ওয়ানডেতে শ্রীলংকাকে হারালো অন্য দক্ষিণ আফ্রিকা

খেলার খবর: টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই হওয়ার টাটকা দুঃস্মৃতি পেছনে ফেলে রঙিন পোশাকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল দক্ষিণ আফ্রিকা। কাগিসো রাবাদার আগুনে পেস ও তাবরাইজ শামসির বিষাক্ত স্পিনে স্বাগতিক শ্রীলংকার দর্প চূর্ণ করে জয় দিয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল প্রোটিয়ারা।

রোববার ডাম্বুলায় প্রথম ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেটে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। রাবাদা ও শামসির দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৩৪.৩ ওভারে মাত্র ১৯৩ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। জবাবে জেপি ডুমিনির ঝড়ো ফিফটিতে ১৯ ওভার বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়ানডেতে শ্রীলংকার বিপক্ষে এটি তাদের টানা নবম জয়।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলংকাকে নতুন বলে কাঁপিয়ে দেন রাবাদা। তার তোপের মুখে মাত্র ৩৬ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর দুই পেরেরা কুশাল ও থিসারার ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে শ্রীলংকা। দু’জনই হাঁটেন পাল্টা আক্রমণের রাস্তায়। ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ৯২ রানের টর্নেডো জুটি।

এ সময় পেসাররা সুবিধা করতে না পারায় ১৮তম ওভারে বাঁ-হাতি লেগ-স্পিনার শামসির হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। অধিনায়ককে হতাশ করেননি শামসি। ৩০ বলে ৪৯ রান করা থিসারাকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক জুটি ভাঙার পর তিনিই হয়ে ওঠেন ত্রাস। ৭২ বলে সর্বোচ্চ ৮১ রান করা কুশালকেও ফেরান শামসি।

এরপর বেশিদূর এগোয়নি স্বাগতিকদের ইনিংস। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৩৩ রানে চার উইকেট নেয়া শামসির হাতেই উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার। রাবাদাও ৪১ রানে নেন চার উইকেট।

মাঝারি লক্ষ্য তাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটাও ভালো হয়নি। পঞ্চম ওভারে টানা দুই বলে হাশিম আমলা ও আইডেন মার্করামকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন লংকান স্পিনার আকিলা ধনঞ্জয়া। তৃতীয় উইকেটে ৮৬ রানের জুটি গড়ে সেখান থেকে দলকে পথ দেখান কুইন্টন ডি কক ও ডু প্লেসি। দু’জনই ফেরেন সমান ৪৭ রান করে।

এরপর ডেভিড মিলার ও মুল্ডারকে নিয়ে বাকি পথটুকু ঝড়ের গতিতে পাড়ি দেন ডুমিনি। তিনি ৩২ বলে করেন অপরাজিত ৫৩ রান। বুধবার একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ওয়ানডে। এএফপি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলংকা ১৯৩/১০, ৩৪.৩ ওভারে (উপুল থারাঙ্গা ১০, কুশাল পেরেরা ৮১, থিসারা পেরেরা ৪৯, আকিলা

ধনঞ্জয়া ১১। রাবাদা ৪/৪১, শামসি ৪/৩৩)।

দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৬/৫, ৩১ ওভারে (হাশিম আমলা ১৯, ডি কক ৪৭, ডু প্লেসি ৪৭, ডুমিনি ৫৩*, মুল্ডার ১৪*। আকিলা ধনঞ্জয়া ৩/৫০)।

ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা

৫ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : তাবরাইজ শামসি (দক্ষিণ আফ্রিকা)।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কম্বোডিয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন, সব আসন ক্ষমতাসীন দলের!

বিদেশের খবর: কম্বোডিয়ার সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল কম্বোডিয়ান পিপলস পার্টি। প্রশ্নবিদ্ধ এ নির্বাচনের মাধ্যমে আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম হলো তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতাসীন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের। খবর এপির।
গত বছর কম্বোডিয়ার প্রধান বিরোধী দল ন্যাশনাল রেসকিউ পার্টিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে সেদেশের সুপ্রিম কোর্ট। এ রায়টি রাজনৈতিক বলে অভিযোগ রয়েছে।
কম্বোডিয়ার সরকারের খিও কানহারিথ জানান, ১২৫টি আসনের সবক’টিতেই কম্বোডিয়ান পিপলস পার্টি জয় পেয়েছে। দলটি ভোট পেয়েছে ৭০ ভাগ।
প্রধান বিরোধী দল না থাকলেও নির্বাচনে ২০টি দল অংশ নিয়েছিল। তবে দেশজুড়ে বল প্রয়োগের অভিযোগ করেছেন দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা।
নির্বাচনের আগে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানায়, বিরোধী দল ন্যাশনাল রেসকিউ পার্টি।
এ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে হোয়াইট হাউজ। কম্বোডিয়ার ওপর ভিসা নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করারও ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ব্যালট পেপারে প্রেম নিবেদন!

ভিন্ন স্বাদের সংবাদ: প্রেমিক-প্রেমিকারা প্রেম নিবেদনের ক্ষেত্রে হরেক রকম অভিনব উপায় বেঁছে নেয়। যুগ যুগ ধরে এই ধারা চলে আসছে। সম্প্রতি এক অদ্ভুত প্রেম নিবেদনের গল্প সামনে এসেছে। এক প্রেমিক তার ভালোবসারা কথা জানিয়েছে ব্যালট পেপারে। আর এই ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানে সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া সাধারণ নির্বাচনে।

পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ-গুলালাই (পিটিআই-জি) এর নেতা আয়েশা গুলালাই তার নির্বাচনী আসন (এনএ-৫ নওশেরা-১) আসন থেকে প্রার্থী হয়ে মাত্র একটি ভোট পেয়েছেন। রিজালপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ নম্বর কেন্দ্রে এ ভোটটি পড়ে। তবে ব্যালটে ভোটের পরিবর্তে ভোটার ‘আই লাভ ইউ’ লেখেন। পরে ভোটটি প্রিজাইডিং অফিসার বাতিল করে দেন।

পিটিআই-গুলালাই নির্বাচনে কোনো আসনে জিততে ব্যর্থ হয়েছে। আয়েশা গুলালাই নওশেরা-১ আসনে পিটিআই প্রার্থী সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ খাত্তাকের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনে তিনি মাত্র একটি ভোট পেলেও সেটি কিন্তু আসলেই মনে দাগ কেটে রাখার মত। কেননা, সেই একটি ভোটেই আয়েশা গুলালাইকে লিখিতভাবে প্রেম নিবেদন করেছেন ভোটার।

আয়েশা গুলালাই পিটিআই থেকে বের হয়ে নতুন দল পিটিআই-গুলালাই গঠন করেছিলেন। তিনি পিটিআই ছাড়ার পূর্বে অভিযোগ করেছিলেন, ইমরান খান তার মুঠোফোনে আপত্তিকর এসএমএস পাঠিয়েছিলেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন পিটিআই প্রধান ইমরান খান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জে বাল্যবিবাহ রোধে দিনব্যাপী কর্মশাল অনুষ্ঠিত

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে ১৮’র আগে বিয়ে নয়, বাল্যবিবাহ রোধে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল ১০ টায় কালিগঞ্জ উপজেলা অফিসার্স কল্যাণ ক্লাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নুর আহম্মেদ মাছুমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ ইফতেখার হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ ওয়াহেদুজ্জামান, থানা অফিসার ইনচার্জ হাসান হাফিজুর রহমান প্রমুখ। নবযাত্রা প্রকল্পের আয়োজনে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিবাহ রেজিস্ট্রারগন, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও এনজিও কর্মকর্তাগণ এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি নায়িকা ববিতা

বিনোদন সংবাদ: তার নামের আগে পরে কোনো বিশেষণ লাগে না। এ দেশে একটাই ববিতা যিনি চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দায় মুগ্ধ এক কবিতা হয়ে আছেন। তার অভিনয়ের আলোয় দীর্ঘদিন ধরেই উদ্ভাসিত ঢাকার সিনেমা। তার হাসিতে, তার সৌন্দর্যের মুগ্ধতা ছড়িয়েছে দেশ ছেড়ে বিদেশেও।

আজ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী সেই ববিতার জন্মদিন। আর এই দিনটি এবার মহাসুখে পালন করছেন তিনি। গত সপ্তাহে ছুটে গেছেন কানাডায় একমাত্র পুত্র অনিকের কাছে। ববিতার একমাত্র পৃথিবী এখন আদরের অনিক। তাকে ছাড়া সব আনন্দ-আয়োজন বৃথা। তারপরও মন চাইলেই অনিকের কাছে ছুটে যাওয়া যায় না।

ববিতার ছেলে অনিক সেখানে ওয়াটার লু ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা, শিক্ষকতা এবং গবেষণা কর্মে ব্যস্ত। তাই তারও ছুটে আসা সব সময় সম্ভব হয় না। গত রমজানের ঈদটা মা দেশে আর পুত্র বিদেশে একাকী কাটিয়েছেন। একটা চাপা কষ্ট ভর করেছিলো দুজনের মনেই। তবে নিজের জন্মদিনে সেই কষ্টটাকে আর বাড়তে দিলেন না ববিতা। ছুটে গেছেন ছেলের কাছে। সেখানে কোরবানির ঈদও কাটাবেন।

ববিতার পুরো নাম ফরিদা আক্তার পপি। ১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা নিজামুদ্দীন আতাউব একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন এবং মাতা বি. জে. আরা ছিলেন একজন চিকিৎসক।

বাবার চাকরি সূত্রে তারা তখন বাগেরহাটে থাকতেন। তবে তার পৈতৃক বাড়ি যশোর জেলায়। শৈশব এবং কৈশরের প্রথমার্ধ কেটেছে যশোর শহরের সার্কিট হাউজের সামনে রাবেয়া মঞ্জিলে।

তিন বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়বোন সুচন্দা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, বড়ভাই শহীদুল ইসলাম ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মেজভাই ইকবাল ইসলাম বৈমানিক, ছোটবোন গুলশান আখতার চম্পা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং ছোটভাই ফেরদৌস ইসলাম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় দুই শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন ববিতা।

ববিতার চলচ্চিত্রে শুরুটা হয়েছিল ষাটের দশকের শেষ দিকে। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী পপি (ববিতার ডাক নাম) ‘সংসার’ ছবিতে রাজ্জাক ও সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবির নির্মাতা ছিলেন জহির রায়হান। ছবিটি মুক্তি পায়নি। জহির রায়হান ববিতাকে নিয়ে ‘জ্বলতে সুরুজ কা নিচে’ নামে একটি উর্দু ছবির কাজ শুরু করেন। মাঝপথে থেমে যায় এই ছবিটিরও কাজ। এরপর জহির রায়হান রাজ্জাক ও ববিতাকে নিয়ে তৈরি করেন চলচ্চিত্র ‘শেষ পর্যন্ত’। আর এটিই ছিল ববিতার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র। তারপর থেকেই ঢাকাই ছবিতে এই নক্ষত্রের উত্থান। আজও তিনি আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন অভিনয়ে।

ববিতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রশংসিত হন। তিনি পরপর তিন বছর একটানা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নিয়ে রেকর্ড করেন। ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে ‘অনঙ্গ বউ’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি বেঙ্গল ফ্লিম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় শ্রেষ্ঠ নায়িকার পুরস্কার পান।

এছাড়াও সরকারি এবং বেসরকারি অসংখ্য পুরস্কার তিনি লাভ করেছেন। এজন্য তাকে ‘পুরস্কার কন্যা’ বলা হতো। তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সবচেয়ে বেশিবার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২০১৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় ববিতাকে।

ববিতা অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে অশনি সংকেত, রামের সুমতি, নিশান, মন্টু আমার নাম, প্রতিজ্ঞা, বাগদাদের চোর, লাভ ইন সিঙ্গাপুর, চ্যালেঞ্জ, হাইজ্যাক, মায়ের জন্য পাগল, টাকা আনা পাই, স্বরলিপি, তিনকন্যা, লটারী, শ্বশুরবাড়ি, মিস লংকা, জীবন সংসার, লাইলি মজনু, বসুন্ধরা, গোলাপী এখন ট্রেনে, নয়নমনি, সুন্দরী, অনন্ত প্রেম, লাঠিয়াল, এক মুঠো ভাত, মা, ফকির মজনু শাহ, জন্ম থেকে জ্বলছি, বড় বাড়ির মেয়ে, পেনশন, দহন, চন্ডীদাস ও রজকিনী, দিপু নাম্বার টু ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

আমরাও চাই আরো অনেকদিন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকুন ববিতা। অভিজ্ঞতার ছায়া দিয়ে যান ঢাকাই চলচ্চিত্রে এই ক্রান্তিলগ্নের প্রতিটি মুহূর্তে। শুভ জন্মদিন নায়িকা!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শাজাহান খানকে সংযত হয়ে কথা বলতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

দেশের খবর: নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে সংযত হয়ে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (৩০ জুলাই) রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে ডেকে নিয়ে তিনি এই নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক মন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কথা বলেন নৌমন্ত্রী। ভারতের মহারাষ্ট্রে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হওয়ার সঙ্গে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে তুলনা করেন তিনি। এ কারণে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আর এতে বিব্রত হয়েছে সরকার।

নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে আরও সংযত হয়ে কথা বলার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকার বিব্রত হয় এমন যেকোনও মন্তব্য পরিহার করতে হবে। কথা বলার সময় আরও সতর্ক থাকতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ না করে মহারাষ্ট্রের সড়ক দুর্ঘটনার রেফারেন্স দেওয়া ঠিক হয়নি।’

শাজাহান খান যা বলেছিলেন

রবিবার সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মোংলা বন্দরের জন্য একটি মোবাইল হারবার ক্রেন ক্রয়ের বিষয়ে চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শাজাহান খান বলেন, ‘ভারতের মহারাষ্ট্রে এক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা গেছে, তা নিয়ে কোনও হইচই নেই। অথচ বাংলাদেশে সামান্য কোনও ঘটনা ঘটলেই হইচই শুরু হয়ে যায়।’

মহারাষ্ট্রের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে কুর্মিটোলার সড়ক দুর্ঘটনাকে স্বাভাবিক বলছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, ‘আগে চুক্তিটা হোক, তারপর বলছি।’ চুক্তি শেষে তিনি এ বিষয়ে আর কোনও কথা না বলে বেরিয়ে যান।

নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

এদিকে একইসঙ্গে এই ঘটনায় এমন আচরণ ও আপত্তিজনক মন্তব্য করায় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এরপর সচিবালয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে তিনি বলেন, ‘পদত্যাগ সমাধান নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করাই প্রধান কাজ। সরকার সেটাই করবে।’

সোমবার বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এরমধ্যে রয়েছে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের ক্ষমাপ্রার্থনা, বাসচালকদের গ্রেফতার, লাইসেন্সবিহীন চালকদের গাড়ি চালানো বন্ধ ইত্যাদি। এসব দাবি বাস্তবায়নে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছে তারা।

রবিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টো দিকে) বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো দিয়া আক্তার মীম ও আব্দুল করিম সজীব। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে ভর্তি করা হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিক বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিক্ষার্থী নিহত: ২ বাসের চালক-হেলপার গ্রেফতার

দেশের খবর: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় দুই বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার চারজনকে গ্রেফতারের খবর জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জানান, রাতভর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

রবিবার কুর্মিটোলায় বাস চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

এদিকে দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনের রাস্তায় মানববন্ধনে দাঁড়াতে গেলে পুলিশের বাধায় শুরুতে তাদের কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়। সেখান থেকে সরে এসে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে রাস্তা অরবোধ করতে গেলে সেখানেও শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় উত্তরাগামী বাস থামিয়ে বেশকিছু শিক্ষার্থীকে পুলিশ সদস্যরা জোর করে বাসে তুলে দেয় বলে অভিযোগ করেছে তারা। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের সামনে ফের জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

‘ছাত্র হত্যার বিচার চাই/ উই ওয়ান্ট জাস্টিস/ চলার পথটা যদি বিপদজনক হয় তাহলে দেশ সামনে এগুবে কী করে? বাস নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ড্রাইভিং বন্ধ করুন/ ক্ষমতার জোরে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা’- এমন লেখাযুক্ত বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন হাতে নিয়ে স্লোগান দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি কাজী শাহান হক জানান, শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় রবিবার রাতে থানায় একটি মামলা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আসামে ৪০ লাখ মানুষকে বাদ দিয়ে নাগরিকত্ব তালিকা

বিদেশের খবর: ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত খসড়া তালিকা থেকে অাসামের প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে প্রদেশের সরকার। সোমবার আসামের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন (এনআরসি) কর্তৃপক্ষ এ তালিকা প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসামে পাড়ি জমানো অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ১৯৫১ সালের পর এই প্রথম নাগরিকত্বের তালিকা হালনাগাদ করলো আসাম।

এনআরসির কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি খসড়া তালিকা মাত্র। সুতরাং এখনই কাউকে গ্রেফতার অথবা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে সমালোচকরা বলেছেন, নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়াদের অধিকাংশই প্রদেশের সংখ্যালঘু মুসিলম জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।

এনআরসি কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে ৩ কোটি ২৯ লাখ আবেদন জমা পড়েছিল। এরমধ্যে যাচাই-বাছাই উতড়ে নাগরিকত্বের উপযুক্ত হিসেবে ২ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন। তবে যথাযথ নথি ও তথ্য-উপাত্ত দিতে না পারায় ৪০ থেকে ৪১ লাখ আসামিজ ভারতীয় নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।

এনআরসির একজন সমন্বয়ক জোর দিয়ে বলেছেন, এটি একটি খসড়া তালিকা মাত্র এবং চূড়ান্ত তালিকা নয়। তালিকায় যারা জায়গা পাননি, তারা আবারও আবেদন করতে পারবেন।

ভারতের আসামই একমাত্র রাজ্য যেখানকার বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বিভিন্ন-নথিপত্র জমা দেয়ার পাশাপাশি নিবন্ধিত হতে হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর একদিন আগে অর্থাৎ ২৪ মার্চের পূর্বে আসামিজদের বংশধররা যে সেখানে বসবাস করতেন সেই দাবির পক্ষে কাগজপত্র জমা দিতে হয়েছে এবারের এনআরসিতে জায়গা পাওয়ার জন্য। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুদ্ধ শেষে জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের।

এর আগে ১৯৫১ সালে এক জরিপ চালানোর পর প্রথমবারের মতো এনআরসি তালিকা প্রস্তুত করে আসাম। ওই সময় আসামের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৮০ লাখ। পরে ২০০৫ সালে রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার এবং অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় এক চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই তালিকা হালনাগাদ করা হয়। ১৯৮৫ সালের আসাম অ্যাকর্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

২০০৫ সালের পর আবারো এনআরসি তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু হলেও রাজ্যের বিভিন্ন অংশে প্রায়ই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর জেরে বিভিন্ন সময় হালনাগাদ কাজ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পরে ২০০৯ সালে আসাম পাবলিক ওয়ার্ক নামের একটি বেসরকারি সংস্থা রাজ্যের অবৈধ বাংলাদেশিদের সনাক্ত করার কাজ অব্যাহত রাখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

পরে সুপ্রিম কোর্ট নির্বিঘ্নে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণ কাজ চালু রাখতে আসাম সরকারকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়। এর তিন বছর পর আসামে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত খসড়া তালিকা সোমবার প্রকাশ করা হলো।

এদিকে, নাগরিকত্বের দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে আসামের সীমান্তলাগোয়া মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ ও মনিপুর রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আধা-সামরিক বাহিনীর ২২ হাজার সদস্য আসাম এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে ভারতে পাড়ি জমানোর পর যে সংখ্যালঘুরা সেখানে ছয় বছর অতিবাহিত করেছেন; তারা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবেন বলে কেন্দ্র থেকে একটি আইনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু আসামসহ অন্যান্য রাজ্য সরকার এই আইনের বিরোধিতা করেছে।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদি নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের অঙ্গীকার করেছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর ২০১৬ সালে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকার নাগরিকত্ব সংশোধন বিল-২০১৬ সালে পাস করে।

কিন্তু বিজেপির এই প্রস্তাবে আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও মনিপুরের কিছু রাজনৈতিক দল নাখোশ; যারা ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জোট গঠন করে সরকারে রয়েছে। এই ইস্যুতে বিজেপির ওপর থেকে তারা সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়ারও হুমকি দিয়েছে।

এনআরসি প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হীমান্ত বিশ্ব শর্মা। অতীতে তিনি বলেছেন, তালিকায় যাদের নাম থাকবে না তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

অন্যদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোওয়াল বলেছেন, এনআরসির খসড়া তালিকায় যদি কারো নাম না থাকে তাহলে তাকে বিদেশি হিসেবে মনে করা যাবে না। কারণ এই তালিকা প্রকাশের পর বাদ পড়া মানুষজন তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণের যথেষ্ট সুযোগ পাবেন এবং আবেদনের মাধ্যমে তারা তালিকাখভুক্ত হতে পারবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest