সর্বশেষ সংবাদ-
বিএনপি থেকে ডা: শহীদুল আলম বহিস্কারসংগ্রামের গল্পে ঢাবি জয় দিহানেরতালায় লার্নিং শেয়ারিং ওয়ার্কশপসাতক্ষীরায় ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার : ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ১৮সাতক্ষীরায় খাদ্য মোড়কে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার দাবিতে স্মারকলিপিসাতক্ষীরায় দুর্ধর্ষ ডাকাত ইয়ার আলীর দুই সহযোগী গ্রেফতারসাতক্ষীরা‌র গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে‌ পিআইবির দুই দিনের নির্বাচনকালীন প্রশিক্ষণসাতক্ষীরায় -৭নং ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে ৮ দফার বার্তাসাতক্ষীরা জেলা রোভার স্কাউটসের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতাসাতক্ষীরায় তারেক রহমানের ৮ দফার লিফলেট ছড়িয়ে দিল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

জিতল ভারত ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান !

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয় পাওয়া পর ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম এই সংস্করণের র‌্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল সরফরাজ আহমেদের পাকিস্তান। এর ফলে নির্ধারণ হয়ে যায় ১ নভেম্বর শীর্ষ থাকা নিউজিল্যান্ডকে ভারত হারাতে পারলেই দুইয়ে নেমে যাবে কিউইরা।
সেই অনুযায়ী গতকাল বুধবারের ম্যাচ ভারত জয় পাওয়ায় প্রথমবারের টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠেছে পাকিস্তান।

এদিকে, টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের পরই রয়েছে গেইল-স্যামুয়েলদের ওয়েস্ট ইন্ডিস। এছাড়া সেরা দশের বাকি ৭টি দেশ যথাক্রমে ইংল্যান্ড, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ।

সূত্র : দ্য ডন

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যৌন হয়রানির ঘটনায় ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

যৌন হয়রানির দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যার মাইকেল ফ্যালন। ১৫ বছর আগে তিনি সাংবাদিক ও রেডিও উপস্থাপিকা জুলিয়া হার্টলি-ব্রুয়ারের হাঁটু অশোভনভাবে স্পর্শ করেছিলেন।
মঙ্গলবার বিষয়টি স্বীকার করেন তার জন্যও ক্ষমা চেয়েছেন মাইকেল ফ্যালন।

তিনি এমন এক সময়ে পদত্যাগ করলেন, যখন ব্রিটেনের বেশ কিছু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ফ্যালন হচ্ছেন প্রথম রাজনীতিবিদ যিনি পদত্যাগ করলেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘অতীতে আমার কিছু আচরণসহ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন এমপি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের অনেকগুলোই মিথ্যা। কিন্তু আমি স্বীকার করছি যে অতীতে আমার আচরণ সর্বোচ্চ মানের তুলনায় ঘাটতি ছিল। ‘ সূত্র : বিবিসি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
টুইটারে ঊর্বশীর অশ্লীল পোস্ট!

বিনোদন ডেস্ক : হ্যাকারদের কবলে পড়েছে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঊর্বশী রাউতেলার টুইটার অ্যাকাউন্ট। আর এরপরই অশ্লীল ভাষায় টুইট করা হয়েছে তার অ্যাকাউন্ট থেকে।

তবে উর্বশী জানিয়েছেন তার অ্যাকাউন্টটি হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। এরপর সেখানে অশ্লীল পোস্ট দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ‘কাবিল’ সিনেমায় ‘হাসিনো কা দিওয়ানা’ গানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পান ঊর্বশী। ‘হেট স্টোরি’র চতুর্থ সংস্করণের নায়িকাও তিনি। শোনা গেছে ‘রেস থ্রি’তেও বিশেষ ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে।

মঙ্গলবার নিজের প্রোফাইলের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেন নায়িকা। যাতে অশালীন ভাষায় স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছিল। কমেন্টে নায়িকা জানান, কেউ তাঁর প্রোফাইল হ্যাক করে এই সমস্ত ভাষা লিখেছে। এখনও সুরক্ষিত নয় তাঁর প্রোফাইল।

কেউ যদি তাঁর ফেসবুক থেকে কোনও বার্তা পান। তখনই যেন সে বিষয়ে নায়িকাকে জানিয়ে দেন। এমন ঘটনার জন্য তিনি দুঃখিত।

কারা এমন কাজ করেছে? কেনই বা করেছে? সে প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। তবে এই ঘটনায় বেশ বিপাকে পড়েছেন ঊর্বশী। বিষয়টি কতদূর যেতে পারে তা আপাতত দেখতে চাইছেন তিনি। তারপরই পুলিশে অভিযোগ জানাবেন।

তবে নিজের অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার জন্য বিশেষজ্ঞদের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। অ্যাকাউন্টটি এখনই বন্ধ করতে চান না নায়িকা। কারণ এটিই দর্শকদের কাছে যোগাযোগ করার অন্যতম উপায় তাঁর কাছে। নিজের অনুরাগীদের নিরাশ করতে চান না তিনি। তাই নিজের পোস্টের ধারা অব্যাহত রেখেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাখাইন সফরে গেলেন অং সান সু চি

রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে এ প্রথমবারের মতো রাখাইন অঞ্চল সফরে গিয়েছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। একদিনের সফরে রাখাইনের দুটি শহর পরিদর্শন করবেন সু চি।

সরকারের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা জানিয়েছেন, সু চি বর্তমানে রাখাইনের সিটুয়ে-তে অবস্থান করছেন। এরপর তিনি মংডু এবং বুথিডং এলাকা সফর করবেন। এ দুটো এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখান থেকে হাজার-হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ড এবং দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কোন অবস্থান না নেয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে এরই মধ্যে বেশ সমালোচিত হয়েছেন তিনি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেনাবাহিনীর দিক থেকে হুমকি আসতে পারে, এমন আশংকায় সু চি তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে চান না। সূত্র : বিবিসি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

De Betcity app biedt een handige manier om te gokken op je mobiele apparaat. Met deze app kun je overal en altijd spelen. In deze gids leer je alles over het downloaden en gebruiken van de app. We kijken naar de voordelen, systeemvereisten en installatiestappen. De informatie is gebaseerd op algemene kennis over iGaming apps.

Wat is de Betcity app?

De Betcity app is een mobiele applicatie voor het Betcity casino. Je kunt er gokspellen en sportweddenschappen mee spelen. De app is ontworpen voor smartphones en tablets. Het maakt gebruik makkelijker dan via een browser. Veel gebruikers vinden de app snel en betrouwbaar.

De Betcity app heeft een eenvoudige interface. Dit helpt nieuwe spelers snel te beginnen. Je vindt er alle functies van de website. Denk aan inloggen, storten en spelen. De app werkt op zowel iOS als Android apparaten. Het is een populaire keuze onder mobiele gokkers.

Voordelen van de Betcity app

Een groot voordeel is gemak. Je hebt geen computer nodig om te spelen. De Betcity app laadt snel op je telefoon. Dit bespaart tijd en moeite. Push-meldingen houden je op de hoogte van promoties. Zo mis je nooit een bonus of aanbieding.

De app is geoptimaliseerd voor mobiel gebruik. Spellen passen zich aan je scherm aan. Dit zorgt voor een betere ervaring. Je kunt ook offline informatie bekijken. Bijvoorbeeld over wedstrijden of regels. De Betcity app maakt mobiel gokken toegankelijk voor iedereen.

Betcity sportsbook thumbnail

Systeemvereisten voor iOS en Android

Voor iOS moet je minstens iOS 12 hebben. De Betcity app werkt op iPhones en iPads. Zorg dat er genoeg opslagruimte is. Ongeveer 100 MB is nodig voor de installatie. Een stabiele internetverbinding is belangrijk. Dit voorkomt problemen tijdens het downloaden.

Android gebruikers hebben Android 6.0 of hoger nodig. De app is compatibel met de meeste telefoons. Controleer of je toestel voldoet aan de eisen. Soms zijn extra machtigingen vereist. Bijvoorbeeld voor notificaties of opslag. De Betcity app kan zo optimaal functioneren.

Hoe de Betcity app te downloaden voor iOS

Ga naar de App Store op je iPhone. Zoek naar ‘Betcity’ in de zoekbalk. Selecteer de officiële Betcity app. Klik op ‘Download’ om te beginnen. Wacht tot de installatie klaar is. Dit duurt meestal een paar minuten. Daarna open je de app en log je in.

Je moet mogelijk je Apple ID verifiëren. Dit is een standaard veiligheidsstap. Zorg dat je verbonden bent met Wi-Fi. Dit versnelt het proces. Na installatie verschijnt het icoon op je scherm. Tik erop om de Betcity app te starten. Volg de instructies om je account te koppelen.

Hoe de Betcity app te downloaden voor Android

Open de Google Play Store op je Android-toestel. Typ ‘Betcity app’ in het zoekvak. Kies de juiste app van Betcity. Klik op ‘Installeren’ om te downloaden. De app wordt automatisch geïnstalleerd. Dit kan even duren afhankelijk van je netwerk. Daarna vind je het in je app-lijst.

Sommige Android-toestellen hebben beperkingen. Controleer of installaties van onbekende bronnen zijn toegestaan. Dit is zelden nodig voor de Play Store. De Betcity app vraagt om basismachtigingen. Accepteer deze om door te gaan. Start de app en begin met spelen.

APK download optie

Soms is de Betcity app niet beschikbaar in de Play Store. Dan kun je een APK-bestand gebruiken. Download het alleen van de officiële Betcity website. Dit voorkomt veiligheidsrisico’s. Ga naar de site op je browser. Zoek naar de downloadlink voor Android. Volg de instructies om het bestand te installeren.

Je moet ‘Installeren van onbekende bronnen’ inschakelen. Dit doe je in de instellingen van je telefoon. Wees voorzichtig met APK-bestanden. Ze kunnen malware bevatten. De Betcity app via APK is een alternatief. Gebruik het alleen als nodig. Het proces is vergelijkbaar met de Play Store.

Installatiehandleiding stap voor stap

Eerst, download de Betcity app zoals beschreven. Open het gedownloade bestand op je apparaat. Volg de scherminstructies voor installatie. Dit omvat het accepteren van voorwaarden. Geef de nodige machtigingen voor functionaliteit. Wacht tot de installatie is voltooid. Controleer of er updates beschikbaar zijn.

Na installatie, start je de Betcity app. Je ziet een welkomstscherm. Hier kun je inloggen of registreren. Als je een account hebt, gebruik dan Betcity inloggen. Vul je gegevens in om toegang te krijgen. De app is nu klaar voor gebruik. Test het met een eenvoudige handeling.

Inloggen en accountbeheer op de app

Inloggen op de Betcity app is eenvoudig. Voer je gebruikersnaam en wachtwoord in. Tik op ‘Inloggen’ om verder te gaan. Als je problemen hebt, reset je wachtwoord. Gebruik de ‘Wachtwoord vergeten’ optie. Dit stuurt een link naar je e-mail. Volg die om toegang te herstellen.

Je account beheer je in de app. Bekijk je saldo en transacties. Pas persoonlijke gegevens aan. Stel voorkeuren in voor notificaties. De Betcity app biedt volledige controle. Dit maakt het beheren van je spel gemakkelijk. Houd je gegevens up-to-date voor veiligheid.

Spelaanbod op de Betcity app

De Betcity app heeft een breed spelaanbod. Je vindt er gokkasten, tafelspellen en meer. Alle spellen zijn geoptimaliseerd voor mobiel. Dit betekent soepele graphics en gameplay. Het aanbod wisselt regelmatig. Nieuwe spellen worden toegevoegd. Dit houdt de ervaring fris en boeiend.

Je kunt ook sportweddenschappen plaatsen. De Betcity app heeft een sportsbook sectie. Hier volg je live wedstrijden en odds. Het is eenvoudig om in te zetten. De interface is duidelijk en gebruiksvriendelijk. Dit maakt de app veelzijdig voor verschillende soorten spelers.

Bonussen en promoties in de app

De Betcity app biedt vaak exclusieve bonussen. Dit kunnen welkomstbonussen of free spins zijn. Controleer de promotiepagina in de app. Hier staan alle actuele aanbiedingen. Lees de voorwaarden zorgvuldig. Wagering eisen kunnen van toepassing zijn. Dit bepaalt hoe je de bonus kunt gebruiken.

Promoties worden gepusht via notificaties. Zo blijf je op de hoogte. De Betcity app maakt het claimen van bonussen eenvoudig. Klik op de aanbieding en volg de stappen. Soms zijn er codes nodig. Voer deze in om te profiteren. Het verhoogt je spelervaring.

Betalingen en veiligheid op mobiel

Storten en opnemen kan via de Betcity app. Populaire methoden zijn creditcards en e-wallets. Het proces is vergelijkbaar met de website. Kies je betaalmethode en voer het bedrag in. Bevestig de transactie om door te gaan. Opnames duren meestal een paar dagen. Dit hangt af van de methode.

Veiligheid is een prioriteit voor de Betcity app. Het gebruikt encryptie voor gegevensbescherming. Je persoonlijke informatie is beveiligd. Alleen jij hebt toegang tot je account. De app volgt strikte licentieregels. Dit zorgt voor een betrouwbare omgeving. Speel met vertrouwen op je mobiel.

Probleemoplossing en ondersteuning

Soms kan de Betcity app problemen hebben. Bijvoorbeeld traag laden of crashes. Controleer eerst je internetverbinding. Herstart de app of je telefoon. Dit lost vaak kleine problemen op. Als het blijft, update je de app naar de nieuwste versie. Dit kan bugs verhelpen.

Voor complexe kwesties, neem contact op met ondersteuning. De Betcity app heeft een help-sectie. Hier vind je veelgestelde vragen. Je kunt ook live chat of e-mail gebruiken. Beschrijf je probleem duidelijk. Dit helpt het team snel te reageren. Ondersteuning is beschikbaar in het Nederlands.

Conclusie

De Betcity app is een handig hulpmiddel voor mobiel gokken. Het downloaden is eenvoudig voor iOS en Android. De app biedt veel voordelen, zoals gemak en veiligheid. Volg de stappen in deze gids om te beginnen. Houd systeemvereisten in gedachten. Geniet van het spelaanbod en bonussen. Met de Betcity app kun je altijd en overal spelen.

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘আওয়ামী লীগের অর্জিত সুনাম ছাত্রলীগের একদিনের অপকর্মেই ধ্বংস হয়ে যায়’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের কঠোর সমালোচনা করলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। স্বেচ্ছাসেবক লীগকে তিনি অভিহিত করলেন ‘সাইনবোর্ড সর্বস্ব’ সংগঠন হিসেবে। আর ছাত্রলীগকে নিয়ে বললেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সরকার খেটেখুটে যে সুনাম অর্জন করে, তা ছাত্রলীগের একদিনের অপকর্মেই ধ্বংস হয়ে যায়।’
বুধবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলী ও দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের এক যৌথ সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বেই এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত না করায় সভায় সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক লীগ এখন সাইনবোর্ড সর্বস্ব সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এই দলের নেতা সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ। তোমাদের এর আগেও পাঁচবার সম্মেলন করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তোমাদের সারাদেশে অনেক জেলাতেই কমিটি আছে দুই জনের। কোথাও আছে আহ্বায়ক কমিটি। সামনে নির্বাচন। এসময় সহযোগী সংগঠনগুলো এমন অসংগঠিত হয়ে পড়াটা ঠিক নয়।’
এসময় ওবায়দুল কাদেরকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার বলেন, ‘সম্মেলনের তারিখ আপনেই ঠিক করে দিন।’ জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি কেন ঠিক করে দেবো? তোমরা ঠিক করে আমাকে জানাও। আমি নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) জানাবো।’
এর মধ্যে সভাস্থলে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন প্রবেশ করলে তাদের প্রতি ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সরকার খেটেখুটে যে সুনাম অর্জন করে, তা ছাত্রলীগের একদিনের অপকর্মেই ধ্বংস হয়ে যায়।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘সিলেটে আমরা আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহের মতো একটি বড় কর্মসূচি পালন করে আসলাম। এরপরই সেখানে ছাত্রলীগের গণ্ডগোলে দুই জন মারা গেলো। এটি আমাদের দলের জন্য দুর্নাম।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের কারণেই আওয়ামী লীগ বারবার ক্ষমতা হারায়।’
দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওবায়দুল কাদের এভাবে প্রায় ১০ মিনিট ধরে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রতি বিষোদগার করেন। পরে তিনি মেয়াতোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের নির্দেশ দেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো ‘ঐতিহাসিক দলিলে’র স্বীকৃতি দেওয়ায় সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে এই সভায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শোয়ার ঘরে মায়ের, সিঁড়িতে ছেলের গলাকাটা লাশ

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর কাকরাইলে করিম টাওয়ারে মা ও তাঁর ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর রাতে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন ওই ভবনের মালিক আবদুল করিমের স্ত্রী শামসুন্নাহার (৪৪) ও সন্তান সাজ্জাদুল করিম শাওন (২০)। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহকর্তা, গৃহকর্মী ও দারোয়ানসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

গতকাল রাতে কাকরাইলে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম রোডে ৭৯/১ হোল্ডিংয়ের ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার নিজ ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে শামসুন্নাহার করিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। আর চারতলার সিঁড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর ছেলে শাওনের লাশ। সিঁড়িতে লাশের পাশে একটি রক্তমাখা ছুরি পড়ে ছিল। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সিঁড়ি ও বেডরুমে দেখা গেছে জমাট বাঁধা চাপ চাপ রক্ত। পঞ্চম তলা থেকে নিচতলা পর্যন্ত সিঁড়ির বিভিন্ন স্থানে রক্তের ছোপ রয়েছে। বাসার ভেতর থেকে কোনো মালামাল লুট করা হয়নি।

জানা গেছে, আবদুল করিম আমদানি-রপ্তানি (মুদি মালামাল) ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। রাজধানীর শ্যামবাজারে তাঁর একটি আড়ত রয়েছে। চলচ্চিত্র প্রযোজনা ব্যবসায়ও যুক্ত তিনি। তাঁর তিন ছেলের মধ্যে শাওন সবার ছোট। শাওন উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘ও’ লেভেলে পড়তেন। বড় দুই ছেলের মধ্যে মুন্না ইংল্যান্ডে ও অনিক কানাডায় থাকেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা থানার ওসি কাজী মাঈনুল হক বলেন, সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ করতে সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। খবর পেয়ে উত্সুক লোকজনও বাসার সামনে ভিড় জমায়। পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আলামত সংগ্রহ করার পর রাত পৌনে ১১টার দিকে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ওই বাসার গৃহকর্মী রাশেদা বেগম, দারোয়ান আবদুল নোমান ও ভবনটির নিচতলায় গার্মেন্ট অ্যাসোসিয়েট কম্পানির কর্মচারী স্বপনকে আটক করেছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডিবি পুলিশের একটি টিম গৃহকর্তা আবদুল করিমকে নিয়ে যায়। আটক সবাইকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আটক গৃহকর্মী রাশেদা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাগরিবের নামাজের পরপরই বাসায় এসে রান্না করছিলাম। খালাম্মা নামাজ পড়ছিলেন। হঠাৎই বাইরে থেকে কিচেনের দরজা আটকে দেওয়া হয়। এ সময় আমি চিত্কার করে বলতে থাকি—খালাম্মা, দরজা বন্ধ করলেন কেন, দরজা খোলেন! কিন্তু কারো কোনো সাড়া পাইনি, কেউ দরজাও খুলে দেয়নি। একপর্যায়ে খালাম্মার চিত্কার শুনতে পাই। শাওন আরেকটি কক্ষে ছিল। সে মায়ের চিত্কার শুনে এগিয়ে এলে খালাম্মা তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। মিনিট দশেক পর দারোয়ান নোমান বাসায় এসে দরজার ছিটকিনি খুলে আমাকে কক্ষ থেকে মুক্ত করে। ’

আটক স্বপন জানান, সন্ধ্যার পর তিনি অফিসে কাজ করছিলেন। এ সময় দারোয়ান এসে দরজায় নক করে। দরজা খুললে সে বলে—স্বপন ভাই, ওপরে চলেন; পাঁচতলায় খুন হইছে। তখন তাঁরা ওপরে গিয়ে দেখেন, চতুর্থ তলার সিঁড়িতে শাওনের গলাকাটা লাশ পড়ে আছে। হাতেও ধারালো অস্ত্রের কোপের আঘাত রয়েছে। পাঁচতলার ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখেন শাওনের মা একটি কক্ষে বেডের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে আছেন। তাঁরও গলা কাটা। পাশে জায়নামাজ বিছানো। রুমের মেঝে রক্তাক্ত।

দারোয়ান নোমান বলেন, ‘ঘটনা দেখে আমরা শাওনের বাবা আবদুল করিমের মোবাইল ফোনে কল করে সব জানাই। তিনি আশপাশেই কোনো একটি অফিসে ছিলেন। তাড়াতাড়ি বাসায় ছুটে আসেন তিনি। পরে থানায় ফোন করলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। ’

নোমান জানান, সন্ধ্যার পর এক যুবক ওপর থেকে চিত্কার করতে করতে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছিল। নিচে নেমে সে তাঁকে বলে—ওপরে ঝগড়া বাধছে, তাড়াতাড়ি ওপরে যান। তিনি পাঁচতলায় যাওয়ার পথে চারতলার সিঁড়িতে শাওনের গলাকাটা লাশ এবং রুমে গিয়ে তাঁর মায়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিচে নেমে ওই যুবককে না পেয়ে বিষয়টি গার্মেন্ট অ্যাসোসিয়েট কম্পানির কর্মচারী স্বপনকে জানান। ঘটনার সময় ওই বাসার কাজের মেয়েকে রান্নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে দরজা খুলে তাঁকে বের করা হয়।

ডিএমপির জয়েন্ট কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। বাড়ির মালিক আবদুল করিমের ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে কারো সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চাঞ্চল্যকর অন্য মামলাগুলোর মতোই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য শিগগির উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। ’

ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আটক চারজনকে গত রাত ১২টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। আলামত ও হত্যার ধরন দেখে মনে হচ্ছে পরিকল্পিতভাবেই মা ও ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। বাসার দরজা ও গেট কেন খোলা ছিল তা নিয়েও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শামসুন্নাহার ব্যবসায়ী করিমের প্রথম স্ত্রী। বছরখানেক আগে করিম আরেকটি বিয়ে করেছেন। সেই স্ত্রীকে নিয়ে তিনি অন্যত্র থাকেন। মাঝেমধ্যে এই বাসায় আসেন। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে পারিবারিক কোনো ঝামেলার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। পারিবারিক কলহ নাকি বাইরের কেউ অন্য কোনো কারণে দুজনকে হত্যা করেছে তা জানার চেষ্টা চলছে। গৃহকর্তা আবদুল করিমসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ’

আবদুল করিমের দূর সম্পর্কের আত্মীয় আবদুল বাসেত বলেন, ‘আমার জানামতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না। করিম অনেক সম্পত্তির মালিক। শামসুন্নাহার খুবই ধার্মিক ছিলেন। আত্মীয়-স্বজন ছাড়া বাইরের কারো সঙ্গে তিনি তেমন একটা কথা বলতেন না। আর শাওন ছিল শান্ত প্রকৃতির ছেলে। ’

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শামসুন্নাহার এ বছরই পবিত্র হজব্রত পালন করেছেন। তাঁর বাসায় মাঝেমধ্যে বোরকা পরিহিত মহিলারা আসতেন। অন্য পাশের খালি ফ্ল্যাটে তাঁরা থাকতেন বলেও আমরা তথ্য পেয়েছি। খুনিদের শনাক্ত করতে আশপাশের ভবন, অফিস ও রাস্তার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ’

পেছনের ছয়তলা ভবনটির মালিকও আবদুল করিম। ওই ভবনের নিচতলায় ফেরদৌস টেইলার্সের কারখানা রয়েছে। আর ভবনের ছাদের চারটি কক্ষ ‘ব্যাচেলর’দের কাছে ভাড়া দেওয়া। ওই টেইলার্সের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, ‘আমাদের কারখানায় প্রায় বিশজন কর্মচারী কাজ করেন। ঘটনার সময় তাঁরা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরে আমরা ঘটনা জানতে পারি। বাসায় প্রবেশের গলির মুখে বেশ কয়েকটি চায়ের দোকান রয়েছে। নির্মাণাধীন ভবনও রয়েছে। কিন্তু ঘটনাটি কেউই আঁচ করতে পারেনি। ’ পেছনের ভবনের এক বাসিন্দা জানান, এই দুটি ভবনের কলাপসিবল গেট সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সারাক্ষণ খোলা থাকে। নোমানই একমাত্র দারোয়ান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিমান হামলার টার্গেট ছিল গণভবন! জঙ্গি বিল্লালের স্বীকারোক্তি

অনলাইন ডেস্ক : টার্গেট ছিল গণভবন। বিমানের এয়ারক্রাফট নিয়ে সরাসরি গণভবনে আঘাত করার মতো ভয়ঙ্কর ছক তৈরি করে কাজ করছিল নব্য জেএমবির জঙ্গিরা।
হামলা বাস্তবায়নের জন্য এরই মধ্যে তারা কয়েক দফায় রেকিও সম্পন্ন করে। নব্য জেএমবির শীর্ষ জঙ্গি নিহত সারোয়ার জাহান ওরফে ফরহাদ, আবদুল্লাহ এবং গ্রেফতার পাইলট সাব্বির এনামসহ শীর্ষ জঙ্গিরা প্রায়ই এ নিয়ে বৈঠক করতেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন দারুস সালাম থানায় ৮ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার মো. বিল্লাল হোসেন। অন্যদিকে বিল্লালের দেওয়া তথ্যের বিষয়টি উল্লেখ করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পাইলট সাব্বিরসহ গ্রেফতার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছেন। পরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবিবের আদালত সাব্বিরকে সাত দিন, সুলতানা পারভীনকে পাঁচ দিন ও বাকি দুজনকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ১০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার সম্রাট মিয়া এবং শাহাদাত হোসেন ওরফে আমির হামজাকেও এই মামলায় ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়েছে র‌্যাব। সূত্র বলছে, জঙ্গি সম্পৃক্ততায় বাংলাদেশ বিমানের পাইলটের নাম আসায় প্রতিষ্ঠানটির অনেক কর্মচারী উদ্বিগ্ন। অফিসের সহকর্মী হওয়ার কারণে অনেকের সঙ্গে পাইলট সাব্বির এনামের সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন সময় কথোপকথন ঘিরেই তাদের যত আতঙ্ক। তবে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পরই তারা সাব্বিরকে গ্রেফতার করেছেন। বাংলাদেশ বিমান কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কেউ উগ্রপন্থা বা নাশকতার চেষ্টায় জড়িত থাকলে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের পরই তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে অনেকেই সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সূত্র। আদালত সূত্র বলছে, ৩০ অক্টোবর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিহত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিল্লাল বলেছেন, ‘আবদুল্লাহ ভাই যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, সেই ফ্ল্যাটে বাড়ির মালিক আজাদ ও তার স্ত্রী আসতেন। মাঝে মাঝেই তারা ছাদে গিয়ে গল্প করতেন। আবদুল্লাহ ভাইও মাঝে মাঝে বাড়ির মালিকের বাসায় যাতায়াত করতেন। আজাদের স্ত্রী একবার কামালের মাধ্যমে সংগঠনের জন্য ৩০ হাজার টাকা আবদুল্লাহ ভাইকে দিয়েছিলেন। আবদুল্লাহ ভাই আমাকে বলেছিলেন, আজাদ সাহেবের স্ত্রী সংগঠনের খরচের জন্য তাকে প্রতি মাসে টাকা দিতেন। আজাদ সাহেবের মেয়ে স্নিগ্ধাও মাঝেমধ্যে আবদুল্লাহ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। তিনি আবদুল্লাহ ভাইয়ের সবকিছু জানতেন। আজাদের স্ত্রীর ভাইয়ের ছেলে আসিফও প্রায় সময় আবদুল্লাহ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। আবদুল্লাহর সঙ্গে আসিফের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আসিফ একবার একটি নাইনএমএম পিস্তল তার এক বন্ধুর কাছ থেকে বিক্রির জন্য এনে আবদুল্লাহ ভাইকে দিয়েছিলেন। ওই পিস্তলটির দাম ৭০ হাজার টাকা। ’ জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেছেন, ‘আবদুল্লাহ ভাই, সারোয়ার জাহান ওরফে ফরহাদ এবং সাব্বিরসহ আরও অনেকে পরিকল্পনা করেন, বিমান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হামলা চালাবেন। নইলে যাত্রীসহ বিমান সিরিয়াতে নিয়ে যাবেন। অল্প সময়ের মধ্যে সাব্বিরের তার অফিস থেকে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা। ওই টাকার পুরোটাই তিনি সংগঠনের কাজে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ’ ২৬ অক্টোবর নিহত আবদুল্লাহর সহযোগী বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাইলট সাব্বিরসহ চারজনকে সোমবার বিকাল থেকে মঙ্গলবার বেলা ১১টার মধ্যে গ্রেফতার করে র‌্যাব। র‌্যাব বলছে, চারজনই দারুস সালামের ‘কমল প্রভা’ নামক বাড়িতে আত্মঘাতী জেএমবি সদস্য আবদুল্লাহর সহযোগী। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন বাড়ির মালিক হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদের ছেলে পাইলট সাব্বির, আজাদের স্ত্রী সুলতানা পারভীন, সুলতানার ভাইয়ের ছেলে আসিফুর রহমান আসিফ এবং নিহত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চা-দোকানি আলম। চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘গ্রেফতারদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছি আমরা। ’ র‌্যাব জানিয়েছে, সাব্বির ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি থেকে উড়োজাহাজ চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। তিনি স্পেন ও তুরস্ক থেকেও বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রিজেন্ট এয়ারওয়েজে চাকরি করেন তিনি। ওই বছরই তিনি বাংলাদেশ বিমানে পাইলটের চাকরি নেন। বিমানের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে সাব্বির বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজ চালাতেন। ৩০ অক্টোবর তিনি ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেন। প্রসঙ্গত, চলতি বছর ৪ সেপ্টেম্বর রাতে মিরপুর মাজার রোডের বর্ধনবাড়ী এলাকায় ‘কমল প্রভা’ নামের বাড়িতে অভিযান চালায় র?্যাব। অভিযান চলার সময় ওই বাড়ির পঞ্চম তলায় ‘জঙ্গি আস্তানায়’ ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফোরণ হয়। এতে আবদুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও দুই সহযোগী আত্মাহুতি দেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest