রোহিঙ্গা ইস্যুতে অমানবিক অবস্থানে রাশিয়া

রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানে যেখানে পুরো বিশ্ব কথা বলছে, কেউ হস্তক্ষেপ করছে, কেউ হস্তক্ষেপ চাইছে, সেখানে একে মিয়ানমারের ‘ব্যক্তিগত’ বিষয় উল্লেখ করে সেখানে কাউকে না জড়ানোর আহ্বান করেছে রাশিয়া।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা শুক্রবার সরকারের এমন দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানান বলে জানিয়েছে স্পুতনিক নিউজ ও বার্তা সংস্থা তাস।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে জাখারোভা বলেন, ‘এটা মনে রাখা খুব জরুরি যে, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছা পোষণ করলে আন্তঃধর্মীয় বিবাদ আরও বাড়বে। আমার মনে হয় আমাদের দরকার মিয়ানমারে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ আয়োজনের চেষ্টাকে গুরুত্ব দেয়া, যেখানে সব বিশ্বাসের ধর্মীয় নেতাদের অংশগ্রহণ থাকবে।’

মস্কো আন্তঃধর্মীয় সংলাপের পক্ষে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মুখপাত্র বলেন, মিয়ানমারের বিভিন্ন মুসলিম নৃগোষ্ঠীর নেতৃত্ব দানকারী সংগঠনগুলোর প্রকাশিত সমন্বিত বিবৃতি সম্পর্কে রাশিয়া জানে। ওই বিবৃতিতে মৌলবাদীদের দ্বারা রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে।মিয়ানমার-রোহিঙ্গা-রাশিয়া

‘আমরা (রাশিয়া) মিয়ানমার সরকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছি এবং জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি যেন ধর্মীয় নেতারা কোনো চরমপন্থি শক্তির উস্কানিকে গুরুত্ব না দেন,’ বলেন তিনি।

জাখারোভা বলেন, মিয়ানমার সরকার দেশের ভেতরে থাকা বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের আবার ঘরে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

‘এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্ত অনুসারে, দু’হাজারের মতো মানুষ তাদের ঘরে ফিরে গেছে,’ বলেন তিনি। অন্যান্য যারা উদ্ভূত সঙ্কটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্যও একই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে রুশ মুখপাত্র আশা প্রকাশ করেন।

সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিবের কমিশনের দেয়া সুপারিশমালা বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে সরকারের প্রশংসা করেন জাখারোভা। এ উদ্দেশ্যে দেশটির সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ কমিটিও গঠিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সঙ্কট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট।

রোহিঙ্গা-মিয়ানমার৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।

সেনাবাহিনীর ওই হামলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫শ মানুষ মারা গেছে, আর প্রাণভয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বাংলাদেশে। নৌপথে পালিয়ে আসার পথে নৌকাডুবিতেও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন না করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই হত্যাকাণ্ড শুরু করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় পুলিশের নির্যাতনে মাদ্রাসা সুপার নিহতের অভিযোগ, পুলিশের অস্বীকার

আসাদুজ্জামান : আটকের ২৪ ঘণ্টা পর পুলিশের নির্মম নির্যাতনে এক মাদ্রাসা সুপার সাতক্ষীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।
তবে পুলিশ বলছে ওই শিক্ষক মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় মারা গেছেন। তাকে নির্যাতন করা হয়নি।
নিহত মওলানা সাঈদুর রহমান (৪৮) কলারোয়ার হঠাৎগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার সুপার। তিনি সদর উপজেলা কাথন্ডা গ্রামের দিলদার সরদারের ছেলে। বৃহস্পতিবার রাত ১ টায় সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাকে দুটি নাশকতার মামলায় বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
তার পরিবারের লোকজন বলছেন, “গ্রেফতারের পর মওলানা সাঈদুর রহমানকে কাথন্ডা বাজারে নিয়ে আসা হয়। এ সময় তাকে নির্মমভাবে মারপিট করে পুলিশ। তার অবস্থা খারাপ হতে থাকায় তাকে সেখানকার পল্লী চিকিৎসক আবদুল্লাহর চেম্বারে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ায় পুলিশ। এ সময় তার ভাতিজা মুত্তাসিম বিল্লাহ ৫ হাজার টাকা এনে চাচাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু পুলিশ তার কাছে দাবি করে এক লাখ টাকা। এ টাকা দিতে না পারায় মাদ্রাসা শিক্ষককে নিয়ে আসা হয় সাতক্ষীরা থানায়। সেখানেও তাকে নৃশংসভাবে নির্যাতন করতে থাকে পুলিশ।”
নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম ও ভাতিজা মুত্তাসিমবিল্লাহর অভিযোগ করে বলেন, “শুক্রবার দিনভর পুলিশ হেফাজতে রেখে তার ওপর দফায় দফায় নির্যাতন করা হলে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আদালতে নেওয়া হলে কর্তৃপক্ষ তার অসুস্থতা দেখে সাঈদুর রহমানকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে পুলিশ তাকে ফের নিয়ে যায় সাতক্ষীরা হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা দিয়ে কিছুটা সুস্থ করার পর বিকাল ৫ টায় মওলানা সাঈদুরকে পুলিশ ফের আদালতে নিয়ে যায়। বিকালে মওলানা সাইদুরকে আদালত সাতক্ষীরা কারাগারে পাঠায়।”
সাতক্ষীরা কারাগারের জেল সুপার হাফিজুর রহমান জানান, “কারাগারের মধ্যে ওই রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় কারা হাসপাতালে। মধ্যরাতে তাকে স্থানান্তর করা হয় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা চলছিল।”
সাতক্ষীরা হাসপাতালের আরএমও ডা. ফরহাদ জামিল বলেন, হাসপাতালে আনার পর তার চিকিৎসা চলছিল। ভোরে মারা যান তিনি। লাশের ময়না তদন্ত হবে। তিনি নিহত মাদ্রাসা শিক্ষক মওলানা সাঈদুরের দেহে নির্যাতনের চিহ্ণ পাওয়া গেছে বলে জানান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর থানার এসআই মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি তাকে গ্রেফতার করলেও নির্যাতন করিনি। তার কাছে ঘুষও চাইনি। আগে থেকেই তিনি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অসুস্থ ছিলেন। গ্রেফতারের পর তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর পর তার মৃত্যু সম্পর্কে আর কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মিয়ানমারে ফের সেনা বিদ্রোহের শঙ্কা!

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নিপীড়নের ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটির সরকার। আর এই সংকট থেকেই মিয়ানমারে ফের সেনা বিদ্রোহের আশঙ্কা করছেন দেশটির ক্যাথলিক ধর্মগুরু কার্ডিনাল চার্লস মং বোসেনা।

বৃহস্পতিবার টাইম ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সু চির অবস্থান নড়বড়ে। মিয়ানমারে গণতন্ত্র এখনও ভঙ্গুর। সুচি ২০১৫ সালের নির্বাচনে জয় পেলেও এখন সেনাশাসন ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ডার্ক ফোর্স। একটি ভুল পদক্ষেপেই তিনি ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন এবং মিয়ানমারে গণতন্ত্রের স্বপ্নের মৃত্যু ঘটতে পারে। ’

টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের ৭০ বছরের ইতিহাসে ৫৫ বছরই শাসন করেছে সেনাবাহিনী। সেনারা সুচিকে দীর্ঘ ১৫ বছর গৃহবন্দি রেখেছিল। ২০১৫ সালে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর অং সান সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি ক্ষমতায় এলেও সেনাবাহিনী এখনও সর্বেসর্বা, সংসদে ২৫ ভাগ আসন তাদের নিয়ন্ত্রণে। প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র ও সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রণালয়গুলোও সেনাবাহিনীর দখলে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাকে ফের ক্ষমতাচ্যুত করা হতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১০০ কোটির সম্পত্তি ছেড়ে সন্ন্যাস জীবনের পথে!

৩৫ বছরের সুমিত রাঠৌর এবং তাঁর ৩৪ বছরের স্ত্রী অনামিকা। এই দম্পতির মালিকানায় রয়েছে ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি।
রয়েছে ৩ বছরের একটি ফুটফুটে শিশুও। কিন্তু এসব ছেড়ে সন্ন্যাস জীবন বেছে নিতে চলেছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের এই জৈন দম্পতি। তাঁদের এই সিদ্ধান্তে শুধু পরিবার নয়, হতবাক গোটা সম্প্রদায়।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবর, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সুধামার্গি জৈন আচার্য রামলাল মহারাজের কাছে তাঁরা দীক্ষা নেবেন। সন্ন্যাসী হওয়ার এটাই প্রথম ধাপ।

বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের নিমাচে বসবাস করছেন এই দম্পতি। এদের মধ্যে অনামিকা হলেন নিমাচের প্রথম গোল্ড মেডালিস্ট। অষ্টম শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষায় তিনি এই সম্মান পান। পরে রাজস্থানের মোদী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাস করে হিন্দুস্তান জিঙ্কে কাজ শুরু করেন। অন্য দিকে সুমিত লন্ডন থেকে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ম্যানেজমেন্টে ডিপ্লোমা করেছেন। সেখানেই দু’বছর থাকার পর পারিবারিক ব্যবসা সামলাতে নিমাচে ফিরে আসেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২২ অাগস্ট সুমিত ও তাঁর পরিবার সুরাতে জৈন আচার্য রামলালের এক অনুষ্ঠানে যান। সেখানেই সুমিত তাঁর সিদ্ধান্তের কথা আচার্যকে জানান। আচার্য রামলাল স্ত্রীর অনুমতি চাইতে বললে অনামিকা জানান, তিনিও সন্ন্যাসী হতে চান।

সুমিত বা অনামিকা অবশ্য তাঁদের পরিবারের কাছে আগেই সন্ন্যাসী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এসময় তাদের দু’জনের পরিবারই তাদের বুঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি বলে জানিয়েছেন বিজেপির নিমাচ জেলার সাবেক সভাপতি ও অনামিকার বাবা অশোক চান্ডালিয়া।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে আজ নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, শরিবার বেলা দুইটায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আবুধাবির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
রবিবার সকালে তিনি ইত্তিহাদ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে আবুধাবি ছেড়ে যাবেন।

যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। খবর: বাসস’র।

নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত-এ অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরবেন এবং এই সমস্যা সমাধানে বিশ্ববাসীর সহযোগিতা কামনা করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরবেন। একইদিন তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতরেসের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করবেন বলেও জানা গেছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও ভার্জিনিয়ায় অবস্থান করে জাতিসংঘ অধিবেশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রক্তপিপাসু এক বর্মী জেনারেল

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংর্ঘষে মিয়ানমার সেনাকমান্ডার মিন অং হ্লাইং এর নির্দেশে আরাকান রাজ্যে এক সহিংস অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। বিদ্রোহী রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও পুলিশ হামলা চালিয়েছে দাবি করে সাম্প্রতিক এই রোহিঙ্গা নিধনে নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

এই হামলায় এখন পর্যন্ত পাচঁ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছে চার লাখ মানুষ, এক লাখ মানুষ দেশের ভেতর স্থানান্তরিত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের কে জীবিত পুড়িয়ে তাদের ঘরে হত্যা করা হয়েছে, এমনকি মিয়ানমার সরকারী সেনাবাহিনী, ভিক্ষু, অস্ত্রধারী সরকারী গোষ্ঠি রোহিঙ্গা শিশুদেরকে হত্যা করছে বলে জানিয়েছে হাফপোস্ট। সারাবিশ্ব এই ঘটনায় অং সান সুচিকে দায়ী করে নিন্দা জ্ঞাপন করে আসছে। রোঙ্গিার উপর চালানো আক্রমণকে পাঠ্য বইয়ের জাতিগত নির্মূলের নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা।

এই রোহিঙ্গা নিধনের নেপথ্য রয়েছে সেনাবাহিনীর কমান্ডার মিন অং হ্লাইং। তিনিই প্রথম রোহিঙ্গাদের শুট করার নির্দেশ দেন। মিয়ানমার সরকার পরিচালিত হচ্ছে সেনাসমর্থিত সরকারের মাধ্যমে। এমনকি তাদের সংবিধান সামরিক-খসড়া সংবিধান হওয়ায় সেনাবাহিনীর উপর সুচি ‘র কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। সুতরাং বেসামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার থাকা সত্ত্বেও মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সেদেশের পুলিশ, সিকিউরিটি সার্ভিসেস, জেল, সীমান্ত বিষয়, বেসামরিক নিয়োগসহ পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ সদস্য নিয়োগ করার ক্ষমতা রাখে।

সংবিধান সংশোধনী আনার জন্য সংসদের ৭৫% ভোটের প্রয়োজন হয়। তাই মিন অং চাইলেই সংবিধান সংশোধনীতে ভেটো দেয়ার বড় ধরণের ক্ষমতা রাখেন। এজন্য তাকে মিয়ানমারের অস্ত্রধারী দ্বিতীয় সরকার বলা হয়।

মিয়ানমার সেনাকমান্ডার মিন অং হ্লাইং কে যুদ্ধাপরাধের সমান অন্যায় করছেন। তিনি সেনাবাহিনীকে বিশ্বের মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে খারাপ ভাবে পরিচালনা করছেন। তার বাহিনী সম্প্রতি রোহিঙ্গা হামলার পিছনেই শুধু নয় মিয়ানমারের অন্য জাতী গোষ্ঠির উপর হামলা চালিয়েছে বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। শুধু রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী অত্যাচার চালায়নি এছাড়াও আরো দুটি রাজ্যে এরকম হামলা চালিয়ে গৃহযুদ্ধ বাধিয়েছেন।

তিনি এ বছর এশিয়ায় ভারত, জাপানসহ জামার্নির রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। জাতিগত উৎখাতের ব্যাপারে থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা পৌছান। সবকিছু মিলিয়ে তিনি জাতিগত উৎখাতের যে ক্যাম্পেইন করেছিলেন তাতে সফল হয়েছেন।

তবে এভাবে বৈদেশিক সাহায্য সহযোগিতার হাত যদি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দিকে চলতে থাকে তাহলে চলমান সমস্যার সমাধান অনিশ্চিত। কুটনৈতিক, অর্থনৈতিক, আইনগতভাবে মিন অং হ্লাইং উপর আন্তর্জাতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে সামরিক মহড়া, সামরিক সহায়তা, এবং সেনাবাহিনীর বদলে পুলিশকে জরুরী অবস্থায় নামাতে হবে। সেনা সমর্থিত সকল কোম্পানি বন্ধ ঘোষণা করা উচিৎ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন সুষমা স্বরাজ

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে এ বছরও যোগ দিচ্ছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । তার পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির প্রতিনিধিত্ব করছেন।

জানা যায়, ভারতের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এবার নিউইয়র্ক সফর করছেন। তাই তিনিই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে চান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: কালিগঞ্জে আছানুর আটক

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, কালিগঞ্জ: উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজার গ্রাম রহিমপুর গ্রামের এক কলেজ ছাত্রীকে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ায় ধর্ষক কলেজ ছাত্র আছানুরকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজার গ্রাম রহিমপুর এলাকার মোঃ বাবর আলী গাজীর কন্যা ও রোকোয়া মনসুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর সাথে কালিগঞ্জ কেন্দ্রীয় দাখিল মাদ্রাসার দপ্তরী (অবঃ) ইব্রাহিমের পুত্র আছানুর রহমান (২২)এর সাথে দীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক চলতে থাকে। এই প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে লম্পট আছানুর তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ ধর্ষণ করে আসছিল। এমনকি লম্পট আছানুর ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখিয়ে তাছলিমাকে ঢাকায় নিয়ে স্বামী স্ত্রীর পরিচয়ে বাসা ভাড়া করে, বিয়ে না করে ২ বছর যাবৎ তার সাথে সংসার করে আসছিল। এদিকে ভিকটিমের অভিভাবক জানত সংসারে অভাবের জন্য ও পড়ালেখার খরচ চালাতে সে ঢাকাতে একটি পোশাক কোম্পানিতে কাজ করছে। ঢাকাতে অবস্থান রত অবস্থায় ভিকটিম আছানুরকে বার বার বিয়ের তাগিদ দিলেও লম্পট আছানুর কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যেত। অবশেষে ভিকটিম বুঝতে পারে লম্পট আছানুর তাকে বিয়ে করবে না। সে জন্য মনের কষ্ট বুকে চেপে রেখে গ্রামে বাবা মায়ের কাছে ফিরে আসে। কিন্তু তারপরও ভিকটিমের পিছু ছাড়েনি আছানুর। ভিকটিম গ্রামে ফিরে আসার কিছু দিন পর আছানুর গ্রামে ফিরে এসে আবার ও তাকে ফুসলাতে থাকে।এক পর্যায়ে তাকে আবারও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে নিজের স্ত্রী পরিচয়ে লম্পট আছানুর তার দূরসম্পর্কের আত্বীয় উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের বাহাউদ্দিন কারিগরের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে সুযোগ বুঝে তাকে আবারও ধর্ষণ করে। এরপর ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে মৌতলা বাজারে এসে পৌছালে বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এসময় স্থানীয় গ্রামবাসী দুজনের মধ্যে ঝগড়ার কারণ জানতে চাইলে মেয়েটি সব কিছু তাদের কাছে খুলে বলে। এসময় ভিকটিম আছানুরকে বিয়ের জোর দাবি জানায়, অবশেষে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাদেক হোসেন থানায় খবর দিলে কালিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক প্রকাশ ঘোষ তাদেরকে আটক করে নিয়ে আসে। এরপর কলেজ ছাত্রী ভিকটিমের পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে তার পিতা মোঃ বাবর আলী গাজী বাদি হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছে (মামলা নংÑ১২)। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে থানার অফিসার ইনচার্জ লস্কর জায়াদুল হক বলেন বাদির মামলার ভিত্তিতে ধর্ষক আছানুরকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্নের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest