সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ধর্ষন চেষ্টা মামলায় ১ আসামী আটকদেবহাটায় সাদা ফুলে ভরে গেছে সজিনা গাছভূমিকম্পনে কাপল সাতক্ষীরাজীবন-জীবিকা খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় জলাভূমি সুরক্ষার অঙ্গীকারসাতক্ষীরায় জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের কর্মবিরতিসাংবাদিকদের পেশাগত মান উন্নয়নে কাজ করা হবে- হাবিবুল ইসলাম হাবিবসাতক্ষীরা জেলা নাগরিক ঐক্যের সভাপতির নেতৃত্বে ২১৭ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদানচ্যানেল -নাইন এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রকৌশলী মাহমুদ হাসানসাতক্ষীরায় চাকুরী মেলায় চাকুরী পেলেন ৮ জনসাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের বিজয় নিশ্চিত করতে গণসংযোগ ব্যস্ত সময় পারছেন দলীয় নেতাকর্মীরা

মডেলিং দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন সাড়ে তিন ফুটের এই নারী

উচ্চতায় তিনি সাধারণ মানুষের মতো নন। খুঁত বলতে এতটুকুই। কিন্তু সেই খুঁতই এখন তার শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এখানেই তিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। সাড়ে তিন ফুট উচ্চতা নিয়েও তাই মডেলিং দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন ড্রু প্রেস্টা নামের এই নারী।

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার রেনো শহরে জন্ম ড্রু প্রেস্টার। তবে বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলসে থাকেন তিনি। ২১ বছরের ড্রু জন্ম থেকেই একোনড্রোপ্লাসিয়ার শিকার। এই রোগের কারণে প্রাপ্ত বয়ষ্ক হলেও ড্রুয়ের উচ্চতা মাত্র ৩ ফুট ৪ ইঞ্চি।

ছোট থেকেই এই শারিরীক প্রতিবন্ধকতার কারণে নানা কটূক্তি শুনতে হয়েছে তাকে। কিন্তু কোনও বাধাই তার স্বপ্নের পথে আসতে পারেনি।

যেখানে মডেলিং দুনিয়ায় উচ্চতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেখানে সাড়ে তিন ফুটের হলেও ড্রু পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন মডেলিংকেই।
নিজের পেশার জন্যই রেনো ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলসে চলে আসেন ড্রু। তিনি মনে করেন জীবনের লক্ষ্যে যদি কেউ অবিচল থাকে তা হলে কোনও কিছুই তাকে আটকাতে পারবে না।বোরড পান্ডাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ড্রু বলেন, মডেল ইন্ডাস্ট্রির উচিত সকলকেই খোলা মনে গ্রহণ করা।সকলেই যেন তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে সেটা হোক হুইল চেয়ারে বসে বা স্ক্র্যাচে ভর করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ক্রিকেট খেললেন প্রধানমন্ত্রী

ক্রিকেট খেলায় ব্যাটিং করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ তথ্য জানার পর অনেকেই হয়তো আষাঢ়ে গল্প ভাবতে পারেন। কিন্তু সত্যি সত্যি ক্রিকেট ব্যাট হাতে নিয়ে ব্যাটিং করেছেন প্রধনামন্ত্রী। তবে তিনি মিরপুর কিংবা চট্টগ্রামের কোনো স্টেডিয়ামে খেলেননি। সত্যিকারের ব্যাট হাতে থাকলেও এ খেলা বাস্তবের ক্রিকেট খেলা নয়, এটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ক্রিকেট।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তির সবচেয়ে বড় উৎসব ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধন শেষে মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন স্টল পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী একটি গেমসের স্টলে যান। এ গেমসের স্টলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ক্রিকেট খেলেন শেখ হাসিনা। ক্রিকেট ব্যাট হাতে নিয়ে কয়েকটি বল মোকাবেলা করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের দেয়া এক স্ট্যাটাস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড় উৎসব চার দিনব্যাপী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড শুরু হয়েছে গতকাল বুধবার থেকে। মেলা চলবে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত। চার দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘রেডি ফর টুমরো’। আইসিটি খাতের গত ৯ বছরের অর্জন তুলে ধরা হচ্ছে এ উৎসবে। এ ছাড়া এই মেলায় প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন ও অর্জন তুলে ধরা হচ্ছে। গেমিং সম্মেলন, ফেসবুক ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসা বৃদ্ধি, ই-কমার্স সম্প্রসারণ বিষয়ক সেমিনারসহ মেলায় প্রতিদিন অনুষ্ঠেয় বিভিন্ন সেমিনারে তথ্য প্রযুক্তি খাতের আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ড্রোনসহ ৪ তুর্কি নাগরিক আটক

কক্সবাজারের উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওড়ানোর সময় ড্রোনসহ তুরস্কের ৪ নাগরিককে আটক করেছে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করার পর ড্রোনটি জব্দ রেখে মুচলেকায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যার পর উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ড্রোন ওড়ানোর সময় তাদের আটক করা হয়।

উখিয়া থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ড্রোন উড়িয়ে চিত্র ধারণ করার সময় জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে তুরস্কের ৪ নাগরিককে আটক করা হয়। ড্রোনটি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। ওই বিদেশি নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ শেষে স্বদেশে চলে যাওয়ার সময় ড্রোনটি ফেরত দেয়া হবে।

পুলিশ আরো জানায়, আটকরা বৈধ ভিসা নিয়ে জাসাস নামে একটি এনজিওর প্রতিনিধিত্ব করছে। তাদের সঙ্গে ছিলেন, বাংলাদেশি কো-অর্ডিনেটর এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব ড. নুরুল হক। তবে পুলিশ আটকদের পরিচয় জানাতে সম্মত হননি।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের জানান, ড্রোনসহ তুরস্কের ৪ নাগরিকদের আটক করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে এটি যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ সে বিষয়ে তারা জানে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর এ ধরনের ভুল আর হবে না বলে ক্ষমা চাইলে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ডিভোর্স লেটার হাতে পেলেও খুলে দেখেননি অপু

স্বামী চিত্রনায়ক শাকিব খানের ডিভোর্সের লেটার অবশেষে হাতে পেয়েছেন অপু বিশ্বাস। নয় বছরের সংসার শেষে স্বামীর এমন ন্যাক্কারজনক সিদ্ধান্তে হতবাক অপু। তিনি বলেছেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমস্যা হতেই পারে। তাই বলে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সে আমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠাবে তা ভাবতেও আমার ঘৃণা হচ্ছে। এই ঘৃণা থেকেই ডিভোর্স লেটারটি খুলে দেখার মানসিকতা আমি হারিয়ে ফেলেছি।

অপু বলেন, শাকিব এমন একটি ন্যক্কারজনক কাজ করবে স্বপ্নেও ভাবিনি। এটি নিয়ে আমি আমার আইনজীবীর কাছে যাব। আইনিভাবে যা হওয়ার তাই হবে।

এ নিয়ে ভারতের হায়দরাবাদে ‘নোলক’ ছবির শুটিংয়ে থাকা শাকিব খান বলেন, আমি কেন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেশের মানুষের কাছে তা এখন পরিষ্কার। যদি তার সঙ্গে স্বেচ্ছাচারিতা করতাম বা খেয়াল-খুশি মতো তাকে ডিভোর্স দিতে চাইতাম তাহলে অনেক আগেই তা করতাম। অপুর বিষয়ে যা করার তা করে ফেলেছি।
এখন আর এ বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যৌন নিগ্রহের নীরবতা ভেঙে টাইম ম্যাগাজিনের ‘সেরা ব্যক্তিত্ব’

যৌন হয়রানি এবং নিগ্রহের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী যারা নীরবতা ভেঙে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন তাদের সাহসিকতার স্বীকৃতি দিয়ে বছরের সেরা ব্যক্তিত্বের মর্যাদা দিয়েছে মার্কিন প্রভাবশালী ইংরেজি সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন। খবর বিবিসির।

সাময়িকীটি বলেছে, “যৌন নিগ্রহের বিষয়ে যেসব নারী ও পুরুষ তাদের নীরবতা ভেঙেছেন তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নানা শ্রেণি, বর্ণ ও পেশার মানুষ। কিন্তু তারা সবাই একসাথে মিলে লজ্জাকে ক্রোধে রূপান্তর করেছে পরিবর্তনের জন্য হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করেছেন। এবং অত্যন্ত ক্ষমতাধর কিছু মানুষকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করেছেন। ”

হলিউডের শীর্ষ একজন প্রযোজক হার্ভে ওয়েন্সটেইনসহ সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে রাজনীতি, ব্যবসা, শিল্প-সংস্কৃতির জগতের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নিগ্রহের অভিযোগ তোলেন বেশ কয়েকজন নারী ও পুরুষ। বলিউড অভিনেত্রী অ্যাশলে জুড, পপ তারকা টেইলর সুইফট, মেক্সিকোর ৪২ বছর বয়স্ক খামারকর্মী ইসাবেল পাসকুয়াল (আসল নাম নয়) এবং উবারের সাবেক প্রকৌশলী সুজান ফাউলার অন্যতম।

প্রসঙ্গত, ১৯২৭ সাল থেকে টাইম ম্যাগাজিন বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত করছে। তবে প্রথম দিকে শুধু একজন ব্যক্তিকে এই সম্মান দেওয়া হলে সাম্প্রতিক সময়ে মহৎ কোনো কাজের সাথে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে সম্মিলিতভাবে এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১২ ডিসেম্বর বিরাট আনুশকার বিয়ে!

ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা বিয়ে করতে যাচ্ছেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর ইতালিতে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন এ দুই সেলিব্রেটি এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। এক হচ্ছে ‘বিরুষ্কা’ জুটির চার হাত।

জানা গেছে, এ বছরের ডিসেম্বরের ১২ তারিখই আনুশকাকে বিয়ে করতে চলেছেন বিরাট। আর ভারতের বাইরের ভেন্যুতেই বিয়ে করতে চলেছেন তাঁরা।

ইতালিতে এই বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। ডিসেম্বরের ৯ তারিখ থেকে শুরু হয়ে যাবে এই গ্রান্ড ওয়েডিং -এর অনুষ্ঠান। ইতালিতে খুবই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নিয়ে এই বিয়ের আয়োজন হতে চলেছে।

উল্লেখ্য, অনেক দিন ধরেই তাঁদের বিয়ে নিয়ে খবর ছিলই। এবার সেই খবরকে সত্যি করে দিতে চলেছেন তারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এমপি হয়েই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ

অষ্টম শ্রেণি পাস লুত্ফুন নেছা, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তার স্বামী সুলতান আহমেদ মৃধা ও ছেলে-মেয়ের নামেও রয়েছে সম্পদের পাহাড়। বর্তমানে তারা নিজেদের ‘ধনাঢ্য পরিবার’ বলে দাবি করলেও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। এসব সম্পদের তেমন কোনো তথ্য নির্বাচনী হলফনামায় দেননি এই এমপি। তিনি তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন মাত্র ১৮ লাখ ৬৪ হাজার ৭০৪ টাকা। নিজের ও স্বামীর নামে নগদ টাকা দেখানো হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এই এমপির নামে জমা দেখানো হয় মাত্র ৩৮ হাজার টাকা। আর এমপি হওয়ার চার বছরের মাথায় পাল্টে গেছে সম্পদের চিত্র। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, পটুয়াখালীর আলোচিত দখলবাজ হচ্ছেন সুলতান আহমেদ মৃধা। তিনি সংরক্ষিত এমপি লুত্ফুন নেছার স্বামী। সুলতান মৃধা তার স্ত্রী-পুত্র, কন্যা-জামাতা ও নিজের নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন পাহাড়সম সম্পদ।

আর এ সম্পদ তিনি করেছেন দখল করে—এমনটাই জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, সংখ্যালঘু পরিবার, সরকারি খাসজমি জবরদখল ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে জোর করে নিজেদের নামে লিখে নিয়েছেন তিনি অনেক জমি। তার এ লালসা থেকে রেহাই পায়নি নিজ বংশের লোকজনও।হলফনামায় দেখানো সম্পদ : ইসিতে জমা দেওয়া হলফনামায় দেখা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি লুত্ফুন নেছা হলফনামায় নিজেকে অষ্টম শ্রেণি পাস দাবি করেছেন। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। কৃষি খাত ও ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১৮ লাখ ৬৪ হাজার ৭০৪ টাকা। নিজের ও স্বামীর নামে নগদ টাকা দেখানো হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এই এমপির নামে জমা দেখানো হয় মাত্র ৩৮ হাজার টাকা। স্বামীর নামে জমা ১১ লাখ টাকা। নিজের নামে ২০ ভরি স্বর্ণ আর স্বামীর নামে ২ ভরি স্বর্ণ। স্থায়ী আমানত রয়েছে ৩০ লাখ টাকার। স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন নিজের নামে দুই একর এবং স্বামীর নামে ৭ একর ৫০ শতক। অকৃষি জমি নিজের নামে তিন একর আর স্বামীর নামে সাত শতাংশ। স্বামীর নামে দালান রয়েছে একটি এবং এক লাখ টাকার বাড়ি একটি। অগ্রণী ব্যাংকের পটুয়াখালী শাখায় তার নামে ৪০ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে।

বর্তমানে সম্পদের পাহাড় : পটুয়াখালীর সম্পদ দখলের মহা কারিগর এখন সুলতান মৃধা। পটুয়াখালী শহরের পুরান বাজারের নিজ বাসার আশপাশসহ শহর ছাড়িয়ে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় দখলের মহোত্সবে মেতেছেন তিনি। নিজ নামের পাশাপাশি স্ত্রী-মেয়ে ও জামাতার নামে অসংখ্য সাইনবোর্ড ঝুলছে পটুয়াখালীতে। এ ছাড়া একসঙ্গে ৩০০ একর জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, তাদের জমির পরিমাণ কত তা নিজেরাও জানেন না। সামান্য বিরোধ পেলেই সেখানে নিজের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন মৃধা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এক দাগেই রয়েছে তার ৫০ কোটি টাকা মূল্যের ১৬ একর সম্পত্তি। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কম মূল্যে জমি কিনে পাশের জমিও দখলে নিয়েছেন তিনি। নিজ বাসার পাশে সংখ্যালঘু একাধিক পরিবারের সদস্যদের বাসাবাড়ি দখল করে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন সুলতান মৃধা। নিজ বাসার পাশে যুধিষ্টির সাহা, পুরান বাজারে চন্দন সাহা, মোশারেফ বিশ্বাসসহ অসংখ্য মানুষের জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন সুলতান, যার বাজারমূল্য শত  কোটি টাকা। আবার অসহায় মানুষের জমি দখল করে শহর-সংলগ্ন জৈনকাঠী এলাকায় অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। স্ত্রী সংরক্ষিত নারী এমপি লুত্ফুন নেছা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার সুবাদে কলাপাড়া শহর-সংলগ্ন পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে একাধিক স্থানের সরকারি জমি দখল করে সাইনবোর্ড টানিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ার কার্যক্রম চালাচ্ছেন মৃধা। দখল প্রক্রিয়া থেকে বাদ যায়নি নিজ বংশের আত্মীয়স্বজনও। অভিযোগ রয়েছে, আত্মীয়স্বজনের জমিও অবৈধভাবে দখল করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তিনি। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াকাটার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী মো. ইউসুফ আলীর বাড়ির সামনে গাজী মো. ইউসুফ আলী, আলম মীর, শাহাজান বিশ্বাস, আরশেদ আলী ও মিজানুর রহমান গংয়ের ১৬ একর ১ শতক জমি সুলতান মৃধা, মেয়ে শামিমা নাসরিন এবং জামাতা আবুল হাসানাতের নামে লেখা রয়েছে, যার বাজারমূল্য ৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া গঙ্গামতির চরের ধোলাইখাল নামক এলাকায় সাত একর, পায়রা বন্দর লাগোয়া উত্তর পাশে ১০ একর, মহাসড়কের পাশে পলাশ ফিলিং স্টেশনসহ দুটি স্থানে সাত একর জমিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড রয়েছে। এ ছাড়া জৈনকাঠী এলাকায় ২৫ একর ফসলি জমির ওপর পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই ‘এম এল কোং’ নামে ইটভাটা তৈরি করে ব্যবসা চালাচ্ছেন সুলতান মৃধা। সেখানে ওয়ারিশদের প্রায় ১০ একর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মৃধার ক্ষমতার দাপটে তারা টু শব্দটি করতে পারেন না। ওই ইটভাটা-সংলগ্ন বেড়িবাঁধের বাইরে নদীর তীর ভরাট করে প্রায় পাঁচ একর খাসজমি দখলে নিয়েছেন এমপি লুত্ফুন নেছা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শহরের ২ নম্বর বাঁধঘাট ডোনাভান সড়কের পাশে নদীর তীর ভরাট করে দখল করছেন এমপি লুত্ফুন নেছা। এখানেও প্রায় ১০ শতক জমি ভরাট করে গড়ে তুলেছেন চারতলা ভবন। নিচতলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালালেও অপর তলা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদের নামে-বেনামে রয়েছে একরে একরে জমি ও অর্থসম্পদ। এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে রয়েছে বহুতল ভবন (১৪ তলা)। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে অরুণিমা হাউজিং রিসোর্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য পটুয়াখালীর অন্তত অর্ধশত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অংশীদারিত্বের নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা তুলেছেন এমপি লুত্ফুন নেছার স্বামী ও মেয়ে। কিন্তু বাস্তবে এখনো ওই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। এ বিষয়ে এমপি লুত্ফুন্নেছার স্বামী সুলতান আহমেদ মৃধা বলেন, বাস্তবে যা আছে হলফনামায় তাই দেখানো হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ মিথ্যা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
থামছে না গাইড বই থেকে প্রশ্ন তৈরি

গাইড বই থেকে যাতে শিক্ষকরা কোনো পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন না করেন সে ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। অথচ এগুলো আমলে না নিয়ে গাইড বই থেকে প্রশ্ন প্রণয়ন অব্যাহত রয়েছে। স্কুল কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার অধিকাংশ প্রশ্নই গাইড বই থেকে হুবহু নেয়া হয়। শুধু তাই নয়, পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড বই সংগ্রহ করে সেখান থেকে প্রশ্ন প্রণয়ন করেন শিক্ষকরা। প্রশ্ন প্রণয়ন করতে ব্যর্থতার কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গাইড বই থেকে প্রশ্ন প্রণয়ন না করতে বিভিন্ন সময় হুঁশিয়ারি ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। ২০১৫ সাল থেকেই গাইড বই থেকে প্রশ্ন প্রণয়নের চিত্রটি সবার সামনে প্রকাশ পায়। ওই সময় থেকে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের সতর্ক করেন। শিক্ষকদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মশালাও সমাবেশে প্রশ্ন প্রণয়নের বিষয়ে মন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনাও ছিল। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষকদের বলেছেন, ‘গাইড ও নোট বই থেকে কোনোভাবেই প্রশ্ন প্রণয়ন করা যাবে না, যারা এসব করবেন তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ নানা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোচিং নির্ভরশীল শিক্ষকদের প্রশ্ন প্রণয়নে দায়িত্ব দেওয়া হলে সে জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু মন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতে সাড়া মেলেনি।

গত বছর জেএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়নের প্রমাণ পাওয়া যায়। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্ন হুবহু গাইড বই থেকে তুলে দেওয়া পাঁচ শিক্ষককে প্রশাসনিক শাস্তি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দুর্গম স্থানে তাদের বদলি করা হয়। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞানের ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নে একটি গাইড বই থেকে হুবহু প্রশ্ন তুলে দেওয়ার অভিযোগ ছিল। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা অভিযোগও করে বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এবারও এইচএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে গাইড বই থেকে প্রশ্ন প্রণয়নের প্রমাণ মেলে।

অভিভাবকরা বলছেন, অনেক শিক্ষকই নোট গাইড প্রণয়নের সাথে জড়িত। বিভিন্ন নোট গাইড প্রকাশনা সংস্থায় কাজ করছেন তারা। আরিফুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক বলেন, স্কুলের প্রায় প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্ন হয় গাইড বই থেকে। এ কারণে শিক্ষার্থীরা গাইড বই পড়ার প্রতি আগ্রহী। মূল বই পড়ে না শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এ অবস্থা তৈরির জন্য দায়ী শিক্ষকরাই।

সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি প্রণয়নের ৭ বছর চলছে। তবে এখনও এ পদ্ধতি নিয়ে বিপাকে শিক্ষার্থী অভিভাবকরা। শুধু তাই নয়, রীতিমতো শিক্ষকরাও এ পদ্ধতি এখনও আয়ত্ত করতে পারেননি। যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষকরা। শিক্ষকরাও এ পদ্ধতি এখনও আয়ত্ত করতে না পারায় প্রশ্নও প্রণয়ন করতে পারছেন না।

শিক্ষকরা যে এ পদ্ধতি এখনও বুঝছেন না তার প্রমাণ মেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত সরকারি এক জরিপে। এই জরিপে দেখা যায়, এখনও দেশের ৫২ ভাগ শিক্ষক নিজে স্কুলের পরীক্ষার জন্য প্রশ্ন করতে পারেন না। এর ৩০ ভাগ শিক্ষক অন্য শিক্ষকের সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন করেন। আর বাইরে থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে পরীক্ষা নেন ২২ ভাগ শিক্ষক।

শিক্ষা ক্যাডারের ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় : গাইড বই থেকে প্রশ্ন এবং প্রশ্নে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় যুক্ত করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চলতি বছর অনুষ্ঠিত যশোর শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার গাইড বই থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এছাড়া রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় অপ্রাসঙ্গিক বিষয় প্রশ্ন করা হয়।

এইচএসসির প্রশ্ন ত্রুটির জন্য অভিযুক্ত করে এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসাবে চলতি সপ্তাহে অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষকের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, কর্মস্থল, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বেতন স্কেল, আহরিত বেতন ভাতার তথ্য চেয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গাইড বই থেকে আইসিটি বিষয়ে প্রশ্ন করার কারণে সরকারি নুরুন্নাহার সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক আনিছুর রহমান এবং যশোরের সরকারি এম এম কলেজের সহকারি অধ্যাপক এস এম তালেবুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জড়িত নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার সাহা, রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সহকারি অধ্যাপক আবুল মজন চৌধুরী এবং নাটোরের এন এস সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এর আগে সকলকেই কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কেউ এ বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারনেনি। এসব শিক্ষককে ইতিমধ্যে সকল পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

গত আগস্ট মাসে অভিযুক্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছিল। তার কাছে লেখা চিঠিতে বলা হয়, পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র বিষয়ে বহুনির্বাচনী অংশে ৮,৯,১০ ও ১১ নং প্রশ্নে ও উদ্দীপকে যে প্রশ্নপত্র সমীক্ষণ করেছেন তার কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি মডারেটর ছিলাম। প্রশ্নে কিছু অপ্রাসঙ্গিক বিষয় রয়েছে উল্লেখ করে আমাদের কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়। আমি জবাব দিয়েছি। এরপরও কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে আমি বোধগম্য নই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest