ঢালিউডের আলোচিত জুটি শাকিব খান-অপু দম্পতির বিচ্ছেদটা অনুমিতই ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে লোকচক্ষু ফাঁকি দিয়ে সংসার করে গেছেন। একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন জুটি হিসেবে। পর্দায় তাদের রসায়ন দেখে বিমোহিত দর্শকদের খুব কম অংশই টের পেয়েছিলেন পর্দার পেছনে তাদের ঘরকন্নার কথা। সুখের এ সংসারে ঝড় উঠে গত বছরের মাঝামাঝি। অপু বিয়ের খবর প্রকাশ করে দেন, একমাত্র সন্তান আব্রাম খান জয়কে সবার সামনে নিয়ে আসেন।
এরপর শাকিব-অপুর সংসারের ভেতরকার একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সবার সামনে বেরিয়ে আসতে থাকে। পাল্লা দিয়ে সম্পর্কও খারাপ হতে থাকে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক। পরস্পরকে দোষারোপ করা শুরু করেন তারা। বিয়ের খবর প্রকাশ করে দেয়াতেই অপুর ওপর বেশি ক্ষিপ্ত হন অপুর। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর খুব কমই তারা মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু গণমাধ্যমের বরাতে তারা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং তার পাল্টা জবাব দিয়েছেন।
তারপরও ভক্তদের আশা ছিল সব ভুলে তারা এক হবেন। কিন্তু সে আশাও ধূলিস্যাৎ হয় ২২ নভেম্বর অপুকে পাঠানো শাকিবের তালাকনামার মধ্য দিয়ে। গত ডিসেম্বরে এফডিসিতে শাকিবকে বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাবের দেয়া সম্মাননা গ্রহণ করেন অপু। সেসময় শাকিবের জন্য দোয়াও চেয়েছিলেন। এজন্য ধারণা করা হচ্ছিল, তাদের বরফ বোধ গলতে শুরু করেছে। কিন্তু তা হয়নি। তাদের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ আরও জমাট বেঁধেছে। প্রায় এক বছর শাকিব-অপুর বিয়ে, দেনমোহরসহ নানা বিতর্কে শোবিজপাড়া সরগরম ছিল। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি যার যবনিকাপাত ঘটছে। আগামীকালই আনুষ্ঠানিক ঘটছে শাকিব-অপুর সংসারের।বিয়ে নিয়ে যেসব বিতর্ক হয় শাকিব-অপুকে নিয়ে:
বিয়ের তারিখ
শাকিব-অপুর বিয়ের তারিখ নিয়েও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় শাকিবকে ভালোবেসে ধর্মান্তরিত হয়ে ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল বিয়ের করেন অপু। কিন্তু তাকে পাঠানো তালাকনামায় বিয়ের তারিখ হিসেবে শাকিব লিখেছেন ১৬ মার্চ।
দেনমোহর বিতর্ক
শাকিব বলেছেন, অপুর সঙ্গে তার বিয়ের দেনমোহর ৭ লাখ ১ টাকা। অপু বলেছেন, দেনমোহরের পরিমাণ ছিলো ১ কোটি ৭ লাখ টাকা! তবে কেউ এখনো কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
কাজী নিয়ে বিতর্ক
অপু জানান, তাদের বিয়ের কাজী শাকিবের পরিচিত। শাকিবের গ্রামের বাড়ি থেকে ওই কাজীকে আনা হয়। কিন্তু শাকিব বলেছেন, বিয়ের কাজী অপুর পরিচিত।
বয়ফ্রেন্ড বিতর্ক
গণমাধ্যমে শাকিব দাবি করেছেন, অপু বয়ফ্রেন্ড নিয়ে কলকাতায় ঘুরতে গেছেন। কিন্তু অপু বিশ্বাস বলেছেন, যারা বয়ফ্রেন্ডের খবর প্রকাশ করেছে তারা মানসিকভাবে অসুস্থ।
তালা বিতর্ক
অপুর সঙ্গে তিক্ততা শুরু হলেও সন্তান জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেছেন শাকিব। তবে এ নিয়েও শুরু হয় বিতর্ক। গত নভেম্বরে শাকিব দাবি করেন, জয়ের সঙ্গে তিনি দেখা করতে গিয়ে দেখেন অপুর বাসায় তালা। অপু গৃহকর্মীর কাছে সন্তান রেখে বিদেশ চলে গেছেন।
এ নিয়ে পাল্টা হিসেবে অপু বলেছেন, ‘তালা দেয়া ছিল না। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল।’ ঘরে গৃহকর্মীর কাছে নয়, নিজের বোনের কাছে সন্তানকে রেখে গেছেন। তার কাছে তালার চাবিও ছিল!
সন্তানকে নিয়ে বিতর্ক
এটাই শাকিব-অপু দম্পতিকে নিয়ে সর্বশেষ বিতর্ক। গত রবিবার রাতে দেশে ফিরে সোমবার রাতেই শাকিব উড়াল দেন অস্ট্রেলিয়ায়। যাওয়ার আগে গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েক দিন ধরে বাচ্চাটার জন্য মনটা খুব কাঁদছিল। তাই তাড়াহুড়ো করে অল্প সময় নিয়ে জয়কে দেখতে এসেছি। কিন্তু মনে বড় কষ্ট নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। অপু বাচ্চাটাকে দেখতে দিল না আমাকে।
এর জবাবে অপু বলেছেন, ছেলেকে দেখতে চেয়ে শাকিব কোনো যোগাযোগই করেননি। শাকিবের কোনো কল আসেনি। তার কোনো লোকও আমাকে কল দেয়নি।আমাকে এসএমএসও করেনি। আদৌ শাকিব বাচ্চাকে দেখতে চেয়েছে কী না তাও জানি না।
অপু আরও জানান, তালাকনামা পাঠানোর পর আর জয়ের সঙ্গে দেখা করেননি শাকিব।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবি আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালায় পুলিশ। এতে শহীদ হন রফিক, জব্বার, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা আরো অনেকে। পাকিস্তান শাসনামল থেকেই দিনটিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে আসছে বাঙালিরা। ভাষার দাবিতে বিশ্বের প্রথম কোনো জাতি জীবন দেওয়ায় ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর একটি সভায় ১৮৮টি রাষ্ট্রে সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে দিবসটিকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করছে বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী। দিবসটি উদ্যাপনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বিন¤্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহিদদের স্মরণ করতে প্রভাতফেরি লক্ষ্য করা যায়। এরপর বুধবার রাত ১২ টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের শহিদ বেদীতে ফুল দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
শহিদ বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন সাতক্ষীরা-০২ ও সাতক্ষীরা-০১ আসনের সংসদ সদস্যদ্বয় যথাক্রমে মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ও এ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, জেলা পুলিশ সুপার মো.সাজ্জাদুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বাবু, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এন.এম মঈনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাকির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আব্দুল হান্নান, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তহমিনা খাতুন প্রমুখ। এরপর দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে শহিদ মিনারের বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন রাজনীতিক, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, ছাত্রসহ সকল শ্রেণি-পেশা ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ।
মনোরম আল্পনাআঁকা শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে খালি পায়ে ভিড় করেন তারা। পর্যায়ক্রমে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন- সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগ, নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ, সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাব, সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ, জেলা শ্রমিক লীগ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, জেলা কৃষক লীগ, দৈনিক পত্রদূত, দৈনিক দৃষ্টিপাত, দৈনিক যুগেরবার্তা, দৈনিক কালের চিত্র, দৈনিক দক্ষিণের মশাল, ডেইলি সাতক্ষীরা, ভয়েস অব সাতক্ষীরা, সম্মিলিত সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশন, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা নার্সিং ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ, দিবা-নৈশ কলেজ, ছফুরননেছা মহিলা কলেজ, সাতক্ষীরা সিটি কলেজ, জেলা কারাগার, সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি, জেলা জাতীয় পার্টি, জেলা জাতীয় যুব সংহতি, জাতীয় ছাত্র সমাজ, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, জেলা কৃষকলীগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ, জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জেলা আইনজীবী সমিতি, সাতক্ষীরা পৌরসভা, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি সাতক্ষীরা, চেম্বার অব কমার্স, রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরা, সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, নবজীবন ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরি, সাতক্ষীরা আহছানিয়া আদর্শ আলিম মাদ্রাসা, সাতক্ষীরা জেলা স্কাউটস্, সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতি, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), জেলা শিল্পকলা একাডেমী, সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মিশন, সাতক্ষীরা শিশু একাডেমি, নলকুড়া নাট্য গোষ্ঠী, বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ, সাতক্ষীরা ‘ল’ কলেজ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ, বর্ণমালা একাডেমি, দীপালোক একাডেমী, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, নলকুড়া তরুণ সংঘ, সাতক্ষীরা অন লাইন প্রেসক্লাব,
জেলা মিনিবাস মালিক সমিতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এড. এন্তাজ আলী স্মৃতি সংসদ, ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখা, জেলা মন্দির সমিতি, পৌর শ্রমিকলীগ, মটর সাইকেল চালক এসোসিয়েশন, জেলা মাহিন্দ্রা থ্রি হুইলার চালকলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠন এবং সর্বস্তরের নাগরিকেরা ফুল দিয়ে বায়ান্নর ভাষাশহীদদের স্মরণ করেন। মাইকে বাজতে থাকে অমর একুশের গানের করুণ সুর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি। ধারাভাষ্যকারেরা অবিরাম কবিতার পক্তিমালা আবৃত্তি করেন। ঘোষণা মঞ্চে দায়িত্ব পালন করেন তৈয়েব হাসান বাবু, শেখ মোসফিকুর রহমান মিল্টন, শামীমা পারভীন রতœা, ও আবু আফ্ফান রোজ বাবু।