সর্বশেষ সংবাদ-
আশাশুনির কাকবাসিয়ায় পাউবো’র বেড়ী বাঁধে আবারও ভয়াবহ ভাঙ্গনভালোবাসার একযুগ এতিম শিশুদের হাসি আর ভ্যানচালকদের পাশে যমুনা টেলিভিশনসাংবাদিক জিন্নাহর ওপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনজংধরা ও ভাঙা ফ্লোরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার : সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমেআশাশুনির খাজরা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাচ্চুকে অপসারন ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনসাতক্ষীরায় কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তিপ্রদান ও পুরস্কার বিতরণীসাতক্ষীরায় কলেজের অধ্যক্ষকে পিটিয়ে বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের পর উল্টো বিভিন্ন অনলাইনে অপপ্রচারInstant casino’s bieden meer dan alleen snelheid: een diepgaande analysePianificazione Strategica del Cool‑Off nel Gioco d’Azzardo Online – Come Trasformare le Pause in Strumenti di Benessereการเลือกเกมที่ตอบโจทย์สไตล์การเล่นของคุณใน playbet casino

সব সূচকে উল্লম্ফন, তবু জনজীবনে অস্বস্তি

অর্থনীতি ও সামাজিক বিভিন্ন সূচক ঊর্ধ্বমুখী, দেশের অগ্রগতির চিত্রও স্পষ্ট। বড় অবকাঠামো নির্মিত হচ্ছে, আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে।
বিদেশি বিনিয়োগও দ্বিগুণ প্রায়। কমছে দারিদ্র্যের হার, বাড়ছে মাথাপিছু আয়। সব শর্ত পূরণ করে আগামী মার্চেই জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএনসিডিপি) কাছ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রাথমিক সুপারিশ পেতে যাচ্ছে স্বল্পোন্নত বাংলাদেশ। সার্বিক উন্নয়নের নির্দেশক এসব সূচকের অগ্রগতি দেখে মনে হয় বেশ স্বস্তিতেই আছে দেশের মানুষ। কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে এসব ইতিবাচক সূচকের দৃশ্যমান প্রভাব তেমন নেই। আয়ের পুরোটা দিয়েও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের।

বিভিন্ন সূচকে দেশ যতটা এগোচ্ছে, দেশের সাধারণ মানুষ ততটা এগোতে পারছে না। মাথাপিছু আয় বাড়লেও দ্রব্যমূল্য বাড়ছে তার চেয়েও বেশি গতিতে। ফলে বাড়তি আয় দিয়ে বাড়তি কিছু কেনার সামর্থ্য থাকছে না সাধারণের।
বিদায়ী বছরে বাংলাদেশিদের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬১০ ডলারে। কিন্তু বছরজুড়ে চালের দামের ঊর্ধ্বগতি আর দ্বিতীয়ার্ধে পেঁয়াজের মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় বাড়তি আয়ের স্বাদ পায়নি সাধারণ মানুষ। হাওরে আগাম বন্যা আর বিভিন্ন অঞ্চলে ব্লাস্ট রোগের কারণে গত বোরো মৌসুম থেকেই মোটা চালের দাম বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তা ৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। পরে সরকার চাল আমদানির মাধ্যমে দর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তা সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার মতো প্রভাব বাজারে ফেলতে পারেনি। ফলে এখন ভরা আমন মৌসুমেও মোটা চালের দাম উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল। সরকারি বিক্রয় সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ডিসেম্বর প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ছিল ৪৫-৪৬ টাকা। এক বছর আগে এটি ছিল ৩৫-৩৮ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে মোটা চালের দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশেরও বেশি।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেমের গত সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চালের উচ্চমূল্যের কারণে দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকা পাঁচ লাখ ২০ হাজার মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। এ তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেও অর্থমন্ত্রী পরদিন মঙ্গলবার স্বীকার করেছেন যে চালের দাম বেড়ে অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। দাম বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের অনেক কষ্ট হয়েছে। চালের চড়া দামের মধ্যে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পেঁয়াজের দামও গত কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এখন নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু হওয়ায় এর ঝাঁজ কিছুটা কমলেও চালের দরের ভোগান্তি এখনই কাটছে না বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরাও। তাঁদের আশা, আগামী মৌসুমে ধানের উৎপাদন বাড়লে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বিদায়ী বছরের প্রথম থেকেই ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের জন্য আতঙ্ক হয়ে দেখা দেয় নতুন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ। এই আইনের পক্ষে-বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ব্যবসায়ীসমাজ। চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানও বাড়ে। প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বাগিবতণ্ডায়ও জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। ঢাকার ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটও পালন করে। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর দুই বছরের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে, যার সুফল নিজের অজান্তেই ভোগ করছে ভোক্তারা।

বিদায়ী বছরে ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা মাত্রা ছাড়িয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এই অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বছর শেষে এবি ব্যাংকের পর্ষদেও পরিবর্তন এসেছে। মাত্রাতিরিক্ত ঋণ বিতরণ আর উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন এসেছে। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, আগামী বছরও এ খাতে অস্থিরতা থাকতে পারে। আগের বছরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা রিজার্ভ চুরির বিষয়টিও বিদায়ী বছরে আলোচনায় এসেছে। তবে চুরি হওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে তেমন সফলতা এখনো আসেনি। এ প্রেক্ষাপটে সরকার ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র, মেট্রোরেলসহ অবকাঠামো খাতে সরকারের বিপুল বিনিয়োগের কারণে দেশের মোট বিনিয়োগের হার জিডিপির ৩০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বিদায়ী বছরেই পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রের মূল অবকাঠামো নির্মাণ শুরুর মধ্য দিয়ে বিশ্ব পরমাণু শক্তিধারী দেশের তালিকায় উঠেছে বাংলাদেশের নাম। মেট্রো রেলের অবকাঠামো নির্মাণও শুরু হয়েছে এ বছরই। তবে অবকাঠামো খাতে সরকারি বিনিয়োগ যতটা বেড়েছে, বেসরকারি বিনিয়োগ সেই তুলনায় বাড়ছে না। অর্থনীতির নিয়মানুসারে, সরকারি বিনিয়োগ এক টাকা বাড়লে বেসরকারি বিনিয়োগ তিন টাকা বাড়ার কথা। আর বেসরকারি বিনিয়োগে গতি না আসায় বেকারত্বের লম্বা লাইনও খাটো হচ্ছে না। এতে জনসংখ্যার বোনাসকালে প্রবেশ করা বাংলাদেশ বিপুল শ্রমশক্তিকে উপযুক্ত ব্যবহার করে উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন বেড়েছে ১০ গুণ। শতভাগ বিদেশি এবং ২০টি যৌথ বিনিয়োগ মিলে প্রস্তাব পাওয়া গেছে মোট ১৮ হাজার ১৩৮ কোটি টাকার। এ সময়ে দেশীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছে ৫১ হাজার ৬২৮ কোটি টাকার। কয়েক বছর ধরে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা অবকাঠামো সংকট ও ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারকে বিনিয়োগ না হওয়ার জন্য দায়ী করলেও এ বছর ব্যাংকঋণের সুদের হার ১০ শতাংশের নিচে নেমেছে। অবকাঠামো সংকটও কিছুটা কমেছে। তা সত্ত্বেও বিনিয়োগে গতি না আসার কোনো কারণ দেখছেন না সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

তবে আগামী বছর এলএনজি আমদানির মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ দেওয়া শুরু হলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। সম্প্রতি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বিনিয়োগকারীদের জন্য অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এখন চাহিদার চেয়েও বেশি। সরবরাহের ক্ষেত্রে সামান্য কিছু সমস্যা রয়েছে, যা আগামী ছয় মাসের মধ্যেই সমাধান হবে। কেউ বিনিয়োগ করলে সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে। তবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে আগামী বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে। গ্যাসের সংকট মেটাতে সরকার এলএনজি আমদানি করে এ সংযোগ দেবে।

দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সরবরাহ লাইনের দুর্বলতার কারণে এখনো মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত হচ্ছে না। আর শিল্পে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় নতুন বিনিয়োগে গতি আসছে না। এলএনজি আমদানির পর বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া শুরু হলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে।

বিদায়ী বছর দেশের রপ্তানি পরিস্থিতি ভালো ছিল না। অর্থবছরের প্রথম দিকে নেতিবাচক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল। তবে শেষ সময়ে এসে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে পণ্য রপ্তানি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এক হাজার ৪৫৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এটি রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শুধু নভেম্বর মাসেই ৩০৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে. আগের বছরের নভেম্বরে এটি ছিল ২৮৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ, নভেম্বর মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৬.২২ শতাংশ।

তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দাম কমিয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানিতে অধিক সময় লাগায় রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, নভেম্বরে তৈরি পোশাক রপ্তানির মৌসুম শুরু হয়েছে। সে জন্য এখন রপ্তানি বাড়ছে। নভেম্বরে পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ শতাংশ। এটি ১২-১৫ শতাংশ হওয়া উচিত ছিল।

রপ্তানি বাদে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম বড় খাত রেমিট্যান্স প্রবাহও বছরজুড়ে সন্তোষজনক ছিল না। বিদায়ী বছরের শেষ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। তবে বছরের শুরুতে এটি কম ছিল। সর্বশেষ নভেম্বর মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। রেমিট্যান্স বাড়ার কারণে উচ্চ আমদানি ব্যয় সত্ত্বেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেনি। তবে ডলারের দাম বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষকে এর মূল্য দিতে হচ্ছে। কারণ রপ্তানি ও রেমিট্যান্স থেকে আয় বাড়ার তুলনায় বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রের জন্য দামি যন্ত্রপাতি আমদানি হচ্ছে। সঙ্গে বাড়ছে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির পরিমাণও। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা বেড়েছে ৮৮ শতাংশ, ঋণপত্র নিষ্পত্তি বেড়েছে ২০ শতাংশ। এ কারণে তিন হাজার ২০০ কোটি ডলারের বেশি রিজার্ভ থাকলেও ডলারের দর বেড়ে গেছে। গত বছর ডিসেম্বরে যেখানে এক ডলার কিনতে ৭৯ টাকা লাগত, এখন লাগছে ৮৩-৮৪ টাকা। ডলারের এই দর বৃদ্ধির কারণে আমদানি পণ্যের দাম বেড়েছে, যা চূড়ান্তভাবে পরিশোধ করতে হচ্ছে ভোক্তাদেরই। তবে ডলারের দর বাড়ায় রপ্তানিকারক ও রেমিট্যান্স প্রেরণকারীরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

গত অর্থবছরে (জুলাই ২০১৬ থেকে ৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত) বাংলাদেশ রেকর্ড হারে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এবারই প্রথম লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উচ্চহারে জিডিপি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.২৮ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে ৭ শতাংশ হারে জিডিপি অর্জনকারী বিশ্বের গুটিকয়েক দেশের কাতারে নাম উঠেছে বাংলাদেশের। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭.২ শতাংশ।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে অগ্রগতি মেনে নিয়ে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রথম সুপারিশ করতে যাচ্ছে ইউএনসিডিপি। সংস্থার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গত ৯-১২ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার তিনটি শর্তই বাংলাদেশ পূরণ করেছে। এ প্রেক্ষাপটে আগামী মার্চে ইউএনসিডিপির ত্রিবার্ষিক সভায় উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রথম সুপারিশ লাভ করবে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ও বর্তমান মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইউএনসিডিপির প্রতিনিধিদল ফিরে গিয়ে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে, তাতে বলা হয়েছে যে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের তিনটি সূচকের সব কয়টিই বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে। এটা বাংলাদেশের জন্য খুবই চমৎকার ব্যাপার। কারণ এর আগে যেসব দেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের কেউই তিনটি সূচকেই সফলতা অর্জন করতে পারেনি।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভারতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে চার বাংলাদেশি নারীকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের থানে ডিস্ট্রিক্ট আদালত ওই চার বাংলাদেশিকে এই সাজা দেন। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককেই ১০ হাজার রুপি করে ব্যক্তিগত জরিমানাও করেছেন আদালতের সহকারি সেশন বিচারক আর.এস. পাতিল (ভোঁসলে)।

ওই চার বাংলাদেশি হলেন জান্নাত নূর ইসলাম শেখ (৩৫), শুখি হারুন মোল্লা (৫৮), মিম ওরফে সীমা সামাথ মাতবর (৩০) এবং মৈনা জুমাত গাজি (৩০)।

জানা যায়, নির্দিষ্ট সূত্রে খবর পেয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে থানের কাশিমিরা টাউনে দুইটি অভিযান চালিয়ে থানে ডিস্ট্রিক্টের রুরাল থানার পুলিশ এই চার বাংলাদেশিকে আটক করে। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন থানার অ্যান্টি-হিউম্যান ট্রাফিকিং সেলের ইন্সপেক্টর সঞ্জয় বাঙ্গার। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে আটক চার নারীই বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং তাদের কারো কাছেই ভারতে প্রবেশের পাসপোর্ট, ভিসা বা কোন বৈধ নথি ছিল না। এরপরই তাদের বিরুদ্ধে ১৪ এ(বি) ফরেনার্স অ্যাক্টে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

মঙ্গলবার সাজা ঘোষণার সময় বিচারক আর.এস. পাতিল (ভোঁসলে) জানান ‘দারিদ্রতা এবং কর্মসংস্থানের জন্যই তারা ভারতে প্রবেশ করেন এবং দৈনিক শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। এটা ঠিক যে ওই চার নারী খুবই গরীব এবং ভারতে কোনরকম অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না। তাই তাদেরকে সাজা দেওয়ার সময় কিছুটা উদারতা দেখানো উচিত।

যদিও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। এই ঘটনায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই তাদের সাজা ঘোষণার ক্ষেত্রে কোন রকম উদারতা দেখানো উচিত নয় এবং সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা উচিত।

সব শুনে বিচারক অভিযুক্ত চার বাংলাদেশির প্রত্যেককেই দুই বছরের কারাগারের সাজা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি সাজার মেয়াদ শেষে ওই চার বাংলাদেশিকে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়েও কারাগার কর্তৃপক্ষ ও নয়ননগর পুলিশ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

ঘন কুয়াশার কারণে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।

পাটুরিয়া ফেরিঘাট শাখা বাণিজ্য বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন রাসেল জানান, সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশায় ফেরির মার্কিং বাতির আলো অস্পষ্ট হয়ে যায়। এতে করে নৌরুটে দুর্ঘটনা এড়াতে রাত ১০টা থেকে সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।

এদিকে, কুয়াশায় ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চল থেকে নদী পার হতে আসা যানবাহন ও যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। এর ওপর নদী এলাকায় শীতের তীব্রতা একটু বেশি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রতনপুরের আছাদের লাশ নুরনগরে উদ্ধার

পলাশ দেবনাথ, নুরনগর থেকে: শ্যামনগর উপজেলার নুরনগরে আছাদুল (২৮) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মিনিটের দিকে নুরনগরের দেওড়া বাড়ি এলাকার কালভার্ট সংলগ্নে তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় পথচারীরা তাকে পল্লী চিকিৎসক ডা. আইয়ুব আলীর চেম্বারে নিয়ে গেলে ডা. তাকে মৃত ঘোষণা। সে রতনপুর ইউনিয়নের আড়ংগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বারের এক মাত্র পুত্র। এ খবর শ্যামনগর থানা পুলিশ কে জানালে শ্যামনগর থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলী সাথে সাথে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যু কোন রহস্য উন্মোচন হয়নি। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে লাশের ঘাড়ে ও উরুতে গভির ক্ষতের চিহ্ন এবং প্রচুর পরিমানে রক্ত ক্ষরণের আলামত পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ সার্কেল ওফিসার সহ থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছিয়েছেন। খবর পেয়ে মৃত আছাদুলের স্বজনরা ছুটে এসে আহাজারী করতে দেখা গেছে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত শ্যামনগর থানা পুলিশ ও কালিগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং শ্যামনগর থানা পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ থানায় নিয়ে যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বছরের শেষে ‘মাহিয়া’ (ভিডিও)

সম্প্রতি প্রকাশ করা হলো `মাহিয়া’ গানের ভিডিও। শুটিং হয়েছে নেপালে।
কলকাতার গীতিকার প্রসেনের কথায় ও অম্লানের সুরে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের গায়ক ফাহিম ইসলাম ও তার সঙ্গে কলকাতার গায়িকা মধুবান্তী বাগচী। গাওয়ার পাশাপাশি গানটির মিউজিক মডেল হয়েছেন গায়ক নিজেই।

এ প্রসঙ্গে ফাহিম বলেন, বছরের একেবারে শেষে মাহিয়া হচ্ছে ধামাকা। এটি আমার অনেক প্রিয় একটি গান। গানের সঙ্গে মিল রেখে নেপালের মনোরম লোকেশনে ভিডিও শুটিং করা হয়েছে। এ মাহিয়া দিয়েই বছরের একেবারে শেষ এবং নতুন বছর শুরু হচ্ছে। আশা করি গানটি কারও খারাপ লাগবে না।

ডেডলাইন এন্টারটেইনমেন্ট এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পেয়েছে গানটি। হাবিবের কোরিওগ্রাফিতে ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন নির্মাতা সৈকত নাসির ও তার টিম।
উল্লেখ্য, এ বছর ডেডলাইন এন্টারটেইনমেন্টর ব্যানারে ‘বাংলা ড্যান্স’ শিরোনামে বিগবাজেটের আরও একটি গান প্রকাশ হয় ফাহিমের। গানটি ইউটিউবের পাশাপাশি ফেসবুকেও পোস্ট করা হয়। গানটি সাড়া জাগায় দর্শকদের মাঝে। সেই গানের সাফল্যের রেশ যেতে না যেতেই মাহিয়া প্রকাশ করলেন এ গায়ক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘ইত্যাদি’ আজ

‘ইত্যাদি’ আজ

কর্তৃক Daily Satkhira

ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং পর্যটন সমৃদ্ধ আকর্ষণীয় স্থানগুলোতে গিয়ে ‘ইত্যাদি’ ধারণের ধারাবাহিকতায় এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে প্রকৃতির অনন্য সৃষ্টি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। তাই এবারের অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্ব করা হয়েছে সাগরকে ঘিরে। গণমানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এ পর্বটি একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচার হবে আজ রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। অনুষ্ঠানে এবারের পর্বে রয়েছে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত, দর্শনীয় ও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থানগুলোর ওপর তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। সমপ্রতি তিনবার গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস্‌ অর্জনকারী মাগুরার হালিমের ওপর রয়েছে একটি অনুকরণীয় প্রতিবেদন। ১৯৯৫ সালে যাকে প্রথম দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেছিল ‘ইত্যাদি’।

ঠাকুরগাঁও জেলার এক নিভৃত পল্লীতে গড়ে তোলা একটি ব্যতিক্রমধর্মী জাদুঘর ‘লোকায়ন জীবন বৈচিত্র্য জাদুঘর’-এর ওপর রয়েছে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। এবারের বিদেশি প্রতিবেদনে রয়েছে পবিত্র মদিনা শরীফের একটা ব্যতিক্রমী রাস্তা। ‘ইত্যাদি’তে এবার মূল গান রয়েছে দু’টি।
সেসবের একটি গেয়েছেন কক্সবাজারের সৈকত শিল্পী জাহিদ এবং তার সঙ্গে গেয়েছেন চট্টগ্রামেরই সন্তান জনপ্রিয় শিল্পী রবি চৌধুরী। সঙ্গে ইউকিলিলি বাজিয়েছেন ইমরান। সাগর নিয়ে একটি পুরনো জনপ্রিয় গান ধারণ করা হয় সমুদ্র সৈকতে। গানটিতে অভিনয় করেছেন অভিনয় তারকা তারিন ও মীর সাব্বির। এছাড়াও রয়েছে চট্টগ্রামের শিল্পী মিঠুন চক্র ও ইমতিয়াজ আলী জিমির পরিবেশনায় যন্ত্র সংগীতের লীলামুখর খেলা-সাগর সংলাপ। ঢেউ আর যন্ত্রের তালে ব্যতিক্রমী এই যন্ত্রসংগীতটি দর্শকদের ভিন্ন স্বাদ দেবে। অনুষ্ঠানের দর্শক পর্বে এবার কক্সবাজারকে ঘিরে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে হাজার হাজার দর্শকের মাঝখান থেকে ৬ জন দর্শক নির্বাচন করা হয়। ২য় পর্বে সাগর নিয়ে তিনটি খণ্ড নাট্যাংশে তারা অভিনয় করেন, যা ছিল বেশ উপভোগ্য। নিয়মিত পর্বসহ এবারও রয়েছে বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু সরস অথচ তীক্ষ্ন নাট্যাংশ। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কস্‌মেটিকস্‌ লিমিটেড।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কুকের অনন্য বিশ্ব রেকর্ড, যা আর কারও নেই

গ্রিক পুরাণের ‘ফিনিক্স’ পাখির গল্পটা প্রায় সবারই জানা। পূর্বসূরির ছাই থেকে পুনর্জন্ম নিত এই পাখি, বেঁচে থাকত বছরের পর বছর ধরে। ক্রিকেট ইতিহাসের বিখ্যাত ‘ছাই’ (অ্যাশেজ) সিরিজে সেই ফিনিক্স পাখির মতোই পুনর্জন্ম নিয়েছেন অ্যালিস্টার কুক। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ২৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ভেঙেছেন ৪৫ বছরের পুরোনো রেকর্ড!

‘ক্যারিং দ্য ব্যাট থ্রু দ্য ইনিংস’-এর ইতিহাসে এত রান করতে পারেননি আর কোনো ব্যাটসম্যান। চতুর্থ দিনের প্রথম বলেই সঙ্গী জেমস অ্যান্ডারসন আউট না হলে রানটা আরও বাড়তে পারত। শেষ পর্যন্ত ৪৯১ রানেই থেমেছে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। মেলবোর্নে চারবার বৃষ্টি হানা দেওয়ায় বারবার বিঘ্ন ঘটেছে চতুর্থ দিনের খেলায়। ২ উইকেটে ১০৩ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। উইকেটে রয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার (৪০*) এবং স্টিভেন স্মিথ (২৫*)। হাতে ৮ উইকেট নিয়ে ৬১ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা।

শত বছরের পুরোনো টেস্ট ইতিহাসে ‘ক্যারিং দ্য ব্যাট’ এর ঘটনা প্রায় হাতেগোনা। এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৮৯টি টেস্টে মাত্র ৫২ বার এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একজন ওপেনার ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছেন। টেস্টে শুরুর দিনগুলোয় এমন ঘটনা ছিল একেবারেই বিরল। তবে গত কয়েক বছর ধরে এমনটা মাঝেমধ্যেই দেখা গিয়েছে। এ বছর প্রথমবার এই কীর্তি অর্জন করলেন কুক। গত বছর অক্টোবরে শারজায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিবীয় ওপেনার ক্রেইগ ব্রাফেটের ১৪২ রানের ইনিংসই ছিল ‘ক্যারিং দ্য ব্যাট’-এর সর্বশেষ ঘটনা।

মেলবোর্নে সিরিজের চতুর্থ টেস্টের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে ব্যাট করে এই রেকর্ড গড়েছেন কুক। ম্যারাথন এই ইনিংস খেলার পথে ৪০৯ বল খেলেছেন এই বাঁ হাতি, উইকেটে ছিলেন ৬৩৪ মিনিট। ‘ক্যারিং দ্য ব্যাট’-এর ইতিহাসে এর আগের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল নিউজিল্যান্ডের গ্লেন টার্নারের ২২৩। এর মাঝেই এমসিজিতে কোনো সফরকারী ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড গড়েছেন কুক। ছাড়িয়েছেন ১৯৮৪ তে করা ভিভ রিচার্ডসের ২০৮ রানকে। কোনো ইংলিশ ব্যাটসম্যান সর্বশেষ এমন কীর্তি গড়েছিলেন ২০ বছর আগে। ১৯৯৭ সালে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন আরেক সাবেক অধিনায়ক মাইক আথারটন। অ্যাশেজের ইতিহাসে তো এমন ঘটনা আরও আগের। ১৯৭৯ সালের পার্থ টেস্টে জিওফ্রে বয়কট এই রেকর্ড করেছিলেন। কিন্তু কুকের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে এ সবই পেছনে পড়েছে।

অথচ এই টেস্ট শুরুর আগেও কুককে দল থেকে বাদ দিতে যেন উঠেপড়ে লেগেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। তার কারণও ছিল। সর্বশেষ ১০ ইনিংসে কোনো ফিফটির দেখা যে পাননি টেস্টে ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রাহক। চলতি অ্যাশেজে প্রথম তিন টেস্টের ছয় ইনিংসে তাঁর অবদান মাত্র ৮৩ রান। চতুর্থ টেস্ট শুরুর আগেই অ্যাশেজ খুইয়ে ধুঁকছিল জো রুটের ইংল্যান্ড। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের আগুনে পুড়ে যাওয়া ইংলিশ ছাইয়ে দাঁড়িয়ে টেস্ট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ইনিংস খেললেন সাবেক অধিনায়ক। একবিংশ শতাব্দীর উত্তরাধুনিক যুগে এসেও ফিনিক্স পাখির মতো পুনর্জন্ম নিলেন অ্যালিস্টার কুক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শরীরে প্রোটিনের চাহিদা ও উৎস -ডা. তিনা
আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় খাবার থাকা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি লক্ষ্য রাখতে হয় ভিটামিন, মিনারেলস ও পানির পরিমাণ নিয়ে। তবে অজ্ঞতাবশত: এই অনুপাত নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে উঠে না সঠিকভাবে। আর এতেই সৃষ্টি হয় নানা রোগ ব্যাধির। আমাদের খাবারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রোটিন। শরীরকে যদি আমরা একটি দালানের সাথে তুলনা করি তাহলে প্রোটিন হলো ইট। আমাদের শরীরে গঠন উপাদান হিসেবে কাজ করে এই প্রোটিন।
পুষ্টিবিদগণ বলেন, প্রতিদিনের ক্যালরি চাহিদার অন্তত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ প্রোটিন থেকে পূরণ করা উচিত। খাবারের এই উপাদান শারীরিক বিকাশে ও মাংসপেশি গঠনে সাহায্য করে। শিশুদের বাড়ন্ত বয়সে তাই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত মাছ, মাংস, দুধ, ডিম এইসব খাবারে প্রোটিন থাকে। কিন্তু শরীরের ওজন কমাতে ও ক্ষতিকর চর্বি এড়াতে গরু কিংবা খাসির মাংস কম খাওয়াই উত্তম। মাংসের মধ্যে সাদা মাংস তুলনামূলক ভালো।
এছাড়া প্রোটিনের উৎস হিসেবে মাছও বেছে নেওয়া যেতে পারে। এগুলো তো প্রাণীজ আমিষ। যারা মাছ, মাংস কম খান বা নিরামিষ ভোজী তাদের জন্য রয়েছে উদ্ভিজ উৎসগুলো। যেমন- ডাল ও বীজ জাতীয় খাবারগুলো। যেমন-ছোলা, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি খাবারগুলোও প্রোটিনসমৃদ্ধ। তবে এদেরকে বলা হয় দ্বিতীয় শ্রেণির প্রোটিন। এসব খাবারে প্রোটিনের পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর আঁশ, ভিটামিন বি ও আয়রন। তবে মনে রাখতে হবে এক ধরনের ডালে শরীরের সব ধরনের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয় না। সেক্ষেত্রে কয়েক ধরনের ডাল একসঙ্গে করে রান্না করতে হবে।
প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিম কিংবা দুধও খাওয়া যেতে পারে। ডিমের সাদা অংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ। যাদের শরীরে ক্ষতিকর চর্বির পরিমাণ বেশি তারা ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খেতে পারেন। অনেকেই দুধের চর্বি এড়াতে কম জ্বাল দিয়ে রান্না করেন। কিন্তু তা ঠিক নয়। সঠিকভাবেই দুধ জ্বাল দিয়ে তা খাওয়া উচিত। আজকাল বাজারে কিছু লো-ফ্যাট বা নন ফ্যাট সমৃদ্ধ দুধ পাওয়া যায়। যা শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে। তবে বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নিতে পারবেন বাড়ন্ত বয়সের ছেলে মেয়ে বা গর্ভবতী মহিলা। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
লেখক: চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ স্কিন সেন্টার
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest