আসাদুজ্জামান :
সাতক্ষীরায় স্ত্রীকে ভারতে পাচার করে পতিতালয়ে বিক্রির দায়ে স্বামীসহ দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে, এ মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বালুইগাছা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে তঞ্জুরুল ইসলাম বাবু ও আমের আলী সরদারের ছেলে শওকত হোসেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বালুইগাছা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে তঞ্জুরুল ইসলাম বাবু তার স্ত্রীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক লাখ টাকার বিনিময়ে ২০০৫ সালের ২৫ আগস্ট স্থানীয় শওকত হোসেন, মক্ষ্মী রানী সুন্দরী ওরফে ময়না, আব্দুল গফুর ও সাগর মাতব্বরের সহযোগিতায় ভারতের একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়। পরে সে পালিয়ে দেশে ফিরে আসে। এ ঘটনায় তার খালু আশাশুনি উপজেলার বড়দল গ্রামের মৃত মোহাম্মদ গাজীর ছেলে আতিয়ার রহমান গাজী বাদী হয়ে থানায় উল্লিখিত পাঁচজনের নামে মামলা দায়ের করেন।
বুধবার এ মামলায় ছয়জন স্বাক্ষীরা সাক্ষ্য গ্রহণ ও নথি পর্যালোচনা করে তঞ্জুরুল ইসলাম বাবু ও শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ-ের আদেশ দেন। তবে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার বাবু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ রায়ের সময় আসামিরা পলাতক ছিলো।
গ্রীসে বসে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে জুভেন্টাসের হয়ে গেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে সদ্য সাবেক হয়ে যাওয়া ক্লাবকে সশরীরে বিদায় বলা সম্ভব হয়নি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। তাই বিদায় বলতে প্রাচীন পন্থায় ফিরে গেলেন সিআর সেভেন। রিয়ালকে পাঠিয়ে দিলেন নিজের বিদায়ী চিঠি। লিখেছেন-
‘রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এতগুলো বছর খেলা, মাদ্রিদের মতো এত সুন্দর একটা শহরে থাকতে পারা আমার জীবনে সবচেয়ে আনন্দময় সময়গুলোর একটি।
আমার ভাবনায় দারুণ এই ক্লাব, সমর্থক ও শহরের জন্য কৃতজ্ঞতা উঠে আসছে বারংবার। সবার কাছে যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা পেয়েছি, তার জন্য ধন্যবাদ জানানো ছাড়া আমার দেয়ার আর কিছুই নেই।
তারপরও আমি বিশ্বাস করি, নতুন জীবনে প্রবেশ করার সময় এসেছে। আর যে কারণেই আমি এই দলবদলে মত দিয়েছি। আমি সবার মনের অবস্থা বুঝতে পারছি। বিশেষ করে আমার ভক্তদের। তাই সবার উদ্দেশ্যে হাতজোড় অনুরোধ, দয়া করে আমাকে বোঝার চেষ্টা করুন।
দারুণ নয়টা বছর কেটেছে। একেকটা বছর সম্পূর্ণ আলাদা। বেশ উত্তেজনায় ভরা একটা সময় এখানে কাটিয়েছি। কিন্তু কখনো কখনো রিয়াল মাদ্রিদে কাজ করা বেশ কঠিন ছিল। কারণ তাদের চাহিদা ছিল অনেকবেশি। অবশ্য আমি সেটা ভালো করেই জানতাম বলে এখানে নিজের মতো করে সময় কাটিয়েছি।
এখানে মাঠে কিংবা ড্রেসিংরুমে দারুণকিছু সতীর্থ ছিল আমার। সবসময় আন্তরিকতায় পূর্ণ একটা ভিড় দেখেছি। আমরা একসঙ্গে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছি, পাঁচ বছরে চারটি। এখানেই আমার নামের পাশে ৪ ব্যালন ডি’অর ও ৩ গোল্ডেন বুট যোগ হয়েছে। সবকিছুই অসাধারণ এই ক্লাবে এসে হয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদ আমার হৃদয় জয় করেছে, আমার পরিবারেরও। আর যে কারণেই আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ধন্যবাদ জানাতে চাই ক্লাবকে, প্রেসিডেন্টকে, পরিচালক, সতীর্থ, সকল কোচ, চিকিৎসক, ফিজিশিয়ান আর ক্লাবে কাজ করা অসাধারণ সব কর্মীদের। যারা অক্লান্ত পরিশ্রমে সব অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন।
এখানে আমি অনেক পেয়েছি। তাই সময় এখন নতুনভাবে চক্র শুরু করার। আমি এই শার্ট, ব্যাজ রেখে যাচ্ছি। আর সান্তিয়াগো বার্নাব্যু সবসময় হৃদয়েই থাকবে। যেখানেই থাকি না কেনো।
আবারও সবাইকে ধন্যবাদ। নয় বছর আগে যা বলে শুরু করেছিলাম তাই বলে শেষ করছি- হালা মাদ্রিদ!’
গ্রিসে ছুটি কাটাতে যাওয়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মঙ্গলবার জুভেন্টাসের সভাপতি আন্দ্রে আগ্নেলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। ওই বৈঠকেই ঠিক হয় রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে নয় মৌসুমের সম্পর্ক চুকিয়ে রোনালদোর জুভেন্টাসে যোগ দেয়ার বিষয়টি।
মহাতারকাকে দলে টানতে ১০৫ মিলিয়ন ইউরোতে চুক্তি পাকাপাকি করেছে জুভেন্টাস ও রিয়াল মাদ্রিদ। চুক্তিটা ২০২২ সাল পর্যন্ত। এই চার বছরে বাৎসরিক ৩০ মিলিয়ন ইউরো করে বেতন ধরা হয়েছে সিআর সেভেনের। সঙ্গে আনুষাঙ্গিক সুযোগ সুবিধা তো থাকছেই।
রিয়ালের হয়ে ৯ বছরে দুটি লা লিগা, চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট ১৫টি শিরোপা জিতেছেন রোনালদো।

