সর্বশেষ সংবাদ-
খালেদা জিয়া’র সুস্থতা কামনায় সাতক্ষীরায় জেলা বিএনপির দোয়াজেলা ক্রিকেট আম্পায়ার্স এন্ড স্কোরার্স এসোসিয়েশনের ত্রি-বার্ষিকী নির্বাচনসাতক্ষীরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মাদক চোরাচালানের হোতাসহ তিনজন গ্রেফতারScopri le ultime promozioni su wyns casino e inizia a vincere oggiAlles Wat Je Moet Weten Over Getlucky Casino Nederland Uitbetalingenনাসিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বিলুপ্তির প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভদৈনিক আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকার ৯ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা  দেবহাটায় জাতীয় প্রাণি সম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণি সম্পদ প্রদর্শনীর উদ্বোধনসাতক্ষীরায় জাতীয় দৈনিক রুপালী বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনসাতক্ষীরার মিঠু খানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করল বিএনপি

কলারোয়ায় শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব উদযাপাতি হয়েছে।
শনিবার (১৪জুলাই) বিকেলে জয় ডাঙ্কার বাদ্য সহযোগে পৌরসভাধীন উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়া শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গন হতে গোগ তুলশীডাঙ্গা শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির (মাসির বাড়ি) পর্যন্ত রথযাত্রা উৎসব পালন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
কলারোয়া সনাতন ধর্ম স্বেছাসেবক পরিষদ আয়োজিত ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহযোগিতায় বিপুল সংখ্যক ভক্তবৃন্দ উৎসবে অংশ নেন।
দুপুরে রথযাত্রা উৎসব উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা নারী মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সাংসদের সহধর্মীনি প্রধান শিক্ষক নাসরিন খাঁন লিপি।
রথযাত্রা সম্পর্কিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন।
কলারোয়া সনাতন ধর্ম স্বেচ্ছাসেবক পরিষদের সভাপতি শ্রী সন্দ্বীপ রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মনোরঞ্জন সাহা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক মন্ডলির সদস্য উপাধ্যক্ষ ময়নুল হাসান, কলারোয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বিপ্লব রায়, সন্তোষ কুমার পাল, শ্রীশ্রী ব্রক্ষ্ম হরিদাস ঠাকুর জন্মভিটা আশ্রমের সভাপতি অধ্যাপক কার্তিক চন্দ্র মিত্র, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিলিপ অধিকারি, সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার পাল, শিলা রানী হালদার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রদীপ পাল। সাবিক সহযোগিতা করেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ মনু, অসিম পাল বটু, গৌরাঙ্গ সোম, জয় দাস, মধু ঘোষ, আনন্দ ঘোষ, নিখিল অধিকারি, নিমাই অধিকারী, নিত্য গোপাল রায়, স্বপন পাল, মধুসৃদন হালদার, অধ্যাপক অসিম ঘোষ, উজ্জল দাস (প্রাণ) প্রমুখ।
রখের সারথি ছিলেন বাবু অর্জুন পাল। উৎসবটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ প্রচার করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘কলারোয়া নিউজ’ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের মাধ্যমে।
এর আগে সকালে মঙ্গল আরতি, শ্রী মদ্ভাগবত পাঠ ও ভজন কীর্ত্তন, ভোগ আরতি কীর্ত্তন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
বিশ্ব শান্তি ও মানবতার মঙ্গল কামনা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিকশিত হওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে আগতরা।
আগামি ২২জুলাই রবিবার শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের পূর্ণযাত্র বা উল্টোরথ অনুষ্ঠিত হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত, অস্ত্র-গুলি ও মাদক উদ্ধার

আসাদুজ্জামান: সাতক্ষীরায় পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে সদর উপজেলার বাঁশদহা গ্রামের কয়ারবিল ব্রিজের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার করা হয়েছে একটি ওয়ান শুটার গান, এক রাউন্ড গুলি ও বেশকিছু মাদকদ্রব্য। এ সময় আহত হয়েছে ৫ পুলিশ সদস্য।
গুলিবিদ্ধ নিহত মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহা গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৮) ও কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৪০)। তারা দুজনেই আন্তঃজেলা মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও রয়েছে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, এসআই রিয়াদুল, এএসআই সুমন ,এএসআই মাজেদুল ও দুই কনস্টেবল রুবায়েত ও তুহিন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ জানান, শনিবার বিকালে মাদক ব্যবসায়ী দেলোয়ার ও আবুল কালামকে কিছু গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ গোয়েন্দা পুলিশ বাঁশদহা বাজার থেকে আটক করে। রাতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা স্বীকার করে যে আজ রাতে মাদকের একটি বড় চালান ভারত থেকে আসবে। তাদেরকে নিয়ে মাদকের চালান উদ্ধারে যায় পুলিশ।
তিনি জানান, বাঁশদহার কয়ার বিল এলাকায় পৌঁছাতেই আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা তাদের সহযোগীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। তিনি আরো জানান, গোলাগুলির এক পর্যায়ে তাদের দুজনকে গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। গ্রামবাসীর সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষনা করেন।
তাদের কাছ থেকে এ সময় একটি ওয়ান শুটার গান, ১ রাউন্ড গুলি ও বেশ কিছু মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, আহত পুলিশ সদস্যদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

খেলার খবর: অ্যান্টিগার পর জ্যামাইকা টেস্টেও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের একই বেহাল দশা। তৃতীয় দিন সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্য ছাড়া আর চোখে পড়ার মতো কিছু ছিল না। বাংলাদেশের অধিনায়ক বল হাতে নিলেন ৬ উইকেট, আর ব্যাটিংয়ে করলেন হাফসেঞ্চুরি। কিন্তু অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৩৩৫ রানের লক্ষ্যে নেমে ১৬৮ রানে অলআউট বাংলাদেশ। তাতে ১৬৬ রানের হারে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ক্যারিবিয়ানদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হলো স্টিভ রোডসের শিষ্যরা।

বাংলাদেশের আরেকটি হতাশার মাঝে সাকিব ছিলেন উজ্জ্বল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস ১২৯ রানে গুটিয়ে দিতে নিয়েছেন ৬ উইকেট। লক্ষ্যে নেমে সব ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে একপ্রান্ত আগলে রেখে করেছেন হাফসেঞ্চুরি। কিন্তু অন্যদের সহযোগিতার অভাবে একা হাতে অলৌকিক কিছু করতে পারলেন না সাকিব।

জ্যামাইকা টেস্টে প্রায় তিন দিন হাতে রেখে ৩৩৫ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় দিন চা বিরতির আগেই ৫২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে তারা। সাকিবের প্রতিরোধে সেটা কিছুটা সামলে উঠলেও শেষ সেশনে তাদের বাকি ৭ উইকেট তুলে নেয় উইন্ডিজ বোলাররা।

লক্ষ্যে নেমে ৭ বল খেলে রানের খাতা না খুলে বিদায় নেন তামিম ইকবাল। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে উইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের কাছে এলবিডাব্লিউ হন তিনি।

২ রানে প্রথম উইকেট হারানো বাংলাদেশ প্রতিরোধ গড়ে মুমিনুল হক ও লিটন দাসের ৩৮ রানের জুটিতে। কিন্তু তাদের দুজনের বিদায়ে শেষ হয় দ্বিতীয় সেশনের খেলা। লিটন ৩৩ ও মুমিনুল ১৫ রানে আউট হন।

রোস্টন চেজের বলে মুমিনুল এলবিডাব্লিউ হলে চা বিরতির ঘোষণা দেন আম্পায়ার। দিনের শেষ সেশনে সাকিবকে সঙ্গ দিতে নেমে মাহমুদউল্লাহ ৪ রানে বিদায় নেন। ৬৭ রানে বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারালে অধিনায়কের সঙ্গে মুশফিকুর রহিম পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটিতে প্রতিরোধ গড়েছিলেন। কিন্তু ৩১ রানে তাকে বোল্ড করেন হোল্ডার।

স্বাগতিক অধিনায়কের ওই ওভারেই প্রথম বল খেলতে গিয়ে এলবিডাব্লিউ হন নুরুল হাসান। মাত্র ১০ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজ বিদায় নেন। তবে সাকিব ফিফটি করে আউট হলে শেষ আশাটুকুও নিভে যায় সফরকারীদের।

৭৯ বলে ২৩তম ফিফটি হাঁকানো সাকিব দিন শেষ হওয়ার খানিক আগে বোল্ড হন হোল্ডারের বলে। ৮১ বলে ১০ চারে ৫৪ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। কামরুল ইসলাম রাব্বি মাত্র ২ বল খেলে হোল্ডারের পঞ্চম শিকার হন। ওই ওভারেই আবু জায়েদ রাহীকে বোল্ড করেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক।

প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া হোল্ডার দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৯ রান খরচায় নেন ৬ উইকেট।

তার আগে দিনের শুরুটা ভালো করেছিল বাংলাদেশ। আগের দিন ১ উইকেট নেওয়া সাকিব তৃতীয় দিন পান আরও ৫ উইকেট। ১৯ রানে ১ উইকেট হারিয়ে এদিন খেলা শুরু করে উইন্ডিজ। প্রথম সেশন তারা শেষ করে ৬ উইকেটে ১০৮ রানে। বাকি ৪ উইকেট স্বাগতিকরা হারায় দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই।

দিনের চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ডেভন স্মিথকে (১৬) নুরুল হাসানের স্টাম্পিং বানান সাকিব। ১৯তম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার একইভাবে কিমো পলকে (১৩) সাজঘরে পাঠান। পরের ওভারে সাকিব তুলে নেন ক্যারিবিয়ানদের চতুর্থ উইকেট। কিয়েরন পাওয়েল ১৮ রানে এলবিডাব্লিউ হন।

পরের ওভারে তাইজুল ইসলাম এলবিডাব্লিউ করে ফেরান শাই হোপকে (৪)। ৬৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর স্বাগতিকরা প্রতিরোধ গড়েছিল শিমরন হেটমায়ার ও চেজের জুটিতে। হেটমায়ারকে (১৮) ফিরিয়ে ৩৩ রানের এই জুটি ভাঙেন রাহী।

শেন ডাউরিচের সঙ্গে ২৩ রানে অপরাজিত থেকে চেজ প্রথম সেশন শেষ করেন। লাঞ্চ বিরতির পর বেশিদূর এগোতে পারেননি তিনি। ৩২ রানে মিরাজের কাছে বোল্ড হন চেজ। অধিনায়ক হোল্ডার মাত্র ১ রান করে মিরাজের পরের ওভারে আউট হন। ৪৫তম ওভারের প্রথম বলে মিগুয়েল কামিন্সকে ফিরিয়ে ইনিংসে নিজের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন সাকিব। ওই ওভারের শেষ বলে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকেও ফেরান বাংলাদেশের এই বাঁহাতি স্পিনার।

১৭ ওভারে ৫ মেডেনসহ ৩৩ রান খরচায় সাকিব নেন ৬ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া মিরাজ শেষ ইনিংসে পেয়েছেন ২টি।

প্রথম ইনিংসে ৩৫৪ রান করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশকে গুটিয়ে দিয়েছিল ১৪৯ রানে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মীমাংসা আজ

খেলার খবর: ৩২…১৬…৮…৪…২। কাউন্টডাউন চলছে এক মাস ধরে। চলবে আজ শেষ দিনের মতো। ৯০ মিনিট…১২০ মিনিট…বড়জোর টাইব্রেকার। ব্যস! ৩২ দল নিয়ে শুরু ফুটবল মহাযজ্ঞের পর্দা নামবে এরপর। চার বছরের জন্য এই সাম্রাজ্যের নতুন সম্রাট পেয়ে যাবে বিশ্ব। এখন সবার প্রতীক্ষা সেই মহারাজের অধিষ্ঠানের জন্য।

হয় ফ্রান্স। নয় ক্রোয়েশিয়া।

এমন এক ফাইনাল যে হবে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কেউ ভাবতে পারেননি। অন্যতম ফেভারিট হিসেবে ফ্রান্সের শেষ দ্বৈরথ পর্যন্ত টিকে থাকায় চমক নেই তেমন। কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া! কেউ ভাবেননি। কিন্তু ভাবনার করিডর দিয়েই যদি এগোবে বিশ্বকাপ, তাহলে আর তা অমন রোমাঞ্চ ছড়াবে কী করে! তাইতো জার্মানি বাদ পড়ে যায় প্রথম রাউন্ডে, আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোতে, ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে। আর ক্রোয়েশিয়া ঠিকই উঠে আসে ফাইনালে। এবার রূপকথার পূর্ণতায় শিরোপা জয়ের উপলক্ষ লুকা মডরিচ-ইভান রাকিটিচ-মারিও মান্দজুকিচদের দলের সামনে।

কিন্তু ফ্রান্স কি আর ছেড়ে কথা বলবে! গৌরবের বিভা ছড়িয়ে ২০ বছর আগের বিশ্বকাপজয়ী বীরদের পাশে বসার সুযোগ তাদের সামনে। জিনেদিন জিদান, ফাবিয়ান বার্থেজ, লঁরা ব্লদের সঙ্গে ব্র্যাকেটবন্দি হওয়ার হাতছানি পল পগবা, আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান, কিলিয়ান এমবাপ্পেদের। তা কিভাবে হেলায় হারান তাঁরা!

ফ্রান্সের জন্য এই ফাইনালের আবহে বারবার ঘুরে ফিরে আসছে ২০১৬ ইউরো। সেবারের ফাইনালে পর্তুগালের বিপক্ষে সংশয়াতীত ফেভারিট ছিল দিদিয়ের দেশমের দল। কিন্তু বিস্ময়করভাবে নিজ দেশে হেরে যায় তারা। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আজকের বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সকে সবাই ফেভারিটের মুকুট পরিয়ে দিলেও তাতে প্রবল প্রত্যাখ্যান। ‘দুই বছর আগে ইউরোর ফাইনালে খেলা ৯ জন আছে। ওরা জানে, সেদিন কী হয়েছিল! কী দুঃখজনক অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে ওদের যেতে হয়েছিল’—কাল মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনে বলার সময়ও কোচ দেশমের মুখে বেদনার ছায়া। অধিনায়ক উগো লরি একটু আগে এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন, ‘দুই বছর আগে ফাইনালের প্রতিপক্ষকে যেমন হালকাভাবে নিয়েছিলাম, এবার সে ভুল আর করব না।’

ক্রোয়েশিয়ার জন্য আজ হারানোর কিছু নেই। পুরোটাই প্রাপ্তির হাতছানি। নক আউট পর্বের তিনটি ম্যাচে ১২০ মিনিট লড়াই করে ফাইনালে এসেছে। দেশটির ৪০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে পারলে সবাই চলে আসে আজকের মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে। ঘটনার গুরুত্ব ফুটে ওঠে কাল সকালে বলা ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচের কথায়, ‘গ্যালারিভরা স্টেডিয়ামে পুরো বিশ্বের সামনে খেলব আমরা। এখানে গুটিয়ে থাকার কিছু নেই বরং সময়টা উপভোগ করার। এটি আমাদের সবার জন্যই জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। আমাদের দলের অনেকের চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা আছে। তবে এ বিশ্বকাপ ফাইনাল সব ক্রোয়াটের জন্য। সেখানে নিজেদের সর্বোচ্চ দিতে আমরা প্রস্তুত।’ হেরে যাওয়া নিয়েও ভীত নন তিনি, ‘হারলেও তা মর্যাদার সঙ্গেই মেনে নেব। তার আগে চাই আমাদের দেশকে সবচেয়ে গৌরবময় অবস্থায় প্রতিনিধিত্ব করতে। বিশ্বকাপ জিতলে এত ছোট্ট দেশ থেকে আসা আমাদের চেয়ে গর্বিত কেউ হবে না। তা না পারলে প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানাব। কারণ এটাই জীবন। এটাই ফুটবল।’

মাত্র ৯ মাস আগে দায়িত্ব নিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে বদলে দিয়েছেন দালিচ। বাছাই পর্বে ধুঁকতে থাকা দলটিকে তুলে এনেছেন বিশ্বকাপ ফাইনালে। অধিনায়ক লুকা মডরিচ মাঠের অর্কেস্ট্রার কন্ডাক্টর হতে পারেন, তবে ওই সুর-তাল-লয়ের তো হয় সব কোচের মাথা থেকেই। মডরিচও তাই দালিচকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত, ‘কোচের প্র্রভাব তো দেখতেই পাচ্ছেন, আমরা এখন বিশ্বকাপ ফাইনালে। খুব কঠিন সময়ে তিনি দলের দায়িত্ব নেন। আমাদের বিশ্বকাপ খেলা ছিল ঝুঁকির মধ্যে। তিনি আমাদের সবার সঙ্গে কথা বলে সবার ভেতরে আত্মবিশ্বাস গুঁজে দেন। তাঁর অধীনে ইউক্রেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে আমরা জিতি। পরে বিশ্বকাপে খেলারও যোগ্যতা অর্জন করি। এটাই দলে দালিচের প্রভাব। দলে তিনি স্থিরতা এনেছেন। তাঁর মনোযোগ, কাজের ধরন, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি—সব আমার পছন্দ। শুধু কোচ নয়, মানুষ হিসেবেও তিনি দারুণ।’

দালিচ এরই মধ্যে রূপকথার নায়ক। দিদিয়ের দেশমের সামনেও অমরত্বের হাতছানি। ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারলে মারিও জাগালো ও ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের পর তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে অধিনায়ক ও কোচের ভূমিকায় জিতবেন বিশ্বকাপ।

প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে এখন পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল। সেখানে ফ্রান্সের তিন জয়; বাকি দুই ম্যাচ ড্র। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পিছিয়ে থেকেও ক্রোয়েশিয়াকে হারায় ফরাসিরা। এই পিছিয়ে থাকার ব্যাপারটায় এই বিশ্বকাপে বড্ড অভ্যস্ত ক্রোয়াটরা। নক আউট পর্বের তিনটি ম্যাচই পিছিয়ে থেকেও শেষ হাসি তাদের। অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্ট মিলে ফ্রান্সের মোট পিছিয়ে থাকা ১০ মিনিটও নয়। অবশ্য আজকের রেফারির শেষ বাঁশির পর কোন দল এগিয়ে থাকে, কোন দল পিছিয়ে—সেটিই এখন মুখ্য।

বিশ্বকাপ রংধনুর কত রং খসে পড়েছে এরই মধ্যে! আজ ঝরবে সর্বশেষটি। টিকে থাকবে কেবল ফ্রান্সের নীল অথবা ক্রোয়েশিয়ার লাল-সাদা। হয় ফরাসি সৌরভে মাতোয়ারা হবে ফুটবলবিশ্ব, অথবা ক্রোয়াট ফুটবল রূপকথা পাবে পূর্ণতা। কী যে হবে, ফুটবল দেবতা ছাড়া তা আর জানেন কে!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুর্দান্ত সাকিবের ৬ উইকেট, তবুও ধুঁকছে বাংলাদেশ

খেলার খবর: বেলস তুলে যখন লাঞ্চের ঘোষণা দিলেন আম্পায়াররা, ধারাভাষ্য কক্ষে ইয়ান বিশপ বললেন, “ট্যাকটিক্যালি ও বোলিংয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাকিব।” বাংলাদেশ অধিনায়ক সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখলেন লাঞ্চের পরও। বল হাতে গড়লেন রেকর্ড। লাঞ্চের পরপরই গুটিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

জ্যামাইকা টেস্টের তৃতীয় দিনে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৯ রানে অলআউট হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিবিয়ানদের সর্বনিম্ন স্কোর এটিই।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশের লড়াইয়ে ফেরার নায়ক সাকিব। ৩৩ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। দেশের বাইরে যা বাংলাদেশের সেরা বেলিংয়ের রেকর্ড।

তবে প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড ছিল ২০৫ রানের। জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ৩৩৫ রান। এই রিপোর্ট লেখার সময় বাংলাদেশ ৪উইকেট হারিয়ে রানে ধুঁকছে বাংলাদেশ। ক্রিজে আছেন সাকিব ১৩ এবং মুশফিক ০ রানে। আউট হয়েছেন তামিম ইকবাল ০, লিটন দাশ ৩৩, মুমিনুল ১৫ ও মাহমুদুল্লাহ ৪ রান করে।

সফরে আগের তিন ইনিংসে বাংলাদেশ একবারও করতে পারেনি দেড়শ রানও।

আগের দিন শেষ বিকেলে দারুণ ডেলিভারিতে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে বোল্ড করেছিলেন সাকিব। এ দিন সকালও শুরু করেন যেন সেখান থেকেই। ইনিংসের প্রথম চারটি উইকেটই বাংলাদেশ অধিনায়কের। গড়ে তুলতে দেননি কোনো জুটি।

আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যানকেই ফিরিয়েছেন সাকিব। তবে উইকেট দুটিতে বড় অবদান ছিল নুরুল হাসান সোহানের। ডেভন স্মিথ ও কিমো পলকে দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় স্টাম্পিং করেছেন বাংলাদেশের কিপার।

কাইরান পাওয়েল চেষ্টা করেছিলেন পাল্টা আক্রমণের। একটি চার ও ছক্কায় চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন স্পিনারদের। সাকিব ফিরিয়েছেন তাকেও।

উইকেট শিকারে যোগ দেন তাইজুল ইসলামও। দারুণ ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ করেন শেই হোপকে। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত খেলা শিমরন হেটমায়ারকে ১৮ রানে থামান পেসার আবু জায়েদ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ লাঞ্চে গিয়েছিল ৬ উইকেটে ১০৮ রানে। লাঞ্চের পর শেষ চার উইকেট নিতে বাংলাদেশের লেগেছে মাত্র ৯ ওভার।

মূল বাধা হয়ে থাকা রোস্টন চেইস বোল্ড হয়েছেন মিরাজকে সুইপ করতে গিয়ে। মিরাজের বলেই স্টাম্পড হয়েছেন জেসন হোল্ডার।

এই উইকেটে রেকর্ড বইয়ের নাম লিখিয়েছেন সোহান। বাংলাদেশের প্রথম কিপার হিসেবে এক ইনিংসে করেছেন তিনটি স্টাম্পিং।

এরপর শেষ দুটি উইকেট এক ওভারেই নিয়েছেন সাকিব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ ৪ উইকেট হারিয়েছে ৭ রানের মধ্যে।

৩৩ রানে ৬ উইকেট নিয়ে সাকিব পেছনে ফেলেছেন রবিউল ইসলামকে। ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়েতে রবিউলের ৭১ রানে ৬ উইকেট ছিল দেশের বাইরে বাংলাদেশের সেরা বোলিং।

বোলিংয়ের পর সাকিবের ব্যাটের দিকেও তাকিয়ে থাকবে দল। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যে এখন ব্যাটিংয়েই!
সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৩৫৪

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৪৯

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ৪৫ ওভারে ১২৯(আগের দিন ১৯/১) (ব্র্যাথওয়েট ৮, স্মিথ ১৬, পল ১৩, পাওয়েল ১৮, হোপ ৪, হেটমায়ার ১৮, চেইস ৩২, ডাওরিচ ১২*, হোল্ডার ১, কামিন্স ১, গ্যাব্রিয়েল ০; আবু জায়েদ ৮-১-২১-১, মিরাজ ১১-২-৪৫-২, কামরুল ২-০-৩-০, সাকিব ১৭-৫-৩৩-৬, তাইজুল ৭-০-২৪-১)।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আবার নির্বাচিত হলে আওয়ামী লীগ ওয়াদা পূরণ করবে

দেশের খবর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পুনরায় নির্বাচিত হলে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে দেয়া ওয়াদা পূরণ করবে।

তিনি বলেন, ‘যে ওয়াদা আপনাদের দিয়েছি নিশ্চয়ই তা পূরণ করবো। নিশ্চয়ই এদেশ উন্নত-সমৃদ্ধশালী হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে আপনারা যদি নৌকা মার্কায় ভোট দেন আর আওয়ামী লীগ যদি সরকারে আসতে পারে তাহলে প্রত্যেক গ্রামে প্রতিটি জনগোষ্ঠী নগরের সুবিধা পাবে এবং সুন্দরভবে বাঁচবে। প্রত্যেকটি গ্রামকে আমরা নগরে উন্নীত করবো-শহরে উন্নীত করবো।’

প্রধানমন্ত্রী পাবনা পুলিশ লাইন্স মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে একথা বলেন।

বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি এসময় সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘আপনাদের দোয়া চাই, সহযোগিতা চাই। বাংলাদেশকে আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলবো। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা বৃথা যেতে পারে না।’

তিনি বলেন, আমার জীবনে তো চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আজকে স্বজনহারা বেদনা নিয়েই আমি এসেছি শুধু আপনাদের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে এসেছি। কারণ, আমার বাবা চাইতেন এদেশের প্রতিটি মানুষ সুন্দর ভাবে বাঁচবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি কাজ করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন বলেই আমরা সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আগামী নির্বাচনে আপনারা যদি নৌকা মার্কায় ভোট দেন আমরা আবারো ক্ষমতায় আসবো। আবার আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাবো।

তিনি এসময় নৌকায় ভোট প্রদানের জন্য জনগণের অঙ্গীকার আহবান করলে উপস্থিত হাজার হাজার জনতা দুই হাত তুলে নৌকায় ভোট প্রদানে তাদেও প্রতিশ্রুতির কথা জানান।

সমাবেশস্থল থেকেই তিনি পাবনাবাসীর জন্য ৪৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

পাবনাবাসীর উদ্দেশ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমরা আপনাদের জন্য এতগুলো উপহার নিয়ে হাজির হয়েছি। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন, আমরা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এই নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই উন্নয়ন হয়েছে। কারণ নৌকা দেয়। নৌকায় ভোট দিয়ে আমরা মাতৃভাষার অধিকার পেয়েছি, নৌকায় ভোট দিয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ঈশ্বরদী থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত রেললাইন আবার চালুর উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন। সেই সঙ্গে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা পর্যন্ত ট্রেন চালুরও ঘোষণা দেন।

চার দলীয় জোট আমলের সঙ্গে তাঁর সরকারের শাসনামলের তুলনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ চায় জনগণের কল্যাণ, আওয়ামী লীগ চায় দেশের কল্যাণ। আমরা ক্ষমতায় এলে মানুষের কল্যাণে কাজ করি।

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের কাজই হলো লুটপাট, দুর্নীতি, হত্যা, ধর্ষণ ও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ।

বিএনপি-জামায়াতের সহিংস আন্দোলনের কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘নিজেরা বিদ্যুৎ দিতে পারে নাই, তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে। ইঞ্জিনিয়ারকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। আমাদের পুলিশকে রাস্তায় পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ৭০টা সরকারি অফিস পুড়িয়েছে, সাড়ে তিন হাজার বাস পুড়িয়েছে, ২৯টা রেল পুড়িয়েছে, ছয়টা ভূমি অফিস পুড়িয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণ করার জন্য এবার আমরা চার লক্ষ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। এতোবড় বাজেট কোনোদিন কেউ দিতে পারেনি। বিএনপি সরকারের আমলে বাজেট ছিল মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকা। উন্নয়ন বাজেট ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উন্নয়ন বাজেট এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার।’

এ সময় জোট সরকারের আমলে পাবনায় বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের তালিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরা যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই মানুষ হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে। সারা বাংলাদেশে এই তান্ডব তারা সৃষ্টি করেছিল।

‘কই আমরা তো প্রতিশোধ নিতে যাইনি। আমরা পুরোটা সময় কাজে লাগিয়েছি দেশের মানুষের উন্নয়নে’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তাকে তো আমরা গ্রেফতার করিনি। কোর্টে রায় হয়েছে। এতিমের সম্পদ চুরি করলে সাজাতো হবেই।’

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার বিষয়ে কোরআন শরীফেও নিষেধ আছে। এতিমের জন্য আনা টাকা তারা এতিমদের দেয় নাই। নিজেরা আত্মসাৎ করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষকে দিতে জানে।
মাদক-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বিষয়ে সবাইকে সচেতন করে শেখ হাসিনা বলেন, মাদক একটা পরিবার-সমাজকে ধ্বংস করে দেয়।

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ একটা দেশ, একটা সমাজ, একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।

সন্তানদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখার নির্দেশনা দিয়ে বাবা-মা, অভিভাবক, শিক্ষক, ইমাম সবার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, সবাই সর্তক থাকুন। সন্তান কোথায় যায়, কি করে, কার সঙ্গে মেশে খোঁজ রাখবেন। সবাইকে এক হয়ে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।

অভিভাবক-শিক্ষক-আলেম-ওলামা সমাজের সচেতন মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-মাদকের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের সময়ে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, জাতির পিতা এ দেশ স্বাধীন করে দিয়েছে। আর আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশ, কারো কাছে ভিক্ষা করে চলবো না। মাথা উঁচু করে চলবো।

‘সাড়ে সাত কোটি মানুষকে কেউ দাবায়া রাখতে পারবা না’, জাতির পিতার ভাষণের এই উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব। বাংলাদেশকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে নাই, দাবিয়ে রাখতে পারবে না। জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করবো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন ‘স্বর্ণযুগে’: রাজনাথ সিং

দেশের খবর: বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে ‘স্বর্ণযুগে’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান অবস্থাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘সোনালী অধ্যায়’ বা ‘স্বর্ণযুগ’ বলে অভিহিত করেছেন।

দুপুরে সারদায় পুলিশ একাডেমিতে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী ভবন ও আইটি সেন্টার উদ্বোধন এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন।

রাজনাথ বলেন, ‘ভবনটির নাম মৈত্রী; এক কথায় আমাদের সম্পর্কের মূল সুর মৈত্রী। আজ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি উচ্চতায় পৌঁছেছে।’

ভারত ও বাংলাদেশ অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসী শক্তির মোকাবেলায় সব সময় হাতে হাত মিলিয়ে চলেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন,‘আমাদের অংশীদারিত্ব, আমাদের জনগণের সমৃদ্ধির পাশাপাশি তাদেরকে মৌলবাদ এবং চরমপন্থার হাত থেকে রক্ষা করার জন্যও কাজ করছে।’

শুধু ভারত ও বাংলাদেশ নয়, সমগ্র অঞ্চলে মৌলবাদ এবং চরমপন্থার বিস্তার একটি গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় অঙ্গীকারের সর্বোচ্চ প্রশংসা করি আমরা। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের ‘শূন্য-সহনশীলতা’ নীতি আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। আমাদের জনগণের এবং এ অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা সংস্থাসমূহের মধ্যে চমৎকার সহযোগিতা রয়েছে, যার প্রতি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি।’

‘ঘৃণা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসের মতাদর্শ থেকে দুদেশের জনগণ ও সমাজকে রক্ষার অভিন্ন অঙ্গীকার থেকে এ সহযোগিতার উৎপত্তি’, বলেন তিনি।

এই যুদ্ধে ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানান রাজনাথ।

ভারত ও বাংলাদেশ অভিন্ন ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, পরিবার ও আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ এক বিশেষ সম্পর্ক বহন করে। উভয় দেশ একটি সমন্বিত বাহিনী হিসেবে স্বাধীনতা যুদ্ধে লড়াই করেছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে পারস্পরিক আস্থার এক অনন্য দৃষ্টান্ত বলে রাজনাথ মন্তব্য করেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীসহ বাংলাদেশ ও ভারতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার তিনদিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। রবিবার ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ষষ্ঠ ভারত-বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

শনিবার রাজশাহী যাওয়ার আগে সকালে তিনি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ঢাকায় যমুনা ফিউচার পার্কে একটি ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার উদ্বোধন করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে বেলজিয়াম

খেলার খবর: ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা-জার্মানির বিদায়ের পর ইংল্যান্ড কিংবা বেলজিয়ামের হাতেই শিরোপা দেখছিলেন অনেকেই। দুই দলই রাশিয়া বিশ্বকাপে ফেবারিটের তকমা নিয়েই এসেছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, দুই ফেবারিটকে আজ মাঠে নামতে হয়েছে তৃতীয় স্থান অর্জনের লড়াইয়ে। মর্যাদা রক্ষার এই শেষ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ইংলিশদের ২-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বেলজিয়াম। আগামীকাল রবিবার মস্কোতে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া ফাইনাল।

গতিময় দুই দলের লড়াইয়ে ম্যাচের ৪র্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। নাসের চ্যাডলির ক্রস ছয় গজ বক্সে পেয়ে দারুণ দক্ষতায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিউনিয়ার। প্রথমার্ধের বাকী সময় বেলজিয়ামের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে ইংল্যান্ড। কিন্তু সাফল্য আসেনি। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বেলজিয়াম।

৭১তম মিনিটে এরিক ডায়ার বল নিয়ে ঢুকে পড়েন ফাঁকা ডি বক্সে। গোলকিপার থিবাত কর্তোয়াকে পরাস্ত করে ফাঁকা গোলপোস্ট বরাবর শট করেন। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে প্রচণ্ড গতিতে ডাইভ দিয়ে গোলমুখ থেকে বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন ভিনসেন্ট কম্পানি! এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের ব্যবধান। ইংলিশদের দুর্ভাগ্য ছাড়া কী বলবেন একে?

ম্যচের ৮২তম মিনিটে ইংলিশদের জালে আবারও গোল! ডি ব্রুইনের পাস থেকে ইংলিশদের জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এইডেন হ্যাজার্ড। ম্যাচের বাকী সময় আর গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। দারুণ এই জয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ সাফল্য পেল তৃতীয় স্থান অর্জন করা বেলজিয়াম।

চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফ্রান্সের কাছে সেমিফাইনালে হেরে শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে যায় ব্রাজিলকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারানো বেলজিয়াম। অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনাকে হারানো ক্রোয়েশিয়া।

কোয়ার্টার ফাইনালে দুই হলুদ কার্ডের কারণে সেমিতে না খেলা থমাস মিউনিয়ার ফিরেছেন। তাছাড়া ফেলাইনির পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন টাইলিমান্স। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড একাদশে অনেকগুলো পরিবর্তন এসেছে। ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকারের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন ফিল জোনস। তাছাড়া ড্যানি রোজ, লফটাস-চেক, ফাবিয়েন ডেলফ, এরিক ডায়ারও ইংল্যান্ডের একাদশে সুযোগ পেয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest