সাতক্ষীরা সিটি কলেজে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রকিবেদক : ‘বিদেশে অর্থ পাচার ও এতিমদের টাকা লুটপাট করার অভিযোগে বেগম খালেদা জিয়াসহ তার পুত্র তারেক রহমানের গ্রেফতারের দাবীতে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১১ টায় সিটি কলেজ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভায় সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হাসানুজ্জামান শাওন। উপস্থিত ছিলেন সদর থানার ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মোখলেছুর রহমান চঞ্চল, সহ-সম্পাদক সোর্হাতো, পলিটেকনিক কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আরাফাত হোসেন,সাধারন সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সিটি কলেজর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আলিফ খান, হাবিবুল্লাহ, জাহিদুল ইসলাম, শরিফুল, কাজী ফাহিম,মোকারাম,অনুপ বসু ,ইমরান হোসেন, কবির, সুমন, নাঈম,রানা, হৃদয়, শিমুল, নোমান, প্রমূখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ডিবি পুলিশের হয়রানি বন্ধে নবাগত পুলিশ সুপারের কঠোর পদক্ষেপ চাইলেন সাংবাদিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের উপর ডিবি পুলিশের অবর্ণনীয় অত্যাচার, আটক বাণিজ্য ও হয়রানির একের পর দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে নবাগত পুলিশ সুপারের কাছে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ চাইলেন সাতক্ষীরার সাংবাদিকবৃন্দ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি করলেন জেলায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। এসপি মো. সাজ্জাদুর রহমান এসময় সকলকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে আমি সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষকে জানাতে চাই- পুলিশের দ্বারা কোন নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানি না হয় সে বিষয়ে আমি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
একই সাথে বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত থেকে দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল তাদেরকে বয়কট করার আহবান জানিয়ে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান বলেন ‘তাদের মাথার ওপর থেকে রাজনৈতিক ছাতা সরিয়ে নিন’।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় পুলিশের দায়িত্ব গ্রহণ একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতার সাথে কাজ করবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন বিনা কারণে গ্রেফতার বন্ধ করা হবে। একই সাথে পুলিশ যাতে কেবলমাত্র সমাজের অপরাধীদের ভীতির কারণ হয় সেই দায়িত্বই পালন করা হবে।
সাতক্ষীরার ২৫তম পুলিশ সুপার হিসাবে বুধবার রাতে যোগদানের কয়েক ঘণ্টা পর এসপি সাজ্জাদুর রহমান বৃহস্পতিবার তার সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতমিনিময় কালে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন সাধারণ মানুষ যাতে পুলিশের দ্বারা হয়রানি না হয় সে ব্যাপারে পুলিশবাহিনী সতর্ক থাকবে। ‘পেন ইজ মাইটার দ্যান সোর্ড’ একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ ও সাংবাদিকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের বর্তমান অবস্থান জিরো টলারেন্সÑ জানিয়ে তিনি আরও বলেন মাদকের ক্রেতা বিক্রেতা এবং ব্যবহারকারী একই অপরাধে অপরাধী। এ ছাড়া সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধের ক্ষেত্রেও পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয় বহন করে কেউ যাতে নিরীহ মানুষকে ফাঁদে জড়াতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক থাকবে বলে জানান তিনি। এসব ঘটনার সাথে পুলিশের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা থাকলে তাও কঠোর হস্তে দমন করা হবে। তিনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
মতবিনিময় সভায় খুব দ্রুত শহরে ট্রাফিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনা হবে মন্তব্য করে সাজ্জাদুর রহমান বলেন, খুব শীঘ্রই গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র কর্মকা-ও সমন্বিত করা হবে।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। এ সময় আলোচনায় উঠে আসে সাতক্ষীরায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা এবং তাদের গ্রেফতারে কার্যকর পদেক্ষপ গ্রহণ না করা, সাক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়ে ঔদাসীন্য, কয়েকজন জঙ্গির নিখোঁজ থাকার বিষয়, শহরে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ কর্মকর্তাদের সাধারণ পোশাকে রিভলবার প্রদর্শন করে ঘুরে বেড়ানো, মাদক ব্যবসায়ী ও নাশকতার মদদদাতাদের কারও কারও সাথে কোন কোন পুলিশ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠতা, ঢাকায় র‌্যাব পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত জঙ্গি মুকুল রানা, মতিয়ার রহমান, রোহান ইমতিয়াজের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায়, সুন্দরবনের জলদস্যুদের উৎপাত ও তাদের আত্মসমর্পণ, সীমান্তে ভারতীয় গরুর খাটাল পরিচালনা ইত্যাদি।
এ ছাড়াও সাংবাদিকেদের বক্তব্যে আরও উঠে আসে বিদায়ী পুলিশ সুপারের যোগদানের পরপরই পাটকেলঘাটা থানা এলাকা থেকে আটক তিন কেজি সোনা গায়েবের নেপথ্য তদন্ত কাহিনি, পুলিশের আচরণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হওয়া, হরিণ শিকার করে এক পুলিশ কর্মকর্তার ফ্রিজে ৩৫ কেজি হরিণের মাংস রাখা, বিভিন্ন সময়ে পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগে দুর্নীতি, গাড়ি থামিয়ে বা ট্রাক আটকে পুলিশের চাঁদাবাজি, রাতে বহু জনকে আটক করে পরদিন আদালতে সামান্য কয়েকজনকে হাজির করা, যেকোনো ব্যক্তিকে ধরে তার পকেটে ফেনসিডিল ঢুকিয়ে দেওয়া, শহরের বিভিন্ন স্থানে মেয়েদের উত্ত্যক্তকরণ, মাদক সেবন, বিক্রি কিংবা বহন, পুলিশ পরিচয়ে গ্রেফতারের পর ৩৫ দিন রেখে পরে আদালতে দুটি নাশকতার মামলা দেওয়া, সাতক্ষীরার এক দরিদ্র নারীর কাছ থেকে দফায় দফায় ঘুষ আদায়, সাতক্ষীরার সাইফুল্ল্যাহ লস্কর হত্যা, স ম আলাউদ্দিন হত্যা, আলতাফ হত্যা এবং শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মতো পেছনের অনেক ঘটনাসহ নানা বিষয়। একই সাথে পুলিশের নানা সফলতার কথাও উঠে আসে। তবে ঘুরে ফিরে সাংবাদিকদের প্রায় সকলেই ডিবি পুলিশের লাগামহীন হয়রানির প্রসঙ্গ তোলেন। পুলিশ সুপার এসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন তিনি স্বচ্ছতা এবং সততার সাথে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চান।
বহু সাংবাদিকের সরব উপস্থিতিতে মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, আবু আহমেদ, কল্যাণ ব্যানার্জি, সুভাষ চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, মমতাজ আগহমেদ বাপী, হাফিজুর রহমান মাসুম, মনিরুল ইসলাম মিনি, আবদুল ওয়াজেদ কচি, আবদুল বারী, এম কামরুজ্জামান, রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, বরুন ব্যানার্জি, আবুল কাসেম, হাফিজুর রহমান মাসুম, ফারুক মাহবুবুর রহমান, গোলাম সরোয়ার, অসীম চক্রবর্তী, আহসানুর রহমান রাজীব প্রমুখ সাংবাদিক। তারা জেলার নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে এর প্রতিকার দাবি করেন।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার, সদর থানার ওসি মারুফ আহমেদ, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের পরিদর্শক মিজানুর রহমানসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার নতুন পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমানের জীবন বৃত্তান্ত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরা জেলায় নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করলেন মোঃ সাজ্জাদুর রহমান। তিনি সাতক্ষীরা জেলার বিদায়ী পুলিশ সুপার মোঃ আলতাফ হোসেন এর স্থলাভিষিক্ত হলেন। পুলিশ সুপার মোঃ সাজ্জাদুর রহমান ২১তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। ২০০৩ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করে সিলেট, নীলফামারী ও ময়মনসিংহ জেলায় সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে লাইবেরিয়া গমন করেন। অত:পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি মাগুরা জেলায় ০১ বছর ০৩ মাস এবং নারায়ণগঞ্জ জেলায় ০৩ বছরের অধিককাল কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি লাভ করে ডিএমপি ঢাকার ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি)-তে উপ-পুলিশ কমিশনার(পশ্চিম) হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ব র্ণাঢ্য শিক্ষা জীবনে তিনি ১৯৯০ সালে এসএসসি ও ১৯৯২ সালে এইচএসসি-তে যশোর শিক্ষা বোর্ড এর মেধা তালিকায় স্থান করে নেন। অত:পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে সমাজ কল্যান বিষয়ে স্নাতক (২য় শ্রেণিতে ১ম স্থান) এবং স্নাতকোত্তর (১ম শ্রেণিতে ৫ম স্থান) ডিগ্রী অর্জন করেন। সেখানে তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্র ছিলেন। তিনি ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকলাস গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহিত এবং ০২ পুত্র ও ০১ কন্যা সন্তানের জনক। পুলিশ সুপার হিসেবে সাতক্ষীরা জেলায় তার দায়িত্ব পালনে তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিংড়ী যুবলীগের সভাপতি সোহাগকে অব্যাহতি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী যুবলীগের সভাপতি সোহাগকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মঈনুল ইসলাম স্বাক্ষিরত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাংগাঠনিক শৃংখলা ভঙ্গের কারণে ১৪ নং ফিংড়ি ইউনিয়ান যুবলীগের সভাপতি মোঃ সোহাগ হোসেন কে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হল। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সহ-সভাপতি মোঃ আঃ মান্নান ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই জন নিহত

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে মৌলভীবাজার শহরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহত দুই জন হলেন, সাবাব রহমান (২২) ও মাহি আহমেদ সোহেল (১৭)। নিহত দুই জনই জেলা ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ওসি সোহেল আহমেদ জানান, বিস্তারিত ঘটনা এখনও জানি না। তবে শুনেছি, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে সংঘর্ষ লাগলে দুই জন মারা যান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সেই এডিসি ও সাবেক সিভিল সার্জনের সমঝোতা, কোলাকুলি

লক্ষ্মীপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি, সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এতে দুজনের অপ্রত্যাশিত ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও চিকিৎসকদের মধ্যে বৈঠক হয়। দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে এ সমঝোতা হয়। এ সময় তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ক্যামেরাবন্দি হন।

ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, সেটি আলোচনার মাধ্যমে নিরসন করেছি। প্রশাসনকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা এডিসি শেখ মুর্শিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখন আমরা একে অপরকে চিনেছি, জেনেছি, বুঝেছি। একে অপরকে চিনতে না পারায় ঘটনাটি ঘটেছে। এখন আমরা লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের স্বার্থে ৪ তারিখের ঘটনা ভুলে গেছি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক হোমায়রা বেগম, পুলিশ সুপার আ স ম মাহতাব উদ্দিন, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. মোস্তফা খালেদ আহমদ, ডা. আশফাকুর রহমান মামুন, ডা. জাকির হোসেন ও লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা।

গত সোমবার সকাল ৯টার দিকে শহরের জেলা প্রশাসকের বাসভবন এলাকার কাকলি শিশু অঙ্গনের (বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) প্রবেশমুখে এডিসি শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও সাবেক সিভিল সার্জন শরীফের মধ্যে বাকবিতণ্ডার পর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দিয়ে আটক করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সালাহ উদ্দিন শরীফকে তিন মাসের বিনাশ্রম জেল দেওয়া হয়। পুলিশ তাঁকে কারাগারে পাঠায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

একদিন পর মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপিলের পর বিচারক মীর শওকত হোসেন পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় ওই চিকিৎসকের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

এদিকে, ভ্রাম্যমাণ আদালতে চিকিৎসকের কারাদণ্ডের বিষয়ে জনস্বার্থে দুজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এডিসি শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে ১৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় হাইকোর্টে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ হাজির থাকতে তলব করেছেন। এ সময় সালাহ উদ্দিন শরীফকেও উপস্থিত থাকতে বলা হয়।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার সেই এডিসি শেখ মুর্শিদুল ইসলামকে ওএসডি করা হয়। এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়।

পরে বুধবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত লক্ষ্মীপুরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফকে আপিলে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শুক্রবার থেকে নতুন ইন্তিফাদার ডাক হামাসের

৮ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে নতুন ইন্তিফাদা’র ডাক দিয়েছে ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন হামাস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার পবিত্র জেরুজালেম নগরীকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার পর হামাস নেতা ইসমাঈল হানিয়া নতুন এই ইন্তিফাদা বা প্রতিরোধ আন্দোলনের ডাক দেন। গাজায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শত্রুর মোকাবিলায় আমাদের ইন্তিফাদা ঘোষণা করা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা উচিত। একইসঙ্গে শুক্রবার থেকে গণবিক্ষোভের ডাক দেন তিনি।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ওই ভাষণে তিনি বলেন, ‘জেরুজালেমকে রক্ষার নতুন ইন্তিফাদায় অংশ নিতে শুক্রবার থেকে ফিলিস্তিনিদের রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। দখলদারদের বিরুদ্ধে এ ইন্তিফাদায় বিজয়ের ব্যাপারে আমাদের আত্মবিশ্বাস রয়েছে। যে কোনও ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হামাসের সব ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতেও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান হামাস নেতা।

এর আগে দুইটি বড় ধরনের ইন্তিফাদার ডাক দিয়েছিল ফিলিস্তিন। প্রথম ইন্তিফাদা ছিল ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত। তখন এটি ছিল মূলত একটি অসহযোগ আন্দোলন এবং গেরিলা প্রতিরোধ। ইসরায়েল যেভাবে এই ইন্তিফাদাকে প্রতিহত করেছিল, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইটঝাক র‍্যাবিন তিন শব্দে তা ব্যাখ্যা করেছেন। ওই তিন শব্দ হচ্ছে, ‘জবরদস্তি, শক্তি এবং আঘাত’।

প্রথম ইন্তিফাদা চলাকালে শত শত ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু মানুষকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হন হাজার হাজার মানুষ।

সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন কয়েক হাজার সেনা নিয়ে জেরুজালেমের পুরনো শহর (ওল্ড সিটি) এবং মসজিদুল আকসা ভ্রমণ করতে দ্বিতীয় দফায় ইন্তিফাদা শুরু হয়। ২০০০ সালে শুরু হয়ে ২০০৫ সাল পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকে। মর্যাদার দিক থেকে ইসলামে পবিত্র মক্কা ও মদিনার পরই জেরুজালেমের পবিত্র আল আকসা মসজিদের অবস্থান। আর এই শহরকেই ৬ ডিসেম্বর ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রতিবাদে ৮ ডিসেম্বর ২০১৭ শুক্রবার থেকে তৃতীয় ইন্তিফাদার ডাক দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।

প্রথম ইন্তিফাদার সময় ফিলিস্তিনিরা ব্যবহৃত টায়ার থেকে নেওয়া রবারের চাকতিতে একটি লোহার পেরেক ঢুকিয়ে এক ধরনের টায়ার ছিদ্রকারী যন্ত্র উদ্ভাবন করে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলকৃত অঞ্চলগুলোর প্রধান সড়কগুলোতে এ যন্ত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

ইসরায়েলের ধারণা ছিল, ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ-প্রতিরোধ অকার্যকর হয়ে পড়বে। কিন্তু আদতে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী এবং অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা আর হত্যাযজ্ঞের মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ আরও বেগবান হয়।

মূলত ইন্তিফাদার মাধ্যমেই প্রতিবেশী কোনও আরব দেশের সহায়তা ছাড়া দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সমর্থ হন ফিলিস্তিনিরা। ব্যাপক অত্যাচার-নির্যাতন, নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ, হত্যাযজ্ঞের মুখেও তারা প্রতিরোধ আন্দোলন থেকে পিছু হটেনি। এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়। সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, উইকিপিডিয়া।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা গ্রহণযোগ্য নয় -প্রধানমন্ত্রী

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনদিনের কম্বোডিয়া সফর শেষে ঢাকায় ফিরে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিকেল ৪টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি সুয়োমোটো (স্বতঃপ্রণোদিত) যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমার কাছে মনে হয় এটা ইসলামিক ওয়ার্ল্ডের কারও কাছে গ্রহণযোগ্য না। কারণ এখানে জাতিসংঘের রেজুলেশন রয়েছে। রেজুলেশন অনুযায়ী কিন্তু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের রেজুলেশনকে এভাবে অগ্রাহ্য করা কেউ বোধ হয় মেনে নেবে না। এটা ফিলিস্তিনের বিষয়ে আমার বক্তব্য।

আমরা মনে করি, ফিলিস্তিনের একটা অধিকার রয়েছে। তাদের একটা নিজস্ব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পরে তাদের যে ভূখণ্ডটা এবং যে সীমানাটা তাদের ছিল, যেটা তাদের রাজধানী হওয়ার কথা, সেটাই থাকা উচিত।

শেখ হাসিনা বলেন, এখানে একতরফাভাবে করা মানে, অশান্তি সৃষ্টি করা। যে শান্তিপ্রক্রিয়া, যেটা আমেরিকাই শুরু করেছিল, সেটার জন্য নোবেল প্রাইজও দেয়া হলো। একবার তারা নিজেরাই শুরু করল, এ ঘোষণা এখন অশান্তির পথে ঠেলে দেয়া, সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest