ইয়েমেন নিয়ে উদ্বেগ জাতিসংঘ

বিদেশের খবর: ইয়েমেনের বন্দরনগরী হুদায়দাতে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। বুধবার ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিতা এইচ ইয়েমেনে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি এক বিবৃতিতে জানান, সেখানকার অবকাঠামোর ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়, অমানবিক এবং যুদ্ধের মৌলিক নীতির পরিপন্থি।
তিনি আরো বলেন, চলমান সংঘর্ষ এবং হুদায়দা বন্দরের বেসামরিক অবকাঠামোতে যেভাবে অব্যাহতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, তাতে হাজার হাজার শিশু এবং তাদের পরিবার হুমকির সম্মুখীন।
কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন অবকাঠামোতে যেভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, তার ফলে শিশু এবং তাদের পরিবার রক্ষা করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলার ফলে এসব এলাকায় কলেরা এবং ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জনসাধারণকে নিজ হাতে শোক ব্যাজ পরালেন এমপি জগলুল

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: বাঙালি জাতির ইতিহাসে আগস্ট মাস একটি শোকাবহ মাস। শোকাবহ মাসের শুরুর দিন বুধবার দিনব্যাপী সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার নিজ নির্বাচনী এলাকায় নিজ হাতে জনসাধারণকে কালো ব্যাচ পরিয়ে দেন। এসময় তিনি দলীয় কার্যালয়,পথযাত্রী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ,রাস্তায় অবস্থিত বিভিন্ন পথযাত্রী এবং বিভিন্ন শ্রেনীপেশার জন সাধারনের সাথে কুশল বিনিময় করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের অবদান ও স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় রাখতে কালো ব্যাজ পরিয়ে দেন। দিনব্যাপী সংসদ সদস্য’র হাত দিয়ে জনসাধারণকে কালো ব্যাজ পরিধানকালে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ,উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সম্পাদক মিজানুর রহমান যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ,শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি একরামূল হক লায়েস, প্রভাষক অলিউর রহমান সহ আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ,শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দ ও সর্বসাধারণ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ তারকারা, ফেসবুকজুড়ে প্রতিক্রিয়া

বিনোদন সংবাদ: নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহমত পোষণ করে কণ্ঠ মেলাচ্ছেন তারকা শিল্পীরাও। সাংগঠনিক কোনও জোটবদ্ধ কর্মসূচি কিংবা প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও দেশের নাটক, চলচ্চিত্র এবং সংগীতাঙ্গনের মানুষরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন প্রতিনিয়ত। যেমন প্রতিবাদ এর আগে এতটা কোনও ইস্যুতে লক্ষ করা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশের পাশাপাশি কেউ কেউ সরাসরি রাজপথে নামারও আহ্বান জানাচ্ছেন।

তেমন কিছু উল্লেখযোগ্য সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হলো-
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম ১ আগস্ট নিজের ফেসবুকে লিখেছেন এভাবে, ‘‘সাধারণ মানুষের ভোগান্তি’’- এই সময়ে দাঁড়িয়ে এই কথাটি খুবই অবান্তর। কারণ, সাধারণ মানুষ সারা বছরই নানা ভোগান্তিতে ভোগেন। আমিও সাধারণ মানুষ, আপনিও। পায়ে হেঁটে কাজে এসেছি আজ। আরও আসবো, কষ্ট করতে রাজি আছি। কিন্তু এই স্বেচ্ছাচারিতায় বাঁচতে রাজি না। হোক আন্দোলন, হোক স্বনির্ভর অভিযান।
কোণঠাসা হয়ে ঝিমিয়ে, নুইয়ে, মেনে নিয়ে, সহ্য করে, আপস করে, ঠকে বাঁচার চেয়ে প্রতিবাদ করে নিজের বাঁচার পথ সুগম করা অনেক ভালো।

অন্যদিকে নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ ১ আগস্ট শনির আখড়ায় ট্রাকচাপার ঘটনা প্রসঙ্গে তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘শনির আখড়ায় আজ যা হলো সেটার পর বলতেই হচ্ছে- এদেশে আল্লাহর গজব নামতে বেশি দেরি নাই…।’

অন্যদিকে একই দিনে দেশের নন্দিত চিত্রনাট্যকার মাসুম রেজা সরকারের উদ্দেশে তার পোস্টে লেখেন, ‘সরকারের দায়িত্বশীল কেউ একজন শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিন। এ পর্যন্ত কী কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা ওদেরকে জানান। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট হলফনামা দেওয়া হোক। নৌমন্ত্রীর নিষ্ঠুর আচরণের তুলনায় তার সামান্য দুঃখপ্রকাশ যথেষ্ট নয়। পরিবহন নীতিমালায় কী কী থাকছে মন্ত্রিসভায় ওঠার আগেই তার সারাংশ জানানো হোক। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সাথে আছি।’
অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা লেখেন, ‘ধানমন্ডি থেকে উত্তরা যাচ্ছিলাম শুটিংয়ের উদ্দেশে। এয়ারপোর্ট ক্রস করার পর পরই দেখলাম জটলা, সব গাড়ি যে যার মতো তাড়াতাড়ি ঘোরাচ্ছে। সব গাড়ির সাথে পুলিশের গাড়িও ঘোরাচ্ছিল। ঠিক বুঝলাম না, পরে জানতে পারলাম বাস পোড়াচ্ছে সামনে। একটু পরই আমার পাশের বাসেই মারপিট শুরু, ভাঙচুর শুরু, কিন্তু আমার একটুও ভয় লাগলো না। বাসের ড্রাইভারের লাইসেন্স চাওয়াতে সে ক্ষেপে গেলেন- তাই শুরু হলো মারামারি। আমি দেখলাম স্টুডেন্টদের আবেগ, তারা তাদের সোনার দেশ তো সোনার মতোই খাঁটি রাখতে চায়। সমর্থন রেখে গেলাম।’

এদিকে নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন জাবালে নূর পরিবহনের লাইসেন্স বাতিল প্রসঙ্গে লেখেন, ‘শুধু জাবালে নূর এর ফিটনেস আর লাইসেন্স বাতিল করেই দায়িত্ব শেষ! দেশটা তো আবালে নূর দিয়ে ভরে গেছে! আগে ‘মানুষ মারার লাইসেন্স’ ফেরত দেন।’

অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রথম থেকেই বেশ অ্যাকটিভ সোশ্যাল মিডিয়ায়। ২৯ জুলাইয়ের একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হবে না কিচ্ছু…। রাজীবরা হাত পা খোয়ানোর কষ্টে অভিমানে মরবে। কার কী হবে! ওদের (চালকদের) বিচার কেউ করবে না। এত সময় কার আছে? সময় নেই বলেই পায়েলকে (এনএসইউর ছাত্র) ফেলে দিয়েছে ব্রিজ থেকে। তো কী হবে বিচার?
যে তিনটা বাচ্চাকে আজ (২৯ জুলাই) শরীর থেঁতলে দিয়ে খুন করা হয়েছে ওরা কি আবার কলেজে যাবার জন্য রাস্তায় দাঁড়াতে পারবে?
কী হবে আন্দোলন করে? অ্যাকসিডেন্টের কোনও বিচার নেই এটা ওরা জানে। তাই রাস্তার দাঁড়ানো মানুষকে পোকামাকড় মনে করে পিসে দেয় ওরা।
আচ্ছা কবে দেখছেন গণধোলাইয়ে যদি কোনও চোর মরে- তাহলে কি বিচার হয়? রাস্তায় একটা ছিঁচকে চোর পাইলে তো পেটাতে হেব্বি মজা লাগে। তাহলে এইসব মানুষখেকো শয়তান পিটায় মারতে কী মজা লাগবে বলেন!! এত আন্দোলন এর সময় কই। ইনস্ট্যান্ট পিটিয়ে মেরে রাস্তায় ফেলে রাখলেই হয়। ও মানুষ মারছে, তাই সে গণধোলাইয়ে মরছে। এইসব বিচার চাওয়ার সময় কই…। আর কবে দেখছেন বিচার পেতে? তাই যেখানে ওরা মারবে, ঠিক সেখানে ওরাও মরবে…। কি দরকার বিচার চেয়ে সময় নষ্ট করার।’

৩১ জুলাই যুক্তরাজ্যে বসে সংগীতশিল্পী প্রীতম আহমেদ লেখেন, ‘হে বাংলাদেশ- ১৮ বছর বয়সের বুকে এতো ঘৃণা ও ক্রোধ জমিয়ে তুমি কাকে দেশপ্রেমিক বানাতে চাও?’

একই দিন তরুণ কণ্ঠশিল্পী পুলক অধিকারী রাজপথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে লেখেন, ‘এতোদিন ছিলাম ডিজিটাল, আজ থেকে ফিজিক্যালি থাকবো রাস্তায় প্রিয় ছাত্রদের সাথে। উই ওয়ান্ট জাস্টিস।’

একটি ভিডিও শেয়ার দিয়ে কণ্ঠশিল্পী কোনাল লেখেন, ‘এক মায়ের আর্তনাদ, এক বোনের হাহাকার, এক বন্ধুর কান্না, আর কত? আর কতবার বললে, আর কত অপরাধ করলে, আর কত জীবন পিষ্ট হলে দেশমাতা শুনবেন? আর কত মায়ের বুক খালি হলে, বেঠিক হবে সঠিক?’

এদিকে টেলিভিশন অভিনয়শিল্পী সংঘের নেতা ও অভিনেতা রওনক হাসান ৩১ আগস্ট তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবে, পুলিশের মার খাবে আর তাদের বাবা মা বাসায় বসে ইয়া নফসি করবে, আমরা ফেসবুকে সহমত, মানি না, মানা যায় না ইত্যাদি ইত্যাদি বলে প্রতিবাদে ফেসবুক ফাটিয়ে ফেলবো তাতেই সমাধান ভাবছেন?
রাস্তায় নামলে কালার হবেন, সরকারবিরোধী বলে বিবেচিত হবেন, সরকারি যেসব সুবিধা ভোগ করছেন বা ভোগ করবেন বলে ভাবছিলেন সেগুলো ব্যাহত হবে বলে ঘরে বসে আছেন? অথবা আমি ছাপোষা মানুষ আমার কীইবা করার আছে- এসব ভাবছেন!
তাহলে শুনুন, রাস্তার নিরাপত্তার দাবি সরকারবিরোধী কোনও আন্দোলন নয়। এটি মানুষের মৌলিক দাবি। আওয়ামী লীগ আরও পাঁচ, দশ, বিশ বছর সরকারে থাক। কিন্তু অবশ্যই মানুষকে সাথে নিয়ে। এই প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। তাদের অগ্রাহ্য করে কখনও কেউ সফল হয়নি। আর সরকারবিরোধী দল যারা আছেন, সকল আন্দোলনে পলিটিক্স না খুঁজে জনগণের দাবির সাথে মিলিত হন। সবকিছুতেই সরকারের পতন চাই বলে তোতা পাখি না হয়ে মানুষের বন্ধু হন। আর সাধারণ আমরা যারা আম জনতা, আমরা কি ভাবছি ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের কাঁধে বন্দুক রেখে দাবি আদায় হয়ে যাবে! মা-বাবারা ঘরে বসে ইয়ানাফসি না করে রাস্তায় সন্তানের পাশে দাঁড়ান। যে পুলিশ বাচ্চাদের রক্তাক্ত করছেন কাল দেখুন আপনারই সন্তান অন্য পুলিশের হাতে রক্তাক্ত হবে। আর প্রতিবাদী বিপ্লবীরা ফেসবুকে আর ঘরে বসে না থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসুন হে!’

৩০ জুলাই অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া লেখেন, ‘এইসব ১২/১৫ বছরের বাচ্চারা তো শখ করে রাস্তায় নামেনি! তাদের বাধ্য করা হইছে! হ্যাঁ কষ্ট হচ্ছে। শান্তিনগর থেকে গুলশান হয়ে, ৩০০ ফিট ঘুরে, উলুখোলা হয়ে উত্তরা যেতে হচ্ছে আমাকে! কিন্তু আমাদের এই সাময়িক কষ্ট থেকে এইসব সমস্যার একটা শক্ত সমাধান জরুরি।
আজকে ওদের বন্ধুদের মৃত্যুর জন্য ওরা রাস্তা অবরোধ করেছে! কালকে আমি আমার কোনও বন্ধুর মৃত্যুর বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামতে চাই না!’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আগে থেকে একটু জানালে কিছু মানুষ যারা বিদেশ যাচ্ছে কিংবা কারও পরীক্ষা আছে- তাদের দুর্ভোগটা কম হতো!’

১ আগস্ট নিজের ফেসবুক দেয়ালে আন্দোলনরত ছাত্রদের একটি ব্যানারের ছবি পোস্ট করে অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোল লেখেন, ‘বুকে গুলি করিস না, এখানে বঙ্গবন্ধু ঘুমায়। বন্ধু জেগে উঠলে সব ধ্বংস হয়ে যাবে।’

এদিকে চলচ্চিত্রের মানুষদের চলমান আন্দোলন নিয়ে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ফেসুবক-টুইটারে। এরমধ্যে চিত্রনায়ক নিরব হোসেন ছোট্ট করে লেখেন, ‘সাথে আছি ভাই তোদের…।’

অভিনেত্রী-নির্মাতা-কণ্ঠশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন এই আন্দোলনের শুরু থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ অ্যাকটিভ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পোস্ট হলো এমন-
ওরা কিন্তু রাজনীতি বোঝে না- রাজনীতি করতে পথে নামেও নি.., কিন্তু রাজনীতির প্রতি, রাজনীতিবিদদের প্রতি কি পরিমাণ ঘৃণা জন্মে যাবে তাদের মনে ভেবে দেখছেন?
এই ছেলেপুলে গুলোই আগামী ২/১ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে- হয়তো ছাত্র রাজনীতিও করবে। আজকের এই ঘৃণা কি ওদের ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে দেবে?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- তিনি তো কোমল হৃদয়ের মানুষ… সারা জীবন সেভাবেই দেখে এসেছি তাঁকে। আজ কেন তাঁর কোমলতা দেখাতে দেরি করছেন? তাঁর সম্বন্ধে এই বাচ্চাগুলোর ধারণা কোনদিকে যাচ্ছে!
প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- আপনি ছাড়া আর কে আছে আমাদের? কার কাছে যাব? আপনাকে এই কিশোর কিশোরীরা ভুলভাবে জানুক তা তো চাই না। এদের ঘরে ফেরাতে আপনার একটি আশ্বাসের বাক্যই তো যথেষ্ট। আপনি কি তাদের মাথায় আপনার হাতটা একটু রাখবেন না?

এদিকে ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক তার সহকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে ১ আগস্ট লেখেন, ‘আমি রাজপথে নামছি। আপনি? চলুন সবাই মিলে সোচ্চার হই। আর কোনও মৃত্যু নয়।’

গীতিকার দেলোয়ার আরজুদা শরাফ পুলিশের প্রতি প্রশ্ন তোলেন গানের তালে, ‘কাকে পেটাও/ কার রক্ত ছিটাও/ কাকে করছো শেষ/ মনে রেখো- ওরাই বাংলাদেশ।’

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর কড়া বক্তব্য নৌপরিবহন মন্ত্রীকে ঘিরে। তার ভাষ্য এমন, ‘ইনবক্সে কেউ কেউ লিখছেন, ভাই, শাজাহান খান তো নৌপরিবহন মন্ত্রী। সড়ক পরিবহনের সমস্যায় উনি পদত্যাগ করবেন কেন? উনি নৌপরিবহনমন্ত্রী সবাই জানে। কিন্তু উনি যেহেতু উভয়চর প্রাণী সেহেতু উনার রাজত্ব ডাঙ্গায়ও বিদ্যমান। সড়ক পরিবহন খাতের নাটের গুরু এই লোক, এটা সবাই জানেন। তবে উনাকে বরখাস্তের কথা আসছে, উনার নিষ্ঠুরতা এবং মন্ত্রীর পদমর্যাদা খাটাইয়া ষণ্ডামি করার কারণে। নৈতিকভাবে তো উনার মন্ত্রিত্ব হারানোর কথা ছিল তারেক মাসুদের ঘটনার পর উনার ভূমিকার কারণেই। এইবার সেটা ষোলকলা পূর্ণ হইছে। এখানে মনে রাখা দরকার, কেউ উনার পদত্যাগ চাচ্ছে না, চাচ্ছে বরখাস্ত। পদত্যাগ করার মতো লজ্জা শরমবোধ উনার নাই। সবশেষে, সড়ক পরিবহন নীতিমালা বা আইন কানুন সংস্কার সেটা অন্য বিষয়। সেটার জন্য সরকারের দায়িত্বশীল মহলকে চাপ দিতে থাকেন।’

এক জীবনে অনেক প্রতিবাদী গান নিজে লিখে কণ্ঠে তুলেছেন মাকসুদুল হক। হয়েছে প্রচুর জনপ্রিয়। এবার তিনি নতুন গান না বাঁধলেও জানিয়েছেন কড়া প্রতিক্রিয়া। তার পোস্ট এমন, ‘মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাটে বাস ও যানবাহন ভাংচুরের খবর আসছে। আমি মনে করি কেবল দুটো আততায়ী বাসের রুট পার্মিট বাতিল করে বা বাস আটক করলেই জনগণ সন্তুষ্ট হবে না। সুষ্ঠু তদন্ত, চালক ও মালিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ, নিহত ও আহতদের সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ না পাওয়া অব্দি সমগ্র জাবালে নূর-এর বাস ও তাদের রুট পার্মিট বাতিল করার দাবি তুলুন। এদের পেটে লাথি না মারা অব্দি এরা এই হত্যাযজ্ঞ নির্দ্বিধায়, নির্দয়ে ও নির্বিকারভাবেই চালিয়ে যাবে। Stop them before it’s too late!’
এদিকে দেশের অন্যতম অভিনেত্রী বন্যা মির্জা কৌশলে লেখেন, ‘কাল (৩০ জুলাই) ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যামে থেমে পড়েছিল ঢাকা। তবু পথচলতি মানুষেরা কেউ বিরক্ত হননি একটুও। যেন বা আজকের ট্রাফিক জ্যাম এবং কয়েক ঘণ্টা থেমে থাকা ঢাকা নগরী- আমাদের জন্য খুব জরুরি ছিল।’

ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ ১ আগস্ট আন্দোলনের কিছু ছবি পোস্ট করে মুগ্ধতা নিয়ে লেখেন, ‘কিছুক্ষণ আগের দৃশ্য এয়ারপোর্ট রোডের সামনে। ছাত্ররা পুলিশের গাড়ির কাগজ-পত্র চেক করে দেখে কারোরই কোনও লাইসেন্স নাই। তারা শুধু গাড়ির গায়ে লিখে দেয়- লাইসেন্স নাই। পুলিশের লোগোটা কলমের কালি দিয়ে কেটে দেয়। কি অদ্ভুত ব্যাপারটা!’
অভিনেত্রী নওশীন নাহরিন মৌ লেখেন, ‘আজকের পর থেকে পুলিশকে সম্মান করার কোনও যুক্তি আছে? এই বাচ্চাগুলোর গায়ে যারা হাত তুলতে পারে তারা আর যাই হোক, মানুষ না।’
জ্যোতিকা জ্যোতি লেখেন, ‘“ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত, আমরা আনিব রাঙা প্রভাত… চল্ চল্ চল্…’
আর ঘরে বসে থাকা যায় না, আমার মন উত্তাল তোমাদের সাথে! আপনি আছেন তো?
৩১ জুলাই রাতে সোহানা সাবা লেখেন তার বাবা-চাচাদের মুক্তিযুদ্ধের সত্য ঘটনা টেনে অসাধারণ একটি লেখা। সেটি হলো এমন-
আমার বাবা আর বড় চাচ্চুকে ট্রেনিং এর জন্য ইন্ডিয়া পার করে দিয়ে আসেন আমার দাদুভাই৷ বাড়িতে এসে আমার দাদুভাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কারণ, ট্রেনিং শেষে ছেলেরা দেশে আসবে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে, হয়তো ছেলেরা আর ঘরে ফিরবে না। হয়তো এটাই শেষ দ্যাখা।
আমার বাবা তখন ক্লাস এইটের ছাত্র, ৫ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি সেজো।
আমার বাবা সাহসের সাথে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে ঘরে ফিরেছিলেন। তবুও বাবার চেয়ে আমি বেশি অহংকার করি দাদুভাই ও দিদুমনিকে নিয়ে৷ এই দুই মহৎপ্রাণ মানুষ দেশের জন্য প্রাণপ্রিয় ছেলেদের বলি দিতেও প্রস্তুত ছিলেন।
আজকেও বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েদের চেয়ে বেশি ধন্যবাদ জানাবো তাদের বাবা-মা’কে।
আমার ছেলের বয়স এখনও ৪ বছর হয়নি।
সে আরেকটু বড় হলে আমিও তাকে আন্দোলনে পাঠাতাম।
হতাম দেশের জন্যে জীবন বাজি রাখা ছেলের অহংকারী ‘মা’!

এদিকে কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী লেখেন, ‘যারা ইন্ধন দিয়ে বাচ্চাদের মারছেন, তারা কিন্তু পরবর্তী ফলাফল ভেবেই সরকারকে ডোবাচ্ছেন। এই আগুন কিন্তু থামানো মুশকিল।’

এই সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইমরান লেখেন, ‘এ মৃত্যুর দায়ভার কে নেবে? ৩টা তরতাজা প্রাণ ঝরে গেলো! বিচার কি আদৌ হবে? নাকি চলছে, চলবে?’

অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি লেখেন, ‘আমাদের নিরাপত্তার জন্যে শিশুরা মার খাচ্ছে। আজব ! যারা প্রতিদিন গণপরিবহনে যাতায়াত করেন তারা কোথায়? কাউকেই তো দেখছি না?
মনে রাখবেন অপরাধ যে সহে এবং অপরাধ যে করে উভয়ই অপরাধী।’
প্রসঙ্গত, এমন আরও অসংখ্য প্রতিক্রিয়া রয়েছে তারকাদের ফেসবুক দেয়ালে দেয়ালে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নতুন সড়ক পরিবহন আইনে যা আছে

দেশের খবর: ১৯৮৩ সালে সামরিক সরকারের সময়ে জারি করা ‘দ্য মোটর ভেহিক্যাল অর্ডিনেন্স’ ( মোটরযান অধ্যাদেশ)টি আদালতের নির্দেশে পরিবর্তন করে সড়ক পরিবহন আইন নামে পাস করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার আইনটির ভেটিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আইনটি আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদের একটি সূত্র। নতুন পরিবহন আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাসের বাধ্যবাধকতা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও নতুন আইনে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

যা আছে নতুন আইনে

১) আগের আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনও শর্ত ছিল না। নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চালককে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে।

২) চালকের সহকারীর পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া থাকতে হবে। সহকারী হতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্স নিতে হবে। ১৯৮৩ অধ্যাদেশে সহকারীদের লাইসেন্সের কথা থাকলেও তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত ছিল না।

৩) গাড়ি চালনার জন্য চালকের বয়স আগের মতোই কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। আর পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর।

৪) নতুন আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড দেওয়া যাবে। আগের আইনে এই ধরনের অপরাধের জন্য তিন মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল।

৫) চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে আইনের খসড়ায়।

৬) নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে কেউ গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এ আইন অমান্য করলে এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

৭) নতুন আইনের খসড়ায় ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে যেসব ক্ষেত্রে এমন অপরাধে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় চালকদের গ্রেফতার করতে পারবে।

৮) চালকরা যাতে আইন মেনে চলেন, সেজন্য প্রস্তাবিত আইনে পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা চালু কথা বলা হয়েছে।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশে (চালকদের) পয়েন্ট কাটার সিস্টেম আছে। অর্থাৎ, ড্রাইভার যদি একবার দোষ করেন তাহলে একটা বা দুইটা পয়েন্ট কাটা হতে থাকে। এভাবে পয়েন্ট নিল (শূন্য) হয়ে গেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়। নতুন আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে। ড্রাইভিং সংক্রান্ত বিধিবিধান যদি কেউ অমান্য করে তাহলে ধিরে ধিরে তার পয়েন্ট কাটা যাবে। মোট ১২ পয়েন্ট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কোন অপরাধে কত পয়েন্ট কাটা যাবে তা আইনের তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর পয়েন্ট শূন্য হয়ে গেলে আর ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকবে না। পয়েন্ট কাটা শেষে কারও লাইসেন্স বাতিল হয়ে গেলে তাকে ডিসকোয়ালিফাই করা হবে।

মোটরযানের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ না করলে এক পয়েন্ট কাটা যাবে। এভাবে আরও ১১টি পয়েন্ট রয়েছে, যেগুলো অপরাধ করলে ধীরে ধীরে কাটা যাবে।

ছয় মাস কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার দণ্ডে দণ্ডনীয় যে অপরাধ রয়েছে সেক্ষেত্রে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় চালককে গ্রেফতার করতে পারবে।

পেশাদার ও অপেশাদার চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন হবে। যদি কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালায় তাহলে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আগের অধ্যাদেশে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহারের জন্য ২ বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও নতুন আইনে ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

ফিটনেস চলে যাওয়ার পরেও মোটরযানের ব্যবহার করলে এক বছরের জেল বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। এই অপরাধে আগের আইনে ছয় মাস জেল বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতো। নতুন আইনে মোটরযানের মালিককে এই সাজা দেওয়া হবে।

দুর্ঘটনার জন্য দণ্ডবিধিতে তিন রকমের বিধান আছে। নরহত্যা হলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের সাজা হবে। খুন না হলে ৩০৪ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটালে ৩০৪ (বি) ধারা অনুযায়ী ৩ বছরের কারাদণ্ড হবে।

বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে কাউকে নিহত বা আহত করলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী সাজা হবে। দুই গাড়ি পাল্লা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটালে ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।

দুর্ঘটনায় না পড়লেও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর জন্য আইনে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে।

এক্সেল বা ওজনসীমা অতিক্রম (৫ টন ধারণক্ষমতার ট্রাক এর থেকে বেশি ওজন পরিবহন ) করলে গাড়ির মালিক ও চালককে ৩ বছরের কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।

মোটরযান চলাচলে সাধারণ নির্দেশাবলী নামে একটি নতুন ধারায় ২৫টি নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। গাড়ি চালানোর সময় চালক মোবাইল ফোন বা অনুরূপ সরঞ্জম ব্যবহার করতে পারবে না। মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হবে। সিট বেল্ট না বেঁধে গাড়ি চালানো, মহিলা, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং বয়োজ্যেষ্ঠ যাত্রীর জন্য সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনও যাত্রী বসবেন না বা বসার অনুমতি দেওয়া যাবে না, এটা লঙ্ঘন করলে এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মহিলাদের সিটে বসতে না দিয়ে যদি অন্য কেউ (পুরুষ যাত্রী) বসে যায় তার জন্য এক মাসের জেল বা ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে।

মদ পান করে বা নেশাজতীয় দ্রব্য খেয়ে গাড়ি চালালে, সহকারীকে দিয়ে গাড়ি চালালে, উল্টো পথে গাড়ি চালালে, নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য স্থানে গাড়ি থামিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে, চালক ছাড়া মোটরসাইকেল একজনের বেশি সহযাত্রী ওঠালে, মোটর সাইকেলের চালক ও সহযাত্রীর হেলমেট না থাকলে, ছাদে যাত্রী বা পণ্য বহন করলে, সড়ক বা ফুটপাতে গাড়ি সারানোর নামে যানবাহন রেখে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে, ফুটপাতের ওপর দিয়ে কোনও মোটরযান চলাচল করলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বার্সেলোনাকে ১-৪ গোলে উড়িয়ে দিল রোমা

খেলার খবর: ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রোমার কাছে ৪-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হারের পর, রোমার কাছে এটি বার্সেলোনার টানা দ্বিতীয় পরাজয়।

খেলার প্রথমার্ধের ৬ মিনিটেই রাফিনহার গোলে এগিয়ে যায় কাতালানরা। ৩৫ মিনিটে, রোমাকে সমতায় ফেরান এল শারাওয়ি। তাতে ১-১ গোলের সমতা নিয়েই শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা। বিরতির পর পরই আবারো এগিয়ে যায় বার্সা। এ সময় বার্সার নতুন তারকা ম্যালকম গোল করে এগিয়ে নেন কাতালানদের।

৭৮ মিনিটে, রোমার আলেসান্দ্রো ফ্লোরেনজি গোল করে সমতা ফেরান। এরপর, ৮৩ মিনিটে ব্রিয়ান ক্রিসতান্তে গোল করে এগিয়ে নেন রোমাকে। পরবর্তীতে ৮৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দিয়েগো পেরোত্তি গোল করে, রোমার ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।

ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নস কাপে, এটি রোমার প্রথম জয়। গত ম্যাচে তারা টটেনহ্যামের কাছে ৪-১ গোলে পরাস্ত হয়েছিল।

অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়নস কাপে বার্সার এটাই প্রথম হার। ৫ আগস্ট, এসি মিলানের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এবার শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা

খেলার খবর: শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় স্বাগতিকদের ৪ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারী দ. আফ্রিকা। এই জয়ে ৫ ম্যাচ সিরিজের ওয়ানডেতে ২-০ তে এগিয়ে গেল ফ্যাফ ডু প্লেসি ও তার দল।

প্রোটিয়া ওপেনার কুইন্টন ডি ককের ৭৮ বলে ৮৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। তার উপর ভর করেই লঙ্কানদের দেওয়া ২৪৫ রানের সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৪৩ বল হাতে রেখে ৬ উইকেট খরচায় ২৪৬ রান সংগ্রহ করে জয় তুলে নেয় সফরকারীরা।

ডি ককের পাশাপাশি সফরকারী দলটির সহজ জয়ের ম্যাচে অধিনায়ক ডু প্লেসি ৪১ বলে ৪৯ ও হাশিম আমলা ৪৩ বল থেকে সংগ্রহ করেছেন ৪৩ রান। অন্যদিকে, অলরাউন্ডার জেপি ডুমিনি ২৯ বল থেকে সংগ্রহ করেছেন ৩২ রান।

এছাড়া বল হাতে শ্রীলঙ্কানদের হয়ে আকিলা ধনঞ্জয় একাই শিকার করেছেন ৩ প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানকে। আর সুরঙ্গ লাকমল, কাশুন রাজিথা ও থিসারা পেরেরার ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন।

এর আগে বুধবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের ৭৯ (১১১) ও নিরোসান ডিকভালার ৬৯ (৭৮) রানে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৪ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক শিবির।

ম্যাচসেরা হয়েছেন কুইন্টন ডি কক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারতের বোলিং তোপে বিপদে ইংল্যান্ড

একপ্রান্ত দিয়ে ভারতীয় পেসারদের নিয়ন্ত্রিত স্যুইং এবং অপর প্রান্ত দিয়ে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ঘূর্ণি। পেস ও স্পিনের এমন আক্রমণে বিব্রত ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ। জো রুট ও জনি বেরিস্টোর পাল্টা লড়াই এবং ওপেনার জেনিংসের যথাযোগ্য সঙ্গতে ইংল্যান্ড প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষ করে ৯ উইকেটে ২৮৫ রান তোলে।

ট্রিপিক্যাল ব্রিটিশ পিচ যেমন হয়, এজবাস্টনের বাইশগজ ঠিক তেমনটা নয়। তুলনায় অনেক শুকনো পিচে পেসারদের ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম। স্বাভাবিকভাবেই এমন পিচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে নিতে চাইবেন সব অধিনায়কই। অন্য রাস্তায় হাঁটেননি জো রুট।

ভারতীয় বোলাররা এদিন ইংল্যান্ড শিবিরে মিলিত আক্রমণ চালালেও রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে সামলাতে হিমশিম খেয়েছে রুটরা। দিনের শুরুতে কুককে ফিরিয়ে অশ্বিনই ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন। লাঞ্চের পর ইংল্যান্ডের টপঅর্ডারে শামি জোড়া ধাক্কা দেন।

চা পানের বিরতির পর রুট দুর্ভাগ্যজনক রানআউট হতে ইংল্যান্ড ইনিংসে ধ্বস নামান অশ্বিন। সুযোগ মতো উমেশ-ইশান্তও তুলে নেন একটি করে উইকেট। দিনের শেষ ওভারে শামির বলে দীনেশ কার্তিক স্যাম কুরানের ক্যাচ না ছাড়লে ইংল্যান্ড প্রথম দিনেই অলআউট হয়ে যেত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং।
এর আগে বুধবার বিকেলে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে অভিভাবকদের মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়েছে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। এ ছাড়া কোনো কোনো স্কুলে বুধবার ক্লাস চলাকালেই স্কুল বন্ধ থাকার কথা জানিয়ে দেয়া হয়।
বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে রাস্তা অবরোধের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অঘোষিত নির্দেশে স্কুল বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজধানীর ভিকারুননিসার এক অভিভাবক ক্ষুদে বার্তা পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সন্তানকে স্কুলে পাঠাচ্ছি না। স্কুল কর্তৃপক্ষ ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest