সর্বশেষ সংবাদ-
সাংবাদিক সামিউল মনিরের উপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনশ্যামনগরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতির উপর হামলা: আটক -০২তালার নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা ভূগর্ভ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের শীর্ষে আশাশুনিদীর্ঘ দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষ : কাঁকড়া আহরণ অনুমতি পেলো বনজীবীরাসাতক্ষীরা কারাগারে হাজতির মৃত্যুনার্সিং ভর্তি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় মায়ের বকুনিতে ছাত্রীর আত্ম#হত্যাশ্যামনগরে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতা ও তার পরিবারকে হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধনসাতক্ষীরা জেলা বাস্তহারা দলের ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদনΜια βραδιά φωτός και ήχου στα ψηφιακά σαλόνια

3-large
জি.এম আবুল হোসাইন : ঘাড়ে বাগ, বাগের দু’পাশে ঘোলের হাড়ি। গায়ে সাদা রংয়ের গোল গলা গেঞ্জি, পরনে ঘি রংয়ের লুঙ্গি হাটু পর্যন্ত তোলা, পায়ে চটি আর মাথার চুল গুলো পুরোপুরি সাদা। ‘ঘোল নেবে, ঘো ? ১নম্বর ঘোল, কোন ভেজাল নেই, সবাই চেয়ে খায়’ এমন ডাক ছেড়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝাউডাঙ্গা কাঁচাবাজার পট্টিতে ঘোল বিক্রি করতে দেখা যায় লোকটিকে। ৮৫তে পা রাখা ঘোল বিক্রেতা লোকটির নাম কালীপদ ঘোষ। কলারোয়া উপজেলার কয়লা গ্রামের ঘোষ পাড়ার মৃত. ভূপতি ঘোষের ছেলে কালীপদ ঘোষ। ভিটে বাড়ি মাত্র ৬ শতক। আর মাঠে আছে প্রায় ১ বিঘা ফসলি জমি। বাপ-দাদার এ জাত ব্যবসা মাত্র ১২ বছর বয়সেই জীবনের অবলম্বন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আর সেই থেকেই ছুটে চলা। রোদ বৃষ্টি ঝড় উপেক্ষা করে প্রতিদিন ভোরে হাড়িতে ঘোল নিয়ে বাগ কাঁধে ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়েন গ্রামে গ্রামে। ঘোল বিক্রি করেন প্রতি গ্লাস ৫ থেকে ৬ টাকা। দিন শেষে আয় হয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। কখনো এর কম, আবার কখনো বেশি। সারাদিন বেচা বিক্রি করে তিনি যখন বাড়ীতে ফেরেন তখন সূর্য অস্থের কোঠায়। কখনো রাতে দু’মুঠো ভাত খেয়ে ক্লান্ত দেহে ঘুম, আবার কখনো না খেয়ে বিছানায় নির্ঘুম গড়াগড়ি, আবার পরদিন পাখি ডাকা ভোরে জীবিকার সন্ধানে ছুটে চলা। তাঁর গন্তব্য প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাট-বাজার। ঘোল বিক্রির জন্য কলারোয়া এবং সাতক্ষীরা সদরের কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটে বাজারে ছুটে চলেন অবিরত। অত্যন্ত পরিশ্রমী সদালাপী কালীপদ ঘোষ ছোট বেলা থেকেই দারিদ্রতার সাথে বসবাস করে আসছেন। জীবন সংগ্রামে খুব বেশি সফলতার মুখ দেখতে না পেলেও স্ত্রী সন্তান নিয়ে খেয়ে পরে সুখী জীবনের সন্ধান পেয়েছেন তিনি। ব্যক্তি জীবনে তিনি এক পুত্র ও ৪ কন্যা সন্তানের জনক। দু‘চোখে তাঁর স্বপ্ন ছিল, ছেলেটি লেখাপড়া শিখে তাঁর মুখ উজ্জ্বল করবে, সত্যিকারের মানুষ হবে। কিন্তু অভাবের সংসারে ছেলেকে বেশিদুর পড়াতে না পারলেন না। ছেলে মেয়েরা কে কি করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছেলে অন্যের দোকানে কাজ করে। সে এখন বিয়ে করে আলাদা থাকে। ৩ মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। ছোট মেয়েটা এখনো পড়াশুনা করে। ছোট মেয়েকে পড়াচ্ছি অতি কষ্টে। তাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখি। কিসে পড়ে তা জানিনা। তবে শুনেছি ছোট মেয়েটা খুলনা বিএল কলেজে অনার্স পড়ে। তিনি আরো বলেন, আমি নিজে লেখাপড়া শেখার সুযোগ পাইনি। সংসার চালিয়ে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে অনেকটা কষ্ট হলেও কখনো মনোবল হারায়নি। তিনি দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা’কে বলেন, দারিদ্রতার সাথে লড়াইটা জীবনের শুরু থেকেই। গায়ের রক্ত জল করে টাকা পয়সা রোজগার করি, তাতে দুঃখ নেই, মেয়েটা লেখা পড়া করে একটা ভাল চাকরি পেলে হয়তো বা আমার স্বপ্ন পূরণ হবে। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে আরো বলেন, জীবনের ৮৫টা বছর কেটে গেল। অথচ আজো পেলাম না একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড। পেলাম না কোন সহযোগীতা। সরকারের দেয়া ১০টাকা কেজি চাউলের কার্ডও আমার ভাগ্যে জোটেনি। ইতিমধ্যে দুর্গাপুজা শুরু হয়েছে। পুজার কেনাকাটা হয়নি এখনো। কথা গুলো বলতে বলতে অনেক কষ্টে পা বাড়ান সামনের দিকে। আর করুণ সুরে বিড়বিড় করে বলতে থাকেন ‘ঘোল নেবে, ঘোল?

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা বাজারে সরকারি জায়গায় নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন কাঁচা বাজারে ঝাউডাঙ্গা মৌজার ১নং খতিয়ানভূক্ত ১৩৪/৭২ নং দাগে ৬৮৪ বর্গমিটার জমির উপর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নোটিশ উপেক্ষা করে পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করছিলেন মো. সেলিম রেজা। বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনিরা পারভিন ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে নির্মাণাধীন অবৈধ এ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম, সার্ভেয়ার এমদাদ হোসেন, ঝাউডাঙ্গা আঞ্চলিক প্রেক্লাবের সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম মনি, ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মালেক, দফাদার মো. কামরুল ইসলাম প্রমুখ। ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাথরঘাটা গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুর রউফের ছেলে তামান্না ফিসের স্বত্ত্বাধিকারি মো. সেলিম রেজাকে অবৈধভাবে পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এর আগে ইউনিয়ন ভূমি অফিস তাদেরকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে এবং মালামাল অপসারণ করতে নোটিশ প্রদান করেন।এসবের তোয়াক্কা না করে নির্মাণ কাজ অব্যাহত থাকলে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

8
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতীয় হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি শ্রী রমাকান্ত গুপ্ত সাতক্ষীরার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ও  রাজা প্রতাপ আদিত্যের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। ফার্স্ট সেক্রেটারি বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ইশ্বরীপুর মায়ের বাড়ি পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি মন্দিরে ভক্তি প্রনাম জানান এবং পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। পরে তিনি উপজেলার নকীপুর এলাকায় রাজা প্রতাপ আদিত্যের জমিদার বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে সাতক্ষীরা এসকন মন্দিরের পুরোহিত অধ্যক্ষ কৃষ্ণ দাশ ব্রক্ষ্মচারীসহ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি আশাশুনি উপজেলার ফকরাবাদ এসকন মন্দির পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি দুপুরে বুধহাটা কালীমন্দির ও শহরের মুিন্সপাড়া শ্যামসুন্দর মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি এ সময় সস্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রিয়। তারা নিজ নিজ ধর্ম যথাযথভাবে পালন করে সাম্প্রদায়িক  সম্প্রীতি রক্ষা করে চলেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা জেলা রিক্সা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ৭দফা দাবিতে  জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জজ কোর্টের পিপি এড. ওসমান গনিকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক কমিটির আহবায়ক আনিছুর রহিম, জেলা ওয়ার্কাস পার্টির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এড. ফাহিমুল হক কিসলু, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইদ্রীস আলী, বাসদের সমন্বয়ক নিত্যানন্দ সরকার, সিপিপির সভাপতি আবুল হোসেন, জেলা রিক্সা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল জলিল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোমিন, যুগ্ম সম্পাদক মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল গফুর, কবিরসহ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে গরিব মেহনতি মানুষ যাতে কম কষ্ট করে বেশি টাকা আয় করতে পারে তার জন্য ৭ দফা দাবি মেনে মটরচালিত রিক্সা ভ্যানের নিবন্ধন করা হোক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

6-large
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার তলুইগাছা সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও নারী-শিশু পাচার প্রতিরোধে বিজিবি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধি সমাজের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তলুইগাছা বিওপি ক্যাম্পে এ মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। তলুইগাছা বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার হুমায়ন কবিরের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্ণেল মো: আরমান হোসেন পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপ-অধিনায়ক মেজর সৈয়দ লোকমান হামিদ, বাঁশদাহ ইউপি চেয়ারম্যান মোশারাফ হোসেন, কেড়াগাছি ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল, ভোমরার সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, কুশখালী ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শ্যামল, চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, প্রফেসর আমিনুর রহমান, কার্তিক চন্দ্রসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা এ সময়, সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও নারী-শিশু পাচার প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

pressclub-pic

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় বিনম্র শ্রদ্ধায় সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে একাত্তর এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সাতক্ষীরা জেলা শাখা এ স্মরণ সভার আয়োজন করেন। একাত্তর এর ঘাতক দালাল কমিটির সাতক্ষীরালা সদস্য অধ্যক্ষ সুভাষ সরকারের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, প্রফেসর নিমাই মন্ডল, এড. ফাহিমুল হক কিসলু, বিশিষ্ট সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান মাসুম, পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রাশি, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক  আবুল কালাম আজাদ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির পৌর শাখার সম্পাদক রওনক বাছাড় প্রমুখ। সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সদর উপজেলা শাখার সভাপতি শেখ হারুন উর রশিদদের পরিচালনায় বক্তারা বলেন, সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন স্বাধীনতার স্বপক্ষের কবি, মুক্ত চিন্তার মানুষ। অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি। তিনি শুধু কবি ছিলেন না তিনি সাহিত্যের পাশাপাশি গণসঙ্গীতসহ জনপ্রিয় ধারার সঙ্গীতেও অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। তার প্রতিটি লেখার মধ্যে ছিল শোষণ পিড়িত মানুষের মুক্তির কথা, ছিল বাংলার জয়গানের কথা। তার লেখার মাধ্যমে তিনি আজ আমাদের মাঝে স্মরনীয় হয়ে আছেন। দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে অন্যতম অভিভাবকের ভুমিকায় অসামান্য অবদান রেখেছেন তিনি। তার বিয়োগে জাতি এক প্রতিভাবান ব্যক্তিকে হারিয়েছে। যতদিন বাংলাদেশ ততদিন তিনি এদেশের মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন। স্মরণ সভায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতার আংশিক আবৃতি করেন দিলরুবা রোজ ও পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পি আবু আফ্ফান রোজ বাবু।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

indexআশাশুনি ডেস্ক: আশাশুনি উপজেলার ২৫টি সরকারি অফিসের মধ্যে ১৩টি অফিসের কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য থাকায় স্বাভাবিক কর্মকান্ড স্থবির হতে শুরু করেছে। উপজেলা পরিষদভুক্ত এবং উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, এসি (ল্যান্ড), ওসি, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সহ বিভিন্ন অফিসের ২/১ টি বাদে বেশির ভাগেরই গুরুত্ব অনেক বেশী। অফিসগুলো জনগুরুত্বপর্ণ হওয়া স্বত্বেও বছরের পর বছর ধরে আশাশুনির অনেক অফিসে কর্মকর্তার পদশূন্য রয়েছে। তাছাড়া সম্প্রতি বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে এখান থেকে বদলী করা হলেও তদস্থলে কাউকে পোষ্টিং দেয়া হয়নি। শূণ্য থাকা পদগুলোর মধ্যে মৎস্য কর্মকর্তা, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা, সমবায়, সমাজসেবা, পল্লী উন্নয়ন, পরিসংখ্যান, নির্বাচন, মাধ্যমিক শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও সাব রেজিস্ট্রারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে। এসব পদে অধঃস্তন কাউকে ভারপ্রাপ্ত করে, কাউকে ২/৩টি উপজেলার সাথে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে, কাউকে চলতি দায়িত্ব দিয়ে এসব অফিস পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে কোন কোন অফিসে মাসে একদিন, কোন কোন অফিসে মাসে ২/৪দিন করে কর্মকর্তাদের দেখা মেলে। ফলে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমসমুহ ফাইলবন্ধি হয়ে রয়েছে। জনসাধারণ দিনের পর দিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। কোন কোন অফিসে বর্তমানে দৈনিকের পরিবর্তে সপ্তাহে ১/২ দিন করে অফিস কার্যক্রম চালু রাখার মত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিটিং বা জরুরি কাজে অফিসে না থাকলে সেদিন উপজেলা পরিষদ এলাকা জনমানবশূন্য মনে হয়। সেবা নিতে আসা অনেককেই অফিসে এসে বারবার ফিরে যেতে দেখা যায়। তাই জনগুরুত্বপূর্ণ এসকল অফিস সমুহের শূন্য পদগুলোতে জরুরী ভিত্তিতে কর্মকর্তা নিযুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্ত্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী উপজেলাবাসী ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

জি.এম আবুল হোসাইন: সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা বাজারে সরকারি জায়গায় নির্মিত হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা। ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন কাঁচা বাজারে অবৈধভাবে নির্মাণাধীন পাকা দোকান ঘর (ইমারত) তৈরি করছেন পাথরঘাটা গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুর রউফের দুই ছেলে মো. সেলিম রেজা ও মাসুম রেজা।
সরেজমিনে জানা যায় তামান্না ফিসের স্বত্ত্বাধিকারি মো. সেলিম রেজা ও তার ভাই ঝাউডাঙ্গা মৌজার ১নং খতিয়ানভূক্ত ১৩৪/৭২ নং দাগে ৬৮৪ বর্গ মিটার জমির উপর অবৈধভাবে পাকা দোকান ঘর (ইমারত) তৈরি করছেন। ঝাউডাঙ্গা বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস বলেন, একে তো আমরা অধিকাংশই কাঁচাবাজারের নির্ধারিত ফুটপাতে বসি। এভাবে পাকা দোকান বাড়তে থাকলে আমাদের চট পেতে বসার জায়গাও থাকবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের দুঃখের শেষ নেই। কখনো কালী মন্দিরের চারপাশে, কখনো মাছ বাজারের পাশে আমরা দোকান পেতে বসি। যদি এভাবে কাঁচাবাজার সংকীর্ণ হতে থাকে আর মন্দির কর্তৃপক্ষ আমাদের বসার জায়গা না দেয়, তাহলে অধিকাংশ কাঁচামাল ব্যবসায়ীর ধান হাটের ব্যবসায়ীদের মত মেইন রোডের পাশে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না। এবিষয়ে ঝাউডাঙ্গা বাজার কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল হাই বলেন, আমি অসুস্থ থাকার কারণে বিষয়টি এখনো জানি না। তবে কাঁচাবাজারের ইটের সোলিং তুলে সেখানে পাকা দোকান নির্মাণ করা অবৈধ। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন। তাদেরকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে এবং মালামাল অপসারণ করতে মঙ্গলবারে নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করে তারা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। ৪নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি ও বাজারের ইজারাদার শেখ আব্দুল আলীম বলেন, অবৈধভাবে অনেকেই এভাবে মাছের আড়ৎ নির্মাণের ফলে কাঁচাবাজার সংকুচিত হয়ে আসছে। ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মো. রমজান আলী বলেন, যেখানে দোকান হচ্ছে সেটা তার জায়গা। তবে অবৈধভাবে ইমারাত নির্মাণ হচ্ছে কি না আমার জানা নেই। তামান্না ফিসের স্বত্ত্বাধিকারি মো. সেলিম রেজা বলেন, আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই আমার জায়গায় নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। এছাড়া বিষয়টি স্থানীয় আ’লীগ নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদ, বাজার কমিটি ও ভূমি অফিসকে অবহিত করেছি। এছাড়া অবৈধ দোকানঘর নির্মাণকারী তার স্থাপনা টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন বলে বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়। এভাবে সরকারি জায়গার উপর নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest