সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইড কার্যক্রম বিষয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময়৯০ দশক ছাত্রদল প্লাটফর্ম এর সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠনসাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান চেয়ারম্যান আলিমেরএসএসসি ২০০০ সালের ব্যাচের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাতক্ষীরায় সিলভার জুবিলি “মেঘা মিটআপ-২০২৫” অনুষ্ঠিততালার সুভাষিনী গ্রামে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ চুরি : নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটসাতক্ষীরা জেলা আইনজীবি সমিতির ১১ সদস্য বিশিষ্ট্য আহবায়ক কমিটি গঠনপাইকগাছা থেকে খুলনা যাওয়ার পথে নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রকলারোয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়াদেবহাটায় তীব্র শীতে ব্যাহত জীবন যাত্রাOntdek de wereld van Supergame: Alles wat u moet weten over online casino’s in België

নুরনগর প্রতিনিধি : শ্যামনগর উপজেলার নুরনগরে যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। সারা দেশের ন্যায় নুরনগরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে পালিত হয়েছে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন করেছিল বাঙালিরা। সেই আন্দোলনে পাক সেনাদের গুলিতে শহিদ হয়েছিল অনেকেই। এই ঐতিহাসিক ঘটনার জন্য ২১শে ফেব্রুয়ারি বর্তমানে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। বিষয়টা সকল বাঙালির কাছে অনেক গর্বের। এই দিনটির শুরুতেই নুরনগর আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী জানানো হয়। নুরনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী জানানো হয় এবং একযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে র‌্যালী বের করা হয়। এছাড়া নুরনগর মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি ও নুরনগর ইউনিয়ন আ”লীগের সাধারন সম্পাদক এস এম সোহেল রানা বাবুর উপস্থিতিতে মাদ্রাসার সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী শেষে একটি র‌্যালী বের করা হয়। অন্যদিকে নুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বখতিয়ার আহমেদ, নুরনগর ইউনিয়ন আ”লীগের পক্ষ থেকে জি এম হাবিবুর রহমান হবি সহ আ”লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহিদ স্মরনে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী জানিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

জাহাঙ্গীর আলম লিটন, কলারোয়া : কলারোয়া কেরালকাতা ইউনিয়নের ইলিশপুর অবৈধ ভাবে পরিচালিত হচ্ছে রয়েল ইটভাটা। ভাটায় অবাধে পুড়ছে গাছ-পালা যথাযথ আইন অমান্য করে বহাল তবিয়তে চলছে ইলিশপুরের রয়েল ভাটা, অবৈধ ইটের ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার মণ কাঠ, গাছ-পালা। ফলে ভয়াবহ বায়ু দূষণের মুখে পড়েছে এলাকাটি। দেখা দিয়েছে জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা। অভিযোগ রয়েছে, এ অবৈধ এবং পরিবেশ বিধ্বংসী কাজের অলিখিত বৈধতা দিয়েছেন কলারোয়া উপজেলা প্রশাসন। বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদাসীনতায় এবং পরোক্ষভাবে সহায়তা করায় ভাটা মালিকরা আইন অগ্রাহ্য করে কাঠ পোড়ালেও দেখার যেন কেউ নেই। দিনের পর দিন ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় প্রতিনিয়তই বায়ু দূষন হচ্ছে পাশাপাশি এর প্রভাব পড়ছে ভাটার আশপাশের ফসলী জমি এবং গাছপালার উপর। পরিবেশ সচেতন মানুষ এতে ক্ষুব্ধ হলেও তাদের করার কিছুই থাকছে না। ইট পরিবহনের কাজে ফিটনেস বিহীন নিষিদ্ধ ঘোষিত শত শত ট্রলি ব্যবহৃত হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা গুলো। জানা গেছে, ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮৯ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী ফসলী জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। ইট ভাটার জন্য অকৃষি জমি ব্যবহার করতে হবে এবং আইনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তা করতে হবে। যেমন ভাটায় ১২০ ফুট উচ্চতার চিমনি ব্যবহার, জনবহুল এলাকায় ও ফসলি জমিতে ভাটা নির্মাণ না করা এবং ইট পোড়ানোর কাজে দেশীয় বা বনজ কোনো ধরনের কাঠ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ এসবের তোয়াক্কা না করে উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের ইলিশপুর রয়েলভাটা, অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা রয়েল ভাটায় ম্যানেজার তৌহিদুর রহমানের কাছে সাংবাদিরা কাঠ পৌড়ানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা উপজেলা প্রশাসনকে মাসিক দুই লক্ষ টাকা দেয়। সাংবাদিকরা লিখে কিছুই করতে পারবেনা আমাদের মালিক কবির হোসেন মাই টিভির সাংবাদিক রিপোর্ট করতে চেয়েছিল বলে গাছের সাথে বেঁধে রেখেছিল। এছাড়া রিপোর্ট করলে আপনার ব্যাবস্থা নেয়া হবে আমরা যশোর জেলার লোক এভাবেই হুমকি প্রদান করেন সাংবাদিকের। রয়েল ভাটা প্রতিনিয়ত কাঠ পুড়িয়ে ইট পোড়াচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবহার করছে ভ্যাকাস (পামওয়েলের গাদ)। সরেজমিন রয়েল ভাটায় এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি বেড়ে ইট পোড়ানোর কাজ চলছে পুরোদমে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, ভাটায় রাতে কাঠ পোড়ানো হয় সবচেয়ে বেশী। অনেকে কাঠ ভাটায় সংরক্ষণ না করে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে রেখে দেন। রাতের আঁধারে সেখান থেকে কাঠ নিয়ে পোড়ানো হয় ভাটায়। পুরোদমে চলছে ইট পোড়ানোর কাজ। রয়েল ভাটার মালিক আবার গত কয়েক বছরের ইটের বিনিময়ে অগ্রিম টাকা নিয়ে ইট দিতে না পারায় এবছরও ভাটা জ্বালিয়ে ওই টাকা পরিশোধের চেষ্টা করছেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভাটার এক শ্রমমিক জানান, যেভাবে ইটের অগ্রিম টাকা নেয়া হয়েছে তার পরিশোধ করতে আরো ২ বছর ভাটা পরিচালনা করতে হবে। ইটের দাদন দেয়া টাকা নিয়েও চিন্তিত রয়েছেন ইলিশপুরের অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ইটভাটা নির্মানের সময় অকৃষি জমির সনদ বাধ্যতা মূলক থাকলেও আমার সময়কালে কলারোয়ার রয়েল ভাটা মালিক এ সনদের জন্য আমার নিকট আসেনি। অধিকাংশ ইট ভাটা গড়ে উঠেছে কৃষি জমিতে। ফলশ্র“তিতে দিনে দিনে কমছে কৃষি জমি। গ্রামের মধ্যে ইট ভাটা নির্মানের ছাড়পত্র পরিবেশ অধিদপ্তর কিভাবে দেয় তা আমার বোধগম্য নয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ কামরুল ইসলাম জানান, ইট পোড়ানো নির্গত ধোঁয়া মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। এতে ফুসফুস সংক্রমিত হয়ে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এসকল বিষয়ে ভাটা মালিক কবির হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান বর্তমান কয়লার যে দাম তাহাতে কয়লা কিনলে ব্যবসা করতে পারবোনা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন জানান, আমি ইতোমধ্যে দু’এক জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেছি। ভাটা মালিকদের মৌখিকভাবে সতর্ক করেছি। তারপরও ইটের ভাটায় কাঠ পোড়ানো হলে সেসব ভাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ভাটা পার্শ্ববর্তী এলাকাবাসী জানান, এলাকায় ইটের ভাটা হওয়ায় নগদ উপার্জনের আশায় অনেক দরিদ্র কৃষক চড়াদামে বিক্রি করছে জমির টপ সয়েল। এতে করে ওই সকল ফসলী জমি উর্বরতা হারাবে। কাঠ পোড়ানোর ফলে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং তাপমাত্রার কারণে ভাটা পার্শ্ববর্তী জমিতে কমে গেছে ফসলের উৎপাদন। এদিকে তারা পুরোপুরি অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলেও প্রশাসনের কর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কলারোয়ার রয়েল ইটভাটা নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে না। টপ সয়েল এবং গাছ কাটা বন্ধ করতে এবং অবৈধভাবে পরিচালিত কেরালকাতা ইউনিয়নের রয়েল ভাটা বন্ধ করে পরিবেশ রক্ষায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

রাখাইনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান মিন আং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের শতাধিক এমপি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে  বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলি এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি ১০০ জনের অধিক সাংসদের স্বাক্ষরসহ একটি চিঠি বরিস জনসনের কাছে পাঠিয়েছেন।

ওই চিঠিতে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য  আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিন আং হ্লাইংয়ের বিচার করার জন্য ব্রিটিশ সরকারকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ৮৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

মেডিসিন স্যানস ফ্রন্টিয়ারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, গত বছর একমাসে ৭ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্যে ৭৩০জন শিশু রয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, অসংখ্য প্রমাণ থাকার পরও মিয়ানমার সরকার ও সামরিক বাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা অস্বীকার করে আসছে। এছাড়া, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যেসব আইন আছে, তার কোনোটিই পরিবর্তন করা হয়নি।  এতে আরও বলা হয়েছে, গত দুই বছর আগে ক্ষমতায় আসা বর্তমান মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের অবস্থা উন্নয়নের জন্য কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এ ঘটনায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান মিন আং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার ঘটনা তাকে আরও বেশি সাহসী করে তুলছে।

ব্রিটিশ এমপিরা তাদের চিঠিতে বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের প্রস্তাব দিলে চীন ও রাশিয়া তার বিরোধিতা করবে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে—এই দু’টি দেশকে বোঝানো, যেন তারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা সদর ২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এমপি’র পক্ষে সদর উপজেলা লাবসা ইউনিয়নের দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে দেবনগর এলাকায় দুস্থদের মাঝে ২০০ শত কম্বল বিতরণ করা হয়। সদর এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি’র পক্ষে দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও লাবসা ইউনিয়ন পুলিশিং কমিউনিটি ফোরামের সভাপতি সরদার নজরুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংকৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও লাবসা ইউপি সাবেক মেম্বার সিরাজুল ইসলাম, আ.লীগ নেতা আঃ রব,বিশ^নাথ মন্ডল,জিয়াউর রহমান জিয়া, আঃ হামিদ, মনিরুল ইসলাম,আরশাদ আলি, শেখ আঃ আলিম প্রমূখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বৃষ্টি বিঘ্নিত ফাইনালে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকে ১৯ রানে হারিয়ে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের শিরেপা জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। শিরোপা জয়ের পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত ভার্সনে এই প্রথমবার র‌্যাকিংয়ের শীর্ষ স্থানটিও দখলে নিয়েছে অসিরা।

অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান করতে সক্ষম হয়নিউজিল্যান্ড। আগের ম্যাচে ২৪৩ রান করা কিউইরা আজ যেন অসি বোলারদের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন রস টেইলর। অস্ট্রেলিয়া স্পিনার এ্যাস্টন আগার সংক্ষিপ্ত ভার্সনে ক্যারিয়ার সেরা ২৭ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন।
জয়ের জন্য ১৫১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ১৪.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান সংগ্রহ করার পর বৃষ্টি নামে। পরবর্তীতে আর খেলা মাঠে না গড়ালে শেষ পর্যন্ত ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ১৯ রানে জয় পায় অসিরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করে আউট হন ডি অর্চি। এছাড়া ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার করেন ২৫।
এ ম্যাচে জয়ের ফলে অপরাজিত থেকেই সিরিজ জিতল ডেভিড ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন দলটি। অর্থাৎ নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সব ক’টিতেই জিতল অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানকে হটিয়ে শীর্ষ স্থানও দখলে নিলো তারা। সেই সঙ্গে ২০১১ সালে র‌্যাংকিং প্রথা চালু হওয়ার পর প্রথমবার সংক্ষিপ্ত ভার্সনের শীর্ষ স্থান দখল করলো অস্ট্রেলিয়া। বাসস।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভুলে ভরা বাংলা- মিল্টন বিশ্বাস

বাঙালি জাতি হিসেবে আজ আমরা গর্বিত এবং মহিমান্বিত। ভাষার মাসে আমরা দেখতে পাই একদিকে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর ভাষা বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যদিকে আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁর আমলেই ১৯৯৯ সালে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক ঘোষিত হয়ে ১৯৩টি দেশে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল রাষ্ট্রভাষার দাবি আদায়ের আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি। কিন্তু ভাষা শহীদদের রক্তে স্নাত হওয়া সত্ত্বেও ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বর্তমান সময়েও আমাদের লড়াই থেমে নেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে ভাষা আন্দোলনের পূর্বাপর প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে। এই গ্রন্থে তিনি তুলে ধরেছেন পাকিস্তানি শাসক ও এদেশীয় দোসরদের বাংলা ভাষার প্রতি বিরূপ মনোভঙ্গি। আর রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে আন্দোলনকে বেগবান করার কঠিন সময়ের কথা লেখকের নিজের জবানিতে ব্যক্ত হয়েছে। তবে সেদিন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের যে অভিপ্রায় ছিল ভাষাসৈনিকদের তার অনেক কিছুই আজ অপূর্ণ রয়ে গেছে। ৬৬ বছর পর আমরা রাষ্ট্রভাষা বাংলার মান ও মর্যাদা নিয়ে কথা বলি, নির্ভুল বানানে বাংলা লেখার জন্য তর্কবিতর্কে লিপ্ত হই আর হরহামেশায় ভুলে ভরা বাংলা লেখা নিয়ে খেদোক্তি করি।

২.

কিছুদিন আগে বিচারপতির পদত্যাগপত্রে বাংলা বানান ভুল নিয়ে হৈচৈ হয়ে গেল। আবার সরকারি সাইনবোর্ড, রাস্তার প্লাকার্ড, পোস্টার, ব্যানারে বানান ভুল নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। বাংলা একাডেমি কর্তৃক সঠিক বানানের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকলেও মানতে নারাজ অনেকেই। এজন্য ঢাকার প্রধান সড়কের পাশে ফার্মেসি ও ফটোস্ট্যাটের দোকানের প্রত্যেকটির সাইনবোর্ডে লেখা ‘ফার্মেসী’, ‘ফটোষ্ট্যাট’ ইত্যাদি। কয়েকটি দোকানে স্টোর-এর জায়গায় ‘ষ্টোর’ লিখে রাখা হয়েছে। রাস্তা সংলগ্ন বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট চোখে পড়ে যেগুলোতে লেখা ‘রেষ্টুরেন্ট’। একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের নামের বানানে ভুল করে মর্ডান না লিখে ‘ণ’ ‘মর্ডাণ’ লেখা রয়েছে। অথচ আমরা জানি, কোন বিদেশি শব্দে ণ, ষ এবং ঈ কার হবে না।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অন্যতম পুণ্যস্থান ছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণ। কিন্তু সেখানেও বানান ভুল দেখতে পাবেন। মেডিকেলে ঢুকেই নজরে আসে ‘‘বার্ণ এবং সার্জারী’’ (বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট) বানান ভুল। একটু পিছন ফিরলেই চোখে মিলবে ইমারজেন্সি কমপ্লেক্স-এর ‘‘ইমারজেন্সী’’ ভুল বানান। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের বানান ভুল করে ‘সুপ্রীম’ লেখা। জাতীয় প্রেসক্লাবের কর্মচারী ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন বানানটাই ‘ষ’ দিয়ে লেখা।

আবার একই শব্দ একেক সাইনবোর্ড বা দেয়ালে লেখা হচ্ছে একেকরকম। এতে একদিকে যেমন বাংলা ভাষার বিকৃতি ঘটছে তেমনি শিশুর ভাষা বিকাশে ত্রুটি ঘটছে বলে ভাষা বিশেষজ্ঞদের অভিমত। শিশুরা আগ্রহ নিয়ে সাইনবোর্ডগুলো পড়ে। আর সেখানে যদি ভুল থাকে তবে সেটি তাদের মনে গেঁথে যায়। অশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত আর্টিস্ট দ্বারা যখন কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল কিংবা বাসা বাড়ির কাজ করা হয় তখন সেসব সাইনবোর্ড, ব্যানার ও দেয়াল লিখন বাংলা বানানে ভুলে ভরা থাকছে। সাইনবোর্ড হচ্ছে চোখের ঝিলিক; প্রতিষ্ঠানের আয়না। প্রতিষ্ঠানের পরিচয় যদি ভুল বানানে থাকে তাহলে প্রথমেই একটা বিরূপ ধারণা চলে আসে। যেমন, ফার্নিচারের দোকানগুলোতে দেখা যায় ফার্নিচার শব্দটিই একেক দোকানে লেখা আছে একেকরকম। ‘মদিনা ফার্নিসারস’, ‘প্যারামাইন্ট ফার্নিশার্স’, ‘হোম ফার্নিষার্স’ বানানে লেখা হয়েছে শব্দটি।

অটোমোবাইলসের সাইনবোর্ডে লেখা আছে ‘এহানে মুবিল, গিরিজ, পিট্রোল’ (এখানে মবিল, গ্রিজ, পেট্রোল) পাওয়া যায়। ‘রহমান অটোমোবাইলসের’ জায়গায় লেখা আছে রয়মান অটোমোবাইল, গ্রিজকে লেখা আছে গিরিজ, অকটেনকে লেখা আছে অটেন। মোবাইলের দোকানের সাইনবোর্ডে দেখা যায়, ‘কলিম ইন্টারপ্রাইজ’- তাতে আরো লেখা ‘এখান থেকে ফিলিক্স লোড, এজি লোড করা হয়। মোবাইল টু মবেল ২ টাকা। বিকাষ করা হয়।’ বাসা ভাড়ার বিজ্ঞাপনেও ভুল লেখা চোখে পড়ে। যেমন, ‘এখানে ঘোর ভারা দেয়া হবে। পানি, গস সুবিধাসহ।’ ছাত্রাবাসগুলোর সাইনবোর্ডে লেখা আছে, ‘মেছ ভাড়া দেয়া হবে।’ যারা এসব বাংলা লেখে তাদের কেবল বর্ণমালা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে কাজ করতে হয়। বানান নিয়ে তারা মাথা ঘামায় না। তবে যারা লিখে নিচ্ছেন তাদেরও রয়েছে বানানে অদক্ষতা। এজন্য অসচেতন মানুষের কারণে বাংলা ভাষা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তার যুগে ভুলে ভরা বাংলা স্ট্যাটাস সবসময়ই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। যেমন একটি স্ট্যাটাসে ভুলসমূহ এরকম- ‘আত্মপ্রচার করতে চাইনি, কিন্ত (কিন্তু) যে মিথ্যাচার করা হচ্ছ (হচ্ছে) তাতে কিছু কথা বলা জরুরী (জরুরি) হয়ে পড়েছে। তা নাহলে (না হলে) ভুল বার্তা চলে যাচ্ছে তরুনদের (তরুণদের) কাছে। এখনকার তরুনরা (তরুণরা) এসব ইতিহাস জানেনা (জানে না)। তরুন (তরুণ) সাংবাদিকরাও তাই। তাই তারা চতুর ফন্দীবাজ (ফন্দিবাজ) ও যেকোনও (যেকোনো) ভাবে সংবাদপত্রের পাতায় থাকার কৌশল করছে, …এখন মুক্তবুদ্ধিচর্চার নতুন ধান্দাবাজদের এই কুমভিরাশ্রারু (কুম্ভিরাশ্রু) দেখে মনে হয় ধরণী দ্বিধা হও।’

কেবল সোশ্যাল মিডিয়া নয় খ্রিষ্টীয় বছরের প্রথম দিনে বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া বিনামূল্যের বই নিয়ে ২০১৭ সালে চলেছে তুমুল বিতর্ক। ছিল কবিতার বিকৃতি আর বানান ভুলের ছড়াছড়ি। এমনকি মুদ্রণের মান ও অলংকরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে তখন। প্রথম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে অক্ষরজ্ঞান সূচিতে পাঠ ১২-তে ‘ও’ অক্ষর চেনানোর উপকরণ হিসেবে ‘ওড়না’কে ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘শুনি ও বলি’ পাঠে ‘ও’ অক্ষর চেনাতে ওড়না পরা এক কন্যাশিশুর ছবি দিয়ে লেখা হয়েছিল- ‘ওড়না চাই’। প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ের লেখা ও ছবিতে ‘ছাগল গাছে উঠে আম খাচ্ছে’ বোঝাতে চেয়েছিলেন লেখক। বাংলা পাঠ্যবইটির ১১ পাতায় অ’তে অজ (ছাগল) বোঝাতে গিয়ে ছাগলের ছবি জুড়ে দেয়া হয়। সংশোধন করা না হলে ছাগলের গাছে উঠে আম খাওয়ার মতো অসম্ভব বিষয় শিখতে হতো শিশুদের।

তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে কুসুমকুমারী দাশের ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতাটি বিকৃত করা হয়। ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে’ না লিখে লেখা হয়েছিল ‘আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে?’ এছাড়া ‘মানুষ হইতে হবে- এই তার পণ’ না লিখে ‘মানুষ হতেই হবে- এই তার পণ’ লেখা হয়। ‘হাতে প্রাণে খাট সবে শক্তি কর দান’ এই লাইনে ‘খাট’ শব্দটির বানান বদলে দিয়ে লেখা হয়েছিল ‘খাটো’। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বইয়ের ৭৮ পাতায় ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ’ লেখায় মুক্তিযুদ্ধ শব্দটি কখনো ‘মুক্তিযুদ্ধ’ আবার কখনো ‘মুকতিযুদ্ধ’। ‘বঙ্গবন্ধু’ বানানটি ভেঙে ঙ-গ আলাদা আলাদা করে লেখা হয়। যা হোক এসব সমস্যা সমাধান করা হয় অতি দ্রুত। কিন্তু ভুলে ভরা বাংলা ভাষার  দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়। আমরা মনে করি পাঠ্যপুস্তকে কেনো ধরনের ভুল গ্রহণযোগ্য নয়। শিশুদের কাছে উপস্থাপিত কবিতা বা লেখার কোনো ভুল বা বিকৃতি চলবে না।

৩.

আসলে বাংলা ভাষার বিকৃতি ঘটছে সর্বত্রই। এফএম রেডিও’তে বাংলা ভাষাকে ইংরেজি স্টাইলে উচ্চারণ করা হচ্ছে। ভুলে ভরা বানানে প্রতিবাদলিপি প্রেরিত হয়েছে দৈনিক পত্রিকায়; প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নে ভুল দেখা গেছে। গত বছর বিজ্ঞান পরীক্ষায় ছিল ব্যাকরণগত ভুল। সম্প্রতি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের এক ফেস্টুনের ছবিতে দেখা গেছে বানান ভুলের ছড়াছড়ি। শিক্ষা, মেরুদণ্ড এমন সাধারণ বানানেও ভুল হতে দেখা গেছে সেখানে। পাওয়া গেছে ভুলে ভরা উত্তরপত্র মূল্যায়ন নির্দেশিকাও। যেমন, ‘ঊর্মি’র সমার্থক শব্দ ‘ঢেউ’, ‘ঈশ্বর’-এর ‘স্রষ্টা’। কিন্তু সমাধানপত্রে লেখা হয়েছে ‘ঢেউ’-এর স্থলে ‘ডেউ’, ‘স্রষ্টা’র স্থলে ‘শ্রষ্টা’। ‘আগমনী’ শব্দের শুদ্ধ লেখা হয়েছে ‘আগমণী’। ‘তিমির বিদারী’র ব্যাসবাক্য লেখা হয়েছে ‘তিমিরের বিদারী’। সমাসের নাম লেখা রয়েছে ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ। ‘নিত্য সমাস’-এর স্থলে লেখা হয়েছে ‘নিত্র সমাস’। একটি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্র মূল্যায়ন-নির্দেশিকায় এসব ভুল লেখা ছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে নির্দেশনা মোতাবেক অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে নিজস্ব ওয়েবসাইট। কিন্তু এসব ওয়েবসাইটে রয়েছে অনেক ভুল। ওয়েবসাইটগুলো মানছে না বাংলা একাডেমির প্রমিত ‘বাংলা বানান রীতি’। জাতীয় সংসদের নিজস্ব ওয়েবসাইটের বাংলা সংস্করণে ইংরেজি শব্দের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার দেখা গেছে। অথচ এসব শব্দের বাংলা অর্থ রয়েছে। আবার এসব শব্দের ব্যবহারের রয়েছে ভুল। ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, ট্যাবগুলোর মধ্যে রয়েছে হোম, লাইব্রেরি। অথচ চাইলেই হোম-এর পরিবর্তে ‘প্রচ্ছদ’ আর লাইব্রেরির পরিবর্তে ‘গ্রন্থাগার’ শব্দটি ব্যবহার করা যেত। এসব প্রমাণ করে বাংলা শব্দ ব্যবহারে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা। তাছাড়া পুরো ওয়েবসাইটজুড়ে রয়েছে ভুল বানানে বিদেশি শব্দের ব্যবহার। ভুল বানানে যেসব ইংরেজি শব্দগুলো লেখা হয়েছে সেগুলো হলো- চীফ, সেসন, ইংরেজী, স্পীকার, পার্লামেন্টরী, লাইব্রেরী, গ্যালারী। বাংলা একাডেমি প্রমিত বানান রীতি অনুযায়ী বিদেশি ভাষার শব্দ সরাসরি ব্যবহার করতে হলে তার বানানে ই-কার (ি) এবং উ-কার (ু) ব্যবহার করতে হবে। সেক্ষেত্রে স্পীকার এর পরিবর্তে লিখতে হবে স্পিকার। একইভাবে চিফ, ইংরেজি, পার্লামেন্টরি, লাইব্রেরি, গ্যালারি লিখতে হবে। আর ‘সেসন’ বানানটি হবে ‘সেশন’। যার পরিবর্তে লেখা যেত অধিবেশন বা মাত্রাকাল। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য, বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানরীতি অনুসরণের মাধ্যমে সরকারি কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহারে সামঞ্জস্য বিধান করা প্রয়োজন।

৪.

চলতি বছর(২০১৮) সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পর পদত্যাগ করেছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারক মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। তবে তাঁর পদত্যাগপত্রটি ভুলে ভরা। বানানে ভুল থাকার পাশাপাশি শব্দেও ভুল দেখা গেছে। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী শব্দটি লিখেছেন ‘গনপ্রজাতন্ত্রী’। বঙ্গভবনকে এক শব্দ না লিখে আলাদা লেখা হয়েছে ‘বঙ্গ ভবন’। মহাত্মন লিখতে লিখেছেন ‘মহাত্নন’। আর কারণবশত লিখতে দুটি শব্দ লিখে বশতঃ লিখেছেন ‘স’ ব্যবহার করে। কারণেও ব্যবহার করেছেন ‘ন’। অনুগ্রহপূর্বক লিখতে দুটি শব্দ লিখেছেন। গ্রহণ বানানে ‘ন’ ব্যবহার করেছেন। এছাড়াও তিনি সুপ্রীম ও আপীল লিখেছেন। যে শব্দ দুটি হবে যথাক্রমে সুপ্রিম ও আপিল। একইভাবে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার এক মাসের ছুটির আবেদনে ছিল অসংখ্য ভুল। লেখা হয় অমি (হবে আমি)। আবার লেখা ছিল ‘অক্রান্ত। হবে আক্রান্ত। আমরা প্রতিনিয়ত উচ্চ আদালতে বাংলা প্রচলনের পক্ষে কথা বলে থাকি এবং আদালত কর্তৃক বাংলায় সাইনবোর্ড লেখার নির্দেশনাও বহাল রয়েছে। সেখানে বিচারপতিদের ভুলে ভরা বাংলা দুঃখজনক।

ভুলে ভরা বাংলা ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করার জন্য প্রথমে দরকার সচেতনতা; প্রমিত বানানরীতি অনুসরণ করা এবং ইংরেজি শব্দের গ্রহণযোগ্য বাংলা পরিভাষা ব্যবহার। এজন্য বিদেশি শব্দের যথার্থ পরিভাষা তৈরি এবং সেগুলোর বানানরীতিও স্পষ্ট থাকতে হবে। তাছাড়া প্রযুক্তির প্রসারের যুগে বাংলাকে ইন্টারনেটের এক্সপ্রেসওয়েতে আরোহণ করতে হবে। এজন্য সরকারি উদ্যোগ ও জনগণের উদ্যম দুটোই প্রয়োজন।

লেখক : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ  এবং পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি, প্রতিবাদে কালো পতাকা মিছিল

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামীকাল ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সমাবেশের আয়োজন করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল বিএনপি। এজন্য ডিএমপিতে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার ঢাকায় কালো পতাকা মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

বুধবার বিকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচির কথা জানান।

একই সঙ্গে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির এই মুখপাত্র।

এর আগে, গত শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ারি মুক্তির দাবিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার কথা জানান রিজভী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিয়ের হ্যাটট্রিক করা ইমরানের বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রীর গুরুতর অভিযোগ!

খেলোয়াড়ি জীবনে হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও বিবাহিত জীবনে সম্প্রতি হ্যাটট্রিক করেছেন পাকিস্তানি ক্রিকট লিজেন্ড ইমরান খান। ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে আসা তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির এই নেতা কয়েকদিন আগে বুশরা মানেকার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ৪২ বছর বয়সী বুশরার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। ৬৫ বছর বয়সী ইমরানের বিরুদ্ধে এবার ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ অভিযোগ আনলেন তার সাবেক দ্বিতীয় স্ত্রী রেহাম খান।

রেহাম খানের অভিযোগ বেশ গুরুতর। তার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকার সময় থেকেই নাকি বুশরার সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়েছিলেন ইমরান খান। দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে রেহাম খান ইমরানকে ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বুশরার সঙ্গে কমপক্ষে ৩ বছর ধরে ইমরানের মন দেওয়া নেওয়া চলছে। এমনকী তিনি এটাও বলেছেন, ইমরান-বুশরার বিয়ে নাকি চলতি বছরের ১ জানুয়ারিতেই হয়ে গেছে!

রেহাম খানের ভাষ্য, ‘আমি যতদূর জানি, বুশরার সঙ্গে ইমরানের সম্পর্ক ৩ বছর ধরে। এমনকি আমাদের দাম্পত্য জীবনের মাঝেও ইমরান প্রায়ই বুশরার সঙ্গে দেখা করত। সে আগাগোড়া একজন মিথ্যেবাদী।ইমরান বুশরাকে গত ১ জানুয়ারি বিয়ে করেছে। কিন্তু সে এটা জনসম্মুখে প্রকাশ করল এখন। একই ব্যাপার সে করেছিল আমাকে বিয়ে করার পর।’

খেলোয়াড়ি জীবনে ইমরানের বদনাম ছিল ‘লেডি কিলার’ হিসেবে। অসংখ্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। ১৯৯২ সালে অবসর নেওয়ার ৩ বছর পর ব্রিটিশ ধনকুবের জেমস গোল্ডস্মিথের মেয়ে জেমাইমাকে বিয়ে করেন তিনি। ২০০৪ সালে ডিভোর্স হয় দুজনের। এরপর ২০১৫ সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপিকা রেহাম খানের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ১০ মাস টিকেছিল সেই বিয়ে। এবার রেহাম খানের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ইমরানের দাম্পত্য জীবনে না হলেও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest