সর্বশেষ সংবাদ-
শহরের কুখরালী থেকে সোহানা নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারঈদ উল আযহা উপলক্ষে সাতক্ষীরায় রোড শো, ও পরিবহণ কাউন্টারে মনিটারিংকালিগঞ্জে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি সোহরাব হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তালায় গাঁজা সেবনের সময় আটক দিদার মোড়ল : ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ডসাতক্ষীরায় পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অবহিতকরণসাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃক শহরের ফুটপাত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ফল ও নগদ টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনদেবহাটায় ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড বিধবা নারীর মাটির ঘর: মানবেতর জীবনজাতীয় প্রতিভা অন্বেষণে মূকাভিনয়ে দেশসেরা সাতক্ষীরার জান্নাতনারী ও যুব নেতৃত্বের অংশগ্রহণে জলবায়ু সহনশীলতা ও সুরক্ষা বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকপদোন্নতি পেয়ে যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার হলেন আকরামুল

টিপু সুলতানের জন্মদিনকে ঘিরে ভারতে নতুন বিতর্ক

অনলাইন ডেস্ক : ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সময় অষ্টাদশ শতকের শেষদিকে মহীশুরে রাজত্ব করেছিলেন যে টিপু সুলতান – তিনি একজন নায়ক না কি খলনায়ক, তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মহীশুর এখন যে কর্ণাটক রাজ্যের ভেতর, সেখানে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস মহা ধূমধামে টিপু সুলতানের জন্মদিন উদযাপন করতে চলেছে আগামী মাসে – কিন্তু বিরোধী বিজেপি তার তুমুল বিরোধিতা করছে।

বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যে আসন্ন ভোটের কথা মাথায় রেখে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভোট টানতেই কংগ্রেস টিপু সুলতানের মতো একজন ‘খলনায়কে’র জন্মদিন পালন করা হচ্ছে।

কর্ণাটকের বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী অনন্ত কুমার হেগড়ে তো টিপু সুলতানকে একজন খুনি ও ‘কুখ্যাত ধর্ষণকারী’ বলতেও দ্বিধা করেননি। টিপু সুলতান গণহারে অসংখ্য নারীকে ধর্ষণ করেছিলেন বলেও তিনি দাবি করেছেন।

টিপু সুলতানের জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে স্থানীয় এমপি হিসেবে তার নাম থাকলে তিনি গিয়ে অনুষ্ঠানে বিরাট গণ্ডগোল বাঁধাবেন বলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হুমকি দিয়ে রেখেছেন।

কিন্তু এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছে বিজেপির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জগদীশ শেট্টার ও দলের অন্য নেতাদের পাঁচ বছরের পুরনো একটি ছবি – যেখানে তাদের টিপু সুলতানের মতো পাগড়ি পরে ও হাতে অবিকল তার ভঙ্গিতে তলোয়ার ধরে মঞ্চে ছবি তোলাতে দেখা যাচ্ছে।

যে দল টিপু সুলতানকে একজন দেশবিরোধী অত্যাচারী শাসক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, সেই বিজেপিকে এই ছবি বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে।

“তাহলে বিজেপি নেতারা কি পাঁচ বছর আগে জানতেন না টিপু সুলতান একজন নিষ্ঠুর অত্যাচারী?”, তাদের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন কর্ণাটক কংগ্রেসের সভাপতি দীনেশ গুন্ডু রাও।

কিন্তু টিপু সুলতানের মতো একজন ঐতিহাসিক চরিত্রকে নিয়ে কেন ভারতে নতুন করে এই বিতর্ক? তার পক্ষের ও বিপক্ষের শিবির টিপু-কে নিয়ে কী যুক্তি দিচ্ছেন?

আসলে টিপু সুলতানের জন্মদিন পালন করাটা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই বাকবিতণ্ডা চলছে কর্ণাটক ও তার পাশের রাজ্য তামিলনাড়ুতে। টিপুর পক্ষে কথা বলে এর আগে হুঁশিয়ারিও শুনতে হয়েছিল বিশিষ্ট কর্ণাটকি অভিনেতা ও নাট্যকার গিরিশ কারনাডকেও।

কর্ণাটকের বর্তমান কংগ্রেস সরকার অবশ্য আগাগোড়াই বলে আসছে টিপু সুলতানের জন্মজয়ন্তী পালনে অন্যায় কিছু নেই। কর্ণাটকের মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা দীনেশ গুন্ডুরাওয়ের কথায়, ”রাজ্যের মহান সন্তান টিপু সুলতানের জন্য আমরা সবাই গর্বিত।”

”তিনি সুশাসক ছিলেন, সাম্প্রদায়িক ছিলেন না মোটেই – আর এই বীর যোদ্ধা ইংরেজের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়েও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কর্ণাটকে রেশমচাষ থেকে অনেক সংস্কার শুরু হয়েছিল তার হাতেই। আর যে সব হত্যাকাণ্ডের কথা বলছেন সেরকম বিতর্ক তো গুজরাটে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও আছে,” বলছেন মি গুন্ডুরাও।

টিপু সুলতান যে বিতর্কিত, ঐতিহাসিকরাও অবশ্য তা অস্বীকার করেন না। দাক্ষিণাত্যের ইতিহাসের বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক শৌভিক মুখোপাধ্যায় অবশ্য মনে করেন এই বিতর্কের বীজ নিহিত আছে টিপু-কে নিয়ে সে আমলের লেখালেখির ভেতরে।

তিনি জানাচ্ছেন, ”টিপু-কে নিয়ে যাবতীয় গবেষণার মূল উৎস হল সে আমলে ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তাদের রিপোর্ট। এখন শত্রুর সম্বন্ধে তারা যে খুব একটা ভাল কথা বলবেন না তা তো বলাই বাহুল্য।”

অধ্যাপক মুখোপাধ্যায় আরও বলছেন, ”টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে যেমন হিন্দু-নিধন বা মন্দির ধ্বংস করার অভিযোগ আছে তেমনি মারাঠাদের হাতে প্রায় ধ্বংস হতে যাওয়া শঙ্করাচার্যর প্রতিষ্ঠিত শৃঙ্গেরী মঠকে তিনিই কিন্তু আবার পুনর্জন্ম দিয়েছিলেন।”

কিন্তু বিজেপি মনে করছে টিপুর হাতে যত হিন্দু বা কুর্গ এলাকায় যত খ্রিষ্টান মারা গেছেন তারপর তাকে মহান শাসক হিসেবে তুলে ধরাটাই চরম অন্যায়। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর তাই প্রশ্ন ”আজ মৃত্যুর ২০০ বছরেরও পর কেন আচমকা কংগ্রেসের টিপুকে মনে পড়ল?”

”হিন্দুদের খতম করায় তিনি নিজের সেনাপতিকে প্রশংসা করে চিঠি লিখেছিলেন। আর ইংরেজের বিরুদ্ধে লড়াইতেও তিনি তো আর এক ঔপনিবেশিক শক্তি ফরাসিদের হয়ে দালালি করেছেন। আজ পাকিস্তান তাদের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের নাম রেখেছে টিপু-র নামে, সেই সুলতানকে কীভাবে আমরা সম্মান জানাতে পারি?”, বলছেন স্বামী।
১৭৯৯ সালে শ্রীরঙ্গপতনমের যুদ্ধে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন টিপু সুলতান। তার মৃত্যুর ২১৮ বছর পর আজ তাকে দেশ কী চোখে দেখবে, তা নিয়ে পরিষ্কার দুরকম মত দেখা যাচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশে শতকরা ৯৮ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতালে নেই কোন ব্লাড ব্যাংক!

অনলাইন ডেস্ক : দেশের চার হাজার ৯০২টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মধ্যে অনুমোদিত ব্লাড ব্যাংক আছে মাত্র ৮৪টি প্রতিষ্ঠানে। এ ছাড়া সারা দেশে অনুমোদিত আরো ২৪টি প্রতিষ্ঠান আছে, যারা শুধুই ব্লাড ব্যাংক হিসেবে কাজ করে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই অবৈধভাবে চালাচ্ছে এ কার্যক্রম।

সারা দেশে এমন অনেক হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠান আছে যাদের কোনো তালিকা নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানেই আবার রয়েছে অনুমোদনহীন ব্লাড ব্যাংক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২২টি জেলার নিবন্ধিত দুই হাজার ৭৭৩টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মধ্যে ৮৪টিতে অনুমোদিত ব্লাড ব্যাংক আছে। আর বাকি ৪২টি জেলার দুই হাজার ১২৯টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের একটিতেও অনুমোদিত ব্লাড ব্যাংক নেই। তবে ২৪টি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান আছে, যারা সারা দেশে শুধুই ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্লাড ব্যাংক শাখার প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. শেখ দাউদ আদনান জানান, অবৈধ ওই সব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ব্লাড ব্যাংকের ব্যবসা লাভজনক না হওয়ায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো এই ঝামেলা মাথায় নিতে চায় না। তাই রোগীর স্বজন অথবা বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠান থেকে রক্ত সংগ্রহ করে কার্যক্রম চালাচ্ছে এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, বেশির ভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ব্লাড ব্যাংক না থাকায় অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রয়োজনের সময় রক্ত পেতে বেশ ঝামেলা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্লাড ব্যাংক শাখার প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. শেখ দাউদ আদনান বলেন, ‘দেশের যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অনুমোদিত ব্লাড ব্যাংক নেই, তারা অবৈধভাবে ব্যবসা চালাচ্ছে। আমরা চাচ্ছি বড় বড় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো ব্লাড ব্যাংকের আওতায় আসুক।’
ডা. আদনান আরো বলেন, ‘ভালো হাসপাতালগুলো ব্লাড ব্যাংক করলেই অবৈধ ব্লাড ব্যাংকগুলো দ্রুতই বন্ধ করা সম্ভব হবে। কারণ ভালো হাসপাতালগুলোতে ব্লাড ব্যাংক সেবা থাকলে মানুষ খারাপ জায়গায় যাবে না। ভালো ভালো ব্লাড ব্যাংকই রক্তের মান সম্পর্কে খুব সচেতন না। আর খারাপ বা অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো মান রক্ষা করতে তা ভাবা একেবারেই বোকামি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিভাগের পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর বলেন, ‘যেসব হাসপাতালে অস্ত্রোপচার (অপারেশন) করা হয়, তাদের ব্লাড ব্যাংক অবশ্যই থাকতে হবে। আগামী মাসের ভেতরে আমরা ব্লাড ব্যাংক নেই এমন প্রতিষ্ঠানের তালিকা করব। পরে তাদের ব্লাড ব্যাংক সেবা নিশ্চিত করতে তাগাদা দেব।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গাদের জমির মালিকানা নিয়ে নিচ্ছে, কেটে নিচ্ছে ক্ষেতের পাকা ধান

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, মিয়ানমারে সামরিক অভিযানের মুখে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন যেসব রোহিঙ্গা মুসলমান তারা দেশে ফিরতে পারলেও তাদের জমিজমা ও ঘরবাড়ি হারাতে হতে পারে।

এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে রয়টার্স বলছে, মিয়ানমার সরকার পরিকল্পনা করছে যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নেয়া হলেও তাদেরকে নিজেদের ঘরদোরে ফিরে যেতে দেওয়া হবে না।

কঠোর সনাক্তকরণের প্রক্রিয়ায় যেসব রোহিঙ্গা উতরাবে, শুধুমাত্র তাদেরকেই সরকারি ব্যবস্থাপনায় অন্যত্র গ্রাম তৈরি করে সেখানে পাঠানো হবে।

রয়টার্সের সাংবাদিকরা এ নিয়ে কয়েক জন সরকারি কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছেন। কিছু সরকারি পরিকল্পনার দলিলও তাদের হাতে এসেছে।

রয়টার্স জামিল আহমেদ নামের একজন রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে এবং এই রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে জমির মালিকানা প্রমাণ করার পরও হয়তো মি. আহমেদকে তার নিজের গ্রাম কিউক পান ডু গ্রামে ফিরে যেতে নাও দেয়া পারে।

শরণার্থীরা ফিরে এসে জমির মালিকানা দাবি করতে পারবে কি না, রয়টার্সের এই প্রশ্নে জবাবে রাখাইনের কৃষিমন্ত্রী চিয় লুইন বলেছেন, “এটা নির্ভর করে তাদের ওপর। যাদের নাগরিকত্ব নেই, তাদের জমির মালিকানা নেই।”

মিয়ানমারের নেত্রী অঙ সান সুচি বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন এমন কেউ যদি পরিচয়ের প্রমাণপত্র দেখাতে পারেন, তবে তাদের মিয়ানমারে ফেরত আসতে দেয়া হবে।

রয়টার্স রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন এবং পুনর্বাসনের সাথে জড়িত ছয়জন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে যেখানে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে সরকারি নীতিমালার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

যেভাবে রোহিঙ্গাদের পরিচয় পরীক্ষা হবে

মিয়ানমারের সরকারি পরিকল্পনার বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, যারা মিয়ানমারে ফিরে আসবেন প্রাথমিকভাবে তাদের একটা অভ্যর্থনা কেন্দ্রে রাখা হবে।

কর্মকর্তারা বলছেন, এখানে শরণার্থীদের একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে যেখানে ১৬টি পয়েন্ট রয়েছে।

এরপর স্থানীয় প্রশাসনের কাছে রাখা দলিলের মাধ্যমে এদের পরিচয় যাচাই করা হবে।

মিয়ানমারের ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তারা প্রতিবছর রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরের ওপর জরিপ চালিয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের ফটো তুলে রেখেছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

যেসব শরণার্থীর কাগজপত্র হারিয়ে গেছে, তাদের ছবির সাথে ইমিগ্রেশন বিভাগের ছবি মিলিয়ে দেখা হবে বলে বলছেন মিয়ানমারের শ্রম, অভিবাসন এবং জনসংখ্যা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিন্ট চায়ে।

‘মডেল গ্রাম’

রয়টার্স বলছে, অনেক শরণার্থী ফিরতে ভয় পাচ্ছেন এবং তাঁরা মিয়ানমারের আশ্বাসের ব্যাপারে সন্দিহান।

যারা ফিরে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের প্রথমে একটি বা দুটি কেন্দ্রে গ্রহণ করা হবে।

সরকারি পরিকল্পনার পর্যালোচনা করে রয়টার্স বলছে যে এরপর তাদের বেশীরভাগকে মডেল গ্রামে পুনর্বাসন করা হবে।

আন্তর্জাতিক অনেক দাতা সংস্থা ২০১২ সালের সহিংসতার পর রাখাইনে অস্থায়ী শিবিরে অভ্যন্তরীনভাবে বাস্তুচ্যুত এক লক্ষ ২০,০০০ রোহিঙ্গাকে দেখাশুনা করছে ও খাবার-দাবার দিচ্ছে। এই সব প্রতিষ্ঠান মিয়ানমারকে বলেছে তারা আর অতিরিক্ত কোন ক্যাম্প চালাতে পারবে না। ত্রাণকর্মী ও কূটনীতিকদের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তানিস্লাভ স্যালিং এক ইমেল জবাবে বলেন, “নতুন অস্থায়ী ক্যাম্প বা ক্যাম্পের মত আশ্রয় তৈরি করা হলে অনেক ঝুঁকি হতে পারে, যেমন ফিরে আসা ব্যক্তি ও অভ্যন্তরীনভাবে বাস্তুচ্যুতরা এসব ক্যাম্পে লম্বা সময়ের জন্য আটকা পড়তে পারেন”।

স্যাটেলাইট ছবির বরাত দিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে ২৫শে অগাস্টের পর ২৮৮টি গ্রাম – যেগুলো মূলত রোহিঙ্গারা বাস করতো – পুরোপুরি কিংবা আংশিকভাবে আগুনে পুড়ে গেছে।

শরণার্থীরা বলছে, সেনাবাহিনী এবং বৌদ্ধরা দাঙ্গাকারীরা বেশীরভাগ অগ্নিসংযোগের জন্য দায়ী। তবে সরকার বলছে, রোহিঙ্গা যোদ্ধা এবং এমনকি বাসিন্দা নিজেরাই আগুন লাগায় প্রচারণা চালানোর উদ্দেশ্য নিয়ে।

সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব সোয়ে অঙ বলেন, রোহিঙ্গারা যেসব পল্লীতে বাস করতো, সেগুলো “ঠিক গোছানো নয়”, তাই সারিবদ্ধভাবে এক হাজার ঘরবাড়ি নিয়ে ছোটছোট গ্রাম গড়ে তোলা যেতে পারে যেখানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সহজ হবে”।

“কিছু গ্রাম আছে, যেখানে তিনটি বাড়ি এখানে, চারটি বাড়ি সেখানে। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, এসব গ্রামে আগুন লাগলেও সেখানে দমকলের গাড়ি যাওয়ার কোন রাস্তা পর্যন্ত নেই,” সোয়ে অঙ বলেন।

পাকা ধানের বেহাত মালিকানা

রয়টার্স বলছে, উত্তর রাখাইনের সংঘাতময় এলাকা থেকে ৫৮৯,০০০ রোহিঙ্গা এবং প্রায় ৩০,০০ হাজার অমুসলিম পালিয়ে যাওয়ার পর সেখানকার ৭১,৫০০ একর জমিতে পাকা ধানের কোন মালিকানা নেই।

সরকার পরিকল্পনা করছে, এই ধান তারা সরকারি গুদামে তুলবে।

রয়টার্স এমন একটি সরকারি দলিল দেখেছে যেখানে ধানী জমিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

একটি ভাগের জমির মালিকানার নাম দেয়া মূল জাতিগোষ্ঠী, অর্থাৎ এসব জমির মালিক বর্মী। আর অন্য জমির মালিকানায় লেখা হয়েছে ‘বেঙ্গলি’ অর্থাৎ মিয়ানমার সরকার যে নামে রোহিঙ্গাদের ডেকে থাকে।

রাখাইনের কৃষিমন্ত্রী চিয় লুইন রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন ৪৫,০০০ একর জমিকে ‘মালিকবিহীন বাঙ্গালী জমি’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গা জমির ফসল ঘরে তুলতে কৃষি মন্ত্রণালয় ১৪টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে চলতি মাসেই কাজ শুরু করবে।

তারা মোট ১৪,৪০০ একর জমির ফসল কাটতে পারবে। বাকি ফসলের কী হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এই কাজে তারা অতিরিক্ত শ্রমিক ব্যবহার করবেন বলে পরিকল্পনা করছেন। রয়টার্স বলছে, প্রতি একর জমির ধান থেকে সরকারের আয় হবে ৩০০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ।

এর মানে হলো, পরিত্যক্ত ফসলি জমি থেকে মিয়ানমার সরকারের লক্ষ লক্ষ ডলার আয় হবে।

রাখাইন রাজ্যের সচিব টিন মং সোয়ে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এসব ধান সরকারি গুদামে তোলা হবে, এরপর এই ধান হয় এই সংঘাতে আশ্রয়হীন হয়েছেন যারা তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে, নয়তো বিক্রি করা হবে।

তিনি বলেন, “জমি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। ফসল তোলার কেউ নেই। তাই সরকার ফসল কাটার আদেশ দিয়েছে।”

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক ফিল রবার্টসন বলছেন, মিয়ানমার সরকার এসব জমি অন্তত মানবিক কাজে ব্যয় করবে বলেই তারা আশা করছেন।

“সহিংসতা এবং অগ্নি সংযোগ করে মালিকদের দেশ থেকে বিতাড়ন করলেই, কোন জমির ফসলকে মালিকবিহীন বলা যায় না।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘ভেষজ’ চা

রচলিত বিভিন্ন চায়ের পাশাপাশি গ্রিন টিসহ অন্যান্য চায়ের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তেমনই একটি হচ্ছে ভেষজ চা।

তবে এ চা সম্পর্কে অনেকেরই হয়তো জানা নেই। অন্যান্য চায়ের মতো ভেষজ চাও শরীরের জন্য বেশ উপকারী।
নিচে ভেষজ চাসহ বিভিন্ন রকমের চায়ের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হলো :
এলাচ চা : এলাচ চা হতে পারে আপনার দিন শুরু করার সবচেয়ে ভালো পানীয়। এটি শুধু হজমশক্তিই বাড়ায় না আরও কিছু গুণ রয়েছে এলাচ চায়ের। এটি মাথাব্যথা কমায়, পেটের সমস্যা দূর করে এবং দেহ ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া এলাচের উপাদান দেহ থেকে দূষিত পদার্থ দূর করতে সহায়তা করে।
দারুচিনি চা : প্রধানত মসলা হিসেবে ব্যবহৃত দারুচিনি নামের ভেষজটির উপকার সম্বন্ধে অনেকেরই জানা নেই। এটি অত্যন্ত উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি উপাদান। দারুচিনি চা দেহের কোলস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ফলে হৃদরোগের মতো মারাত্মক রোগও দূরে রাখা সম্ভব এ চা পান করে।
জিরা চা : জিরা ঘুমের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। এছাড়া এটি দেহ শীতল করতেও ভূমিকা রাখে। জিরা বিভিন্ন খাবার থেকে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রন গ্রহণে সহায়তা করে। তাই চায়ে জিরার গুড়া প্রয়োগে বহু উপকার পাওয়া সম্ভব।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মেসিকে টপকে ‘দ্য বেস্ট’ জিতে যা বললেন রোনালদো!

মেসিকে টপকে ফিফা’র সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘দ্য বেস্ট’ খেতাব পেয়েছেন পর্তুগীজ ফুটবলার ও রিয়াল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ‘দ্য বেস্ট ফিফা মেনস প্লেয়ার’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সি আর সেভেন।
আর ভাগ বসালেন মেসির পাঁচবার বর্ষ সেরা হওয়ার রেকর্ডে। এ অর্জনে দারুণ উচ্ছ্বসিত রোনালদো।

জীবনের ‘দারুণ এই মুহূর্তে’ ভক্ত, সতীর্থ, কোচ, টিম ম্যানেজম্যান্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রোনালদো।

পুরস্কার হাতে এ পর্তুগিজ তারকা বলেন, ‘আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আমি লিও ও নেইমারের কথা বলব, এখানে উপস্থিত থাকাটা দারুণ ব্যাপার। রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থক, আমার সতীর্থ, আমার কোচ, সারা বছর তারা আমাকে সহায়তা করেছে। প্রথমবারের মতো আমরা ইংল্যান্ডে আর আমি টানা এই পুরস্কার জিতলাম। আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। আমার জন্য এটা দারুণ একটি মুহূর্ত।
গ্রেট খেলোয়াড়দের মাঝে এখানে আসতে পারাটা দারুণ। আমি ভীষণ খুশি। ‘

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিফার বর্ষসেরা নারী ফুটবলার মার্টেনস

বার্সেলোনার ডাচ উইঙ্গার লিকে মার্টেনস এবার ফিফার বর্ষসেরা নারী ফুটবলারের ট্রফি জিতেছেন। এই বিভাগে মার্টেনসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ছিলেন সান্তা ক্লারিতা ব্লু হিটের ভেনেজুয়েলান ডেয়না কাসতেলানোস ও ম্যাচচেস্টার সিটির (হিউস্টন ড্যাশ থেকে লোনে) আমেরিকান মিডফিল্ডার কার্লি লয়েড।

যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী হল লন্ডন প্যালাডিয়ামে সোমবার (২৩ অক্টোবর) ফিফার বর্ষসেরাদের পুরস্কৃত করতে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ‘দ্য বেস্ট ফিফা উইমেন প্লেয়ার’র ট্রফি তুলে দেওয়া হয় তার হাতে। ২০১৭ সালে উয়েফা নারী চ্যাম্পিয়নশিপে কাতালানদের শিরোপা জয়ের বাধভাঙা উল্লাসের উপলক্ষ এনে দিতে অনবদ্য ভূমিকা ছিল মার্টেনসের

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ার আর নেই

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন।

সোমবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর নিউ এলিফ্যান্ট রোডের নিজ বাসায় এই বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দীন দিদার রাতে বিষয়টি জানিয়েছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের স্থায়ী কমিটির এ সদস্যের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এম কে আনোয়ারের জন্ম ১৯৩৩ সালে কুমিল্লায়। তিনি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে তিন দশকের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন।

চাকরিজীবন থেকে অবসর নিয়ে বিগত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

এরপর বিভিন্ন সময়ে পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে দুবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দুই বছর ধরেই তিনি নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এর মধ্যে এই সরকারের আমলেও বিভিন্ন সময়ে জেল খেটেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জোটের চ্যালেঞ্জ ভোটে: বিএনপি নির্বাচনে আসবে ধরে প্রার্থী খুঁজছে আওয়ামী লীগ

অনলাইন ডেস্ক : বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিকল্পনা আঁটছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অতীতের মতো এবারও ১৪-দলীয় জোটগতভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবেন ক্ষমতাসীনরা।
জোটকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিজ দল আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, দলের সদস্য ও ভোটার বাড়ানো এবং সরকারের উন্নয়ন প্রচার’— এ তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনী ফসল ঘরে তুলতে জনপ্রিয় ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিতর্কিত এমপিদের ঢাকায় ডেকে সতর্ক করা হচ্ছে। আগামীতে যারা দলের মনোনয়ন পাবেন তাদের প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা-উপজেলায় বর্ধিত সভা, বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মীদের চাঙ্গা করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। মূলত সবকিছুই করা হচ্ছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে। আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, এত দিন সরকারি দলের বেশির ভাগ নেতা-কর্মীর ধারণা ছিল দল আবার ক্ষমতায় আসবে। এজন্য তেমন কোনো বেগ পেতে হবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সে ধারণায় কিছুটা চিড় ধরেছে। তারা এখন মনে করছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও কঠিন। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকেও দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন কথা বলেছেন। তিনি এমপি-মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে দলকে সুসংগঠিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪ সালের মতো হবে না। টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কিছু এমপি-নেতা ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের অতিবাড়াবাড়ি মানুষ গ্রহণ করছে না। অন্যদিকে বিএনপির দলগত ভোট। সবকিছু হিসাব করেই আগামীতে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার কথা ভাবছেন ক্ষমতাসীনরা। এজন্য বেশ কিছু দিন ধরেই চলছে নির্বাচনী জরিপ। তুলে আনা হচ্ছে দলীয় এমপি ও অন্য দলের প্রার্থীর সর্বশেষ চিত্র। তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসতে হলে যেখানে প্রার্থী পরিবর্তনের দরকার, সেখানে তাই করবেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য এমপি-মন্ত্রীদের কেউ কেউ বাদ পড়তে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নির্বাচন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রয়েছে যত দ্রুত সম্ভব গৃহবিবাদ মেটানো। একই সঙ্গে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের দলীয় কার্যালয়ে ডেকে এনে নির্বাচনী প্রস্তুতির আগাম ব্রিফিং দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দলে অন্তর্দ্বন্দ্ব্ব, কলহ, বিবাদ ও দূরত্ব মেটাতে পুরোদমে কাজ চলছে। নির্বাচনের জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আসনভিত্তিক প্রার্থীদের অবস্থান জানতে বেশ কিছু জরিপ রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাও। কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকায় যাদের জনপ্রিয়তা আছে শুধু তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। যারা ইতিমধ্যে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন তাদের সম্পর্কেও খোঁজ রাখা হচ্ছে। বিতর্কিত, জনসম্পৃক্ততা নেই এমন ব্যক্তিকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। ’ গত বছরের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি সারা দেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করে। সাংগঠনিক কাজের গতি আনতে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের পাশাপাশি যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকদেরও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। তারা জেলা-উপজেলায় গিয়ে বর্ধিত সভা, প্রতিনিধি সভা, যৌথসভা, বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা করেছেন। এ ধারা আগামী সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী গতকাল বলেন, ‘দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অপারেশনের পর ডাক্তার ছয় সপ্তাহ বিশ্রাম নিতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি তা করেননি, ই-ফাইলিংয়ের মাধ্যমে ফাইল ছেড়েছেন। দেশে ফিরেই তিনি সরকার ও দলের কাজে যুক্ত হয়েছেন। দলের সাধারণ সম্পাদকসহ আমরা সবাই সারা দেশে সংগঠনকে শক্তিশালী করছি। উন্নয়ন করে যাচ্ছি। এর মাধ্যমেই প্রমাণ হয়, আমাদের আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। ’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে— এটা মাথায় রেখেই আমরা সদস্য সংগ্রহসহ দলকে সুসংগঠিত করে চলেছি। জেলা-উপজেলায় বর্ধিত সভা, কর্মিসভা করা হচ্ছে। দলের ছোটখাটো সমস্যা থাকলে সেগুলো মিটিয়ে ফেলা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন জনগণের সামনে তুলে ধরে আগামীতে কী কী করব, দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চাই— সেগুলো তুলে ধরছি। ’ আরেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আমরা নির্বাচনী এলাকায় জরিপ করছি। আমাদের প্রার্থীসহ অন্য দলের প্রার্থীদের কার কী অবস্থা সেগুলোর সঠিক চিত্র তুলে আনার চেষ্টা করছি। ’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থীর ওপর নির্ভর করে আমরা প্রার্থী মনোনয়ন দেব। ’ দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার পাশাপাশি জোটের প্রার্থীদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যেখানে জোটের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে এবং বিজয়ী হওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে, তাদের গ্রিন সিগন্যালও দেওয়া হবে। অন্যদিকে অধিকতর দুর্বল প্রার্থী হলে সেই প্রার্থী পরিবর্তন করে এবার আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থী করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ’

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest