আসাদুজ্জামান : ভারত থেকে অবৈধ পথে আনার সময় মাইক্রোবাস ভর্তি ১৮ গাইড থ্রি-পিচ ও থান কাপড় জব্দ করেছে বিজিবি। সোমবার ভোরে শহরের সুলতানপুর এলাকা থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার শাখরা কোমপুর সীমান্ত দিয়ে একটি চোরাচালানী চক্র অবৈধভাবে সাদা রং এর একটি মাইক্রোবাস যোগে (ঢাকা মেট্রো- চ-৫৩-০৮৭১) বিপুল পরিমান ভারতীয় ত্রি-পিচ ও থান কাপড় ঢাকায় পাচার করছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাইক্রোবাসটি ভোর সাড়ে চারটার দিকে কুলিয়া পার হওয়ার পর বাঁকাল চেকপোষ্টের হাবিলদার আইয়ুব আলীর নেতৃত্বে টহলরত বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে। ভোর ছয়টার দিকে গাড়িটি শহরের সুলতানপুর ক্লাবের পাশে এসে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পাশের খাদে পড়ে যায়। এ সময় চালক ও হেলপার গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যায়। এর পরপরই বিজিবি সদস্যরা ওই গাড়ি থেকে ১৮ গাইড থ্রি-পিচ ও থান কাপড় জব্দ করে।
বিজিবি’র সাতক্ষীরা ৩৮ ব্যাটালিয়নের গণসংযোগ কর্মকর্তা সুবেদার সামছুল আলম জানান, জব্দকৃত মাইক্রোবাসসহ ১৮ গাইড কাপড় ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে নিয়ে আনা হয়েছে। তিনি আরো জানান জব্দকৃত মালামালের মূল্য আনুমানিক ২১ লাখ টাকা। তবে এসব মালামালের মালিক কে তা তারা জানাতে পারেননি।
তবে, শহরে গুঞ্জন রয়েছে এ মালামাল জেলার একজন শীর্ষ চোরাকারবারীর যিনি সম্প্রতি আবার জনপ্রতিনিধিও হয়েছেন। জেলার সমস্ত চোরাইঘাট বন্ধ থাকলেও তার চোরাই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বিভিন্ন চোরাচালানী মালামাল আসছে।

শুরু থেকেই তারা নিবন্ধনের শর্ত ভেঙে লক্ষ লক্ষ টাকার কথিত বৃত্তি বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল সাতক্ষীরার হাজার হাজার স্কুল পড়–য়া শিশুদের নিয়ে। নিবন্ধনের শর্তে স্পষ্টতই বলা আছে, সেবা প্রদানের বিনিময়ে এই সংস্থা কোন প্রকার ফিস গ্রহণ করতে পারবে না। অথচ কথিত বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মাথাপিছু ১৫০ টাকা করে প্রত্যেক শিশু পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে গ্রহণ করে স্টাফ। বিনিময়ে এককালীন ট্যালেন্টপুলে ৬০০ ও সাধারণ গ্রেডে ৪০০ টাকা করে বৃত্তি দেয়। অর্থাৎ মাছের তেলে মাছ ভেজেও বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত পরীক্ষা কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। উপড়ি হিসেবে থাকে সমাজের বিত্তশালীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা অনুদান। আর এই অনৈতিক কার্যক্রমে এদেরকে মদদ দেয় বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন ও সরকারি-বেসরকারি স্কুলের কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষকরা। ৪ দলীয় জোট সরকারের পতনের পর এরাও গিরগিটির মত রং বদলে আওয়ামীলীগ সরকারের বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের উপর ভর করতে শুরু করে। তাদেরকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি করা, পরিচালনা কমিটিতে স্থান দিয়ে সম্মানিত করাÑ ইত্যাদির মাধ্যমে তারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অনৈতিক কার্যকলাপকে আড়াল করার চেষ্টা করে। সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষ ও প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা যেটিকে সরকারে চোখ ও কান বলা হয় তাদের সাতক্ষীরা অফিসের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য। সংস্থাটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৩ আগস্ট’১৭ তারিখে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে ০৩.০৭৯.০১৬.০৪.০০১২.০২০১৬-৮৪৪(৩) নং স্মারকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়কে স্টাফের সকল কার্যক্রম স্থাগিত করে এর নিবন্ধন বাতিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ১৬ নভেম্বর ’১৭ তারিখে ৪১.০০.০০০০.০৩৪.০০১.১৫.১৬-১১৮৮ নং স্মারকে সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে স্টাফ এর সকল কার্যক্রম স্থগিত করে তাদের নিবন্ধন বাতিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। এর সূত্রে সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয় গত ৭ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে ৪১.০১.৮৭০০.০০০.২৭.০০৬.১২ নং স্মারকে স্টাফ’র চেয়ারম্যান/সেক্রেটারিকে তাদের যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়।
তবে এই সংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস দাবি করেছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই এর ক্রেতা। একে সৌদি যুবরাজের অসংযত ক্রয়গুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ইয়ট এবং ভিঞ্চির আঁকা ৪৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের চিত্রশিল্প ক্রয় নিয়ে সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে বিতর্ক রয়েছে।