সর্বশেষ সংবাদ-
সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই বোতলজাত সায়াবিন তেল খেতে হবে– সাতক্ষীরায় এডভোকেসি সভায় বক্তারাদেবহাটায় এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে ৪৮ ক্যারেট ক্যামিক্যাল মিশ্রিত আম বিনষ্ট‘আমাদের দুর্ভাগ্য একজন দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ এখনও রাষ্ট্রপতি’বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিমকে তাড়াতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে  হয়রানির অভিযোগকালীগঞ্জের নলতায় সড়ক ও জনপদ থেকে উচ্ছেদের পরেও পুনরায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িকসাতক্ষীরায় তিন দিনব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনসারা দেশে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস: নদীবন্দরে সতর্ক সংকেতKeuntungan Menggunakan Bonus Istana Casino untuk Meningkatkan Peluang MenangIemesli, kāpēc Spinight online kazino ir tik populārs Latvijas tirgūΗ πλήρης καθοδήγηση για το Buran Casino no deposit bonus και τις προσφορές του

তালায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় স্বামী মুসা আটক

তালায় নাসরিন নাহার মুন্নি (২৮) নামের এক গৃহবধূকে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ঘাতক স্বামী মুসা গাজী (৪২) কে আটক করেছে পুলিশ। সে উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃতঃ আমিরুল গাজীর পুত্র।
রোববার (১ অক্টোবর) বিকালে পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্যা  জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ওসি তদন্ত উজ্জ্বল কুমার মৈত্র, এসআই আসাদুজ্জামান, এসআই শাহাদাতুল আলম, এসআই আসাদুজ্জামান (মিন্টু), এএসআই (নিঃ) এনামুল হাসান, এএসআই মানিক মিয়াসহ সঙ্গীয় ফোর্সের সহয়তায় তালা উপজেলার মির্জাপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করে। এদিকে রোববার ভোর রাতে বাগমারা গ্রামের বাড়িতেই এ ঘটনা ঘটলে বেলা সাড়ে ১২ দিকে মারা যায় মুন্নি। এ ঘটনায় পাটকেলঘাটা থানায় মামলা হয়। সাতক্ষীরার সার্কেল এসপি মোঃ আতিকুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা জানান, এক সন্তানের জননী মুন্নি খাতুনকে প্রায় মারধর করত স্বামী মুসা গাজী। তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত। স্বামী মুসা প্রতিনিয়ত তাকে বাপের বাড়িতে চলে যাবার জন্য চাপ সৃষ্টি করত। তা না হলে তাকে হত্যার হুমকি দিত। শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটি হয়। এ সময় স্বামী মুসা গাজী স্ত্রীকে মারধর করে। রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়লে ভোর রাতে পাষন্ড স্বামী মুসা গাজী গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে তাঁর স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তার আত্মচিৎকারে এলাকাবাসি তাকে উদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: ফরহাদ জামিল বলেন, গৃহবধূর মুন্নি খাতুনের শরীরের ৭৫ শতাংশ পুড়ে যায়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। রোববার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২ দিকে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে সে মারা যায়।
তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্যা জাকির হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। যার নং ১, তাং- ০১/১০/১৭ খ্রিঃ, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধনী/০৩) এর ৪ (১)। পুলিশ রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার মির্জাপুর এলাকা থেকে ঘাতক মুসা গাজী কে আটক করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা সংকট: বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক শুরু

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। বৈঠকে আরও উপস্থিত আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ আরও অনেকে। আর মিয়ানমারের পক্ষে আছেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর দফতরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৈঠকটি শুরু হয়।

২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু হওয়ার পরে এই প্রথম দুই দেশ রোহিঙ্গাদের নিয়ে আলোচনায় বসলো। আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এ নিয়ে সু চি’র ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার কারণে তিনি (সু চি) তার মন্ত্রী উ টিন্ট সোয়েকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, টিন্ট সোয়ে মিয়ানমারের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক। তিনি রাখাইনদের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। একজন পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে তিনি দীর্ঘ ১০ বছর জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘স্বাধীনতার অধিকার আদায় করেছে কাতালানবাসী’

স্পেন থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে দেশটির কাতালান অঞ্চলে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশি সহিংসতার মধ্যে শেষ হওয়া গণভোটে কাতালানবাসীর স্বাধীনতার অধিকার আদায় হয়েছে বলে দাবি করেছে অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসিত সরকার।

স্থানীয় সময় রোববার স্পেন থেকে কাতালানের স্বাধীনতার দাবিতে গণভোট আয়োজন করে কাতালানের স্থানীয় সরকার। স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে ভোট শুরু হওয়ার আগেই কেন্দ্রগুলো দখল করে নেয় পুলিশ। ভোটকেন্দ্রগুলোতে কাতালানবাসীকে প্রবেশে বাধা দিতে মাঠে নামে দাঙ্গা পুলিশ। তাদের ছোড়া রাবার বুলেট ও লাঠিপেটায় আহত হয় অনেকে।

কাতালান সরকারের মুখপাত্র জরদি তুরুল বলেন, কাতালানে রোববার মোট ভোট দিয়েছেন ৫৩ লাখ। এখন পর্যন্ত ২২ লাখ ব্যালট পেপার গণনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ স্বাধীনতার পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন।

তুরুল আরো বলেন, পুলিশি বাধা না এলে ভোটদাতার সংখ্যা আরো বেশি হতো। সহিংসতার কারণে কমপক্ষে সাত লাখ ৭০ হাজার ভোটার ভোট দিতে আসেননি।

কাতালান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববারের পুলিশি সহিংসতায় কমপক্ষে ৮০০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া ৪০০টি ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, দুই হাজার ৩০০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৯২টি বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

কাতালানের প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইদেমন বলেন, ‘বাধার মুখেও কাতালানবাসী স্বাধীনতার অধিকার আদায় করেছে। আমরা সবকিছু জানার, সম্মান ও পরিচিতি পাওয়ার অধিকার আদায় করেছি।’

এদিকে রোববার রাতেই একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয় বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমি একটি কথাই পরিষ্কারভাবে বলতে পারি, আজ কাতালানে তাদের স্ব-স্বীকৃত গণভোট অনুষ্ঠিত হয়নি।’

কাতালান স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঙ্গরাজ্য। পাঁচ বছর ধরে স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছিল তারা। এ দাবিতে গতকাল রোববার গণভোটের আয়োজন করে কাতালানের আঞ্চলিক সরকার। তবে স্পেন সরকার এই ভোট বন্ধের অঙ্গীকার করে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতও এই ভোটকে অবৈধ ঘোষণা করে।

এত কিছুর পরও স্বাধীন কাতালানের জন্য ভোট দিতে আসেন কাতালানরা। ভোট শুরুর আগেই শুক্রবার থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোর দখল নিয়ে নেন স্বাধীন কাতালোনিয়ার সমর্থকরা। এসব ভোটকেন্দ্র খোলা রাখার জন্যই তাঁদের এ উদ্যোগ। কোথাও কোথাও ভোটকেন্দ্রের সামনে ট্রাক্টর বসিয়ে রাখেন কৃষকরা। যেন পুলিশ সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। আবার কোনো কোনো ভোটকেন্দ্রের দরজা খুলে ফেলা হয়েছে, যাতে করে স্পেন সরকার এসব কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে না পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অবশেষে ঘরের মাঠে জয় পেল রিয়াল

লা লিগার নতুন মৌসুমের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি রিয়াল মাদ্রিদের। দুটি ম্যাচে ড্র ও একটিতে হারের মুখ দেখে বেশ খানিকটা পিছিয়েই পড়েছে গতবারের শিরোপাজয়ীরা। লা লিগায় ঘরের মাঠে জয় পেতেও রিয়াল মাদ্রিদকে অপেক্ষা করতে হয়েছে নিজেদের সপ্তম ম্যাচ পর্যন্ত। অবশেষে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এসেছে সেই কাঙ্ক্ষিত জয়। রোববার এসপানিওলকে ২-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল।

লা লিগায় রোববারের আগে ঘরের মাঠে রিয়াল খেলেছিল তিনটি ম্যাচ। এ তিনটি ম্যাচের কোনোটিতেই জয়ের স্বাদ পায়নি ইউরোপের অন্যতম সেরা এই ক্লাব। ভ্যালেন্সিয়া ও লেভান্তের বিপক্ষে ড্রয়ের পর হেরে গিয়েছিল রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে। অবশেষে রোববার বার্নাব্যুতে কাঙ্ক্ষিত সেই জয়টি পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ইসকোর জোড়া গোলে ভর করে এসপানিওলকে ২-০ গোলে হারিয়েছে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা।

৩০ মিনিটের মাথায় রিয়ালের প্রথম গোলটির নেপথ্যের কারিগর ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাঁর পাস থেকে বল পেয়ে সেটি জালে জড়িয়েছিলেন ইসকো। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধও শেষ করেছিল রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধে আবার প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছেন ইসকো। ৭০ মিনিটে তাঁর সৌজন্যেই রিয়াল পেয়েছে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি। এবার ইসকোকে বল জুগিয়েছিলেন মার্কো অ্যাসেনসিও। শেষ পর্যন্ত এই ২-০ গোলের ব্যবধানেই জয় পেয়েছে রিয়াল।

লা লিগায় টানা দুটি জয় পেলেও পয়েন্ট তালিকায় এখনো বেশ খানিকটা পিছিয়ে আছে গতবারের শিরোপাজয়ী রিয়াল মাদ্রিদ। সাত ম্যাচের চারটিতে জয় দিয়ে তারা এখন আছে পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা সাত ম্যাচের সাতটিতেই জয় দিয়ে দখল করেছে শীর্ষস্থান। বার্সেলোনা ছাড়া লা লিগার প্রথম সাতটি ম্যাচের সাতটিতেই জয় পায়নি অন্য কোনো দল। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে সেভিয়া। আর তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা ভ্যালেন্সিয়া ও আতলেতিকো মাদ্রিদের ঘরে জমা হয়েছে ১৫ পয়েন্ট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিড়ালের টানাহেঁচড়া, পলিথিনের ব্যাগ খুলে মিলল জীবন্ত নবজাতক

রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় ময়লার মধ্যে পড়ে থাকা পলিথিনের ব্যাগ থেকে একটি জীবন্ত নবজাতক উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ সোমবার ভোরে খিলগাঁওয়ের চৌধুরীপাড়া এলাকার একটি ভবনের পাশ থেকে নবজাতকটি উদ্ধার করেন ওই ভবনের ভাড়াটিয়া শাহিনুর বেগম।

শাহিনুর বেগম জানান, আজ ভোরে তিনি ভবনের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লার মধ্যে একটি পলিথিনের ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগটি নিয়ে একটি বিড়াল টানাহেঁচড়া করছিল। হঠাৎ সেটি নড়ে উঠলে তাঁর সন্দেহ হয়। পরে ব্যাগটি খুলে তিনি একটি জীবন্ত নবজাতক দেখতে পান।

পরে ওই নবজাতককে নিজ বাসায় নিয়ে যান শাহিনুর। শিশুটিকে পরিষ্কার করে, কাঁথা ও কাপড় দিয়ে জড়িয়ে নিয়ে যান খিলগাঁও খিদমাহ হাসপাতালে। সেখান থেকে নিয়ে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, খিলগাঁও থানা পুলিশ শাহিনুর ও নবজাতকটিকে সঙ্গে নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে আসে। নবজাতক ওয়ার্ডে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ত্রিশ বছর ভারতীয় বাহিনীতে চাকরি করলেও আজমলকে বলা হলো ‘অবৈধ বাংলাদেশী’

তিরিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর আসাম পুলিশের কাছ থেকে ‘অবৈধ বাংলাদেশী’ হিসেবে নোটিশ পেয়েছেন গুয়াহাটির বাসিন্দা মহম্মদ আজমল হক।

বিবিসি বাংলাকে হক জানিয়েছেন, এত লম্বা সময় ধরে দেশের সেবা করার পর তাকে এভাবে অপমানিত ও অপদস্থ হতে হবে তা তিনি কখনও কল্পনাও করেননি।

আসামের মানবাধিকার আইনজীবীরাও বলছেন, সে রাজ্যে যেরকম ঢালাওভাবে বাংলাভাষী মুসলিমদের কাছে অবৈধ বিদেশি হিসেবে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে আজমল হকও তার সাম্প্রতিকতম ভিক্টিম – এবং বাংলাদেশী খোঁজার এই হিড়িকে আসামে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হচ্ছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে তিরিশ বছরের কর্মজীবনের শেষে গত বছরই জুনিয়র কমিশনড অফিসার হিসেবে অবসর নিয়েছেন মহম্মদ আজমল হক।

দেশের বাড়ি, আসামের রাজধানী গুয়াহাটির কাছে ছায়াগাঁওতে যখন নিশ্চিন্তে বাকি জীবনটা কাটাবেন বলে সবে থিতু হয়েছেন – তখনই তার কাছে আসাম পুলিশের নোটিশ এসেছে তিনি না কি অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন।

“আমি ভারতের নাগরিক, তিরিশ বছর ধরে দেশের সেবা করেছি। এখন রিটায়ার করার পর বালবাচ্চা নিয়ে গুয়াহাটিতে নিজের বাড়িতে থাকি। এখন আচমকা আমাকে নোটিশ পাঠিয়ে বলা হচ্ছে আমি না কি অবৈধ, আমি না কি ১৯৭১-র পর আসামে এসেছি!”

“এই খবরটা শুনে তো আমি অতিশয় দুখী হইলাম, আমার দিলটা একেবারে ভাইঙ্গা গ্যালো। কী হচ্ছেটা কী আমার সাথে? নিজের দেশেই আজ আমি বিদেশি হয়ে গেলাম – তাও আবার তিরিশ বছর দেশকে সেবা দেওয়ার পর?”, বিবিসিকে দু:খ করে বলছিলেন আজমল হক।

অথচ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ পাওয়ার সময় এই আসাম পুলিশই তাকে ভারতের নাগরিক হিসেবে ভেরিফাই করেছিল – আর এখন তারাই আবার তার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

“এটাই তো আমি ভেবে পাচ্ছি না। কারণ যখন একজন জওয়ান ভারতীয় সেনায় ভর্তি হয়, পুলিশ তার প্রপার ভেরিফিকেশন করে। পুলিশ তার গ্রামে গিয়ে বাবা-মার কাগজপত্র খতিয়ে দেখে, বংশপরিচয় খোঁজ নিয়ে তারপরই তাদের রিপোর্ট পাঠায় – তারপরই আমাদের ‘কসম প্যারেড’ হয়। এত কিছুর পরেও আজ যে তাদের সন্দেহ হচ্ছে, এটা আমার জন্য অত্যন্ত দু:খের, অপমানের ও লজ্জার বিষয়!”

“এটা কিন্তু আমার প্রাপ্য ছিল না। রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম সাহেব আমাকে সেনাবাহিনীতে জেসিও হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিরিশি বছর ধরে দেশের হয়ে বিভিন্ন কঠিন পোস্টিংয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমি ডিউটি করেছি। তার পরেও যদি দেশের মানুষ বা আসাম সরকার আমাকে এভাবে চরম অপমান করে, আমি শুধু ন্যায্য বিচারই দাবি করব”, বলছিলেন মহম্মদ আজমল হক।

আসলে আজমল হক হলেন আসামের সেই লক্ষ লক্ষ বাঙালি মুসলিমদের একজন, যাদের অবৈধ বিদেশি বলে ঢালাও নোটিশ পাঠানো হচ্ছে আর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তাদের ভারতীয়ত্ব প্রমাণ করতে হচ্ছে।

এরকম বহু কেস নিয়ে লড়ছেন রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার আইনজীবী আমন ওয়াদুদ, তিনি বলছিলেন, “কেউ কিন্তু আজমল হকের কাছে কোনও কাগজ বা নথিপত্র চায়নি। কোনও তদন্ত ছাড়াই বলে দেওয়া হচ্ছে যে তিনি নাকি ১৯৭১-র পর বাংলাদেশ থেকে আসামে এসেছিলেন। আর এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, আসামে লক্ষ লক্ষ লোকের সম্পর্কে কোনও তদন্ত না-করেই পুলিশ তাদের অবৈধ অভিবাসী বা বাংলাদেশী বলে রিপোর্ট করে দিচ্ছে!”

“ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে কিন্তু শতকরা আশি ভাগ কেসই ভারতীয় নাগরিক বলে প্রমাণিত হচ্ছে। তার মানে এটাই যে পুলিশ কোনও ঠিকঠাক তদন্ত ছাড়াই এই রিপোর্টগুলো দাখিল করে দিচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তো কোনও তদন্তই হয় না।”

“ফলে পরিস্থিতি খুব গুরুতর। এই মুহুর্তে রাজ্যের ছটি ডিটেনশন শিবিরে হাজারখানেকেরও বেশি লোক আটক আছেন। বাংলাদেশও তাদের নেবে না – আর কেনই বা নেবে, তারা তো আসলেই ভারতীয় নাগরিক!”, গুয়াহাটি থেকে বিবিসিকে বলছিলেন আমন ওয়াদুদ।

বাংলাদেশ এদের কিছুতেই নিতে রাজি হবে না, জানা থাকা সত্ত্বেও কথিত বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছেই – কারণ আসামে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি রাজনৈতিক ইস্যু।

মহম্মদ আজমল হক যেমন বলছিলেন, পাঁচ বছর আগে তিনি যখন সেনাবাহিনীর সার্ভিং অফিসার – তখন তার স্ত্রীও এই ধরনের নোটিশ পেয়েছিলেন।

“তখন আমি চন্ডীমন্দির ক্যান্টনমন্টে পোস্টেড, আমার স্ত্রীও সঙ্গেই ছিলেন। দেশ থেকে জানানো হল, আমার স্ত্রীর নামে না কি নোটিশ এসেছে তিনি বিদেশি। সঙ্গে সঙ্গে আমি ছুটে গিয়ে কোর্টে কাগজপত্র সব জমা দিলাম, মহামান্য আদালত রায় দিলেন – না, মমতাজ খানম ওয়াইফ অব আজমল হক অবশ্যই ভারতের একজন বৈধ নাগরিক!”

“আমাদের গ্রামেই তো অন্তত চল্লিশজেনের বিরুদ্ধে এরকম বিদেশি বলে নোটিশ এসেছে। কিন্তু আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি – চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারি তারা সবাই নিজেদেরকে ভারতীয় বলে প্রমাণ করতে পারবে”, খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন আজমল হক।

আগামী ১৩ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে গিয়ে ভারতের এই প্রাক্তন সেনা নিজের নাগরিকত্ব হয়তো প্রমাণ করতে পারবেন – কিন্তু ঠিকঠাক কাগজপত্র না-থাকা আসামের লক্ষ লক্ষ বাঙালি মুসলিম কিছুতেই ততটা আশাবাদী হতে পারছেন না।
সূত্র : বিবিসি বাংলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় বিজিবি ক্যাম্পে সুইচ ছাড়া জ্বলবে সড়ক বাতি

কলারোয়া ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সাতক্ষীরার কলারোয়ার সীমান্তের দুটি বিজিবি ক্যাম্পে গ্রাম অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক বাতি প্রদান করেছেন চন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি। গতকাল রোববার বিকালে এই সৌর বিদ্যুতের সড়ক বাতি বিতরণ করা হয়। যাহা সুইচ ছাড়া সারা রাত জ্বলবে সড়কে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মাদরা বিওপির কমান্ডার সুবেদার জালালউদ্দিন, হিজলদী ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার ওমর ফারুক, হাবিলদার মোখলেছুর রহমান, এমএকেএস সৌর বিদ্যুৎ কোম্পানীর এফএস শ্রী সজল কুমার, আইএনজি কওসার আলী, গ্রাম অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতি শাহিনুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব, সদস্য সুমন গাজী, সাংবাদিক এসএম ফারুক হোসেন প্রমুখ। উল্লেখ্য-৮৫ মেগা ওয়ার্ডের ওই সোলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী বিজিবি ক্যাম্প, চান্দুড়িয়া বিজিবি ক্যাম্প, হিজলদী বাজার, সুলতানপুর বাজার, নাথপুর তিন বটতলার মোড়, গয়ড়া চৌরাস্তার মোড়,রামভদ্রপুর প্রাইমারী স্কুলে একটি করে সৌর বিদ্যুতের বাতি প্রদান করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফের সিরিয়ায় শহর দখল করল আইএস

সিরিয়ার হোমস প্রদেশের আল কারিয়াতাইন শহর পুনর্দখল করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। রোববার ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’র বরাত দিয়ে সিনহুয়া এ খবর নিশ্চিত করে।

সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে যখন সরকার ও রুশ বাহিনীর বিমান হামলায় পর্যুদস্ত হচ্ছিলো আইএস ঠিক এমন সময়ই ঘটলো এই পাল্টা আক্রমণের ঘটনা। গত এপ্রিলে শহরটি থেকে আইএস’কে হটিয়ে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলো আসাদ সরকার। এর পর থেকেই, শহরটি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে আইএস। পাল্টা আঘাতের ধারাবাহিকতায় শহরটি সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিলো জঙ্গিগোষ্ঠীটি।

২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর আগে আল কারিয়াতাইন শহরে বাস ছিলো মাত্র ৩০ হাজার মানুষের যাদের একটি ক্ষুদ্র অংশ খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী। ২০১৫ সালে ২৭০ জন সিরীয় খ্রিস্টানকে অপহরণ করেছিলো জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। অবশ্য ২৫ দিন পর ছেড়ে দেয়া হয় তাদের। এবার আইএস শহরটি আবারও দখলে নেয়ার পর এসব সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং বেসামরিকদের ওপর নির্যাতন চালানো হতে পারে এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

এদিকে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের স্বঘোষিত রাজধানী রাক্কা পুনর্দখলে অভিযান আরও জোরদার করেছে আসাদ সরকার ও তাদের প্রধান মিত্র রুশ বাহিনী। রাক্কাকে আইএস মুক্ত করতে লড়াই করছে কুর্দিপন্থী গেরিলা দল সিরিয়ান ডেমক্রেটিক ফোর্স-এসডিএফ। এই গেরিলা দলকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest