সর্বশেষ সংবাদ-
জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাআঙ্গুল : গার্লস স্কুলে ভর্তি নিচ্ছে না প্রধান শিক্ষকজাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরা ইউনিটের সদস্য সচিব এবং সদস্য -এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বিবৃতিদিবা-নৈশ কলেজের অধ্যক্ষের বাগান বাড়ির চার শতাধিক গাছ কেটে ক্ষতিসাধনআগামীকাল রবিবার থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৩ দিনের ছুটিসুন্দরবনে টহল চলাকালে ডাকাত সন্দেহে গুলিবর্ষণ-অস্ত্র উদ্ধারতালা প্রেসক্লাব নির্বাচন: সভাপতি সেলিম- সম্পাদক ফারুক জাতীয় দৈনিক বাণিজ্য প্রতিদিনে যুক্ত হলেন কাজী সাজেদুর রহমানA Guide to Understanding N1 Casino Deposit Bonus Terms and Conditionsসুন্দরবনে সাপের কামড়ে মৌয়ালী আহত : হাসপাতালে ভর্তিПодробный ggbet review для оценки всех аспектов казино

বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপতির নিকট মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত প্রধান বিচারপতির চিঠি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিদেশে যাওয়ার জন্য অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে একটি চিঠি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে চিঠিটি আইন সচিবের দফতরে এসে পৌঁছায়।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ তথ্য জানিয়ে বলেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে যাওয়ার জন্য অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপতির নিকট চিঠি পাঠানোর কথা শুনেছি, তবে আমার হাতে এখনো আসেনি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি শারীরিকভাবে অসুস্থ ও মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত। বিদেশে তাঁর বিশ্রাম প্রয়োজন। চিঠি পাওয়ার বিষয়ে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক দুলাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হ্যাঁ, প্রধান বিচারপতি মহোদয় বিদেশ যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিটি আইন মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যাবে।

গত অক্টোবর এক মাসের ছুটির আবেদন করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ছুটির কারণ হিসেবে তিনি ‘অসুস্থতা’র কথা উল্লেখ করেন। সেদিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘দীর্ঘ এক মাস অবকাশ শেষে কোর্ট খোলার পর প্রথম দিন থেকেই তিনি ছুটিতে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর অবর্তমানে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহাব মিঞা দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রসঙ্গত, বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১ আগস্ট প্রকাশের পর থেকে মন্ত্রী-এমপিদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধান বিচারপতি। জাতীয় সংসদেও তাঁর সমালোচনা করা হয়। এর আগে গত ১০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি দেশের বাইরে ছুটিতে ছিলেন। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফেরেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইতিহাস গড়েছে শ্রীলঙ্কা

ইতিহাস গড়েছে শ্রীলঙ্কা

কর্তৃক Daily Satkhira

লক্ষ্য ৩১৭ রান। এই রান তাড়া করতে নেমে গতকালই ১৯৮ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের শেষ দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর শত চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে পাকিস্তান। আজ মঙ্গলবার আরো ৫০ রান যোগ করেই বাকি পাঁচ উইকেট হারিয়ে পরাজয় বরণ করে নেয় তারা।

ম্যাচে পাকিস্তান হেরেছে ৬৮ রানে। আর তাই সিরিজ হেরেছে তারা ২-০তে। এই ম্যাচ জিতে নতুন একটি ইতিহাস গড়ছে শ্রীলঙ্কা। প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে তারা। তার চেয়ে বড় কথা, তৃতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৬ রানে অলআউট হয়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটিতে জিতে যায় তারা। টেস্ট ক্রিকেটে এটি চতুর্থ ঘটনা।

ম্যাচে শ্রীলঙ্কা টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৪৮২ রান করে। এ ইনিংসে সর্বোচ্চ সংগ্রহ দিমুথ করুনারত্নের ১৯৬ রান। জবাবে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ২৬২ রান করে তাই শ্রীলঙ্কা ২২০ রানের লিড পায়। কিন্তু তৃতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কা মাত্র ৯৬ রানে ইনিংস গুটিয়ে নিলে পাকিস্তানের সামনে তিন শতাধিক রানের লিড দাঁড় করাতে সক্ষম তারা। শেষ পর্যন্ত এই সংগ্রহ নিয়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয় তারা। গড়তে পেরেছে ইতিহাসও।

এই সিরিজ জিতে শ্রীলঙ্কা যেন তাদের হারানো ঐতিহ্য কিছুটা হলেও ফিরে পেয়েছে। এর আগে প্রথম টেস্টেও চমক জাগানিয়া জয় তুলে নিয়েছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সে ম্যাচে তারা ২১ রানে হারিয়েছিল পাকিস্তানকে।

শুধু তাই নয়, দারুণ এই সিরিজ জয়ে পাকিস্তানকে সাতে নামিয়ে আইসিসি টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে শ্রীলঙ্কা উঠে গেছে ছয়ে। ২০০০ সালের পর এই প্রথম দেশের বাইরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে শ্রীলঙ্কা। আর তাদের বিপক্ষে এটি শ্রীলঙ্কার ষষ্ঠ সিরিজ এবং ১৬তম টেস্ট জয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, মিয়ানমার সুপরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করে যাচ্ছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সন্ত্রাস এখনো বহাল।
১৬ অক্টোবর ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট : বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ ও পর্যালোচনা’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পর রাখাইন রাজ্যে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। ২৮৪ গ্রাম পোড়ানো হয়েছে। ৫ লাখের অধিক বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখন তা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না করে তাদের জোর করে মিয়ানমার পাঠানো যাবে না। আন্তর্জাতিক চাপ না দিলে এ সমস্যার সমাধান করবে না মিয়ানমার। আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ক্যান্সার দূরে রাখবে যেসব খাবার

চাকরি, ঘর আবার চাকরি। আর এরই ফাঁদে বন্দী হয়ে অনেক সময়ই নিজেদের শরীরের দিকে নজর দিতে পারি না।

দিন দিন এই অবহেলাই শেষমেশ বিপদের দিকে টেনে নিয়ে যায় আমাদের। এরকমই এক বিপদের নাম ক্যান্সার! তবে খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন যদি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন সবজি রাখা যায়, তাহলে সহজেই এই মরণ রোগ থেকে দূরে রাখা যায় নিজেকে।

গাজর: গাজর অনেক পুষ্টিগুণ ও ভিটামিনে ভরপুর খাদ্য। আর এই গাজরে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারটিন আছে যা বিভিন্ন ক্যান্সার যেমন ফুসফুস ক্যান্সার, শ্বাসনালি ক্যান্সার, পাকস্থলী ক্যান্সার, অন্ত্র ক্যান্সার এমনকি স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে। প্রতিদিন একটি গাজর বা এক গ্লাস গাজরের রস পান করলে এসব ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

রসুন: অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যারা রসুন খান তাদের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা অনেক কম থাকে। এটি ক্যান্সারের জীবাণু প্রতিরোধ করে। কিছু ক্যান্সারের জীবাণু ভেঙে ফেলে।

টমেটো: টমেটো হচ্ছে ‘নিউট্রিশনাল পাওয়ারহাউস’ যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। টমেটোতে লাইকোপেন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা হৃদরোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে থাকে। টমেটোতে ভিটামিন এ, সি, এবং ই থাকে যা কিনা ক্যান্সারবান্ধব মৌলের শত্রু। টমেটোর রস ক্ষতিকর ডিএনএ এর কোষ নষ্ট করে ফেলে। তাই সপ্তাহে ২ থেকে ৩টি টমেটো খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত।

বাদাম: বাদামে প্রচুর পুষ্টিগুণ থাকে। আর হৃদপিণ্ডের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ফ্যাট থাকে বাদামের মধ্যে। যদি আপনি ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ক্ষুধাহীনতায় ভুগে থাকেন অথবা ওজন কমাতে চান তাহলে বাদাম সবচেয়ে ভালো, কারণ অল্প পরিমাণ বাদাম আপনাকে অনেক পরিমাণ পুষ্টি প্রদানে সক্ষম। বাদামে সেলেনিয়াম নামক অ্যান্টি ক্যান্সার উপাদান বিদ্যমানের কারণে কোলন, ফুসফুস এবং অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কে এই ‌’ব্লু হোয়েল’ নির্মাতা?

এ সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত একটি মরণ খেলা বা সুইসাইড গেমের নাম ‘ব্লু হোয়েল’। প্রযুক্তি নির্ভর এই ভয়ঙ্কর গেমটি নেশার ফাঁদে পড়ে আত্মহত্যা করতেও পিছপা হচ্ছে না তরুণ-তরুণীরা।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মরণঘাতী এই গেমের নির্মাতা কে? কেনই বা তৈরি করলেন এই গেম? চলুন জেনে নিই এ সম্পর্কে-

গেমটির নাম ‘ব্লু হোয়েল’ বা Blue whale বাংলা করলে এর অর্থ দাঁড়ায় ‘নীল তিমি’। গেমটির নির্মাতার নাম ফিলিপ বুদেকিন। ফিলিপ রাশিয়ার নাগরিক। তার ডাকনাম ফিলিপ ফক্স।

১৮ বছর বয়সে ফিলিপ ২০১৩ সালে প্রথমে ব্লু হোয়েল নিয়ে কাজ শুরু করেন। প্রথমে তিনি সামাজিকমাধ্যমে ‘এফ৫৭’ নামে একটি গ্রুপ তৈরি করেন। এরপর ৫ বছরের জন্য একটি পরিকল্পনা করেন। ৫ বছরের মধ্যে যেসব মানুষ সমাজের জন্য অপ্রয়োজনীয় (তার মতে) তাদের ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেন।

ফিলিপ যখন এই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন তখন তিনি রাশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। তিনি সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর পড়াশোনার পর ব্লু হোয়েলের বিষয়টি প্রকাশ হলে ২০১৬ সালে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ওই সময়ে তাকে গ্রেফতার করে রাশিয়ার আইনশৃংখলা বাহিনী। গত মে মাসে এক গোপন বিচারের মাধ্যমে ফিলিপকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে দণ্ডভোগ করছেন বলে জানিয়েছে ডেইলি মেইল।

ব্লু হোয়েল গেম কীভাবে কাজ করে? ব্লু হোয়েল মোটেও ইন্টারনেট ভিত্তিক অন্যান্য সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন কিংবা নিছক গেম নয়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক একটি ডিপওয়ে গেম। বলা হচ্ছে, যেসব কম বয়সী ছেলে-মেয়ে অবসাদে ভোগে, তারাই অসাবধানতাবশত এই গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো ক্লান্তি বা বিষণ্নতা দূর করার গেম নয়। আত্মহত্যার প্রবেশপথ মাত্র।

নেট বা গুগল কোথাও খুঁজে পাবেন না এই গেম, খুঁজে পেতে পারেন কারো পাঠানো কোনো
গোপন লিংকের মাধ্যমে। এটি একটি সুইসাইড গেইম অর্থাৎ গেম খেললে মৃত্যু অনিবার্য। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন – একটি গেম খেললে কিভাবে মৃত্যু হবে?

‘ব্লু হোয়েল’ বা Blue whale এর অর্থ নীল তিমি। নীল তিমিরা মৃত্যুর আগে সাগরের তীরে উঠে আসে – তারা আত্মহত্যা করে বলে অনেকের ধারণা! একারণেই গেমের নাম রাখা হয়েছে ‘Blue whale’ বা নীল তিমি। গেমের ৫০টি ধাপ রয়েছে। মনে রাখবেন – একবার গেমটি ইনস্টল করলে তাকে গেমের সবগুলো স্তর শেষ করার করার জন্য বাধ্য করবে অ্যাডমিন। মানে নিশ্চিত মৃত্যু।

২০১৩ সালে F57 নামক রাশিয়ান একটি হ্যাকার টিম এই গেমটি তৈরি করেছিল। তবে ২০১৫ সালে VK. com নামক সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয়তা পায় এবং প্রচুর ডাউনলোড হয় গেমটি। রাশিয়ায় এই গেম খেলে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৫১ জন এবং রাশিয়ার বাইরে মারা গেছে ৫০ জন।

কেন গেমটি থেকে বের হওয়া যায় না ? গেমটি মূলত একটি ডার্ক ওয়েভের (dark wave) গেম। ডার্ক ওয়েভ হলো ইন্টারনেটের অন্ধকার জগৎ। মনে রাখবে- গেমটি আপনি একবার ডাউনলোড করলে আর কখনোই আনইনস্টল করতে পারবেন না। গেমটি আপনার ফোনের সিস্টেমে ঢুকে আপনার আপনার আই পি এড্রেস, মেইলের পাসওয়ার্ড, ফেসবুক পাসওয়ার্ড কনট্যাক্ট লিস্ট, গ্যালারী ফটো এমনকি আপনার ব্যাংক ইনফর্মেশান! আপনার লোকেশান ও তারা জেনে নিচ্ছে! আর এসব তারা করছে খুব কৌশলে।

‘ব্লু হোয়েল’ গেম ওপেন করা মাত্র আপনাকে একজন অ্যাডমিন পরিচালনা শুরু করবে। গেমটির প্রথম দশটা লেভেল খুবই আকর্ষনীয়। ইউজার অ্যাডমিন কিছু মজার মজার নির্দেশনা দেন – যেমন রাত তিনটায় ঘুম থেকে উঠে হরর ছবি দেখা, চিল্লাচিল্লি করা, উঁচু ছাদের কিনারায় হাঁটাহাঁটি করা, পছন্দের খাবার খাওয়া ইত্যাদি। এ কারণে গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন কিশোর-কিশোরীরা। আর এই কৌশলেই অ্যাডমিন হাতিয়ে নেবেন আপনার পার্সোনাল ইনফরমেশন। যা চলবে ১৫ লেভেল পর্যন্ত।

এরপর শুরু হবে পরের লেভেলগুলো ভয়ংকর সব টাস্ক। ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা, সারা গায়ে আঁচড় কেটে রক্তাক্ত করা, কখনো ভোরে একাকি ছাদের কার্নিশে ঘুরে বেড়ানো, রেল লাইনে সময় কাটানো, ভয়ের সিনেমা দেখা ইত্যাদি। চ্যালেঞ্জ নেয়ার পর এসব ছবি কিউরেটরকে পাঠাতে হয়। একবার এই গেম খেললে কিউরেটরের সব নির্দেশই মানা বাধ্যতামূলক। তার শেষের দিকের লেভেলে আত্মনির্যাতনমূলক বিভিন্ন টাস্ক সামনে এলেও কিশোর-কিশোরীরা এতটাই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে, গেম ছেড়ে বের হতে পারে না। আর এরই মধ্যে কৌশল পরিবর্তন করে অ্যাডমিন। আপনি টেরই পাবেন না প্রথম বিশ ধাপে সংগ্রহ করে ফেলা আপনার তথ্যের উপর ভিত্তি করে আপনাকে মোহাক্রান্ত বা হিপনোসিস পদ্ধতি প্রয়োগ শুরু করা হবে। আপনি তখন ভাববেন এই গেম ছাড়া আপনার বেঁচে থাকা অসম্ভব। একই সঙ্গে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে দুর্ব্যবহারর মাধ্যমে আপনাকে কৌশলে নিঃসঙ্গ মানুষ বানিয়ে ফেলা হবে।

পঁচিশ লেভেলের পর নির্দেশনা আসবে মাদক বা ড্রাগ নেবার! এভাবেই সম্মোহিত করে করে আপনাকে তিরিশ লেভেল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। আর ৩১তম লেভেলে আপনার নগ্ন ছবি চাওয়া হবে! আপনি হিপনোসিস ও মাদকের কারণে নিজের নগ্ন ছবি পাঠাতেও চিন্তা করবেন না, ড্রাগ নেবার মাত্রা বাড়াতে থাকবেন আপনি!

এরপর নির্দেশনা আসবে আপনার ভালোবাসার মানুষের সাথে সেক্স করে গোপনে ছবি তুলে আপলোড করতে বা নিজের শরীরে একাধারে শ’ খানেক সুঁই ফোটাতে এবং ফটো আপলোড করে পাঠাতে। এভাবেই চলে যাবেন আপনি ৪০তম লেভেলে! এরপর আপনার জ্ঞান ফিরবে, বাঁচার আকুতি জানাবেন আপনি, কাঁদবেন আর বলবেন দয়া করে গেমটি আনইনস্টল করুন।

ওপরে বলা হয়েছে এই গেমে একবার ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না। সেটার ব্যাখ্যা ইতিমধ্যে আপনি পেয়ে গেছেন। তারপরও বলে রাখা ভালো, এই পর্যায়ে আপনাকে ব্ল্যাকমেইলিং করবে অ্যাডমিন। কারণ আপনি বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন, আর গেমার টিম বা অ্যাডমিন তখন আপনারই পাঠানো সকল তথ্য ফাঁস করে দেবার হুমকি দেবে। কারণ নগ্ন ছবিসহ আপনার যাবতীয় তথ্য তখন তাদের হাতে থাকবে। তখন আপনি বাধ্য হয়ে প্রবেশ করবেন। এরই ধারাবাহিকতায় গেমের শেষ ধাপ অর্থাৎ ৫০তম ধাপে ইউজারদের এমন কিছু টাস্ক দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ করা মানেই আত্মহত্যা। আর এর মাধ্যমেই ঘটে গেমের সমাপ্তি।

ব্লু হোয়েলে আসক্তদের চিনবেন কীভাবে- যেসব কিশোর-কিশোরী ব্লু হোয়েল গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে তারা সাধারণভাবে নিজেদের সব সময় লুকিয়ে রাখে। স্বাভাবিক আচরণ তাদের মধ্যে দেখা যায় না। দিনের বেশিরভাগ সময় তারা কাটিয়ে দেয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। থাকে চুপচাপ। কখনও আবার আলাপ জমায় অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে। গভীর রাত পর্যন্ত ছাদে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় অনেককে। একটা সময়ের পর নিজের শরীরকে ক্ষত-বিক্ষত করে তুলতে থাকে তারা।

এই মরণ ফাঁদ থেকে বাঁচার জন্য মনোবিজ্ঞানীরা কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন। সেগুলো হচ্ছে-

প্রথমতো আপনাকেই সচেতন হতে হবে। কেন আপনি অপরের নির্দেশনায় কাজ করবেন। আপনি যাকে কখনও দেখেননি, যার পরিচয় জানেন না, তার কথায় কেন চলবেন বা তার কথামতো কেন কাজ করবেন- সেটি নিজেকেই চিন্তা করতে হবে। এরকম কোনো লিংক সামনে এলে তাকে এড়িয়ে চলতে হবে। সমাজের তরুণ-তরুণীদের মাছে এই গেমের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে হবে।

সন্তান, ভাই-বোন বা নিকটজনকে মোবাইলে ও কম্পিউটারে অধিক সময়ে একাকী বসে থাকতে দেখলে সে কী করছে, তার খোঁজ-খবর নিতে হবে। সন্তানকে কখনও একাকী বেশি সময় থাকতে না দেয়া এবং এসব গেমের কুফল সম্পর্কে বলা।

সন্তানদের মাঝে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মানসিকতা সৃষ্টি করা। যাতে তারা আত্মহত্যা করা বা নিজের শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করা অনেক বড় পাপ- এটা বুঝতে পারে। সন্তান ও পরিবারের অন্য কোনো সদস্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত কিনা- সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা। কেউ যদি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয় তাকে সঙ্গ দেয়া।

কৌতূহলি মন নিয়ে এই গেমটি খেলার চেষ্টা না করা। কৌতূহল থেকে এটি নেশাতে পরিণত হয়। আর নেশাই হয়তো ডেকে আনতে পারে আপনার মৃত্যু।

এ পর্যন্ত ব্লু হোয়েল পৃথিবীর কোন কোন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, তার সঠিক হিসাব নেই। তবে রাশিয়া, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, চিলি, চীন, ভারত, ইটালি, কেনিয়া, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, সৌদি আরব, সাইবেরিয়া, স্পেন, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও উরুগুয়ে ব্লু হোয়েল শনাক্ত হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্যানেল অবৈধ: হাইকোর্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য নির্বাচনের জন্য গঠিত প্যানেলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নতুন সিনেট গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) এ আদেশ দেন।
হাইকোর্টের আদেশে বিচারক আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ সিনেট গঠন করে উপাচার্য (ভিসি) প্যানেল মনোনয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বিস্তারিত আসছে…

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কঠিন সমীকরণ সামনে নিয়ে আজ খেলবে  আর্জেন্টিনা, রয়েছে শঙ্কাও!

২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের পরবর্তী আসর। আর এ আসরকে সামনে রেখে বাছাই পর্বে কঠিন প্রতিযোগিতা হচ্ছে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। কিন্তু বাছাই বাধা অতিক্রম করতে কঠিন সমীকরণে পড়ে গেছে আর্জেন্টিনা।

বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে স্বাগতিক ইকুয়েডরের বিপক্ষে মাঠে নামবে সাম্পাওলির শিষ্যরা। রাশিয়ার টিকিট পেতে হলে ওই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিততেই হবে মেসিদের পাশাপাশি চেয়ে থাকতে হবে আরও দুটি ম্যাচের ফলাফলের দিকে।

কারণ পয়েন্ট টেবিল বলছে, দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে ১৭ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উরুগুয়ে। এরপর সমান ২৬ পয়েন্ট অর্জন করেছে চিলি ও কলম্বিয়া। তবে গোল ব্যবধানে চিলি এগিয়ে আছে। পেরু ও আর্জেন্টিনার অর্জন ২৫ পয়েন্ট করে। তবে গোল ব্যবধানে বেশ পিছিয়ে মেসিরা। তাই সরাসরি বিশ্বকাপে যেতে আজ জিততেই হবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে।

আর ব্রাজিলের কাছে হারতে হবে চিলিকে। পেরু ও কলম্বিয়ার ম্যাচ ড্র এবং আর্জেন্টিনা জিতলে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে মেসিরা। আর পেরু ও কলম্বিয়ার ম্যাচে যদি জয় পরাজয় নিশ্চিত হয়। এবং আর্জেন্টিনা ইকুয়েডরের বিপক্ষে জয় পায় তাহলে প্লে অফ খেলতে হবে ডি মারিয়াদের। তবে শঙ্কাও রয়েছে আর্জেন্টিনার। কারণ এই ইকুয়েডরের বিপক্ষেই প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হেরেছে নীল-সাদা জার্সিধারীরা।

আর বড় কোও অঘটন ঘটলে রাশিয়া বিশ্বকাপে দর্শকের সারিতেই বসে থাকতে হতে পারে পাঁচ বারের ব্যাল ডি অর জয়ী লিওনেল মেসিকে।

প্রসঙ্গত, লাতিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে সরাসরি চারটি দল বিশ্বকাপ খেলবে এবং পঞ্চম দল প্লে অফ খেলবে ওশেনিয়া অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। প্লে অফ খেলতে আর্জেন্টিনাকে অবশ্য পয়েন্ট টেবিলের পাঁচ নম্বরে থাকতে হবে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে সরাসরি খেলবে লাতিন অঞ্চলের শীর্ষ চার দল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
লুটপাটে রাখাইনে খাদ্য সংকট, বাংলাদেশে আসছে ‘রোহিঙ্গারা’
মিয়ানমার সামরিক জান্তা ও তাদের দোসর’রা রাখাইন রাজ্যের মানব শূন্য গ্রামগুলোতে হানা দিয়ে বাড়িগুলো পুড়িয়ে দিচ্ছে। হাট-বাজার-গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন দোকানে লুটপাটের পর আগুন দিচ্ছে। গ্রামের নলকূপ থেকে পুকুরের পানি পর্যন্ত নষ্ট করে দিচ্ছে। এই অবস্থায় বন-জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা রোহিঙ্গারা খাদ্য সংকটে পড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে।
মঙ্গলবার ভোরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে খেয়াংমং থেকে পালিয়ে এসে কক্সবাজারের কুতুপালং মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া ফাতেমা বেগম (২৮) এসব করুণ কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে কেঁদে উঠেন। তিনি জানান, তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত সহায় সম্বল বুকে আঁকড়ে ধরে, জীবন বাজি রেখে মাতৃভূমিতে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সামরিক জান্তারা তাদের খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী ধ্বংস করে দেওয়ার কারণে সেখানে আর থাকা হয়নি। আরো প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা সাথে ফাতেমা বেগম থাইংখালী সীমান্ত দিয়ে নাফনদী পার হয়ে ভোরে কুতুপালং এসে পৌঁছেছেন বলে জানান। তিনি আরও জানান, তারা দিনের বেলায় জঙ্গলে ও রাতের আঁধারে ঘরবাড়িতে থাকার চেষ্টা করেছিল। মিয়ানমার জান্তারা একথা জানতে পেরে তাদের সহায় সম্বলগুলো জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়।
রাখাইনের শিলখালী গ্রামের আবুল কালাম (৩৫) জানায়, তার বসতবাড়িতে ধান চালসহ নিত্য পণ্যের মজুদ ছিল। ছিল গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, শতাধিক হাঁস-মুরগি। এসবের মায়া ত্যাগ করতে না পেরে পরিবার পরিজনদের নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছে দিয়ে সে নিজ বাড়িতে থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু জান্তারা সোমবার সকালে এসে তার দোতলা কাঠের ঘরটি জ্বালিয়ে দেয়। নিঃস্ব হয়ে তাকে এপারে চলে আসতে হয়েছে। এরকম প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা মঙ্গলবার ভোর রাতে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এপারে চলে এসেছে। কুতুপালংয়ের স্থানীয় ইউপি সদস্য মুফিজ মেম্বর জানায়, তিনি রাত দেড়টার দিকে শোরগোল শুনে বাড়ি থেকে বের হন। দেখেন শত শত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু নাফনদী পার হয়ে তার বাড়ির পাশ দিয়ে থাইংখালীর দিকে যাচ্ছে।
পালংখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সোলতান আহমদ জানান, গত রাতের মতো রোহিঙ্গা করুণদৃশ্য সে আর কখনো দেখেনি। আসার পথে ভাই আব্দুস সালামের (৫৫) মৃত্যু, দুই রোহিঙ্গা দম্পতির রোগাক্রান্ত দুই শিশু মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে মায়ের বুকে লুকিয়ে রয়েছে। তৎমধ্যে একটি শিশু দুগ্ধ পোষ্য। মায়ের দুধ না পেয়ে ওই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে শিশু হারা রোহিঙ্গা গৃহবধূ ছকিনা বেগম (২৮) কান্না জড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান। তারা আরো জানায়, টানা সাতদিন দুর্গম পাহাড়ি পথে কোন খাবার পাননি। কেবল হেঁটেছেন এপারে চলে আসার জন্য। হাঁটার পথে ওই শিশুর করুণ মৃত্যু নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে দেখা দেয় বিষণ্ণতা। এসব রোহিঙ্গারা পালংখালী ইউনিয়নের বাঘঘোনা নামক স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে আশ্রিত আজিম উল্লাহ বুচিডং শীতলক্ষ্যা এলাকার কোয়ামং এলাকার বাসিন্দা। স্ত্রী ও ৯ সন্তান নিয়ে ৬ দিনে আগে পাড়ি জমান এদেশে আসার উদ্দেশ্যে। তাদের মংডু এলাকায় মিয়ানমার জান্তারা খাবার না দিয়ে দু’দিন আটকিয়ে রাখে, সেখান থেকে মুক্তি পেয়ে ৪দিন পর মঙ্গলবার ভোর রাতে এপারে এসে পৌঁছেছে।
জাতিসংঘের তথ্য মতে আগামী ৬ মাসে আরো তিন লাখ রোহিঙ্গা এদেশে পালিয়ে আসতে পারে। যেহেতু মিয়ানমার সেনারা রাখাইন রাজ্যের কৃষকদের বাড়িতে মজুদ থাকা খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়িয়ে দেওয়ায় সেখানে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ইউএনএইচসিআরের ঢাকা প্রধান সিনজি কুবো বলেছেন, রাখাইনের সহিংসতা থামাতে দেশটির সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় দিন গুনছে তাদের প্রতিনিধিদল। ২৫ আগস্ট থেকে দেড় মাসে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সংখ্যা পাঁচ লাখ সাত হাজারে উন্নীত হওয়ার কথা তারা স্বীকার করলেও মূলত এসংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা মনে করছেন। এ প্রসঙ্গে ক্যাম্পের সার্বিক দায়িত্বরত এক সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে প্রতিদিন ৬০/৭০ পরিবারের রোহিঙ্গা বালুখালী, কুতুপালং, থাইংখালী ক্যাম্পে আশ্রয় নিচ্ছে। স্থানীয় পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, আনজুমানপাড়া, থাইংখালী, বালুখালী ও ধামনখালী সীমান্ত দিয়ে প্রতিরাতেই রোহিঙ্গারা দলে দলে এ দেশে পাড়ি জমাচ্ছে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest