যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরোঁ জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের সমালোচনা করেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে তিনি আরো বলেন, এ ধরনের নীতি বৈশ্বিক সমৃদ্ধির জন্য হুমকি।
বিবিসি জানায়, এ ধরনের বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ যে এজেন্ডা রয়েছে, তার সমালোচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
ম্যাকরোঁ বিশ্ব বাণিজ্য, ইরান ও পরিবেশ ইস্যুতে তাঁর দ্বিমতের কথা উল্লেখ করেন। কংগ্রেসে তাঁকে তিন মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন (দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো) দেওয়া হয়।
ম্যাকরোঁ যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যে অলঙ্ঘনীয় বন্ধের প্রশংসা করে উভয় দেশের ‘স্বাধীনতা, সহিষ্ণুতা ও সমান অধিকার’ বিষয়ে কথা বলেন।
ম্যাকরোঁ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে জোরদার সম্পর্ক তৈরি করেছেন এবং তিনি প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রনেতা যিনি ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় সফর করলেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, দুই নেতা বিষয়ে একমত নন।
ম্যাকরোঁ বলেন, ভয় থেকে বাঁচতে বিচ্ছিন্নতাবাদ ও জাতীয়তাবাদ সাময়িকভাবে কাজে লাগতে পারে। তবে বিশ্বের জন্য দরজা বন্ধ করে দিলে এর ক্রমবিকাশ বন্ধ হবে না। এর ফলে নাগরিকদের ভয়ভীতি নিভে যাবে না, বরং আরো স্ফূলিঙ্গ আকারে আসতে পারে।
ফরাসি নেতা বলেন, ‘চরম জাতীয়তাবাদের যে কাজ সহিংস হওয়া, তা আমরা হতে দেব না। আরো সমৃদ্ধির আশা থাকা এই পৃথিবীকে আমরা অস্থির হতে দেব না।’
ম্যাকরোঁ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই জোটবদ্ধতা উদ্ভাবন করেছে এবং এখন একুশ শতকের জন্য সেটাকে নতুন করে নিয়ে আসতে হবে।

সেখান থেকে মটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে শহরের নিউ মার্কেটস্থ শহীদ আলাউদ্দিন চত্বরে পৌছে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সদ্য কারামুক্ত জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নান। এসময় তিনি বলেন, “স্বাধীনতা দিবসের জনসভায় এমপি রবির নেতৃত্বে যুবলীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছিলো। এমপি রবি সাতক্ষীরায় যুবলীগকে ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এমপি রবি কখনো আওয়ামীলীগের লোক হতে পারে না। সে আওয়ামীলীগের লোক হলে যুবলীগের ছেলেদের বুকে কোপ মারতে পারতো না। আমাকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে এমপি রবি। আমার পরিবারের একটি ব্যক্তিও আওয়ামীলীগের বাইরে অন্য কোন দলের রাজনীতি করে না। আমার বড় ভাই একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা। তিনি শ্রমিকলীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক। আমি ১৯৮২ সাল থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ, যুবলীগের রাজনীতি করে আসছি। ১৯৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় এমপি রবি’র ভাই মহি আলম স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে ছাত্রসমাজের হয়ে আমাদের ছাত্রলীগ যুবলীগের মিছিলে হামলা চালিয়েছিলো। ১৯৯০, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৭-০৮ সালের আন্দোলনের সময় কোথায় ছিলো এমপি রবি ও তার ভাইয়েরা? আমরা রাজপথে থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার জন্য জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছি। আর আজ এমপি রবি আমাকে যুবলীগ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। আমি তাকে দুইশত বছর সময় দিলাম পারলে আমাকে যুবলীগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখাক। আপনারা সবাই জানেন, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামীলীগের জনসভায় আমি যখন বক্তব্য রাখছিলাম তখন এমপি রবির হুকুমে আমর উপর আক্রমণ করা হয়। অথচ কি নির্লজ্জ্ব, কি বেহায়া আমার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মিথ্যা মামলা করেছে। আমার সাতক্ষীরা জেলার যুবলীগের সকল নেতাকর্মী যারা আমাকে মুক্ত করার জন্য মিছিল করেছেন, মিটিং করেছেন তাদের সকলের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় যুবলীগকে আরো সংগঠিত করুন। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী করার জন্য যুবলীগকে কাজ করতে হবে। সাতক্ষীরায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রী তাকেই মনোনয়ন দেবেন যিনি নেতাকর্মীদের পাশে থাকেন, জনগণের পাশে আছেন। জনবিচ্ছিন্ন কাউকে নেত্রী আর মনোনয়ন দেবেন না।”
