
দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া টাউন বাজারস্থ কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক জরুরি সভা শেষে উক্ত কমিটি গঠন করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে জেলা শাখার সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসান ইমামের সঞ্চলানায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা শাখার সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু আহম্মেদ। আগামী জাতীয় নির্বাচকে সামনে রেখে সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেবহাটা উপজেলা শাখার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, মোনয়েম হোসেনকে সহ-সভাপতি, রফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক, মনিরুল ইসলামকে যুগ্ন-সম্পাদক আব্দুর রহিমকে সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনিত করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।


জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এসময় এমপি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া বাঙালী জাতির জন্য বিশাল গৌরবের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিশ^। বাঙালির বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতার এই ভাষণের দিক-নির্দেশনাই ছিল সে সময়ের বজ্রকঠিন জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র। আজ ৪৫ বছর পরেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আবেদন বাঙালির কাছে অটুট আছে। লেখক ও ইতিহাসবিদ জেকব এফ ফিল্ড’-এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা গ্রন্থে এই ভাষণ স্থান পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ববাসীর কাছে বিশেষ করে বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের কাছে আলোর দিশারীতে পরিণত হয়েছে। তিনি এ ভাষণ দিয়েছিলেন ঔপনিবেশিক পাকিস্থানী দুঃশাসন থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। ১৯৪৮ সালে ভাষার দাবিতে আন্দোলন শুরু করার সময়ই বঙ্গবন্ধু বুঝে গিয়েছিলেন স্বাধীনতা ব্যতীত এই জাতির চূড়ান্ত মুক্তি মিলবে না। তিনি আরো বলেন, রেসকোর্সের জনসমুদ্রে দেওয়া জাতির পিতার এই কালজয়ী ভাষণে ধ্বনিত হয়েছিল বাংলার গণমানুষের প্রাণের দাবি। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভার ডাক দেন। সেদিনের জনসমুদ্রে তিনি বজ্রকন্ঠে ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।’ বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণই ছিল প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা। এই ভাষণে তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ করেন। আবার সশ¯্র সংগ্রামের দিক-নিদের্শনাও দিয়ে যান।’
