পরিবারকে রেঁধে খাওয়ালেন প্রধানমন্ত্রী

সুযোগ পেলেই জীবনের গল্প মেলে ধরেন। কখনও সমুদ্র সৈকতে পা ভিজিয়ে, আবার কখনও দুঃখী মানুষের কান্নায় বুক ভাসিয়ে। কমল শিশু মনে মন মিলিয়ে খুনসুটি খেলেন। আবার শিল্পীর সুরেও সুর মেলান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকার প্রধান তিনি। দলেরও প্রধান। শত ব্যস্ততা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠা। আর অমন ব্যস্ততা সেরেই ঘুমাতে যাওয়া। তবুও সখের সিঁড়িতে পা রাখতে ভোলেন না। সুযোগ পেলে বিরাজ করেন জীবনের খেলাঘরে।

এমন সুযোগ এসেছিল গতকাল শনিবার ছুটির দিনে। সে সুযোগ হাত ছাড়া করেননি। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পছন্দের রান্না করে খাওয়ান পরিবারকে।

আজ রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন তার ফেসবুকে দুটি ছবি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশন তিনি লিখেছেন, ‘সাধারণে অসাধারণ আমাদের ঠিকানা…।’

সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের রান্নাঘরে শেখ হাসিনা রান্না করছেন। ছবি দুটি তিনি ফেসবুকে পোস্ট করার পর দ্রুত তা ভাইরাল হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় পেলেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। নিজের হাতে পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না করতে পছন্দ করেন। গতকাল শনিবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন। নানা কাজের মধ্যে কিছুটা সময় পেয়ে তিনি ঢুকে পড়েন রান্নাঘরে। পরিবারের সদস্যদের জন্য পছন্দের পদ রান্না করেন।

এর আগেও গণভবনে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর রান্না করার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের ২৫ জন প্রতিনিধি নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ঐক্য পরিষদের ২৪ জন ও জাতীয়তাবাদী পরিষদ থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছেন।

রোববার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদ।

নাসরিন আহমেদ বলেন, সঠিকভাবে ভোট গণনা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত কারো অভিযোগ পাইনি। সিনেট নির্বাচনে ৪৬ হাজার ৯৯৭ জন ভোটার ছিল। তার মধ্যে ২২ হাজার ৬৪২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

গণতান্ত্রিক ঐক্য পরিষদের বিজয় প্রার্থীরা হলেন :

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক অসীম সরকার, সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা এ আর এম মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, এনার্জি প্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম এনামুল হক চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ফার্স্ট সহকারী ব্যবস্থাপক এ বি এম বদরুদ্দোজা, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, মুক্তিযোদ্ধা এম ফরিদউদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি অধ্যাপক মাহফুজা খানম, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল বারী, রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউর রহমান খান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ, মো. আলাউদ্দিন, মো. নাসির উদ্দিন, কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. লিয়াকত হোসেন মোড়ল, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি রঞ্জিত কুমার সাহা, নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সাদেকা হালিম এবং ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার।

জাতীয়তাবাদী পরিষদের একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার।

ঢাকার কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। শনিবার সকাল ৯টা থেকে ক্যাম্পাসের তিনটি কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ এর ৪৬ (১৪) ধারা অনুযায়ী ভোটার আইডি কার্ড দেখিয়ে ভোটাররা ভোট প্রদান করেন। এবারের নির্বাচনে তিনটি প্যানেল থেকে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। প্যানেল তিনটি হলো- গণতান্ত্রিক ঐক্য পরিষদ, জাতীয়তাবাদী পরিষদ এবং প্রগতি পরিষদ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাটলারের শতকে সিরিজ ইংল্যান্ডের

আগের দুই ম্যাচের চেয়ে তৃতীয় ম্যাচটাতে এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা যা একটু গড়ে তুলতে পেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবুও শেষ রক্ষাটা আর হলো না স্টিভেন স্মিথের দলের। পাঁচ ম্যাচের সিরিজটা ইংল্যান্ডই পকেটে পুরে নিল টানা তিন জয়ে।

সিডনিতে টসটা অবশ্য হেসেছিল স্বাগতিকদের পক্ষেই। স্মিথ ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানালেন ইয়ন মরগানদের। অসি বোলাররা বল হাতে স্মিথের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতার প্রমাণ দিচ্ছিলেন বেশ ভালোই।

১০৭ রানেই তুলে নেওয়া গিয়েছিল সফরকারীদের টপঅর্ডার। জনি বেয়ারস্টোর ৩৯ রানটাই ছিল সর্বোচ্চ। দলনায়ক মরগানকে সঙ্গে নিয়ে এর পরই লড়াইটা শুরু করেন উইকেটরক্ষক জশ বাটলার।

পঞ্চম উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেছেন ৬৫ রান। ৪১ রান করে মরগান ফিরলেও ক্রিস ওকসকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা তো সচল রেখেছেনই বাটলার সাথে তুলে নিয়েছেন নিজের ৪র্থ ওয়ানডে শতক।

৮৩ বলে চারটি ছয় আর ছয়টি চারে বাটলার অপরাজিত থেকে যান কাঁটায় কাঁটায় ১০০ রানেই। অপর পাশে ক্রিস ওকস ৩৬ বলে হাঁকিয়েছেন ৫৩ রানের হার না মানা ইনিংস। জশ হ্যাজলউড অসিদের হয়ে নিয়েছেন জোড়া উইকেট।

জবাব দিতে নেমেই ডেভিড ওয়ার্নারকে হারিয়ে বিপাকে পড়া অস্ট্রেলিয়া শিবিরকে ফের বাঁচানোর চেষ্টা করেন অ্যারন ফিঞ্চ। ক্যামেরুন হোয়াইট আস্থার প্রতিদান দিতে পারলেন এ ম্যাচেও। তাঁর ফিরে যাওয়ার পর দলপতি স্টিভেন স্মিথকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার আশার মশালে আলো ছড়াতে থাকেন ফিঞ্চ।

৬৯ রানের জুটি গড়ে ৬২ রান করে বিদায় নেন ফিঞ্চ। ৫৩ বলে সমান তিনটি চার আর তিনটি ছয়ে নিজের ইনিংস সাজিয়েছিলেন ফিঞ্চ। মিচেল মার্শের সাথে স্টিভেন স্মিথের আরেকটি দারুণ জুটি গড়ে ওঠে ফিঞ্চ ফিরে যাওয়ার পরই।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে অধিনায়ক আর মার্শ মিলে তুলেন ৬৮ রান। ব্যক্তিগত ৪৫ রানে স্মিথ ফিরলেও মার্শ দেখা পেয়েছেন অর্ধশতকের (৫৫)। ম্যাচের শেষটা দারুণ এক ফিফটিতে (৫৬) জমিয়েই দিয়েছিলেন মার্কাস স্টইনিস।

কিন্তু বিধিবাম, ৪৯তম ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে শেষ ওভারে রান ব্যবধানটা ২২ রানে নিয়ে যান ইংলিশ পেসার মার্ক উড। আর শেষের ওভারটাতে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ক্রিস ওকস স্টইনিসের উইকেটসহ দিয়েছেন মাত্র ৫ রান। ব্যস, ১৬ রানের জয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজটাই হয়ে যায় ইংলিশদের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক যুবককে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। রোববার সকালে পুলিশ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের চিতলা গ্রামের একটি ইটভাটার পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে। তবে তার পরিচয় জানা যায়নি।
কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক পিণ্টু লাল দাস জানান, রোববার সকালে চিতলা ইটভাটার পাশে চারা বটতলা থেকে এক যুবকের(৩০) লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। এরই ভিত্তিতে সকাল ১০ টার দিকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। লাশের মাথায় শর্ট গানের গুলির চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তাকে অন্য জায়গা থেকে তুলে এনে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সদা হাস্যোজ্জ্বল অনিক আজিজ স্বাক্ষর আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক : সদা হাস্যোজ্জ্বল অনিক আজিজ স্বাক্ষর আর নেই। সে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য,তালা-কলারোয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ ও নারী নেত্রী নাছরিন খান লিপির একমাত্র পুত্র। রবিবার ভোর রাতে এমপি’র ঢাকাস্থ বাসভবন ন্যামফ্লাটে অনিক আজিজের এ অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরা জেলা যুবমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক মফিজুল হক জাহাঙ্গীর জানান, তিনি শনিরাব রাতে সাতক্ষীরা থেকে বের হয়ে রবিবার ভোরে ঢাকায় পৌছান এবং অনিকের রুমের দরজায় খোলার জন্য ডাকাডাকি করেন। কিন্তু দরজা না খোলায় কৌশলে দরজা খুলে অনিক আজিজের মৃত দেহ দেখতে পান তিনি। তার এ অকাল মৃত্যুতে সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনিক আজিজ স্বাক্ষর ছাত্রমৈত্রী ও সাতক্ষীরায় গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম নেতা ছিলেন। লাশের ময়না তদন্ত শেষে হেলিক্যাপ্টার যোগে সাতক্ষীরায় আনা হবে। আজ রবিবার বাদ মাগ‌রিব সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অনন্য ঢেঁড়স..

অনন্য ঢেঁড়স..

কর্তৃক Daily Satkhira

ঢেঁড়স একটি অনন্য সবজি। ঢেঁড়সে রয়েছে ভিটামিন-এ, ‘ফাইবার’ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এর ফলে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় ঢেঁড়স।

ঢেঁড়সের রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ যা শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধ করে। এতে রয়েছে ‘পেকটিন’ নামের বিশেষ উপাদান, যা রক্তের বাজে কোলেস্টেরলকে কমাতে সাহায্য করে। এতে ‘অ্যাথেরোসক্লোরোসিস’ নামের জটিল রোগ প্রতিরোধ হয়।

গর্ভাবস্থায় ভ্রুণের মস্তিষ্ক তৈরিতে সাহায্য করে ঢেঁড়স। এই সবজি ‘মিসক্যারেজ’ হওয়া প্রতিরোধ করে।

ত্বকের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে শরীরের টিস্যু পুনর্গঠনে ও ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে ঢেঁড়স। ঢেঁড়সের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিইনফ্লামেটোরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান।

ঢেঁড়স অ্যাজমা প্রতিরোধে এবং অ্যাজমার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে বেশ উপকারী।

কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় ঢেঁড়স।

ঢেঁড়স বিষণ্নতা, দুর্বলতা ও অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে।

ঢেঁড়সে আছে বেটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-এ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও লিউটিন; যা চোখের গ্লুকোমা এবং চোখের ছানি প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ঢেঁড়স ক্ষতিকর ‘ফ্রি র‌্যাডিক্যাল’-র বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজের মতো প্রয়োজনীয় মিনারেল রয়েছে ঢেঁড়সে। এগুলো রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।

ঢেঁড়সে রয়েছে উচ্চপরিমাণ আঁশ। এটা হজমে সাহায্য করে। ‘পেকটিন’ অন্ত্রের ফোলা ভাব কমায় এবং অন্ত্র থেকে বর্জ্য সহজে পরিষ্কার করে।

ঢেঁড়স চুলের কন্ডিশনার হিসেবে বেশ ভালো। এটি খুশকি দূর করে এবং শুষ্ক মাথার ত্বকের জন্য উপকারী।

তাই, আসুন, অনন্য সবজি ঢেঁড়সের ওপর নির্ভরতা বাড়াই, ভালো থাকি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থা তুলে দেয়া উচিত-ড. আকবর আলী খান

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে এই মুহূর্তে সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থা তুলে দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান। তিনি বলেছেন, কোটার কারণে দেশের মেধাবীরা আজ বিপন্ন। কোটা বন্ধ হলে অনেক মেধাবী চাকরি পাবে।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দ্য প্রেজেন্ট সিভিল সার্ভিস সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

ড. আকবর আলী খান বলেন, কোনো দেশেই অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু রাখার নিয়ম নেই। বাংলাদেশের বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কোটা সিস্টেম। এর কারণে মেধাবীরা চাকরি পাচ্ছে না। কোটাকে অনেকে খারাপ, ভালো নয়, বাদ দেয়া উচিত এরকম বললেও এর বেশি কিছু বলেন না। পাবলিক সার্ভিস কমিশনে ২৫৭টি কোটা রয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশেই এমন উদ্ভট সিস্টেম নেই।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটা সিস্টেম চালু হয়েছিল, কারণ তাদের অবস্থা তখন খারাপ ছিল। কিন্তু এখন মুক্তিযোদ্ধার নামে যে কোটা দেয়া হয় তা নিতান্তই অমূলক।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা আরো বলেন, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) নিয়োগ পদ্ধতিতে অসংগতি রয়েছে। পাবলিক সার্ভিস কমিশন চায় সব পদের জন্য একই পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ হবে। এটি একটি উদ্ভট ধারণা। এর মাধ্যমে সঠিক ক্যাডার পাওয়া যায় না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আওয়ামী লীগে কোন্দল নগর থেকে ইউনিয়নে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শাসকদল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপ্রাপ্তির প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ঘিরেই এই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে তাই উদ্বিগ্ন দলটির অনেক নেতাকর্মী। দ্রুত এই দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসন করতে না পারলে সম্ভাব্য প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করা খুবই কঠিন হবে বলে মনে করছে তারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

যদিও আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় পুরোপুরি। তা সত্ত্বেও সাংগঠনিক কোন্দল নিরসন করার উদ্যোগ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। গতকাল শনিবার ঢাকায় ডেকে জয়পুরহাট ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দুই জেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠক দুটি হয়েছে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে। আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের সাংগঠনিক সফরেও দলীয় কোন্দলের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

রাজধানী থেকে শুরু করে সারা দেশে মহানগর, জেলা, উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও কোন্দল রয়েছে আওয়ামী লীগে। এ নিয়ে সংঘর্ষও হচ্ছে কোথাও কোথাও। এ অবস্থায় বিবদমান বিভিন্ন পক্ষের জেলা পর্যায়ের দলীয় নেতা, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদের নিয়ে বৈঠক করে কোন্দল মেটাতে চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গতকাল জয়পুরহাট ও নাটোরের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র এবং জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কয়েকজন সদস্য। কোন্দল মেটানোর এমন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, ‘দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব-কোন্দল থাকলে অবশ্যই নির্বাচনে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে। সামনে যে নির্বাচন আসছে সেটা একটা কঠিন নির্বাচন হবে। তাই আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে আমাদের যে সাংগঠনিক সফর শুরু হচ্ছে, সেখানে সিনিয়র নেতারা মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে জেলার নেতা এবং দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের যে কোল্ড ওয়ার চলছে তা নিরসনের চেষ্টা করবেন।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বলেন, ‘আমরা ঢাকায় ডেকে আজ (শনিবার) জয়পুরহাট ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে বসে কথা বলেছি। সামনে সাংগঠনিক ট্যুরে জেলা শহর থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ে যাব। সেখানে কোথাও কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব থাকলে তা নিরসন করা হবে। কারণ সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা দলকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে চাই।’

গত ১৬ নভেম্বর রাজধানীতে মহানগর আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ প্রকাশ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনাও হয়। আজিমপুর পার্ল হারবার কমিউনিটি সেন্টারে দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভার আয়োজন করলে আগেই কমিউনিটি সেন্টারের গেটে ময়লা ফেলে রাস্তা বন্ধ করে দেয় প্রতিপক্ষ গ্রুপ। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে পর্যন্ত যায়। পরে বিবদমান দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।

ঢাকার বাইরে এই চিত্র আরো ভয়াবহ। বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সম্মেলন পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ও ‘বহিষ্কারের’ ঘটনাও ঘটেছে। এমন এক ঘটনায় উত্তেজনা রয়েছে রাজশাহীর বাগমারায়। সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হককে জঙ্গিবাদের আশ্রয়দাতা বলে অভিযোগ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগও আনেন তিনি। পরে জেলা আওয়ামী লীগ বৈঠক ডেকে সান্টুকে ‘বহিষ্কার’ করে। অবশ্য সান্টুর দাবি, বহিষ্কার নয়, পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জেলা আওয়ামী লীগ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করার এখতিয়ার জেলা কমিটির নেই। তারা এ বিষয়ে কেবল সুপারিশ পাঠাতে পারে কেন্দ্রের কাছে।

বাগমারা উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু বলেন, ‘যাঁরা বিগত দিনে জঙ্গি বাংলা ভাইয়ের সঙ্গে ছিলেন, এমপি এনামুল হক তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরেন। তাঁর কাছে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনো স্থান নেই। মূলত এসব নিয়ে কথা বলতে গিয়েই তাঁর সঙ্গে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। এ ছাড়া তিনি সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চান—এটাও দ্বন্দ্বের আরেকটা কারণ।’

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য এনামুল হক বলেন, ‘জাকিরুল ইসলাম সান্টু ছাড়া আওয়ামী লীগের সবাই আমার সঙ্গে আছেন।’ জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরেজমিনে এসে দেখা উচিত আমার সঙ্গে কারা আছে।’ তিনি জানান, গত ৯ বছরে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় কোনো জঙ্গি একটা পটকাও ফোটাতে পারেনি। আর যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে, তারা কোনো দিন নৌকার পক্ষে ছিল না। নৌকায় ভোটও দেয়নি।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে গত বছরের ১০ নভেম্বর হবিগঞ্জের বাহুবলে হামলার শিকার হন জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। এর প্রতিবাদে এবং হামলাকারীর শাস্তি দাবিতে সেখানে টানা আন্দোলন করে কেয়া চৌধুরীর সমর্থকরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে দলীয়ভাবে বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখনো রয়েছে। কেয়া চৌধুরী ও তাঁর সমর্থকরা ওই ঘটনার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু জাহিরকে দায়ী করে আসছে। কেয়া চৌধুরী বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট আবু জাহির বলেন, ‘অভিযোগ করাটা সহজ। কিন্তু এর সত্যতা কতটুকু? এর কোনো সত্যতা নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমার একজন সহকর্মী, আমি কেন তাঁর ওপর হামলা করাব?’ তিনি আরো বলেন, ‘উনি (কেয়া চৌধুরী) যেখানে (বাহুবল) নির্বাচন করতে চান সেখানকার জাতীয় পার্টির এমপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব রয়েছে।’ বর্তমানে কারাগারে থাকা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। অ্যাডভোকেট আবু জাহির দাবি করেন, বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরী উত্তেজিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর ওপর কেউ হামলা চালায়নি।

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খান দুলালের সঙ্গে সংরক্ষিত আসনের সদস্য মাহজাবিন খালেদের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। মাহজাবিন খালেদ আগামী নির্বাচনে জামালপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। ওই আসনের বর্তমান এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল। মূলত দ্বন্দ্বটা ওই মনোনয়ন পাওয়ার বিষয় নিয়ে।

সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খান দুলাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মাহজাবিন খালেদকে নমিনেশন দেবেন না বলে দিয়েছেন। তার পর থেকেই মাহজাবিন আমাকে ফেল করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। কিন্তু চেষ্টা করেও তিনি সফল হবেন না।’

ওই দাবি নাকচ করে মাহজাবিন খালেদ গতকাল বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা খালেদ মোশাররফের মেয়ে। আমি নোংরা রাজনীতি করি না। নৌকার পক্ষে একজন কর্মী হিসেবে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। যিনি নৌকা পাবেন তাঁর পক্ষে কাজ করে যাব। আওয়ামী লীগ সভাপতি চাইলে আমাকে মনোনয়ন দেবেন। না চাইলে দেবেন না।’

নাটোরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী, স্থানীয় পৌরসভার মেয়র জলি চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার অবস্থান নিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের বিপক্ষে। নেতাদের এই দ্বন্দ্বের কারণে জেলা আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। এ দ্বন্দ্ব উপজেলা পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে। এই দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্যই গতকাল দুই পক্ষকে ঢাকায় ডাকা হয়। ধানমণ্ডিতে সমঝোতা বৈঠকে দুই পক্ষের নেতাদের মিলমিশ করিয়ে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল এমপি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে একটা দলাদলি ছিল। আজকের মিটিংয়ে একে অপরের হাত ধরিয়ে তা মিলমিশ করা হয়েছে।’ তিনি জানান, এখন থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ কোনো প্রগ্রাম করতে পারবে না। আহাদ আলী সরকারকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই—এমন পোস্টার লাগানোর জন্য বৈঠকে তিরস্কার করা হয় বলেও জানান তিনি।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার বলেন, ‘নাটোরে এমপি শিমুলের মতো একজন মানুষের সামনে সাহস করে কেউ কথা বলতে পারে না। কিন্তু আমি সে কাজটা করেছি। নৌকা ও শেখ হাসিনার পক্ষে পোস্টার লাগিয়েছি।’ তিনি দাবি করেন, বৈঠকে পোস্টার নিয়ে কথা হয়েছে। তবে তাঁকে তিরস্কার করা হয়নি। এ বৈঠকে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জানা যায়, বৈঠকে নাটোর জেলার দলীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলতে বলা হয়েছে। একই কথা বলা হয়েছে জয়পুরহাট জেলার নেতাদেরও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ জেলায়ই বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ। গত ১৪ নভেম্বর ফরিদপুরের সালথায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে জিয়াউর রহমান নামে এক কর্মী নিহত হন। গত ৭ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের বাখইলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান কেরামতউল্লা ও সাবেক চেয়ারম্যান বখতিয়ার রহমানের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের কর্মী বিল্লাল ও এনামুল নিহত হন। ১১ আগস্ট শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন যুবলীগ নেতা ইকবাল হোসেন। ১৮ জুলাই কুষ্টিয়ার মিরপুরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবলীগকর্মী শাহীন নিহত হন। এর আগে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে এমপির সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের জের ধরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ফারুক সরদার নামে এক নেতা নিহত হন।

সারা দেশে আওয়ামী লীগের এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল আগামী নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ গতকাল বলেন, ‘অবশ্যই পড়বে। আমরা যদি কোন্দল নিরসন করতে না পারি, তাহলে সংসদ নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ তবে দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসনের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, বর্তমান এমপিদের সঙ্গে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদেরই মূলত দ্বন্দ্বটা তীব্র।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest