সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরা গ্রীন কোয়ালিশনের ষান্মাসিক পরিকল্পনা পর্যালোচনা কর্মশালাকয়রায় ক্রয়কৃত জমির ধান নষ্ট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগসাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উদ্যোগে উপকারভোগীর মাঝে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার চেক বিতরণনেপাল-তিব্বতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবলের ফাইনাল: টাইব্রেকারে চ্যাম্পিয়ন আশাশুনি উপজেলা দলকোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না – ওসি জাহাঙ্গীর আরিফপ্রাণ সায়র খাল ধারে সাতক্ষীরা ল স্টুডেন্টস ফোরামের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচিকলারোয়ায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ: বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশনদেবহাটার খলিশাখালীর চরে সুপেয় পানির সংকট : ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের দাবিসি.আর দত্ত এর ষষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী এবং রঞ্জন কর্মকারের মৃত্যুতে স্মরণসভা

যুব কমিটি বসুখালী কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির কমিটি গঠন

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: বসুখালী কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির(রেজিঃ-৬৭-সাত) এর অধিকতর সামাজিক উন্নয়নের লক্ষে কমিটি সিদ্ধান্তে সাংবাদিক গাজী ফারহাদ কে সভাপতি ও ইনামুল হক সাধারণ সম্পাদক করে একটি যুব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুব কমিটি বসুখালী কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির কমিটির মধ্যে রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল্লাহ গাজী, সি: সহ-সভাপতি মইজুদ্দিন ঢালী, সহ-সভাপতি আমানউল্লাহ গাজী, সি: যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামিম হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মহাসিন হোসেন, দপ্তর সম্পাদক সাগর হোসেন, প্রচার সম্পাদক এস এম বাবুল, আফিস সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম (তুহিন), ক্রিয়া সম্পাদক মহিনুর রহমান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হাফেজ অব্দুল্লাহ, শিক্ষা সম্পাদক নূর-হোসেন গাজী, সদস্য মামুন হোসেন, অবুল খায়ের (ইমন), মাসুম বিল্লাহ, শামিম হেসেন, আশিকুর রহমান, ফিরোজ হোসেন

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৪ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তুতিসভা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির জেলা শহরে বসবাসরত সকল নেতৃবৃন্দকে জানানো যাচ্ছে যে, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আগামী ৪ আগষ্ট ২০১৮ রোজ শনিবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শোকদিবসের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সকল নেতৃবৃন্দকে উক্ত সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার অসহায় শিশু নাঈমকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

আসাদুজ্জামান: নাঈম হাসান (৭) নামের একটি শিশু মারাতœক দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে একটি হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ হারিয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। তার বাবা বাহারুল ইসলাম পেশায় একজন ভ্যান চালক। তার বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর গ্রামে।
জানা যায়, গত ২৮ জুলাই বিকালে শিশু নাঈম তার বাড়ির পাশের একটি নারিকেল ভাঙানো মিলে গিয়ে হাত বাড়িয়ে নারিকেলের খৈল খাওয়ার সময় হঠাৎ অসাবধান বশতঃ তার বাম হাত নারিকেল ভাঙানো মেশিনে জড়িয়ে যায়। এর পর তার বাম হাত কেটে পড়ে যায়। পরে তার ডান পায়ের বুড়ি আঙ্গুল, বাম পায়ের গোড়ালীসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের মাংশ কেটে পড়ে যায়। মারাতœক আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সাতক্ষীরা শহরের ফারহান ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সেখানে সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তার ভ্যান চালক বাবা নিজ সংসার খরচ চালিয়ে তার এই পুত্র সন্তানের চিকিৎসা খরচ চালানো তার পক্ষে এখন খুবই দূর্বিসাধ্য। তাই শিশু নাঈমকে বাঁচাতে তিনি সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তাকে সাহায্য পাঠানোর জন্য ০১৭২৭-৮৪৬১৫২ নাম্বারে বিকাশ নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য শিশুটির বাবা বাহারুল ইসলাম অনুরোধ জানিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জে প্রভাবশালীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অবৈধ নেটপাটা অপসারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সাপখালি ও পুটিমারা খালের পানি প্রবাহের বাধা সৃষ্টি করে দু’ যুবলীগ নেতাসহ একটি মহলের মাছ চাষের জন্য বসানো নেট ও পাটা অপসারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর দু’টো পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ও উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার নুর আহম্মেদ মাসুম ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এ নেটপাটা অপসারণ করা হয়।
বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হক সরদার, সমীর কুমার ম-ল, ফরিদপুর গ্রামের জিন্নাত আলীসহ কয়েকজন জানান, সুন্দরবনের চুনা নদীর মৌতলার চাতরা স্লুইজ গেট থেকে সাপখালি খাল প্রবাহিত হয়ে নেঙ্গি, বামনহাট, পারুলগাছা, ফরিদপুর, বেজুয়া লক্ষীনাথপুর হয়ে যমুনা নদীর সঙ্গে মিশেছে। ওইসব গ্রাম ছাড়াও জিরনগাছা, উত্তরশ্রীপুর, দক্ষিণশ্রীপুর, চাঁচাই, হোগলা, জয়পত্রকাটি, মুকুন্দমধুসুধনপুর, কোমরপুর, শ্রীরামপুরসহ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৪০টি বিলের বর্ষার পানি সাপখালি খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়।
একইভাবে কালিকাপুরের ডাগরখালি থেকে পুটিমারার খালের উৎপত্তি হয়ে কোমরপুর, বন্দকাটি, নৌবাসপুর, জয়পত্রকাটি, নীলকণ্ঠপুর হয়ে বাঁশতলা খালে মিশেছে। ওইসব গ্রাম ছাড়াও তিনটি ইউনিয়নের কমপক্ষে ২০টি বিলের বর্ষার পানি এ খাল দিয়ে নিষ্কাশিত হয়ে আসছে। স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ ও খেটে খাওয়া মানুষ বংশপরম্পরায় ওইসব খালে মাছ ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলম ঢালীর নেতৃত্বে শাজাহান ঢালী, বাদশা, সেকেন্দার ১০/১২ জনের একটি টিম ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে জগবেড়ে থেকে সাপমারা খালের আমিন শেখের দীঘির পাশ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার খাল দখল করে গৌরানা খালের মুখে, বকলমরাররদহসহ পাঁচটি স্থানে খালের উপর আড়াআড়ি নেটপাটা দিয়ে মাছ চাষ শুরু করে। এ ছাড়াও গোপালগঞ্জের এক ব্যক্তি কিছুটা জায়গায় নেটপাটা দিয়ে মাছ চাষ করতে থাকেন। এতে বর্ষা মৌসুমে খালে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। প্রতিবাদ করায় সাধারণ গ্রামবাসিকে হুমকির সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি গত ১৯ জুন রাত ৮টার দিকে জিন্নাত আলীকে ফরিদপুর ব্রীজের পাশ থেকে তুলে নিয়ে যেয়ে অমানুষিক নির্যাতনের পর পারুলগাছা আওয়ামী লীগ অফিসে নিয়ে চোর সাজিয়ে উপ-পরিদর্শক নিয়াজ মোহাম্মদ খানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাকে মুচলেকা দিয়ে ২৬ হাজার টাকার বিনিময়ে মুক্ত করিয়ে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে আলম ঢালী, তার সহযোগী বাদশা, শাজাহান ঢালী, আরশাদ, হবি, রাজু, সেকেন্দার, হোগলা গ্রামের আরশাদ আলী বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
একইভাবে গত বছরের এপ্রিল মাসে কোমরপুর মোড়ে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর দেবনাথের নেতৃত্বে আলম ঢালী, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজের ভাগ্নে ফিরোজ লস্কর, ফিরোজ মোড়ল, আব্দুস সবুর, মাসুম, কামরুলসহ কয়েকজন কোমরপুর নামকস্থানে খালের উপর আড়াআড়ি নেটপাটা দিয়ে মাছ চাষ শুরু করে। খাল থেকে শ্যালো মেশিনে ঘেরে পানি তোলার জন্য ইচ্ছামত চাঁদার টাকা নিয়ে থাকেন কিঙ্কর। চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে প্রবল বৃষ্টিতে খালের পানি সরতে না পারায় দু’পাশের চিংড়ি ঘের ও ফসলী খেত ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়।
নুরুল হক সরদার ও সমীর ম-ল আরো জানান, সাপখালি ও পুটিমারার খালে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জেলে সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ উন্মুক্ত খালে মাছ ধরতে না পেরে পেশা পরিবর্তন করে শহরে রিক্সা ওভ্যান চালাতে থাকে। এমতাবস্থায় বিষয়টি উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। গত শনিবার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকসহ ইলেকট্রিক মিডিয়াতে প্রচারিত হয়। ফলে প্রশাসন নড়ে চড়ে বসে। শনিবার তড়িঘড়ি করে কিঙ্কর দেবনাথ কোমরপুর মোড়ে পুটিমারা খালের উপর বসানো নেটপাটা সরিয়ে নেয়। তবে আলম ঢালী ও তার সহযোগিরা মহড়া অব্যহত রাখে। একপর্যায়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারি ভূমি কমিশনার নুর আহম্মেদ মাসুম ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে জয়পত্রকাটি ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশীলদার আইনুল হকসহ সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের একটি টিম নেঙ্গী বিলে জবেদ আলী মেম্বরের বাড়ির পাশ থেকে সাপখালি খালের উপর পাটা অপসারন শুরু করে। তারপর চাতরা হয়ে গৌরানা, বকলমারারদহ, আমিন শেখের ঘেরের পার্শ্ববর্তী হয়ে পারুলগাছা পর্যন্ত নেটপাটা অপসারন করা হয়। খবর পেয়ে আলম ঢালী ও তার লোকজন খালে পাতা আটল তুলে নিয়ে ভোঁ দৌড় দেয়। পরে কোমরপুর হয়ে বন্দকাটি ও মুকুন্দমধুসুধনপুরের নেটপাটা অপসারন করা হয়। এ সময় কিঙ্কর দেবনাথ ফিরোজ লস্কর, ফিরোজ মোড়ল, আব্দুস সবুর, মাসুম, কামরুলসহ তাদের সহযোগিদের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। নেটপাটা অপসারনের সাথে সাথে সাধারণ মানুষ জাল দিয়ে উন্মুক্ত খালে মাছ ধরা শুরু করে। বিকেলে ফরিদপুর মসজিদে মসজিদে মিলাদ দেওয়া হয়। তবে গোপালগঞ্জের লোক পরিচয়ে একটি মহল সাপখালি খালের একটি অংশ তাদের ইজারা আছে দাবি করে সাধারণ মানুষকে তাতে মাছ না ধরতে পুলিশের সহায়তা চাওয়াকে কেন্দ্র করে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
জানতে চাইলে কালিগঞ্জ সহকারি ভূমি কমিশনার নুর আহম্মেদ মাসুম জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কঠোর অবস্থানের কারণে প্রায় তিন কিলোমিটার জায়গার সাপখালি ও পুটিমারা খালের উপর থেকে নেটপাটা সরানো হয়েছে। তবে গোপালগঞ্জের এক ব্যক্তি যেখানে মাছ চাষ করছেন তার দখলীয় জায়গায় তারা কাজ করেননি। তবে যত বাধাই আসুক না কেন জনস্বার্থে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলেজ ছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ; সাতক্ষীরায় এক ব্যক্তির ডাবল যাবজ্জীবন

আসাদুজ্জামান: সাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে দু’টি ধারায় এক ব্যক্তির পৃথক পৃথক যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছে আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এ আদেশ দেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামীর নাম, জাহিদুল ইসলাম শুভ(৩৫)। তিনি কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার কাপড়পোড়া গ্রামের আওরঙ্গজেবের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার গোছমারা গ্রামের প্রবাসী শহীদুল ইসলামের মেয়ে খোদেজা ইসলাম শিল্পী (২৮) একই উপজেলার তুলসীডাঙা গ্রামে তার মামার বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতো। শিল্পী ঢাকা ইডেন মহাবিদ্যালয়ে ইতিহাসে সম্মান ডিগ্রী প্রথম বর্ষে পড়াশুনা করাকালিন মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় জাহিদুল ইসলাম ওরফে শুভ’র সাথে। পরবর্তীতে জাহিদুল শিল্পীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে বাবা বিদেশে থাকার কারণে মা ও মামার বাড়ির লোকজন রাজী হয়নি। একপর্যায়ে মামার বাড়িতে অবস্থান করাকালে ২০১০ সালের ১৮ জানুয়ারি জাহিদুলসহ তার কয়েকজন বন্ধু সেখানে বেড়াতে আসে। তাকে বেড়ানোর নাম করে কুষ্টিয়ায় নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় জাহিদ । সেখানে জাহিদের স্ত্রী ও দু’ সস্তান দেখতে পেয়ে বিয়েতে রাজী হয়নি শিল্পী। ফলে শিল্পীকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যেয়ে নগ্ন ছবি তুলে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে ওই বছরের ২১ জানুয়ারি বিয়ে করতে বাধ্য করে জাহিদুল। এরপর ৩১ জানুয়ারি মা আনোয়ারা খাতুন ও মামা রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন তাকে তালাক দিয়ে শিল্পীকে বাড়িতে নিয়ে আসে। কয়েকদিন পর শিল্পী ঢাকার ইডেন কলেজে পড়তে চলে যায়। ওই বছরের ২৫ মার্চ ইডেন কলেজের সামনে থেকে শিল্পীকে অপহরণ করে কুষ্টিয়ার বাড়িতে নিয়ে আটক রাখে জাহিদুলসহ কয়েকজন। ২২ এপ্রিল শিল্পী পালিয়ে মামার বাড়িতে চলে আসে আসে। ২৪ এপ্রিল অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণের নগ্ন চিত্র ধারনের অপমান সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যা করার পথ বেছে নিয়েছে মর্মে একটি চিরকুটে লিখে রাখে। রাতে সে মামার বাড়ির একটি বসতঘরে আড়ার সঙ্গে গলায় দড়ি বেঁধে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের মামা রবিউল ইসলাম শিল্পীকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করতে বাধ্য করানোর কথা উল্লেখ করে ২৫ এপ্রিল কলারোয়া খানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক শেখ মেজবাহউদ্দিন ২০১০ সালের ২৯ আগষ্ট জাহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার ১২জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও নথি পর্যালোচনা করে আসামী জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন। একই সাথে একই আইনের ৯(ক) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগে আবারো যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদন্ডাদেশ দেন। তবে আসামী জাহিদুল ইসলাম এ রায়ের সময় পলাতক ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাড. জহুরুল হায়দার বাবু ও সহকারি পিপি অ্যাড. নাদিরা পারভিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সিলেট সিটি নির্বাচনে জামাত প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

রাজনীতির খবর: সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের প্রাথমিক ফলে এখানে জামায়াতের পাওয়া ভোট নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। ভোটের আগে জামায়াতের দাবি ছিল, সিলেটে তাদের ভোটের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। কিন্তু ভোটের ফলে তাদের দাবি অনেকটাই শুভংকরের ফাঁকি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে—এমনটাই বলছেন সিলেটের রাজনৈতিক মহল। এত ‘কম’ ভোট পাওয়ায় বিস্মিত ও হতাশ স্থানীয় জামায়াত নেতারা।

ভোটের আগে ২০–দলীয় জোটের কাছে জামায়াত সিলেটে তাদের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার জোরালো দাবি তুলেছিল। জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা জামায়াতকে কয়েক দফা বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। উল্টো জামায়াত বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে তাদের সমর্থনে সরে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচন করেন।

কিন্তু ভোটের প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনে জামানত হারাতে যাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী। তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৫৪ ভোট। এখানকার ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৭ জন।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। জামানত হলো ভোটে প্রার্থী হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া অর্থ। জামানত বাতিল হওয়াকে প্রার্থী বা সেই দলের জন্য ‘অমর্যাদাকর’ হিসেবে দেখা হয়।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা-২০১০–এর ৪৪ বিধির ৩ উপবিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণ বা ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর যদি দেখা যায় কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের এক–অষ্টমাংশ অর্থাৎ ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাহলে তাঁর জামানত সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে।

জামানত রক্ষার জন্য জামায়াতে ইসলামীর ২৪ হাজার ৮৩৩ ভোট পাওয়ার দরকার ছিল।

স্থগিত দুটি কেন্দ্রের মোট ভোট ৪ হাজার ৭৮৭। এ ভোটের পুরোটা পেলেও জামায়াত প্রার্থী জামানত টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে কোণঠাসা জামায়াতে ইসলামী সিলেটের নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা নানাভাবে তাঁদের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় বিএনপি প্রার্থীর নেতা–কর্মীরা নানা হয়রানি, হামলা মামলার শিকার হলেও জামায়াত নির্বিঘ্নে তাদের প্রচার চালাতে পেরেছে। ভোটের দিনও জামায়াতের প্রার্থীকে মাঠে সক্রিয় দেখা গেছে।

ভোটের হিসাব–নিকাশ নিয়ে জামায়াত শুরু থেকেও বেশ উচ্চাভিলাষী তথ্য দিয়েছে সবাইকে। নির্বাচনী প্রচারে তাদের শোডাউনও ছিল দেখার মতো। প্রচুর নেতা–কর্মী ভোটের মাঠে ছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল বলছে, আশপাশের জেলা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীদের এনে সিলেটে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছে জামায়াত।

ভোটের আগে প্রথম আলোর কাছে জামায়াতের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, সিলেটে জামায়াতের রুকন (সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মী ) প্রায় ৬০০ ও সক্রিয় কর্মী ৩ হাজার ৪০০। কর্মী প্রায় ৬ হাজার। তাঁদের পরিবারসহ ভোটার দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজার। অন্যদিকে নানা বিশ্লেষণের মাধ্যমে জামায়াত তাদের ভোটার ৫০ হাজারের বেশি বলে দাবি করেছে। সেটা স্থানীয় ২০–দলীয় জোট ও কেন্দ্রীয় ২০ দলের কাছে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে।

তবে এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিল ভিন্ন চিন্তা। তাদের মূল্যায়ন ছিল জামায়াত সাড়ে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজারের মতো ভোট পেতে পারে। তাই জামায়াতকে সঙ্গে নিতে তাদের একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। তাদের মূল্যায়ন ছিল, জামায়াতকে সঙ্গে নিলে সিলেটের বিশাল সংখ্যালঘু ভোট তাদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় রাজনীতিক ও নাগরিক সমাজ যা ভাবছে-

সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনীতিক ও নাগরিক সমাজ মনে করছে, জামায়াত তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে সিলেটের ভোটে অংশ নিয়েছে। তাদের মতে, জামায়াত এ ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সফল হয়েছে। কোণঠাসা কর্মীরা প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছেন। কিছুটা হলেও চাঙ্গা হয়েছেন। তবে ভোটের হিসাবে তাদের অবস্থান শুভংকরের ফাঁকি হিসেবে প্রমাণ হয়ে গেছে। তাদের সাংগঠনিক অবস্থার কথাও জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পরিষ্কার হয়ে গেছে। যেটা জোটের রাজনীতিতে তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাসদের মেয়র প্রার্থী আবু জাফর মনে করেন, বিএনপির ভোটের রাজনীতিতে জামায়াত আদৌ কোনো ফ্যাক্টর কি না, সেটা বিএনপিকে ভাবতে হবে। সিলেটের ভোটের ফল বিএনপির কাছে প্রমাণ করেছে জামায়াত তাদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয়।

সরকার দলের প্রশ্রয়ে এখানে জামায়াত নির্বাচন করেছে বলে অভিযোগ করেন সিলেটের অন্যতম এ বাম নেতা। তিনি বলেন, অথচ এখানকার তরুণ ও প্রগতিশীল মানুষের চাপে জামায়াত কোণঠাসা ছিল। ভোটের দিন সব দলের এজেন্ট ও কর্মীরা কোণঠাসা থাকলেও জামায়াত ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের ‘শান্তিপূর্ণ’ সহাবস্থান ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভোটের ফল নিয়ে জামায়াতও হতবাক। মহানগর জামায়াতের আমীর ও সিলেটে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘এটা আমাদের প্রত্যাশার বাইরে। এমন ফল আমরা চিন্তাই করতে পারি না।’ নির্বাচনী ফল সম্পর্কে মূল্যায়ন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বসে আগামীকাল নাগাদ সবাইকে জানানো হবে বলে জানালেন এ জামায়াত নেতা।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ বলেন, সিলেটে জামায়াত যে বাড়াবাড়ি করেছে তার ফল পেয়েছে। এবারের ভোটের মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে গেল তারা গুটিকয়েক কর্মীর দল। তিনি আরও বলেন, এখানকার নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে তারা সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে ভোটের মাঠে ছিল। আলী আহমেদ বলেন, এ দেশের মানুষ এখনো একাত্তরের কথা ভুলে যায়নি। তাদের অপকর্মের কথা ভুলে যায়নি। তাই মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে সিলেটের মানুষ।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সিলেটের সম্পাদক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ফাঁকা বুলি তুলে তারা ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে। জাতীয় রাজনীতিতে দর-কষাকষির সুযোগ তৈরির জন্য মরণকামড় দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তাই শহরের বাইরে থেকে হাজার হাজার মানুষ এনে শোডাউন করেছে, মিছিল করেছে। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে।

অন্য চার প্রার্থীর জামানতও বাজেয়াপ্ত হচ্ছে:

নির্বাচনের ১৩২ কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রধান দুই প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট এবং বদর উদ্দীন আহম্মদ কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৪ হাজার ৬২৬ ভোট। এ দুজন ছাড়া মেয়র পদে অন্য চার প্রার্থী ইসলামী ঐক্যজোটের মোয়াজ্জেম হোসেন, বাসদের আবু জাফর, বিএনপি নেতা ও মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া বদরুজ্জামান সেলিম ও স্বতন্ত্র মো. এহছানুল হক তাহেরের জামানতও বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে।

এঁদের মধ্যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন হাত পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৯৫ ভোট; সিপিবি-বাসদ মনোনীত প্রার্থী আবু জাফর মই প্রতীকে পেয়েছেন ৯০০ ভোট; নাগরিক কমিটির প্রার্থী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম বাস প্রতীকে পেয়েছেন ৫৮২ ভোট; এবং সচেতন নাগরিক সমাজের প্রার্থী মো. এহছানুল হক তাহের হরিণ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৯২ ভোট।

সূত্র: প্রথমআলো

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী মর্মাহত

দেশের খবর: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক, আমরা মর্মাহত। প্রধানমন্ত্রীও দুঃখ পেয়েছেন, কষ্ট পেয়েছেন। সে কারণে তিনি আমাকে পরিবারটির খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী মর্মাহত। তিনি খুবই কষ্ট পেয়েছেন। তাই এ বিষয়ে তিনি খুবই কঠোর।’

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার মহাখালীতে বাসচাপায় নিহত দিয়া খানম মীমের বাসায় গিয়েছিলেন তার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানাতে।

তিনি বলেন, ‘গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা বা পাল্লাপাল্লি করা, যে কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটুক তা খুঁজে বের করা হবো। যে কারণে বা যার কারণে ঘটনা ঘটেছে তাদের শাস্তি পেতে হবে। এই নৈরাজ্যের প্রতিকার হওয়া উচিত।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘মীমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম যে এলাকায় থাকেন এটি আমার নির্বাচনি এলাকা। তাই সেখানে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীও আমাকে যেতে বলেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। গাড়ির চালক হেলপারদের গ্রেফতার করা হয়েছে। যার গাফিলতিতেই এই দুর্ঘটনা ঘটলো, তাকে শাস্তি পেতে হবে। জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, এটি অদক্ষ ড্রাইভারের কাজ। তাই আমি আবারও বলছি, অদক্ষ চালক হোক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি হোক অথবা ট্রাফিক আইন অমান্য করে হোক, যে কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো। এজন্য দায়ীদের শাস্তি পেতেই হবে।’

রাস্তায় ছাত্রদের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ছাত্ররা বিক্ষোভ করছে, এটি তারা করতেই পারে। কারণ, তারা তাদের সহপাঠীকে হারিয়েছে, বন্ধুকে হারিয়েছে। তাদের আবেগ আছে তাই তারা বিক্ষোভ করছে। আমি ছাত্রদের এই বিক্ষোভকে সমর্থন করি। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যেন ত্বরিতগতিতে এই দুর্ঘটনার বিচার হয়। তাই ছাত্রদের অনুরোধ করবো যেন তারা বাসায় ফিরে যায়।’

দুর্ঘটনার মামলা ৩০২ ধারায় করা হয় না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আইন বিষয়ে ভালো জানি না। তবে ইচ্ছা করে হত্যা করলে তো ৩০২ ধারায় মামলা হয়।’

বাসের প্রতিযোগিতা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার স্বীকার করতে বাধা নেই এটি রাস্তায় হয়। ক্যানসার ও কিডনি রোগে বছরে যত মানুষ মারা যায়, দুর্ঘটনায় তারচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়। ঢাকা শহরের এই দুর্ঘটনা বন্ধ করতে সেইফ ঢাকা নামে একটি প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। ঢাকা শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনায় নতুন নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে যানজট কমে যাবে। যানজট কমে গেলে সড়ক দুর্ঘটনাও অনেকাংশে কমে যাবে।’

চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তারা আন্দোলন করে। এক্ষেত্রে এমন হলে কী করবেন—এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।’

আসামে বাঙালি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ থেকে খুব বেশি মানুষ মাইগ্রেন্ট হয়নি বলেই আমি জানি। কাজেই চিন্তার কিছু নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি অত বেশি ক্লিয়ার নই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি দেখছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘বঙ্গবন্ধু মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কোথায় মুক্তি!’

দেশের খবর: রাজধানীর বিমান বন্দর সড়কের কুর্মিটোলা এলাকায় জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করেছে। এতে পুরো রাজধানী কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল।

রাজধানীর সিটি কলেজ এবং ইম্পেরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরাও রাজধানীর অন্যতম প্রধান সড়ক মিরপুর রোডের সাইন্সল্যাব ওভারব্রীজের নিচে অবস্থান করে। কলেজপড়ুয়া ছাত্ররা গণপরিবহণ ও ব্যক্তিগত পরিবহন উভয়েরই চলাচল বন্ধ করে দেন। এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের বাধা দেয়া হয়।

এসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। কুর্মিটোলায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ীদের ফাঁসি ও নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তবে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানটিই ঘুরেফিরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিলো এই পথজুড়ে। আন্দোলন এবং স্লোগানের এক সময় পুলিশের একটি টহল গাড়িকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মুখে উলটোপথে ফিরে যেতে হয়।

এসময় একজন ছাত্র সাংবাদিকদের বলতে থাকেন, দোষ আমাদের না, দোষ সালাম জব্বার রফিকের, তারা আমাদের শিখিয়েছেন ছাত্রদের প্রতিবাদ করতে হবে। শেখ মুজিবর রহমান আমাদের মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কোথায় মুক্তি!

আরেকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্র বলেন, সরকার শাজাহান খানকে কিছু বলে না আর ছাত্রদেরকে পিটায়।

তারা আরো বলেন, দোষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। তিনিই আমাদের শিখিয়েছেন এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। কিন্তু আমাদের মুক্তি নাই।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিটি কলেজ ও ইম্পেরিয়াল কলেজসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাইন্সল্যাব ওভারব্রিজের নিচের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তবে শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের এই অবরোধ রোগী, বয়স্ক নাগরিক এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য নয়।

শিক্ষার্থীরা যে দাবিগুলো জানায় সেগুলো হলো নৌ পরিবহনমন্ত্রীর সকল সংসদীয় কমিটি, মালিক-শ্রমিক ফেডারেশন ও মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করা, ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের ন্যায্য দাবি পূরণ, পেশাদার লাইসেন্স প্রদানে স্বচ্ছতা, সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি, বিগত দিনের সকল দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় ওভারব্রিজ, সকল প্রকার দলীয় আচরণ ত্যাগ করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা, পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ আইন প্রণয়ন, ক্ষতিগ্রস্তদের বাস্তবসম্মত ক্ষতিপূরণ, গাড়ির ফিটনেস ও শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর করা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest