কালিগঞ্জ ব্যুরো : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঢাকা রেন্সকোর্স ময়দানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর “মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিষ্ট্রার: এ অর্ন্তভূক্তির মাধ্যমে বিশ্ব প্রমান্য ঐতিহ্যে‘র স্বীকৃতি লাভ করায় কালিগঞ্জের সর্বস্থরের মানুষের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা ও বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারাদেশের ন্যায় উৎসবের অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদীয় আসন ১০৮-সাতক্ষীরা-৪ এর সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার আনন্দ উৎসব ও শোভাযাত্রার অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সোহরাওয়ার্দী পার্ক কমিটির সদস্য সচিব এ্যাডঃ জাফরুল্লাহ ইব্রাহীম ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু‘র সঞ্চালনায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের মাঠ প্রাঙ্গণে অবস্থিত আনন্দ উৎসবের মুক্ত মঞ্চে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল হাকিম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুদ্ধকালিন (বিএলএফ) কমান্ডার আলহাজ্ব খান আসাদুর রহমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, কুশুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান সুমন, ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গাজী শওকাত হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান কেএম মোশারাফ, ইউপি চেয়ারম্যান প্রশান্ত সরকার প্রমুখ। পারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, সামাজিক ও সুশীল সমাজ, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীবৃন্দের উপস্থিতিতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে খানবাহাদুর আহছানউল্লা সেতু সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু‘র ম্যুরালের পাদদেশে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ভিত্তিক চলচিত্র ওরা ১১জন প্রদর্শিত ও সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃতি ও গুনি শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এসময় এমপি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া বাঙালী জাতির জন্য বিশাল গৌরবের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিশ^। বাঙালির বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতার এই ভাষণের দিক-নির্দেশনাই ছিল সে সময়ের বজ্রকঠিন জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র। আজ ৪৫ বছর পরেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আবেদন বাঙালির কাছে অটুট আছে। লেখক ও ইতিহাসবিদ জেকব এফ ফিল্ড’-এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা গ্রন্থে এই ভাষণ স্থান পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ববাসীর কাছে বিশেষ করে বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের কাছে আলোর দিশারীতে পরিণত হয়েছে। তিনি এ ভাষণ দিয়েছিলেন ঔপনিবেশিক পাকিস্থানী দুঃশাসন থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। ১৯৪৮ সালে ভাষার দাবিতে আন্দোলন শুরু করার সময়ই বঙ্গবন্ধু বুঝে গিয়েছিলেন স্বাধীনতা ব্যতীত এই জাতির চূড়ান্ত মুক্তি মিলবে না। তিনি আরো বলেন, রেসকোর্সের জনসমুদ্রে দেওয়া জাতির পিতার এই কালজয়ী ভাষণে ধ্বনিত হয়েছিল বাংলার গণমানুষের প্রাণের দাবি। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভার ডাক দেন। সেদিনের জনসমুদ্রে তিনি বজ্রকন্ঠে ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।’ বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণই ছিল প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা। এই ভাষণে তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ করেন। আবার সশ¯্র সংগ্রামের দিক-নিদের্শনাও দিয়ে যান।’
