শ্যামনগর প্রতিনিধি : শ্যামনগরে অসাধু সিন্ডিকেট চোরাই পথে ভারত থেকে বাগদার ডিম এনে পোনা উৎপাদন করে মনোপলি ব্যবসা করে থাকে। এর ফলে বাঁধাগ্রস্ত হয় সরকারি সিদ্ধান্ত, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে ঘের ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, সরকার প্রতিবছর ২০ জুন থেকে পরবর্তী ৬৫ দিন সাগর থেকে মাদার চিংড়ি আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে যা ২০ জুলাই পর্যন্ত বহাল থাকে। সাগরে মাদার চিংড়ি আহরণ বন্ধ থাকায় দেশের সব বাগদা চিংড়ি হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদনের কাজ ২০ জুন থেকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে। বাগদা চিংড়ি চাষিদের থেকে জানাজায়, চোরাই পথে আসা ভারতীয় ডিমে উৎপাদিত পোনা খুবই দুর্বল ও নিম্নমানের। এমনকি কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এসব পোনা ঘেরে ছাড়লে ভাইরাস ও অন্যান্য জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। চিংড়ি চাষিরা এ পোনার বাজারজাত বন্ধে পদক্ষেপ নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং চিংড়ি শিল্পকে কালো হাত থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন ঘের ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানাযায়, অতি নিম্নমানের ডিমে ফুটানো মাছের রেনু ঘেরে দেওয়ার কারনে তারা পথের ফকির বুনে গেছে। এ পোনা ঘেরে ছাড়ার ৪০/৪৫ দিন পর থেকে মড়ক শুরু হয়। বাগদা চাষিদের এ পোনা ছাড়ার জন্য উদবুদ্ধ করে বিভিন্ন হ্যাচারির পক্ষ থেকে জানায়, এই এলাকার নদির পানিতে পোনা প্রসেসিং করায় ভাল বাগদা উদপাদন হবে বলে আমাদের ধোকা দিচ্ছে। সাতক্ষীরা অঞ্চলের একটি অসাধু সিন্ডিকেট চোরাই পথে ভারতের মাদ্রাজ ও কলকাতা থেকে সাতক্ষীরার ভোমরাসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাগদার ডিম/নপলি দেশে আনা হয়। পরবর্তীতে অসাধু সিন্ডিকেট এ ডিম দিয়ে পোনা উৎপাদন করে অতিরিক্ত মূল্যে চাষীদের কাছে বিক্রি করে থাকে। বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় খামারি/চাষীরা বাধ্য হয়ে এসব পোনা কিনে প্রতারিত হয়ে থাকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শ্যামনগরের উপজেলার রেডিয়েন্ট হ্যাচারী, খুলনা হ্যাচারী, নিউ যমুনা হ্যাচারী, খাজা ওয়ার্ছী হ্যাচারী, আরব হ্যাচারীর মালিকরা অধিক মুনাফা অর্জন ও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সাধারণ মানুষ ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অল্প দিনে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে চিংড়ি শিল্পকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের মানুষেরা আগামী মৌসুমে যাতে করে এভাবে আবারো চিংড়ি শিল্প হুমকির মুখে না পড়ে এ জন্য জেলা প্রশাসন, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি’র সভপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিপিআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান, সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও হেলদি বাংলাদেশের আহবায়ক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এসময় তিনি বলেন, ‘এক পাশে ময়লা আর এক পাশে খাবার খাবো এটা কখনও হেলদি সাতক্ষীরা বা বাংলাদেশ হতে পারেনা। বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এগিয়ে নিয়ে স্বাস্থ্য সেবার মধ্য দিয়ে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে হবে। অনেকে মনে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ন হচ্ছেনা। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। দেশের বিভিন্ন মফস্বল এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। অন্যান্য জেলার চেয়ে সাতক্ষীরা জেলা স্বাস্থ্য ও ক্রীড়াঙ্গনে অনেক উন্নত। মাদক নির্মূলে এ জেলা কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে। এসময় তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য সকল সুখের মুল তাই এ বিষয়ে জনগণের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে নারীদেরকে সকল কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমি ফিট তো দেশ ফিট।’ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, জেলা পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্য্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান, শিশু শৈল চিকিৎসক প্রফেসর ডা. তাহমিনা বানু, ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেটেটিভ ডা. খায়রুল ইসলাম, প্রাকটিক্যাল এ্যাকশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান, বিআইজিডি’র রিসার্চ এ্যাসোসিয়েটস কানেতা জিল্লুর, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর হোসেন সজল, ডা. কাজী আরিফ আহমেদ, ডা. শামীমা পারভীন, এভারেস্ট বিজয়ী এম.এ মুহিত, এ করিম বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন খান লিপি, এইচ.এফজি’র কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট তানভীর হোসেন, হেলথ ফিন্যান্স এন্ড গর্ভনেন্স এর ড. কামরুল জাহিদ ও ড. সোহেল রানা প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ দৌলা সাগর, কাজী ফিরোজ হাসান, শফিকুল আলম বাবু, অনিমা রাণী মন্ডল, শেখ আব্দুস সেলিম, পৌরসভার সচিব সাইফুল ইসলাম বিশ^াস, প্রকৌশলী সেলিম সরোয়ারসহ সাতক্ষীরা পৌরসভা এবং পিপিআরসি’র কর্মকর্তারা।