সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় তারেক রহমানের ৮ দফার লিফলেট ছড়িয়ে দিল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’সাতক্ষীরায় রাইচ মিলের কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে অতীষ্ট এলাকাবাসী: ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সড়ক অবরোধপ্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদসাতক্ষীরায় মাদক এবং মাদক বিক্রির অবৈধ টাকাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারতালায় বাস মোটরসাইকেল সংঘর্ষে সাবেক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিতআশাশুনিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলার তদন্তে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারদেবহাটায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের মতবিনিময়৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়াসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা

বাংলাদেশের টেস্ট জয়ে মাশরাফির প্রতিক্রিয়া

মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয় পেয়েছে মুশফিক বাহিনী। টাইগারদের জয়ে উৎফুল্ল গোটা বাংলাদেশ।

উৎফুল্ল বাংলাদেশের লিভিং লিজেন্ড মাশরাফি বিন মর্তুজাও। মুশফিকদের জয়ে মাশরাফি তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

লিখেছেন, তামিম ইকবাল ইউ আর ব্রিলিয়ান্ট, সম্ভবত বিশ্বের সেরা ওপেনার। তাইজুল গ্রেট বোলিং মেট, মিরাজ রক, মুশফিকুর রহিম একজন কার্যকরী অধিনায়ক, তাকে সবাই মাঠে খুব ভালভাবে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু একজন আছে যে এই আনন্দ মুহূর্তের সব উত্তরদাতা…. সাকিব আল হাসান তুমি একজন জীবন্ত কিংবদন্তি, যখন তুমি লড়াই কর, তখন তোমার মতো আর কেউ লড়াই করতে পারে না। তোমার জন্মই ২২ গজের জন্য।

জয় বাংলা এবং সবাইকে ঈদ মোবারক……….

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সখিপুর-দেবহাটা আঞ্চলিক সড়ক বেহাল; দেখছে না কেউই!

কে এম রেজাউল করিম : মাত্রাতিরিক্ত বালু বোঝাই ট্রাক চলাচল করায় সখিপুর-দেবহাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশার যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এই মহাসড়কের সখিপুর থেকে ঈদগাহ এবং দেবহাটা পর্যন্ত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সর্বপরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি গাড়ির এসএল ভেঙে পণ্য পরিবহনে ও যাত্রী সাধারণের চলাচলে দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ঈদগাহ সরুরাস্তা এলাকার আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়েছে। তাছাড়া সখিপুর হতে উপজেলা সদরের একমাত্র সহজ রাস্তাটি নষ্ট হওয়ায় ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টির পাশাপশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সাতক্ষীরা শহরের পূর্বে বাকাল হতে কেন্দ্রীয় বাস টারমিনালের পাশ দিয়ে বয়ে চলা বাইপাস সড়কের জন্য বালু বহনকারী ট্রাক যাতায়াত করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করছেন অনেকেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, সখিপুরের টেলিফোন টাওয়ার এলাকার আঃ রহিমের দোকানের পাশে কালভাট বসে ভয়ানক অবস্থা বিরাজ, ঈদগাহ বাজার এলাকা, রিপোর্টাস ক্লাব মোড়, মেসার্স মা স্টোর সম্মুখে, ঈদগাহ সরু রাস্তা, পাঁকড়াতলা, জোড়াপুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার পিচ উঠে মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। আবার গর্তের সৃষ্টির কারণে প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি ঈদগাহ সরু রাস্তা এলাকায় রাস্তার পিচ উঠে পুকুরের মত বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হলে ট্রাক চালকরা ইট দিয়ে চলাচলের উপযোগী চেষ্টা করলেও বিপরীত পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টিতে কাঁদা আর রৌদ্রে ধুলা-বালিতে জখম পথচারিরা। এমনকি পিচের রাস্তায় প্রায় আধা কিলোজুড়ে অসম্ভব কাঁদার সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত গাড়ি উল্টে যাচ্ছে এই স্থানটিতে। তাছাড়া যানবহন, ভ্যান, সাইকেল, মোটরসাইকেলসহ সকল প্রকার বহন খুবই ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছে। সড়ক নষ্ট হয়ে কাঁদায় চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ায় তীব্র যানজট লেগে থাকছে। বুধবার দুপুরে সরু রাস্তা এলাকায় অতিরিক্ত বালু বোঝাকৃত ট্রাকের এক্সেল ভেঙে যাওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষের।
সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইছামতি নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট হতে সাতক্ষীরা শহরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। কিন্তু এর মধ্যে দেবহাটা হতে সখিপুর মোড় পযর্ন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কে ছয় চাকার পণ্যবাহী ট্রাকের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা (গাড়ির ওজনসহ) ১০ টন। কিন্তু সেখানে ট্রাকে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৩০-৩৫ টনের বেশি লোডের ট্রাক ও ট্রাক্টরে ম্যাধ্যমে বালু বহন করা হচ্ছে। চলতি মাসে এক জরিপে দেখা যায়, সড়কে প্রতিদিন সকাল হতে গভীর রাত পর্যন্ত ৩০-৩৫টি ট্রাক চলাচল করে। এসব ট্রাকের ওজন ৩০ থেকে ৩৫ টন। সাতক্ষীরা ও খুলনা থেকে বাইপাস সড়ক নির্মানের বালু বহনের জন্য এসব ট্রাকে বালু আনা হচ্ছে। এ ধরনের অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করায় রাস্তায় বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা রাজু আহম্মেদ বলেন, ভিতরের রাস্তায় কম লোডের ট্রাক চললে রাস্তার বেহাল দশা হতো না। এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগও পোহাতে হতো না। দেবহাটার সাদ্দাম হোসেন বলেন, শুনছি এই সড়ক দিয়ে না কি ২ বছর অতিরিক্ত ভারী ট্রাক চলবে। ট্রাক চালকরা বলছে যে, আগামি ২ বছর পরে রাস্তায় পিচের কোন চিহ্ন থাকবে না। অতি ব্যাস্ততম সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে, কিন্তু যেনো কেউই দেখছে না।
উপজেলা প্রকৌশলী আলহাজ্ব হামিদ মাহমুদ বলেন, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে। রাস্তার সয়েল সরে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে, রাস্তাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত বলতে পারবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাংলাদেশের টেস্ট ইতহাসের ১০ মহাকাব্যের সেই নায়কদের কথা

ফিচার ডেস্ক : দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে যাত্রা শুরুর পর সাদা পোশাকে ১০১টি ম্যাচ খেলে ফেলল বাংলাদেশ। সাফল্যের হিসেবে জয়ই যখন সর্বোচ্চ মানদণ্ডের, তাতে টাইগাররা পাচ্ছে মাত্র ১০-নম্বর! ১৬ বছরের টেস্ট যাত্রায় মাত্র ১০টি জয়ের মুখ দেখেছে লাল-সবুজরা। যার প্রথমটি এসেছিল ১০ জানুয়ারি, ২০০৫ সালে; চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। আর সর্বশেষটি মিরপুরের শের-ই-বাংলায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে।
জয়ের মুখ দেখা এই ১০ টেস্টে সাফল্যের কারিগর হয়ে ছিল অনেকের ব্যাটে-বলের নৈপুণ্য। তবে প্রতিটি ম্যাচই বেছে নিয়েছিল নির্দিষ্ট একজন নায়ককেও। ক্রিকেটীয় ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ম্যাচ সেরা’। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক দশ টেস্টে জয়ের সেই নায়কদের-

এনামুল হক জুনিয়র
এমএ আজিজ স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম (৬-১০ জানুয়ারি, ২০০৫; প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে)
সেই ম্যাচে টেস্ট অভিষেকের প্রায় পাঁচ বছর পর প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তখনকার দলীয় সর্বোচ্চ প্রথম ইনিংসের ৪৮৮ রানে যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরে জিম্বাবুয়েকে প্রথম ইনিংসে ৩১২ রানে অলআউট করে স্বাগতিকরা দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গিয়েছিল ২০৪ রানে। পঞ্চম দিনে গড়ানো সেই ম্যাচে স্পিনার এনামুল হক জুনিয়রের ঘূর্ণিতে দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে ১৫৪ রানে অলআউট করে দিয়েছিল বাংলাদেশ।

২২৬ রানে জয়ী সেই ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ২২.২ ওভারে ৪৫ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে নায়ক বনে গিয়েছিলেন এনামুল জুনিয়র। অথচ প্রথম ইনিংসে ২৬ ওভার বল করে ৫৫ রান খরচায় উইকেটশূন্য ছিলেন এই স্পিনার। প্রথম টেস্ট জয়ের ম্যাচ সেরার ট্রফিটি উঠেছিল এনামুলের হাতেই।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
সেন্ট ভিনসেন্ট (৯-১৩ জুলাই, ২০০৯; প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
বোর্ডের সঙ্গে জটিলতার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক ক্রিকেটারই দলে ছিলেন না। খর্বশক্তির সেই দলের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। নিজেদের ৬০তম ম্যাচে প্রথম ইনিংসে কোনো ফিফটি ছাড়াই ২৩৮ রান তুলেছিল টাইগাররা। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩০৭ রান তোলে। ৬৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে তামিম ইকবালের (১২৮) প্রথম সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৩৪৫ রান তুলে ২৭৬ রানের লিড নেয়। আর ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮১ রানে গুটিয়ে যায় মাহমুদউল্লাহর স্পিনে।

৯৫ রানে জয়ের সেই ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৯ ও ৮ রানে ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নায়ক বনে গিয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসেও ৩টি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তিনি।

সাকিব আল হাসান
সেন্ট জর্জ, গ্রেনাডা (১৭-২০ জুলাই, ২০০৯; প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
পরের ম্যাচেই আরেকটি দুর্দান্ত জয়ের মুখ দেখেছিল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ২৩৭ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৩২ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল টাইগাররা। পরে ক্যারিবীয়রা দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৯ রানে গুটিয়ে গেলে ২১৫ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। একপর্যায়ে ৬৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসার পর ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন সাকিব। ১৩ চার ও ১ ছয়ে ৯৭ বলে অপরাজিত ৯৬ রানের একটি ইনিংস খেলে ম্যাচ ছিনিয়ে নেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করার ৪ উইকেটে জয়ের সেই ম্যাচে সাকিব প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১৬ রান। তবে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৭০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নায়ক বনে যাওয়ার পথেই ছিলেন। ব্যাট হাতে জ্বলে উঠে তাতে ম্যাচ সেরা হওয়ার ষোলোকলাই পূর্ণ করেছেন।

রবিউল ইসলাম
হারারে স্পোর্টস ক্লাব (২৫-২৯ এপ্রিল, ২০১৩; প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে)
সিরিজের প্রথম টেস্টে হারের পর দ্বিতীয়টিতে প্রথম ইনিংসে ৩৯১ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। পরে জিম্বাবুয়েকে প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১০৯ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯১ রান করার পর তাই জিম্বাবুয়েকে ৪০১ রানের বড় লক্ষ্যই ছুঁড়ে দিতে পেরেছিল বাংলাদেশ। পরে জিম্বাবুয়েকে ২৫৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে দারুণ এক জয় পায় লাল-সবুজেররা।

১৪৩ রানে জয়ী সেই ম্যাচে পেসার রবিউল প্রথম ইনিংসে ৮৫ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেট নিয়েছিলেন। সঙ্গে দুই ইনিংসে অপরাজিত ২৪ ও অপরাজিত ৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

তাইজুল ইসলাম
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম, মিরপুর (২৫-২৭ অক্টোবর, ২০১৪; প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে)
তিন টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে মিরপুরে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর নিজেরা ২৫৪ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুলের ঘূর্ণিতে সফরকারীরা ১১৪ রানেই অলআউট হয়ে যায়। চতুর্থ ইনিংসে ১০১ রান তাড়া করতে যেয়েই অবশ্য ৮২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল স্বাগতিকরা। সেখান থেকে তাইজুলকে সঙ্গে নিয়ে জয় এনে দেন মুশফিক।

৩ উইকেটের সেই জয়ে প্রথম ইনিংসে ১ উইকেট নেওয়া তাইজুল দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬.৫ ওভার বল করে মাত্র ৩৯ রানে ৮ উইকেট ঝুলিতে পুরে বসেন। ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ১৯ রান করার পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১৫ রানের ছোট তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইনিংস খেলেছিলেন। ম্যাচ সেরা তাই তাইজুল।

সাকিব আল হাসান
শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম, খুলনা (৩-৭ নভেম্বর, ২০১৪; প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে)
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি কেবল সাকিব বা বাংলাদেশই নয়, পুরো ক্রিকেটবিশ্বই যে মনে রাখবে দারুণ একটি কীর্তির জন্য। এই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেটের অনন্য অর্জন ছুঁয়েছিলেন সাকিব। যেটি তাকে ইয়ান বোথাম-ইমরান খানের পর তৃতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে এই কীর্তি গড়ার ছোট্ট তালিকায় যুক্ত করে নেয়।

ম্যাচে প্রথম ইনিংসে সাকিবের ১৩৭ রানে ভর করে ৪৩৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। দুই সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ে অবশ্য ৩৬৮ রান তুলে ভালোই জবাব দিয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ২৪৮ রান তুললে ড্রয়ের সম্ভাবনা জাগে। পঞ্চম দিনের শেষ সেশনে জিম্বাবুয়ে খেই হারিয়ে ফেলে সাকিব-তাইজুলের ঘূর্ণিতে। প্রথম ইনিংসে ৮০ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। বাংলাদেশ জয় পায় ১৬২ রানে। অনন্য কীর্তির ম্যাচে সেরা হন সাকিব।

মুমিনুল হক
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম (১২-১৬ নভেম্বর, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে)
সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তামিম-ইমরুলের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৫০৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছিল বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ে তোলে ৩৭৪ রান। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল হকের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ৩১৯ রান তুলে ইনিংস ছেড়ে দেয় টাইগাররা। চতুর্থ ইনিংসে জিম্বাবুয়ে পাহাড় সমান লক্ষ্য তাড়া করতে যেয়ে বড় পরাজয় দেখে।

মুমিনুল প্রথম ইনিংসে ৪৮ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১৩১ রানের ঝলমলে একটি সেঞ্চুরি উপহার দেন। যেটি ম্যাচ সেরার আসনে বসিয়ে দেয় তাকে। বাংলাদেশ ৩-০ তে সিরিজ জিতেছিল এই ম্যাচের ইতিবাচক ফল আনার মধ্য দিয়েই।

মেহেদি হাসান মিরাজ
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম, মিরপুর (২৮ অক্টোবর-১ নভেম্বর, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড)
মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটের ফ্লাডলাইট ভেদ করে অস্তমিত সূর্যকে ছাপিয়ে যেদিন নবযুগের সূচনা হয়েছিল, দিনটি ৩০ অক্টোবর ২০১৬, রোববার। এদিন মিরাজ-সাকিবের ঘূর্ণি বলের মায়া যাদুতে ইতিহাসের কপালে চুমো আঁকে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৪ রানে অলআউট করে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি ১০৮ রানে জিতে নেয় টাইগাররা। সেই সঙ্গে সমতা ফেরায় সিরিজে।

মিরপুরে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২২০ রান তুলে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪৪ রানে ৮ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড আদিল রশিদ ও ক্রিস ওকসের দৃঢ়তায় নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৪৪ রান তুলে ২৪ রানের লিড নেয়। পরে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯৬ রানে থামে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। ইংল্যান্ডের সামনে ২৭৩ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। সেটি তাড়া করতে যেয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৪ রানে গুটিয়ে গেছে ইংলিশরা।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা মিরাজ দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৭ রানে ৬ উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসেও ৮২ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন এই তরুণ অফস্পিনার। সেটি তাকে ম্যাচ ও সিরিজ সেরার আসনে বসিয়ে দেয়। সঙ্গে দুই টেস্টের ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার দেখা পাওয়া ৬ উইকেটের কীর্তিতে ১২৯ বছরের পুরনো বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন তিনি।

অভিষেকের পর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট নেয়ার কীর্তি এখন মিরাজের। অভিষেকের পর প্রথম দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট নেয়ার বিশ্বরেকর্ড এতদিন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক বাঁহাতি পেসার জন জেমস প্যারিসের দখলে ছিল। ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে এই কীর্তি গড়েন তিনি। সেই কীর্তিকে ছাপিয়ে গেলেন মিরাজ। তার উইকেট এখন ১৯টি। চট্টগ্রামে অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসে (৬+১) ৭ উইকেট নেয়ার পর ঢাকা টেস্টে (৬+৬) উইকেট নিয়েছেন এই তরুণ।

সঙ্গে মাত্র দুই টেস্টে ৩ বার ৫ বা ততোধিক উইকেট নিয়ে অভিজাত এক ক্লাবেও জায়গা করে নিয়েছেন মিরাজ। তার আগে টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম দুই ম্যাচে তিনবার ৫ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়া অপর চারজন হলেন- নরেন্দ্র হিরওয়ানি, ক্লারি গ্রিমেট, টম রিচার্ডসন, সিডনি বার্নেস ও রডনি হগ।
পি সারায় ৮২ রানের ম্যাচ সেরা ইনিংস খেলার পথে তামিম

তামিম ইকবাল
পি সারা স্টেডিয়াম, কলম্বো (১৫-১৯ মার্চ, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা)
বাংলাদেশের শততম টেস্টের মাইলফলক। ম্যাচে চড়াই-উতরাই। টেস্টের সবটুকু রং বিছানো ২২ গজের ক্যানভাসে। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ৩৩৮। জবাবে সাকিবের ১১৬, সৌম্যর ৬১ আর মোসাদ্দেকের ৭৫ রানে ৪৬৭ রানের সংগ্রহ সফরকারীদের। ১২৯ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে করুনারত্নের ১২৬ আর পেরারা (৫০) ও সান্দাকানের (৪২) রানে ৩১৯ রান তোলে স্বাগতিকরা। ১৯১ রানের লক্ষ্যে ছুটতে যেয়ে তামিম ৮২ ও সাব্বিরের ৪১ রানের পরও ঝুঁকিতে ছিল বাংলাদেশ। ২২ রানে অপরাজিত থেকে যেটি শেষ করে আসেন অধিনায়ক মুশফিক।

প্রথম ইনিংসে তামিম ইকবালের ব্যাটে ৪৯ রান এসেছিল। তাতে ভালো শুরু পায়। দ্বিতীয় ইনিংসে দল ২২ রানে দুই উইকেট হারালে হাল ধরেন বাঁহাতি টাইগার উদ্বোধনী। খেলেন ৮২ রানের ইনিংস। তাতেই ম্যাচ সেরা তামিম।

সাকিব আল হাসান
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম, মিরপুর (২৭-৩০ আগস্ট, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া)
বাংলাদেশের ধারাবাহিকতা প্রমাণের ম্যাচ। ১১ বছর পর এসেছে অস্ট্রেলিয়া। মাঝে চড়াই-উতরাই পেরিয়ে থিতু হওয়ার পথে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তোলে ২৬০। তামিম ৭১ ও সাকিব ৮৪ রানের অবদান রাখেন। জবাবে অজিরা জমা করে ২১৭। সাকিবের ৫ উইকেট। টেস্ট খেলুড়ে নয় দেশের বিপক্ষে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়ার চক্রপূরণ। স্বাগতিকদের লিড ৪৩ রানের। পরে তামিমের ৭৮ ও মুশফিকের ৪১ রানে ২২১ রানে থামে টাইগাররা। অজিদের সামনে লক্ষ্য ২৬৫। আবারও ত্রাতা সাকিব, ফের পাঁচ উইকেট। সঙ্গে তাইজুলের ৩ উইকেট। ওয়ার্নারের ১১২ বিফলে। জয়টি ২০ রানের।

শুধু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে অবদান রাখতে পারেননি সাকিব, করেছেন ৫ রান। প্রথম ইনিংসের ৮৪ ১১ চারে ১৩৩ বলে। প্রথম ইনিংসে বল হাতে পাঁচ উইকেট ২৫.৫ ওভারে ৬৮ রান খরচায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮ ওভারে ৬০ রান খরচায় ৫ উইকেট। তাতে অবধারিতভাবে ম্যাচসেরা সাকিবই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
টাইগারদের রূপকথার সেই ১০ টেস্ট জয়ের গল্প

ফিচার ডেস্ক : দেখতে দেখতে সাদা পোশাকে ১০১টি ম্যাচ খেলা হয়ে গেল বাংলাদেশের। সাফল্যের ঝুড়িতে ১০ জয়। ১০টি হীরকখণ্ড! ১০টি উৎসবের উপলক্ষ। ১০টি স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখা। টেস্ট যাত্রায় লাল-সবুজরা প্রথম জয়টি দেখেছিল ৩৫তম টেস্টে এসে। ১০ জানুয়ারি, ২০০৫ সালে; চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। শততম টেস্টে আসে আরেকটি মাইলফলক ছোঁয়া জয়, কলম্বোর পি সারায়। সবশেষটি এল ঘরের মাটিতে, শের-ই-বাংলায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ১০ জয়ের সেই গল্পগুলো-

এমএ আজিজ স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম
(৬-১০ জানুয়ারি, ২০০৫; প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে)
সবার দৃষ্টি এক জায়গায় আটকে। আর একটা মাত্র উইকেট। এনামুল হক জুনিয়রের বলে সিলি মিড অফে উঠল ক্রিস পোফুর ক্যাচ। মোহাম্মদ আশরাফুল ভুল করলেন না। নিজেদের ইতিহাসে প্রথম জয় বাংলাদেশের। অভিষেকের প্রায় পাঁচ বছর পর প্রথম জয়ের স্বাদ। তখনকার দলীয় সর্বোচ্চ প্রথম ইনিংসের ৪৮৮ রানে যাত্রা শুরু। পরে জিম্বাবুয়েকে প্রথম ইনিংসে ৩১২ রানে অলআউট করে দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকরা গুটিয়ে গিয়েছিল ২০৪ রানে। পঞ্চম দিনে গড়ানো সেই ম্যাচে স্পিনার এনামুলের ঘূর্ণিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৪ রানে অলআউট সফরকারীরা। মাসাকাদজা-টেলর জুটি ১৫ ওভারে ৬৬ রান তুলে চাপে ফেলেছিলেন। কিন্তু টেলরের আউটে ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং। ২২৬ রানে জয়ী বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ২২.২ ওভারে ৪৫ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে নায়ক এনামুল জুনিয়র।

বাংলাদেশ: ৪৮৮ (হাবিবুল ৯৪, রফিক ৬৯; পোফু ৪/১০৯) এবং ২০৪ (হাবিবুল ৫৫, রাজিন ২৬, চিগুম্বুরা ৫/৫৪)।
জিম্বাবুয়ে: ৩১২ (টাইবু ৯২, চিগুম্বুরা ৭১; রফিক ৫/৬৫, মাশরাফি ৩/৫৯) এবং ১৫৪ (মাসাকাদজা ৫৬, টেলর ৪৪; এনামুল ৬/৪৫)।
ফল: বাংলাদেশ ২২৬ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: এনামুল হক জুনিয়র।

সেন্ট ভিনসেন্ট, ওয়েস্ট ইন্ডিজ
(৯-১৩ জুলাই, ২০০৯; প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
বোর্ডের সঙ্গে জটিলতা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক ক্রিকেটার নেই। খর্বশক্তির সেই দলের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। নিজেদের ৬০তম ম্যাচে প্রথম ইনিংসে কোন ফিফটি ছাড়াই ২৩৮ রান তুলেছিল টাইগাররা। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩০৭ রান তোলে। ৬৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে তামিম ইকবালের (১২৮) প্রথম সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৩৪৫ রান তুলে ২৭৬ রানের লিড নেয়। ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮১ রানে গুটিয়ে দেয়। ৯৫ রানে জয়ের সেই ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নায়ক।

বাংলাদেশ: ২৩৮ (মাশরাফি ৩৯, মুশফিক ৩৬; রোচ ৩/৪৬) এবং ৩৪৫ (তামিম ১২৮, জুনায়েদ ৭৮; স্যামি ৫/৭০)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩০৭ (ফিলিপস ৯৪, মাহমুদউল্লাহ ৩/৫৯, রুবেল ৩/৭৬) এবং ১৮১ (বার্নার্ড ৫২*, মাহমুদউল্লাহ ৫/৫১, সাকিব ৩/৩৯)।
ফল: বাংলাদেশ ৯৫ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

সেন্ট জর্জ, গ্রেনাডা
(১৭-২০ জুলাই, ২০০৯; প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
পরেই ম্যাচেই আরেকটি দুর্দান্ত জয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ২৩৭ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৩২ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে ক্যারিবীয়রা দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৯ রানে অলআউট হলে ২১৫ রানের লক্ষ্য পায় টাইগাররা। এক পর্যায়ে ৬৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন সাকিব। ১৩ চার ও ১ ছয়ে ৯৭ বলে অপরাজিত ৯৬ রান। কেমার রোচকে ছয় মেরে বাংলাদেশকে এনে দেন অসাধারণ এক জয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করার ম্যাচে ৪ উইকেটে জয়। প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসেও ৭০ রানে ৫ উইকেট, পরে ব্যাট হাতে রুদ্রমূর্তি; সাকিবে ষোলোকলা পূর্ণ হয় জয়ের হাসিতে।

বাংলাদেশ: ২৩২ (মুশফিক ৪৮, রকিবুল ৪৪, রোচ ৬/৪৮) এবং ২১৭/৬ (সাকিব ৯৬*, রকিবুল ৬৫, স্যামি ৫/৫৫)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৩৭ (ডাওলিন ৯৪, মাহমুদউল্লাহ ৩/৪৪, সাকিব ৩/৫৯) এবং ২০৯ (বার্নার্ড ৬৯, সাকিব ৫/৬৯)।
ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব, জিম্বাবুয়ে
(২৫-২৯ এপ্রিল, ২০১৩; প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে)
সিরিজের প্রথম টেস্টে হারের ক্ষত। দ্বিতীয় টেস্টেই তাতে প্রলেপ। প্রথম ইনিংসে ৩৯১ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে করে ২৮২! ১০৯ রানের লিড টাইগারদের। দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিক-সাকিবের ব্যাটে ভর দিয়ে ২৯১ রান করার পর তাই জিম্বাবুয়েকে ৪০১ রানের বড় লক্ষ্যই দিতে পেরেছিল বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা পৌঁছাতে পারল কেবল ২৫৭ পর্যন্তই। লাল-সবুজের দল ১৪৩ রানে জয়ী। পেসার রবিউল প্রথম ইনিংসে ৮৫ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১টি, দুই ইনিংসে ২৪ ও ৪ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ সেরা।

বাংলাদেশ: ৩৯১ (সাকিব ৮১, নাসির ৭৭, মুশফিক ৬০; চিগুম্বুরা ৩/৭৫) এবং ২৯১/৯ (মুশফিক ৯৩, সাকিব ৫৯, নাসির ৬৭*; মাসাকাদজা ৪/৫৮)
জিম্বাবুয়ে: ২৮২ (চিগুম্বুরা ৮৬, রবিউল ৫/৮৫) এবং ২৫৭ (মাসাকাদজা ১১১*, জিয়াউর ৪/৬৩)।
ফল: বাংলাদেশ ১৪৩ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: রবিউল ইসলাম।

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম, মিরপুর
(২৫-২৭ অক্টোবর, ২০১৪; প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে)
তিন টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। মিরপুরে প্রথম ইনিংসে সফরকারীদের ২৪০ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ২৫৪ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুলের ঘূর্ণিতে জিম্বাবুয়ে ১১৪ রানে অলআউট। চতুর্থ ইনিংসে ১০১ রান তাড়া করতে নেমে ৮২ রানে ৭ উইকেট নেই স্বাগতিকদের। স্নায়ুচাপ সামলে তাইজুলকে সঙ্গে নিয়ে জয়ে নোঙর ফেলেন মুশফিক। ৩ উইকেটের জয়।

জিম্বাবুয়ে: ২৪০ (রাজা ৫১; সাকিব ৬/৫৯) এবং ১১৪ (টেলর ৪২*; তাইজুল ৮/৩৯)।
বাংলাদেশ: ২৫৪ (মুশফিক ৬৪, মাহমুদউল্লাহ ৬৩; পানিয়াঙ্গারা ৫/৫৯) এবং ১০১/৭ (মাহমুদউল্লাহ ২৮, মুশফিক ২৩*; চিগুম্বুরা ৪/৪১)।
ফল: বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: তাইজুল ইসলাম।

শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম, খুলনা
(৩-৭ নভেম্বর, ২০১৪; প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে)
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি কেবল সাকিব বা বাংলাদেশই নয়, পুরো ক্রিকেটবিশ্বই মনে রাখবে। সাকিবের দারুণ কীর্তির জন্য। একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেটের অনন্য অর্জন। যেটি সাকিবকে ইয়ান বোথাম-ইমরান খানের পর তৃতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে এই কীর্তির পাশে বসিয়ে দেয়।

ম্যাচে প্রথম ইনিংসে সাকিবের ১৩৭ রানে ভর করে ৪৩৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। দুই সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ে অবশ্য ৩৬৮ রান তুলে ভালোই জবাব দিয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ২৪৮ রান তুললে ড্রয়ের সম্ভাবনাই জাগে। পঞ্চম দিনের শেষ সেশনে জিম্বাবুয়ে খেই হারিয়ে ফেলে সাকিব-তাইজুলের ঘূর্ণিতে। প্রথম ইনিংসে ৮০ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ রানে ৫ উইকেট সাকিবের। বাংলাদেশ জেতে ১৬২ রানে।

বাংলাদেশ: ৪৩৩ (তামিম ১০৯, সাকিব ১৩৭, পানিয়াঙ্গারা ২/৪৯) এবং ২৪৮/৯ (মাহমুদউল্লাহ ৭১, শুভাগত ৫০; ওয়ালার ৪/৫৯)।
জিম্বাবুয়ে: ৩৬৮ (মাসাকাদজা ১৫৮, চাকাভা ১০১; সাকিব ৫/৮০, তাইজুল ৩/৯৬) এবং ১৫১ (মাসাকাদজা ৬১, সাকিব ৫/৪৪, তাইজুল ৩/৪৪)।
ফল: বাংলাদেশ ১৬২ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম
(১২-১৬ নভেম্বর, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে)
সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তামিম-ইমরুলের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৫০৩ রানের বড় সংগ্রহ বাংলাদেশের। প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের ৩৭৪! দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল হকের অপরাজিত সেঞ্চুরি, ৫ উইকেটে ৩১৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা টাইগারদের। চতুর্থ ইনিংসে জিম্বাবুয়ে পাহাড় সমান লক্ষ্যের সামনে পড়ে বড় পরাজয় দেখে। বাংলাদেশ ৩-০ তে সিরিজ জেতে। মুমিনুলই সেরা সেই ম্যাচে।

বাংলাদেশ: ৫০৩ (ইমরুল ১৩০, তামিম ১০৯; রাজা ৩/১২৩) এবং ৩১৯/৫ (মুমিনুল ১৩১*; পানিয়াঙ্গারা ২/৩১)।
জিম্বাবুয়ে: ৩৭৪ (চিগুম্বুরা ৮৮, জুবায়ের ৫/৯৬) এবং ২৬২ (চাকাভা ৮৯, রুবেল ২/১৬, শফিউল ২/১৭)।
ফল: বাংলাদেশ ১৮৬ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: মুমিনুল হক।

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম, মিরপুর
(২৮ অক্টোবর-১ নভেম্বর, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড)
মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটের ফ্লাডলাইট ভেদ করে অস্তমিত সূর্যকে ছাপিয়ে যেদিন নবযুগের সূচনা হয়েছিল, দিনটি ৩০ অক্টোবর ২০১৬, রোববার। এদিন মিরাজ-সাকিবের ঘূর্ণি বলের মায়া যাদুতে ইতিহাসের কপালে চুমো আঁকে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৪ রানে অলআউট করে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি ১০৮ রানে জিতে নেয় টাইগাররা। সেই সঙ্গে সমতা ফেরায় সিরিজে।

মিরপুরে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২২০ রান তুলে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪৪ রানে ৮ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড আদিল রশিদ ও ক্রিস ওকসের দৃঢ়তায় নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৪৪ রান তুলে ২৪ রানের লিড নেয়। পরে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯৬ রানে থামে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। যাতে ইংল্যান্ডের সামনে ২৭৩ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। সেটি তাড়া করতে যেয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৪ রানে গুটিয়ে গেছে ইংলিশরা।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা মিরাজ দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৭ রানে ৬ উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসেও ৮২ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন এই তরুণ অফস্পিনার। সেটি তাকে ম্যাচ ও সিরিজ সেরার আসনে বসিয়ে দেয়। সঙ্গে দুই টেস্টের ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার দেখা পাওয়া ৬ উইকেটের কীর্তিতে ১২৯ বছরের পুরনো বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন তিনি।

অভিষেকের পর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট নেয়ার কীর্তি এখন মিরাজের। অভিষেকের পর প্রথম দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট নেয়ার বিশ্বরেকর্ড এতদিন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক বাঁহাতি পেসার জন জেমস প্যারিসের দখলে ছিল। ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে এই কীর্তি গড়েন তিনি। সেই কীর্তিকে ছাপিয়ে গেলেন মিরাজ। তার উইকেট এখন ১৯টি। চট্টগ্রামে অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসে (৬+১) ৭ উইকেট নেয়ার পর ঢাকা টেস্টে (৬+৬) উইকেট নিয়েছেন এই তরুণ।

সঙ্গে মাত্র দুই টেস্টে ৩ বার ৫ বা ততোধিক উইকেট নিয়ে অভিজাত এক ক্লাবেও জায়গা করে নিয়েছেন মিরাজ। তার আগে টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম দুই ম্যাচে তিনবার ৫ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়া অপর চারজন হলেন- নরেন্দ্র হিরওয়ানি, ক্লারি গ্রিমেট, টম রিচার্ডসন, সিডনি বার্নেস ও রডনি হগ।

বাংলাদেশ: ২২০ (তামিম ১০৪, মুমিনুল ৬৬; মঈন ৫/৫৭) এবং ২৯৬ (ইমরুল ৭৮, মাহমুদউল্লাহ ৪৭; রশিদ ৪/৫২)।
ইংল্যান্ড: ২৪৪ (রুট ৫৬, মিরাজ ৬/৮২, তাইজুল ৩/৬৫) এবং ১৬৪ (কুক ৫৯, ডাকেট ৫৬; মিরাজ ৬/৭৭, সাকিব ৪/৪৯)
ফল: বাংলাদেশ ১০৮ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: মেহেদী হাসান মিরাজ।

পি সারা স্টেডিয়াম, কলম্বো
(১৫-১৯ মার্চ, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা)
বাংলাদেশের শততম টেস্টের মাইলফলক। ম্যাচে চড়াই-উতরাই। টেস্টের সবটুকু রং বিছানো ২২ গজের ক্যানভাসে। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ৩৩৮। জবাবে সাকিবের ১১৬, সৌম্যর ৬১ আর মোসাদ্দেকের ৭৫ রানে ৪৬৭ রানের সংগ্রহ সফরকারীদের। ১২৯ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে করুনারত্নের ১২৬ আর পেরারা (৫০) ও সান্দাকানের (৪২) রানে ৩১৯ রান তোলে স্বাগতিকরা। ১৯১ রানের লক্ষ্যে ছুটতে যেয়ে তামিম ৮২ ও সাব্বিরের ৪১ রানের পরও ঝুঁকিতে ছিল বাংলাদেশ। ২২ রানে অপরাজিত থেকে যেটি শেষ করে আসেন অধিনায়ক মুশফিক।

বাংলাদেশ: ৪৬৭ (সাকিব ১১৬, সৌম্য ৬১, মোসাদ্দেক ৭৫; হেরাথ ৪/৮২, সান্দাকান ৪/১৪০) এবং ১৯১ (তামিম ৮২; হেরাথ ৩/৭৫)।
শ্রীলঙ্কা: ৩৩৮ (চান্দিমাল ১৩৮, মিরাজ ৩/৯০) এবং ৩১৯ (করুনারত্নে ১২৬, পেরেরা ৫০; সাকিব ৪/৭৪, মোস্তাফিজ ৩/৭৮)।
ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: তামিম ইকবাল।

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম, মিরপুর
(২৭-৩০ আগস্ট, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া)
বাংলাদেশের ধারাবাহিকতা প্রমাণের ম্যাচ। ১১ বছর পর এসেছে অস্ট্রেলিয়া। মাঝে চড়াই-উতরাই পেরিয়ে থিতু হওয়ার পথে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তোলে ২৬০। তামিম ৭১ ও সাকিব ৮৪ রানের অবদান রাখেন। জবাবে অজিরা জমা করে ২১৭। সাকিবের ৫ উইকেট। টেস্ট খেলুড়ে নয় দেশের বিপক্ষে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়ার চক্রপূরণ। স্বাগতিকদের লিড ৪৩ রানের। পরে তামিমের ৭৮ ও মুশফিকের ৪১ রানে ২২১ রানে থামে টাইগাররা। অজিদের সামনে লক্ষ্য ২৬৫। আবারও ত্রাতা সাকিব, ফের পাঁচ উইকেট। সঙ্গে তাইজুলের ৩ উইকেট। ওয়ার্নারের ১১২ বিফলে। জয়টি ২০ রানের।

বাংলাদেশ: ২৬০ (তামিম ৭১, সাকিব ৮৪, মুশফিক ১৮, নাসির ২৩, মিরাজ ১৮, শফিউল ১৩; কামিন্স ৩/৬৩, লায়ন ৩/৭৯, অ্যাগার ৩/৪৬) এবং ২২১ (তামিম ৭৮, সৌম্য ১৫, মুশফিক ৪১, সাব্বির ২২, মিরাজ ২৬; লায়ন ৬/৮২, অ্যাগার ২/৫৫, কামিন্স ১/৩৮)
অস্ট্রেলিয়া: ২১৭ (রেনশ ৪৫, হ্যান্ডসকম্ব ৩৩, অ্যাগার ৪১*; মিরাজ ৩/৬২, সাকিব ৫/৬৮, তাইজুল ১/৩২) এবং ২৪৪ (ওয়ার্নার ১১২, স্মিথ ৩৭, হ্যান্ডসকম্ব ১৫; মিরাজ ২/১৯, সাকিব ৫/৮৫ , তাইজুল ৩/৬০)
ফল: বাংলাদেশ ২০ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কিংবদন্তি রিচার্ড হ্যাডলির পাশে সাকিব

বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। প্রতিনিয়ত নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন এ তারকা ক্রিকেটার।
পাশাপাশি একের পর এক কীর্তি গড়ে বসছেন গ্রেটদের পাশে। এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেন তিনি। নাম লেখালেন নিউজিল্যান্ডের স্যার রিচার্ড হ্যাডলির রেকর্ডে সঙ্গে।

মিরপুরে প্রথম টেস্টে ২০ রানে বাংলাদেশের জয়ের ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট ও একটি হাফসেঞ্চুরি করেছেন সাকিব। যেখানে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এই কীর্তি গড়লেন বাঁহাতি এ তারকা। দু’বার এমন রেকর্ড গড়েই হ্যাডলির সঙ্গে বসলেন তিনি।

হ্যাডলি অবশ্য এমন কীর্তি সর্বোচ্চ তিনবার করেছেন। যেখানে সাকিব আগেরবার ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ইনিংসে পাঁচ উইকেট করে মোট ১০ উইকেটের পাশাপাশি হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে ১৩৩ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৮৪ রান করেছিলেন সাকিব। পরে অজিদের প্রথম ইনিংসে ৬৮ রানের বিনিময়ে পাঁচ উইকেট তুলে নেন। আর দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিংয়ে নেমে ৮৫ রানে আরও পাঁচ উইকেট নেন।

এই টেস্টেই আবার প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেয়ে বিশ্বে চতুর্থ বোলার হিসেবে নয়টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন সাকিব। এর আগে শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন, রঙ্গনা হেরাথ ও দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ডেল স্টেইন এই রেকর্ড গড়েছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ায় ওয়েবসাইটে সাকিবের প্রশংসা

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কাছে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। যেখানে ব্যাট বল হাতে দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফর্ম দেখিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
সেটা চোখ এড়ায়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ারও। এজন্য দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের ওয়েবসাইটে সাকিবকে প্রশংসায় ভাসানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ৫০তম টেস্ট। তবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রথম। অথচ সেই টেস্টে কিনা ব্যাট-বলে নেতৃত্ব দিয়ে অনেকটা সাকিবের একক নৈপুণ্যে ম্যাচটি জিতে নিল বাংলাদেশ।

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে করেছিলেন ৮৬ রান, আর বল হাতে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও ৫ উইকেট নিয়ে একাই অস্ট্রেলিয়াকে ধসিয়ে দিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আমরা সিরিজটাও জিতবো-মুশফিকুর রহিম

ঘামে ভেজা শরীর। কিন্তু মুখে বিজয়ের হাসি। গর্বে যে বুকটা ফুলে যাচ্ছে মুশফিকুর রহিমের। সেটা না দেখা গেলেও হাসিতে স্পষ্ট। পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সেই গর্বেই ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশের টেস্ট কাপ্তান, ‘আমরা সিরিজটাও জিতবো।।’

মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলানো টেস্টটা ২০ রানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচ কখনও হেলে গেছে টাইগারদের দিকে, কখনও হেসেছে অজিদের মুখ। তবে বেশিরভাগটা জুড়েই ছিল স্বাগতিকদের আধিপত্য। ১১ বছর আগে ফতুল্লায় ঐতিহাসিক জয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে খালি হাতে ফেরা বাংলাদেশের হাতে উঠেছে অজিদের বিপক্ষে প্রথম বিজয়।

আগের চারবারের দেখায় খালি হাতে ফেরা টাইগারদের পঞ্চমবারের চেষ্টায় অজি বধের অবদানে অধিনায়ক মুশফিক সমস্ত কৃতিত্ব দিলেন তামিম-সাকিব ও বোলারদের। প্রচণ্ড গরমে নিজে যে উইকেটকিপিং করলেন, সেজন্য নিজের দিকে কৃতিত্বটা নিলেন না এতটুকুও!

‘বিপদের সময় তামিম-সাকিবের ব্যাটিংটাই আমাদের পুঁজি দিয়েছে। আমরা ভালো একটা সংগ্রহ পেয়েছি। আর বোলাররাই যা করার করেছে। সাকিব-মিরাজ-তাইজুলরা অসাধারণ বল করেছে। বিশেষ করে সাকিব। সেই দলকে পথ দেখিয়েছে।’

প্রথম ইনিংসে শুরুতেই ১০ রানে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে তামিম-সাকিবের ১৫৫ রানের জুটিতে। মুশির ইঙ্গিত, এটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। পুরষ্কার বিতরণীতে ধারাভাষ্যকার শামীম চৌধুরীকে জানালেন এমনকিছুই। পরে সংবাদ সম্মেলনে সফরকারী অধিনায়ক স্মিথও বললেন একই কথা, তামিম-সাকিবের জুটিই ছিল টার্নিং।

পুরষ্কারের মঞ্চে দেশবাসীকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুশি। সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াকে দিয়েছেন প্রচ্ছন্ন হুমকিও, ‘আশা করি আমরা সিরিজটাও জিতবো।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এই জয় ঈদের উপহার: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই বিজয়কে দেশবাসীর প্রতি পবিত্র ঈদের উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে প্রথমবার হারানোর দিনে তিনি মাঠে ছিলেন।

বুধবার মিরপুরে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৪ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। তাদের হারতে হয় ২০ রানে।

জমজমাট এই ম্যাচের শেষদিকে মিরপুরে হাজির হন শেখ হাসিনা। এর আগে সকাল থেকে টিভিতে চোখ রাখছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী মাঠে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুই ব্যাটসম্যান বাংলাদেশকে বিপাকে ফেলছিলেন। প্যাট কামিন্স ছয় হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলার আভাস দেন। কিন্তু তার সতীর্থ হ্যাজেলউড আর পারেননি। তাইজুলের কাছে পরাস্ত হন। এসময় সাধারণ দর্শকের মতো প্রধানমন্ত্রী উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন। পাশের একজনের কাছ থেকে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে ওড়াতে থাকেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest