আসাদুজ্জামান: সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সাতক্ষীরা আহছানিয়া মিশনের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজদের ভরাডূবি হয়েছে। শহরের চিহ্নিত দুই/তিন জন টাউটের কারণে পুরো প্যানেলের ভরাডূবি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই বিতর্কিতদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল মিশন সংশ্লিষ্ট সকলে।
নির্বাচনে মকুল(সহ-সভাপতি)-উজ্বল(সাধারণ সম্পাদ)পরিষদ নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে শনিবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত এক টানা এ ভোট গ্রহন চলে। পরে ভোট গণনা শেষে বিকাল ৫টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোতাকাব্বির আহম্মেদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা করেন। এ সময় তার সহযোগী হিসেবে ছিলেন, সাতক্ষীরা বিআরটিএ অফিসের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ ও জেলা তথ্য অফিসার মোজাম্মেল হক।
প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি পদাধিকার বলে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক হওয়ায় বাকী ২৪টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে যথাক্রমে কাজী মনিরুজ্জামান মুকুল ৭৪ ভোট (সর্বোচ্চ), আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা ৬০ ভোট ও আলহাজ্ব শেখ মামুনুর রশিদ ৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাদের প্রতিদ্বন্দী প্রাথীরা যারা পরাজিত হয়েছেন তারা পেয়েছেন যথাক্রমে, আলহাজ্ব বজলুর রহমান ৪৮ ভোট, শেখ তহিদুর রহমান ডাবলু ৪৩ ও কাজী সিরাজুল হক ৩৫ ভোট। সাধারান সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান উজ্বল। তিনি পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী প্রাথী আলহাজ্ব শেখ আজিজুল হক পেয়েছেন মাত্র ৩৭ ভোট। যুগ্ন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোনায়েম খান চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী শেখ আঃ মাসুদ পেয়েছেন ৪০ ভোট। সহ-সম্পাদক পদে আব্দুর রহমান ৭৪ ভোট পেয়ে নিবার্চিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী কাজী আমিরুল হক আহাদ পেয়েছেন মাত্র ৩৩ ভোট (সর্বনি¤œ)। ক্যাশিয়ার পদে ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে আবুল কাসেম। তারনিকটতম প্রতিদ্বন্দ¦ী আবু দাউদ পেয়েছেন ৪৫ ভোট।
সদস্য পদে যারা নির্বাচিত হযেছেন তারা হলেন যথাক্রমে, আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল খালেক, আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ, আলহাজ্ব শেখ আবুল কালাম, জি,এম মাহবুবুর রহমান, মীর আমজাদ হোসেন, আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক, এ্যাড. শেখ সিরাজুল ইসলাম, ডা. একরামুল হক, আব্দুল আলিম, হাফিজুল আল মাহমুদ, মাহমুদুল হক, হাবিবুর রহমান রনি, আজহারুল ইসলাম, আলহাজ্ব শেখ আলমগীর হাসান, আহছান কবির, জুলফিকার হায়দার ও সৈয়দ মাহমুদ পাপা।
উল্লেখ্য, খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র:) এর হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন গত কয়েকদিন ধরে সাতক্ষীরা শহরের টক অব দ্যা টাউন ছিল। নির্বাচনকে সামনে রেখে পাল্টা-পাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে দুটি পক্ষ। মিশনের মাল্টি কমপ্লেক্সে নির্মাণসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরগরম ছিল মাঠ। পরাজিত কমিটির বিতর্কিত কয়েকজন কর্মকর্তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে যারপরনাই বিরক্ত ছিল মিশন সংশ্লিষ্টরা।

এক অর্নাস পড়ুয়া শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তিনি কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।তিনি আরও বলেন,তোমাদের বাড়ির পাশে নার্সিং কলেজ হয়েছে,সেখানে তোমরা পড়তে পারবে এবং সহজে চাকরি পাবে।তাছাড়া তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন।মা-বোনদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন,আপনারা বছরে শুরুতে বিনামূল্যে বই পাচ্ছেন, বয়স্ক ভাতা,বিধবা ভাতা,প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন,সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ,বাইপাস,প্যারামেডিকেল কলেজ পেয়েছেন।৩০ টি কাম সাইক্লোন শেল্টার হয়েছে,আশাশুনি,দেবহাটা ও কালিগঞ্জে একটি করে কলেজ ও একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি হয়েছে।এছাড়া প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ও পর্যাপ্ত ব্রীজ-কালভার্ট তৈরি হয়েছে।এক কথায় উন্নয়নের মহা-সড়কে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। আর এ সবই বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য হয়েছে।