছে, আবার কখনও বসতবাড়ি তৈরির উদ্দেশ্যে জাইগা স্বল্পতার কারণে কেটে ফেলা হচ্ছে খেঁজুর গাছ। নির্বিচারে খেঁজুর গাছ কাটা হলেও নতুন করে এর চারা পোপনের কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছেনা। প্রাকৃতিকভাবে যা জন্মাচ্ছে তাও আবার সুষ্ঠু রক্ষণা-বেক্ষণের অভাবে ছাগল-গরু খেয়ে নষ্ট করে ফেলছে। যার ফলে বর্তমানে এ গাছের সংখ্যা প্রায় শূণ্যেও কোটায় এসে দাড়িয়েছে। গ্রাম বাংলার অতি প্রয়োজনীয় এই বৃক্ষটি এভাবে নির্বিচারে নিধন হতে থাকলে এক সময় ঐতিহ্যবাহী এই খেঁজুর গাছ দক্ষিণাঞ্চল থেকে একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার উদ্যেগে নতুন করে চারা রোপনের উদ্যোগ গ্রহণসহ সুষ্ঠু সক্ষণা-বেক্ষণের মাধ্যমে এবং এর কর্তনের উপর আইনি বিধি নিষেধ আরো কওে গ্রাম বাংলার মানুষের অতি প্রয়োজনীয় এই বৃক্ষ সম্পদকে রক্ষা ও সম্প্রসারণ একান্ত আবশ্যক।
আসুন আমরা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য খেঁজুর গাছ নিধন বন্ধ করি, খেঁজুর গাছ রোপণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জে মাদকের ছড়াছড়ি মামলা হলেও পলাতক থাকছে গড ফাদাররা

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, কালিগঞ্জ : কালিগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধার হলেও ব্যবসায়ীরা থাকছে ধরা ছোয়ার বাইরে থানায় মামলা হলেও গড ফাদাররা থাকছে পলাতক। খানজিয়া, শুইলপুর, বসন্তপুর ও উকশা সীমান্ত দিয়ে হঠাৎ করে ভারত থেকে আসছে মাদকের অনেক বড় বড় চালান। পুলিশের অভিযানে গত ১ মাসে ধরা পড়েছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফেনসিডিল, মদ ও গাঁজা। তবে যেটুকু ধরা পড়েছে তার বহুগুণ ঢুকে গেছে দেশের অভ্যন্তরে।
থানা ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, এসব মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে আছে এলাকার গোটা কয়েক জন ব্যক্তি। তারা এই মাদক ব্যবসা করেই বিপুল সম্পতির মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে কোটিপতি জহুর আলী ও আমজাদ অন্যতম তাদের রয়েছে বিশাল সিন্ডিকেট। সম্প্রতি জহুর আলী থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে ভবিষ্যতে আর মাদক ব্যবসা করবে না বলে অঙ্গীকার করে। এরপরও সে কালিগঞ্জ থানায় ৩ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার মামলার আসামী হয়ে এলাকার বাইরে অবস্থান করলেও সেখান থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তার মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে জহুর আলীর স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা (৩৮), ছেলে শাহীন আলম (২৫) ও ভাই মাসুদ (৩৫)। তাছাড়া জহুর আলীর স্ত্রী, ছেলে এবং ভাইয়ের নামে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। বর্তমান তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ও মাসুদের নামে ৩ হাজার বোতল ফেনসিডিল মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও তার স্ত্রী নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছে।
কিন্তু পুলিশ তাকে অজ্ঞাত কারণে গ্রেফতার করছেনা বলে জানা যায়। সম্প্রতি ৫৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ পুলিশের হাতে আটক হয় জহুর আলীর ছেলে শাহীন। তাদের যাবতীয় মাদক ব্যবসার কাজে সহযোগিতা করেন নলতার জনৈক খালেক নামের এক ব্যাক্তি। এই মাদক ব্যবসায়ী জহুর হয়েছে জিরো থেকে হিরো। তার শুইলপুর ও খুলনার রূপসা এলাকায় রয়েছে বিশাল আকৃতির বাড়ি। এছাড়াও নলতায় তিনি নির্মাণ করছে একটি মার্কেট। কোটি কোটি টাকার সম্পদ তিনি অর্জন করেছে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে। অপরদিকে মাদকের জগতে কোটিপতি আমজাদ একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। ফেনিসিডিল, ইয়াবাসহ নানা প্রকার মাদকের ব্যবসা করে সে তৈরি করেছে আলীশান বাড়িসহ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। ৩ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কোটিপতি আমজাদ ও এজাহারনামীয় আসামি হলেও তাদেরকে এখনও আটক করা সম্ভব হয়নি।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত অক্টোবরে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে প্রায় ৪ হাজার বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ১ কেজি গাঁজা ও ৪ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার হয়েছে। এসব মাদক মূলত: খানজিয়া, শুইলপুর, বসন্তপুর ও উকশা সীমান্ত দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ঢুকেছে। অধিকাংশ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও মাদক চোরকারবারীরা থেকে যাচ্ছে নিরাপদে। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লস্কর জায়াদুল হক জানান, ৮ অক্টোবর রাতে উপজেলার শুইলপুর সীমান্তে একটি আম বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬৫০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও আসামি আটক করা সম্ভব হয়নি। ১৯ অক্টোবর ভোরে কালিগঞ্জে বাগনলতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি ড্রামের ভিতর থেকে পাওয়া যায় ৩ হাজার বোতল ফেনসিডিল। এব্যাপারে মামলা হলেও কেউ আটক হয়নি। ২৮ অক্টোবর রাতে শুইলপুর সীমান্তের বাগবাটির জালালতলা থেকে আরও ১২৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ৩০ অক্টোবর ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের উজায়মারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখে একটি ধান ক্ষেত থেকে ৪ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার হয়েছে। এখানেও মাদক চোরাকারবারীদের চিহিৃত করা সম্ভব হয়নি। ১০ অক্টোবর রাতে ৯০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক হয় গৌর বিশ^াস (৩৬) ও রফিকুল ইসলাম (৩২) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ী। এছাড়াও ৮ অক্টোবর সকালে উপজেলার কৃষ্ণনগর বাজার এলাকা থেকে ১ কেজি ভারতীয় গাঁজাসহ মোস্তাফিজুর রহমান (৪৭) নামে এক ব্যক্তি আটক হয়। থানার অফিসার ইনচার্জ আরও জানান, শুইলপুর ও খানজিয়া এলাকা দিয়ে মূলত: বেশীরভাগ মাদক দেশের অভ্যন্তরে ঢুকছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদকের অংশ বিশেষ আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে কালিগঞ্জ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মাদক দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের ঘটনায় বিজিবি’র উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন সচেতন মহল। তারা বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে চোরাকারবারীরা ভারত থেকে মাদক নিয়ে আসে। সন্ধ্যার পর বেড়ীবাঁধ এলাকায় ওই চক্রের আনাগোনার কারণে ভারত থেকে মাদক পার হচ্ছে এমনটাই ধারণা করছে স্থানীয়রা। কয়েক মাস যাবত মাদক কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সম্প্রতি এই মাদক চোরাকারবারীরা বেশ তৎপর হয়েছে। প্রায় সময়ই ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক আটকের ঘটনাই তার প্রমাণ। একাধিক সূত্র জানায়, সন্ধ্যার পরপরই সীমান্ত নদীর বেড়ীবাঁধে মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্যরা অবস্থান নেয়। সুযোগ বুঝে ভারতের এজেন্টদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মাদক নদী পার করিয়ে নেয়। এরপর তারা নানা পদ্ধতিতে রাজধানীসহ দেশের অভ্যন্তরে পাচার করে থাকে। এসব মাদকের অতি সামান্য অংশই আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী আটক করতে সক্ষম হয়।
এব্যাপারে জানতে চাইলে ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি) শুইলপুর ক্যাম্পের নায়েক আহম্মেদ আলী জানান, মাদক পাচারের বিষয়ে আমরা কঠোর ভূমিকা পালন করছি সাথে সাথে সিমান্ত এলাকায় আমাদের টহল আরো জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যম দিয়ে আমরা মাদক চোরাকারবারীদের চিহিৃত করে তাদের দমন করার চেষ্টা করছি।এদিকে এই ভাবে যদি মাদক চোরাকারবারীরা অনায়াসে বড় বড় চালান ভারত থেকে এনে দেশের অভ্যন্তরে পাচার করতে সক্ষম হয় তাহলে যুব সমাজ ধংসের মুখে পতিত হবে এমনটাই ধারণা করছে সচেতন মহল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১১ হাজার রুপিতে বিক্রি হলো ‘রাম রহিম ও হানিপ্রীত’

ভারতে ১১ হাজার রুপিতে বিক্রি হলো রাম রহিম ও হানিপ্রীত। তবে নাম দুটি শুনে ভড়কে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। আদতে তারা মোটেও ধর্ষক ‘ধর্মগুরু’ গুরমিত রাম রহিম সিং বা তাঁর পালিত কন্যা হানিপ্রীত ইনসান নয়, বরং তাঁদের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখা দুটি গাধা।

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের উজ্জয়িনী বার্ষিক গাধা মেলায় ওই গাধা দুটি বিক্রি করা হয়। গাধা দুটি ১১ হাজার রুপিতে কিনে নেন রাজস্থান রাজ্যের এক ব্যবসায়ী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুজরাট থেকে গাধা দুটিকে বিক্রির উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রদেশে নিয়ে যান হরিওম প্রজাপতি নামের এক ব্যক্তি। তিনি গাধা দুটির নাম রাখেন রাম রহিম ও হানিপ্রীত। এর পর গাধা দুটি গাধা মেলায় নিয়ে দাম হাঁকেন ২০ হাজার রুপি। কিন্তু ওই দামে কেউ গাধা দুটি কিনতে রাজি হয়নি।

হরিওম জানান, গাধা দুটির নাম রাম রহিম ও হানিপ্রীত রাখায় কেউই কিনতে রাজি হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত রাজস্থানের এক ব্যবসায়ী গাধা দুটির সর্বোচ্চ মূল্য ১১ হাজার রুপি দিতে চাওয়ায় তাঁর কাছেই গাধা দুটিকে বিক্রি করেন হরিওম।

হরিওম আরো জানান, গাধা দুটির নাম রাম রহিম ও হানিপ্রীত রাখার পর সেগুলো বিক্রি করে বোঝাতে চেয়েছেন কৃতকর্মের ফল মানুষকে কীভাবে ভুগতে হয়।

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর শিপ্রা নদীর তীরে বসে পাঁচ দিনের এই মেলা। এই মেলায় মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশ থেকে পশু কিনে বিক্রি করা হয়। মেলায় সাধারণত গাধার মূল্য ঠিক হয় জাত ও শারীরিক কাঠামোর ভিত্তিতে। বিক্রেতারা তাঁদের গাধাগুলোকে জনপ্রিয় নানা নামে নামকরণ করেন। এবারের মেলায় জিএসটি, সুলতান, বাহুবলি নামেও গাধা উঠেছিল।

গত ২৫ আগস্ট হরিয়ানার পঞ্চকুলার আদালতে দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন ‘ধর্মগুরু’ রাম রহিম। এরপর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়, গাড়ি ভাঙচুর করে ও বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ করে। এতে ৪১ জন নিহত হয়। আহত হয় ২০০ জনের মতো। ২৫ আগস্টের সহিংসতার পেছনে তাঁর নিজের হাত ছিল বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন হানিপ্রীত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে এক ইমামের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার দেবহাটায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মসজিদের এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম সিদ্দিকুর রহমান (৬৫)। তিনি সদর উপজেলার বাঁকাল ইসলামপুর গ্রামের আব্বাসউদ্দীন গাজীর ছেলে। সোমবার দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, নিহত সিদ্দিকুর রহমান দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। মসজিদের পানির লাইনের মটোরে পানি উঠানোর জন্য তিনি দুপুরে বিদ্যুৎ লাইন দিতে গেলে আকষ্মিক বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে দেবহাটা থানার এসআই ইয়ামিন আলী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হন্তান্তর করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মনিরুজ্জামান বাদি হয়ে দেবহাটা থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জ উপজেলায় আয়কর মেলা উদ্বোধন

কালিগঞ্জ ব্যুরো : কালিগঞ্জ উপজেলায় দুই দিন ব্যাপি আয়কর মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপ-কর কমিশনার সার্কেল-১৬, কালিগঞ্জ কর অঞ্চল খুলনার আয়োজনে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আলহাজ্ব শেখ ওয়াহেদুজ্জামান। এসময় তিনি বলেন, যারা দেশকে ভালবাসেন তারা আয়কর পরিশোধ করেন। তবে কর দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্বের চেয়ে এখন অনেকে উৎসাহিত হচ্ছে। প্রচার ও প্রচারনায় কম থাকার আয়কর থেকে পিছিয়ে রয়েছে ব্যবসায়িবৃন্দ। মানুষ কর দিতে চায়, কিন্তু না বোঝার কারণে অনেক সমস্যার মধ্যে পড়ে। শিক্ষক ও চাকুরীজীবিরা ইতিমধ্যে টিআইএন ফাইল খুলে কর প্রদান শুরু করেছে। আমরা বৈদেশিক অর্থের মুখোপেক্ষি হতে চাইনা, বিগত দিনের চেয়ে আমরা এখন অনেক বেশী সচেতন। সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে যারা করের আওতায় আছেন তারা সময় মত কর পরিশোধ করবেন। “উদ্ভাবনে বাড়বে কর, দেশ হবে স্বর্নিভর” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে উপ-কর কমিশনারের কার্যালয় সার্কেল-১৬ কর অঞ্চল খুলনা এর সহকারী কর কমিশনার শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপকর কমিশনারের কার্যালয় সার্কেল-১৬, কালিগঞ্জ কর অঞ্চল খুলনা এর পরিদর্শক আবু সাঈদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অফিসার ইনচার্জ লস্কর জায়াদুল হক, আয়কর আইনজীবি সমিতি সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম খান চৌধুরী, নাজিগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি শেখ ফিরোজ কবির কাজল। অনুষ্ঠানে অন্যান্যেদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুবর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গৌতম লস্কর প্রমুখ। আয়কর মেলায় টিআইএন রেজিস্ট্রশন/রি-রেজিসেট্রশন, নতুন করদাতাদের টিআইএন সনদ প্রদান, আয়কর রিটান ফরম পুরন, আয়কর রিটান দাখিল, ব্যাংক বুথে আয়কর প্রদানসহ মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য রয়েছে পৃথক পৃথক ব্যবস্থা। ভালুকা চাদপুর আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সূধিজন উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest