সর্বশেষ সংবাদ-
কলারোয়ায় মিনি স্টেডিয়াম ও বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি হাবিবুল ইসলাম হাবিবেরসাতক্ষীরার ৩২৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারশ্যামনগরে জনসভা- গণমিছিলের মধ্য দিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুতালা–কলারোয়ার উন্নয়নে ঐক্যের ডাক হাবিবুল ইসলাম হাবিবেরআদালত চত্বরে কেরোসিন ঢেলে মাটি চাপা দেওয়া হলো জব্দকৃত হরিণের মাংসসাংবাদিক আকরামুলের উপর হামলা : সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দাপাইকগাছায় বাসস চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীনের উদ্যোগে দশ গ্রামের দুস্থদের মাঝে তিন সহস্রাধিক কম্বল বিতরণবিএনপি থেকে ডা: শহীদুল আলম বহিস্কারসংগ্রামের গল্পে ঢাবি জয় দিহানেরতালায় লার্নিং শেয়ারিং ওয়ার্কশপ

আফগানিস্তানে দুই মসজিদে হামলা : নিহত বেড়ে ৭২

আফগানিস্তানের দুটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার এসব হামলা হয়।

দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, প্রথম আত্মঘাতী হামলাটি হয় রাজধানী কাবুলে শিয়া মুসলিমদের একটি মসজিদে।

ওই মসজিদের মুসল্লি মাহমুদ শাহ হুসাইনি জানান, রাতে নামাজের সময় এক আত্মঘাতী হামলাকারী মসজিদে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাজিব দানিশ জানান, কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলীয় দাশত-ই-বারচি জেলায় ইমাম জামান মসজিদে ওই হামলায় কমপক্ষে ৩৯ জন নিহত হয়। এই হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো পক্ষ।

আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি বেশ কিছু হামলার শিকার হয়েছে শিয়া মুসলিমরা। বেশির ভাগ হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট তথা আইএস।

পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, দেশটির ঘোর প্রদেশের প্রাণকেন্দ্রে একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৩৩ জন নিহত হয়।

বালখ প্রদেশের গভর্নর আতা মোহাম্মদ নূরের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় জমিয়ত পার্টির নেতাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

এই হামলাটিরও দায় স্বীকার করেনি কোনো পক্ষ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৯ মাসের শিশুর ওজন ৩০ কেজি!

বয়স মাত্র ৯ মাস। আর ওজন ৩০ কেজি।
অবিশ্বাস্য শোনালেও এটাই বাস্তব মেক্সিকোর লুইস ম্যানুয়েলের জীবনে। এখনও ঠিক করে কথাও বলে উঠতে পারে না ছোট্ট শিশুটি। কিন্তু ক্রমাগত বেড়ে চলেছে তার ওজন। আর সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে খিদে। সাধারণ শিশুদের থেকে প্রায় ছয় গুণ বেশি খাবার খায় লুইস। আর তাকেই পৃথিবীর সবচেয়ে ভারি শিশু বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা গেছে, জন্ম থেকেই বিরল প্র্যাডার উইলি সিনড্রোমে আক্রান্ত লুইস। এমন শিশুদের ওজন জন্ম থেকেই বেশি হয়। সাধারণ শিশুর থেকে অনেক বেশি খিদে পায় এদের।
ফলে ওজনও সমানতালে বাড়তে থাকে। জন্মের কয়েকদিন পরই লুইসকে দুই বছরের শিশুর পোশাক পরাতে হয়েছে। এখন তার জন্য ৯ বছরের শিশুর পোশাক কিনতে হয় বলে জানিয়েছেন তার বাবা-মা। লুইসের খাবারের জন্যও প্রচুর অর্থ খরচ করতে হয় তাদের। এদিকে তাদের আর্থিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়। অগত্যা পাড়া-প্রতিবেশীর সাহায্যের ভরসায় থাকতে হয়।

গবেষকদের মতে, জিনবাহিত রোগ প্র্যাডার উইলি সিনড্রোম। এর কোনও নিরাময় নেই। এই ধরনের শিশুদের আয়ু খুবই কম হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ওজনের ভার সইতে পারে না এদের শরীর। ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। শতকরা প্রায় ৯০ শতাংশ। কিছুদিন আগেই মৃত্যু হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে স্থূলকায় মহিলা ইমান আহমেদ।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয় ইজিপ্টের আলেকজান্দ্রিয়ার বাসিন্দার। বহু চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি চিকিৎসকরা। লুইসের ক্ষেত্রেও তেমনটাই আশঙ্কা করছেন মেক্সিকোর চিকিৎসকরা। কিন্তু এখনও ছেলের বাঁচার আশা রাখছেন লুইসের বাবা-মা। ছেলেকে আরও ভালো চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন তারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ্বে দূষণজনিত মৃত্যু সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে

বিজ্ঞান সাময়িকী ল্যানসেট বলছে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী ৯০ লাখ মানুষ দূষণের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় বেশিরভাগ মৃত্যু ঘটেছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে এক চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ ছিল দূষণজনিত।

দূষণ থেকে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে বাংলাদেশে। তালিকায় এরপর আছে আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া।

দূষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ধরনের প্রভাব ফেলেছে বায়ু-দূষণ। দূষণজনিত মৃত্যুর দুই তৃতীয়াংশের পেছনে রয়েছে বায়ু-দূষণ।

দূষণজনিত মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম ব্রুনেই আর সুইডেনে।

দূষণজনিত মৃত্যুর বেশিরভাগ হয়েছে দূষণের কারণে সংক্রামক নয় এমন রোগে, যার মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ফুসফুসের ক্যান্সার।

”দূষণের চ্যালেঞ্জ পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের থেকেও বেশি। দূষণ জনস্বাস্থ্যের নানা দিকের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে,” বলছেন এই গবেষণায় জড়িত একজন বিজ্ঞানী, প্রফেসর ফিলিপ ল্যান্ড্রিগান, যিনি নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই-এ ইকান স্কুল অফ মেডিসিনে কাজ করেন।

বায়ু-দূষণ যা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তাতে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে ৬৫ লাখ মানুষ। এর মধ্যে রয়েছে বাইরে থেকে আসা দূষণ যেমন গ্যাস, বাতাসে দূষণ-কণা এবং ঘরের ভেতর কাঠ ও কাঠকয়লা জ্বালানোর ধোঁয়া।

এরপর যেটি সবেচেয়ে বেশি ঝুঁকি সৃষ্টি করছে সেটি হল পানি দূষণ, যার থেকে মৃত্যু হয়েছে ১৮ লাখ মানুষের। এছাড়াও বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রে দূষণ থেকে মারা গেছে ৮ লাখ মানুষ।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দেশগুলোতে। আর এর মধ্যে দূষণের একটা ব্যাপক প্রভাব পড়েছে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটছে যেসব দেশে যেমন ভারতে যে দেশ তালিকায় রয়েছে পঞ্চম স্থানে। চীনও রয়েছে এই তালিকায় ১৬তম স্থানে।

১৮৮টি দেশে দূষণের এই জরিপ ও গবেষণা চালানো হয়েছে।

গবেষণা যারা চালিয়েছেন তার বলছেন উন্নত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের স্থান তালিকায় ৫৫ নম্বরে এবং সেখানে ডিজেল থেকে দূষণের শিকার হচ্ছে বহু মানুষ।

তারা আরও বলেছেন অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দেশগুলোতে দূষণে মৃত্যুর হার বেশি এবং ধনী দেশগুলোর দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

দুবছর ধরে চলা এই গবেষণায় বলা হয়েছে দূষণের সঙ্গে দারিদ্র, অস্বাস্থ্য এবং সামাজিক অবিচারের বিষয়গুলোও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাবরি মসজিদের মতো গুঁড়িয়ে দেয়া হবে তাজমহল!

বাবরি মসজিদের মতোই ধ্বংস করা হতে পারে তাজমহলকেও। এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন ভারতের উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খান। বিজেপি এমপি সুব্রহ্মণ্যম স্বামী জানিয়েছিলেন, চুরি করা জমির উপর তাজমহল তৈরি হয়েছে। তারপরই এমন আশঙ্কা প্রকাশ করলেন উত্তরপ্রদেশের নেতা।

তাজমহল নিয়ে গত কয়েক দিনে অনেক বিতর্ক হয়েছে। বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোমের তাজমহলকে বিশ্বাসঘাতকদের তৈরি ও ভারতের ইতিহাসে কলঙ্ক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তারপর থেকেই চরমে ওঠে বিতর্ক। প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঢেউ বয় গোটা দেশে। আজম খানই জানিয়েছিলেন, সঙ্গীত সোমের মন্তব্য মেনে নিতে হলে রাষ্ট্রপতি ভবনকেও ভেঙে ফেলতে হয়। কেননা সেটিও ইংরেজ শাসকদের তৈরি ও দাসত্বের প্রতীক।

একাধিক নেতা মুখ খোলার পরই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি জানান, তাজমহল ভারতের সন্তানদের ঘাম ও রক্তে তৈরি। কে তা নির্মাণ করেছিলেন সেটা বড় কথা নয়। কী উদ্দেশ্যে তা তৈরি হয়েছিল তাও বিচার্য নয়। এর পর বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালেন বিজেপি এমপি সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। তিনি জানান, যে জমিতে তাজমহল তৈরি হয়েছে, তা আসলে সম্রাট শাহজাহান জয়পুরের রাজার কাছ থেকে হস্তগত করেছিলেন। সেই নথিও তার হাতে আছে বলে জানান তিনি। এরপরই আজম খানের আশঙ্কা, বাবরির পরিণতি হতে পারে এই সৌধের।

তার দাবি, রামমন্দিরের দাবিতে যদি বাবরি ভেঙে ফেলা হতে পারে, তাহলে তাজমহলের নিয়তিও একই হলে তিনি আশ্চর্য হবেন না। কিন্তু দেশে আইন-আদালত আছে। তারপরও ইউনেসকোর স্বীকৃতি পাওয়া এ সৌধকে কি মুছে ফেলা সম্ভব? আজমের যুক্তি, বাবরি কাণ্ডের সময়ও দেশে হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট ছিল। তারপরও তা ভেঙেই ফেলা হয়েছিল। সুতরাং তাজমহলের ক্ষেত্রেও সেই একই জিনিস হতে পারে বলে আশঙ্কা তার।

যদিও ইতিমধ্যেই বিজেপি জানিয়েছে দলীয় বিধায়ক সঙ্গীত সোমের মন্তব্যের সঙ্গে দল সহমত নয়। তাঁর কাছে এহেন মন্তব্যের কৈফিয়তও তলব করা হয়েছে। বার্তা দিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে কখনোই এগনো সম্ভব নয়। এরপরই তাজমহল, আগ্রা ফোর্ট-সহ বেশ কয়েকটি দ্রষ্টব্য স্থান ভ্রমণের কথাও ঘোষণা করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

উল্লেখ্য, বাবরি মসজিদ একটি রামমন্দিরের ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল- এই যুক্তিতে উগ্রপন্থীরা সেটিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অস্ট্রেলিয়ার গহীন মরুতে ১৮শতাব্দীর বাংলা পুঁথি

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে দুর্গম অঞ্চলের প্রায় পাঁচশো কিলোমিটার গভীর মরুভূমিতে বেশ কয়েক বছর আগে হঠাৎ খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল একটি প্রাচীন গ্রন্থ, যাকে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন মনে করে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।

কিন্তু একজন অস্ট্রেলিয়ান-বাংলাদেশি গবেষক সেখানে গিয়ে দেখতে পেলেন এটি আসলে বাংলা ভাষায় লেখা শত বছরেরও আগের একটি পুঁথি।

গবেষক ড: সামিয়া খাতুন এই গবেষণার সূত্র ধরে বিশ শতকের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ায় তৎকালীন বাংলা এবং ভারতবর্ষ থেকে মানুষের অভিবাসনের চমকপ্রদ এক ইতিহাসের সন্ধান পেয়েছেন, যা নিয়ে তার একটি বই শীঘ্রই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে লন্ডন থেকে।

ড: সামিয়া খাতুন বলছিলেন ইতিহাসের বই-এ যখন তিনি ওই কোরআনের কথা পড়েন তখন তিনি তা দেখতে পাড়ি জমিয়েছিলেন সেখানে।

“পাঁচশ কিলোমিটার পথ গিয়ে বইটি খুঁজে বের করার পর খুলে দেখি সেটি কোরআন নয়, বাংলা কবিতা,” বলেছেন ড: সামিয়া খাতুন।

ড: খাতুন তার গবেষণায় দেখেছেন বহু জাহাজী সেসময় ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। উটের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিল বহু বাঙালি। অনেক বাঙালি সেসময় আয়ার কাজ করতে সেখানে গিয়েছিলেন বলে তিনি তার গবেষণায় জেনেছেন।

তিনি বলছেন এরা সেসময় অস্ট্রেলিয়ার গভীরে দুর্গম মরু অঞ্চলে কাজ করতে গিয়েছিলেন।

“প্রথমে লেখাটি ছাপা হয়েছিল ১৮৬১ সালে, পরে এটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে কয়েকবার পুর্নমুদ্রিত হয়ে যে কপিটি আমার হাতে আসে সেটি ১৮৯৫ সালে ছাপা।”

ড: খাতুন এসব মানুষের কাজ ও বসতির সূত্র ধরে অস্ট্রেলিয়ার ব্রোকেনহিল শহরে তাদের প্রথম অভিবাসী হয়ে আসার আগ্রহব্যঞ্জক তথ্য পেয়েছেন।

“এদের অনেকে উট নিয়ে কাজ করতে করতে সেখানে চলে গিয়েছিলেন। তবে সবচেয়ে বেশি লোক জাহাজে কাজ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছিলেন, এরপর যে কোন একটা কাজ জুটিয়ে নিয়ে মরুভূমি এলাকায় বা অস্ট্রেলিয়ার গহীন অঞ্চলে পৌঁছে যান।”

ড: খাতুন বলছেন সেখানে যে মসজিদগুলো ছিল এই লোকেরা সেই মসজিদগুলোতে ঈদের সময় জড়ো হতেন। এভাবেই ব্রোকেনহিলসহ আশপাশের দুর্গম এলাকাগুলোয় তখন বাঙালিদের একটা বসতি গড়ে ওঠে ।

আঠারো এবং উনিশ শতকে বিশ্ব জুড়ে একটা ব্যাপক অভিবাসনের ইতিহাস রয়েছে। পৃথিবীর নানা প্রান্তের লোক সেসময় নানা জায়গায় গিয়ে বসতি গড়ে তুলেছেন।

ড: খাতুন বলছেন ওই একই সময়ে অস্ট্রেলিয়াতেও একই ঘটনা ঘটেছিল।

তিনি বলছেন এই বাঙালি অভিবাসীরা তখন অস্ট্রেলিয়ার গহীন এলাকায় পুঁথিপাঠ করতেন।

“এই বইয়ে যে বাংলা কবিতাগুলো রয়েছে সেগুলো গান করে অন্যদের পড়ে শোনানো হত- যেমনটা প্রাচীনকালে পুঁথিপাঠের ধারা ছিল।”

তিনি বলছেন এর থেকে বোঝা যায় ওই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে বাঙালিদের মধ্যে পুঁথিপাঠের একটা সংস্কৃতি চালু ছিল।

তার গবেষণায় ড: খাতুন দেখেছেন সেখানে ওই সময় একটা বড়সড় বাঙালি জনগোষ্ঠি ছিল বলেই এই পুঁথিপাঠের চর্চা গড়ে উঠেছিল। এছাড়া অন্য দেশ থেকে সেখানে যাওয়া অনেক মানুষ সেই পুঁথিপাঠ শুনতে আসতেন যারা বাঙালি ছিলেন না। তাদের জন্য অনুবাদ করে এইসব কবিতা শোনানো হতো।

ড: খাতুন বলছেন সেইসময় যেসব বাঙালি ওই দুর্গম অঞ্চলে বসতি করেছিলেন তাদের বংশধররা এখনও আছেন।

তিনি বলছেন সেসময় স্থানীয় আদিবাসীদের সঙ্গে এরকম অনেক বাঙালির বিয়ে হয়েছিল। তারা অবশ্যই তখন ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে যাওয়া বাঙালি ছিলেন।

“ফলে তাদের বংশধরদের এখন পাওয়া যায় আদিবাসী অ্যাবোরোজিন সম্প্রদায়ের মধ্যে যেহেতু ওই বাঙালিদের মধ্যে অনেক মিশ্র বিয়ের ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়।”

ড: সামিয়া খাতুন বলছেন সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল এই মিশ্র বিয়ের কারণে ওই প্রত্যন্ত অঞ্চলের অ্যাবোরোজিন সম্প্রদায়ের ভাষায় ঢুকে গেছে বহু বাংলা শব্দ।

“যেমন চাপাটি শব্দকে ওরা বলে জাপাটি, ট্যাংক হয়ে গেছে টাংকি- এরকম বহু শব্দ রয়েছে। তারপর উট নিয়ে যেহেতু তারা কাজ করতেন, তাই উটকে তারা উট বলে।”

তিনি বলছেন সেসময় যে মসজিদগুলো সেখানে ছিল, সেগুলোর কয়েকটা ধ্বংস হয়ে গেলেও কয়েকটা এখনও টিঁকে আছে এবং ওই মরু এলাকা খুবই শুষ্ক হওয়ার কারণে যেগুলো টিঁকে আছে সেগুলোর ভেতরে “সবকিছু এখনও খুব ভালভাবেই টিঁকে আছে।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আগামী সংসদ নির্বাচনে আ. লীগের মনোনয়ন যেভাবে মিলবে

অনলাইন ডেস্ক : পেশিশক্তি ও অর্থবিত্তের অধিকারীরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না। ক্ষমতাসীন দল থেকে মনোনয়ন পেতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই জন-সম্পৃক্ত হতে হবে। একইসঙ্গে মনোনয়ন-প্রত্যাশীকে হতে হবে শিক্ষিত-মার্জিত। থাকতে হবে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও। এসব গুণের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ত্যাগী-অভিজ্ঞ নেতারাই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দৃষ্টিতে মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য হবেন। দলের বিভিন্ন ফোরামে নেতাদের উদ্দেশে এমন কথা জানিয়েছেন খোদ শেখ হাসিনাই। তিনি মনে করেন, আগামী নির্বাচন ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। এ কারণে উল্লিখিত গুণাবলি না থাকলে দলের পক্ষে বিজয়ী হয়ে আসা কঠিন হবে। শেখ হাসিনার একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ক্ষমতাসীন একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, প্রচুর অর্থবিত্ত আছে, কিন্তু এলাকায় পরিচিতি নেই, জনসম্পৃক্ততা শূন্যের কোটায়, কর্মী-সমর্থকদের খোঁজ-খবর রাখেন না, এমন নেতাদের নৌকার মনোনয়ন দেবেন না আওয়ামী লীগ সভাপতি। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সর্বশেষ সভায়ও শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি কাউকে জিতিয়ে আনতে পারব না। এবার যার যার যোগ্যতায় জিতে আসতে হবে।’ ওই সভায় বর্তমান এমপি ও মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের উদ্দেশে দলীয় তিনি আরও বলেছেন, ‘প্রত্যেককে স্ব-স্ব নির্বাচনি এলাকার পুরো ভোটার তালিকা হাতে নিয়ে প্রত্যেক ভোটারের কাছে যেতে হবে। তাদের কাছে ভোট চাইতে হবে। ভোটারদের দরজায় যেতে চিন্তা করা যাবে না, কে কোন দলের।’

কার্যনির্বাহী সংসদের ওই সভায় দলীয় সভাপতি বলেছেন, ‘শুধু উন্নয়নের কথা বলে ভোট আদায় করা যাবে না। ভোট আদায় করতে ভোটারদের সংস্পর্শে যেতে হবে।’ পাশাপাশি প্রত্যেক মনোনয়ন-প্রত্যাশী নেতার কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘একাধিক গুণসমৃদ্ধ প্রার্থীরা এবার মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন। এরমধ্যে যে নেতা বেশি জনসম্পৃক্ত ও কর্মীবান্ধব, তাকেই বেছে নেওয়া হবে।’

জানতে চাইলে ক্ষমতাসীন দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘এবার দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে দু’টি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। একটি হলো, মনোনয়ন-প্রত্যাশী নেতা কতটা জনসম্পৃক্ত। দ্বিতীয়টি হলো, মনোনয়ন-প্রত্যাশী নেতা কতটা স্থানীয় নেতাকর্মী-সমর্থকবান্ধব।’ তিনি বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অন্যতম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায়, এসব বিষয়কে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের ক্ষেত্রে উল্লিখিত গুণাবলি এক রকম বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে।
সূত্র জানায়, এসব গুণ না থাকলে, যত প্রভাবশালী নেতাই হোন, তাকে মনোনয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। কারণ হিসেবে সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল এড়াতে চায় আওয়ামী লীগ।
দলটির নীতি-নির্ধারকরা জানান, বিগত নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব যোগ্যতা তেমন আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে গত নয় বছরে প্রায় প্রত্যেকটি আসনেই দ্বন্দ্ব-কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক নির্বাচনি আসনে নেতাকর্মীরা এমপির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবার এ বিতর্কিত এমপিদের বাদ দেওয়া হবে। কোনোভাবেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিক্ততা সৃষ্টিকারী বর্তমান এমপিরা মনোনয়ন পাবেন না। এবার মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করবেন। এরই অংশ হিসাবে তিনি এমপিদের হুঁশিয়ার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনাদের জনসম্পৃক্ত হতে হবে, কর্মীবান্ধব হতে হবে। এলাকায় বেশি বেশি যেতে হবে।’

সর্বশেষ কার্যনির্বাহী সংসদের সভায়ও শেখ হাসিনা বর্তমান এমপি ও মনোনয়ন-প্রত্যাশী নেতাদের এমন বার্তা দিয়েছেন। ওই সভায় তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি এখন রেস্টে আছি। ফলে এগুলো নিয়ে কাজ করার সময় পাচ্ছি প্রচুর। আমার কাছে সব এলাকার খবর আছে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিবেচনাবোধ কাজ করবে। এবার আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায়। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়ে আসার সম্ভাবনা যাদের বেশি, তারাই মনোনয়ন-দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন।’ তিনি বলেন, ‘ম্যানুপুলেশন করে তৃণমূল থেকে প্রার্থী তালিকায় নাম আনা হল কিনা, তারও খোঁজ নেবেন দলীয় সভাপতি। কারণ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, তৃণমূল নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কেন্দ্রে পাঠানো প্রার্থী তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’

 

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
টানা ৪ ম্যাচ জিতল পাকিস্তান, হারল শ্রীলঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক : কদিন আগে টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করেছে শ্রীলঙ্কা। টেস্টে দুর্দান্ত খেলা শ্রীলঙ্কা ওয়ানডেতে এসে বড় বিবর্ণ। শারজায় আজ পাঁচ ম্যাচ সিরিজের চতুর্থটিতে তারা হেরেছে ৭ উইকেটে। এই ম্যাচ জিতে পাকিস্তান সিরিজে এগিয়ে গেল ৪-০ ব্যবধানে। এবার তাদের সামনে শ্রীলঙ্কাকে ধবলধোলাইয়ের সুযোগ।

১৭৪ রানের সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৫৮ রানে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার বোলারদের সাফল্য বলতে এতটুকুই। বাবর আজম-শোয়েব মালিকের অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেট জুটি ১১৯ রান যোগ করে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের প্রান্তে। ওয়ানডেতে যে দুর্দান্ত খেলেন, বাবরের ব্যাটিংয়ে সেটি নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। এই সিরিজে ১০৩, ১০১ , ৩০-এর পর পাকিস্তানের এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান আজ করলেন অপরাজিত ৬৯ রান। মালিকও অপরাজিত ঠিক ৬৯ রানেই।
সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে ২০৯, ১৮৭ ও ২০৮ রান করা লঙ্কানরা আজ ৪৩.৪ ওভারে অলআউট ১৭৩ রানে। শ্রীলঙ্কার হয়ে যা একটু প্রতিরোধ গড়েছেন লাহিরু থিরিমান্নে। চারে নেমে ৯৪ বলে ৬২ রান করেছেন থিরিমান্নে। আউট হয়েছেন নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে দলীয় ১৬৪ রানে। আগের ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া পেসার হাসান আলী (৩/৩৭) এদিনও পাকিস্তানের সেরা বোলার।
ধবলধোলাই ঠেকাতে ২৩ অক্টোবর সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে জয়ের বিকল্প নেই শ্রীলঙ্কার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কাবুলে মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৩০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩০ নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার ইমাম জামান মসজিদে এ হামলা চালানো হয়।

বিবিসি জানায়, নামাজ পড়া অবস্থায় মুসল্লিদের ওপর হামলাকারী গুলিবর্ষণ করে। এরপর বোমার বিস্ফোরণ ঘটনায়।

এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে আফগানিস্তানের শিয়া মসজিদগুলো জঙ্গি সংগঠন আইএসের হামলার লক্ষ্যবস্তু বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ঘটনাস্থলে তদন্তদল গেছে।

এ হামলার কয়েকদিন আগে ট্রাকবোমা নিয়ে আত্মঘাতী হামলাকারী সন্দেহে একজনকে আটক করে পুলিশ।

গত ২০ আগস্ট কাবুলে মুসল্লিদের ওপর বোমা হামলায় ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। এ ছাড়া মে মাসে ট্রাকবোমা হামলায় ১৫০ জনের বেশি নিহত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest