সর্বশেষ সংবাদ-

পুলিশের সব প্রতিবেদন দেখতে চান ডিসিরা

দেশের খবর: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিভাগ নিয়ে ১৬টি প্রস্তাব এনেছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। এরমধ্যে রয়েছে, জেলায় সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর পুলিশি প্রতিবেদন। দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদন দেখতে চান তারা। মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক সম্মেলনের পঞ্চম অধিবেশনে (২৬ জুলাই) এই প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। প্রস্তাবগুলোর পক্ষে যুক্তিসহ বাস্তবায়নের সুপারিশও করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এসব জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চরাঞ্চলে একটি নৌথানা গঠনের জন্য প্রস্তাব এনেছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক। অন্যদিকে সঠিকতা ও মেয়াদ যাচাইয়ের জন্য সারাদেশের সব জেলা থেকে ইস্যু করা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের সব তথ্য একটি জাতীয় অনলাইন ডাটাবেইজে সংরক্ষণের প্রস্তাব করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে প্রতি উপজেলায় এক প্লাটুন আনসার নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে একটি থানা কিংবা তদন্ত কেন্দ্র অথবা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক। এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়, ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থানান্তরের জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ মানুষের জান-মাল রক্ষায় থানা স্থাপন করা প্রয়োজন।

সিলেট মহানগর এলাকায় সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর প্রতিবেদন মহানগর পুলিশ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সরবরাহ না করায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অগোচরে থাকে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জানতে চান। এ জন্য সিলেট মহানগর এলাকায় সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর প্রতিবেদন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানোর প্রস্তাব করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক।

মুজিবনগরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্রের ভেতরে স্মৃতিসৌধ, জাতির পিতার ভাস্কর্যসহ মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মিউজিয়াম, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও মুক্তিযুদ্ধকালের বিভিন্ন প্রতীকী স্থাপত্যসহ বাংলাদেশের মানচিত্র রয়েছে। অনেক ভিআইপি ও ভিভিআইপি কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করে থাকেন। এ জন্য মুজিবনগর নামে আনসার ব্যাটালিয়ন স্থাপন করার প্রস্তাব করেছেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক।

মাঠ প্রশাসনে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিজস্ব ও সরকারি কাজে সচিবালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। সচিবালয়ে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য ঢাকার জেলা প্রশাসক প্রস্তাব করেছেন।

কারাবন্দিদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের সব কারাগারে সহকারি সার্জন ও ডিপ্লোমা নার্সের শূন্য পদগুলো পূরণ ও অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্ধের প্রস্তাব করেছেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক। বগুড়া, টাঙ্গাইল ও ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক প্রস্তাব করেছেন জেলা কারাগারগুলোতে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের জন্য।

নৌ, অগ্নি দুর্ঘটনা দ্রুত প্রতিরোধে ও উদ্ধার কাজ তরান্বিত করতে বরিশাল বিভাগের প্রতিটি জেলায় একটি করে নৌ ফায়ার স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার। ডুবুরির সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

বিভাগীয় শহরে স্বয়ংসম্পূর্ণ মাদকদ্রব্য টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রস্তাব করেছেন খুলনা ও মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক এবং বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার। এর সপক্ষে যুক্তি হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০’-এর বিভিন্ন ধারার অপরাধে মামলা দায়েরের পর আলামত হিসেবে বিভিন্ন মাদকের রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠাতে হয়। এ জন্য টেস্টের ফল পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। ফলে অপরাধও বেড়ে যায়।

কারাবন্দিদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের জন্য বরাদ্দ বাড়াতে প্রস্তাব করেছেন ঝিনাইদহ ও ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক। সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর প্রস্তাব করেছেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক।

‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০’-এর ১৯ নম্বর টেবিলে অক্সিমরফোন হাইড্রোক্লোরাইড (ও মরফোন) নামক মাদককে তফশিলভুক্ত করে শাস্তির বিধান রাখার প্রস্তাব করেছেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি দিনাজপুরের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় ফেনসিডিলের পরিবর্তে এর ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে। মাদক আইনে এই নতুন মাদক সম্পর্কে কোনও বিধান না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায়, বেকারত্ব হ্র্যাস, গণ-উপদ্রব ও প্রকাশ্য জুয়া খেলার পরিমাণ কমানোর লক্ষ্যে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২৯০ এবং বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন-১৯৬৭-এর ৪ ধারার জরিমানার পরিমাণ বাড়াতে প্রস্তাব করেছেন রংপুরের জেলা প্রশাসক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ২৩ নির্দেশনা

দেশের খবর: সরকারের নেয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেদিকেও লক্ষ রাখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এ নির্দেশ দেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ডিসিদের সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে দৃষ্টি রাখাসহ ২৩টি নির্দেশনা দিয়েছেন।

নির্দেশনাগুলো হচ্ছে-

(১) সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

(২) যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযান চলবে।

(৩) জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সর্বক্ষেত্রে শান্তিশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্বপালন করতে হবে।

(৪) গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচনে উদ্যোগী হতে হবে।

(৫) তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে।

(৬) তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে।

(৭) শিক্ষার সব স্তরে নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধি, ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে।

(৮) ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ভূমিরক্ষায় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

(৯) কৃষি-উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।

(১০) ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাত প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

(১১) দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

(১২) পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

(১৩) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রশমনে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২’ এবং এ সংক্রান্ত স্থায়ী নির্দেশনাবলি অনুসারে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

(১৪) সাধারণ মানুষকে সহজে সুবিচার প্রদান ও আদালতে মামলাজট কমাতে গ্রাম আদালতগুলোকে কার্যকর করতে হবে।

(১৫) জেলা প্রশাসকরা জেলাপর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। এসব কমিটিকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে হবে।

(১৬) দফতরসমূহের বিদ্যমান সেবাগুলো তৃণমূলে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তথ্য মেলা, সেবা সপ্তাহ পালনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

(১৭) শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্যপরিবহন ও আমদানি-রফতানি নির্বিঘ্ন করা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাস নির্মূল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

(১৮) বাজারব্যবস্থার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

(১৯) নারী ও শিশু নির্যাতন ও পাচার, যৌতুক, ইভটিজিং এবং বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে নজরদারি বাড়াতে হবে।

(২০) নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

(২১) নিজ নিজ জেলায় ক্রীড়া, বিনোদন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়াতে হবে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংস্কৃতিবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তুলতে হবে।

(২২) প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

(২৩) পার্বত্য জেলাসমূহের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, বনাঞ্চল, নদী-জলাশয়, প্রাণিসম্পদ এবং গিরিশৃঙ্গগুলোর সৌন্দর্য সংরক্ষণ করতে হবে।

এছাড়া, পর্যটনশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুটিরশিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুধের চেয়েও গোমূত্রের দাম বেশি

ভিন্ন স্বাদের খবর: ভারতের রাজস্থান রাজ্যের গরুচাষীরা বলছেন, গরুর দুধের চেয়েও গরুর মূত্র বিক্রি তাদের জন্যে বেশি লাভজনক। তাদের অনেকে গোমূত্র বিক্রি করছেন গরুর দুধের থেকেও বেশি দামে। অনেকে আবার যে গোমূত্র বিক্রি করছেন, তার দাম গরুর দুধের প্রায় কাছাকাছি।

কৃষকরা বলছেন, গরুর দুধের দাম যেখানে লিটার প্রতি ২০ থেকে ২২ টাকা, সেখানে এক লিটার গোমূত্র কেউ বিক্রি করছেন ১৫ থেকে ৩০ টাকায়। কেউবা আবার দাম নিচ্ছেন ৫০ টাকাও।

তবে গরুর দুধ দোয়ানোর থেকে গোমূত্র সংগ্রহ করা অনেক বেশি কষ্টসাধ্য কাজ। সারা রাত জেগে বসে থাকতে হয় গোমূত্র সংগ্রহ করার জন্য।

তবে যে বাড়তি রোজগার হচ্ছে গোমূত্র বিক্রি করে, তার জন্য ওইটুকু কষ্ট সহ্য করতেও রাজী রাজস্থানের গরুচাষীরা। তবে দেশি প্রজাতির গরু, যেমন গির বা থারপার্কার গরুর মূত্রের চাহিদা বেশ বেশি। অন্য দিকে জার্সি গরুর মূত্র তুলনায় কম বিক্রি হয়।

কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, গোমূত্র থেকে তৈরি জৈব সার যেমন চাষের জন্য প্রয়োজনীয়, তেমনই গোমূত্রের মধ্যে যেসব উপকারী রাসায়নিক রয়েছে, যা ঔষধি হিসাবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও হিন্দুদের পূজা অর্চনার জন্যও গোমূত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

রাজস্থানের মহারানা প্রতাপ কৃষি ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় গোমূত্র নিয়ে বড় আকারে গবেষণা চালাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ইউ এস শর্মা বলেছেন, গোমূত্র থেকে অনেক গোপালক বাড়তি রোজগার করতে শুরু করেছেন। গোমূত্র সংগ্রহ করার জন্য বেশ কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠীও তৈরি হয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা আর জৈব চাষের ক্ষেতে দেওয়ার জন্যেও বেশ কয়েকশো লিটার গোমূত্র প্রয়োজন হয় প্রতিমাসে। তবে এখনও গোটা ব্যবস্থাটাই অসংগঠিত অবস্থায় চলছে।

কেন গোমূত্রের চাহিদা বাড়ছে?

আঞ্চলিক গবেষণা-পরিচালক শান্তি কুমার শর্মা বলেছেন, গোমূত্রের মধ্যে ৯৫% জল থাকলেও বাকি অংশের মধ্যে আড়াই শতাংশ ইউরিয়া আর অন্য আড়াই শতাংশের মধ্যে হরমোন, এনজাইম, অ্যাস্ট্রোজেন, ল্যাক্টোজসহ প্রায় ১৪-১৫ রকমের রাসায়নিক থাকে। গোমূত্রের মধ্যে গোবর আর গুড় মিশিয়ে গাঁজানো হয়, তারপরে সেটি কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়।

কৃষিবিজ্ঞানীদের একাংশ বলছেন, দেশে জৈব চাষের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোমূত্রের চাহিদাও বাড়ছে। বিশেষত রাজস্থানে বাড়ছে জৈব-চাষের এলাকা।

আর জৈব-ফসলের জন্য যে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, সেখানে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় কী ধরনের সার ব্যবহার করা হয়েছে ওই ফসল ফলাতে। রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হলে সেই ফসলকে ‘জৈব’ বলে আখ্যা দেওয়া হয় না। তাই সরাসরি গোমূত্র অথবা তার থেকে তৈরি সার জৈব চাষের জন্য অপরিহার্য।

কৃষি গবেষক শান্তি কুমার শর্মা বলেন, জৈব ফসলের চাহিদা শহরাঞ্চলের স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে বাড়ছে। তাই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গোমূত্রের চাহিদাও। অনেক ব্যবসায়ী গোমূত্রকে নানা ভাবে বাজারজাত করছেন। গরুচাষীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হলে গোমূত্রের যোগানও বাড়বে। তারাও গরু পালন করে বেশী রোজগার করতে পারবেন।

জৈব চাষ ছাড়াও হিন্দুদের পূজা অর্চনার জন্যও গোমূত্র মেশানো একটি উপাচারের প্রয়োজন হয় যার নাম পঞ্চগব্য। বিজ্ঞানীদের একাংশের দাবী গোমূত্রের ঔষধিগুণও রয়েছে। নানা রোগ নিরাময়ে গোমূত্র থেকে আরোহিত উপাদান কাজ করে বলে দাবী তাদের। যদিও এ নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘জ্যাম’ এর তারকা খচিত মহরত অনুষ্ঠিত

বিনোদন সংবাদ: প্রয়াত নায়ক মান্নার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কৃতাঞ্জলি চলচ্চিত্রের নতুন ছবি ‘জ্যাম’ এর মহরত জমকালো পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার আয়োজিত মহরত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, শেলী মান্না, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, ফেরদৌস ও পূর্ণিমা, সুচন্দা, এটিএম শামসুজ্জামানসহ অনেকে।

‘জ্যাম’ ছবিটি পরিচালনা করবেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূল। শুটিং শুরু হবে আগামী অক্টোবর মাসে। এ ছবির মূল ভাবনা প্রয়াত আহমেদ জামান চৌধুরীর। আর ছবির কাহিনী বিন্যাস করেছেন শেলী মান্না। ছবির সংলাপ ও চিত্রনাট্য করেছেন পান্থ শাহরিয়ার।

‘জ্যাম’ ছবিতে অভিনয় করবেন ফেরদৌস ও পূর্ণিমা। ছবিতে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত আর আরিফিন শুভর কাজ করার কথা আছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের বলেন, মান্না অনেক জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন। কিন্তু মধ্যগগন থেকে তিনি ঝরে পড়েছেন। আজকের দিনে তার মতো অভিনেতার দরকার ছিল। ‘জ্যাম’ ছবির জন্য শুভকামনা থাকলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতানী ভাদড়া প্রাইমারিতে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

জি.এম আবুল হোসাইন : সাতক্ষীরা  সদর উপজেলার সাতানী ভাদড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স আয়োজনে ও সেভ দ্য চিলড্রেন’র সহযোগীতায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সৈয়দ লিয়াকাত আলী। অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান, সমাজ ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্যা মোছা. মনজুরা খানম ইতি, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’র জিসিসি প্রকল্পের কমিউনিটি মোবিলাইজার মো. আবুল হোসেন, ইউপি সদস্য মো. আজিজার রহমান, অভিভাবক সদস্য মো. রুহুল আমিন, মুন্নি খাতুন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওবায়দুল্ল্যাহ প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, বিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক মন্ডলীর দ্বারা সময় উপযোগী পাঠদানের মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীদের সঠিক মেধা বিকাশে ভূমিকা রাখার জন্য ধন্যবাদ। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সকল শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীরা ভালো ফলাফল করায় ছাত্র-ছাত্রী সহ অভিভাবকদের প্রশংসা করেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীদের আধুনিক মেধা বিকাশের পথ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তিনি বিদ্যালয় ও শিশুদের কল্যাণে সকলকে অগ্রনী ভূমিকা রাখার আহবান জানান।

আলোচনা শেষে প্রথম সাময়িক পরিক্ষায় সকল শ্রেণির মেধা তালিকায় যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা ও পরিচালনা করেন সহকারি শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অর্থের অভাবে নিভে যাচ্ছে কলারোয়ার মেধাবী ছাত্রের জীবন

কলারোয়া ডেস্কঃ এই ছেলেটি এসএসসি এবং এইচএসসিতে এ প্লাস পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তির জন্য কোচিং করছে। গত দুই সপ্তাহ আগে তার শরীরে বি-ভাইরস রোগ ধরা পড়েছে। সে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন। তার অবস্থা অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামশ্য দিয়েছেন। কিন্তু তার চিকিৎসার টাকা যোগাড় করা দীনমজুর পিতার পক্ষে অসম্ভাব হয়ে পড়েছে। তাই তিনি ছেলেকে বাঁচাতে হৃদয়বান ব্যক্তিদের সাহায্যে সহযোগিতা চেয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। অসহায় এই ছেলেটি সাতক্ষীরার জেলার কলারোয়া উপজেলার ৮নং কেরালকাতা ইউনিয়নের হুলহুলিয়া গ্রামের দীনমজুর দিদার মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনির হাজীপুরে প্রতারক চক্রের হামলায় গৃহবধূ নিহত

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরার আশাশুনিতে প্রতারক চক্রের হামলায় এক বৃদ্ধা গৃহবধূ নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আশাশুনি উপজেলার হাজীপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এ সময় আটক করা হয়েছে স্বামী ও স্ত্রী দুই প্রতারককে।
নিহত গৃহবধূর নাম ফাতেমা খাতুন (৬০)। তিনি দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের মৃত আজিবর রহমানের স্ত্রী।
আটক প্রতারকদ্বয় হলো, আশাশুনি এলাকার মৃত শহিদুল ইসলামে ছেলে সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আমেনা খাতুন।
দেবহাটা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম খোকন জানান, দুপুরে এক মহিলাসহ তিন জনের একটি প্রতারক চক্র ফাতেমা খাতুনের বাড়িতে আসে। এ সময় তারা তাকে বলেন, আমরা আজমির শরীফ থেকে এসেছি। মা তোমার যা যা সমস্যা আছে সব আমরা ঠিক করে দেবো। তুমি তোমার বাড়ির পাশের কবর স্থান থেকে ১৪০ কদম হেটে মাটি আনো। মাটি আনতে যাওয়ার সময় সুকৌশলে এই প্রতারক চক্র গৃহবধূ ফাতেমার কাছ থেকে তার গলার সোনার চেইন, আংটি, হাতের দুটি চুড়ি, কানের দুটি দুল সবই হাতিয়ে নেয়। এরপর গৃহবধূ ফাতেমা তার বাড়িতে এসে দেখেন ওই প্রতারক চক্রটি তার বাড়ি থেকে চম্পট দিয়েছে। তিনি দ্রুত একটি মোটরসাইকেল ভাড়া করে ওই প্রতারক চক্রের পিছু নেন। এক পর্যায়ে আশাশুনি উপজেলার হাজীপুর গ্রামে যেয়ে তাদের গতিরোধ করতে গেলে তারা গৃহবধূ ফাতেমাকে সজোরে লাথি মারলে তিনি মটর সাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মারাতœক আহত হন। এরপর স্থানীয়রা তাকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে বিকালে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার তার মৃত ঘোষণা করেন।
ভাইস চেয়ারম্যান আরো বলেন, এ ঘটনা শুনে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় উক্ত প্রতারক চক্রের সদস্য সাইফুল ও তার স্ত্রী আমেনা খাতুনকে আটক করে দেবহাটা থানায় হস্তান্তর করেছেন। কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াছিন আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘বাংলাদেশ ব্যাংকে মাত্র তিন কেজি সোনা দূষিত হয়েছে’

দেশের খবর: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি সোনার মধ্যে মাত্র তিন কেজি দূষিত হয়েছে। এটা কোনো সমস্যাই নয়। এটা নিয়ে ইউজলেস (অপ্রয়োজনীয়) আলোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে এনবিআরের কথা বলার প্রয়োজন ছিল না।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গত ১৭ জুলাই দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণে অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। দৈবচয়ন পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা ৯৬৩ কেজি স্বর্ণ পরীক্ষা করে বেশিরভাগের ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়ে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে শুল্ক গোয়েন্দা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জমা রাখা হয়েছিল তিন কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার চাকতি ও আংটি, তা হয়ে আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। ২২ ক্যারেট সোনা, হয়ে আছে ১৮ ক্যারেট।’

পরে ওইদিনই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন যথাযথ নয় বলে দাবি করা হয়।

গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণের ‘হেরফের’ নিয়ে যে প্রতিবেদন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে, তা পুরোপুরি সত্য নয় বলে দাবি করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি আরো দাবি করেন, সেখানে রাখা স্বর্ণ পুরোপুরি নিরাপদে আছে। বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest