সর্বশেষ সংবাদ-
কালিগঞ্জের মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির হেমায়েত স্থায়ী বহিষ্কারসাতক্ষীরায় পৌরসভার বিল্ডিং কোড অমান্য করে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণের অভিযোগবাড়িতেই মজুত ছিল নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশ : র‌্যাবের অভিযানে ধরাসাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযানসাতক্ষীরায় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতে মতবিনিময় সভাসাতক্ষীরা জেলা বিএনপিতে টুটুলকে ঘিরে তৃণমূলে তৎপরতাসাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক দুই দিনের সাংবাদিক প্রশিক্ষণের সমাপনীসাতক্ষীরায় টেপা মাছ খেয়ে একই পরিবারের ৫ জন অসুস্থ : ব্যবসায়ীর মৃত্যুডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিসাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক দুই দিনের সাংবাদিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

জীর্ণ শীর্ণ অবস্থায় মারা যাচ্ছে প্রসূতি মা ও শিশুরা

রম স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে জীর্ণ শীর্ণ অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রসূতি মা ও শিশুরা। গত দুই সপ্তাহ অভুক্ত থেকে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে অন্তত: ১৫০টি শিশু। প্রসূতি মা মারা গেছেন কমপক্ষে ১০ জন। দিন দিন মৃতের এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল ও সীমান্তের বিভিন্ন মেডিক্যাল টিম সুত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের তিন উপজেলা টেকনাফ, উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ির সড়ক মহাসড়ক কিংবা গ্রামের পথে পথে এখন রোহিঙ্গাদের স্রোত। তারা প্রতিদিনই রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কাদায় একাকার হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে। তাদের সাথে থাকা শিশুরা অনাহারে-অর্ধাহারে কংকালসার হয়ে পড়েছে। মায়েরা অভুক্ত থেকে দীর্ঘ পথ হেটে বাংলাদেশে আসছেন। ফলে তাদের অবস্থাও গুরুতর। এ কারণে তারা শিশুকে বুকের দুধ দিতে না পারায় হাড্ডিসার অবস্থা শিশুদের। শত শত শিশুর শরীর জ্বরে পুড়ছে। কিন্তু কোলে নিয়ে বসে থাকা ছাড়া করার কিছু নেই হতভাগা মায়েদের। পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়া, আমাশয়, নিমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে। সর্দি, কাশিসহ বিভিন্ন চর্মরোগেও আক্রান্ত শিশুরা। নানা কারণেই বাড়ছে রোহিঙ্গা শিশু মৃত্যুর হার।

গত দুই সপ্তাহে অন্তত: ১৫০টি শিশু ১০ জন প্রসূতি মা মারা গেছে। অনেক গর্ভবতী নারী সীমান্তের দূর্গম পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অসময়ে সন্তান প্রসব করেছেন। নতুন আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ঠিকমত চিকিৎসা করার সুযোগ নেই। কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আন্তজার্তিক সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের খাদ্য সংকট মোকাবেলার পাশাপাশি চিকিৎসা সেবার উপর জোর দেয়া প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করছেন।

শরণার্থী শিবিরের এনজিওকর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের জনবলের চেয়ে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য সেবা দেয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। যারা শরণার্থী শিবিরের কাছাকাছি অবস্থান করছেন তারা দেরিতে হলেও চিকিৎসা পাচ্ছেন। কিন্তু যারা সীমান্তবর্তী গ্রামে এবং জিরো পয়েন্টে অবস্থান করছেন বিনা চিকিৎসায় তাদের স্বাস্থ্যহানী হচ্ছে।

রোহিঙ্গারা জানান, ত্রাণ বিতরকারী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলো ত্রাণ দেয়ার পাশাপাশি যদি ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম গঠন করে চিকিৎসা দেয় তবে অসুস্থ রোহিঙ্গাদের উপকার হবে। এদিকে মিয়ানমারে সেনবাহিনী ও তাদের সহযোগী বৌদ্ধ উগ্রপন্থিদের নির্মমতা থামার কোনো লক্ষণ নেই। প্রতিদিনই আরকানের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত কোনো না কোনো গ্রামে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যাচ্ছে। শত শত ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে তাই রোহিঙ্গারা খাল বিল নদী পার হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে জড়ো হচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য নাফ নদী ও বঙ্গোসাগর পার হতে গিয়েও তারা লাশ হচ্ছে। রাতে নৌকায় পালিয়ে আসার সময় প্রতিদিনই নৌকা ডুবি হচ্ছে। নাফ নদী কিংবা টেকনাফ সমুদ্র উপকূলে প্রতিদিনই রোহিঙ্গাদের লাশ ভেসে আসছে।

কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ এবং বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তে জুড়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা তাবু টাঙ্গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরনার্থীর চাপে কক্সবাজার ও বান্দরবনসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা করছে স্থানীয়রা। হাজার হাজার রোহিঙ্গার মাঝে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। খাদ্যের জন্য তারা রাস্তায় বসে আছে।

কোনো গাড়ি দেখলেই ছুটে আসে। কোনো গাড়ি থেকে শুকনো খাবার দিতে দেখলে তা সংগ্রহ করতে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। এ প্রযোগিতায় বৃদ্ধ ও শিশুদের প্রাণহানির আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। দেশের মূল ভু-খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন শাহপরীর দ্বীপে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের মধ্যেও খাদ্য সংকট চরম আকার ধারন করেছে। দ্বীপের সাবরাং ইউনিয়ন সচিব শেখ ফরিদুল আলম জানিয়েছেন, গত ২৫ আগস্ট থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শাহপরীর দ্বীপে আসছেন। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে।

দ্বীপের বাসিন্দা আবদুল হক জানান, রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশায় সহমর্মিতা ও সহানুভুতি দেখিয়ে দ্বীপের মানুষ যতটুকু সম্ভব সহায়তা করেছেন। এমনকি ফ্রিজে রাখা কোরবানির গোশত রান্না করে অনেকেই অভুক্ত রোহিঙ্গাদের দিয়েছে। বস্ত্রহীনদের কাপড় দিয়েছে। গাড়ি ভাড়ার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে এই দ্বীপে চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। চাল-ডাল তেল তরিতরকারীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মুল্য এখন আকাশ ছোঁয়া।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সু চির নিন্দা করলেন ডেসমন্ড টুটু

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা নোবেলজয়ী ডেসমন্ড টুটু রোহিঙ্গা নির্যাতন ও হত্যার ঘট্নায় মিয়ামনারের রাষ্ট্রীয় পরাদর্শদাতা অং সান সু চিকে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চির উদ্দেশে টুটু বলেন, ‘নীরবতার মূল্য অত্যন্ত চড়া।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা এক খোলা চিঠিতে এসব কথা বলেন আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু। সু চিকে তিনি বলেন, ‘আপনার নীরবতা যদি এমন হয়, মিয়ানমারের উচ্চ পদে আসীন হওয়ার রাজনৈতিক মূল্য চুকানো, তবে নিশ্চিতভাবে এ মূল্যটা খুব চড়া।’

চিঠিতে সু চির উদ্দেশে টুটু উল্লেখ করেন, রাখাইন রাজ্যে ‘সহিংসতা’ ও ‘নিধনযজ্ঞ’ চলার কারণে তাঁর প্রিয় মানুষটির বিরুদ্ধে (সু চি) কথা বলতে বাধ্য করেছে। অথচ, তিনি সু চিকে অত্যন্ত প্রিয় এক বোনের মতো দেখেন এবং প্রশংসা করে থাকেন।

চিঠিতে ডেসমন্ড টুটু উল্লেখ করেন, ‘চার বছর ধরে আমার ডেস্কের ওপর আপনার একটি ছবি ছিল। যে ছবি আমায় মনে করিয়ে দিত, মিয়ানমারের জনগণের প্রতি অঙ্গীকার ও ভালোবাসা থাকার জন্য আপনাকে কতটা ত্যাগ স্বীকার এবং অবিচার সহ্য করতে হয়েছে। আপনি ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।’

সু চির উদ্দেশে টুটু আরো উল্লেখ করেন, ‘জনজীবনে আপনার উত্থানের পর রোহিঙ্গা সহিংসতা ইস্যুতে আমাদের উদ্বেগ প্রশমিত হয়েছিল। কিন্তু এখনো রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ চলছে এবং অনেকের কাছে তা ‘গণহত্যা’, যা সম্প্রতি আরো বেড়ে গেছে।

একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের পক্ষে মুখ খোলার জন্য সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গত ২৫ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ‘বিদ্রোহী রোহিঙ্গাদের’ সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এই হামলার দায় স্বীকার করে। এ ঘটনার পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে।

গত দুই সপ্তাহে মিয়ানমার থেকে দুই লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এবার বাংলা গানে সানি লিওনি (ভিডিও)

বলিউডের পর এবার ভারতের বাংলা ছবির আইটেম গানে ঠোঁট মেলালেন অভিনেত্রী সানি লিওনি। এর শিরোনাম ‘চাপ নিস না’। শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) জি মিউজিক বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে উন্মুক্ত হয়েছে এটি। স্বপন সাহা পরিচালিত ‘শ্রেষ্ঠ বাঙালি’ নামের একটি ছবির জন্য তৈরি হয়েছে এই গান।

মুম্বাইয়ে সেট বানিয়ে ‘চাপ নিস না’র শুটিং হয়েছে। এ বছরের জুলাইয়ে কাজটি করেছেন সানি লিওনি। তার সঙ্গে পর্দায় নেচেছেন নবাগত রিজু। গানটি লিখেছেন লিপি, সংগীত পরিচালনায় বলিউডের সংগীত ত্রয়ী মিট-ব্রস-অঞ্জনের অঞ্জন ভট্টাচার্য। র্যা প অংশও তারই। এটি গেয়েছেন মমতা শর্মা ও দেব নেগি।

‘শ্রেষ্ঠ বাঙালি’ মুক্তি পাবে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে। এতে রিজুর পাশাপাশি অভিনয় করেছেন বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব, শক্তি কাপুর, উলকা গুপ্ত, লাবণী সরকার, কৌশিক ব্যানার্জি, সুভাষ মুখার্জি, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, রজতাভ দত্ত, সুমিত গাঙ্গুলী।

বলিউডের বেশ কয়েকটি ছবির আইটেম গানে নেচে দর্শক মাতিয়েছেন সানি লিওনি। এ তালিকায় আছে ‘লায়লা ম্যায় লায়লা’ (রইস), ‘পিয়া মোরে’ (বাদশাহো), ‘ট্রিপি ট্রিপি’ (ভূমি), ‘পিঙ্ক লিপস’ (হেট স্টোরি টু), ‘লায়লা’ (শুটআউট অ্যাট ওয়াদালা)। এছাড়া ‘জিসম টু’, ‘রাগিনি এমএমএস টু’, ‘মাস্তিজাদে’, ‘বেঈমান লাভ’, ‘ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড’, ‘এক পাহেলি লীলা’, ‘জ্যাকপট’ প্রভৃতি ছবিতেও কাজ করে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। নেচেছেন তামিল এবং কান্নাড়া ছবির আইটেম গানেও।

* দেখুন ‘চাপ নিস না’ গানের ভিডিও:

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
লক্ষ্মীপুরে প্রতিকী আদালতে সু চির ফাঁসি

মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে আন্তর্জাতিক প্রতিকী আদালত তৈরী করে দেশটির রাষ্ট প্রধান অং সান সু চির ফাঁসি দেয়া হয়েছে। এসময় রায় কার্যকর করে পাথর নিক্ষেপসহ কুশপুত্তলিকা দাহ করে বিক্ষুব্ধরা।
শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-রায়পুর মহাসড়কের জকসিন বাজারে এ কর্মসূচি পালন করে স্থানীয়রা।

প্রতিকী আদালতের বিচারক ছিলেন মো. অহিদুজ্জামান বাবলু। সহকারি বিচারক ছিলেন শেখ হারুন এবং আব্দুল আজিম শাকিল। এ আদালতের মামলার বাদী ছিল স্থানীয় বাঙ্গাখা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহজান ভূঁইয়া।

আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক আদালতে অং সান সু চির বিচারের দাবি ও বাংলাদেশের সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা ও মিয়ানমারে গণহত্যার প্রতিবাদসহ লক্ষ্মীপুরবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়াতে এমন ব্যাতিক্রমী আয়োজন করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মাথাপিছু জিডিপিতে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

স্বাধীনতা লাভের পর প্রায় সব ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানকে পেছনে ফেলতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু জিডিপি আয় এখন বেশি।

গত মাসে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এই ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।

গত অর্থবছরের হিসাবে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু জিডিপি এক হাজার ৫৩৮ ডলার। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা ছিল এক হাজার ৪৭০ ডলার। এটা পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ারই আভাস দিচ্ছে।

স্বাধীনতাযুদ্ধের পর বাংলাদেশের জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ছিল মাত্র ৬-৭ শতাংশ, আর পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ছিল ২০ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ২৯ শতাংশ।

গত ২৫ আগস্ট আদমশুমারির ফলাফল প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। সেখানে তারা দেখিয়েছে, দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা ২০৭.৮ মিলিয়ন, যা আগের থেকে ৯ মিলিয়ন বেশি। ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে বর্তমানে পাকিস্তান বিশ্বের পঞ্চম জনবহুল দেশ। কিন্তু নতুন এই গণনায় পাকিস্তানের মানুষের মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণ কমেছে ৪-৫ শতাংশ।

তবে মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণ কম হলেও বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তানের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেশি।

বাংলাদেশের বর্তমান বার্ষিক প্রবৃদ্ধির গড় হার গত ১০ বছরের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি এবং গত দুই বছরে তা ৭ শতাংশের ওপরে দাঁড়িয়েছে। যে দেশটি একসময় কাপড়ের সংকটে ভুগত, সেই দেশ এখন ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে বেশি পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। যদিও এ দেশে কাজের পরিবেশ এখনো উন্নত নয়, তারপরও আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। যুদ্ধে বাংলাদেশের রাস্তা-ঘাট, শিল্পকারখানা, রেলপথ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ১৯৭০-এ সাইক্লোনে শত শত মানুষ মারা যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের প্রতিবাদে মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন দলের বিক্ষোভ

মিয়ানমারে চলমান রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের প্রতিবাদে ৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এক বিশাল বিক্ষোভের আয়োজন করেছে মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন দল ইউএমএনও। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের প্রতি মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানান।

ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও)-এর এ বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। তিনি বলেছেন, আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলবেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাজিব রাজাক বলেন, ‘হ্যাঁ! এই বিষয়টি আমি তার (ট্রাম্প) কাছে তুলে ধরবো।’ এ সময় তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষদের মৌলিক অধিকারের প্রতি অবজ্ঞা করা হচ্ছে। এটা বন্ধ হওয়া উচিত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া অন্যায়।

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

কুয়ালা লামপুর-এর রাজপথে গত দুই সপ্তাহে এটা রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তৃতীয় বিক্ষোভ। তবে দেশটির ক্ষমতাসীন দল কর্তৃক এ ইস্যুতে এটাই প্রথম বিক্ষোভ।

এদিকে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নৃশংসতা বন্ধের দাবি জানিয়ে শুক্রবার মালয়েশিয়ার মিয়ানমার দূতাবাসের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন দেশটিতে বসবাসরত প্রায় শখানেক রোহিঙ্গা।

শুক্রবার মালয়েশিয়ার মেরিটাইম সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিতে আগ্রহী কুয়ালা লামপুর। মালয়েশিয়ার কোস্ট গার্ড তাদের ফিরিয়ে দেবে না বরং তাদের অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

মালয়েশিয়া মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির মহাপরিচালক জুলকিফলি আবু বকর বলেন, মিয়ানমার থেকে আরও অনেক রোহিঙ্গা নৌকা নিয়ে আসতে পারে। তাদের জন্য আমাদের দরজা খোলা। তিনি বলেন, ‘আমাদের তাদেরকে প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া কথা ছিলো। কিন্তু দিন শেষে আমরা সবাই মানুষ। আর মানবিক কারণেই আমার এই কাজ করতে পারবো না।’ সূত্র: স্ট্রেইট টাইমস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় বিবাহিত ও অবিবাহিতদের হাডু-ডু প্রতিযোগিতা

কলারোয়া ডেস্ক : শুক্রবার রাতে কলারোয়া কোমরপুরে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে হাডু-ডু খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলায় অবিবাহিত দল বিজয়ী হন। খেলায় পুরুষ্কার বিতরণ করেন সাবেক ছাত্রনেতা ও আঞ্চলিক যুদ্ধাপরাধী নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় আহবায়ক মোঃ কামরুজ্জামান সোহাগ। এ সময় তিনি বলেন খেলাধুলায় বাড়ে বল- মাদক ছেড়ে খেলতে চল। তিনি আরো বলেন বাঙালির অতি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী হাডু-ডু খেলা আমার সেই ছোটবেলার কথা মনে করিয়ে দেয় এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ ড. এম এ বারিক, সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামলীগ নেতা ইছাক গাজী, ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ এবং ইউপির সদস্য ছাবিনা ইয়াছমিন ও আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ্ব সভ্যতা ও মানবতার পক্ষে আমরা – ইদ্রিস আলী

জীবন যেখানে বন্দুকের গুলির নিশানা,
নারী শিশু বৃদ্ধ যেখানে ক্লান্তিহীনভাবে
হাটছে তো হাটছেই। শুধু জীবনটা বাঁচাতে হবে।

খবরের কাগজ, টিভি চ্যানেলের বদৌলতে যখন প্রায়ই দেখছি মানুষের মিছিল। নাম কি? অনু প্রবেশকারী। মায়ানমার বলছে, ওরা তাদের দেশের নাগরিক না। বাংলাদেশ বলছে তারা অনুপ্রবেশকারী। এখন উপায় কি? মৃত্যুর মিছিল তো প্রায়ই দেখছি মালয়েশিয়ার গণ কবর। অবৈধভাবে নদী পথে বিদেশগামীদের নদীতে ডুবে মরার কাহিনী, কর্মরত শ্রমিক ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু, নিজেরা মারামারি করে হত্যা খুনের অভিযোগে ফাঁসি, শিরচ্ছেদ আরও কত।
মায়ানমার একটি দেশ। ১৯৪৮ সালে স্বাধীন হল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে। আজ ২০১৭ সাল। বাংলাদেশে কয়েক লক্ষ লোক মায়ানমার থেকে এসে রয়েছে অনেক দিন। কারণ ঐদেশে তারা নিরাপদ নয়। আবার লক্ষ লক্ষ লোক মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢুকছে। তাদের দেশের সেনাবাহিনী পুলিশ বলছে তারা সে দেশের সংগঠন আরসাকে আশ্রয় দিচ্ছে পুলিশ ক্যাম্পে হামলা করছে। পুলিশও তাদের খুন করছে। তাই তারা রোহিঙ্গাদের শায়েস্তা করার জন্য এ ধরনের কাজ করছে। বুঝলাম যে দেশের অনেকগুলো সংগঠন সরকারের দেশ পরিচালনার সাথে একমত নয়। কিন্তু তাই বলে তাদের উপর গুলি চালাতে হবে? দীর্ঘদিন সে দেশে সেনা শাসন চলছে। বর্তমানে অং সান সু চি ক্ষমতায়। আমরা জানি, অংসান সুচি ক্ষমতায় থাকলেও আসলে সমগ্র কর্তৃত্ব সে দেশের সেনাবাহিনীর। মার্কিনীদের মদদে মায়ানমারে সেনা শাসন ও গণতন্ত্রপন্থী অংসান সুুচির প্রতিনিধি দ্বারা দেশ চলছে। আমাদের দেশে যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদী রাজনীতির সমর্থক, তারা এখন নড়ে চড়ে বসেছে। আবার সরকার এখানে অনুপ্রবেশকারী এত লোকের থাকা খাওয়া নিয়ে বড়ই দুঃশ্চিন্তায়। জাতিসংঘ ও মার্কিনীদের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। জাতিসংঘের কাছে ত্রাণ সহযোগিতার কথাও বলা শুরু করেছে। কিন্তু একটি দেশ জাতিসংঘ অধিভূক্ত হলে তাকে কিছু আন্তজার্তিক মানবাধিকার ও নিরাপত্তার নিয়ম মানতে হবে। না মানলে সেই দেশকে জাতিসংঘ সতর্ক করতে পারে। চিঠি দিতে পারে। সেটা কতটুকু হচ্ছে? আমাদের দেশে যুদ্ধাপারাধীদের ফাঁসি ঠেকাতে জাতিসংঘ মহাসচিব চিঠি দিয়েছিলেন বলে শুনা যায়। আর এত বড় বর্বরতার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরব কেন? আমরা জানি, আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকল নাগরিক সমঅধিকার, সমমর্যাদা পাবে। যে শিশু জন্মগ্রহণ করছে তার নিরাপত্তা, খাদ্য সংস্থান ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা বিধান করবে রাষ্ট্র। নারী শিশু, বৃদ্ধ, যুবক তাদের সুরক্ষায় রাষ্ট্র যদি নিরব থাকে তাহলে বুঝতে হবে সেই রাষ্ট্রে কোন সরকার নেই বা দায়িত্বশীল সরকার নেই। রাষ্ট্রের মধ্যে কেউ যদি রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করে তার বিরুদ্ধে সরকার যেমন ব্যবস্থা নিবে তেমনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব সব নাগরিকের নিাপত্তা বিধান করা। তা না হলে জাতিসংঘ সাধারণ সভা ডেকে সে দেশে যারা দায়িত্বশীল ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। সাধারণ জনগণের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে কোন দেশের জনগণ পার্শ্ববর্তীদেশে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা বা তাদের সহায়তা দেওয়া মূল সমাধান নয়। বরং দেশের ভিতরের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। মায়ানমারের পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশে ও ভারত যৌথভাবে একটি কর্ম কৌশল নির্ধারণ করতে পারে। এমনিতে আমাদের দেশে একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা যে দেশ পেয়েছি সেই দেশে হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রীষ্টান সবার জন্য সমান অধিকারের একটি দেশ হওয়ার কথা, লুট পাট দুর্নীতিমুক্ত সুশাসনের বাংলাদেশ হওয়ার কথা। সেখানে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে পরিবারের হত্যার মধ্য দিয়ে ১৫ বছর সামরিক শাসন চলেছে। সামরিক শাসনের নামে বি.এন.পি, জাতীয়পার্টি ও জামাত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে কলংকিত করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। তাদের রাজনীতি ও সমর্থক গোষ্ঠী নানান অপপ্রচারে ব্যস্ত। এই সময় আন্তজাতিক মহলে আলোচনা এখন সময়ের দাবি। রোহিঙ্গা, মায়ানমার এ ধরনের কৃত্রিম ইস্যুর ফাঁদে আমাদের পড়া উচিৎ নয়। আমরা যেমন সকল মানুষের সমঅধিকার চাই, তেমনি সারা পৃথিবীর নির্যাতিত মানুষের পক্ষেও আমরা। মায়ানমার সরকারের কাছে আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রত্যাশা করছি। খুন নির্যাতনের বিচার চাই।
লেখক : সাধারণ সম্পাদক, জাসদ, সাতক্ষীরা জেলা শাখা ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest