আওয়ামীলীগে জামায়াত, শিবির ও কাউয়া নেতাদের স্থান নেই- খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন দেশের এই অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে জামায়াত-বিএনপি চক্র সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীদের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য তিনি আ’লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনকে বিভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে অনেকেই আওয়ামীলীগে যোগদান করছেন। তবে জামায়াত, শিবির ও কোন কাউয়া নেতার আওয়ামীলীগে স্থান নেই উল্লেখ করে এ ধরণের কেউ যাতে দলে প্রবেশ করতে না পারে এ জন্য তিনি সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। বর্তমান উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এসএম শামছুর রহমানকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, নির্বাচনে যারা একটি ভোটও পায়না, জনগণ যাদের প্রত্যাখান করে সেই ধরণের নেতাদের দলে প্রয়োজন নাই উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দিবে দ্বিধাবিভক্ত না হয়ে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। তিনি শনিবার বিকালে যুবলীগের ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে পাইকগাছা পৌরসভা যুবলীগ আয়োজিত বিশাল যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। পাইকগাছা পৌরসভা মাঠে পৌর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গাজী আব্দুল হাদি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ শেখ মোঃ শহীদ উল্লাহ, পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, মুক্তিযোদ্ধা গাজী রফিকুল ইসলাম, শেখ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু, আ’লীগনেতা লুৎফর রহমান, শেখ মনিরুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক মলঙ্গী, রতন ভদ্র, জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সরদার জাকির হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জামিল খান, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শেখ আনিছুর রহমান মুক্ত, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন, জেলা যুব স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি রেজাউল করিম, যুগ্ম-আহবায়ক সাইফুল ইসলাম খান, আরিফ চৌধুরী, জেলা তরুণ লীগের সভাপতি আমিন বেগ, সাধারণ সম্পাদক তাপস জোয়াদ্দার, অনুপম বিশ্বাস, মাহফুজুর রহমান সোহাগ, জেলা তাঁতীলীগের আহবায়ক সুমন আহমেদ খান, যুগ্ম-আহবায়ক বনানী রায়, জেলা যুবলীগনেতা বিধান রায়, জেলা পরিষদ সদস্য শেখ কামরুল হাসান টিপু, আব্দুল মান্নান গাজী, নাহার আক্তার। পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র রায়ের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম, গোপাল ঘোষ, ইউপি চেয়ারম্যান দিবাকর বিশ্বাস, রিপন কুমার মন্ডল, আ’লীগনেতা বিজন বিহারী সরকার, আখতারুজ্জামান সুজা, মুনছুর আলী গাজী, হেদায়েত আলী টুকু, সরদার গোলাম মোস্তফা, যুবলীগনেতা শেখ রাশেদুল ইসলাম রাসেল, শেখ শহীদ হোসেন বাবুল, শেখ মাসুদুর রহমান, প্রণব কান্তি মন্ডল, শেখ জিয়াদুল ইসলাম, প্রভাষক ময়নুল ইসলাম, আসিফ ইকবাল রনি, তরুণলীগনেতা মিনারুল ইসলাম সানা, মহিলা আ’লীগনেত্রী খাদিজা আক্তার, জুলি শেখ, পাপিয়া সরোয়ার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম আমিনুর রহমান লিটু, বর্তমান সভাপতি এসএম মশিয়ার রহমান, পৌর সভাপতি মাসুদ পারভেজ রাজু, সাধারণ সম্পাদক রায়হান পারভেজ রনি সহ আ’লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশের শুরুতেই প্রধান অতিথি শেখ হারুনুর রশীদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন সোলাদানা ইউনিয়নের ৮ বার নির্বাচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এসএমএ মাজেদ সহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, কালিগঞ্জ : কালিগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুলের ইসলামের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল সার্ভিসের আওতায় চাকুরি দেয়ার নামে বেকার যুবক-যুবতীদের নিকট থেকে ব্যাপক অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় ২৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এইচএসসি পাশ বেকার যুবক-যুবতীদের নিকট থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলার ১২ ইউনিয়ন থেকে ২ হাজার ৩৮৩ জনের আবেদনপত্র প্রাথমিক ভাবে গৃহীত হয়েছিল। গত ১৮ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চাকুরি প্রার্থীদের সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়। ওই নিয়োগ কমিটির সভাপতি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান এবং সদস্যসচিব ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার কামরুল ইসলাম। এই নিয়োগকে ঘিরে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে কর্মরত একটি গ্রুপ প্রার্থীদের চাকুরি নিশ্চিত করার প্রলোভন দেখিয়ে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে। এই টাকা আদান প্রদানের বিষয়টা হয়েছিল অনেকটা ওপেন সিক্রেট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চাকুরি প্রাপ্ত ট্রেনিংকারী অভিযোগ করে বলেন, ন্যাশনাল সার্ভিসে দু’বছর মেয়াদী প্রকল্পে চাকুরির সুযোগ হওয়ায় বেকার যুবক-যুবতীদের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্থী ফিরে আসে। কিন্তু এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার অর্থবাণিজ্য অনেককে হতাশ ও ক্ষুদ্ধ করেছে। চাকুরি নিশ্চিত করার প্রলোভনে প্রতি প্রর্থীর নিকট থেকে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। ২ হাজার ৩৮৩ জন চাকুরির জন্য আবেদন করেছেন। চাকুরি পাওয়ার জন্য অধিকাংশ প্রার্থীকে উৎকোচ দিতে হয়েছে। গত ২৩ মার্চ সাক্ষাতকার পর্ব শেষ হওয়ার বেশ কিছুদিন পর ২ হাজার ২৪১ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন পার হলে ১ হাজার ব্যাক্তি নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তিন মাসের ট্রেনিংয়ের দেড় মাস পাড় করেছেন। এখনে তিন মাসের ট্রেনিংয়ে প্রতিদিন ১শত টাক করে দেওয়ার কথা থাকলেও তিন মাসে তাদেরকে দেওয়া হবে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। এখনও ঘুষ বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাম অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেনসহ একটি গ্রুপ। তিনটি কোটায় নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে বলে প্রচার দেয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে যারা ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে পেরেছে তারা প্রথম কোটায় নিয়োগ পেয়েছে যারা চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিয়েছে তাদের মধ্যে ১ হাজার প্রার্থীর চাকুরি নিশ্চিত হয়েছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে। এবার ২য় ও ৩য় কোটায় ১১ শত প্রার্থী ট্রেনিংয়ের জন্য জয়েন্ট করবে ২ ডিসেম্বর ২০১৭ থেকে। এদের থেকেও নেওয়া হচ্ছে চাহিদা অনুযায়ী টাকা।
এব্যাপারে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়। তার নির্দেশনা অনুযায়ী সবকিছু হচ্ছে। আবেদনকারীদের কারও কারও বয়স কম থাকায় বা অন্যান্য কারণে কিছু প্রার্থী বাদ পড়েছে। ট্রেনিং শেষে আরও কিছু বাদ পড়তে পারে। তবে নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রার্থীদের নিকট থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। চাকুরি দেয়ার কথা বলে তার দপ্তরের কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকে তাহলে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে এর দায় দায়িত্ব তার উপরে বর্তায় বলে স্বীকার করে বলেন, এব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মেয়েদের ব্ল্যাকমেল করে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলতো ছাত্রলীগ নেতা আরিফ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হোসেন হাওলাদার নারীদের ব্ল্যাকমেইল করে তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। ব্ল্যাকমেল এর মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে কাটানো অন্তরঙ্গ মুহূর্ত সে মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করে রাখতো। এরপর সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে বারবার অন্তরঙ্গ হতো। এভাবে দিনের পর দিন নারীদের ধর্ষণ করতো আরিফ। এতদিন বিষয়টি ধামাচাপা থাকলেও শনিবার এক ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করেন থানায়।

আরিফের এ অপকর্মের প্রক্রিয়াটা ছিলো অভিনব। এক্ষেত্রে সে বেছে নিতো তার পরিচিত ও স্বল্প পরিচিত নারীদের, যাদের বাড়িতে সে সহজেই যাতায়াত করতে পারতো। আরিফের বাবা মিন্টু হাওলাদার গণমাধ্যমের সামনে বিষয়টি অস্বীকার করলেও এলাকার চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদারের কাছে ছেলের অপরাধের স্বীকারোক্তি দিয়ে চেয়েছেন সমাধান।

জানা যায়, পরিচিত কোন নারীকে একা পেলেই নিজের মুঠোফোনের ক্যামেরা অন করে তার ঘরে ঢুকে পড়তো আরিফ। কথার ছলে কিছুটা অন্তরঙ্গ হলেই শুরু করতো অশ্লীল আচরণ। সেসময় ভুক্তভোগী নারী প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে শুরু হতো ধস্তাধস্তি। এক পর্যায়ে সেই ধস্তাধস্তির ভিডিও দেখিয়েই ব্ল্যাকমেল করে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতো ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে।

তার এ অপকর্মের শিকার হয়েছেন গ্রামের কলেজ পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থী, নিজের চাচাতো বোন ও প্রবাসীর গৃহবধূ। তবে লোকলজ্জার ভয়ে মুখ খুলছে না কেউ। পুলিশ বলছে, তার নামে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন সহ আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা ও পর্নোগ্রাফি অ্যাক্টে মামলা হবে।

বিষয়টি নিয়ে আরিফ অনেকটা নিজেই নিজের ফাঁদে পড়েছে বলে মনে করছেন পুলিশ। শরীয়তপুরের বোসাইরপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান জানান: কিছুদিন আগে অাসামি আরিফ হোসেন হাওলাদার থানায় আসে একটি জিডি করতে। যেখানে সে অভিযোগ করে, কিছু লোক হিংসাপরায়ণ হয়ে তার ব্যক্তিগত তথ্য ও ভিডিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
‘এরপরই বিষয়টি অনুসন্ধানে মাঠে নামে পুলিশ। তখনই বেরিয়ে আসতে থাকে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। পুলিশের হাতে সেসময় এসে পৌঁছে ছাত্রলীগের এই নেতার ৬ জন নারীর সাথে ধারণকৃত খোলামেলা ভিডিও চিত্র। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।’

পুলিশ কর্মকর্তা খায়রুল হাসান জানান: আমাদের ধারণা, শুধু এ ৬ নারীই নয়, বরং আরও অনেকের সাথেই আরিফ এমনটা করেছে। আরিফের পাশাপাশি যে মোবাইল বা ডেস্কটপ থেকে ভিডিওগুলো ছড়ানো হয়েছে সে বিষয়েও অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।

‘এক্ষেত্রে সমস্যা হলো- লোকলজ্জা ও সামাজিকতার ভয়ে বিষযটি নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হচ্ছে না ভুক্তভোগী নারীদের কেউ। পুলিশ তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও বিষয়টি অস্বীকার করছেন তারা।’

তবে পুলিশের চেষ্টার ফলস্বরুপ শনিবার এ বিষয়ে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার ৯(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার এজাহার পড়ে স্পষ্ট বোঝা যায় আসামী আরিফের টার্গেট ছিলো পরিচিত ও স্বল্পপরিচিত নারীরা। যেসব বাড়িতে তার যাতায়াত ছিলো সেসব বাড়ির মেয়েদেরই টার্গেট করে সে। এমনই এক ভুক্তভোগীর বাড়ির গোসলখানায় ক্যামেরা রেখে দেয় সে। কৌশলে পাতার আড়ালে লুকিয়ে রাখে ক্যামেরাটি যাতে করে কারও চোখে না পড়ে। পরবর্তীতে সেই ভিডিওর জের ধরেই দিনের পর দিন সে ধর্ষণ করেছে মেয়েটিকে।

আরিফের এ ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর সংসার ভেঙ্গে যেতে বসেছে দু’ নারীর। লোকলজ্জার ভয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ করেছেন অনেকে। কেউবা আবার হয়েছেন এলাকাছাড়া।

এ বিষয়ে নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদার বলেন: ভিডিওগুলো আমার হাতেও এসে পৌঁছেছে। এতে একাধিক নারীর সাথে আরিফের যে অনৈতিক সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে তা খুবই ন্যাক্কারজনক। ভিডিওগুলো দেখার পর আমি ব্যক্তিগতভাবে এক ভুক্তভোগীর বাড়ি গেলে সে পুরোপুরি তা অস্বীকার করে এবং সব মিথ্যা ও অপপ্রচার বলে জানায়।

‘কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পরই যখন এলাকার মানুষের হাতে ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ে তখন ওই নারীর স্বামী আমাকে বিদেশ থেকে ফোন করে এবং সব সত্য বলে স্বীকার করে। এমনকি এঘটনার পরদিনই আরিফের বাবা মিন্টু হাওলাদার আমার সঙ্গে অরিফকে নিয়ে মাজারে দেখা করেন। আরিফের দোষ স্বীকার করে এ ঘটনার মিমাংসা চান।’

এ ধরণের বিকৃতপূর্ণ আচরণের কোন ক্ষমা নেই উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন: এরকম কোন দুষ্কৃতিকারীর ঠাঁই আমার এলাকায় কখনোই হবে না। ছাত্রলীগের এই নেতাকে তিনি এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন বলেও জানান।
এলাকায় ঘটনা জানাজানির পরই দল থেকে বহিষ্কার করা হয় আরিফ হোসেনকে। সে নারায়ণপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলো।
আওয়ামী লীগের থানা সেক্রেটারি মান্নান বেপারি বলেন: আরিফের বিষয়ে আমাদের কাছে এখনও কোন অভিযোগ আসেনি। তবে ফেসবুকে আরিফের কিছু অশ্লীল ভিডিও ও ছবি দেখার পরপরই চারিত্রিক স্খলনের দায়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর থেকেই সে এলাকা থেকে পলাতক।

বিষয়টি নিয়ে আরিফ ও তার পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিক্ষার্থীদের মেধাকে মানব সভ্যতার কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে – অধ্যাপক ডা. রুহুল হক এমপি

তরিকুল ইসলাম লাভলু : নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধনকালে অধ্যাপক রুহুল হক এমপি সাতক্ষীরা-আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক এমপি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধাকে মানব সভ্যতার কল্যানে কাজে লাগাতে হবে। আমরা তোমাদেরকে এই সোনার বাংলায় সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তিনি আরো বলেন, বিদ্যার সাথে বিনয়, শিক্ষার সাথে দীক্ষা, কর্মের সাথে নিষ্ঠা, জীবনের সাথে দেশপ্রেম এবং মানবীয় গুনাবলীর সংমিশ্রণ ঘটাতে পারলে সত্যিকারের আদর্শবান মানুষ হওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষাখাতে তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। শেখ হাসিনা যত দিন ক্ষমতায় থাকবে ততো দিন বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হবে। বিগত দিনে অন্য কোন সরকার এটি কোনদিন করতে পারেনি। শিক্ষাখাতের উন্নয়ন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এসময় উপস্থিত ছিলেন-সংসদ প্রতিনিধি সম্ভুজিৎ সরাকার, নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোনায়েম, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. সাইদুর রহমান,সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিীন, সাবেক ইউপি সদস্য মাসুদুল হক ডালিম, এ্যাড. আব্দুল জব্বারসহ স্কুললের শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় দীর্ঘদিন পরে মঞ্চস্থ হলো সুস্থ যাত্রাপালা

কলারোয়া ব্যুরো : কলারোয়ায় দীর্ঘদিন পরে মঞ্চস্থ হলো যাত্রাপালা। শুক্রবার রাত ৮টার সময় কলারোয়া পাইলট হাইস্কুল মাঠের উন্মুক্ত মঞ্চে যাত্রাপালার আয়োজন করে সৌখিন নাট্যগোষ্ঠি।‘নাঙ্গা তলোয়ার’ নামের ওই যাত্রা পালায় অনেক গুনি যাত্রা অভিনেতা-অভিনেত্রিরা অভিনয় করেন। দীর্ঘদিন পর যাত্রাপালার ‘আসল’ স্বাদ উপভোগ করেন দর্শকরা। কারণ বর্তমানে নামসর্বস্ব ও যাত্রার নামে অশ্লীলতা বেশি প্রাধান্য পায় বিভিন্ন যাত্রানুষ্ঠানে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে শুক্রবার রাতে কলারোয়ায় মঞ্চস্থ হওয়া ঐতিহাসিক এ যাত্রাপালাটি পুরনো দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় অনেককে। মাঠে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে তুলসীডাঙ্গা অধিবাসি সিরাজুল ইসলামের(৬০) কাছে যাত্রাপালা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পালাগান জারি গান ও যাত্রাপালা আবার ফিরে এসেছে। এই সুষ্ঠ বিনোদন গ্রাম বাংলার আবহমান চিত্রই তুলে ধরে। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় ,এখন আগের মত আর আমরা পালাগান, জারিগান ও যাত্রাপালা দেখতে পাইনা। কেননা যাত্রাপলার নামে চলে অশ্লীলতা।
সৌখিন নাট্যগোষ্ঠির এক নাট্যকর্মীর কাছে তাদের এই উন্মক্ত যাত্রাপালার উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি বলেন সুষ্ঠু সংস্কৃতি চর্চার জন্য আমাদের এই আয়োজন। অনেক দিন পরে জনসাধারণ যাত্রাপালা দেখতে পেয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। আমাদের পরিকল্পনা এই ধরনের আয়োজন আরো করার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
২৪ নভেম্বর ওবায়দুল কাদেরের জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে হবে -ডা. রুহুল হক এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : শনিবার সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জেলা আওয়ামীলীগের এক বিশেষ বর্ধিত সভা, সংগঠনের সভাপতি মুনসুর আহমেদের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক এমপি বলেন ২৪ নভেম্বর শুক্রবার বিকাল ৩টার শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির জনসভাকে জন সমুদ্রে পরিণত করতে হবে। জেলার ৭৮ টি ইউনিয়ন থেকে লোক আসবে। সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে এখন থেকে তার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। সাতক্ষীরা মাটি আওয়ামীলীগের ঘাটি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের সামনে প্রমাণ করতে হবে। বর্ধিত সভায় ৯ সদস্য বিশিষ্ট্য জনসভা বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক হিসাবে মুনসুর আহমেদ সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম, সদস্য অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, আসাদুজ্জামান বাবু, এসএম শাওকত হোসেন, আবু সায়ীদ, শাহাজান আলী ও শাহাদাৎ হোসেন, অর্থ-উপ কমিটি, সাজসজ্জা কমিটি, প্রচার উপ কমিটি, আপ্যায়ন ও অভ্যার্থনা উপ কমিটি এবং শান্তি শৃঙ্খলা উপ কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এমপি, সাবেক এমপি এসএম ফজলুল হক, সাবেক এমপি ডা. মোকলেসুর রহমান, সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান, এসএম জগলুল হায়দার এমপি, আবু আহমেদ, সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র, শেখ সাহিদ উদ্দীন, ফিরোজ আহমেদ, অধ্যক্ষ জাফরুল আলম বাবু, এড. ওসমান গণি, সরদার মুজিব, শেখ হারুন-উর-রশিদ, শেখ ওয়াহেদুজ্জামান, এসএম শওকাত হোসেন, এবিএম মোস্তাকিম, শেখ নূরুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, ফিরোজ আহমেদ স্বপন, আবু সায়ীদ, আতাউল হক দোলন, এড. মোজাহার হোসেন কান্টু, বিশ্বজিৎ সাধু, জোৎস্না আরা, ফারহা দিবা খান সাথী, মীর আজাহার হোসেন শাহিন ও আব্দুস সামাদ প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনিতে সুন্দরবনগামী ট্রলারে অস্ত্রসহ চোরাশিকারী আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি : সুন্দরবনগামী একটি পিকনিকের ট্রলারে তল্লাশী চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ মফিজুল হক গাজী (৬০) নামের এক চোরা শিকারীকে আটক করেছে র‌্যাব সদস্যরা। শুক্রবার গভীর রাতে আশাশুনি উপজেলার মানিকখালী খেয়াঘাট থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক মফিজুল হক গাজী ধুলিহর গ্রামের মৃত কোরবান আলি গাজীর ছেলে।
প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান, বুধহাটা এলাকার বেতন নদী থেকে এন বি কাজী এন্ড তুহিন পরিবহন এম-২০২৯৪ নামের একটি ট্রলারে লোকমান হোসেনের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জন লোক পিকনিকের উদ্দেশ্যে সুন্দরবন রওনা হন। পথিমধ্যে আশাশুনির মানিকখালী খেয়াখাট এলাকায় পৌছালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬ এর কোম্পানী কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জাহিদুল কবিরের নেতৃত্বে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। এ সময় ট্রলারটি র‌্যাব সদস্যরা ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে বিশেষ কায়দায় ৩টি স্থানে লুকিয়ে রাখা একনালা বন্দুকের খন্ড খন্ড অংশ ও ২৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেন। এছাড়া ছুরি, চাপাতি সহ বেশকিছু দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
ট্রলারের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী পিকনিক যাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আশাশুনির মানিকখালী খেয়াঘাটের কাছাকাছি পৌছালে র‌্যাব সদস্যরা ট্রলারযোগে তাদের ধাওয়া করেন। এ সময় তারা ট্রলার আটকিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালান। পরে তারা বন্দুক, গুলি ও কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে মফিজুলকে আটক করে নিয়ে যায়। তারা আরো জানান, এসময় র‌্যাবের সাথে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় সদর উপজেলার ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাবু সানার ছোট ভাই খিজির আহম্মেদ (৩৭), ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের মেল্লেকপাড়া লোকমান হোসেন (৫৫), ধুলিহর গ্রামের মুরাদ হোসেন (৪০), একই গ্রামের মনিরুল ইসলাম ওরফে মানিক (৪২) এবং ধুলিহর কোমরপুর গ্রামের আজিজুল সরদারকে (৬০) মারপিট করেন। পরে র‌্যাব সদস্যরা ট্রলারটিকে সুন্দরবনে না ভীড়তে নির্দেশ দেন। এছাড়া এই ট্রলারটি সুন্দরবন প্রবেশের অনুমতি পত্র বাতিলের জন্য র‌্যাব কর্তৃপক্ষ বন বিভাগকে অনুরোধ জানান। শেষ পর্যন্ত তাদের অনুমতি বাতিল হওয়ায় তাদের যাত্রা মানিকখালিতে শেষ হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে জানার জন্য র‌্যাব-৬ এর কোম্পানী কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জাহিদুল কবিরের সরকারী ০১৭৭৭৭১০৬১১ নান্বারের মোবাইলে ফোন দিলে ফোনটি অন্য আর একজন রিসিভ করে জানান, স্যার ঘুমাচ্ছেন। রাতে ফোন দিবেন।
তবে, ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাবু সানা জানান, র‌্যাব সদস্যরা মানিকখালি খেয়াঘাটে থেকে সুন্দরবন গামী একটি ট্রলার থেকে একজনকে আটক করার বিষয়টি আমি লোক মুখে শুনেছি। তবে তাকে ছেড়ে দিয়েছে কিনা তা জানিনা।
উল্লেখ্য, এই চক্রটি প্রতি বছর শীতকালিন সময় সুন্দরবনে যেয়ে হরিণ শিকার করে থাকেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
উন্নয়নের জন্য চাই বারবার শেখ হাসিনার সরকার- যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষির্কীতে রুহুল হক এমপি

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : ‘রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনার বিশ^ শান্তির দর্শন -জনগণের ক্ষমতায়ন সুদৃঢ় করায় আমাদের অঙ্গিকার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের গৌরব, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ৪৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষির্কী উপলক্ষে র‌্যালি, কেককাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকালে সাতক্ষীরা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের আয়োজনে এবং পৌর যুবলীগের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। আলোচনা সভায় জেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক। এ সময় তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ১৯৭২ সালে ১১-ই নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া একটি আদর্শের সংগঠন। বাংলার মেহনতি শোসন বঞ্চিত অবহেলিত নিপড়িত মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য এ সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ আ ’লীগের একটি সুসংগঠিত দল আওয়ামী যুবলীগ। আ ’লীগের এই শক্তি সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ যতদিন এই বাংলার মাটি থেকে নির্মূল না হবে ততদিন যুবলীগের পরিক্ষীত সৈনিকরা রাজপথে থাকবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশ বুকে ধারণ করে প্রতিটি লড়াই সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে যুবলীগের নেতা কর্মীরা। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যুবলীগের নেতা কর্মীরা জেল জুলুমসহ বিভিন্ন নির্যাতনের স্বিকার হয়েছে। যুবলীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। তাহলে আগামী দিনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তথা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত আরো শক্তিশালী হবে। তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় বসাতে দলকে সুসংগঠিত করার বিকল্প নেই। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ, সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র, শেখ সাহিদ উদ্দীন, জেলা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সরদার মুজিব, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস.এম শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাজান আলী, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্ম আবু সায়ীদ, সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাদাৎ হোসেন, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদিকা পৌর কাউন্সিলর জ্যোৎন্সা আরা প্রমুখ।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আশাশুনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি স.ম সেলিম রেজা মিলন, সদর উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. গোলাম কিবরিয়া বাবু, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মঈনুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, শ্যামনগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কাজী গোলাম মোস্তফা, তালা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার জাকির হোসেন, কলারোয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কাজী আসাদুজ্জামান শাহজাদা, দেবহাটা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান, কালিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আনোয়ারুল কবির লিটু, পৌর যুবলীগের সভাপতি মনোয়ার হোসেন অনু, সাধারণ সম্পাদক তুহিনুর রহমান তুহিন, মহিতুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, আসাদুজ্জান তুহিন ও বিজয় ঘোষ প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ. জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক বিশ^াস, আইন বিষয়ক সম্পাদক জজ কোর্টের পিপি এড. ওসমান গণি, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুর রশিদ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শেখ মনিরুল হোসেন মাসুম, মফিজুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা ইদ্রিস বাবু, এস.এম ইউসুফ সুলতান মিলন ও আজিবুর রহমান আলীমসহ জেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনূষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মিজান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest