শরীরে পানি জমার কারণ ও প্রতিকার

নানা কারণে শরীরে পানি জমতে পারে। ফুলে যেতে পারে পা, হাত, মুখমণ্ডল। শরীরে পানি জমে যাওয়ার জন্য সব সময় ওষুধ প্রয়োজন হয় না। বরং শরীরের পানি কমানোর জন্য যে ওষুধগুলো সেবন করা হয় সেগুলোই পানি জমার ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে জীবন যাপনের পরিবর্তন করা। শরীরে পানি জমাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এডিমা বলে।

হায়দ্রাবাদের ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের সিনিয়র কনসালটেন্ট নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমার পরামর্শ দিয়েছেন এ ব্যাপারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক শরীরে পানি জমার কারণ ও এর প্রতিকারের উপায়গুলো-

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে : অনেক বেশি সময় ধরে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে রক্ত সংবহন কমে যাওয়ার ফলে শরীরে পানি জমতে পারে। এটি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হচ্ছে শারীরিক সক্রিয়তা। একাধারে অনেকক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে না থেকে হাঁটাহাঁটি করুন। প্রতি ২-৩ ঘন্টার মধ্যে ওয়াশরুমে ঘুরে আসুন।

পর্যাপ্ত পানি পান না করলে : শরীরে পানি আসার আরেকটি সাধারণ কারণ হচ্ছে কম পানি পান করা। শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে ইলেক্ট্রোলাইটের লেভেল বৃদ্ধি পায়। যার ফলে শরীরে পানি জমে। এর অর্থ এই নয় যে আপনি মাত্রাতিরিক্ত পানি পান করবেন। এর ফলে উল্টো প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। দিনে ৩-৪ লিটার পানি পান করাই যথেষ্ট।

স্বাস্থ্য সমস্যা : কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন- কিডনি রোগ, হৃদরোগ, লিভার ইনফেকশন অথবা ব্রেইন টিউমারের কারণেও এডিমা হতে পারে। আপনার যদি এই ধরণের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

ওষুধ : কিছু ওষুধের প্রতিক্রিয়াতেও শরীরে পানি জমতে পারে। যেমন- হাই ব্লাড প্রেশারের ওষুধ এম্লোডিপিন সেবনের ফলে পানি আসতে পারে শরীরে। এছাড়াও নন স্ট্যারয়ডাল অ্যান্টিইনফ্লামেটরি ওষুধ, কর্টিকোস্ট্যারয়েডস এবং বার্থ কন্ট্রোল পিল এডিমা সৃষ্টিতে অবদান রাখে। তবে যেকোন ওষুধ বাদ দেয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

বেশি লবণ খাওয়া : শরীরে পানি জমার আরেকটি কারণ হচ্ছে অত্যধিক লবণ খাওয়া। সোডিয়াম পানিকে আবদ্ধ করে ফেলে এবং শরীরের কোষের ভেতরের ও বাহিরের তরলের মাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। উচ্চমাত্রার সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন- প্রসেসড ফুড খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। খাবারের সাথে বাড়তি লবণ গ্রহণের অভ্যাস বদলে ফেলুন।

আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ উপাদান হচ্ছে ম্যাগনেসিয়াম। শরীরের অতিরিক্ত পানি জমার সমস্যাটি কমানো যায় ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে। গবেষণায় জানা যায় যে, দৈনিক ২০০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করলে মেয়েদের শরীরে পানি আসার সমস্যা কমে। বাদাম, ডার্ক চকলেট, হোল গ্রেইন ও সবুজ শাকসবজিতে ম্যাগনেসিয়াম থাকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাবলিক পরীক্ষায় এমসিকিউ তুলে দেয়ার চিন্তাভাবনা

পাবলিক পরীক্ষায় এমসিকিউ (নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন) তুলে দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। এর পরিবর্তে ছোট প্রশ্ন প্রবর্তন করা হবে। প্রশ্নফাঁস রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছে।

এ সংক্রান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে আসন্ন জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায়ই এমসিকিউ বাদ দিয়ে ছোট প্রশ্ন প্রবর্তন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বৃহস্পতিবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।এর আগে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় আইনশৃঙ্খলা ও মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সদস্যরা প্রশ্নফাঁস রোধে পাবলিক পরীক্ষা থেকে এমসিকিউ তুলে দেয়ার সুপারিশ করেন। এছাড়া নির্বিচারে পরীক্ষা কেন্দ্র অনুমোদন না দেয়া এবং ভেন্যু কেন্দ্র বাতিলের পরামর্শ দেন। সদস্যদের পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সভায় বলেন, প্রশ্নফাঁসের কেন্দ্র হিসেবে এমসিকিউয়ের বিষয়টি চলে এসেছে।

ছেলেমেয়েদের জন্য বিষয়টি বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাব। তিনি আরও বলেন, জেএসসি- জেডিসির ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। খুব শিগগির এটা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করব।

সভার শুরুতে এবারের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ১৭ বিষয়ের মধ্যে ১২ বিষয়ের এমসিকিউ প্রশ্ন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ক্লোজ গ্রুপের মধ্যে ফাঁস হয়েছে।

এই ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটে পরীক্ষার ২০ মিনিট আগে। এতে শিক্ষার্থীরা তেমন লাভবান হয়নি। তাছাড়া ২০ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার এই সুবিধা পেয়ে থাকতে পারে।

যেটা মোট পরীক্ষার্থীর তুলনায় একটি ক্ষুদ্র অংশ। তাই এই পরীক্ষা বাতিল করা হবে না। যারা প্রশ্নফাঁসের সুবিধা পেয়েছে তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ফাঁসের সুবিধাভোগীদের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ফল বাতিল করা হবে।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেকে বিচার বিশ্লেষণ না করেই ঢালাওভাবে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অপরাধী বানিয়েছেন। এটি আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করে দেখেছেন আসলে সেটি আসল প্রশ্নপত্র ছিল না। তিনি বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন তৈরি প্রচার করার আহ্বান জানান।

এদিকে তদন্ত কমিটি চার পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দিলেও ওই সভায় সরবরাহ করা হয় দুই পৃষ্ঠা। চারটি সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদনের ওই সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, সম্প্রতি শেষ হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় ০.২৫ শতাংশ প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। শুধু ‘খ’ সেট বা নৈর্ব্যক্তিক ৩০ নম্বরের অংশ ফাঁস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাদরাসা বোর্ডের কোনো প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত করে সুবিধাভোগী সব পরীক্ষার্থীকে চিহ্নিত করে ফলাফল বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, প্রশ্নফাঁস অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা, বিকাশ, রকেটসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং মাধ্যমে লেনদেনকারীদের তথ্য সংগ্রহ করে সন্দেহজনক মোবাইল নম্বরগুলো চিহ্নিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, অতিরিক্ত সচিব রওনক মাহমুদসহ পুলিশ, র‌্যাব, এনএসআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এছাড়া ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হকসহ বিভিন্ন বোর্ডের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ৬ মে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলপ্রকাশ করা হবে। এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গণমাধ্যম ডেকে এ ঘোষণা দিল।

এমসিকিউ বাতিল ইস্যু : ওই সভায় তদন্ত কমিটির একাধিক সদস্য প্রশ্নফাঁস রোধে পাবলিক পরীক্ষা থেকে এমসিকিউ তুলে দেয়ার পরামর্শ দেন। তারা বলেন, এবারে যে ১২টি প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে তার সবই এমসিকিউ। কোথাও সিকিউ (সৃজনশীল প্রশ্ন) ফাঁসের কথা শোনা যায়নি। সহজে উত্তর দেয়া সম্ভব বলে এই প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটছে।

সদস্যদের বক্তব্য শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এমসিকিউ সম্পর্কে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ নিয়ে নানা সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। এর মধ্যে এমসিকিউতে নম্বর কমানো হতে পারে, বা এক কথায় উত্তর যুক্ত করা যেতে পারে। সেটা হলে সৃজনশীল প্রশ্ন সংখ্যা বাড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। অতি শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

একই সভায় পরীক্ষা পরিবর্তন প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, চলমান পদ্ধতিতে পাবলিক পরীক্ষা চলতে থাকলে প্রশ্নফাঁস রোধ করা সম্ভব হবে না। এ কারণে আমরা পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার আলোকে চলতি বছর শুরু হওয়া জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় পরিবর্তন আনা হবে। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে সভা করা হবে। সেখানে অনেকের মতামত নিয়ে কী কী পরিবর্তন আনা যায় সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

পরে নিজের কক্ষে আলাপকালে সোহরাব হোসাইন বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে এ ব্যাপারে প্রস্তাব আসছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি দু’বছর ধরেই এ নিয়ে বলে আসছি। আমি মনে করি, এমসিকিউ যে উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তার বাস্তবতা এখন নেই। তাই এমসিকিউ তুলে দিয়ে ছোট প্রশ্ন ধরনের কিছু প্রবর্তন করা যায়। সেটা আসন্ন জেএসসি থেকেই সম্ভব। তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় জড়িত থাকায় এ ব্যাপারে ঘোষণা দিতে একটু সময় লাগবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বছরের চার মাস চলে গেলেও কোনো সমস্যা নেই। কেননা আমরা তো বই পরিবর্তন করছি না বা বইয়ে নতুন কোনো পাঠ সংযোজন করা হয়নি। একই পাঠ ও পাঠ্য। কেবল এমসিকিউয়ের পরিবর্তে ছোট প্রশ্ন পড়তে হবে। এ সময় তিনি যুক্ত করেন, ‘আমি এমন মতের পক্ষে। তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কী হবে জানি না। যে সিদ্ধান্ত হয় সেটাই বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু এমসিকিউ এবারই বাতিল করা সম্ভব।’

এমসিকিউ বাতিলের নির্দেশনা হয়নি : দেশে পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনসহ সার্বিক বিষয়ে কাজ করে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বিইডিইউ)। জানা গেছে, এমসিকিউ বাতিল করে ছোট প্রশ্ন প্রবর্তনের মতো কোনো নির্দেশনা ওই ইউনিট এখনও পায়নি। যে কারণে সংস্থাটিতে এ ব্যাপারে কোনো কার্যক্রম চলছে না। বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউনিটের পরিচালক রবিউল কবীর চৌধুরী বৃহস্পতিবার বিকালে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে নির্দেশনা পেলে কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রশ্ন কাঠামো সংযোজনের ব্যাপারে প্রথমে কাজ করে এনসিটিবি (জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড)। সাধারণত কোনো শিক্ষাবর্ষের শুরুতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

গ্রেফতার ১০৬ : সভায় জানানো হয়, এসএসসি পরীক্ষার পর এবং এইচএসসি পরীক্ষা শুরু থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পুলিশ ১০৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে অভিভাবক, প্রশ্নফাঁসের প্রলোভন দেয়া প্রতারক এমনকি শিক্ষার্থীও রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা দেয়ার সিন্ডিকেটের ২৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে আরেকটি সংস্থা জানিয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
স্বমহিমায় ফিরছেন মাধুরী দীক্ষিত

ফের টিভির পর্দায় মাধুরী দীক্ষিত। ভারতের একটি বেসরকারি চ্যানেলের নাচের রিয়েলিটি শো ‘ড্যান্স দিওয়ানে’র বিচারক হিসেবে প্রত্যাবর্তন ঘটছে মাধুরী দীক্ষিতের।

বিচারকের হটসিটে মাধুরীর সঙ্গেই দেখা যাবে হাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া, বাদ্রীনাথ কি দুলহানিয়াখ্যাত পরিচালক শশাঙ্ক খৈতান এবং কোরিওগ্রাফার তুষার কালিয়াকে। নতুন ফর্ম্যাটের এই রিয়েলিটি শোতে তিনটি ক্যাটাগরি থাকছে। শিশু, যুবক এবং প্রাপ্তবয়স্ক। এই তিন বিভাগের প্রতিযোগীরা নিজেদের নাচের স্কিল প্রমাণ করবেন সংশ্লিষ্ট ক্যাটেগরিতে।

ফর্ম্যাটের এই অভিনবত্বই মুগ্ধ করেছে মাধুরীকে। তিনি জানান, ‘‘অভিনব এই রিয়েলিটি শো’র অংশ হতে পেরে আমি ভীষণ উত্তেজিত। এই শো’র ইউএসপি হল তিন প্রজন্মের প্রতিযোগীদের নাচের সুযোগ করে দেওয়া একই মঞ্চে।’’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চেন্নাইয়ের হারে শীর্ষে সাকিবদের হায়দরাবাদ

শুরুতে চেন্নাই সুপার কিংসকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে মনে হচ্ছিল বুমেরাং। ১৭৭ রানের বড় পুঁজি পেলেও কলকাতাতে আটকাতে পারেনি ধোনির দল। ১৪ বল হাতে রেখেই জিতে গেছে ৬ উইকেটে। কলকাতার জয়ে চেন্নাইকে টপকে শীর্ষে ওঠে গেছে সাকিবদের দল সানরাইজার্স।

৮ ম্যাচে হায়দরাবাদের সংগ্রহ ১২। দ্বিতীয় স্থানে নেমে যাওয়া চেন্নাইয়ের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট হলেও ম্যাচ খেলেছে ৯টি।

টস জিতেই ফিল্ডিং- এবার এমন তত্ত্বেই যেন বিশ্বাসী অধিনায়করা। মাঠ ছোট হওয়ায় শুরুতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেননি কলকাতা অধিনায়ক দিনেশ কার্তিক। যদিও তার এমন সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মনে হচ্ছিল না চেন্নাইয়ের দারুণ ব্যাটিংয়ে। সব ব্যাটসম্যানই রান পেয়েছেন। উদ্বোধনী জুটিতে শেন ওয়াটসন ও ফাফ দু প্লেসিসের জুটিতে আসে ৪৮ রান। প্লেসিস ২৭ রানে ফিরলে আরও কিছুক্ষণ রানের যোগান দিয়ে ওয়াটসন ফেরেন ৩৬ রানে।

এরপর রায়না ও রাইডু রানের চাকা সচল রেখে ফিরে যান যথাক্রমে ৩১ ও ২১ রানে। অপরাজিত ইনিংস খেলে ঝড় তুলেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। ২৫ বলে করেন ৪৩ রান। যাতে ছিল ১টি চার ও ৪টি ছয়। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৭ রান তুলে চেন্নাই সুপার কিংস।

জবাবে কলকাতার শুরুটা দুরন্ত ছিল না। ৬৪ রানে ৩ উইকেট হারানো কলকাতাকে জেতান শুবমান গিল ও অধিনায়ক দিনেশ কার্তিক। গিল ৩৬ বলে ঝড়ো ইনিংস খেলেন শেষ পর্যন্ত। ৬ চার ও ২টি ছয়ে ৫৭ রানে ছিলেন অপারজিত। কার্তিক ছিলেন আরও আগ্রাসী। ১৮ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন। যাতে ছিল ৭টি চার ও ১টি ছয়। এ দুজনের ব্যাটেই ১৭.৪ ওভারে ৪ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে কলকাতা।

এই ম্যাচে কলকাতার স্পিন বিভাগই ছিল তাদের মূল অস্ত্র। ১২ ওভারে রান হজম করেছে ৮৯। বিনিময়ে ৫ উইকেট নেন নারিন, পিযুশ চাওলা ও কুলদিপ যাদব। ম্যাচসেরা হন বল হাতে দুই উইকেট ও ব্যাট হাতে ওপেনিংয়ে ৩২ রান করা সুনিল নারিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ট্রাম্পের চিঠি

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে দেশটির ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো একটি চিঠিতে তিনি এ আশ্বাস দেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ট্রাম্পের পাঠানো চিঠি হস্তান্তর করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।

বৈঠকের বিস্তারিত প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করে চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যাতে তাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন করতে পারেন সে জন্য প্রয়োজনীয় অবস্থা সৃষ্টিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।’

চিঠি পাওয়ায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কোন সরকার যে উন্নয়ন করতে পারেনি তা শেখ হাসিনার সরকার করেছে -ডা. রুহুল হক এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: “সকল সরকার মিলে যে উন্নয়ন করতে পারেনি তা শেখ হাসিনার সরকার করেছে। শেখ হাসিনার সরকার আছে বলেই প্রতাপনগরের মত প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে গেছে। খুব দ্রুতই প্রতাপনগর ইউনিয়নে শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হবে। আশাশুনির শেষ প্রান্তের এই ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য গুচ্ছগ্রাম হয়েছে। এখানে হসপিটাল স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। ইউনিয়ের সকল সড়ক পাকাকরণের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু আশাশুনি বা সাতক্ষীরা-০৩ নির্বাচনী এলাকা নয়, সমগ্র সাতক্ষীরা জেলায় মেডিকেল কলেজ, বাইপাস সড়ক, বড় বড় সেতু নির্মাণসহ অসংখ্য উন্নয়ন কাজ হয়েছে এবং আগামীতেও হবে। আপনারা আমার সাথে থাকবেন, আওয়ামীলীগের সাথে থাকবেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে থাকবেন, আমি আপনাদের অঞ্চলকে উন্নয়নের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাব।”
বৃহস্পতিবার বিকালে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের নাকনা গুচ্চগ্রাম প্রকল্পের মাঠে প্রতাপনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি এসব কথা বলেন।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সাতক্ষীরা জেলার উন্নয়নের রূপকার ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি। আপনারা প্রতাপনগরের মানুষ ভাগ্যবান যে তাকে এমপি হিসেবে পেয়েছেন। এর আগে এখানে জামাতের যিনি এমপি ছিলেন তার সময়ে এই অবহেলিত জনপদে কোন উন্নয়নই হয়নি। অথচ ডা. রুহুল হক আপনাদের অঞ্চলে জননেত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন। ডা. রুহুল হক এমপিকে আবারও নির্বাচিত করলে, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার পুনরায় ক্ষমতায় আসলে নিশ্চয়ই তিনি আবারও মন্ত্রী হবেন। আপনাদের অঞ্চলসহ সমগ্র সাতক্ষীরা জেলার অসমাপ্ত উন্নয়নকে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সম্পন্ন করে নিতে পারবেন। তাকে নৌকার পক্ষে থাকুন, শেখ হাসিনার পক্ষে থাকুন, ডা. রুহুল হক এর পক্ষে থাকুন। আপনাদের উন্নয়ন অনিবার্য।”
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু। এসময় উপস্থিত ছিলেন পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা বড়বাজারে তাঁতী লীগের সাইবোর্ড দিয়ে অসহায় বিধবার দোকান দখল

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা শহরের বড়বাজারে আইসক্রিম ফ্যাক্টরির পাশ্বে তাঁতী লীগের সাইনবোর্ড দিয়ে এক অসহায় বিধবা মহিলার দোকানঘর দখল করে নিয়েছে হেলাল উদ্দিন নামে এক তাঁতী লীগ নেতা। জেলা তাঁতী লীগের সাবেক সভাপতি মীর শাহিন ও মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান ঈমাম এবং তাঁতী লীগ নেতা ফিরোজের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দকে এ দখলের ঘটনা ঘটে। এসময় বাঁধা দিতে গেলে তাঁতী লীগ নেতা মীর শাহিন, হাসান ঈমাম ও ফিরোজের নেতৃত্বে সুলতানপুর গ্রামের (খাল ধার) আব্দুল খালেকের ছেলে হেলাল উদ্দিন ও তার সহযোগী রাজু, সাজু বিধবা মহিলা ইাঁগাছা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী রহিমা বেগমকে ব্যাপক মারপিট করে। ঠেকাতে গেলে পৌর তাঁতী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক হোসেন মাহমুদ ক্যাপ্টেনকেও মারপিট করে আহত করা হয়। মারপিটের সময় মীর শাহিন ও হাসান ঈমাম ওই বিধবা মহিলার দ্ইু হাত ধরে রাখে। পরে আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন ও জমির ঘর মালিক রহিমা বেগমকে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত রহিমা বেগম ও হোসেন মাহমুদ ক্যাপ্টেনসহ স্থানীয় দোকানদাররা জানান, ইটাগাছার রহিমা বেগমের প্রানসায়েরের খাল ধারে বড়বাজার আইসক্রিম মিলের পাম্বে মালিকানাধীন একটি ঘর ভাড়া নেয় ওই এলাকার সুলতানপুর গ্রামের তাঁতী লীগ নেতা হেলাল উদ্দিন। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিধবা মহিলা ঘরভাড়ার টাকা আনতে গিয়ে দেখে তার ভাড়া দেওয়া ওই ঘরে পৌর তাঁতী লীগের ৪ নং ওয়ার্ড শাখার সাইনবোর্ড ঝুলানো। ভাড়ার টাকা চাইতেই হেলাল উত্তর দিয়ে উঠে ভাড়া হবে না এটা সরকারি খাস জায়গা। এসিল্যান্ড মালিক। তিনি জানিয়ে দিয়েছে জমির মালিক আমরা তুমি ভাড়া দিলে হেলাল তোমাকে উখান থেকে তুলে দেওয়া হবে। এর পর মহিলা ভাড়ার জন্য উচ্চ বাচ্চ করতেই তাঁতী লীগ নেতা মীর শাহিন, হাসান ঈমাম,ফিরোজ ও রাজু সাজুর নেতৃত্বে হেলাল মহিলাকে ও ক্যাপ্টেনকে ব্যাপক মারপিট করে। তাঁতী লীগের সাইবোর্ড দিয়ে ঘর দখলের ঘটনায় সাতক্ষীরা শহর জুড়ে এলাকাবাসীর নিন্দা ও হৈ চৈই পড়ে যায়। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এঘটনায় জেলা তাঁতী লীগের সদস্য সচিবের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁতী লীগের সাইন বোর্ড দিয়ে জমি ও দোকান ঘর দখলের বিষয়টি আমি শুনেছি। আমার নিকট ওই বিধবা মহিলা অভিযোগও করেছে। ঘটনা কতখানি সত্য বিষয়টি যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কেউ যদি দলীয় সাইবোর্ড ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœœ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর হস্তে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান সংগঠনের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান নাছিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে বসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তাসপিয়ার স্পর্শকাতর অঙ্গে নির্যাতনের ছাপ, বাবার দাবি গণধর্ষণ

তাসপিয়া আমিন। ১৫ বছর বয়স। পড়াশোনা চট্টগ্রাম নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণিতে। বুধবার (২ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে অজ্ঞাত হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের উপর উপুড় হয়ে পড়েছিল তাসপিয়ার লাশ।

পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বুধবার জানিয়েছিলেন, সকালে স্থানীয় পথচারীরা লাশটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। একই সাথে সিআইডি সংগ্রহ করে লাশটির সকল তথ্য-উপাত্ত। এ ঘটনায় তাসপিয়ার বয়ফ্রেন্ড আদনান মির্জাকে আটক করেছে পুলিশ। আদনান নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকায় থাকে। তাদের গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নে। আর পড়ালেখা সানশাইন গ্রামার স্কুলেই।

বৃহস্পতিবার (৩ মে) ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে তাসপিয়ার লাশ হস্তান্তর করা হয়। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা হয় তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিনের।

এসময় তিনি দাবি করেন ‘তাসপিয়াকে গণধর্ষণের পর হত্যা করেছে পাষণ্ডরা। এমনকি ধর্ষণ শেষে হত্যা করে লাশটি ফেলে দেয়া হয় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের উপকূলে।’ মোহাম্মদ আমিন বলেন, ‘আদনান ও তার সহযোগীরা এসব করেছে। জড়িতদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন সন্তানহারা হতভাগ্য এই বাবা।’

বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে আদনান মির্জাসহ ছয়জনকে আসামি করে সিএমপির পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন তাসপিয়ার বাবা।

এর আগে বুধবার তাসপিয়ার লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই কিশোরীর ওপর চালানো ভয়াবহ চিত্র। নিহত তাসপিয়ার পিঠজুড়ে পাওয়া গেছে নির্যাতনের ছাপ। কিশোরীটির পিঠ, বুক ও স্পর্শকাতর অঙ্গসহ সব স্থানেই দেখা গেছে ভয়াবহ নির্যাতনের ছাপ। গোলাকার মুখমণ্ডল থেঁতলানো। চোখ দুটোও যেন নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আর বুকের ওপর একাধিক আঁচড়ের দাগও দেখা গেছে। নিহতের হাতের নখগুলো ছিল নীলবর্ণ।

লাশটি পাওয়ার পর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছেন সিএমপি পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার।

এদিকে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাসপিয়ার ময়নাতদন্ত হয়। এই ময়নাতদন্তে অংশ নেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুমন মুর্শিদীর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি টিম। টিমের অপর সদস্যরা হলেন- একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুজন, ডা. জাহানআরা রোজি ও ডা. স্মৃতি। দীর্ঘ এক ঘণ্টা সময় নিয়ে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর দেড়টায় তারা লাশকাটা ঘর থেকে বের হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. সুমন মুর্শিদী বলেন, ‘ভিসেরা ও সিআইডি রিপোর্ট পাওয়ার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না। এই দুই রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিস্তারিত জানানো যাবে।’

এদিকে তাসপিয়ার চাচা নুরুল আমিন দাবি করেছেন- আদনান, কথিত বড় ভাই ও তার তৈরি করা ‘রিচকিডস’ গ্যাংয়ের সদস্যরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঠাণ্ডা মাথায় তারা হত্যা করে লাশটি সমুদ্র উপকূলে ফেলেছে, যাতে তাদেরকে কেউ ধরতে না পারে। এরা শুধু একজন বা দুজনই নয়। এই গ্যাংস্টার গ্রুপের অনেক সদস্যই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। আদনানকে তিনি ঠাণ্ডা মাথার খুনি হিসেবেও মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে পতেঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) আবুল কাশেম ভূইয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদনান মির্জাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে আদালতে।’

ওসি আরও জানান, বুধবার দিনগত মধ্যরাতে নগরীর দক্ষিণ খুলশীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকা থেকে আদনান মির্জাকে আটক করা হয়। জব্দ করা হয়েছে মোবাইল ফোন সেট। তার মোবাইলের কললিস্ট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য অ্যাপসের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নগর পুলিশের কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা সম্ভব নয়। আমরা বেশ কয়েকটি ইস্যু নিয়ে সামনের দিকে এগুচ্ছি।’

এর আগে মঙ্গলবার (১ মে) সন্ধ্যায় নগরীর ওআর নিজাম রোডের গোল পাহাড় মোড়ে চায়না গ্রিল নামে একটি রেস্টুরেন্টে প্রেমের এক মাস পূর্তিতে মিলিত হয় তাসপিয়া ও আদনান। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে তারা দুজন।

রেস্টুরেন্টের বয় উজ্জ্বল জানান, মঙ্গলবার শবে-বরাত ও মে দিবসের ছুটির কারণে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রেস্টুরেন্ট খোলা হয়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর অর্থাৎ ৫টা ২০ মিনিটের দিকে রেস্টুরেন্টে আসে ওই যুগল। তারা রেস্টুরেন্টের ৮নং কেবিনে বসে। এরপর খাবার ওর্ডার নিতে গেলে শুধু দুটি আইসক্রিম অর্ডার করে তারা। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট অবস্থানের পর দুজন চলে যায়।

রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়েই তাসপিয়াকে একটি সিএনজি অটোরিকশাতে তুলে দেয় আদনান। পরে আরেকটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে আদনানও স্থান ত্যাগ করে।

তাসপিয়ার পরিবারের সঙ্গে আলাপকালে স্বজনরা জানান, তাসপিয়ার ব্যবসায়ী বাবা মো. আমিন মঙ্গলবার বিকেলে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন মসজিদে। বাসায় তাসপিয়ার মা ব্যস্ত ছিলেন গৃহস্থালি কাজে। তাসপিয়া বাসা থেকে কাউকে না বলেই বেরিয়ে যায়।

নামাজ পড়ে এসে তাকে বাসায় না পাওয়ায় বিচলিত হন বাবা। আগে থেকেই আদনানের সাথে তাসপিয়ার সম্পর্কের বিষয়টি জানা ছিল তার। খোঁজাখুঁজির পর তাসপিয়াকে না পেয়ে তার বন্ধুদের কাছ থেকে আদনানের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন বাবা। এরপর কল করে আনা হয় আদনানকে। তাকে নিয়ে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে যান তারা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিস্তারিত বোঝার চেষ্টা করেন।

আদনানও স্বীকার করে একসাথে রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কথা। এরপর তাসপিয়াকে আদনান সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দিয়েছিল বলেও জানায়। মঙ্গলবার বিকেল ৬টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ঘটনা আদনানের স্বীকারোক্তির সাথে মিলে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজও বলছে একই কথা। তবে এর পরের ঘটনা উল্টো।

অভিযোগ করা হয় নগরের পাঁচলাইশ থানায়। পুলিশ রাত সাড়ে ৯টার দিকে আদনানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আদনানকে। সেখানে প্রায় দুই-দেড় ঘণ্টার মাথায় আদনানের কথিত দুই বড়ভাই ফিরোজ ও আকরাম তাসপিয়াকে বাসায় পাঠানোর শর্তে ছাড়িয়ে নেয় আদনানকে।

রফিকুল ইসলাম নামে তাসপিয়াদের এক নিকটাত্মীয় জানান, সন্ধ্যায় যখন তাসপিয়াকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন তাসপিয়ার মা বেগম আমিন আদনানকে মোবাইল ফোন করে বাসায় ডাকেন। রাত ৮টার দিকে আদনান ওআর নিজাম রোডে তাসপিয়াদের বাসার সামনে গিয়ে তাসপিয়ার মায়ের সাথে দেখা করে। এসময় তাসপিয়া কোথায় জানতে চাইলে আদনান জানায়, রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়েই তাসপিয়া বাসায় চলে এসেছে। তবে তাসপিয়া সে সময়ও বাসায় ফিরেনি।

রফিকুল ইসলাম আরো জানান, ফেসবুক ও ইমোতে যখন ম্যাসেজ আদান-প্রদান হতো, বিষয়টি ঠিকই টের পেয়েছেন তাসপিয়ার মা। এ সময় থেকে মেয়েকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। তবে এর মধ্যেও যে এমন হবে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাসপিয়ার এক আত্মীয় জানান, তাসপিয়ার সাথে আদনানের সম্পর্কের কথা তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিনকে কয়েক দিন আগে জানিয়ে দিয়েছেন তাসপিয়ার মা। ওই সময়ই তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন আদনানকে ডেকে শাসিয়ে দেন। মেয়ের পথ থেকে সরে যেতে কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন তিনি।

এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার জানান, সকালে মৃতদেহ উদ্ধারের পর দুপুরের দিকে তাসপিয়াকে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। এর আগে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি ও সিআইডি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য।

আনোয়ার জানান, তাসপিয়াকে পাথরের উপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকাবস্থায় পাওয়া গেছে। পরনে হালকা গোলাপি সালোয়ার কামিজ। গায়ের রঙ ফর্সা। তবে দুই চোখ ও হাঁটুতে হাল্কা আঘাতের চিহ্ন আছে। মুখের মধ্যে ফেনা ছিল।

ধর্ষণ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে এই তদন্তকারী অফিসার জানান, সেটা সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে বলা যাবে। সে ব্যাপারে সিআইডি তাদের প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া তাসপিয়ার বয়ফ্রেন্ড আদনানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বলা যাবে ঘটনাটি কী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest