সর্বশেষ সংবাদ-
আশাশুনির এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলাদ্রুত বিচার আইনের মামলায় জামায়াত নেতা আজহারুজ্জামান ‍মুকুল কারাগারেসাংবাদিক সামিউল মনিরের উপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনশ্যামনগরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতির উপর হামলা: আটক -০২তালার নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা ভূগর্ভ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের শীর্ষে আশাশুনিদীর্ঘ দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষ : কাঁকড়া আহরণ অনুমতি পেলো বনজীবীরাসাতক্ষীরা কারাগারে হাজতির মৃত্যুনার্সিং ভর্তি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় মায়ের বকুনিতে ছাত্রীর আত্ম#হত্যাশ্যামনগরে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতা ও তার পরিবারকে হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন

ডুবতে ডুবতে বেঁচে গেল ৩৫ রোহিঙ্গা

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় গত ১৫ অক্টোবর সর্বশেষ নৌকাডুবির ঘটনায় ১৪ মরদেহ উদ্ধারের দশদিন পার না হতেই আবারও ডুবতে থাকা নৌকা থেকে ৩৫ রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।

বুধবার ভোর ৪টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া এলাকায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাটি।

 এ ঘটনায় উদ্ধার ৩৫ নারী, শিশু ও পুরুষকে স্থানীয় দাংগরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে। এটি ছাড়াও রোহিঙ্গা বোঝাই আরো কয়েকটি নৌকা এসেছে বলে দাবি করেছেন উদ্ধারকৃতরা।

স্থানীয় আবদুল মাবুদ ও হুমায়ুন রশীদ জানিয়েছেন, ফজরের নামাজের আগে শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় একটি নৌকা চরে আটকে ডুবে যাচ্ছে বলে খবর আসে। এটি জানার পরই স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা ডুবন্ত নৌকাটি থেকে রোহিঙ্গা নারী-শিশুদের দ্রুত নামিয়ে আনতে সক্ষম হওয়ায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায় বেশ কয়েকজন নারী ও শিশু।

টেকনাফ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন খান স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজাউল করিমের বরাত দিয়ে বলেন, নৌকাটি চরে এসে আটকা পড়ে ডুবে যাচ্ছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে কূলে নিয়ে আসে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিয়ানমারের মংডুর শহরের দংখালী গ্রাম থেকে ছেড়ে আসা একটি নৌকা বাংলাদেশ সীমানায় এসে সর্বশেষ ডুবেছিল। এ ঘটনায় ১৪ নারী-শিশু ও পুরুষের মরদেহ পাওয়া যায়। ওই নৌকায় ৬০-৬৫ জনের মতো রোহিঙ্গা ছিল যার মধ্যে প্রায় ৩০ জন শিশু। নৌকাডুবির পর বিভিন্ন ভাবে জীবিত পাওয়া যায় ২১ জনকে। তার মধ্যে শিশু ছিল সাতজন। বাকিদের হদিস আর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, গত ২৯ আগস্ট থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত নাফ নদী ও সাগরে রোহিঙ্গা বোঝাই ছোট-বড় ২৬ নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮৫ জন রোহিঙ্গা। অন্যজন বাংলাদেশি নৌকার মাঝি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রক্তাক্ত মেসির পোস্টার ছড়িয়ে বিশ্বকাপে হামলার হুমকি আইএসের

ইকুয়েডরের বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনার সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেন মেসি। এরপর থেকেই ভক্ত-সমর্থকদের চাওয়া রাশিয়ায় বিশ্বকাপের স্বাদ নিবেন পাঁচবারের বর্ষসেরা এই খেলোয়াড়। তবে এরই মধ্যে এক চোখ দিয়ে রক্ত ঝরে পড়ছে মেসির এমনই ভয়াবহ ছবিসহ পোস্টার ছড়াল ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

শুধু মেসির পোস্টারই নয় সেই সঙ্গে আসন্ন ২০১৮ রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপে ভয়াবহ হামলা চালানোর হুমকিও দিয়েছে সন্ত্রাসী জঙ্গি সংগঠনটি। আইএসের মুখপত্র ওয়াফা মিডিয়া ফাউন্ডেশন পোস্টার সহ মেসির এই ছবি প্রকাশ করেছে । তাদের দেওয়া পোস্টারসহ হুমকি প্রকাশ করেছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।

শুধু মেসির রক্তাক্ত ছবি নয়, ভয়াবহ আরও ছবি ছড়িয়েছে সংগঠনটি। কোনও ছবিতে দেখা গেছে বিশাল স্টেডিয়ামের বাইরে সশস্ত্র এক জঙ্গি। যে কোনও মুহূর্তেই সেই জঙ্গি আত্মঘাতী হামলা চালাতে তৈরি। কোনও ছবিতে দেখা গিয়েছে, রক্তাক্ত চপার ও পিস্তলসহ ছবি। আর বিশ্বকাপের লোগোসহ এ ছবি দিয়ে আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপে হুমকির কথাই জানান দিচ্ছে সন্ত্রাসী জঙ্গি সংগঠনটি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জিম্বাবুয়েকে বড় ব্যবধানেই হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বিশ্বরেকর্ড তাড়া করে জিততে হতো। একটা সময় পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ভয়ের মধ্যেই রেখেছিল জিম্বাবুয়ে। তবে শেষরক্ষা হলো না। বুলাওয়ে টেস্টের একদিন বাকি থাকতেই স্বাগতিকদের ১১৭ রানে হারিয়ে দিল সফরকারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়ার রেকর্ডটি ৪১৮ রানের। ২০০৩ সালে সেন্ট জোন্সে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই রান তাড়া করে ৩ উইকেটে জিতেছিল ক্যারিবিয়রা। জিম্বাবুয়েকে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছ থেকে বিশ্বরেকর্ড ছিনিয়ে নিতে তার চেয়ে ১৬ রান বেশি করতে হতো, লক্ষ্যটা ছিল ৪৩৪ রানের।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্তই ছিল জিম্বাবুয়ের। দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা আর সোলেমন মিরে মিলে গড়েন ৯৯ রানের জুটি। মাসাকাদজা হাফসেঞ্চুরি (৫৭) করার পর এই জুটিটি ভেঙে দেন ক্রেইগ ব্রেথওয়েট।

পরের ওভারেই আরেক ওপেনার সলোমন মিরেকে জেসন হোল্ডার বোল্ড করে দিলে ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। মিরে আউট হন ৪৭ রানে। এরপর দারুণ এক হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ব্রেন্ডন টেলর (৭৩)। একটা পর্যায়ে তো ৪ উইকেটেই ২১৯ রান তুলে ফেলেছিল স্বাগতিকরা।

শেষদিকে এসে মুড়ি মুড়কির মত জিম্বাবুয়ের উইকেট তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ উইকেট জুটিতে কাইল জারভিস আর ক্রিস্টোফার এমপুফু ৫৩ রান তুলে হারের ব্যবধানটাই যা কমিয়েছেন। জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়েছে ৩১৬ রানে। দেবেন্দ্র বিশু নিয়েছেন ৪টি উইকেট।

প্রসঙ্গত, প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বেশ চেপে ধরেছিল জিম্বাবুয়ে। ২১৯ রানেই তাদের গুটিয়ে দিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে জবাব দিতে নেমে জিম্বাবুয়ের ইনিংসও থেমে যায় ১৫৯ রানে। এরপর রস্টন চেজের ৯৫ আর ক্রেইগ ব্রেথওয়েটের ৮৬ রানে ভর করে ৩৭৩ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে বিশেষ দূত নিয়োগ কানাডার

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে বিশেষ দূত নিয়োগ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত সোমবার কানাডার পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য বব রায়ে এ নিয়োগ পান।

একটি বিবৃতিতে ট্রুডো আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করে দুই কোটি মার্কিন ডলার দেবে কানাডা।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মিয়ানমারে নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটের আশু সমাধানের লক্ষ্যে চাপ দেবেন বব রায়ে। রোহিঙ্গা মুসলিমসহ বিভিন্ন বিপন্ন জনগোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরবেন তিনি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতাসংস্থার সম্মেলনে এ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

মিয়ানমারে সহিংসতায় আক্রান্ত ও বাস্তুচ্যুত লোকজনকে কীভাবে সর্বোচ্চ সহায়তা করা যায় সে বিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেবেন বব।

ট্রুডো বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এক্ষেত্রে বিশেষ করে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্মম গণহত্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটা মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং এর দায় মিয়ানমারের সেনা নেতৃত্ব ও সরকারকেই বহন করতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, কানাডা কিছু শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার কথা ভাবছে।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে ছয় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনা ও নিন্দার মুখে পড়েছে দেশটি। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হলেও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ঢল থেমে নেই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ক্যাসিনো-কাণ্ডে তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে তদন্ত

দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজের পর ওয়ানডে সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। এমন বাজে পারফরম্যান্সে টাইগার-ভক্তরা যখন শোকে বিহ্বল, ঠিক তখনই তাসকিন আহমেদ, শফিউল ইসলাম আর নাসির হোসেনের ক্যাসিনো-কাণ্ডে বিস্মিত দেশের ক্রিকেটাঙ্গন।

গত রবিবার ইস্ট লন্ডনে শেষ ওয়ানডে ২০০ রানে শোচনীয়ভাবে হেরে যাওয়ার ঘণ্টাখানেক পর তিন ক্রিকেটার চলে যান একটি ক্যাসিনোতে। রাত ১০টার মধ্যে হোটেলে ফেরার কথা থাকলেও তারা ফিরেছেন রাত সাড়ে ১০টার পর।

তাসকিন-শফিউল-নাসিরের এমন আচরণে বিব্রত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবির ভেঙে দেওয়া কমিটির সভাপতি নাজমুল হাসান তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বিসিবি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘টিম ম্যানেজারের লিখিত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলা যাবে না। একজন খেলোয়াড় হলে কিছু করা যেতো। কিন্তু তিনজন খেলোয়াড় বলে এখনই কিছু বলছি না। অবশ্যই বিষয়টা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে নাজমুল হাসানের ধারণা, তিন ক্রিকেটার ক্যাসিনোতে গেলেও জুয়া খেলেননি! এ বিষয়ে তার বক্তব্য, ‘এটা নিউজ হওয়ার মতোই ঘটনা, কারণ ওরা ক্যাসিনোতে গেছে। কিন্তু ক্যাসিনোতে মানুষ যায় খেলতে, কিন্তু ওরা খেলতে যায়নি। সবাই বলছে ওরা খেলেনি।’

তাসকিন-শফিউল-নাসিরের সঙ্গে ক্যাসিনোতে যান দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং কাগিসো রাবাদাও। পুরো ঘটনাটা নাজমুল  হাসান বর্ণনা করেছেন এভাবে, ‘খবরটা পেয়েছি আজ (মঙ্গলবার) বোর্ডে এসে। খেলোয়াড়রা রাত ১০টার পর বাইরে থাকতে পারে না। টিম হোটেলের সামনেই একটা শপিং মল আছে। সেখানে নাকি খেতে গিয়েছিল ওরা। যাওয়ার পর ডি ভিলিয়ার্স ও রাবাদার সঙ্গে দেখা হয় ওদের। সবাই গল্প করে, ডি ভিলিয়ার্স-রাবাদার সঙ্গেই ওরা ক্যাসিনোয় যায়। রাত ১০টার মধ্যে ফেরার কথা থাকলেও সাড়ে ১০টার পর হোটেলে পৌঁছায়। এখন সিরিজ চলছে, তাছাড়া টিম ম্যানেজারের রিপোর্টও পেতে হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এবার টাইগারদের সঙ্গে টিম ম্যানেজার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় গেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তবে ঘটনাটি ঘটেছে নান্নুর অগোচরে। সোমবার ব্লুমফন্টেইনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে রবিবার রাতে ক্রিকেটারদের কয়েক ঘণ্টা ছুটি দিয়েছিলেন তিনি। হোটেলে ফেরার শেষ সময় ছিল রাত ১০টা।

২০১৫ বিশ্বকাপের মাঝপথে হোটেলে রাতে দেরি করে ফেরার কারণে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছিলেন পেসার আল আমিন হোসেন। সেবার অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাসিনোতে গিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সম্মত মিয়ানমার; কফি আনান রিপোর্ট বাস্তবায়নেও রাজি

মিয়ানমার সেদেশের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার কফি আনান রিপোর্ট বাস্তবায়নেও সম্মত হয়েছে।

এ ব্যাপারে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ ৩০ নভেম্বরের মধ্যে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করবে। আজ মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে দু’দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। খবর বাসসের।

মিয়ানমারের রাজধানী থেকে পাওয়া এক বার্তায় জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের আজ সকাল ১০টায় (স্থানীয় সময়) মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে মিয়ানমারে সরকারি সফরে রয়েছেন।

দু’দেশের মধ্যেকার আজকের বৈঠকের শিরোনাম ছিল ‘মিয়ানমার-বাংলাদেশ সহযোগিতা : নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগে মন্ত্রিপর্যায়ে বৈঠক’। আলোচনায় নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ ইস্যুসহ বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে সহযোগিতার বিষয় স্থান পায়।
সভায় উভয়পক্ষ দু’টি সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) স্বাক্ষর করে বলে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফ মাহমুদ অপুর পাঠানো বার্তায় বলা হয়।

এর আগে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পদস্থ কর্মকর্তারা সচিব পর্যায়ে এক সভায় মিলিত হন।
এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন বাংলাদেশ পক্ষের নেতৃত্ব দেন। মিয়ানমারের সচিব ইউন টিন মায়েন্ট তার দেশের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ১২ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল নিয়ে গতকাল মিয়ানমারে ৩ দিনের সরকারি সফরে গেছেন। এ সফরকালে রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে তারা আলোচনা করবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুই বাংলাদেশি হেপাটাইটিস ‘বি’ চিকিৎসার ওষুধ উদ্ভাবন করলেন

হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় বাংলাদেশি দুজন গবেষক অধিক কার্যকর ও উন্নততর ওষুধ উদ্ভাবন করেছেন। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন পেলে আগামী বছরের শুরুতেই এটি বাজারে আসবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মামুন-আল-মাহতাব এবং জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য নতুন ধরনের এই ওষুধ ‘ন্যাসভ্যাক’ উদ্ভাবন করেন। এ দেশেরই একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওষুধটি প্রস্তুত ও বাজারজাত করবে। বাজারে প্রচলিত হেপাটাইটিস বি’র অন্যান্য ওষুধের তুলনায় এর দাম কম এবং সহজলভ্য হবে।

অধ্যাপক ডা. মামুন-আল-মাহতাব বাসসকে বলেন, ‘ন্যাসভ্যাক কোনো জাদুকরি ওষুধ নয়। কিন্তু এই ওষুধের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত শতকরা ৫০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। আর লিভারের প্রদাহে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় আরোগ্য লাভের হার শতভাগ।

ডা. মাহতাব এই ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রধান পরীক্ষক এবং ডা. আকবর এই ওষুধ উদ্ভাবনের জন্য মৌলিক গবেষণা সম্পন্ন করেন।

জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আকবর ২৫ বছর ধরে হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে, হেপাটাইটিস বি’র বিরুদ্ধে মানুষের নিজের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিয়ে ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণ করা।

ডা. আকবর প্রথমে ইঁদুরের ওপর গবেষণা করেন। পরে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে হেপাটাইটিস বি রোগীদের ওপর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করেন। পরবর্তী সময়ে আরো গবেষণার জন্য ডা. মাহতাব বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার হেপাটাইটিস ‘বি’ রোগীর ডেটাবেস তৈরি করেন।

২০০৯ সালে বাংলাদেশে ১৮ জন ক্রনিক হেপাটাটিস ‘বি’ রোগীর ওপর ‘ন্যাসভ্যাক’-এর প্রথম ও দ্বিতীয় দফা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালিত হয়। এতে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়ায় ২০১১ সালে পুনরায় ১৫১ জন রোগীর ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়।

তৃতীয় দফায় এই ১৫১ জন ক্রনিক হেপাটাইটিস ‘বি’ রোগীকে দুই দলে ভাগ করে তাদেরকে যথাক্রমে ‘ন্যাসভ্যাক’ ও পেগাইলেটেড ইন্টারফেরনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। ট্রায়ালটিতে সর্বমোট ৭৫ জন রোগীকে মোট ১৫ বার ‘ন্যাসভ্যাক’ আর অন্য ৭৬ জন রোগীকে মোট ৪৮ বার পেগাইলেটেড ইন্টারফেরন প্রয়োগ করা হয়।

ডা. মাহতাব বলেন, ‘এ পরীক্ষায় দেখা যায় ন্যাসভ্যাক পেগাইলেটেড ইন্টারফেরন-এর চেয়ে অধিক কার্যকর।’ তিনি বলেন, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে এর চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল দেওয়া হয়েছে।

ডা. মাহতাব বলেন, কিউবার ওষুধ প্রশাসন এরই মধ্যে ন্যাসভ্যাককে অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি বেলারুশ, ইকুয়েডর, নিকারাগুয়া ও এঙ্গোলাতেও হেপাটাইটিস বি’র চিকিৎসায় ন্যাসভ্যাক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

বর্তমানে হেপাটাইটিস ‘বি’ সংক্রমণ থেকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ করে তোলার মতো কোনো ওষুধ নেই। চিকিৎসকরা এ রোগের চিকিৎসার জন্য প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির আশ্রয় নেন। যাতে এসব রোগী ধীরে ধীরে সংক্রমণ থেকে আরোগ্য লাভ করে এবং লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারের মতো রোগে আক্রান্ত না হয়।

ডা. মাহতাব বলেন, এমনকি এ ধরনের চিকিৎসাও দীর্ঘদিন কোনো রোগীর ওপর প্রয়োগ করলে তার নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে ন্যাসভ্যাক-এর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে এটি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে অনেক বেশি কার্যকর। তিনি বলেন, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় আরো প্রমাণিত হয়েছে যে, ন্যাসভ্যাক কেবলমাত্র হেপাটাইটিস বি’র চিকিৎসার জন্যই কার্যকর নয়, যে কোনো ক্রনিক ইনফেকশনের জন্যও এটি কার্যকর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দুই কোটি ৪০ লাখ লোক ক্রনিক হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত।

একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার উল্লেখ করে ডা. মাহতাব বলেন, ‘দেশে পাঁচ কোটির বেশি লোক হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। এদের মধ্যে ৮০ লাখ লোক ক্রনিক হেপাটাইটিস ‘বি’ দ্বারা সংক্রমিত এবং তাদের লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী গিরিজা দেবী আর নেই

ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী গিরিজা দেবী মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বুকে ব্যথা হওয়ায় সকালে গিরিজা দেবীকে বিএম বিরলা নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

গিরিজা দেবী জীবদ্দশায় ‘ঠুমরির রানি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ১৯৪৯ সালে অল ইন্ডিয়া এলাহাবাদ রেডিওতে পরিবেশনার মাধ্যমে গিরিজা দেবীর আত্মপ্রকাশ। তিনি ভারত সরকারের পদ্মশ্রী (১৯৭২), পদ্মভূষণ(১৯৮৯) ও পদ্মবিভূষণ(২০১৬) সম্মাননা পেয়েছেন।

গিরিজা দেবী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ধ্রুপদী উৎসবে বিভিন্ন সময় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে শ্রোতাদের মন জয় করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest