বিশ্ব একাদশকে হারিয়ে পাকিস্তানের সিরিজ জয়

বিশ্ব একাদশকে ৩৩ রানে হারিয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপ জিতে নিল পাকিস্তান। পাকিস্তান জাতীয় দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৩৩ রানে হেরেছে বিশ্ব একাদশ।
ফলে, ২-১ এ সিরিজ জিতলো স্বাগতিক পাকিস্তান।

বিশ্ব একাদশের ওপেনার তামিম প্রথম ম্যাচে ১৮, দ্বিতীয় ম্যাচে ২৩ আর শেষ ম্যাচে করেন ১৪ রান।

আগে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটিতে আসে ৬১ রান। ওপেনার ফখর জামান ব্যক্তিগত ২৭ রান করে বিদায় নেন। ইনফর্ম ব্যাটসম্যান ওপেনার আহমেদ শেহজাদ আর দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বাবর আজম দলকে সামনে দিকে টেনে নেন। ১০২ রানের জুটি গড়েন তারা। দলীয় ১৬৩ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান। আউট হওয়ার আগে শেহজাদের ব্যাট থেকে আসে ৮৯ রান। তার ৫৫ বলের ইনিংসে ছিল ৮টি চার আর ৩টি ছক্কার মার।

বাবর আজম ৩১ বলে ৫টি চারের সাহায্যে করেন ৪৮ রান। শোয়েব মালিক ৭ বলে দুটি ছক্কায় করেন অপরাজিত ১৭ রান। বিশ্ব একাদশের থিসারা পেরেরা দুটি উইকেট নিলেও আর কোনো বোলার উইকেট পাননি। প্রথম দুটি উইকেট ছিল রান আউট।

১৮৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নামেন দুই ওপেনার হাশিম আমলা এবং তামিম ইকবাল। তামিম ১০ বলে তিনটি বাউন্ডারিতে ১৪ রান করে উসমান খানের বলে বোল্ড হন। আরেক ওপেনার হাশিম আমলা ১২ বলে চারটি বাউন্ডারিতে করেন ২১ রান। বেন কাটিং ৫, দলপতি ডু প্লেসিস ১৩, জর্জ বেইলি ৩ রান করলেও ব্যাটে ঝড় তুলেছিলেন থিসারা পেরেরা। ১৩ বলে দুটি চারের পাশাপাশি ৩টি ছক্কা হাঁকিয়ে ৩২ রান করেন এই লঙ্কান।

ডেভিড মিলার ২৯ বলে ৩২ আর ড্যারেন স্যামি ২৪ বলে ২৪ রান করলেও দলের জয় নিশ্চিত করতে পারেনি। স্যামি অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানের হাসান আলি দুটি উইকেট তুলে নেন। একটি করে উইকেট পান ইমাদ ওয়াসিম, উসমান খান এবং রুম্মন রইস।

এর আগে প্রথম ম্যাচে সরফরাজ-বাবর-ফখর-মালিকদের নিয়ে সাজানো পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০ রানে হেরেছিল বিশ্ব একাদশ। ১-০ তে লিড পেয়েছিল পাকিস্তান।

তবে, ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় তুলে নেয় তামিম-ডু প্লেসিস-তাহির-মিলার-আমলাদের বিশ্ব একাদশ। সমতায় (১-১) ফিরতে বিশ্ব একাদশের টার্গেট ছিল ১৭৫ রান। ১ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে ৭ উইকেটের জয় পায় তামিমরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান ১৭৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে, ১৯.৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে বিশ্ব একাদশ।

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইসিসি তিনটি ম্যাচকেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির মর্যাদা দিয়েছে।

বিশ্ব একাদশ: তামিম ইকবাল, হাশিম আমলা, ফাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), জর্জ বেইলি, ডেভিড মিলার, থিসারা পেরেরা, ড্যারেন স্যামি, বেন কাটিং, স্যামুয়েল বদ্রি, মরনে মরকেল, ইমরান তাহির।

পাকিস্তান একাদশ: ফখর জামান, আহমেদ শেহজাদ, বাবর আজম, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ নওয়াজ, শাদাব খান, হাসান আলী, উসমান খান, রুম্মন রইস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মিয়ানমারের হেলিকপ্টার এবং সেনাবাহিনীর ড্রোন ফের বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন, কড়া প্রতিবাদ

মিয়ানমারের হেলিকপ্টার এবং সেনাবাহিনীর ড্রোন ফের বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আজ শুক্রবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সরকারি তথ্য বিবরণীতে (হ্যান্ডআউট) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, মিয়ানমারের হেলিকপ্টার ও সেনাবাহিনীর ড্রোন ফের ১০, ১২ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। বাংলাদেশ এ ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সন্ধ্যায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমার দূতাবাসের শার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শার্জ ডি অ্যাফেয়ার্সকে প্রতিবাদ চিঠি দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৫ আগস্টের পর থেকে কয়েকবার মিয়ানমারের ড্রোন বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় গভীর উদ্বেগ জানায় বাংলাদেশ। সেই সময় রোহিঙ্গাদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেই দাবি জানানো হয়। এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনবে বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট কয়েকটি সেনা ও পুলিশ ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা।

গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ‘বিদ্রোহী রোহিঙ্গাদের’ সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এই হামলার দায় স্বীকার করে। এ ঘটনার পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রখ্যাত পরিবেশবিদ ও লেখক দ্বিজেন শর্মা আর নেই

‘নিসর্গসখা’, ‘প্রকৃতিপুত্র’ নামে খ্যাত নন্দিত প্রকৃতিবিদ ও লেখক দ্বিজেন শর্মা আর নেই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রকৃতিসখা।

দ্বিজেন শর্মার মেয়ে লন্ডন থেকে ফেরার পর মরদেহের সৎকার করা হবে। মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।

দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা। গত ২৩শে জুলাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

একুশে পদকে ভূষিত আটাশি বছর বয়সী এই প্রকৃতি বিজ্ঞানী সারাদেশে বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণে ভূমিকা রেখেছেন। নিসর্গপ্রেমী অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। প্রকৃতি ও নিসর্গবিষয়ক লেখালেখিরও পথিকৃৎ দ্বিজেন শর্মা।

উদ্ভিদ ও প্রকৃতি নিয়ে লেখা তার গ্রন্থগুলোর মধ্যে হলো শ্যামলী নিসর্গ, বাংলার বৃক্ষ, সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাস, নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা, সমাজতন্ত্রে বসবাস, জীবনের শেষ নেই উল্লেখযোগ্য।

দ্বিজেন শর্মা ১৯২৯ সালের ২৯ মে সিলেট বিভাগের বড়লেখা থানার শিমুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা সিটি কলেজ থেকে স্নাতক অর্জনের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

প্রকৃতি ও গাছগাছালির প্রতি ভালোবাসা এবং লেখালেখির কারণে দ্বিজেন শর্মাকে ‘নিসর্গসখা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০১১ সালে অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মাকে ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদকে ভূষিত করে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জাপানের দিকে উ: কোরিয়ার আবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে নতুন উত্তেজনা

উত্তর কোরিয়া জাপানের দিকে আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করায় ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পিয়ং ইয়ং-এর আরো একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা করেছে চীন। তবে বেইজিং বলেছে, উত্তর কোরিয়াকে থামানোর কোন চাবিকাঠি তাদের হাতে নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন পিয়ং ইয়ং-এর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে চীন ও রাশিয়ার প্রতি আহবান জানানোর পর এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানালো বেইজিং।

রাশিয়াও এই অস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা করেছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র হুয়া চুন-ইং “আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পথে শান্তিপূর্ণ সমাধানের” আহ্বান জানিয়েছেন।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়ার এই “অবৈধ” অস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা করার পাশাপাশি বলেছে “ওয়াশিংটনের দিক থেকে একমাত্র আগ্রাসী কথাবার্তাই শোনা যাচ্ছে।”

উত্তর কোরিয়ার ছোঁড়া মধ্যম-পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের প্রায় পাঁচশো মাইল উপর দিয়ে উড়ে যায়। এসময় জাপানে বিমান অভিযান-বিরোধী সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে। টেক্সট মেসেজ পাঠিয়ে লোকজনকে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতেও বলা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি গিয়ে পড়েছে তিন হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে প্রশান্ত মহাসাগরে, জাপানি দ্বীপ হোক্কাইডোর কাছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, গত মাসে জাপানের দিকে যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোঁড়া হয়েছিলো এবারেরটি তার চেয়েও বেশি উপর দিয়ে এবং আরো বেশি দূরে গিয়ে পড়েছে।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে জাপান। প্রধানমন্ত্রী শিঞ্জো আবে বলেছেন, তার দেশ এধরনের ”বিপজ্জনক উস্কানি” বরদাস্ত করবে না।

উত্তর কোরিয়ার এই পরীক্ষার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়াও দুটো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এই পরীক্ষার নিন্দা জানিয়ে পিয়ং ইয়ং-এর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে চীন ও রাশিয়ার প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন।

একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সম্প্রতি আরো কঠোর করা হয়েছে।

আজ আরো পরের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের অনুরোধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এবিষয়ে বিশেষ বৈঠকের কথা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
লন্ডনের পাতাল রেলে সন্ত্রাসী হামলা

ইংল্যান্ডের রাজধানীর লন্ডনের পারসনস গ্রিন পাতাল রেলস্টেশনে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের বরাত দিয়ে শহরের মেয়র সাদিক খান বিবৃতিতে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাদিক খান বলেন, ‘মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে পারসন গ্রিন স্টেশনে সন্ত্রাসী হামলার কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী জরুরি কোবরা বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। মে এই হামলার ঘটনার নিয়মিত খবর রাখছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আহতদের প্রতি আমার সহানুভূতি জানাচ্ছি।’ আর দ্রুত ও অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে যাঁরা জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গেছেন তাঁদের প্রশংসা করেন তিনি।

পাতাল রেলের যাত্রীরা বলছেন, তাঁরা আতঙ্কিত যাত্রীদের ছোটাছুটি করতে দেখেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী নিকোল লিনেল বলেন, ‘আমরা লোকজনকে রেললাইন ধরে দৌড়াতে দেখেছি। খুব ভয়াবহ ঘটনাটা। অগত্যা রেললাইন ধরে হাঁটতে দৌড়াতে হয়। আমাদের মনে হচ্ছিল, এটা কী হচ্ছে? আমি ৩০ থেকে ৪০ জনকে দৌড়াতে দেখেছি। এর এক ঘণ্টা পর আমাদের ট্রেন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যুগীখালীর চেয়ারম্যান রবিউলের বিরুদ্ধে ভারতীয় তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা!

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ১২নং যুগিখালি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হাসানসহ তার চার সহোযোগীর বিরুদ্ধে ভারতীয় এক নারীকে ধর্ষনের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। বৃৃহস্পতিবার বিকালে সাতক্ষীরা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে নির্যাতিত নারীর শাশুড়ী বাদি হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামালার আসামিরা হলেন-চেয়ারম্যান রবিউল হাসান, তার চার সহোযোগী সোহাগ হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, সোহাগ দফাদার ও কদম আলী। আদালত সূত্রে জানা যায়, বিচারক আশরাফুল ইসলাম মামলাটি এজাহারভুক্ত করে তদন্ত পূর্বক পুলিশ প্রতিবেদন দেয়ার জন্য কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)কে নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয় বাদির ছেলে আফজাল ভারতের পশ্চিম বাংলায় দিন মজুরের কাজ করতে গিয়ে কিছু দিন আগে বিথারী গ্রামের এক নারীকে বাংলাদেশে এনে বিয়ে করেন। বিয়ের কাগজপত্র ও আদালতের অ্যাফিডেভিটও রয়েছে। তারা ঘর-সংসার করার এক পর্যায়ে যুগিখালী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হাসান তার ছেলের বউকে নানাভাবে বিরক্ত করতো। গত ৭ই সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চেয়ারম্যান রবিউল হাসান আফজালের বাড়িতে গিয়ে বলেন- বাজারে পুলিশ এসেছে তোমাদের আমার সাথে যেতে হবে। এ কথা বলে চেয়ারম্যান বাদির ছেলে ও বউকে যুগিখালি বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসের দোতালায় নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তাদের কাছে ১৫হাজার টাকা চেয়ে আফজালকে তিনি বলেন- তোমার বউ ভারতীয় নাগরিক। এখানে থাকতে চাইলে পুলিশকে এই টাকা দিতে হবে। আর না দিলে তোমার বউকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাবে। অভিযোগে বলা হয়- এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই চেয়ারম্যান থানার ওসির সঙ্গে কথা বলানোর নাম করে ওই রাতেই ছেলের বউকে নিয়ে যান। পরে তাকে থানায় না নিয়ে তোলা হয় কলারোয়ার পৌরসদরে ঝিকরা গ্রামের জনৈক বেকারী ব্যবসায়ী সঞ্জয়ের বাড়িতে। অভিযোগে আরও বলা হয়- ওই বাড়ির একটি কক্ষে ভারতীয় ছেলের বউকে আটকে রেখে প্রথমে আওয়ামীলীগ নেতা চেয়ারম্যান রবিউল হাসান ও পরে পর্র্যায়ক্রমে তার চার সহোযোগী সোহাগ হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, সোহাগ দফাদার ও কদম আলী পালাক্রমে ধর্ষন করেন। ধর্ষন হওয়া ভারতীয় নারীকে গভীর রাতে চেয়ারম্যান রবিউল হাসান ইউপি পরিষদের চৌকিদার এমাদুলের মাধ্যমে বাড়িতে পৌঁছায়ে দেন। ভোরে গৃহবধূর শ্বাশুড়ী ঘুম থেকে উঠে দেখে বাড়ির মধ্যে নিজের ছেলের বউকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। মামলায় তিনি আরও বলেন- সকালে বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে থানায় খবর দেওয়া হয়। পুুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে প্রথমে সরকারি হাসপাতালে ও পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর সুস্থ হয়ে কলারোয়া থানায় মামলা করা হলে পুলিশ তা রেকর্ড না করে ফেরত দেয়। বাধ্য হয়ে গৃহবধুর শ্বাশুড়ী সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন।
এ ঘটনায় চেয়ারম্যান রবিউল হাসান সাংবাদিকদের জানান- ভারতীয় ওই মেয়েটিকে তার ইউনিয়নে নাগরিকত্ব দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি বলেছিলেন আদালতের মাধ্যমে আসতে হবে। তা নিয়ে শালিসও হয়েছে। আজ হঠাৎ শুনতে পেলাম তার বিরুদ্ধে (চেয়ারম্যান) আদালতে ধর্র্ষণের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় ওই মেয়েটিকে ফেরত নেওয়ার জন্য মেয়েটির বাবা যোগাযোগ করেন। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়। চেয়ারম্যান আরও বলেন-এ ঘটনায় তার নিজ দলের প্রতিপক্ষ আগ্রহী।
এদিকে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ জানান- ভারতীয় ওই মেয়েটির বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু তাকে জানিয়েছিলেন যে মেয়েটি তার জিম্মায় রয়েছে। তবে মামলার বিষয়ে এখনো আদালত থেকে কোন অর্ডার পায়নি।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টুর সাথে কথা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান- ভারতীয় মেয়েটি তার জিম্মায় ছিল। কিন্তু আদালতে মামলা হয়েছে সেটা তার নলেজে নেই। যদি মামলা হয়ে থাকে তাহলে পুলিশ প্রশাসন দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এমপিও বাস্তবায়নের দাবিতে বেসরকারি কলেজ অনার্স-মার্স্টাস শিক্ষক সমিতির সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মার্স্টাস শিক্ষক সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে এমপিও বাস্তবায়নে করণীয় বিষয়ক শিক্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা সিটি কলেজের হল রুমে অনুষ্ঠিত সম্মেলন সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মার্স্টাস শিক্ষক সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি আনারুল ইসলাম। সাতক্ষীরা সিটি কলেজের প্রভাষক আমিনুর রহমানের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্র্রিয় কমিটির সভাপতি নেকবর হোসাইন। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় সভাপতি গাজী মোজাম্মেল হোসেন, খুলনা জেলা সভাপতি সঞ্জয় কুমার দাস, সহ-সভাপতি অনুপ কুমার গাইন, কেন্দ্রিয় উপদেষ্টা পবিত্র কুমার মন্ডলসহ সাতক্ষীরা জেলা বিভিন্ন বেসরকারি কলেজের শিক্ষকমন্ডলী। এসময় বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে জেলা সহ দেশের বেসরকারি কলেজের অনার্স-মার্স্টাস পর্যায়ের শিক্ষকরা চরম দুর্দাশার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে রয়েছেন আর্থিক সংকটে। কলেজ থেকে যে সামান্য সম্মনি দেওয়া হয় তা যাতায়াতেই খরচ হয়ে যায়। তবুও তারা আশা করেন জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টিতে তারা অবশ্যই এমপিও ভুক্ত হবেন। সমাজে পরিবার পরিজন নিয়ে সুস্থ্যভাবে জীবন যাপন করতে পারবেন।
বক্তারা আরো বলেন, জননেত্রীর কাছে গিয়ে কেউ খালি ফিরেছে এরকম নজির নেই। আমরা আশা রাখি আমাদের কেও খালি হাতে ফিরিয়ে দিবেন না মানবতার নেত্রী, জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি তার পিতার আদর্শে আদর্শিত হওয়ার কারণে জনগনের জন্য সব কিছু উজাড় করে দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আশাকরি আমাদের দুঃখ দুর্দাশার কথা তিনি উপলব্ধি করতে পারেন। আমরা বিশ্বাস করি জননেত্রী আমাদের দিকে নেক নজর দিয়ে এ সমস্যা সমাধান করে শিক্ষক সমাজে আরো স্মরনীয় হয়ে থাকবেন। এছাড়া আগামী মাসে তাদের দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকায় একটি সমাবেশের আয়োজন করেছেন। সেখানে প্রধান অতিথি হিসাবে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি প্রদান করেছেন বলে তারা জানান।

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নারীসহ ১৭ জন রোহিঙ্গা ছিলেন মিয়ানমারের সংসদ সদস্য

বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারে দুই নারীসহ ১৭ জন রোহিঙ্গা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাদের একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। শুধু এমপি-মন্ত্রীই নন,মিয়ানমার সরকারের সচিবসহ শীর্ষ বিভিন্ন পদেও ছিলেন রোহিঙ্গারা। ১৯৯০ সালের নির্বাচনেও সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের চার জন প্রতিনিধি ছিলেন দেশটির পার্লামেন্টে। ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। এরপর থেকে আর কোনও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি তারা। গত মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এই তথ্য জানান চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে সংসদে প্রস্তাব উত্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রস্তাব উত্থাপনের পর নিজের বক্তব্যে দীপু মনি বলেন, ‘১৯৪৮ সালে বার্মার স্বাধীনতার ঠিক পূর্বমুহূর্তে ১৯৪৭ সালের নির্বাচনে এম এ গাফ্ফার এবং সুলতান আহমেদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৫১ সালে সাধারণ নির্বাচনে পাঁচ জন রোহিঙ্গা তৎকালীন বার্মার পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন জুরা বেগম। তৎকালীন বার্মার নির্বাচিত প্রথম দুইজন নারীর একজন হলেন এই জুরা বেগম। ছয়জন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৫৬ সালের সাধারণ নির্বাচন ও পরবর্তী যেসব উপনির্বাচন হয়েছিল তাতে। দেশটিতে ১৯৯০ সালে যে সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল, তাতে রোহিঙ্গাদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ফর হিউম্যান রাইট চারটি আসনে জয়ী হয়। ওই চারজন এমপি হলেন, সামসুল আনোয়ারুল হক, ইব্রাহিম, ফজল আহমেদ ও নূর আহমেদ। দীপু মনি বলেন, ‘সুলতান মাহমুদ একজন রোহিঙ্গা রাজনীতিবিদ। তিনি বার্মা সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বও পালন করেছেন।’ দীপু মনি বলেন, তিনি মনে করেন ১৯৮২ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব আইন দিয়ে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সব অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়।

দীপু মনি আরও বলেন, এ জনগোষ্ঠীর সদস্যরা বার্মার সংসদ নির্বাচিত সদস্য, তাদের সরকারে মন্ত্রী, সংসদীয় সচিবসহ আরও বহু সরকারি উচ্চপদে আসীন ছিলেন। বার্মার সামরিক শাসকেরা ১৯৬২ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে রোহিঙ্গাদের তাদের সব রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়।

দীপু মনি তার ব্ক্তব্যে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান নোবেলবিজয়ী অং সান সু চির সমালোচনা করে বলেন, ‘নোবেল বক্তৃতায় সু চি বলেছিলেন, “আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি পৃথিবী গড়ে তোলা, যা হবে বাস্তুচ্যুত, গৃহহীন ও আশাহত মানুষমুক্ত। একটি পৃথিবী যার প্রতিটি কোণ হবে সত্যিকারের অভয়াশ্রম।যেখানে বসবাসকারীদের থাকবে স্বাধীনতা এবং শান্তিতে বসবাস করবার সক্ষমতা।”’

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বাঙালি অনুপ্রবেশকারী বা বাঙালি সন্ত্রাসী বলায় দীপু মনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ইতিহাস তা বলে না।’ একাধিক পুরনো রেফারেন্স উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘তারা দীর্ঘকাল ধরে আরাকানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। অষ্টম শতাব্দী থেকেই এই জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব সম্পর্কে ইতিহাস পাওয়া যায়।’

সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর অব্যাহত নির্যাতন চরম আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৩ লাখ ৭৯ হাজার মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সবমিলিয়ে এখন শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব অধিকার দিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণে মিয়ানমার সরকারের ওপর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব পাস হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest