আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগ, তাঁতীলীগ ও যুবলীগের নেতা কর্মীদের বাধার মুখে সিভিল সার্জন অফিসের বক্সে দরপত্র জমা দিতে পারলেন না ঠিকাদাররা। রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের বক্সে এ দরপত্র ফেলার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়।
জানা যায়, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের অফিস সহকারির যোগসাজসে তিনটির পরিবর্তে একটি স্থানে দরপত্র ফেলানোর বক্স রেখে একটি মহলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য এ ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি ঠিকাদাররা দরপত্র ফেলার জন্য সেখানে গেলে তারা বাধার সম্মুখীন হলে সেই ছবি তুলতে গেলে ডেইলি সাতক্ষীরা ও আজকের সাতক্ষীরা’র বার্তা সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন এর মোবাইল কেড়ে নিয়ে সে ছবি মুছে দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয় থেকে ইডিসিএল বহির্ভুত ঔষধপত্র, সার্জিকাল যন্ত্রপাতি, লিলেন সামগ্রী, গজ-ব্যা-েজ-তুলা ইত্যাদি, পরীক্ষা নিরীক্ষা ও কেমিক্যাল সামগ্রী, এমএসআর আসবাবপত্র ও কিচেন সামগ্রী, এমএসআর যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে চলতি বছরের ৬ জুলাই প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্লন ব্যয় হিসেবে দরপত্র আহবান করা হয়। প্রতিসেট দরপত্র কেনার জন্য এক হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। দরপত্র আহবানের দিন থেকে গত ৩ আগষ্ট পর্যন্ত দরপত্র সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়। নিদ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ২৩ টি দরপত্র বিক্রি হয়। রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিভিল সার্জন অফিসে ঝোলানো একটি বক্সে দরপত্র ফেলার জন্য নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দেওয়া হয়। শান্তিপূর্ণভাবে দরপত্র ফেলার সুবিধার্থে সিভিল সার্জন অফিসের দু’পাশের দু’টি ফটকে ও অফিসের মধ্যে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার পর সাতটি গ্রুপের দরপত্রের বিপরীতে ছয়টি দরপত্র জমা পড়ে। এসআর আসবাবপত্র ও কিচেন সামগ্রীর বিপরীতে কোন দরপত্র জমা পড়েনি।
সরেজমিনে, রোববার সকাল ১০ টায় সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান ফটকে (মেইন রোড সংলগ্ন) যেয়ে দেখা গেছে ফটকটি আটকানো। ফটকের বাম পাশে বাঁশ বাঁধা হয়েছে। তিনজন পুলিশ সদস্য ও একজন অফিস কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। ফটকের বাইরে জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি মীর শাহীন, পৌর তাতী লীগের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন, যুবলীগ কর্মী নূর আলম মুকুলের নেতৃত্বে ২০/২৫জন যুবক ঘোরাফেরা করছেন। আবার কয়েকজন বসে আছেন পার্শ্ববর্তী দোকানে। বিপরীত দিকের ফটকে একজন অফিস কর্মী ও একজন পুলিশ কর্মকর্তা অবস্থান করছেন। ফটকের বাইরে পৌর যুবলীগের আহবায়ক মনোয়র হোসেন অনু, সাধারণ সম্পাদক তুহিনুর রহমান, যুবলীগ কর্মী মফিজুল ইসলাম, শাহীনুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভির হোসেন সুজন, সাধারণ সম্পাদক এহসান হাবিব অয়ন, সাতক্ষীরা সদর ছাত্রলীগ নেতা আহসান হাবিব, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মিঠুন ব্যানার্জী, ছাত্রলীগ কর্মী বারিক, আরিফুল হক, এনামুর রহমান নিপুন, রমজান আলী রাতুল, বিরাজসহ ৩৫/৪০ জন অবস্থান করছেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা পরিষদের সদস্য ও মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী অ্যাড. শাহানাজ পারভিন মিলি, পৌর সৈনিক লীগের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম মেনন, তকদির এন্টারপ্রাইজের এসকেন্দার আলী, মেসার্স এসআর এন্টারপ্রাইজের শাহীন হোসেন প্রথমে প্রধান ফটকে ও পরে ভিতরের দ্বিতীয় ফটক দিয়ে দরপত্র জমা দিতে গেলে তারা ফটকের বাইরে অবস্থানকারী ওইসব নেতা কর্মীদের দারা বাধাগ্রস্ত হন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে বাক বিত-া হয়। বাক বিত-ার ছবি তোলার পর নূর ইসলাম মুকুলসহ কয়েকজন দৈনিক আজকের সাতক্ষীরার বার্তা সম্পাদক বেলাল হোসেনকে কটাক্ষ করেন। পরে তার কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ধারণকৃত ছবি মুছে ফেলে ফেরৎ দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে অ্যাড. শাহানাজ পারভিন মিলি সাংবাদিকদের জানান, তিনি খুলনার সাইফুল ইসলাম ট্রেড লিমিটেড এর পক্ষে দরপত্র ফেলতে যাওয়ার সময় সিভিল সার্জন অফিসের দু’টি ফটকে পৌর যুবলীগের আহবায়ক মনোয়র হোসেন অনু, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসান হাবিব অয়ন, জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি মীর শাহীন ও যুবলীগ কর্মী নূর হোসেন মুকুলসহ কয়েকজনের বাধার মুখে সিভিল সার্জন অফিসে ঢুকতে পারেননি।
একইভাবে একই ব্যক্তিদের বাধার মুখে খুলনার তাকবির এন্টারপ্রাইজের পক্ষে দরপত্র জমা দিতে পারেননি বলে জানান পৌর সৈনিকলীগের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম মেনন। বাধা পেয়ে দরপাত্র জমা না দিয়ে ফিরে যাওয়ার কথা বলেন ঢাকার শাহীন এন্টারপ্রাইজের শাহীন ও মেসার্স এসআর এন্টারপ্রাইজের পক্ষে সাহেব আলী। বিষয়টি পুলিশ ও সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসককে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
জমা দিতে ব্যর্থ হওয়া দরপত্র ক্রেতারা বলেন, সরকারি কাজের এক কোটি টাকার বেশি কাজ হলে জমা দেওয়ার জন্য তিনটি স্থানে তিনটি বক্স দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। আর বিদেশীদের কাজ হলে একটি বক্সই যথেষ্ট। অথচ সিভিল সার্জন ডাঃ তহিদুর রহমান ও ওই অফিসের প্রধান করণিক আনোয়ার হোসেন একটি মহলকে বিশেষ সুবিধথা দেওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে যোগসাজস করে একটি বক্সে দরপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা তাতী লীগের সভাপতি মীর শাহীন জানান, তিনি নূর ইসলাম মুকুলের পক্ষে একটি দরপত্র জমা দিতে এসেছিলেন। এজন্য তিনি বা তার দলের লোকজন সিভিল সার্জনের অফিসের ফটকে কিছু সময় অবস্থান করলেও কোন দরপত্র জমা দাতাকে বাধা দেননি।
যুবলীগ কর্মী নূর ইসলাম মুকুল বলেন, তিনি ফটকে অবস্থান করলেও কাউকে বাধা দেননি। কোন সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিয়ে ছবি মুখে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহাসান হাবিব অয়নের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, অন্যদের সঙ্গে তিনিও সিভিল সার্জন অফিস এলাকায় ছিলেন। তবে তিনি বা ছাত্রলীগের কোন নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে দরপত্র জমা দিতে আসা ঠিকাদারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
সাতক্ষীরা পৌরলীগের আহবায়ক মনোয়র হোসেন অনু সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বা তার দলের কোন ছেলের বিরুদ্ধে দরপত্র জমা দিতে আসা ঠিকাদারদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। তারা সেখানে অন্যদের মতো দেখতে গিয়ে ছিলেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরেরর সাতক্ষীরা শাখার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জাকারিয়া হোসেন জানান, এক কোটি টাকার বেশি সরকারি কাজের দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য তিনটি বক্স টাঙাােনর নিয়ম রয়েছে।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের অফিস সহকারি আনোয়ার হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দরপত্র কেনা ও জমা দেওয়ার ব্যাপারে কোন মহলের সঙ্গে যোগসাজসের অভিযোগ ঠিক নয়।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ তওহীদুর রহমান জানান, পাবলিক প্রকিউরমেন রুল অনুযাীয় তিনি দরপত্র ফেলাসহ সব কাজ করেছেন। কোন ঠিকাদার দরপত্র জমা দিতে এসে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন এমনটি তার জানা নেই। তবে কোন ঠিকাদার দরপত্র জমা দিতে বাধা পেলে বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক ও সচীব মহোদয়কে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিন জানান, দরপত্র জমা দিতে যেয়ে ঠিকাদাররা সিভিল সার্জন অফিসের ফটকে বাধা পেয়ে ফিরে এসেছেন এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তাৎক্ষনিক সিভিল সার্জন মহোদয়কে অবহিত করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

মোঃ আরাফাত আলী, কা‌লিগঞ্জঃ কা‌লিগ‌ঞ্জ উপ‌জেলার মৌতলা ইউনিয়‌নের উভাকুর গ্রা‌মে পা‌রিবা‌রিক কল‌হের জের ধ‌রে দুই সন্তা‌নের জননী গলায় র‌শি দি‌য়ে আত্নহত্যা ক‌রে‌ছে। ঘটনা‌টি ঘ‌টে‌ছে শ‌নিবার আনুমা‌নিক সকাল ৮ টায়। সে মৌতলা ইউনিয়‌নের উভাকুর গ্রা‌মের মৃত যো‌গিন্দ্র সরদা‌রের ছে‌লে বিশ্বনাথ সরদারের স্ত্রী ও উপ‌জেলার কুশু‌লিয়া ইউনিয়‌নের পু‌লিনবাবুর হাট খোলা এলাকার সাধূরজান মন্ডলের মে‌য়ে ক‌বিতা সরদার (৩২)।

নিহ‌তের স্বজনদের মাধ্য‌মে জানা যায় স‌তের বছর পূ‌র্বে বিশ্বনা‌থের সা‌থে ক‌বিতার বি‌য়ে হয়।‌বি‌য়ের দুই মাস পর থে‌কেই বি‌ভিন্ন সম‌য়ে ক‌বিতার উপর শারী‌লিক ও মানসীক ভা‌বে অত্যাচার করত বিশ্বনাথ । স্বামীর নির্যাতন সহ্য কর‌তে না পে‌রে আট বছর পূ‌র্বেও দুই‌টি বাচ্চা রে‌খে পারদ খে‌য়ে আত্নহত্যার চেষ্টা ক‌রে‌ছিল ক‌বিতা। দ্রুত চি‌কিৎস‌কের সরনাপন্ন হ‌লে প্রা‌ণে বে‌চে যায় সে। এরপরও সংসা‌রের জন্য এবং বাচ্চা‌দের কথা ভে‌বে স্বামীর সংসার কর‌তে থা‌কে ক‌বিতা। এরপর থে‌কে বিশ্বনাথ তা‌কে শা‌রীলীক ভা‌বে নির্যাতন না কর‌লেও মানসীক ভা‌বে নির্যাতন কর‌তে থা‌কে। পাকা ঘরবাধার জন্য গত ৬ মাস আগে টাকার দরকার হয় বিশ্বনা‌থের। কা‌লিগঞ্জ শাখার পোষ্ট অফি‌সে স্ত্রী না‌মে এক লক্ষ টাকা পাচ বছ‌রের জন্য ডি‌পো‌জিট করা ছিল। য‌দিও ডি‌পো‌জিট করার ইচ্ছা ছিলনা বিশ্বনা‌থের। দুই বছর পুর্ণ হ‌লেও তিন বছর মেয়াদ বা‌কি থাকায় গত জুলাই মা‌সে টাকা উত্তালন কর‌লে ১৫ হাজার টাকা কে‌টে নেয় পোষ্ট অফিস কৃতপক্ষ । এজন্য স্বামীর মান‌সিক নির্যাতন চল‌তে থা‌কে ক‌বিতার উপর অত্যা‌রের এক পর্যা‌য়ে গত শ‌নিবার সকা‌লে দুই ছে‌লে অভি‌জিৎ (১৪) ও হৃদয় (৯) স্কু‌লে ‌ এবং স্বামী দীন মজু‌রের কা‌জে চ‌লে গে‌লে সেই ফা‌কে মই দি‌য়ে তা‌দের নতুন ঘ‌রের আড়ার সা‌থে গলায় র‌শি দি‌য়ে ঝু‌লে প‌ড়ে। এ সময় এলাকা বাসী ঝু‌লে থাকা নিথর দেহ দে‌খে থানায় খবর দেয় । কা‌লিগঞ্জ থানার উপ-প‌রিদর্শক ফণীভুষন সরকার ঘটনা স্থ‌লে যে‌য়ে মৃ‌ত দেহ উদ্ধার ক‌রে। নিহত ক‌বিতার বাবা মা‌য়ের অভি‌যোগ এটা প‌রিক‌ল্পিত হত্যা বিশ্বনাথ ক‌বিতা‌কে হত্যা ক‌রে গলায় র‌সি দি‌য়ে টা‌নি‌য়ে দি‌য়ে‌ছে। এ ব্যাপা‌রে কা‌লিগঞ্জ থানার উপ-প‌রিদর্শক ফণীভুষন সরকার ঘটনার সত্যতা নি‌শ্চিত ক‌রে ব‌লেন স্বজন‌দের অভি‌ো‌গের ভি‌ত্তি‌তে মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠা‌নো হ‌য়ে‌ছে এবং থানায় এক‌টি অপমৃত্যু মামলা দা‌য়ের করা হ‌য়ে‌ছে (মামলা নং-২২ তা‌রিখ ৫-৮-১৭ ইং খ্রিঃ)।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারি সচিব হিসেবে যোগদান করেছেন বরগুনার বহুল আলোচিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাতক্ষীরার সন্তান গাজী তারিক সালমন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের পর রোববার দুপুরে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদানের বিষয়টি তারিক সালমন নিশ্চিত করেছেন।

গাজী তারিক সালমন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকাকালে ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানের একটি আমন্ত্রণপত্র প্রকাশ করেন। ওই আমন্ত্রণপত্রের পেছনের পাতায় পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া একজন শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপানো হয়।

ওই ছবিতে বঙ্গবন্ধুকে বিকৃত করে উপস্থাপন করে মানহানী করা হয়েছে এমন অভিযোগে গত ৭ জুন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে সালমনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদুল্লাহ সাজু।

গত ১৯ জুলাই ওই মামলায় জামিন চাইতে গেলে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট্র আদালতের বিচারক মো. আলী হোসাইন প্রথমে তাকে কারাগারে পাঠান। তবে কয়েক ঘণ্টা পর তাকে আবার জামিন দেন।

নানা সমালোচনার মুখে সেই মামলা প্রত্যাহার করে নেন বাদী সৈয়দ ওবায়েদুল্লাহ সাজু। এর আগে তাকে দল থেকেও বহিস্কার করে কেন্দ্রীয় অাওয়ামী লীগ।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল ও বরগুনার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

মার্কিন বিমান হামলায় ৫০ জন তালেবান জঙ্গি নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত আরো ৩ জঙ্গি।
শনিবার আফগানিস্তান প্রশাসন থেকে এ বিমান হামলার কথা জানানো হয়েছে।

জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে জঙ্গিদের গোপন ডেরায় হামলা চালায় আমেরিকার বিমান বাহিনী। অতর্কিত বিমান হামলায় ৫০ জন জঙ্গি প্রাণ হারায়। এক নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একথা জানিয়েছেন জেলা প্রধান গুলাব মঙ্গল।

এদিকে, হামলার খবর আফগানিস্তান প্রশাসন মেনে নিলেও সবিস্তারে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

প্রসঙ্গত, তালেবান ও আইএস জঙ্গিরা আফগানিস্তানের এলাকা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ হামলাকে সেই চেষ্টায় বড় আঘাত বলে মনে করছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

জিন-ভূত তাড়ানোর নামে শতাধিক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং তা ভিডিও ধারণ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন ভণ্ডপীর আহসান হাবিব পিয়ার। শনিবার দু’দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
এসময় ঢাকা মহানগর হাকিম একেএম মাঈন উদ্দিন সিদ্দিকী আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। রেকর্ড শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, ভণ্ডপীর আহসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। নারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি আদালতে স্বীকার করেছে। শুধু তা-ই নয়, ইসলাম ধর্ম প্রচারের নামে তিনি দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভণ্ডপীর শুধু মেয়েদের সঙ্গে প্রতারণা করেনি। রোহিঙ্গাদের সাহায্যের কথা বলে দেশ-বিদেশ থেকে সাহায্য সংগ্রহ করে সেসব অর্থ আত্মসাৎ করেছে। ‘এএইচপি’ টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয়ে নানা ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ভুক্তভোগী একাধিক নারী গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে ভণ্ডপীর ভিডিও ধারণা করেছে। সেগুলো উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সেসব ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে যে কোন মুহূর্তে চলে আসতে পারে- এমন আতঙ্কে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে ভণ্ডপীর আহসান হাবিব পিয়ারকে গ্রেফতারের পর তার নানা অপকর্ম ও প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র সামনে চলে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভণ্ডপীরকে নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই এ ভণ্ডপীরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের সাইবার ক্রাইম ইউনিট এই কথিত পীরকে গ্রেফতার করে। পরদিন খিলগাঁও থানার পুলিশ তাকে মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডের আবেদন করলে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আনিসুর রহমান জানান, গতকাল আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে মহানগর হাকিম এ কে এম মঈন উদ্দিন সিদ্দিক নিয়ম অনুসারে স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য তিন ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। এরপর আসামি বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত স্বীকারোক্তি দেন। মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, আহসান হাবিব পেয়ার দাওরায়ে হাদিসে পড়াশোনা করেছেন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ক্ষমা চাইলে ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানকে মাফ করে দেবেন তার দলত্যাগী এমপি আয়েশা গুলেলাই। নতুন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসী আয়েশার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের মুখোমুখি ইমরান খান।

এ অবস্থায় তাকে যদি আয়েশা ক্ষমাও করে দেন তাহলেও তদন্ত বন্ধ হবে বলে মনে হয় না। কারণ, ইমরান খানের কারণে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন নওয়াজ শরীফ। এখন তার প্রতিশোধ নিতে এই ইস্যুকে ব্যবহার করবে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএলএন) এটাই স্বাভাবিক। ফলে আয়েশা ক্ষমা করে দেয়ার যে প্রস্তাব করেছেন তার মধ্যেও থাকতে পারে রাজনীতির একটি বড় চাল।

যদি ইমরান তার এ প্রস্তাবে ক্ষমা চান তাহলে প্রমাণ হয়ে যাবে যে, আসলেই তিনি অপরাধী। আয়েশা গুলেলাইকে তিনি অশালীন এসএমএস পাঠিয়েছিলেন। ফলে পার্লামেন্টে পাস হওয়া তদন্ত কমিটি তদন্তে গতি পাবে। শেষ পর্যন্ত তাকে কেন্দ্র করে কঠিন কোনো পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে ইমরানকে।

অনলাইন ডন আয়েশার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, যদি ইমরান খান মেনে নেন তিনি এটা করেছেন। তিনি হয়রানি করেছেন। আল্লাহর কাছে, জাতির কাছে ও নারীদের কাছে ক্ষমা চান তাহলে আমি তাকে মাফ করে দেবো। কয়েকদিন আগে তিনিই সংবাদ সম্মেলন করে পিটিআই থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে দলীয় চেয়ারম্যান ইমরান খানের বিরুদ্ধে তিনি দৃশ্যত যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। বলেন, ইমরান খান তাকে অশালীন এসএমএস পাঠিয়েছিলেন। তিনি নারীদের সম্মান দিতে জানেন না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এই শতকের শেষে ইউরোপ জুড়ে প্রচন্ড তাপপ্রবাহে প্রতি বছর মারা যাবে দেড় লাখের বেশি মানুষ। এধরণের দুর্যোগে এখন যে পরিমাণ মানুষ মারা যায়, এই সংখ্যা তার পঞ্চাশ গুণ বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকানোর জন্য যদি কিছু করা না হয়, তাহলে ইউরোপে এরকম চরম বৈরী আবহাওয়াই দেখা যাবে।

৯৯ শতাংশ মানুষই মারা যাবে প্রচন্ড তাপ প্রবাহের কারণে। এরকম দুর্যোগের ধকল সবচেয়ে বেশি যাবে দক্ষিণ ইউরোপের ওপর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণায় প্রাপ্ত এসব তথ্য খুবই উদ্বেগজনক। তবে অনেকে বলছেন, এই গবেষণায় যেসব অনুমান করা হয়েছে সেগুলো অনেক অতিরঞ্জিত বলে মনে হচ্ছে।

ইউরোপীয়ান কমিশন ফর জয়েন্ট রিসার্চ সেন্টার এই গবেষণা চালায়। তাদের গবেষণায় বলা হচ্ছে:

  • চরম বৈরী আবহাওয়ার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা এখন বছরে গড়ে তিন হাজার থেকে বেড়ে ২১০০ সাল নাগাদ দেড় লাখে পৌঁছাবে।
  • ২১০০ সাল নাগাদ ইউরোপে প্রতি তিন জনের দুজন দুর্যোগের শিকার হবে। এ শতকের শুরুতে প্রতি বিশ জনে মাত্র একজন এরকম দুর্যোগের শিকার হতো।
  • উপকুলীয় বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বাড়বে।

এই গবেষণায় ইউরোপের ২৮টি দেশে সাত ধরণের মারাত্মক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিবেচনায় নেয়া হয়: তাপপ্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহ, দাবানল, খরা, বন্য, উপকুলীয় প্লাবন এবং ঝড়।

গবেষকরা ধরে নিয়েছেন যে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে এ শতকের শেষ নাগাদ বিশ্বের গড় তাপমাত্রা তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে।

গবেষণা রিপোর্টটি যারা লিখেছেন তাদের একজন গিওভান্নি ফরযিয়েরি বলেছেন, একুশ শতকের মানুষের জন্য জলবায়ুর পরিবর্তন সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি।

মাত্র গতকালই যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য নোটিশ ইস্যু করার পর আজ ইউরোপীয় গবেষকরা তাদের এই গবেষণার কথা জানালেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাবে।

বিশ্বের দুশোর বেশি দেশ জলবায়ু চুক্তিতে সই করেছে। শিল্প বিপ্লবের আগে বিশ্বের যে গড়তাপমাত্রা ছিল, তার চেয়ে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা যেন দুই ডিগ্রীর বেশি না বাড়ে, সেটাই এই চু্ক্তির লক্ষ্য।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

গাঁজা দিয়ে বিভিন্ন পণ্য প্রস্ততকারক একটি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া শহরের গোটা একটি শহর কিনে নিয়েছে। তাদের পরিকল্পনা হলো এই শহরটিকে মারিহুয়ানার জন্যে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা।

ক্যালিফোর্নিয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি অঙ্গরাজ্যের একটি যেখানে মারিহুয়ানা বৈধ পণ্য হিসেবে বিবেচিত।

কোম্পানিটির নাম অ্যামেরিকান গ্রিন। আর শহরটি হলো নিপটন। ৫০ লাখ ডলার দিয়ে তারা এই শহর কিনে নেওয়ার এক সমঝোতায় রাজি হয়েছে।

ফলে কোম্পানিটি মালিক হবে ১২০ একর জমির। এই এলাকার মধ্যে রয়েছে একটি স্কুল, একটি হোটেল এবং বেশ কয়েকটি দোকান।

এই কোম্পানির আরো একটি লক্ষ্য হচ্ছে শহরের সবকিছু সৌর ও বায়ু-শক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানী দিয়ে চালানো।

“পরিবেশ-বান্ধব এক শহর হিসেবে নিপটনকে গড়ে তোলার ব্যাপারে আমরা খুব উত্তেজনা বোধ করছি,” এক বিবৃতিতে একথা বলেছেন অ্যামেরিকান গ্রিনের প্রেসিডেন্ট ডেভিড গাথার।

“এখানে গাঁজার বিপ্লব হবে। আমরা এমনভাবে এই বিপ্লব ঘটাবো ঊনবিংশ শতাব্দীতে যেমন সোনার বিপ্লব হয়েছিলো সেরকম,” বলেন তিনি।

গোল্ড রাশের সময় নিপটন শহরটি গড়ে উঠেছিলো। এর আশেপাশে যখন মূল্যবান ধাতব পদার্থ মেটাল পাওয়া গেলো তখনই এটি বদলে যেতে শুরু করে।

নিপটন শহরটি ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাদার সীমান্তে। এর জনসংখ্যা মাত্র ২০।

শহরটি নতুন করে গড়ে তুলতে অ্যামেরিকান গ্রিন সেখানে ২৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। তাদের লক্ষ্য এটিকে পর্যটকদের জন্যে আকর্ষণীয় এবং পরিবেশে-বান্ধব করে গড়ে তোলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest