নাজমুল হক : পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে গত কাল ১৯ বোতল ফেন্সিডিল সহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক। থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে পাটকেলঘাটা ওভার ব্রিজের ওপর থানা পুলিশের এ.এস আই অনুপম বিশ্বাস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান কালে থানার মিঠাবাড়ী গ্রামের তাইজুল মাহমুদের পুত্র আব্দুর রাজ্জাক রাজু (৩৫) কে মাদক দ্রব্য আইনে গ্রেফতার করে। রাজু সাতক্ষীরার বাকাল ব্রীজ থেকে উক্ত ফেন্সিডিল চুকনগর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল বলে জানা যায়। পাটকেলঘাটা থানার ওসি মহিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ ব্যাপারে পাটকেলঘাটা থানায় মাদক দ্রব্য আইনে শুক্রবার মামলা হয়, মামলা নং-০২।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রথম বর্ষ স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সলরের (ভিসি) সম্মেলন কক্ষে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলররা উপস্থিত ছিলেন। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কিংবা তার পক্ষে কোনো প্রতিনিধি সভায় ছিলেন না বলে জানা গেছে। সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ বাদ রেখেই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখও চূড়ান্ত করা হয়নি।

এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জবি ভাইস চ্যান্সলর প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান।

সভায় তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে আলোচনা করে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ একই দিনে সকালে ও বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সলর অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদের সভাপতিত্ব দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী ছিল এ সভা। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা ও আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

জানা গেছে, এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে না। স্বতন্ত্রভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী ভর্তি নেবে। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সারাদেশে ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২৩ জুলাই প্রকাশ করা হবে। আটটি সাধারণ বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ:

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ১৪ অক্টোবর, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২১ অক্টোবর, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৭ নভেম্বর, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২০ অক্টোবর, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ২৬ নভেম্বর।

শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১ ডিসেম্বর, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৪ নভেম্বর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৮ নভেম্বর, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৭ নভেম্বর এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ২ ডিসেম্বর।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৫ থেকে ৮ নভেম্বর, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৮ নভেম্বর, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৯ ও ১০ নভেম্বর, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২৭ অক্টোবর, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২০ ও ২১ ডিসেম্বর, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৩ ও ৪ নভেম্বর, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মার্চ ৪র্থ সপ্তাহ ২০১৮।

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির তারিখ হচ্ছে: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৮ থেকে ১৮ অক্টোবর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ২২ থেকে ২৬ অক্টোবর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ২২ থেকে ৩০ অক্টোবর, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ২৫ থেকে ২৯ নভেম্বর, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস ২৪ ও ২৫ নভেম্বর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ১৭ ও ১৮ নভেম্বর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ১৯ থেকে ২৩ নভেম্বর, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ২৪ ও ২৫ নভেম্বর, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ১১ নভেম্বর।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ২৪ আগস্ট থেকে আবেদন শুরু হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ৮ ডিসেম্বর এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ৫ নভেম্বর।

সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ, শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান, জাবি ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম, জবি ভিসি প্রফেসর ড. মীজানুর রহমানসহ ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কলারোয়া প্রতিনিধি : কলারোয়ার হেলাতলা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম স্কুল ও কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে কলেজ চত্বরে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উত্তম কুমার রায়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সাংসদ ও জনপ্রশাসন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এড.মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে ৫৬জন নবীন শিক্ষার্থীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।
প্রধান অতিথি ও সভাপতিকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন- কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব দেব নাথ, জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সাজেদুর রহমান খান চৌধুরী মজনু, কেরালকাতা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরদার, হেলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হামিদ, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কবির উদ্দীন, কলারোয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটির সদস্য সহকারী অধ্যাপক কেএম আনিছুর রহমান, কলারোয়া রিপোর্টাস ক্লাবের সভাপতি আজাদুর রহমান খান চৌধুরী পলাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম লিটন, হেলাতলা ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আরিজুল ইসলাম, কেরালকাতা ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মাস্টার হাফিজুর রহমান, প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান, প্রধান শিক্ষক শামসুল হক, শিক্ষক আব্দুল আলীম, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের কলারোয়া উপজেলা সভাপতি এড. আশরাফুল আলম বাবু, মেম্বর মোখলেছুর রহমান, কাজীরহাট বাজার কমিটির সেক্রেটারী আব্দুল হামিদ, নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সোহেল রানা ও সুরভি পারভিন প্রমুখ।
কাজীরহাট ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ইদ্রিস আলী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

চম্পাফুল প্রতিনিধি : কালিগঞ্জের চম্পাফুল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বর আবু বক্কর গাইন (৫০) আটক করা হয়েছে। সে চাঁদখালী এলাকার মৃত মকবুল গাইনের ছেলে। শনিবার সন্ধ্যায় উজিরপুর বাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করেন।
এঘটনায় ডিবি পুলিশের সেকেন্ড অফিসার আবুল কাসেমের সাথে রাত ৮.৫৫ মিনিটে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি শুনেছি। তবে ঠিক কারা গ্রেফতার করেছে সেটি বলতে পারবো না। আমাদের ৪টি টিম মাঠে আছে। তারা ফিরে আসলে বিস্তারিত বলতে পারবো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আহসানুর রহমান রাজীব : জানু পারভীন (৭০), সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। বয়সের ভারে কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন এই বৃদ্ধা এলাকার সবার কাছে দাদি বলে পরিচিত। প্রতিদিন ভোররাতে পাড়ার বিভিন্ন ঘরে গিয়ে নামাজের জন্য তিনি সবাইকে ডাকতেন। দরজায় ধাক্কা দিতেন। এতে অনেকের ঘুম ভেঙ্গে যেত। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে কিছু প্রতিবেশিরা ঝগড়া বাধায় তার ছেলে আর বৌদের সাথে। তার পর একদিন ছেলে আর বৌরা মিলে তাকে বাড়ির পাশে একটি গাছে শেকল দিয়ে বেধে রেখেছিল। এ সময় বাড়ির পাশের এক ব্যাক্তি শেকল বাধা বৃদ্ধার ছবি তুলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলে তা ভাইরাল হয়। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বৃদ্ধার বাড়িতে যান, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার।
এ সময় তিনি বৃদ্ধ মায়ের কাছে সে দিনের ঘটনা জানতে চাইলে বৃদ্ধা জানান, ছেলে ও বৌদের প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই। মাঝে মাঝে আমার মাথায় সমস্যা হয় তখন আমি রাস্তায় চলে যাই। ফজরের নামাজের সময় মানুষের বাড়িতে যেয়ে নামাজের জন্য ডাকাডাকি করে জালাতন করি এ জন্য প্রতিবেশীরা ছেলে বৌদের সাথে ঝগড়া করে তাই রাগ করে ওরা আমাকে শেকল দিয়ে বেধে রেখেছিল। তারা আমার দেখাশুনা করে খেতে দেয়। তাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) মেরিনা আক্তার বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি ঐ এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাকে শেকল মুক্ত করি। শনিবার বিকালে আমি নিজে তার বাড়িতে যেয়ে তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি তার ছেলে বৌদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেন নি। তার পরও আমি তাকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। ভবিৎষতে আর কেউ তার সাথে এমন আচরণ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সেলিম হায়দার : অপরিকল্পিতভাবে সংযোগ খাল খনন করায় কপোতাক্ষ নদের স্লুইস গেট ভেঙ্গে ২০টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। আর প্লাবন ঝুঁকিতে প্রায় শতাধিক গ্রাম। ইতিমধ্যে ভেঙ্গে গেছে তালা-পাটকেলঘাটা সড়কের মাগুরা বাজার সংলগ্ন সড়কের একাংশ। যে কোন মূহুর্তে বন্ধ হতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়া তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা ও মৎস্য ঘের।
কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শুক্রবার (১৪ জুলাই) দুপুরে তালা উপজেলার মাগুরা বাজার সংলগ্ন স্লুইস গেটে ভাঙন দেখা দেয়। সময়ের সাথে সাথে ভাঙ্গন তীব্র হয়ে পানি বাড়তে শুরু করে।
সংবাদ পেয়ে শনিবার সকালে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এলাকাবাসি।
তারা অভিযোগ করেন,‘স্থানীয় চেয়ারম্যান গণেশ দেবনাথ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আতাত করে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম করেছে। নদের সংযোগ খাল সংস্কারের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার প্রকল্প সভাপতি ছিলেন চেয়ারম্যান। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লুটপাট করেছেন। এজন্য ভাঙন দেখা দিয়েছে।’
এলাকাবাসি জানান, স্লুইচ গেটটি বন্ধ না হলে মাগুরা, জালালপুর ও খলিষখালী ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাবে। ইতিমধ্যে ভেঙ্গে গেছে তালা-পাটকেলঘাটা সড়কের মাগুরা বাজার সংলগ্ন সড়কের একাংশ। যে কোন মূহুর্তে বন্ধ হতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়া তলিয়ে গেছে বারুইপাড়া, ধুলুন্ডা, মাগুরা, মাগরুডাঙ্গা, জালালপুর ইউনিয়নের কিছু অংশের আমনের বীজতলা ও মৎস্য ঘের।
এদিকে ভাঙনের খবর শুনে তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেন, তালা প্রেসক্লাবের আহবায়ক প্রণব ঘোষ বাবলু ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় স্থানীয় জনগণ তাদের সামনেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মাগুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গণেশ দেবনাথ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কপোতাক্ষ নদের সংযোগ খাল ও স্লুইস গেট সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহন করে। ওই প্রকল্পের সভাপতিও তিনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করে সিডিউল মোতাবেক কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন,‘মাটি দিয়ে ইতিমধ্যে স্লুইস গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেলে কি হবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।’
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর গোস্বামী বলেন,‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তাৎক্ষনিক ভাবে দুই জন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল মাগুরায় পাঠানো হয়েছে। স্লুইস গেট বন্ধ করার জন্য আমি সংশ্লিষ্টদের নির্র্দেশ দিয়েছি।’
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন,‘স্লুইস গেট দিয়ে যে ভাবে এলাকায় পানি প্রবেশ করছে, তাতে তিনটি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হবে। ইতিমধ্যে এলজিইডি’র সড়ক হুমকির মধ্যে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে বলা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : যাতায়াতের রাস্তা কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও ভূয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেফতার করানোর প্রতিবাদে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন পলাশপোল এলাকার মোকাদ্দেস গাজীর ছেলে কওছার গাজী। তিনি বলেন, আমি গাজী ট্রেডার্স পলাশপোল (খান কমিনিটি সেন্টার মার্কেট) সাতক্ষীরা। দীর্ঘদিন সুনামের সাথে ব্যবসা করিয়া আসছি। পলাশপোল মৌজায় ১৭৬৩/১৭ নং খতিয়ানে ১১৩৪৩ দাগে ১৩ শতক পৈত্রিক সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন যাবত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। আমার বাড়ির উত্তর দিকে বসবাস করেন আমিরুল ইসলামের ছেলে শহীদুল ইসলাম। দক্ষিণে রয়েছে শহীদুলের মামা মৃত: আব্দুল মোজিতের ছেলে খাইরুল ইসলাম। শহীদুলের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য ১ নভেম্বর ০৯ সালে সাতক্ষীরা পৌরসভায় একটি শালিসের মাধ্যমে পূর্ব-পশ্চিম ৩৪ ইঞ্চি চওড়া ও উত্তর দক্ষিন ৩৮ ফুট লম্বা রাস্তাটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বহু বছর ধরে ওই রাস্তা দিয়ে অত্র এলাকার প্রায় ৩০ ঘর পরিবার যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু শহীদুল আমার বাড়ি নির্মাণের সময় হঠাৎ করে যাতায়াতের ওই রাস্তাটি নিজের নামে ক্রয় করার দাবি করে বসেন। কিন্তু আমি তার দাবিতে সাড়া না দিলে সে তার মামা খায়রুলের সাথে প্রকাশ্যে বলে যে “কওছার সোজা করা আমার একদিনের আয়।” এরপর থেকে টাকার প্রভাব খাটিয়ে আমার নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও জজকোর্ট থেকে ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করে আমাকে গ্রেফতার করিয়ে নি:স্ব করার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে। সম্প্রতি শহীদুল আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। শহীদুলের অসৎ উদ্দেশ্যে সফল করতে তার মামা খায়রুল ইসলাম ও তার এক আতœীয় ইলেক্ট্রনিক্স মিস্ত্রি সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ওই মিস্ত্রী ইতোমধ্যে প্রভাব খাটিয়ে আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। ইতোপূর্বে কোট থেকে কক্সবাজারের রামু থানার একটি ভুয়া ওয়ারেন্ট (যার নং- সিআর২১৫/১৫ ইং) জারি করে। এতে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পেরেণ করেন। পরবর্তীতে আমি জামিনে মুক্তি পেয়ে আমি কক্সবাজারের রামু থানায় গিয়ে জানতে পারি ওই তারিখে উক্ত থানায় এধরনের মামলা রেকর্ড হয়নি এবং ওই গ্রেফতারি পরোয়ানাটি ভূয়া বলে প্রমাণিত হয়। এছাড়া সিআরপি ৫২/১৫(দেব) তাং- ২৩/৯/১৫ তারিখের একটি মামলায় আমাকে ১৪ নং আসামী করা হয়। অথচ ওই ঘটনার কিছু আমার জানানেই। অপরদিকে কালিগঞ্জের বৈরাগীরচক ভূমিহীন পাড়ার সিআরপি ২০৪/১৫ নং মামলা আমাকে ৮৫ নং আসামী করা হয়। যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। এছাড়া সম্প্রতি সিলেট জায়রা জজ আদালতের ৭২/১৫ চাঁদাবাজি মিথ্যা গ্রেফতারি পরয়ানা দিয়ে হয়রাণী করছে।
টাকা দিকে যাতায়াতের রাস্তা জোরপূর্বক ক্রয় করতে না পেরে এলাকার কতিপয় কুচক্রী ব্যক্তিদের পরামর্শে শহীদুল ইসলাম গং আদালতের কিছু অসাধু ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে আমাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে। শহীদুল ইসলাম গং-রা এভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে একজন চিহ্নিত আসামি হিসাবে পরিণত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। যাতে তার অসৎ উদ্দেশ্যে সফল করতে পারে। সে ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে বলেছে ওর কাছ থেকে রাস্তা ক্রয় করতে না পারলেও ওকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে নিঃস্ব করে ওই বাড়ি কিনে নেবো, পারলে ঠেকাবে। শহীদুল সব সময় বলে, আমি মটরসাইকেল ম্যাকানিক। সাংবাদিক, পুলিশ, উকিল, মুহুরি সবাই আমার হাতে ধরা। কওছারের মত লোককে সায়েস্তা করতে আমার সময় লাগে না। একারণে এলাকাবাসী আমার পক্ষে কথা বলতেও ভয় পায়। শহীদুল যদি আবার তাদের বিরুদ্ধে লাগে।
আমাদের ৭ জনের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী আমি। এদিকে এসব মিথ্যা মামলার কারণে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করার জন্য বাড়িতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দিচ্ছে। শহীদুলের ইঙ্গিতে দেয়া মিথ্যা মামলার কবলে পড়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের মুখে। এছাড়া কোর্টে আমার নামে যে সব মামলা রয়েছে তার কোন সমন আমাকে না দিয়ে আদালত অবমানার দায়ে গ্রেফতারি পরোয়া জারিয়ে করিয়ে নিচ্ছে শহীদুলের ভাড়াটিয়া লোকজন। এতে করে আজ আমি নিঃস্ব প্রায়। ওই কুচক্রী শহীদুল, খায়রুল গংদের ইঙ্গিতে দেয়া মিথ্যা মামলা থেকে রক্ষা ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সম-সাময়িক বেশ কিছু বিষয় নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন তৈরি করছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ডেইলি । এরই ধারাবাহিকতায় এবার বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার ১২ বছর বয়সী দুর্ভাগা কিশোরী মুক্তামনিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে সংবাদ মাধ্যমটি।

কয়েকটি ছবিসহ প্রতিবেদনের শুরুতেই বলা হয়েছে, এই মর্মহত ছবিগুলো ১২ বছর বয়সী বালিকার, যে ধীরে ধীরে ‘বৃক্ষ মানবে’ রূপান্তর হতে যাচ্ছে। এতোমধ্যে তার শরীরের উপরের অংশ ‘বৃক্ষ মানব’ রোগে পচে গেছে। অসহ্য যন্ত্রণা তো আছেই, তার হাতের সঙ্গে বুকের ডান পাশের অংশ বাদামী বর্ণ ধারণ করেছে, যা দেখতে গাছের বাকলের মতো।

খবরে বলা হয়, মুক্তামনির ডান হাত প্যারাসাইটসে আক্রান্ত। যা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বাঁকা হয়ে আসতে থাকা হাতটি এখন অব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বর্তমানে মুক্তামনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বাম হাত এখনও আক্রান্ত হয়নি। তারপরও চিকিৎসকরা বলছেন, রোগটি তার সারা দেহে ছড়িয়ে পড়েছে।

‘বৃক্ষ মানব’ লক্ষণকে চিকিৎসার ভাষায় বলা হয় এপিডারমোডাইপ্লাসিয়া ভেরাসিফরমিস (ইভি)। তবে মুক্তামনির প্রকৃতপক্ষেই সেই রোগ কিনা তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি চিকিৎসকরা। তবে যদি সে সত্যি এই রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে বিশ্বের ‘হাফ ডজন’ রোগীর মধ্যে সে একজন।

ইভি এমন একটি বিরল লক্ষণ যাতে চামড়ার ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। যা দেখতে আঁচিলের মতো হয়। লালচে আঁচিল সারাদেহে দেখা দেয়। পরে তা বর্ধিত হতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, দুটি অস্বাভাবিক ইভি জিনের কারণে এ রোগ হয়। এর একটি আসে মা ও অন্যটি বাবার শরীর থেকে। তবে এখন পর্যন্ত এই রোগের ভালো কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হয়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest