সর্বশেষ সংবাদ-
আশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতিউপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ: চারা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকারপ্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শ্যামনগরের বিএনপি নেতা আদম আলীএখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরেরসাতক্ষীরা সদরের বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমির গাছ কাটার অভিযোগ

তৃতীয় সন্তানের বাবা হলেন কিম

তৃতীয় সন্তানের বাবা হলেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন। মঙ্গলবার (২৯ আগষ্ট) দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের।

গতকাল সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে দেশটির আইনপ্রণেতারা সংসদকে জানান, তাদের ধারণা উত্তর কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি রাই সোল জু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেন।

গত বছর দীর্ঘ সময় ধরে রাই সোল লোকচক্ষুর আড়ালে থাকায় ধারণা করা হয়েছিল তিনি গর্ভবতী।

২০০৯ সালে কিম জং উনের সঙ্গে রাই সোল জুয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়। ২০১০ সালে তাদের প্রথম সন্তান জন্ম হয়। ২০১৩ সালে ভূমিষ্ঠ হয় দ্বিতীয় সন্তান।

বাস্কেট বল তারকা ডেনিস রোডম্যানকে উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বলা হয়। গত বছর তিনি জানিয়েছিলেন, উন-জু দম্পতির দ্বিতীয় সন্তানটি কন্যা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় আল-আরাফাহ ব্যাংক’র এটিএম বুথ’র উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের এটিএম বুথ’র আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শহরের সিটি মার্কেট এলাকায় আল- আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ভিপি ও সাতক্ষীরা শাখা ব্যবস্থাপক মো. ফেরদৌস হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে এটিএম বুথ’র উদ্বোধন করেন আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের খুলনা জোনাল হেড মো. মনজুরুল আলম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আল- আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড চুকনগর শাখার ম্যানেজার আব্দুল মান্নান, গ্রাহক ফজলুর রহমান, আব্দুল খালেক, মো. সেলিম রহমান, রেজাউল ইসলাম ও রওনুকুল ইসলাম প্রমুখ। এসময় আল- আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের অসংখ্য গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাতে দেশের অব্যাহত শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আল- আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড সাতক্ষীরা শাখার এক্সিকিউটিভ অফিসার শেখ রবিউল ইসলাম, দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আব্দুর রাজ্জাক ফকির।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বন্ধ হল বিতর্কিত ভারতীয় সিরিয়াল ‘‌পেহরেদার পিয়া কি’

সনি টিভির বহু বিতর্কিত সিরিয়াল ‘‌পেহরেদার পিয়া কি’‌‌ বন্ধের নির্দেশ দিল ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রালয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার থেকে সিরিয়ালটির কোন পর্ব সম্প্রচারিত হয়নি।
তবে ভারতীয় টিভিতে সিরিয়াল বন্ধ হওয়ার এই ঘটনা অস্বাভাবিক বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে সনি টিভির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ আগস্ট থেকে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের নির্দেশ মেনে তারা সিরিয়ালটি বন্ধ করে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে দুঃখপ্রকাশ করে আরও বলা হয়েছে, সিরিয়াল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে এর সঙ্গে জড়িত কলাকুশলী, অভিনেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। লোকসানের মুখে পড়বে চ্যানেলও। তবে আগামী দিনে তাদের নতুন সিরিয়াল দর্শকদের ভাল লাগবে বলে আশা প্রকাশ করেছে চ্যানেল। সিরিয়াল বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি নির্মাতা বা অভিনেতা, অভিনেত্রীরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গাদের আরো কিছুদিন আশ্রয় দিতে জাতিসংঘের আহবান

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান হামলার ব্যাপারে জাতিসংঘ সচেতন রয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলের ‍মুখপাত্র স্টেফানি ডুজারিক একথা বলেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২৫ আগস্টে মিয়ানমারের নিরাপত্তা কর্মীদের ‍উপর রোহিঙ্গাদের হামলার ঘটনার কারণে সাম্প্রতিক এসব হামলার ঘটনা ঘটে। সে কারণে নিন্দাও প্রকাশ করেন সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি সেই সমস্যার মূল বের করার উপর গুরুত্ব দেন এবং যাদের সাহায্য দরকার তাদের সাহায্য করতে ও নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

মিয়ানমারের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল কফি আনানের সুপারিশগুলোও সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্তোনিও গুয়েত্রেস পুরোপুরি সমর্থন করেন বলে জানানো হয় বিবৃতিতে। এবং মিয়ানমার সরকারকে সেসব সুপারিশ কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে চাপ প্রয়োগ করা হবে বলেও জানানো হয়।

বিবৃতিতে বিগত কয়েক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে যাওয়া শরণার্থীদের বাংলাদেশ জায়গা দিয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিরাপত্তার সন্ধানে যারা ছুটে আসছে তাদের আরো খানিকটা সময় স্থান দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, যারা ছুটে আসছেন তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু, তাদর কেউ কেউ গুরুতর আহতও।

বিবৃতিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আহ্বান জানানো হয় রোহিঙ্গাদের কারামুক্ত ও আক্রান্ত সম্প্রদায়ে তাদের ফ্রি অনু্প্রবেশ নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। জাতিসংঘ এর আগে থেকেই এই ব্যাপারে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইচ্ছুক ছিলো বলেও জানান তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বরেণ্য শিল্পী আব্দুল জব্বার আর নেই

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী, গত শতকের ষাট ও সত্তর দশকের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক পাওয়া আব্দুল জব্বার আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। আজ ৩০ আগস্ট বুধবার সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল জব্বার কিডনি, হার্ট, প্রস্টেটসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘ওরে নীল দরিয়া’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় বাংলা গানের গায়ক আব্দুল জব্বার মুক্তিযুদ্ধের সময় হারমোনিয়াম নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের গান গেয়ে উদ্বুদ্ধ করেন। সেই দুঃসময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গেয়েছেন অসংখ্য গান। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে এই শিল্পীর গাওয়া গান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ও মনোবল বাড়িয়েছে।

ওই সময় ভারতের বিভিন্ন স্থানে গণসংগীত গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ টাকা তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুম্বাইয়ে ভারতের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জনমত তৈরিতেও নিরলসভাবে কাজ করেন তিনি। অসংখ্য কালজয়ী গানে কন্ঠ দেন আব্দুল জব্বার।

সংগীতে অসামান্য অবদানের সীকৃতি স্বরূপ তাকে ১৯৮০ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করে বাংলাদেশ সরকার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ আন্তর্জাতিক গুম দিবস; ১০ বছরে হারিয়ে গেছে ৩৯০ জন

ন্যাশনাল ডেস্ক : সাত বছর হদিস নেই রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী সুজনের। ২০১০ সালের ২৪ মার্চ মানিক মিয়া এভিনিউর টিঅ্যান্ডটি মাঠসংলগ্ন এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় তাঁকে। এর পর থেকে পুলিশ-র‌্যাবসহ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে তাঁর স্বজনরা। সুজনের বড় ভাই মাহবুবুর রহমান গতকাল বলেন, ‘আমার ভাইকে (সুজন) বিয়ে করানোর জন্য পাত্রী খুঁজছিলাম। হঠাৎ কী হয়ে গেল! কাঁদতে কাঁদতে মা অসুস্থ হয়ে চলতি মাসের ৪ তারিখে মারা গেছেন। লোকমুখে শুনেছি, আমার ভাইকে নাকি মেরে ফেলা হয়েছে! তাই যদি হয়, তাহলে সে খবরটুকু অন্তত জানতে চাই আমরা। ’ সুজনের মতোই ৩৯০ জনের স্বজন এভাবেই কাঁদছে, যারা গুম হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছর সাত মাসে ৫৩৯ জন নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে ৩৯০ জন আজও ফেরেনি। গত এক বছর সাত মাসে ১৪২ নিখোঁজ হয়। তাদের ৯০ জনের খোঁজ মেলেনি এখনো।
বাকিদের মধ্যে ১৩ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ২৯ জনকে। বিএনপির দাবি, ২০০৭ থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত তাদের দলের ২০২ নেতাকর্মী গুম হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অনেক পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিখোঁজ থাকায় সংসারে চলছে চরম অনটন। মাঝেমধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার হয়। তবে সেই হত্যার ব্যাপারে কিছুই আর জানা যায় না। কেউ কেউ ফিরে এলেও উদ্ঘাটিত হয় না অপহরণ রহস্য। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বলছে—পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্য সংস্থাগুলো এসব ঘটনার তদন্তই করে না। মানবাধিকারকর্মী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, নিখোঁজ ঘটনার সুরাহা না হওয়ায় সমাজে এক ধরনের উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার। স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের মাধ্যমে প্রতিটি ঘটনা তদন্তের সুপারিশ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এমন পরিস্থিতিতে আজ ৩০ আগস্ট বুধবার সারা বিশ্বে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হচ্ছে। ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর গুম হওয়া থেকে সবার সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সনদ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। ফলে গুমের হাত থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারটি আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত হয় এবং কাউকে গুম করা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃৃতি পায়। ২০১১ সাল থেকে ৩০ আগস্ট গুম হওয়া মানুষদের স্মরণ এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর জন্য দিবসটি পালন করা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। সনদ অনুযায়ী, নিখোঁজ ব্যক্তির হদিস পাওয়া না গেলে এবং সরকার, প্রশাসন বা প্রভাবশালীরা হত্যা করে মৃতদেহ লুকিয়ে ফেললে তা গুম বলে বিবেচিত হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশেও গুম একটি আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘অপহরণ কিংবা গুম মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াসহ এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক এ ধরনের অপরাধ ঘটে থাকলে তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে আইন-শৃঙ্খলা তথা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ’ কমিশনের তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গুম-অপহরণের শিকার ৫২ জন। গত সাত দিনে দুই ব্যবসায়ী ও এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গোয়েন্দা পরিচয়ে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের মধ্যে একজন ফিরে এসেছেন। সম্প্রতি কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সভাপতিত্বে কমিশনের অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ফুল বেঞ্চ সভায় গুম ও অপহরণের অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় কমিশন উদ্বেগ প্রকাশ করে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনায় কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ আমলে নিয়েছে।

তবে নিখোঁজ বা গুমের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সম্প্রতি বলেন, ‘গুম বলে কোনো শব্দ নেই। অনেকেই গুম হয়েছেন বলে তাঁদের স্বজনরা দাবি করেছিলেন। পরে দেখা গেছে তাঁদের অনেকে ফিরেও এসেছেন। অনেকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ে বা পুলিশের সঙ্গে মারামারি করে আত্মগোপনে চলে যান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ফিরেও আসেন। তাঁদের অনেকে গাঢাকা দিয়ে আছেন। ’

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য মতে, চলতি বছরের সাত মাসে (৩১ জুলাই পর্যন্ত) নিখোঁজ হয়েছে ৪৫ জন। যাদের মধ্যে দুজনের লাশ পাওয়া যায়। গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তিনজনকে। ফেরত এসেছে সাতজন। বাকি ৩৩ জন এখনো নিখোঁজ। গত বছর, ২০১৬ সালে ৯৭ জন নিখোঁজ হওয়ার পর গুমের অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে ১১ জনের লাশ পাওয়া গেছে। ২৬ জনকে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আর তিনজন ফিরে এলেও নিখোঁজ রহস্য উন্মোচিত হয়নি। বাকি ৫৭ জনের খোঁজ নেই এখনো। এই সংস্থাটির তথ্য মতে, ২০১৫ সালে নিখোঁজ হয়েছে ৫৫ জন, যাঁদের আটজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং ফেরত এসেছে পাঁচজন। এখনো নিখোঁজ ৩৫ জন। ২০১৪ সালে নিখোঁজ হয় ১০২ জন, যাদের ৮৮ জনই আজও বাড়ি ফেরেনি। ২০১৩ সালে ৫৮ জনের মধ্যে ৫৩ জন নিখোঁজ ছিল। ২০১২ সালে ৫৬ জনের মধ্যে ৩৪ জন; ২০১১ সালে ৫৯ জনের ৩৯ জন এবং ২০১০ সালে ৪৬ জন অপহৃতের মধ্যে ৩৩ জনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত ২১ জন নিখোঁজ হয়, যাদের ১৮ জনের খোঁজ মেলেনি। এই হিসাবে ১০ বছর সাত মাসে ৫৩৯ নিখোঁজ ব্যক্তির মধ্যে ৩৯০ জন আজও ফেরেনি। তবে গতকাল আসকের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৫৪০ জনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৭৮ জনের লাশ পাওয়া গেছে। ৩৪৭ জন নিখোঁজ আছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজ বলেন, আসক মনে করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, অপহরণ—মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, যা মানুষের মনে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে যদি গুমের অভিযোগ ওঠে তাহলে রাষ্ট্রকে অন্য সব অপরাধের মতো এটিও খতিয়ে দেখতে হবে। গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদ ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’-এ বাংলাদেশের অনুস্বাক্ষরের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আসকের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘গুম হলে তাদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের। আমাদের সবচেয়ে বড় দাবি—প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা নিখোঁজের ঘটনাগুলো স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করে তদন্ত করা হোক। সেই দাবি এখনো বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেই। ’

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ও অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উমর ফারুক বলেন, ‘আমীমাংসিত অপরাধের ঘটনা অন্য অপরাধীদের উৎসাহিত করে। অর্থাৎ অপরাধপ্রবণতা বাড়ায়। অপরাধীরা ওই কৌশলকে বারবার বেছে নেয়। তাই নিখোঁজ হওয়ার প্রতিটি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন হওয়া জরুরি। ’

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালক আনসার আলীকে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর বনানী থেকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের। তাঁর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা এখন হতাশাভরা কণ্ঠে বলছেন, ‘স্বামীর খোঁজে অনেকবার অনেকের কাছে সাহায্য চাইতে গেছি। কিন্তু কেউ তাঁর খোঁজ দিতে পারেনি। ’ এখন তিনি শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছেই প্রার্থনা জানান।

২০১০ সালের ২৫ জুন ফার্মগেট থেকে আরেক বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমকেও ‘তুলে নেওয়ার’ অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ সাত বছরে তাঁর খোঁজ মেলেনি। তাঁর স্ত্রী হাসিনা চৌধুরী বলেন, ‘গত বছর সিআইডি (পুলিশের অপরাধী তদন্ত বিভাগ) অপহরণ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তারা বলেছে, তদন্তে চৌধুরী আলমের নিখোঁজ হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমরা কোথায় গেলে সন্ধান পাব, বিচার পাব?’

নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা জানায়, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানী থেকে ১৯ জন নিখোঁজ হয়, যাদের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নিখোঁজ আল আমিনের ভাই রুহুল আমিন জানান, তাঁর ভাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষে এলএলবি করছিলেন। তিনি ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনো পদে ছিলেন না। পরিবারের স্বপ্ন ছিল তিনি লেখাপড়া শেষ করে সংসারের দায়িত্ব নেবেন। এখন তাঁর বাবা আহমাদুল্লাহ ও মা জেসমিন বেগম সারা দিন কাঁদেন।

২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর গুম হওয়া খালিদ হাসান সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা বলেন, ‘জেলগেট থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে আমার স্বামীকে তুলে নেওয়া হয়েছে। আর ফিরে পাইনি। আমার সন্তান বাবাকে ছাড়া শৈশব পার করেছে। সংসার কিভাবে চলছে, রাষ্ট্র কি সে খোঁজ রাখছে!’

২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের সোনা মসজিদ বন্দর এলাকা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় মফিজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে। তিন বছরেও কোনো হদিস মেলেনি তাঁর। মফিজের বন্ধু খলিলুর রহমান বলেন, ‘পানামা কম্পানিতে কাজ করত সে। কারা, কেন তাকে ধরে নিয়ে গেল জানলাম না। ওর তিনটা ছেলে নিয়ে বউটা বড় কষ্টে আছে। ’

নিখোঁজের তালিকা ঘেঁটে সুজন ও মফিজের মতোই রাজনৈতিক পরিচয়হীন অনেক সাধারণ মানুষের তথ্য মিলেছে। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত এলাকা থেকে ব্যবসায়ী রেজাউল করিম রেজভি, ৮ এপ্রিল সূত্রাপুর থেকে গার্মেন্ট ব্যবসায়ী তারিব উদ্দীন আহমেদ; ১৫ ফেব্রুয়ারি শাজাহানপুর থেকে দোকান কর্মচারী রফিকুল ইসলাম; ২০১৩ সালের ২৪ মে পুরনো ঢাকার জিন্দাবাহার থেকে ব্যবসায়ী আয়নাল মোল্লা; ৮ ডিসেম্বর কামরাঙ্গীরচরের আবদুল আজিজ লেনের বাসিন্দা সুলতান হাওলাদার; ২০১১ সালের ২ অক্টোবর দক্ষিণখানের গার্মেন্ট ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম; ৮ নভেম্বর সূত্রাপুরের ব্যবসায়ী মমিন হোসেন; ২৪ অক্টোবর রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও গোদাগাড়ীর পালপুর ধরমপুর মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক আমিনুল ইসলাম নিখোঁজ হন।

২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টারের সামনে থেকে তুলে নেওয়া হয় গার্মেন্ট ব্যবসায়ী শিহাবুজ্জামান পাভেলকে (২৬)। বগুড়ার সেই পাভেলের স্ত্রী নার্গিস আফসানা আক্তার জানান, পল্টন থানায় মামলা করার পর দুই বছর ধরে তাঁরা ঘুরছেন। কেউ তাঁর স্বামীর হদিস দিতে পারেনি।

গত বছরের ১৪ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর সদরের বাসা থেকে বাসে চড়ে ঢাকায় আসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল মাহমুদ। এরপর ধানমণ্ডির সায়েন্স ল্যাবরেটরির কাছ থেকে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় তাঁকে। চলতি বছর তিনি ফিরে এলেও এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি। একইভাবে আইনজীবী রিজওয়ানা হাসানের স্বামীসহ কয়েকজন ফিরে এসেছেন। কিন্তু তাঁদের নিখোঁজ রহস্যের জট আজও খোলেনি।

টুইট বার্তায় খালেদা জিয়া—নিষ্ঠুরতার জন্য জবাবদিহি হতে হবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে দোয়ার শরিক হয়ে সরকারকে আমি মনে করিয়ে দিতে চাই, এ নিষ্ঠুরতার জন্য অচিরেই তাদের জবাবদিহি হতে হবে। ’

গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক টুইট বার্তায় খালেদা জিয়া এ কথা বলেন।

সূত্র : কালের কণ্ঠ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাঁচ শতাধিক চিকিৎসককে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি
পাঁচ শতাধিক চিকিৎসককে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ৫২১ জনের পদোন্নতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যকর্মকর্তা বাসসকে এ কথা জানিয়ে বলেন, ৫২১ জনের পদোন্নতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনে আরও চিকিৎসককে পদোন্নতি দেয়া হবে। বাসস।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ধর্মগুরু রাম রহিমের আচরণ জঙ্গলের জানোয়ারের মতো

ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে সোমবার হরিয়ানা রাজ্যের বিশেষ আদালত মোট ২০ বছরের জেলের সাজা শুনিয়েই ক্ষান্ত থাকেন নি। এমন সব মন্তব্য করেছেন বিচারক, যা একরকম কাঁপিয়ে দিয়েছে এই একদা প্রবল পরাক্রান্ত ধর্মগুরুকে।

১৫ বছর আগে নিজের আশ্রমেরই দুই সাধিকাকে ধর্ষণের মামলায় পৃথকভাবে ১০ বছর করে মোট ২০ বছরের সাজা শোনানোর আগে গুরমিত রাম রহিমকে বিচারক জগদীপ সিং বলেছেন:

• দোষী ব্যক্তি (গুরমিত রাম রহিম) একটা জঙ্গলি জানোয়ারের মতো কাজ করেছে। সে তার দুই পবিত্র সাধিকাকেও ছাড়ে নি।

• ওই দুই নির্যাতিতা গুরমিত রাম রহিমকে ঈশ্বরের সম্মান দিতেন, কিন্তু গুরমিত তাদের সঙ্গে সব চেয়ে গুরুতর অপরাধ করেছে।

• যে ব্যক্তির মানবিকতা বলে কিছু নেই, যার স্বভাবে দয়া-মায়া বলে কিছু নেই, তার প্রতি উদারতা দেখানো যায় না।

• একটা ধর্মীয় সংগঠনের প্রধান হিসাবে যে নিজেকে দাবী করে, তার এই অপরাধমূলক কাজ আসলে দেশের অন্যান্য পবিত্র, আধ্যাত্মিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আর ধর্মীয় সংগঠনগুলোকেও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

তাকে ১৫ লাখ রুপি করে ৩০ লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে।

গুরমিত রাম রহিম আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে যখন সবাই তাকে ধিক্কার দিচ্ছে, তার মধ্যেও তার ভক্তদের অনেকেই এখনও ওই ‘গুরু’র প্রতি রয়েছে শ্রদ্ধা, আস্থা।

এরকমই এক পরিবারের খোঁজ পেয়েছে বিবিসি, হরিয়ানার সিরসায় – ডেরা সাচ্চা সওদার মূল আশ্রমের কাছেই।

যুবক সোনু যাদব ডেরার স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন। ইংরেজিতেই কথা বলতে বেশী স্বচ্ছন্দ তিনি।

“বাবাজী প্রথম থেকেই ভাল শিক্ষা দিয়েছেন, সমাজের প্রতি নীতি-নৈতিকতা শিখিয়েছেন, মানুষের কোন পথে চিন্তাভাবনা করা উচিত, সেসব বলেছেন আমাদের। আমরা তাই উনাকে গুরু বলেই মানি,” বলছিলেন মি. যাদব।

শুধু সোনু নয়, তার পরিবারের তিনপুরুষই গুরমিত রাম রহিমের ভক্ত।

বিবিসি-র সঙ্গে কথার মাঝেই সোনুকে থামিয়ে দিয়ে তার মা সরোজ বলছিলেন, “গুরুজী আমাদের বাপ-মায়ের মতো। আমি উনার কাছে গত ২৬ বছর ধরে যাই। আমার বাচ্চাদের তিনি পড়িয়েছেন, যে কোনও রকম দু:খ-কষ্টে তিনি সহায় হতেন। নিজের বাবা মায়ের থেকেও উনাকে বড় বলে মানি আমরা।”

‘বাবার ডেরা’ই তাদের কাছে সব কিছু – সেটাই তাদের দুনিয়া।

সোনু কথায় কথায় বলছিলেন, “বাবাজী আমাকে তিনটে মন্ত্র শিখিয়েছেন, নেশা করবে না, মেয়েদের সম্মান করবে আর বড়দের শ্রদ্ধা করবে।”

ঘটনাচক্রে যে মেয়েদের সম্মান করতে সোনুকে শিখিয়েছেন গুরমিত রাম রহিম সিং, অন্যদিকে দুই নারী সাধিকাকেই ধর্ষণ করেছেন বলে আদালতে প্রমাণ হয়েছে।

সোনু আর তার পরিবার অবশ্য এখনও বিশ্বাস করেন না যে তাদের ‘গুরুজী’ ওই কাজ করে থাকতে পারেন।

“আমাদের গুরুজীর ওপরে পুরো বিশ্বাস আছে। তিনি চক্রান্তের শিকার হয়েছে। সব সংবাদ চ্যানেলে যা যা দেখানো হচ্ছে – সব মিথ্যা। আমরা ছয় কোটি মানুষ তার শিষ্য – আমরা সবাই ভুল?”

তাদের বিশ্বাস কিছুদিনের মধ্যেই নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে বাইরে আসবেন তাদের ‘বাবা’ আর রাজনৈতিক দলগুলোর চক্রান্ত গোটা পৃথিবীর মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।

তবে তার আগে অবধি আদালতের নির্দেশে সোনু যাদবের পরিবারের ‘গুরুজী’কে রোহটাকের জেলে অন্য কয়েদিদের মতো জেলের পোশাক পরে কম্বলে শুয়ে দিন কাটাতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest